Quranic School

Quranic School

Share

স্কুলগামী ছাত্রদের কুরআন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

05/05/2026

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত মুমিনদের ৯টি বিশেষ গুণ

পবিত্র কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, যারা নিজেদের জীবনে নির্দিষ্ট কিছু গুণাবলি ও আমল ধরে রাখতে পারবে, তাদের জন্যই রয়েছে জান্নাতের চিরস্থায়ী সুখবর। সেই ৯টি বিশেষ কাজ ও বৈশিষ্ট্য নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

১. তওবা বা আল্লাহর দিকে ফিরে আসা (আত-তাইবুন)
মুমিন মাত্রই মানুষ, আর মানুষের ভুল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু জান্নাতের প্রত্যাশীরা ভুলের ওপর অটল থাকে না। তারা গুনাহের পর লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে (তাওবাহ নাসুহা)। আল্লাহ তায়ালা সেই বান্দাদের ভালোবাসেন যারা বারবার তাঁর দিকে ফিরে আসে।

২. একনিষ্ঠ ইবাদত (আল-আবিদুন)
এরা হলেন সেই সব মানুষ যারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আল্লাহর ইবাদতে উৎসর্গ করেন। তাঁরা অন্তরে বিশ্বাস করেন যে, মানুষের সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হলো আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করা এবং তাঁর গোলামি করা।

৩. সর্বাবস্থায় আল্লাহর প্রশংসা (আল-হামিদুন)
সুখ কিংবা দুঃখ—যেকোনো পরিস্থিতিতেই যাদের মুখে 'আলহামদুলিল্লাহ' ধ্বনিত হয়। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, মহাবিশ্বের সবকিছুর মালিক আল্লাহ এবং তিনি যা করেন তা-ই মঙ্গলময়। এই কৃতজ্ঞতাবোধই তাঁদের আল্লাহর প্রিয় পাত্র করে তোলে।

৪. সিয়াম বা রোজা পালন (আস-সাইহুন)
এখানে 'আস-সাইহুন' শব্দটির মাধ্যমে মূলত রোজা পালনকারীদের বোঝানো হয়েছে। জান্নাতে 'আর-রাইয়ান' নামক একটি বিশেষ প্রবেশদ্বার রয়েছে, যেখান দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবেন। এই ইবাদত মানুষের কুপ্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং আত্মিক পরিশুদ্ধি দান করে।

৫. বিনম্র রুকু (আর-রাকিউন)
এটি সেই ব্যক্তিদের বোঝায় যারা সালাতে অত্যন্ত ভক্তি ও নম্রতার সাথে রুকু করেন। সালাত বা নামাজ হলো মুমিনের মেরাজ এবং জান্নাতের চাবিকাঠি। রুকুর মাধ্যমে আল্লাহর মহত্ত্বের সামনে নিজেকে সঁপে দেওয়াই মুমিনের পরিচয়।

৬. একনিষ্ঠ সিজদা (আস-সাজিদুন)
সিজদা হলো এমন এক অবস্থা যখন বান্দা তার আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। যারা নিয়মিত সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং আল্লাহর কাছে দুয়া করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন। সিজদা মুমিনের অহংকারকে চূর্ণ করে দেয়।

৭. সৎ কাজের আদেশ (আল-আমিরুনা বিল-মা'রুফ)
মুমিন কেবল নিজেই ভালো কাজ করে না, বরং সমাজের অন্যদেরও ভালো ও পুণ্যময় কাজের প্রতি উৎসাহিত করে। সমাজকে সুন্দর করার জন্য তাঁরা সবসময় কল্যাণের প্রচারক হিসেবে কাজ করেন।

৮. অসৎ কাজের নিষেধ (আন-নাহুনা আনিল-মুনকার)
ভালো কাজের প্রচারের পাশাপাশি অন্যায় ও পাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোও মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সমাজে যেন কোনো মন্দ প্রথা বা জুলুম জেঁকে না বসতে পারে, সেজন্য তাঁরা সতর্ক থাকেন। এটি সমাজের জন্য একটি সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

৯. আল্লাহর নির্ধারিত সীমা রক্ষা করা (আল-হাফিজুনা লি-হুদুদিল্লাহ)
যাঁরা আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত সীমানা বা আইনকানুন কঠোরভাবে মেনে চলেন। বৈধ (হালাল) ও অবৈধ (হারাম)-এর মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য বজায় রেখে জীবন পরিচালনা করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।

উপসংহার:
যারা এই নয়টি বৈশিষ্ট্য নিজেদের চরিত্রে ধারণ করতে পারবে, আল্লাহ তায়ালা তাঁদেরকেই 'প্রকৃত মুমিন' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তাঁদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। আমরা যদি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে এই আমলগুলো চর্চা করি, তবে ইনশাআল্লাহ আমরাও সেই সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব।

Photos from Quranic School's post 03/05/2026

কোনটা বেশি ভাল লাগছে?

01/11/2021

নতুন করে
এই পেজের
কর্যক্রম শুরু করছি।

15/08/2020

ফিরে এসো তাওবার পথে
==================
দুনিয়ায় মোহে আচ্ছন্ন হে মানব, আর কত পাপাচারে ডুবে থাকবে? আর কতকাল গুনাহ-অপরাধে বুদঁ হয়ে কাটাবে? তুমি কি দেখো না, তোমার মতো কত স্বপ্নচারী আর দুনিয়াবিলাসীর শরীর এখন মাটির গহ্বরে! তবে তুমি কিভাবে নির্ভার-নিশ্চিত হয়ে গেলে! ভুলে গেলে পরম সত্য মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদনের কথা! তুমি কি চাও, তোমার জীবন প্রদীপ নিভে যাক পাপাচারে মও থাকার কোনো মন্দ সময়ে! গান-বাজনা শোনা বা পর্নো-ছবি দেখার মাঝে কিংবা মদের বোতলে চুমুক অবস্থায় বা পরনারীর সাথে একান্ত অভিসারে! নাহ, এমন মন্দ বিদায় তো কেউই চায় না।তাহলে কেন ফিরে আসছ না তাওবার পথে....!?

একের পর এক গুনাহ করতে করতে একসময় মানুষ নিজের উপরই আস্থা হারিয়ে ফেলে। সে ভাবে,আর বুঝি ভালো পথে ফিরে আসার সুযোগ নেই। আমার মতো এত পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ডাকে কি আল্লাহ সাড়া দেবেন! তিনি কি আমাকে ক্ষমা করে তারঁ অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন!আসলে এমন ভাবনা দয়াময় আল্লাহর ব্যাপারে বান্দার অজ্ঞতার পরিচয়। সে জানে না,তার মহান প্রতিপালক তারঁ পথে ফিরে আসা বান্দাদের কতটা ভালোবাসেন। তাকে কতটা আপন করে নেন। বস্তুত,পবিত্র কুরআনে আল্লাহ ﷻ বলেনঃ-
নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।...(সুরা বাকার আয়াত ২২২)

তুমি একনাগাড়ে গুনাহ করে যাচ্ছ; তাওবা করে গুনাহ থেকে ফিরে আসার ভাবনা নেই তোমার মাঝে।কোন সে মিথ্যা স্বপ্ন, যার মাঝে তুমি বিভোর হয়ে আছ? অথচ তোমার আমলনামায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ভরে যাচ্ছে পাপের কারনে। আফসোস!তোমার বুদ্ধি-সুদ্ধি কোথায় হারিয়ে গেল? তোমাকে এত করে বলছি, পুণ্যের পথে ফিরে আসো।কিন্তু কী আশ্চর্য! ফিরে আমার নামগন্ধও নেই তোমার মুখে। হে ভাই, কখন ভাঙবে তোমার এ নিদ্রা? কখন তুমি দুনিয়ার অলসতা থেকে গা ঝাড়া দিয়ে আখিরাতের আমল নিয়ে ব্যস্ত হবে? ব্যস্তময় পৃথিবীর ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে নিয়ে একটু ভাবো।দেখো,কী করুন অবস্থা হয়েছে তোমার? তোমার অন্তর কী পাষাণ হয়ে যায়নি? তুমি কি আলস্য-নিদ্রায় বিভোর নও? মিথ্যা আশা কি তোমায় প্রতারিত করে রাখেনি? হে ভাই, এ সবই শয়তানি ওয়াসওয়াসা।সময় থাকতেই এসব পরিত্যাগ করো।

