29/07/2025
৪৭তম প্রিলিমিনারি ও ৪৯তম প্রিলিমিনারি সমন্বয় করে পড়ার কৌশল:
ধরে নিলাম, আপনি ৪৭তম প্রিলিমিনারির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। একদম সিরিয়াস প্রার্থী। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে ৪৯তম বিসিএসের সার্কুলার হয়ে গেল, অক্টোবরে (আনুমানিক ১৭ অক্টোবর) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই মুহূর্তে কিভাবে ৪৭তম ও ৪৯তম প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি একসঙ্গে নেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা করব.......
আমরা জানি ৪৯তম বিসিএসে জেনারেল পার্টে ১০০ মার্কস ও সাবজেক্টিভ পার্টে ১০০ মার্কস। সাবজেক্টিভের চেয়ে জেনারেল পার্টের গুরুত্ব বেশি। কারণ মূল খেলা হবে জেনারেল পার্টের ১০০ মার্কসে। সাবজেক্টিভে গড়ে সবাই কাছাকাছি মার্কসই পাবে কিন্তু পার্থক্য গড়ে দিবে জেনারেল পার্ট। সেটাকে গুরুত্ব দিয়েই প্রস্তুতি নিতে হবে।
➤ বাংলা ভাষা:
প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, বানান ও বাক্যশুদ্ধি, পরিভাষা, সমার্থক শব্দ, বিপরীতার্থক শব্দ, ধ্বনি, বর্ণ, শব্দ, পদ, বাক্য, প্রত্যয়, সন্ধি, সমাস।
এই টপিকগুলো ৪৭তম ও ৪৯তম দুই বিসিএসেই আছে। তাই ৪৭তম পরীক্ষার আগেই এগুলো ভালোভাবে পড়ে ফেলতে হবে। ৪৯তম বিসিএসের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না।
➤ বাংলা সাহিত্য:
৪৯ তম বিসিএস এর জন্য আলাদাভাবে বাংলা সাহিত্য পড়ার দরকার নেই। ৪৭তম প্রিলিমিনারির জন্য সাহিত্যের যে প্রস্তুতি নিবেন তাতেই যথেষ্ট। ৪৯তম প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে শুধু বিগত বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলো পড়লেই হবে।
➤ English Grammar:
বাংলার মত ইংরেজি গ্রামারেও ৪৭তম ও ৪৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারির সিলেবাসের কোন পার্থক্য নেই। এক্ষেত্রে ৪৭তম বিসিএসের প্রস্তুতিই আপনাকে ইংরেজি গ্রামারে এগিয়ে রাখবে।
➤ English Literature:
আপনি যদি ইংরেজি সাহিত্যের স্টুডেন্ট না হয়ে থাকেন তাহলে ইংরেজি সাহিত্যে বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ৪৭তম বিসিএসের প্রস্তুতিই কাভার করবে এবং বিগত প্রশ্নগুলো পড়লেই পরীক্ষাতে কাঙ্খিত মার্কস কমন পাবেন।
তবে আপনি যদি ইংরেজি সাহিত্যের স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে এই সাবজেক্টে প্রচুর শ্রম দিতে হবে। যা আপনার সাবজেক্টিভ পরীক্ষার জন্য হেল্পফুল হবে।
➤ বাংলাদেশ বিষয়াবলি:
বাংলাদেশ বিষয়াবলির সিলেবাসে তেমন কোনো পার্থক্য নেই; শুধু দুটি অধ্যায়ে কিঞ্চিত পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে "১৭৫৭ সাল থেকে অদ্যাবধি" সিলেক্ট করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ১৭৫৭ সালের পূর্বের কোন কিছু পড়ার প্রয়োজন নেই। ১৭৫৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত পড়বেন। বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে কিছু কিছু টপিক বাদ দিতে পারেন। যেমন...
