Al Quran Light RS1

Al Quran Light RS1

Share

Assalamualikum. Dear Muslim brothers and sisters, The page is connected to the Alquran light RS1.

20/02/2024

অধঃপতনের গভীর তলদেশে দেশে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা।
==================================
ভুলে ভরা পাঠ্যবই ও ভুল বানান এবং গুরুচণ্ডালী দোষের দায়বদ্ধতা কার?
"""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""""
☞ভেবে বলুন এটা কোন ষড়যন্ত্র নয়তো?
(পর্ব -০১)
√আসসালামু আলাইকুম। প্রিয় দেশবাসী শেষ পর্যন্ত পড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
_________________________________
✔অত্যল্প-সংখ্যক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে বাদ দিলে অধিকাংশ বাংলাদেশিরই মাতৃভাষা বাংলা। অথচ এই ভাষার শুদ্ধতা রক্ষায় পুরো জাতি প্রায় উদাসীন। বিশেষ করে, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাতে বাংলা বানানের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা মাত্র। অথচ প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই এসব উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ভাষাবিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার-সভায় ভাষার শুদ্ধতা রক্ষার পাশাপাশি নির্ভুল বানানে লেখার পক্ষে জোরালো বক্তব্যও রাখেন। জাতিকে দেন পরামর্শ-উপদেশও। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাস পার হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই তাদের মাতৃভাষাপ্রীতি কর্পূরের মতোই উবে যায়।
বাংলা ভাষায় বানানের ক্ষেত্রে ইদানীংকালে ভুলের যে ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, সে বিষয়টিকে অনেকে এক ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করছেন। ভাষাবিদরা বলছেন একেক জায়গায় একেক ধরনের বানান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলা একাডেমির বানান অভিধান থাকলেও পরিস্থিতি উন্নতির কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

বাংলা বানান নিয়ে এতোটা এলোমেলো অবস্থা এর আগে কখনো ছিল কি-না সেটি নিয়ে ভাষাবিদদের সংশয় আছে।
বানানে বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে প্রথম অভিযোগ তুলতে হয় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এরমধ্যে স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত, সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নপত্রে থাকে বানান ভুলের ছড়াছড়ি। থাকে ভুলে ভরা বাক্য। বাদ যায় না সাধু-চলিত রীতির মিশ্রণও। দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিকদের হাতে সংকলিত-সম্পাদিত স্কুল-কলেজপর্যায়ের পাঠ্যবইও ভুল বানান ও গুরুচণ্ডালী দোষ থেকে রেহাই পায় না। এসব পাঠ্যবইয়ের ভূমিকা থেকে শুরু করে, বিভিন্ন অধ্যায়েও একই বাক্যে সাধু-চলিত রীতির শব্দ। চলিত ভাষায় রচিত পুরো রচনার মাঝেমাঝে একই বাক্যেই থাকে সাধু-চলিতরীতির মিশ্রণ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা প্রতিষ্ঠান হলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এসব মাধ্যমে এমনভাবে বাংলা-ইংরেজি-হিন্দির মিশ্রণ ঘটানো হয় যে, তাতে বোঝা যায় না—কোন শব্দটি কোন ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে। এসব শব্দের লেখ্যরূপে যেমন, তেমনি কথ্যরূপেও থাকে বিকৃতি। আর বিকৃত লেখ্যরূপ ও কথ্যরূপকে বর্তমানকালের ‘স্মার্ট’ রূপ হিসেবে দেখা হয়---

20/02/2024

টাটকা মুনাফিক কারা, আল কুরআনের বক্তব্য।

04/05/2023

হাফেজ ওস্তাদ শরিফ
কিতাবঃ বিশুদ্ধ জ্ঞান মহাগ্রন্থ আল-কুরআন
----------------------------------------------------------
➫ মূলঃ শায়খ মুহাম্মাদ সালিহ আল মুনাজ্জিদ