হাসান বসরি (রহ.) বলেনঃ-
হে আদম সন্তান, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া তাওবা করার চেয়ে অনেক সহজ।(আজ-জুহদ, ইমাম আহমদঃ২৪২)

হুমাইদ (রহ.) তার কোনো এক ভাইকে বললেনঃ 'আমাকে নসিহত করুন। 'তিনি বললেন, ভাই, "আল্লাহ তোমাকে দেখছেন -এ বোধ থাকার পরও যদি তুমি গুনাহ করো,তখন তা হবে চরম ধৃষ্টতা। আর যদি মনে করো,আল্লাহ তোমাকে দেখছেন না,তখন ধরে নাও,তোমার চেয়ে মূর্খ আর কেউ নেই।"

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেনঃ-
সেই গুনাহ ক্ষতিকর,যার পর তওবা করা হয় না। গুনাহের পর তওবা করা হলে তাওবাকারীর অবস্থা গুনাহ করার পুর্বের অবস্থার চেয়ে ভালো হয়ে যায়।
(মাজমুউল ফতোয়াঃ ১৫/৫৩)

প্রিয় মুসলিম ভাই, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারনে আমাদের শরীর অসুস্থ হয়।তখন আরোগ্য লাভের জন্য আমরা ঔষদ সেবন করি। এভাবে আমাদের কলবেরও অসুখ হয়। অসুস্থ মনের প্রতিষেধক হলো তাওবা করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। আয়না অনেক সময় ঝাপসা হয়ে যায়।তখন তা ধুয়ে বা মুছে তার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হয়।একইভাবে আমাদের অন্তকরণও ঝাপসা হয়ে যায়। আল্লাহর যিকির সেই ঝাপসা আবরন দুর করে দেয়। (আল ফাওয়াযিদ ১২৯)

জনৈক কবি বলেনঃ-
বড় হোক বা ছোট, মুওাকি হতে হলে সব গুনাহ ছাড়তে হবে। কেননা, ছোট ছোট পাথরকনা মিলেই গঠিত হয় পর্বতমালা। ( জামিউল উলুম ওয়াল হিকামঃ১৯২)

হিলাল বিন সাদ (রহ.) বলেনঃ-
"পাপ ছোট কি বড়,সেদিকে লক্ষ্য করো না। এর মাধ্যমে কার অবাধ্যতা করা হচ্ছে, সেদিকে লক্ষ্য করো"
(আল জাওয়াবুল কাফিঃ৯৫)

আপনি ভাবছেন হয়তো আপনি অনেক গুনাহ করেছেন
এখন আর তাওবা করলে কবুল হবে তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন তাহলে এই হাদিসটি আপনার জন্য

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, এক বান্দা গুনাহ্ করল। বর্ণনাকারী أَصَابَ ذَنْبًا না বলে কখনো أَذْنَبَ ذَنْبًا বলেছেন। তারপর সে বলল, হে আমার রবব! আমি তো গুনাহ্ করে ফেলেছি। বর্ণনাকারী أَذْنَبْتُ -এর স্থলে কখনো أَصَبْتُ বলেছেন। তাই আমার গুনাহ্ ক্ষমা করে দাও। তার প্রতিপালক বললেনঃ আমার বান্দা কি একথা জেনেছে যে, তার রয়েছে একজন রবব যিনি গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমার বান্দাকে আমি মাফ করে দিলাম। তারপর সে আল্লাহর ইচ্ছে অনুযায়ী কিছুকাল অবস্থান করল এবং সে আবার গুনাহতে জড়িয়ে গেল। বর্ণনাকারীর সন্দেহ أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। বান্দা আবার বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আবার গুনাহ্ করে বসেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ্ তুমি মাফ করে দাও।

তখন আল্লাহ্ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার আছে একজন রবব যিনি গুনাহ্ ক্ষমা করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। এরপর সে বান্দা আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছুকাল সে অবস্থায় থাকল। আবারও সে গুনাহতে জড়িয়ে গেল। এখানে أَصَابَ ذَنْبًا কিংবা أَذْنَبَ ذَنْبًا বলা হয়েছে। সে বলল, হে আমার রবব! আমি তো আরো একটি গুনাহ্ করে ফেলেছি। এখানে أَصَبْتُ কিংবা أَذْنَبْتُ বলা হয়েছে। আমার এ গুনাহ্ মাফ করে দাও। তখন আল্লাহ্ বললেনঃ আমার বান্দা কি জেনেছে যে, তার একজন রবব আছেন, যিনি গুনাহ্ মাফ করেন এবং এর কারণে শাস্তিও দেন। আমি আমার এ বান্দাকে মাফ করে দিলাম। এরকম তিনবার বললেন।( বুখারী ৭৫০৭)

প্রিয় ভাই আমার, সময় তার আপন গতিতে চলে যাচ্ছে। তার সাথে আমরাও ধীরে ধীরে আখিরাতের কাছাকাছি চলে যাচ্ছি। আমাদের হাতে যে সময় আছে, সেটাঁকে পুজি করে আমাদের আখিরাতের জন্য সম্বল জোগাড় করে নিতে হবে। এ সময় নষ্ট করা মৃত্যুর চেয়েও মারাত্মক। কারন,মৃত্যু তোমাকে কেবল দুনিয়া ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন করে, কিন্তু সময় নষ্ট করা তোমাকে আল্লাহ ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তুমিই বিচার করো,যে ব্যক্তি সামান্য সময়ের সুখের জন্য চিরসুখের জান্নাতকে বিক্রি করে দেয়, সে কি বিশ্বের সবচেয়ে নির্বোধ লোক নয়?
(আল- ফাওয়ায়িদঃ ৪৫)

যেসকল গ্রন্থের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছেঃ
১/এসো তাওবার পথে,
শাইখ আব্দুল মালিক কাসিম(রহ.)
২/বুখারী,
ইমাম বুখারী(রহ.)
৩/আল ফাওয়ায়িদ,
ও আল জাওয়াবুল কাফি,
ইবনু কায়্যিমিল জাওজিয়্যাহ(রহ.)
৪/মাজমুউ ফতোয়া,
ইবনে তাইমিয়্যাহ(রহ.)
৫/জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম,
ইবনে রজব আল-হাম্বলি(রহ.)

