FMRT- Walks of Life

FMRT- Walks of Life

Share

Here ,we are discussing about Fisheries related issues and jobs.

Photos from FMRT- Walks of Life's post 18/11/2021

আজ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো "নয়ন স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২১" এর সবথেকে আকর্ষনীয় ম্যাচ "এলুমনাই VS এক্সিস্টিং " ম্যাচটি..

খেলার ফলাফলঃ ড্র

স্কোরকার্ডঃ এলুমনাই (২) - এক্সিস্টিং (২)

উক্ত ম্যাচটিতে এলুমনাই এর পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় মাননীয় ডিসিপ্লিন প্রধান মো. আবদুর রউফ স্যার, গোলাম সরোয়ার মিঠু স্যার, শাহীন পারভেজ স্যার এবং সুদীপ দেবনাথ স্যার। এর পাশাপাশি আমাদের এফ.এম.আরটি ডিসিপ্লিনের অফিস স্টাফ মো. জুয়েল ভাই, হুমায়ুন ভাই সহ আমাদের শ্রদ্ধেয় সিনিয়র ভাইরা উপস্থিত থেকে খেলাটিকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন যা দিনশেষে এইটা প্রমাণ করেছে যে কেন এফ.এম.আর.টি ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব থেকে সেরা এবং একতাবদ্ধ ডিসিপ্লিন। সবসময় সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ এবং সিনিয়র ভাই'রা যেইভাবে আমাদের পাশে থেকে তাদের মূল্যবান সুপরামর্শ দান করেছেন তার জন্য আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। তবুও যদি আমরা আমাদের অজান্তে কোন ভুল করে থাকি তার জন্য আমরা আন্তরিক ভাবে ক্ষমাপ্রার্থী এবং আমরা আমাদের শিক্ষকবৃন্দ, সিনিয়র ভাই-আপু এবং আমাদের জুনিয়র প্রতি কৃতজ্ঞ আমাদের কে সর্বদা সাহায্য করার জন্য।
আমরা সবাই মন থেকে দুয়া করি মহান সৃষ্টিকর্তা যেন নয়ন দাদাকে স্বর্গ এবং ওনার ফ্যামিলিকে ওনার অনুপস্থিতি ভুলে থাকার সহ্য ক্ষমতা দান করেন।

24/10/2020

অ্যাকোয়াপনিকস: মাছ চাষ ও মাটি ছাড়া সবজি আবাদ করার যে সমন্বিত পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে

ছোট একটি জায়গায় কেবল একটি অবকাঠামো ব্যবহার করে মাছ এবং সবজি চাষের একটি পদ্ধতি বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই এখন এটা ব্যবহার করছেন।

এই পদ্ধতিটি পরিচিত অ্যাকোয়াপনিকস হিসেবে, যেখানে মাটি ছাড়াই সবজি উৎপাদন হয়।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, অ্যাকোয়াপনিকস হলো মাছ ও সবজি চাষের একটি সমন্বিত পদ্ধতি।

আর বাংলাদেশে এ পদ্ধতির অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য চাষ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এ সালামকে।

তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আরও আগে থেকেই অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে।

অধ্যাপক সালাম মনে করেন যে বাংলাদেশে যেহেতু চাষযোগ্য জমির পরিমান ক্রমশই কমে আসছে, তাই এ দেশে অ্যাকোয়াপনিকস-এর একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত রয়েছে মাছ চাষ ও সবজি আবাদের ক্ষেত্রে।

"যারা ছাদ বাগান করেন বা অল্প জায়গায় মাছ চাষ বা সবজি আবাদ করেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ বিষয়। একই জায়গায় মাছ ও সবজির ফলন করা সম্ভব এবং তাও একেবারে কম খরচে," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

অধ্যাপক সালাম সেই ২০১০ সালে নিজের বাড়ির ছাদে সবজি চাষ শুরু করেছিলেন, আর পরে এর সাথে ২০১১ সালে যোগ করেন মাছ। তবে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি তাকে যে সাফল্য এনে দিয়েছে, তা তাকে তাকে কৃষিক্ষেত্রে পদকও এনে দিয়েছে।

অ্যাকোয়াপনিকস কী?

সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে যে অ্যাকোয়াপনিকস হলো টেকসই একটি খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা।

এতে মাছ চাষ থেকে আসা ময়লা তথা দূষিত পানি গাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং সেখান থেকে স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি পুনরায় মাছের ট্যাংকে ফিরে আসে।

এখানে লক্ষণীয় যে, এ পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই সবজি উৎপাদন করা যায় এবং ব্যাকটেরিয়া পানির সমুদয় বর্জ্য, ময়লা ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে দূরীভূত করে - যেভাবে প্রাণীর কিডনি ও লিভার এ কাজটি সম্পন্ন করে থাকে।

অধ্যাপক সালাম বলছেন যে এটি পুরোপুরি একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি।

তিনি বলেন, মূলত মাটি ছাড়া পানিতে গাছপালা ও শাক-সবজি উৎপাদন করার একটি কৌশল হলো অ্যাকোয়াপনিকস। এখানে প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া অনুঘটক হিসাবে কাজ করে মাছের বর্জ্য থেকে গাছকে নিজের খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে থাকে।

উৎপাদন কেমন হয়?

কৃষি তথ্য সার্ভিস বলছে, অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে চাষের জন্য তেলাপিয়া মাছই সবচেয়ে উপযোগী, কারণ এই মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এগুলো অধিক ঘনত্বেও চাষ করা সম্ভব।

এতে করে দুই হাজার লিটারের একটি ট্যাংক থেকে আট মাসেই ১০০-১২০ কেজি তেলাপিয়া উৎপাদন সম্ভব। এর সাথে পুরো বছর ধরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টমেটো, লেটুস, কচু ও পুদিনা ইত্যাদি ফসল উৎপাদন করাও সম্ভব।

অধ্যাপক এম এ সালাম বিবিসি বাংলাকে অবশ্য বলেন যে তেলাপিয়ার পাশাপাশি কই মাছের চাষের জন্যও দারুণ কার্যকর অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতি, আর এর সঙ্গে থাকতে পারে যে কোন ধরণের সবজি।

তিনি জানান, পুকুরে বা অন্য পদ্ধতিতে চাষের চেয়ে দশগুনের বেশি পরিমাণ মাছ উৎপাদন হতে পারে অ্যাকোয়াপনিকস পদ্ধতিতে।

ছবি- মোঃ খবির হোসেন (FMRT-19, KU)...

23/10/2020

বিজ্ঞানীদের হাত ধরে দেশি মাছ ফিরছে পাতে
----------------------------------------------------------------

বিলুপ্তপ্রায় কই মাছের একটি জাত গবেষণার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের গৌরীপুরে।

মাছে–ভাতে বাঙালি—বেশ পুরোনো প্রবাদ। দেশে ধানের উৎপাদন বাড়ায় কয়েক বছর ধরে ভাতের অভাব নেই। কিন্তু দেশি মাছ কম পাওয়া যাচ্ছিল। নদীতে দূষণ ও পলি পড়ায় মাছের উৎপাদন কমে আসে। দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়। কিন্তু সেই অবস্থার বদল ঘটিয়েছেন দেশের মৎস্যচাষিরা।

পুকুরে ও উন্মুক্ত জলাশয়ে উন্নত পদ্ধতিতে মাছ চাষ সেই বদল এনে দিয়েছে। ২৩টি দেশি মাছের চাষপদ্ধতি উদ্ভাবন করে মৎস্যচাষিদের হাতে তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা এসব দেশি মাছের জাত সংরক্ষণ করে কীভাবে সেগুলো বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করে উৎপাদন বাড়ানো যায়—সেই উপায় বের করেছেন।

গবেষণাকাজে সাফল্য আসায় গত ১০ বছরে দেশি ছোট মাছের উৎপাদন প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এসব মাছের জাত উন্নয়নে এবং আরও কয়েক প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন সংস্থাটির বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এইচ এম কোহিনূর প্রথম আলোকে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় জাতগুলো বাছাই করে গবেষণা করা হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সেই জাতগুলোর পোনা উৎপাদনে সাফল্য এসেছে এবং চাষাবাদের মাধ্যমেও সুফল পাওয়া গেছে। এই ধারাবাহিকতায় ময়মনসিংহে প্রধান কার্যালয় ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারীর সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে কাজ চলছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) তথ্যমতে, বাংলাদেশে মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৬৪ প্রজাতির মাছ বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়। মিঠাপানির ২৬০ প্রজাতির মধ্যে ১৪৩ প্রজাতি হচ্ছে ছোট মাছ।