➫ অনুবাদঃ মুহাম্মাদ মুশফিকুর রহমান মিনার

▶️অনুবাদকের ভূমিকাঃ ইসলামে নারীদেরকে কিভাবে গণ্য করা হয় এ বিষয়ে ইসলামবিরোধীদের অপপ্রচারের শেষ নেই। একটি হাদিস দেখিয়ে তারা দাবি করে ইসলামে নারীরা নাকি কুকুর আর গাধার সমপর্যায়ে (নাউযুবিল্লাহ) ! হাদিসটির সরল অনুবাদ দেখে অনেক সময় মুসলিম ভাই-বোনদের মধ্যেও কৌতুহল জাগ্রত হতে পারে। হাদিসটির ব্যাপারে এই প্রবন্ধে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে।

💥একটি হাদিসের ব্যাপারে বিভ্রান্তি যেখানে বলা হয়েছে নারী, গাধা এবং কুকুরের দ্বারা সলাত ব্যাহত হয়


◘ প্রশ্নঃ

একজন খ্রিষ্টান আমাকে প্রশ্ন করেছেন ইসলাম কেন বলে যে নারীরা কুকুরের ন্যায়? সে এর প্রমাণ হিসাবে সহীহ মুসলিমের একটি হাদিস দেখায় যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো মহিলা সামনে দিয়ে গেলে সলাত নষ্ট হয়ে যায়। অনুগ্রহ করে যত দ্রুত সম্ভব এ ব্যাপারে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অপনোদন করে আপনার ওয়েবসাইটে উত্তর প্রদান করুন। ফলে এ বিভ্রান্তির বিস্তারিত উত্তর পাওয়া যাবে এবং মুসলিম নারীরা সেটি পড়তে পারবে। আশা করি যতো দ্রুত সম্ভব উত্তরটি প্রদান করবেন কেননা বিষয়টি অত্যন্ত জরুরী।



◘ উত্তরঃ

আলহামদুলিল্লাহ্‌।

যিনি এহেন অভিযোগ তুলেছেন বা বিভ্রান্ত হয়েছেন, কিছু মৌলিক জিনিস উল্লেখ করে আমরা তাকে এর জবাব প্রদান করবো। এ জাতীয় বিষয়গুলো বুঝবার এবং নিরীক্ষা করার জন্য যেগুলো অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার।



■ প্রথমতঃ

পৃথিবীতে সব জিনিসেরই অন্য জিনিসের সাথে কিছু না কিছু সাদৃশ্য থাকে। অর্থগত মিলও থাকে। মানুষেরও বিভিন্ন সৃষ্ট ও অস্তিত্বশীল বস্তুর সাথে মিল আছে। মানুষের সাথে পশুদের কিছু কিছু জায়গায় মিল আছে। উভয়েই সৃষ্ট জীবদের অন্তর্গত, উভয়েই পানাহার করে, বাঁচে ও মরে। এমনকি দার্শনিকরা মানুষকে “কথা বলা জন্তুও” বলে থাকেন।

একইভাবে, মানুষের সাথে গাছপালারও কিছু জায়গায় মিল আছে। উভয়েরই জীবন আছে, দেহের বৃদ্ধি ঘটে এবং পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়া(র.) বলেছেন,

পৃথিবীর সব জিনিসের মধ্যেই কিছু না কিছু সাদৃশ্য থাকে। এমনকি সুক্ষ্ম হলেও কিছু সাদৃশ্য থাকে। এদের কারো মধ্যে কোনো সাদৃশ্য নেই – এমন কিছু বলার অর্থ হল তাদের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা। কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি বা চিন্তাবিদের দ্বারা এমন কিছু বর্ণিত হয়নি।

বক্তব্য সমাপ্ত। বায়ান তালবিসুল জাহমিয়্যাহ ৭/৫৬৯।

এটি জানা কথা যে, উপরে উল্লেখিত মানুষের এ সাদৃশ্যকে কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি বা চিন্তাবিদ এমন নিন্দনীয় জিনিস বলে গণ্য করেননি যা সমালোচনাযোগ্য বা দোষণীয়। এর কিছু দিক আছে যা প্রশংসনীয় এবং কিছু দিক আছে যেগুলো নিছক ভৌত সাদৃশ্য যা প্রশংসনীয় বা নিন্দনীয় কোনোটিই নয়।