লাইক,কমেন্ট, শেয়ার করে আপনিও হতে পারেন সওয়াবের অধিকারী।জাযাকাল্লাহ খাইরন। আল্লাহ আমাদের নেক কাজকে কবুল করুন। আমিন।।

14/08/2020

নিঃশ্বাসের কৈফিয়ত!
▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔

হে মানুষ! তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের মালিক কে? তুমি কি জান কিভাবে তোমার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের আগমন-নির্গমন হয়? কে সেটি নিয়ন্ত্রণ করেন? তুমি কি জানো তোমার নিঃশ্বাসটুকুর মূল্য কত? ওটা বন্ধ হয়ে গেলেই তুমি মৃত লাশে পরিণত হবে। তুমি সবই জানো। আবার কিছুই জানো না। পাগলের মত দৌড়াচ্ছ দুনিয়া লাভের আশায়। অথচ সেটি মরীচিকা মাত্র। যা তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত আছে, তা তোমার জন্য আসবেই। তুমি কেবল দেখবে, যার জন্য দৌড়াচ্ছ, সেটি আল্লাহর বিধানে বৈধ, না অবৈধ। যদি বৈধ হয়, তাহ’লে বৈধভাবে চেষ্টা কর। মধ্যমপন্থায় কর, চরমপন্থায় নয়। পেলে আল্লাহর প্রশংসা কর এবং তাঁর ও তাঁর পথে সাহায্যকারী বান্দার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। আর না পেলে দিশেহারা হয়ো না। ধৈর্য ধারণ কর ও এটাকেই আল্লাহর পূর্ব নির্ধারণ বা ভাগ্য বলে ধরে নাও। আল্লাহর অননুমোদিত পথে চেষ্টাকারীদের মন্দফল সম্পর্কে আল্লাহ কি বলেন শুনে রাখ।

মহান আল্লাহ বলেন — "যারা অবিশ্বাসী, তাদের কর্মসমূহ মরুভূমির বুকে মরীচিকা সদৃশ। তৃষ্ণার্ত ব্যক্তি যাকে পানি মনে করে। অবশেষে যখন সে তার নিকটে আসে, তখন সেখানে কিছুই পায় না। কেবল আল্লাহকে পায়। অতঃপর আল্লাহ তার পূর্ণ কর্মফল দিয়ে দেন (অর্থাৎ জাহান্নামে নিক্ষেপ করেন)। বস্ত্ততঃ আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।" (১)

রাসূল ﷺ বলেন, "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন।" (২) অতএব দ্বীন বিরোধী কোন জ্ঞানে ও কর্মে মানবতার কোন কল্যাণ নেই।

শয়তানের কুহকে পড়ে মানুষ ছুটছে তার পিছনে দিগ্বিদিক জ্ঞানহারা হয়ে। অথচ আল্লাহ মূলতঃ মানুষের জ্ঞানেরই পরীক্ষা নিবেন ক্বিয়ামতের দিন। সেদিন শিশু বা পাগলের কোন পরীক্ষা হবে না। অতএব হে জ্ঞানীগণ! আপনাকে যিনি জ্ঞান সম্পদ দান করেছেন, তার কাছে এই সম্পদের ব্যবহার সম্পর্কে জওয়াবদিহি করার জন্য প্রস্ত্তত হৌন! চোখে ছানি পড়লে যেমন মানুষ চোখ থাকতেও অন্ধ হয়, নিজের মধ্যে জ্ঞান সম্পদ থাকলেও মানুষ দুনিয়াবী স্বার্থে অন্ধ হয়ে যায়। অতএব জ্ঞানের চক্ষু পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আপনাকে জ্ঞানদাতা আল্লাহর বিধান সমূহ জানতে হবে। তাঁর প্রেরিত নিষ্পাপ রাসূলের জীবন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। দেখবেন জ্ঞান চক্ষুর ছানি পরিষ্কার হয়ে যাবে। নইলে এক অন্ধ আরেক অন্ধের কাছে চোখের চিকিৎসা নিতে পারেন না। মনে রাখবেন, বিশুদ্ধ জ্ঞান কখনো বিশুদ্ধ হাদীছের প্রতিকূলে নয়। তাই আপনার জ্ঞান যদি অহি-র জ্ঞানের বিপরীত হয়, তাহ’লে নিজের জ্ঞানকে অহি-র জ্ঞানের কাছে সারেন্ডার করে দিন ও সেটাকে সাদরে বরণ করুন। এতেই আপনার জন্য মঙ্গল রয়েছে ইহজীবনে ও পরজীবনে।

আপনি কি জানেন কতদিনের আয়ুষ্কাল নিয়ে আপনি পৃথিবীতে এসেছেন? আপনি কি জানেন, আলোর গতির হিসাবে প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে আপনি আপনার চূড়ান্ত মেয়াদের দিকে এগিয়ে চলেছেন? অধিক পাওয়ার লোভে বুঁদ হয়ে আপনি ছুটে চলেছেন কবরস্থানের দিকে। কিন্তু সেখানে কি নিয়ে যাচ্ছেন? তার জন্য কি কি পাথেয় সঞ্চয় করেছেন? আপনি নিজেকে ‘মুসলিম’ বা আত্মসমর্পণকারী বলে দাবী করেন। অথচ আপনার ধর্মীয় জীবন ও বৈষয়িক জীবন চলছে পৃথক পৃথক রব-এর অধীনে। আপনি কবরস্থ ব্যক্তির নিকট যাচ্ছেন মাইয়েতের অসীলা ধরার জন্য তার করুণার ভিখারী হয়ে। আপনি মসজিদে যাচ্ছেন ও কা‘বাগৃহ যেয়ারতে যাচ্ছেন আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায়। আবার নিজেদের মনগড়া বিধান প্রতিষ্ঠার জন্য জান-মাল, সময় ও শ্রম ব্যয় করছেন উন্মাদের মত। তাহ’লে আপনার জীবনের লক্ষ্যপথ কোনটি? নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করুন। বহুমুখী পথের দিশাহীন গাড়ী অবশ্যই খাদে পড়বে। অতএব জীবনকে স্রেফ আল্লাহমুখী করুন। তিনিই আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। কেননা তাঁর উপরে নির্ভরশীল ব্যক্তি কখনোই বঞ্চিত হয় না। কখনোই নৈরাশ্যের আঁধারে হাবুডুবু খায় না। নিজের জ্ঞানকে যিনি চূড়ান্ত ভাবেন, তিনি যেকোন সময় পদস্খলিত হবেন। যদি না তার সামনে অসীম জ্ঞানের হেদায়াত মওজূদ থাকে। ঠিক যেমন অথৈ সাগরে জাহাযের নাবিক ও নিঃসীম নীলিমায় তীব্র বেগে ধাবমান রকেট-উড়োজাহাযের ক্যাপ্টেন আল্লাহ সৃষ্ট ধ্রুবতারাকে উত্তরে রেখে স্ব স্ব গন্তব্যে ছুটে চলে। জ্ঞানী মানুষ তেমনি জীবনের বাঁকে বাঁকে আল্লাহ প্রেরিত অহি পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী পথ চলবে। নইলে সে পথভ্রষ্ট হবেই। যেমনটি হয়েছেন বর্তমানে তাবৎ বিশ্বনেতারা। যাদের কাছ থেকে মানুষ পেয়েছে কেবলি হতাশা ও নৈরাশ্য।

কারো আয়ু বৃদ্ধি তার জন্য পরীক্ষা মাত্র। এক সময় হঠাৎ তাকে বিদায় নিতে হবে ইহজগত থেকে। তার আত্মার সঙ্গে চলে যাবে তার সারা জীবনের কর্ম সমূহের রেকর্ড। যার ফলাফল তাকে পেতেই হবে পরকালে। ঠিক যেভাবে দুনিয়াতে ভেজাল খাদ্য-পানীয় ও দূষিত বায়ু সেবনের ফলাফল সে সঙ্গে সঙ্গে পায় বদ হযম ও নানা রোগ-ব্যাধির মাধ্যমে। দুনিয়াতে রোগ সারলে সুস্থ হওয়া যায়। কিন্তু নিঃশ্বাস চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। নিজেকে সংশোধনের সুযোগ আর থাকে না। তখন হাযারো ফাতেহাখানী ও কুলখানীতে কোন কাজ হবে না। নিঃশ্বাসের যিনি মালিক, তার কাছে প্রতিটি নিঃশ্বাসের কৈফিয়ত দিতে হবে। সেখানে ব্যর্থ হ’লে জাহান্নামে দগ্ধীভূত হ’তে হবে। সফল হ’লে জান্নাতের সুখ-সম্ভার আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হে রঙিন আশার বংশীবাদক! মানুষের দাসত্ব বরণের জন্য বা মানুষের উপর প্রভুত্ব করার জন্য ছুটে চলো না। মনে রেখ, তোমার কোন উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা কারু নেই আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। অতএব মানুষের টাকা বেড়েছে কত, সেটা নয়; বরং মানুষের সুখ বেড়েছে কতটুক, সেটাই দেখ। সর্বাবস্থায় শয়তানের দাসত্ব বর্জন কর। নিজের জীবনে ও সমাজের সর্বত্র আল্লাহর দাসত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা কর। প্রতিটি নিঃশ্বাসকে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভে ব্যয় কর। তাহ’লে পরকালের স্থায়ী জীবনে তুমি চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিকারী হবে। আল্লাহ আমাদেরকে সর্বাবস্থায় তাঁর দাসত্ব করার তাওফীক দান করুন- আমীন!