মৎস্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাবদা, গুলশা, গুজি আইড়, রাজপুঁটি, চিতল, মেনি, ট্যাংরা, ফলি, বালাচাটা, শিং, মহাশোল, গুতুম, মাগুর, বৈড়ালি, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, কালবাউশ, কই, বাটা, গজার, সরপুঁটি ও গনিয়া—এই ২৩ প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে বিলুপ্তপ্রায় এসব মাছ সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এবং দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই।

ইনস্টিটিউটটির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সেলিনা ইয়াসমিন জানান, উন্মুক্ত জলাশয় থেকে যে মাছগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে, সেই মাছগুলোর সংরক্ষণ করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করে পুকুরে কিংবা আবদ্ধ জলাশয়ে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করাই মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় ঢেলা, শোল, বাইম, রানি, কাজলি, বাতাসি, কাকিলা, কাওন ও ভোল মাছের প্রজনন এবং চাষপদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ শহরের মেছুয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য মাছের সঙ্গে দেশি নানা রকমের মাছ বিক্রি হচ্ছে। মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবু সাঈদ বলেন, বেশ কয়েক বছর আগেও দেশি মাছগুলো বাজারে সচরাচর পাওয়া যেত না। পাওয়া গেলেও দাম ছিল নাগালের বাইরে। কিন্তু এখন প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। দামেও সাশ্রয়ী। কাওসার আহমেদ নামের আরেক ক্রেতা জানান, দেশি মাছগুলো খেতে সুস্বাদু এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় তিনি নিয়মিত এসব মাছ কেনেন।

বাণিজ্যিক মাছের পাশাপাশি দেশি মাছ চাষে অনেকে আগ্রহী হচ্ছেন জানিয়ে নেত্রকোনা সদরের মাছচাষি নুরুল আমিন বলেন, দেশি মাছের বাজারে চাহিদা থাকায় এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় স্বল্প পুঁজিতে ভালো লাভ হয়। ফলে এখন অনেকেই এসব মাছ চাষে ঝুঁকছেন।

ময়মনসিংহের ত্রিশালের দ্য এম ও অ্যাগ্রো ফিশারিজের মালিক কুদরত-ই-ইলাহী বলেন, দেশি প্রজাতির পাবদা এবং গুলশা প্রতি শতাংশে ২২০টি, পুঁটি মাছ ৩০০, ট্যাংরা ২৫০, শিং ও মাগুর ৪৫০টি করে চাষ করা সম্ভব। এসব মাছ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। প্রতি কেজি মাছ উৎপাদনে তাঁদের সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা খরচ হয় এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ করায় রোগবালাইয়ের প্রকোপ নেই বললেই চলে।

মৎস্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ৯২৬টি হ্যাচারি আছে। যেখানে মাছ ও চিংড়ির রেণু উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে সরকারি হ্যাচারি ১০২টি এবং বেসরকারি ৮২৪টি। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বছরে মোট রেণু উৎপাদনের পরিমাণ ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৭৫৪ কেজি। এর মধ্যে বেসরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করে ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৬৯৫ কেজি এবং সরকারি হ্যাচারি উৎপাদন করছে মাত্র ১২ হাজার ৫৯ কেজি রেণু। এর মধ্যে শুধু ময়মনসিংহ অঞ্চলে ২০০ কোটি পাবদা ও গুলশা মাছের পোনা উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পাবদা, গুলশা, শিং, ট্যাংরা, মাগুর, কই ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। ইদানীং বাটা মাছের চাষও বাড়ছে।

দেশে মোট উৎপাদনের মাত্র ১৬ শতাংশ (৬ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন) হচ্ছে সামুদ্রিক মাছ। বাকি ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার মেট্রিক টন অর্থাৎ ৮৪ শতাংশই মিঠা পানির মাছ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর শেষে দেশে মাছের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন। মৎস্য উৎপাদনে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ হচ্ছে ছোট মাছ দিয়ে।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের পুনরুৎপাদনের জন্য গবেষণা কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ায় জিন সংরক্ষণ, প্রজননের কৌশল উদ্ভাবন এবং চাষাবাদ পদ্ধতির প্রক্রিয়া জানা সম্ভব হয়েছে। মাঠপর্যায়েও এই মাছের পোনা বিতরণ করা হয়েছে; যা বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে।