■ দ্বিতীয়তঃ

যুক্তিগত বা ভাষাগত দিক থেকে কোনোকিছুকে তুলনা বা সাদৃশ্য দেয়া চারটি মূলনীতির দিকে লক্ষ রেখে হয়। যে বস্তু অন্য কিছুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, যে বস্তুর সাথে সাদৃশ্য দেয়া হয়, সে সকল দিক থেকে তারা সাদৃশ্যপূর্ণ এবং সে সকল শব্দমালা বা উপমা যেগুলো তাদের সাদৃশ্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কোনো কিছু তুলনা দেবার নিয়মের আলোচনায় আসি। কোনো তুলনাকে প্রশংসনীয় হিসাবে গ্রহণ করা হবে নাকি নিন্দনীয় হিসাবে গ্রহণ করা হবে এটি বোঝার জন্য যার সঙ্গে তুলনা দেয়া হচ্ছে শুধুমাত্র তার দিকেই দৃষ্টিকে সীমাবদ্ধ করে দেয়া একটি ত্রুটিপূর্ণ কাজ। বরং তুলনা দেয়ার কারণটির দিকে দৃষ্টিপাত করাও জরুরী। [1]

একজন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি নিজের একটি কাজকে পশুর কাজের সঙ্গে তুলনা দিয়েছেন। আম্মার ইবন ইয়াসির(রা.) বলেনঃ রাসুলুলুল্লাহ(ﷺ) আমাকে একবার একটি প্রয়োজনে প্রেরণ করলেন এবং আমি জুনুব (অপবিত্র) হলাম। আমি কোনো পানি খুঁজে পেলাম না। তাই আমি মাটির উপর পশুর মতো গড়াগড়ি খেলাম।

ইমাম বুখারী(র.) (৩৪৭) ও ইমাম মুসলিম(র.) (৩৬৮) বর্ণনা করেছেন।

এখান থেকে কেউ এমনটি বুঝবে না যে তিনি নিজেকে পুরোপুরিভাবে কোনো পশুর সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন (বা নিজেকে পশুর পর্যায়ে নামিয়েছেন)। আল্লাহ না করুন, কেউ এভাবে বুঝলে তা হবে মারাত্মক ভুল। কেননা আরবদের ভাষায় কখনো এ দ্বারা এমন কিছুই বোঝায় না। কাজেই এমন ভিত্তিহীন সংশয়ে নিপতিত হবার পূর্বে কুরআন ও সুন্নাহর ভাষা আরবি ভালো করে বোঝা জরুরী। এ ধরণের সংশয়ে পতিত হওয়া আরবি ভাষার ধরণ ও প্রয়োগবিধি সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। হাদিসে উল্লেখিত উদাহরণ দ্বারা নারীজাতিকে অথবা স্ত্রীলিঙ্গকে অপমান করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলবার পূর্বে আমাদেরকে বিভিন্ন বস্তুকে সাদৃশ্য দেবার পদ্ধতিগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।

■ তৃতীয়তঃ

প্রশ্নে উল্লেখিত হাদিসটি হচ্ছে আবু হুরায়রা(রা.) বর্ণিত সেই হাদিসঃ তিনি বলেন, রাসুলুলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ নারী, গাধা ও কুকুর সলাত (সামনে দিয়ে অতিক্রম করে) নষ্ট করে। আর এর থেকে রক্ষা করে হাওদার (পেছনে দণ্ডায়মান) ডাণ্ডার ন্যায় কোনো বস্তু।” ইমাম মুসলিম(র.) বর্ণনা করেছেন (৫১১)। যিনি এই হাদিসটি ভালো করে পড়বেন তিনি বুঝবেন যে এই সাদৃশ্যকরণের উদ্যেশ্যের সাথে গাধা ও কুকুরের খারাপ গুণের কোনো সম্পর্ক নেই। ইয়াযু বিল্লাহ, নারীরা কখনোই এই পশুদের সাথে একই পর্যায়ভুক্ত নয়। এগুলো ভ্রান্ত ও স্থুলবুদ্ধিসম্পন্ন লোকদের কথা। এই হাদিস শুনে আয়িশা(রা.) এমনটি ভাবেননি। তিনি বলেছেন, “তোমরা আমাদেরকে গাধা ও কুকুরের সাথে তুলনা করছো?” হাদিসটি ইমাম বুখারী(র.) বর্ণনা করেছেন (৫১৪)।