❒ ফুটনোটঃ
[১] সূরাহ আন-নূর, আয়াত ৩৯
[২] সহীহ বুখারী, হাদিস নং-৭১
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
:
লিখেছেনঃ ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালীব (হাফিজাহুল্লাহ্)

12/08/2020

একজন বালেগ মুসলিম ছেলে বা মেয়ের জন্য পোশাকে ও অলংকারে যা যা হারাম তা তা আপনি ছোট থাকতেই বাচ্চার জন্য হারাম করে নিন !

অনেক মা-বাবাকে দেখা যায় ছোট ছেলে বাচ্চাদের রেশমি কাপড় পরান,সোনার চেইন পরান, টাখনুর নিচে সেলোয়ার পরান, নিষিদ্ধ রঙের কাপড় পরান,
মেয়ে বাচ্চাদের রানের কাছে ছোট,হাতা কাটা পিঠ খোলা ফ্রক পরান,জিন্স টপ্স পরান,হয়ত তাদের বয়স তখন ৩/৪ থেকে ৭/৮ বছর হয়ে থাকে ...

যদিও তারা বড় সন্তানদের ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে খুব সাবধান থাকেন, অর্থাৎ হারাম হালাল মেনে চলেন,বা বাচ্চাদেরকে এমন কাপড় পরানোর সময় এমন নিয়ত থাকে যে এখন তো বাচ্চাই,বড় হলে আর এমন পরাবো না ...

আসলে এটাও ঠিক না,এতে করে বাচ্চার এই হারামের প্রতি জড়তা বা সাবধানতা হালকা হয়ে যাচ্ছে, হারাম হলেও তার কাছে হালাল লাগে কারন সে ছোট বেলা থেকেই পরে অভ্যস্ত, তাই বড় হয়েও দেখা যায় ছেলেদের টাখনুর নিচে পায়জামা গেলেও সাবধান হয়না,মেয়েদের সতর সরে গেলেও খুব একটা খেয়াল হয় না ...

এর কারন ছোট বেলা থেকেই এইগুলো স্বাভাবিক তাদের কাছে।
রাসুলের আদর্শের উপর চলে এমন একটা পরিবারে অবশ্যই এই ব্যাপারগুলো মা-বাবা খেয়াল করবেন,একদম ছোট থেকেই ছেলে বাচ্চাকে টাখনুর উপর পায়জামা পরাবেন, সোনা বা রেশমি কাপড় কখনোই পরাবেন না,বাচ্চা মেয়েদেরকেও হাফ বা থ্রি কোয়াটার হাতার লং ফ্রক পরাবেন,সেলোয়ার কামিজ পরাবেন,
ঠিক এমন ভাবেই তাদেরকে রাখবেন যেন তারা বালেগ ও বালেগা ...
আর এই বিষয়গুলো তাদের কাছে তুলেও ধরবেন, প্রতিনিয়ত বলবেন ছেলেদের পায়জামা টাখনুর উপরে থাকতে হয় কারন আল্লাহ তাদের দিকে কেয়ামতের দিন তাকাবেন না যারা টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরে,বেপর্দা মেয়েরা জাহান্নামে যাবে তাই এভাবে খোলা মেলা কাপড় পরা যাবে না ইত্যাদি ...

11/08/2020

আমাদের আদী পিতা আদমকে (আলাইহিসসালাম) আল্লাহ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছিলেন, তার সাথে তিনি সরাসরি কথা বলেছিলেন, তিনি তাকে ও হাওয়াকে (আলাইহিসালাম) জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছিলেন, সেখানে কত সময় থেকে ছিলেন তা আমরা জানিও না। আল্লাহ তাকে ও হাওয়াকে (আলাইহিসসালাম) শুধুমাত্র একটা গাছের ফল খাওয়া থেকে নিষেধ করেছিলেন।

শয়তানের কুমন্ত্রণায় তিনি তার ফাঁদে পা দিয়ে সেই গাছের ফল খেয়ে ফেলেছিলেন এবং আল্লাহ তাকে ও তার স্ত্রীকে পাঠিয়ে দিলেন দুনিয়ায়। জান্নাতে আরাম আয়েশে থাকা আদম ও হাওয়া (আলাইহিসসালাম) দুনিয়ার সাথে খাপখাওয়াতে পারছিলেন না, তাদের ভেতরে ভয়, অশান্তি, বিষন্নতা ও অনেক কিছুই গ্রাস করে ফেলেছিল। তারা বুঝে উঠে পারছিলেন না তারা কি করবেন। তারপর আল্লাহ তাকে শিখিয়ে দিলেন কিভাবে দু'আ করতে হয় যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর ক্ষমা অর্জন করেন।

আমরা সবাই আদম সন্তান, মাঝেমধ্যে আদমের (আলাইহিসসালাম) মতন আমাদেরও পা ফসকে যায়, আমরা গুনাহ করে বসি। আমাদেরকে আল্লাহ অনেক কিছুই দিয়েছেন কিন্তু আমরা আল্লাহর কাছে না যেয়ে আরও দূরে সরে যাচ্ছি। আমরা অনেক গুনাহ করি, অনেকে ফিরে যেতে চাই আল্লাহর কাছে, কিন্তু কিভাবে ফিরে যাবো? আছে কি কোন রাস্তা? হ্যাঁ, আছে!

সূরাহ আরাফাতের ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ-
"قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَآ أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ ٱلْخَٰسِرِينَ "

যার বাংলা অর্থ হলো "তারা বলল, ‘হে আমাদের রব, আমরা নিজদের উপর যুলম করেছি। আর যদি আপনি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন এবং আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব’।" এই দু'আ আল্লাহ আদমকে শিখিয়ে দিয়েছিলেন।

দুনিয়ায় তখন ছিলো না সালাতের বিধান, না ছিলো জাকাতের বা অন্যকিছুর। আদম (আলাইহিসসালাম) দুনিয়ায় প্রথম ইবাদত শুরু করলেন এবং তা হলো "দু'আ"। দু'আ হলো "মুখখুল ইবাদাহ" মুখ মানে মেরুদণ্ড।

সূরাহ গাফিরের ৬০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন "আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’"

আল্লাহ এই আয়াত শুরু করেছেন এই বলে যে, আমরা যেনো আল্লাহর কাছে দু'আ করি, আমরা যেনো অহংকার করে আল্লাহর কাছে দু'আ না করে বসে থাকি আর যদি করে তাহলে আল্লাহ শেষাংশে বলেই দিয়েছেন তার পরিণাম কি হবে। দু'আ হচ্ছে ইবাদতের অন্তঃসার। একজন মূ'মিন অবশ্যই আল্লাহর কাছে দু'আ করে একবার নয় বারবার।

