09/11/2021
ধারাবাহিক আলোচনার আজকের পর্বে থাকবে
একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণির
হিসাববিজ্ঞান ১ম পত্র
৮ম অধ্যায়ঃ- দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদের হিসাবরক্ষণ (অবচয় হিসাবের) বিস্তারিত,
সমস্ত আলোচনা আয়ত্তে নিতে পারলে শিক্ষার্থীদের অবচয় হিসাব করতে কোন সমস্যা হবে না ইনশাআল্লাহ।
অবচয় কি?
ব্যবহার, অপ্রচলন বা সময় অতিবাহিত হওয়ার ফলে স্থায়ী সম্পত্তির যে মূল্য ক্রমাগত কমতে থাকে যা মেরামত বা আংশিক প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পূরণ করা যায় না তাকেই অবচয় বলে।
যেমন দালানকোঠা,কলকজা, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ইত্যাদি স্থায়ী সম্পত্তি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মূল্যের হ্রাস ঘটে। এই হ্রাস পাওয়া মূল্যই হচ্ছে অবচয়।
আবার কোন সম্পত্তির মোট ব্যয় বা মোট ক্রয়মূল্য বা মোট অর্জনমূল্যকে একটি আনুমানিক সময়ের মধ্যে বন্টন প্রক্রিয়াকেও অবচয় বলে।
যেখানে ১। স্থায়ী বা স্থাবর সম্পত্তির ব্যয় বন্টন প্রক্রিয়াকে অবচয় (Depreciation) বলে,
যেমন- দালানকোঠা,কলকজা, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ইত্যাদি।
২। অস্পর্শনীয় সম্পত্তির ব্যয় বন্টন প্রক্রিয়াকে অবলোপন (Amortization) বলে,
যেমন- সুনাম ও প্যাটেন্ট স্বত্ব, গ্রন্থস্বত্ব, ট্রেডমার্ক ইত্যাদি।
৩। প্রাকৃতিক সম্পত্তির ব্যয় বন্টন প্রক্রিয়াকে শূন্যীকরণ বা নিঃশেষকরণ বা অবক্ষয় (Depletion) বলে।
যেমন- গ্যাস ক্ষেত্র, তেলের ক্ষেত্র, কয়লার খনি, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদ।
অবচয় ধার্যের কারণঃ-
১। সম্পত্তির মোট ব্যয় বা মোট ক্রয়মূল্য বা মোট অর্জনমূল্য বন্টন, ২। রাজস্ব-খরচের সমন্বয়,
৩। সঠিক উৎপাদন ব্যয় নিরুপন, ৪। সঠিক আয়-ব্যয় নির্ণয়,
৫। সঠিকভাবে আর্থিক অবস্থার প্রদর্শন, ৬। হিসাববিজ্ঞানের নীতি অনুসরণ,
৭। আইনগত ব্যবস্থা, ৮। করমুক্তি অর্জন।
অবচয় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়সমূহঃ-
১। সম্পত্তির মোট ব্যয় বা মোট ক্রয়মূল্য বা মোট অর্জনমূল্য,
২। সম্পত্তির আনুমানিক আয়ুস্কাল বা আনুমানিক জীবনকাল বা ব্যবহারিক জীবনকাল,
৩। নিঃশেষমূল্য বা ভগ্নাবশেষ মূল্য বা বর্জ্যমূল্য বা শেষ উদ্ধারকৃত মূল্য
অবচয় ধার্যের পদ্ধতিঃ-
অবচয় একটি অনুমান ভিত্তিক খরচ। প্রকৃত অবচয়ের কাছাকাছি যাতে আসা যায় সেজন্য বিভিন্ন পদ্ধতিতে অবচয় নির্ধারণ করা হয়। অবচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিগুলো বেশি প্রচলিত সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১। স্থির কিস্তি বা সরলরৈখিক পদ্ধতি;
২। ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি;
৩। দ্বৈত ক্রমহ্রাসমান জের পদ্ধতি;
৪। বার্ষিকী পদ্ধতি;
৫। অবচয় তহবিল বা প্রতিপূরক তহবিল পদ্ধতি;
৬। বর্ষ সংখ্যার সমষ্টি পদ্ধতি;
৭। বিমাপত্র পদ্ধতি;
৮। পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি;
৯। ক্ষয় অনুপাত পদ্ধতি;
১০। যান্ত্রিক ঘণ্টা হার পদ্ধতি;
১১। উৎপাদন, একক পদ্ধতি;
১২। প্রতিস্থাপন ব্যয় পদ্ধতি;
১৩। মাইল হার পদ্ধতি;
১৪। মেরামত সঞ্চিতি পদ্ধতি।
স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় ও বিক্রয় এবং স্থায়ী সম্পত্তির অবচয় সংক্রান্ত জাবেদা সমূহঃ-
১. স্থায়ী সম্পত্তি নগদে ক্রয় করলে:
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ডেবিট