©প্রথম আলো

17/10/2020

২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস রোগ প্রথম হানা দেয় চীনের উহান প্রদেশে। বর্তমানে এই রোগটি বৈশ্বিক মহামারী রোগ হিসাবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই এই রোগটি হানা দিয়েছে। রোগটির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা আজ নড়বড়। এই অবস্থা চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। বিশ্ব তথা বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরেই কোভিড-১৯ এর থাবা হানা দিয়েছে যা থেকে মৎস্য সেকটরের বাঁচার উপায় নেই।

মাছ চাষ মুলতঃ তিনটি বিষয়ের উপর ওৎপ্রোতভাবে জড়িত, বিষয়গুলো হলোঃ (১) ফিড(খাবার), (২) সিড (পোনা), (৩) ম্যানেজমেন্ট (ব্যবস্থাপনা)। উক্ত বিষয়গুলোর একটির ঘাটতি হলেও মাছচাষ ব্যাহত হয়। তাছাড়াও মাটি ও পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাবলী মাছচাষের জন্য বড় নিয়ামক হিসাবে কাজ করে। তাপমাত্রা কম ও ভৌত রাসায়নিক গুণাবলীর সঠিক সমন্বয় মাটি ও পানিতে বিদ্যমান না থাকার কারণে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর সুস্থ্ভাবে বেঁচে থাকা এবং বৃদ্ধি জটিল হয়ে পড়ে। অতীতে প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ব্যাপক মৎস্য আহরণ সম্ভব ছিল কিন্তু বর্তমানে মনুষ্য সৃষ্টি কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন ব্যাপকমাত্রায় হ্রাস পেয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার কারণে চাষের মাছের উপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে অনেকগুণ। আর অধিক ঘনত্বে মাছচাষ করতে এবং অধিক উৎপাদন লাভের জন্য একদিকে যেমন অধিক পুজির প্রয়োজন তেমনি মাছের রোগ বালাইসহ বিভিন্ন সমস্যাও দেখা যায়। তাই এই মৎস্য সম্পদের ক্ষতি মোকাবেলায় করোনা (কোভিড-১৯) কালীন সময়ে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নয়নে প্রাণীজ (মৎস্য) আমিষের ভুমিকা

করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে জয়ী হতে চাইলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে চাইলে মাছ ও মৎস্য জাত দ্রব্য শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। মৎস্য শিল্পের মাধ্যমে আমরা সহজে মৎস্য প্রোটিনের জোগান দিতে পারি। মাছ এবং মৎস্যজাত এমন একটি খাদ্যদ্রব্য যেখানে অত্যাবশ্যকীয় ্অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাট এবং অ্যান্টি অক্রিড্যান্ট বিদ্যমান। শরীরের ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় মাছ রাখতে হবে। মাছ এমন একটি খাবার যাতে কোনো অরুচি আসে না। সামুদ্রিক মাছে আছে যথেষ্ট মিনারেল এবং খনিজ লবণ যা শরীর গঠনে অতীব জরুরি। তাছাড়াও ভিটামিন বি-৬ রয়েছে যা আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয়তার অর্ধেক পুরন করে এবং সরাসরি লোহিত এবং শ্বেত রক্ত কনিকা তৈরি করে। প্রাণীজ আমিষ না খাওয়ার ফলে শরীর জিংক, কপার ও ভিটামিন বি-৬ কম পাবে এবং শরীর কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারবে না। এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এর কোনো টিকা বা ঔষধ আবিষ্কার হয়নি তাই ছোট, বড় বা যে কোনো বয়সের মানুষকে মাছ বা মৎস্য জাত দ্রব্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ভক্ষণের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।

কর্মসংস্থানে মৎস্য ও মৎস্যজাত শিল্পের গুরুত্ব
বাংলাদেশে মৎস্য শিল্প একটি ক্রমবিকাশমান শিল্প। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনায় বিগত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৭৩.১৭১ মে.টন মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য পণ্য রপ্তানি করে ৪২৫০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। আমাদের মোট দেশজ উৎপাদনের ৩.৭৫ শতাংশ এবং জাতীয় কৃষিজ উৎপাদনের ২৫.৩০ শতাংশ মৎস্য সেক্টরের অবদান। আমাদের দৈন্দদিন মাথাপিছু ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে মাছ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬২.৫৮ গ্রামে। মৎস্যখাতে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৬ লক্ষ লোকের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। সে হিসাবে এখাতে বিগত ১০ বছরে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