সূরাহ বাকারার ১৮৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন "আর যখন আমার বান্দাগণ তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আমি তো নিশ্চয় নিকটবর্তী। আমি আহবানকারীর ডাকে সাড়া দেই, যখন সে আমাকে ডাকে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমার প্রতি ঈমান আনে। আশা করা যায় তারা সঠিক পথে চলবে।" আল্লাহ এখানেও বলেছেন তিনি তার বান্দার দু'আতে সাড়া দেন এবং আল্লাহ তাকে ডাকা বা তার কাছে দু'আ করার জন্য আহবান করেছেন।

আল্লাহ আদমকে (আলাইহিসালাম) দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন আবার তিনিই আদমকে (আলাইহিসালাম) দু'আ করা শিখিয়ে দিলেন।

তিনি দোয়ার শুরুতেই বললেন "রাব্বানা" এর মানে হলে আল্লাহই আমার রব, আমি তার উপর নির্ভরশীল, তারপর বললেন "যলামনা আনফুসানা" মানে আমরা আমাদের উপর জুলুম করে ফেলেছি, এখন প্রশ্ন থাকতে পারে কিভাবে? উত্তর হলো "গুনাহের মাধ্যমে বা আল্লাহর অবাধ্যতার মাধ্যমে"। আমরা নিজেদের গুনাহর কথা আল্লাহর কাছে স্বীকার করি কিন্তু ইবলিস সিজদা না দিয়েও আল্লাহকে দোষারোপ করেছে, আস্তাগফিরুল্লাহ! কতটা দাম্ভিক ছিলো সে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।

এরপরে বললেন "ওয়া ইল্লাম তাগফিরিলানা ওতারহামনা লানাকুনান্না মিনাল খাসিরিন" এর এই অংশে আন্তরিকতা বা বিনয়ের স্থিতিকরণ লক্ষ করুন, আল্লাহ যদি ক্ষমা না করেন তাহলে আমাদের ধ্বংস কিন্তু অনিবার্য। ঘরে অভাব থাকলে আমরা অবশ্যই চেষ্টা করি অভাব দূর করতে, গুনাহের ফলে হৃদয় শূণ্য হয়ে যায় সেটা ভরার জন্য আমাদের দরকার পরে আল্লাহর ক্ষমার, তাই আমরা বিনয়ী হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। আল্লাহ যদি আমাদের উপর রহমত না করেন তাহলে আমরা শেষ, আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো।

আয়াতে দুটি শব্দ লক্ষ করুন "মাগফিরা ও রাহমাহ" মাগফিরা আগের সব গুনাহকে মুছে দেয়, আদম (আলাইহিসসালাম) আল্লাহর কাছে "মাগফিরা" চাইলেন মানে আল্লাহ যেনো তার সব গুনাহ ক্ষমা করেন দেন, এরপর চাইলেন "রাহমাহ" যাতে আমলের খাতায় সওয়াবের সংখ্যা বেড়ে যায়। আমরা যেনো আল্লাহর কাছে সর্বদা "মাগফিরা ও রাহমাহ" চাই এবং সর্বদা দু'আ করতে থাকি, আমীন।

|| কুরআনিক দুআ ||
অনুবাদ- ওয়াহিদুল হাদী।

11/08/2020

"জানিস তামান্না, ঘরের বাইরে পর্দা করতে যত কষ্ট, ঘরে পর্দা করতে তারচেয়ে বেশি কষ্ট! মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় সব ছেড়ে পালিয়ে যাই।”
কথাটা বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো ফারিহা।

”তবুও ধৈর্য রাখতে হবে। যে ধৈর্য কখনো ফুরাবে না। শুধু মুখে “আমি ঈমান এনছি” বললেই কি জান্নাত পেয়ে যাবি! জান্নাতের মতো অকল্পনীয় কিছু পেতে হলে তো কিছু দিতেও হবে। ”
কলেজ মাঠে ফারিহার পাশে বসতে বসতে বললো তামান্না। প্রায়ই ক্লাসের ফাঁকে এখানে বসে গল্প করে দুজনে।

”তা ঠিক। কিন্তু....”

”আচ্ছা শোন। মনে কর, তোর একটা স্টুডেন্টকে তুই একমাস পড়াবি। পড়ানোর পর পরীক্ষা নিবি। ভালো ফল করলে পুরষ্কার দিবি।

”হুম। তারপর?”

”একমাস পর সে বললো আমি সব পারি, আমার পরীক্ষা নেয়ার দরকার নেই। আমাকে পুরষ্কার দিন। তখন কি তুই তার কথামতো পুরষ্কার দিয়ে বিদায় দিবি? দিবি না!”

”তবুও এত কঠিন পরীক্ষা দিতে আর ভালো লাগে না রে! কবে যে শেষ হবে পরীক্ষা!”

”আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখ, দেখবি সব পরীক্ষায় তিনিই সাহায্য করবেন।”

”এগুলো মোটিভেশনেই মানায়। বাস্তবটা ভিন্ন হয় রে! বাস্তবে কোনও সমীকরণ মিলে না।”
বলেই আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেললো ফারিহা।

”না রে! এভাবে বলতে নেই, আল্লাহ নারাজ হবেন। যারা সবর করে, আল্লাহ তাদের সাথেই থাকেন, তারাই পুরষ্কার পাবে। কল্পনাতীত পুরষ্কার পাবে।”
কথাটা বলেই অসীম আকাশের দিকে তাকালো তামান্না। তার দৃষ্টি হারিয়ে গেলো অসীমে।

আকাশটা খুব ভালো লাগে তার। ঐ দূর আকাশেই তার রব থাকেন, যিনি সবসময় তার হৃদয়ের সব আবেদন, আবদার মন দিয়ে শোনেন। তিনি তো তার ঘাড়ের ধমনীর চেয়েও বেশী কাছে। এত কাছে ভালোবাসার রব ছাড়া আর কে থাকতে পারে!

আকাশটা খুব দূরে। তাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কিন্তু আকাশের মালিককে চাইলেই পাওয়া যায়, তিনি সবসময় বান্দার কাছেই আছেন, খুব কাছে।

”এত ধৈর্য কার আছে! কীভাবে সম্ভব?”

ফারিহার কথা শুনে ভাবনার রাজ্য থেকে ফিরে এলো তামান্না। ঠোঁটের কোনে মুচকি হাসি এনে তাকালো ফারিহার দিকে।

”ছোট্ট একটা গল্প শুনবি ফারিহা? আমার গল্প। গল্পটা নিজেকে খুব ঈমানদার প্রমান করতে বলবো না। শুধু তোকে বোঝাতে বলবো।”

”বল। শুনবো”
নড়েচড়ে বসলো ফারিহা।

...........

”গত রমজানের কথা। আমি দ্বীনে ফেরার পর আত্নীয়দের বাসায় যাওয়া, ফ্যামিলি ফাংশনে যাওয়া একপ্রকার বন্ধ করে দিয়েছিলাম।”

”কেন? আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করিসনি তো?”

”না না! ছিন্ন করার মতো না। এসবের কারন ছিলো, আমাদের পরিবারে নন মাহরামদের মধ্যে অবাধ মেলামেশা হয়। কারো বাসায় গেলেই নন মাহরামদের সামনে পড়তে হয়। বড় চাচাতো-ফুফাতো ভাইয়েরা অনেক সময় পিঠে-মাথায় হাত দিয়ে কথা বলেন। সেখানে লুকিয়ে বা পালিয়ে কোনও রুমে গুটিসুটি মেরে বসে থাকার পরিবেশ নেই। তাই নিরুপায় হয়েই...”