বরং এখানে উদ্যেশ্য হলো সলাতের সাথে সম্পর্কিত একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করা। আর তা হলো, সলাত আদায়কারীর খুশু এবং আল্লাহ তা’আলার সাথে সংযোগটি নষ্ট হওয়া। সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে কোনো নারীর যাতায়াতের ফলে আল্লাহর প্রতি খুশুতে ব্যাঘাত ঘটে - এ ব্যাপারে আয়িশা(রা.) একমত ছিলেন না। তবে অনেক সাহাবায়ে কিরাম(রা.) এ ব্যাপারে তাঁর সাথে ইখতিলাফ করেছেন।



আমাদেরকে একটি জিনিস লক্ষ রাখতে হবে, মূল বিষয় হচ্ছে একজন সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে যে কেউ চলে গেলেই এতে বিঘ্ন ঘটে। পুরুষ হোক, মহিলা হোক অথবা কোনো জীব-জানোয়ার হোক, যে কারোই সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে যাতায়াত করা নিষেধ। নবী(ﷺ) যে কারো জন্যই এই কাজটি থেকে নিষেধ করে বলেছেন, “সালাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে চলাচলকারী যদি জানত সে কত বড় পাপ করছে; তাহলে সে তার সামনে দিয়ে চলাচল করার পরিবর্তে চল্লিশ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা নিজের জন্য ভাল মনে করত।” আবূ নাযর বলেন, তিনি কি চল্লিশ দিন না চল্লিশ মাস না চল্লিশ বছর বলেছেন- তা আমার জানা নেই।

ইমাম বুখারী(র.) বর্ণনা করেছেন (৫১০)।

ইমাম বুখারী(র.) (৪৮৭) ও ইমাম মুসলিম(র.) (৫০৫) বর্ণনা করেছেন, “আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রা.) জুম্মার দিন লোকদের জন্য সুতরা হিসাবে কোন কিছু সামনে রেখে সালাত (নামাজ) আদায় করছিলেন। আবূ মু’আইত গোত্রের এক যুবক তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা.) তার বুকে ধাক্কা মারলেন। যুবকটি লক্ষ্য করে দেখলো যে তাঁর সামনে দিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই। এজন্য সে পুনরায় তাঁর সামনে দিয়ে যেতে চাইল। এবার আবূ সা’ঈদ খুদরী (রা.) প্রথম বারের চাইতে জোরে ধাক্কা দিলেন। ফলে আবূ সা’ঈদ (রা.)-কে তিরস্কার করে সে মারওয়ানের কাছে গিয়ে আবূ সা’ঈদ (রা.)-এর ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করল। এদিকে তার পরপরই আবূ সা’ঈদ (রা.)-ও মারওয়ানের কাছে গেলেন। মারওয়ান তাঁকে বললেনঃ হে আবূ সা’ঈদ! তোমার এই ভাতিজার কি ঘটেছে? তিনি জবাব দিলেনঃ আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যদি লোকদের জন্য সামনে সুতরা রেখে সালাত আদায় করে, আর কেউ যদি তার সামনে দিয়ে যেতে চায়, তাহলে যেন সে তাকে বাধা দেয়। সে যদি না মানে, তবে সে ব্যাক্তি (মুসল্লী) যেন তার সাথে মুকাবিলা করে, কারণ সে শয়তান।”

ইমাম নববী(র.) বলেছেন,

নবী(ﷺ) এর এই বক্তব্য “কেননা সে শয়তান” - এর ব্যাখ্যায় আল কাযি [ইয়ায] (র.) বলেছেন, এই কথার অর্থ হলো, শয়তানই ঐ ব্যক্তিকে তার (সলাত আদায়কারীর) সামনে দিয়ে অতিক্রম করিয়েছে এবং ফিরে যাওয়া থেকে বিরত করিয়েছে। আরো বলেছেন, এর মানে হচ্ছে তিনি যা করছেন তা শয়তানের কাজ। কারণ সুন্নাতের কবুলিয়ত এবং কল্যাণ থেকে শয়তানের অবস্থান বহু দূরে। এখানে শয়তান বলতে ‘ক্বারিন’কে (প্রত্যেক মানুষের সাথে যে জিন শয়তান থাকে) বোঝানো হয়েছে যেমনটি অন্য একটি হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে, “নিশ্চয়ই তার সাথে ক্বারিন রয়েছে”। এবং আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন।