মৎস্য সম্পদে করোনার প্রভাব

করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে লকডাউনের শুরুতে প্রথমেই ধাক্কা খায় মাছের রেণু উৎপাদনকারী খাত। যদিও লকডাউনের প্রভাব মুক্ত রাখা হয়েছে মৎস্য উৎপাদন ও সরবরাহকে তবুও দূরদূরান্তের মৎস্য খামারিদের মাঝে মৎস্য জাত দ্রব্য ও পোনা সরবরাহে জটিলতা দেখা যায়। উৎপাদনের চেয়ে সঠিক মূল্যে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য বিক্রয় জটিল হয়ে পড়ছে। ফড়িয়াদের দৌরাত্বে সঠিক মূল্য পাবে কিনা খামারিরা আতংকে আছেন। বিভিন্ন মিডিয়ায় মনোসেক্স তেলাপিয়া করোনা ছড়ানোর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ সারা দুনিয়ায় মনোসেক্স তেলাপিয়া বা মৎস্যজাত দ্রব্য থেকে করোনা ছড়িয়েছে এমন কোনো রেকর্ড নেই। মৎস্য অধিদপ্তর এরই মধ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে খামারিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য বিক্রয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এতে খামারিরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে।
করোনা পরিস্থিতিতে করণীয়
* পুকুরের পাড় উঁচুকরণ, পাড়ের সকল রকম গর্ত ও অন্তরমুখী নালা বন্ধ করা যাতে বন্যাসহ অন্যান্য বাইরের পানি পুকুরে প্রবেশ করতে না পারে।
* পুকুরে নলক‚পের অথবা শোধিত পানি সরবরাহ করা, পুকুরের সাথে নদী-নালা, খাল-বিল বা অন্য কোন নর্দমা বা ড্রেন কেটে সংযোগ দেওয়া যাবে না। কারন পানি রোগজীবাণুর একটি অন্যতম প্রধান বাহক।
* রোগমুক্ত এলাকা থেকে সুস্থ ও সবল পোনা লবণ জলে শোধন করার পর মজুদ করা (২.৫% লবণ জলে ২/৩ মিনিট বা সহ্য ক্ষমতা অনুযায়ী ততোধিক সময়ে গোসল করানো)।
* পুকুরে সকল প্রকার বন্য মাছ, পোকামাকড়, কাঁকড়া, সাপ ব্যাঙ ইত্যাদির প্রবেশ রোধ করতে হবে। কারণ এরা বাইরের রোগজীবাণু পুকুরের ভেতরে নিয়ে আসে।
* প্রাকৃতিক জলাশয়, ধানক্ষেত, হাওর, বাঁওড়, বিলের পানিতে কাজ করার পর পুকুরে নেমে হাত-পা বা অন্য কোন সামগ্রী ধৌত করা যাবে না।
* জালসহ অন্যান্য খামার সরঞ্জাম পুকুরে ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুমুক্ত করতে হবে( বিøচিং পাউডার, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট ইত্যাদি ব্যবহার করে)।
* খামারে/হ্যাচারিতে প্রবেশের পূর্বে খামারকর্মী ও দর্শনার্থীদের পা, জুতা ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করা উচিত
* (ব্লিচিং পাউডার দ্রবণে)।
* রোগের যাবতীয় বাহক (ঈধৎৎরবৎ) যেমন- পানি, বন্যামাছ, মানুষ, গরু, ছাগল, পাখি, পোকা-মাকড় ইত্যাদি দ্বারা রোগ ছড়ানোর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।
* খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য কৃষকদের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার জন্য ভর্তুকি প্রদান করা যেতে পারে।
* করোনা কালীন সময়ে মৎস্য অধিদপ্তরের যেসব কর্মকর্তা এবং কর্মচারী মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থেকে সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
* আমিষ খাওয়ার বিষয়ে স্যোসাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন নেতিবাচক প্রচারণার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
* কোভিড -১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক খামারিদের স্বল্পসুদে ব্যাংকঋণ এর ব্যবস্থা করতে হবে এবং খামারিদের প্রণোদনার টাকা ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে দিতে হবে।
বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি সেক্টরের মতো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও প্রণোদনার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আশা করা যায় খুব দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। য়
খামার ব্যবস্থাপক, মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা.

কৃষিবিদ মোঃ আলতাফ হোসেন চৌধুরী
_কৃষি তথ্য সার্ভিস,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Website

Address


Khulna