”ওহ আচ্ছা।”

”তবে আমি চাচা-চাচী, ফুফু, মেয়ে কাজিনদেরকে ফোন দেই। তারা বাসায় আসলে বা বাইরে কোথাও দেখা হলে তাদের সাথে কথা বলি, তাদের বাসায় মাঝে মাঝে উপহার পাঠাই। সাধ্যের মধ্যে আর পর্দার মধ্যে যতটা পারি ততটা করি।”

”তারপর কি হলো?”

”সেই রমজানে আমাদের দাওয়াত পড়লো ছোট চাচার বাসায়। ইফতারের দাওয়াত। আসরের পর যাবার কথা।

আমার একমাত্র চাচাতো ভাই আমার চেয়ে অনেক বড়। তাদের বাসায় পর্দার নিয়ম নেই। ঐ বাসায় গেলেই ভাইয়ের সামনে পড়তে হবে, এক টেবিলে খেতে হবে, কথা বলতে হবে।

তাই আমি মা-বাবাকে বললাম, আমি যাবো না। মা রাজি হয়েছিলেন কিন্তু বাবা খুব কড়া। বাবা আমার পর্দাকে বরাবরই সাপোর্ট করেন না। তাই বাবা আমাকে খুব বকলেন। মা অবশ্য অনুরোধ করেছিলেন, কাজ হয় নি।

আমার প্রথম ও শেষ ভরসা ছিলেন আল্লাহ। আমি নামাজ পড়ে শুধু দোয়া করছিলাম যেন সেখানে যেতে না হয়। মাকে বারবার বলছিলাম, আমি যাব না কিছুতেই! মা বললো, চল, এই উসিলায় তোর চাচীর সাথে দেখা হবে। আমার খুব ইচ্ছে ছিলো যাওয়ার। কিন্তু সবার আগে দ্বীন। তাই সব ইচ্ছে বাদ দিয়ে আল্লাহর কাছে চাইছিলাম যেন যেতে না হয়।”

”পরে যেতে হয়েছিলো?”

”তুই শুনতে থাক না চুপ করে!”

”আচ্ছা বাবা বল।”

”যোহরের নামাজ পড়ে দোয়া করলাম। তারপর আবার বাবাকে বললাম। কাজ হলো না। আসরের ওয়াক্ত হয়ে এলো। আসরের নামাজ পড়েও দোয়া করলাম। কিন্তু বেড়ানোটা ক্যান্সেল হলো না।

রেডি হবার সময় হয়ে এলো। শেষ মুহূর্তে একদম আশাহত হয়ে গেলাম। মনে হলো, আমার দোয়া হয়ত আল্লাহ শুনছেন না, এটা হয়ত কোন পাপের শাস্তি। মাকে বললাম, মা! আমাকে হয়ত আল্লাহ দোয়া কবুল না করে পাপের শাস্তি দিচ্ছেন।

মা বললো, এখনো সময় আছে, ধৈর্য ধরে থাক। কিন্তু আমি ধৈর্য ধরার মতো আর সময় দেখছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল, সময়তো শেষ হয়েই গেছে, এখন আর দোয়া করে বা ধৈর্য ধরে কি লাভ!”

”এরপর?”
আগ্রহের স্বরে বললো ফারিহা।

”এরপর আমার একটা আয়াত মনে পড়লো।”

”কোন আয়াত?”

”তিনি বলেন, হও, আর তা হয়ে যায়। এই আয়াতটা ভাবতেই আমার গা শিউরে উঠলো। ভাবলাম, সত্যিই তো। তিনি চাইলে যেকোনো মুহুর্তে মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে পারে। মহাবিশ্বের সবকিছুই তো তাঁর হাতের মুঠোয়।”

”মা শা আল্লাহ! তারপর কি হলো?”

”তারপর আমি আবার ধৈর্য ধরলাম। আমরা চাচীর বাসায় গেলাম। গিয়ে দেখলাম, সেখানে নন মাহরামদের কেউই নেই। চাচী বললো, ভাইয়া কি যেন একটা কাজে গ্রামের বাড়ি গেছে।”

”যাক আলহামদুলিল্লাহ! বেঁচে গেলি তুই!”

”হুম। জানিস? আমার কি যে ভালো লাগছিলো! আমি তখনই দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করলাম। আমার খুশিতে কান্না আসছিলো। আমি শুধু আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছিলাম!”

”তোর চাচীর বাসায় যাওয়ার ইচ্ছেটাও আল্লাহ পূরণ করলেন। আর নন মাহরামের সামনেও পড়তে হলো না। আমিও যদি এভাবে ধৈর্য ধরি, তাহলেও ইন শা আল্লাহ সব কাজে তার সাহায্য পাবো।”

”এই তো বুঝতে পেরেছিস, ফারিহা!”

”কিন্তু তামান্না, সব ইচ্ছে যদি পূরণ না হয়?”

”হবে। নিশ্চয়ই হবে। তবে সবকিছুর একটা সময় আছে। আল্লাহ সময়মতো তোর ইচ্ছেগুলো পূরণ করবেন। আর দুনিয়াতে যদি কাঙ্খিত জিনিস না পাস তাহলে আখিরাতে পাবার আশা রাখবি। দুনিয়ার পুরষ্কারের চেয়ে আখিরাতের পুরষ্কার ভালো না?”

”হুম সেটাই! আসলে আমারা সবর করতে পারি না। শেষ মুহূর্তে গিয়েও অনেকে ধৈর্য হারায়, হতাশ হয়ে পড়ে। অথচ সে বুঝতেও পারে না যে, সে আসলে তার লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। সবর হারিয়ে ফেলার কারনে আর সে পুরষ্কারটাও পায় না।”

”সবর করতে হবে। দাঁতে দাঁত কামড়ে হলেও ধৈর্য রাখা চাই। সবর কঠিন বলেই সবরের পুরষ্কারটাও কল্পনাতীত হয়। যত বেশি কষ্ট তত বড় পুরষ্কার। আল্লাহ আমাদের ভালোর জন্যই সবকিছু করেন। তিনিই উত্তম অভিভাবক।”

”নফসের সাথে এই লড়াইয়ে খুব কষ্ট হয় রে!”

”বুঝি রে বুঝি। লড়াইতো আমিও করি। কখনো হেরে যাই কখনো জিতে যাই। তবুও লড়াই থামানো যাবে না! আমাদের দৃষ্টিসীমায় আকাশটা যেমন অসীম, সবরটাও তেমনি অসীম হতে হবে!”
বলতে বলতে আকাশের দিকে তাকালো তামান্না।

”ঠিক তাই। লড়াই করেই যেতে হবে। আল্লাহর পথে এত কষ্ট করে ফিরলাম, এটাকে তো ধরে রাখতে হবেই! পুরষ্কারও পেতে হবে!”
দৃঢ় কন্ঠে বললো ফারিহা।

”অনেক কথা হলো। আজ আর না। ক্লাসের সময় হয়ে এলো যে!”
হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠলো তামান্না।

”ইশ! তাই তো। চল ক্লাসে যাই।”

দুজনেই যাত্রা করলো ক্লাসের দিকে, দৃুনিয়ার ব্যস্ত জীবনের দিকে। তবুও মন পড়ে রইলো পার্থিব জীবনের বাইরে কোন এক ভাবনার ভুবনে। হয়তো অসীম আকাশের স্রষ্ঠার কাছে......

...............................................
গল্পঃ যে সবর আকাশের মতো.
🖋আমিনা জান্নাত.