√ ১৯৬৬ সালের ৬দফা আন্দোলন,
√ ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন,
√ ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন,
√ ৭ই মার্চের ভাষণ,
√ স্বাধীনতার ঘোষণা,
√ মুজিবনগর সরকারের গঠন ও কার্যাবলি।
সিলেবাসের সপ্তম অধ্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে "জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ পরবর্তী এবং সংস্কার প্রস্তাবনা"। এখান থেকে অন্তত ২ মার্কস কমন পাবেন। এটা শতভাগ নিশ্চিত। আবার এর বেশিও পেতে পারেন। এই টপিকটি নেট ঘেঁটে নোট করে পড়ে নিবেন।
➤ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি:
আন্তর্জাতিকের সিলেবাসে পূর্বের পাঁচটি অধ্যায়ের সাথে ৪৯তম বিসিএসের জন্য একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। অধ্যায়টি হলো "সিভিল সার্ভিসের গোড়াপত্তন এবং যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস।" ভাইবার আগে এই টপিকটি পড়তে হতো কিন্তু এবার প্রিলিমিনারিতেই পড়তে হচ্ছে। যা ভাইবাতে কাজে লাগবে। এটি যেহেতু নতুন টপিক তাই ভালো করে পড়বেন কারণ এই অধ্যায় থেকে কনফার্ম ২টি প্রশ্ন আসবে।
➤ গাণিতিক যুক্তি:
৪৭তম ও ৪৯তম বিসিএসে গণিতের সিলেবাসে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই গণিতে যারা ৫০% এর বেশি মার্কস তুলতে পারেন; তারা যে টপিকগুলোতে তুলনামূলক দুর্বল সে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠুন।
আর যারা গণিতে খুবই দুর্বল, তারা গণিতের তুলনামূলক সহজ টপিকগুলো রিভিশন দিন। যেমন- বাস্তব সংখ্যা, লসাগু, গসাগু, শতকরা, সরল ও যৌগিক মুনাফা, অনুপাত ও সমানুপাত, লাভ ও ক্ষতি, বীজগাণিতিক সূত্রাবলি, বহুপদী উৎপাদক, সূচক ও লগারিদম সমান্তর ও গুণোত্তর ধারা, রেখা, কোণ, ত্রিভুজ ও চতুর্ভুজ সংক্রান্ত উপপাদ্য, সেট। অন্তত এই টপিকগুলো প্রাকটিস করলেও আপনি ৫০% মার্কস ক্যারি করতে পারবেন।
আর তাও যদি গণিত পড়তে ভালো না লাগে তাহলে এই সাবজেক্টটি একেবারে বাদ দিয়ে দিন। কারণ গণিতের মার্কস ছাড়াও আপনি প্রিলিমিনারি পাশ করবেন। তাছাড়া গণিত না পড়লেও বিগত প্রশ্ন থেকে ৩/৪ মার্কস কমন পাবেন।
➤ মানসিক দক্ষতা:
মানসিক দক্ষতাতে ৪৭তম প্রিলিমিনারি ও ৪৯তম প্রিলিমিনারিতে ফুল মার্কস পেতে হলে 'বিগত বিসিএস প্রিলিমিনারির প্রশ্নগুলো ও বিগত বিসিএস লিখিতের প্রশ্নগুলো" ব্যাখ্যাসহ বুঝে বুঝে সমাধান করতে হবে। প্রশ্নকর্তা যদি প্রশ্নে ভুল না করে থাকেন তাহলে আপনি ফুল মার্কসই পাবেন।
মোটকথা, মনে রাখবেন আপনি দুটি প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি একসঙ্গে নিচ্ছেন এবং এই দুটি পরীক্ষাই কাছাকাছি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ৪৯তম স্পেশাল বিসিএস হচ্ছে আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। এঔ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না। যে কয়দিন সময় আছে রাতদিন টেবিলে পড়ে থাকুন। সর্বোচ্চ পরিশ্রম করুন কারণ এই দুই-আড়াই মাসের পরিশ্রমই আপনার জীবন অবিশ্বাস্যভাবে পাল্টে দিবে। শুভকামনা রইল। স্রষ্টা আপনার প্রতি সদয় হোক।
শুভকামনায়,
দেবাশীষ ঘোষ
প্রভাষক (ইংরেজি)
সরকারি নূরুননাহার মহিলা কলেজ,
ঝিনাইদহ।