নগদান হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু নগদে সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে।)
২. স্থায়ী সম্পত্তি চেকে ক্রয় করলে:
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ডেবিট
ব্যাংক হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু চেকে সম্পদ ক্রয় করা হয়েছে।))
৩, স্থায়ী সম্পত্তি ধারে ক্রয় করলে;
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ডেবিট
প্রদেয় হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু ধারে সম্পদ কয় করা হয়েছে।)
৪: স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের জন্য পরিবহন খরচ, শুল্ক, সংস্থাপন ব্যয় ও অন্যান্য খরচ করলে |
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ডেবিট
নগদান হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু নগদে সম্পদের জন্য যাবতীয় ব্যয় করা হয়েছে।)
৫. বার্ষিক অবচয় ধার্য করা হলে:
অবচয় খরচ- সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ডেবিট
পুঞ্জীভূত অবচয় সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু অবচয় ধার্য করা হলো।)
৬. হিসাব বছর শেষে অবচয় হিসাব বন্ধ করা হলে:
আয় সারাংশ হিসাব ডেবিট
অবচয় খরচ সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু অবচয় খরচ আয় বিবরণী হিসাবে স্থানান্তর করা হলো।)
৭. স্থায়ী সম্পত্তি বহিমূল্যের সমান মূল্যে নগদে বা চেকে বা ধারে বিক্রয় করলে |
নগদ/ব্যাংক/প্রাপ্য হিসাব (বিক্রয় মূল্য দ্বারা) ডেবিট
অবচয় সঞ্চিতি হিসাব (মোট অবচয়ের পরিমাণ দ্বারা) ডেবিট .
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব (মোট মূল্য দ্বারা) ক্রেডিট
(যেহেতু সম্পত্তি বহিমূল্যে বিক্রি করা হলো।)
৮. স্থায়ী সম্পত্তি বহিমূল্যের বেশি মূল্যে বা লাভে নগদে/চেকে/ধারে বিক্রয় করলে |
নগদ/ব্যাংক/প্রাপ্য হিসাব (বিক্রয় মূল্য দ্বারা) ডেবিট
অবচয় সঞ্চিতি হিসাব (মোট অবচয়ের পরিমাণ দ্বারা) ডেবিট
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব (মোট মূল্য দ্বারা) ক্রেডিট
সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত লাভ হিসাব (লাভের পরিমাণ দ্বারা) ক্রেডিট
(যেহেতু সম্পত্তি লাভে বিক্রি করা হলো।)
৯, স্থায়ী সম্পত্তি বহিমূল্যের কম মূল্যে বা ক্ষতিতে নগদে/চেকে/ধারে বিক্রয় করলে |
নগদ/ব্যাংক/প্রাপ্য হিসাব (বিক্রয় মূল্য দ্বারা) ডেবিট
অবচয় সঞ্চিতি হিসাব (মোট অবচয়ের পরিমাণ দ্বারা) ডেবিট
সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি হিসাব (ক্ষতির পরিমাণ দ্বারা) ডেবিট
সংশ্লিষ্ট সম্পদ হিসাব (মোট মূল্য দ্বারা) ক্রেডিট
(যেহেতু সম্পত্তি ক্ষতিতে বিক্রি করা হলো।)
১০. সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত লাভ হিসাব বন্ধ করা হলে ।
সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত লাভ হিসাব ডেবিট
আয় সারাংশ হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্ৰয়জনিত লাভ হিসাব আয় বিবরণী হিসাবে স্থানান্তর করা হলো।)
১১. সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি হিসাব বন্ধ করা হলে |
আয় সারাংশ ডেবিট
সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি হিসাব ক্রেডিট
(যেহেতু সংশ্লিষ্ট সম্পদ বিক্রয়জনিত ক্ষতি হিসাব আয় বিবরণী হিসাবে স্থানান্তর করা হলো।)
আলোচনায়,
হাবিবুর রহমান
প্রভাষক - হিসাববিজ্ঞান বিভাগ
বাজুয়া সুরেন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজ,দাকোপ,খুলনা।