09/08/2020

||এক||

চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রাতের কালো চাঁদরে আবৃত হয়ে আছে চতুর্দিক। নক্ষত্র যেমন রাতের আকাশে নিরিবলি, তেমন সুনসান নীরবতা ভেঙ্গে জেগে উঠলো শুভ্র। নিকষ কালো রঙহীন ভয়াল অন্ধ করা আঁধারে চোখ মেলতেই যেন শরীরের সব শক্তি শেষ হয়ে আসছে শুভ্রের।

বহুকষ্টে চোখের পাতা খোললেও, নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে কিছুই দেখতে পেলো না সে। রাতের কালো বলয়ে ঢাকা আকাশে নেই কোন তারা। খুব সম্ভবত আজ আমবস্যাতিথি। ভাবনার সায়রে হারিয়ে যেতে লাগলো শুভ্র। সে কোথায়? চেনা পৃথিবীটা আজ এতোটাই অচেনা লাগছে কেনো তার কাছে? সে কি অন্য কোন জগতে? তবে কি সত্যিই আজ সে মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের অংশ হয়ে গেছে! যে দিনের সংশয়ে সে আমোদে কাটিয়ে ছিল কত জোৎস্নার রজনী। ভেবেছিল যৌবনের রক্তিম আভা পেরিয়ে কখনোই আসবনা কৃশ্নকালো নিশি.....

দূর বহুদূর থেকে ছুটে আসা কিছু নূর অন্ধকারকে মিলিয়ে দিচ্ছে। মিহি কন্ঠে মিষ্টি কিছু চেনা কলরবে পিনপতন নিস্তব্ধতা হারিয়ে যাচ্ছে। নূর গুলোর দিকে নিবিষ্টচিত্তে তাকিয়ে শুভ্রের মুখে দেখা মিললো এক চিলতি মুসকি হাসির। নিস্পলক দৃষ্টিতে শুভ্র তাকিয়ে রইলো নূর গুলোর দিকে। অদ্ভুত রকমের প্রশান্তি অনুভব করলো শুভ্র।

জোনাকিপোকার মত মিটিমিটি আলো ধীরে ধীরে প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। বিস্মিত হয়ে শুভ্র আবিস্কার করলো নূর গুলো আর কিছুই নয়, চেনা কিছু মানুষ। তাদের হিয়ার গহীন থেকে নূরের আলো ছড়িয়ে পড়ছে কালো আঁধার ভেদ করে। সে আলোতে পথ খুজে অতি সন্তপর্ণে ত্রস্ত পদে হেটে চলছে মানুষগুলো। ঘুটঘুটে আঁধার পেরিয়ে পারি দিতে হবে অসীম পথ। না হয় হারিয়ে যেতে হবে অন্ধকারের ভিতর গভীর অন্ধকারে।

সমস্ত শক্তিদিয়ে শুভ্র তাদের ডাকলো। কিন্তু তাদের নেই কোন ভ্রুক্ষেপ, তারা হেটেই চলছে অসীমতার পথে। শুভ্র আবার ডাকলো- ওহে, নূর বহনকারীরা একটু অপেক্ষা করো। আমাকেও নিয়ে যাও তোমাদের সাথে। -- আমরাতো ছুটে চলছি আমাদের রবের নির্দেশেই, তুমি পিছনে ফিরে গিয়ে আলোর সন্ধান করো। মিহি কন্ঠে পিনপতন নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে উত্তর এলো। শব্দ তরঙ্গগুলো একরাশ হিমেল হাওয়ার সাথে মিশে কানের টিউনিক মেমব্রেনে স্পর্শ করা মাত্র অদ্ভুত এক শিহরণ মুহুর্মুহু গোটা শরীরে ছড়িয়ে পড়লো শুভ্রের।

আকস্মিক আলো গুলো আবার হারিয়ে গেছে। শুভ্র ডুবে যাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহব্বরে। চোখের কোণে বিন্দুসম বেশখানিকটা নোনা তরল এসে জমেছে। শুভ্রের এখন কি হবে? কোথায় যাবে সে? মাতৃগর্ভের ন্যায় তিনস্তরের অন্ধকারে সে হারিয়ে যাবে? আচমকা শুভ্র অনুভব করলো, আগুনের কালো লেলিহান শিখা দাবানলের মত উশৃঙ্খল হয়ে ধেয়ে আসছে তার দিকে।

||দুই||

হতাশা আর অভিমানে শুভ্র অভিযোগ করলো - আমি কি তোমাদের সঙ্গী ছিলাম না? আমি কি তোমাদের সাথেই সালাত আদায় করিনি? তাহলে আজ আমি তোমাদের সাথে নেই কেনো? তোমরা আজ আমাকে সাথে করে নিচ্ছো না কেন? কথাগুলো বলতে গিয়ে ভয়ে-আতংকে থরথর করে কাপছে শুভ্র। আতংকের হিম একটা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নেমে গেলো। আজ এতটুকুও ঠাই নেই শুভ্রের।

অকস্মাৎ অন্ধকার ভেদ করে অত্যন্ত ক্ষীণ কন্ঠস্বর বেরিয়ে এলো। মূহুর্তে চমকিত নয়নে সেই কন্ঠ অনুসরণ করলো শুভ্র। অন্ধকার দেয়াল হতে উত্তর এলো - হ্যা, তুমি আমাদের সাথেই ছিলে। কিন্তু তুমিই সোনালী অতীতের মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আজ ডুবে আছো হাজার বছরের পুরানো অন্ধকারের গভীরতায়। যার কথা তোমায় স্মরন করিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। হায়! কত কঠিন তোমার আজকের পরিণতি।

ভয় আর বিস্ময়ে ক্ষণিকের জন্য পাথর বনে গেল শুভ্র। একে একে স্মৃতির পাতাগুলো হাতড়ে চলল সে। রোমন্থন করতে লাগল অলীক স্বপ্নের পিছনে ছুটে চলা সেই সোনালী দিনগুলোকে।

||তিন||

কোন এক বৃষ্টিস্নাত কাকডাকা ভোরে শুভ্রের পৃথিবীতে আগমন। জন্মের সময় কাকডাকা হল অশুভ সংকেত। কিন্তু শুভ্রের আগমনে ঘটলো তার বিপরীত ঘটনা। বাবা খুশী হয়ে নাম রেখেছিল, মুহাম্মদ আবরার শুভ্র। মুসলিম হয়ে জন্ম নেওয়া যে জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি সে চিন্তার কোমল ঢেউ শুভ্রের হৃদয়পটে আঁকেনি কোন চিহ্ন।

ত্রস্ত পদে জীবনের বাঁকে চলতে চলতে যৌবনে পা রাখলো শুভ্র। বন্ধুদের আড্ডায় মধ্যমনি সে। রঙতুলিতে চিতাঙ্কনের মত বাক্য আর শব্দদিয়ে সাজিয়ে তুলতো কথামালা। সে কথার মায়াপুরীর মায়ায় ডুবে থাকতো সবাই।

এইভাবেই দিনগুলো বহমান নদীর মত বেশ দ্রুতই কেটে যাচ্ছিল। মাঝেমধ্যে চিন্তার ভাজ কপালে ফুটে উঠতো। হৃদয়ের গভীর হতে অজানা একটা শব্দ খুব ক্ষীন ভাবে ভেসে আসতো “এইটাই কি আমার জীবনের লক্ষ্য!” চিন্তার সাগরে ভেসে ভেসে শুভ্র ভাবতো আর ক'টাদিন যাক তবেই জীবন তরী ঘাটে ফিরায়ে নিবো। মরুভূমিতে মরীচিকার মত ধ্রুব প্রতীক্ষায় আবদ্ধ হয়ে ছিল শুভ্র।

প্রেমিকার এলোকেশের মিছিলে হারিয়ে যাওয়া, পার্কে বসে সুন্দরীর হরিনী চোখের তারায় অদৃশ্য হওয়া, তার পুতুলের মত মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে পলকের পর পলক কাটিয়ে দেওয়া। উৎসুক মনে দুনিয়ার সকল পাপের মাঝেই সুখ খুঁজে বেড়াত শুভ্র। জীবনকে প্রতিনিয়ত রোমাঞ্চকর মনে হত তার।

||চার||

ইদ কিংবা অন্যকোন ছুটিতে বাড়িতে আসলে, আম্মু মাথায় আলতো হাতে আদর দিয়ে যখন বলতো - শুভ্র বাবা আমার! একটু নামাজ পড়ো, পিসিতে সারাদিন এসব নাটক-সিনেমা দেখা ভালো না পাপ হয়।

সে কী অভিমান শুভ্রের! তুষারের মত শুভ্র - স্বচ্ছ মুখখানি যেন কালো মেঘের ঘনঘটায় থমথমে হয়ে যেতো। বিস্ময়ের মিছিলে যুক্ত হয়ে তার মনে প্রশ্ন আসতো ইসলাম কি আমাকে একটু সুখেও থাকতে দিবে না! হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে দুঃখে কষ্টে যার মাঝেই আমি সুখ খুজে নিতে চাই সেটাই করা যাবে না? কত নিষ্ঠুর এক ধর্মরে বাবা!

শুভ্র বুঝেনি, সে সৃষ্টি হয়েছে পার্থিব কিছু অনু-পরমাণুর মিশ্রণে। কিন্তু তার আত্মা সৃষ্টি হয়েছে অপার্থিব উপাদানে যা সম্পর্কে তার স্রষ্টাই ভালো জানেন। তাইতো দুনিয়ার চাকচিক্য, সম্পদ আর সৌন্দর্য্য তাকে সাময়িক প্রশান্তির নদীতে ভাসিয়ে নিলেও সে নদী কখনোই সুখের সমুদ্রে মিলিত হয় নি। সব কিছু পেয়েও তাই শুভ্রের না পাওয়ার আক্ষেপ। সমুদ্রের উত্তাল উশৃংখল ঢেউ গুলো তাকে কখনোই জানান দেয় নি - হে শুভ্র! অন্তরগুলো যে প্রশান্ত হয় শুধু তার রবের নামেই...

||পাঁচ||

অতঃপর আজ সকল অলীক স্বপ্ন তচনচ হয়ে আল্লাহর নির্দেশ পৌছেছে। অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে বুকের বা পাশটায় একটা মোচড় দিয়ে ওঠল শুভ্রের। অদ্ভুত এক শূন্যতায় খাঁ খাঁ করছে শুভ্রের অন্তরাত্মা।

চোখ দুটো চক্ষুকোটর থেকে প্রায় বেড়িয়ে পড়ল। গোটা দেহটা থরথর করে কাঁপছে শুভ্রের। পরেই যাচ্ছে যেন সাত সমুদ্রের মত গভীর অন্ধকারে। শুভ্রের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসতে লাগল। ক্রমাগত কাঁপতে থাকা কন্ঠ হতে ক্ষীণ কণ্ঠস্বর অস্ফুট গলায় বেরিয়ে এলো - “নিকষকালো রঙহীন এই আঁধারে আমি হারাতে চাই না। ফিরে যেতে চাই সেই জীবনে। আরেকটি সুযোগ চাই আমি।” কিন্তু আজ দেরি হয়ে গেছে খুব বেশিই দেরি হয়ে গেছে.....

|| মিথ্যের অন্ধকারে ||
~ মাজহারুল ইসলাম

07/08/2020

শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে আমাদের জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার। সে খুব ভাল ভাবে জানে কখন কোথায় কিভাবে আমাদের ওয়াসওয়াসা দিতে হবে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তায়ালা আমাদের অনেক বার সতর্ক করেছেন শয়তান এর প্ররোচনা থেকে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন – "শয়তান (আল্লাহ তা‘আলার কাছে) বলল, হে মহান প্রতিপালক, তোমার ইজ্জতের কসম! আমি তোমার বান্দাদেরকে প্রতিনিয়ত গুমরাহ করতে থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের দেহে রূহ থাকবে..." (আহমাদ, হাদিস নং ১১২৩৭)। এক আল্লাহর সাহায্য ছাড়া শয়তনের ওয়াসওয়াসা থেকে বাচার কোন উপায় নেই। সুতরাং আমাদের সব সময় আল্লাহর কাছে দুয়া করে যেতে হবে যাতে আমরা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেচে থাকতে পারি।

১.
رَّبِّ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ هَمَزٰتِ الشَّيٰطِيْنِ ۙ
وَاَ عُوْذُ بِكَ رَبِّ اَنْ يَّحْضُرُوْنِ

রাব্বি আ‘ঊযুবিকা মিন হামাঝা-তিশশাইয়া-তীন।
ওয়া আ‘ঊযুবিকা রাব্বি আইঁ ইয়াহদু রূন।

"হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়ত্বানের কুমন্ত্রণা হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, হে আমার প্রতিপালক! যাতে তারা আমার কাছে আসতে না পারে।"
(আল-মু'মিনুন ২৩: আয়াত ৯৭,৯৮)

২.
أعوذ بالله السميع العليم من الشيطان الرجيم من همزه ونفخه ونفثه

আউযুবিল্লাহিস সামিয়িল আলিমি মিনাশ শাইতনির রজিমি মিন হামযিহি ওয়া নাফখিহি ওয়া নাফসিহি

হে আল্লাহ, হে অন্তরজামী, আমি তোমার কাছে শয়তান এর কটাক্ষ, কুমন্ত্রণা ও ওয়াসওয়াসা থেকে আশ্রয় চাই।
(তাফসীর ইবনে কাছির; সুরাহ ফাতিহা)

৩.
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

আউজুবি কালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খলাক

“আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের সাহায্যে তাঁর সৃষ্ট বস্তুর অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাই”,
(আবু দাউদ: ৩৮৯৯)

৪.
اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ رَبَّ كُلِّ شَىْءٍ وَمَلِيكَهُ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِى وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِهِ

আল্লাহুম্মা ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি। আলিমিল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি। রাব্বি কুল্লি শাইয়িন। ওয়া মালিকাহু।
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আউজু বিকা মিন শাররি নাফসি ওয়া শাররিশ শাইতানি ও শিরকিহি।

আকাশ ও জমিনের স্রষ্টা, উপস্থিত ও অনুপস্থিতের জ্ঞানী, সবকিছুর প্রতিপালক ও মালিক! আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। আমি নিজের নফসের অনিষ্ঠ থেকে, শয়তানের অনিষ্ট থেকে এবং শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সকাল, সন্ধ্যা ও ঘুমানোর আগে)
(আবু দাউদ : ৫০৬৯ ও তিরমিজি : ৩৩৯২)

৫.
بِسْمِ اللهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيم

বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া-হুয়াস সামিউল আলিম।

আল্লাহর নামের উসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি। যার নামের সঙ্গে থাকা অবস্থায় আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতিসাধন করতে পারে না। তিনি সবকিছু শোনেন ও জানেন। (আবু দাউদ : ৫০৯০, তিরমিজি : ৩৩৮৮)

৬.
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَعِقَابِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ ‏

আ‘উযু বি কালিমা~ তিল্লা~হিত তা~ম্মা~তি, মিন গাদ্বাবিহি, ওয়া ‘ইক্বা~বিহি, ওয়া শাররি ‘ইবা~দিহি, ওয়া মিন হামাযা~তিশ শায়াত্বীনি, ওয়া আন ইয়াহদ্বুরুন]

আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহ দ্বারা আশ্রয় চাই—তাঁর রাগ ও শাস্তি থেকে; তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে; শয়তানদের উসকানি থেকে এবং আমার কাছে তাদের (শয়তানদের) উপস্থিতি থেকে। (তিরমিজি ৩৫২৮)

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Khulna