বক্তব্য সমাপ্ত। শারহ মুসলিম ৪/১৬৭।



এখানে এটি পরিষ্কার যে, হাদিসটি আমভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য যারা সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে চায়। আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রা.) এর ঘটনাটির মাঝে নারীদের কোনো ব্যাপারই নেই।

■ চতুর্থতঃ

সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করা যে কোনো অবস্থাতেই নিষেধ এবং নারী-পুরুষ সবার জন্য এটি প্রযোজ্য। আর যেহেতু এটা সলাতকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে, কোনো কোনো আলেম (সলাত আদায়কারীর) সামনে দিয়ে যাওয়া সম্পর্কিত এ হাদিসকে এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন - এর উদ্যেশ্য এটি নয় যে সলাত বাতিল হয়ে যাবে। অথবা এই সলাত নতুন করে আদায় করাও জরুরী হবে না। বরং এর মানে হলোঃ এর ফলে ঐদিকে খেয়াল দিয়ে সলাতের পরিপূর্ণতা এবং খুশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। সলাত আদায়কারীর মনোযোগ সেদিকে চলে যায়।

ইমাম কুরতুবী(র.) বলেছেন,

এর কারণ হচ্ছে নারীরা (পুরুষের জন্য) ফিতনা বা পরীক্ষার কারণ হতে পারে। গাধা বিকট আওয়াজ করে ডাকে। আর কুকুর মানুষের মনে ভীতির উদ্রেক করতে পারে। আর (সলাতের মধ্যে) কারো মনে যদি এইসব চিন্তা আসে, তাহলে তার মনোযোগ বিঘ্নিত হয়ে সলাত বাধাগ্রস্ত এবং নষ্ট হতে পারে। যেহেতু এসব বিষয়ের জন্য সলাত বাধাগ্রস্ত হতে পারে, এদেরকে সলাতের বাধা সৃষ্টিকারী হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

বক্তব্য সমাপ্ত। আল মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস সহীহ মুসলিম ২/১০৯।



অনুরূপ একটি ব্যাখ্যা উল্লেখপূর্বক ইবন রজব(র.) বলেছেন,

এই ব্যাখ্যার চেয়েও (সঠিকের) আরো নিকটবর্তী হবে এভাবে বলাঃ একজন মুসল্লী সলাতের মধ্যে আল্লাহর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনের মধ্যে থাকেন, আল্লাহর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকেন। তাই একজন মুসল্লীর প্রতি নির্দেশ হচ্ছে, শয়তান যেন আল্লাহর সহিত তাঁর এই একান্ত আলাপন ও ঘনিষ্ঠতার মাঝে বাগড়া না দিতে পারে এ জন্য আগে থেকেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া। কাজেই উচিত হবে সলাত আদায়ের সময় শয়তান যেন বাগড়া দিতে না পারে এ জন্য সুতরা (অন্তরাল) ব্যবহার করা। কারণ একজন মুসল্লী যখন তাঁর রবের সাথে আলাপরত অবস্থায় থাকে, শয়তান তাঁকে বাধা দিতে চেষ্টা করে। শয়তান হচ্ছে বিতাড়িত এবং অভিশপ্ত। আল্লাহর ধ্যান থেকে তার অবস্থান বহু দূরে। সে যদি মুসল্লীর কাছাকাছি এসে যায়, মুসল্লী তাঁর রব থেকে দূরে সরে যায়। তাঁর রবের সাথে নৈকট্য, রহমত ও দয়া থেকে বাধার সৃষ্টি হয়।

আল্লাহ ভালো জানেন, এ সব কারণেই খাসভাবে তিনটা বিষয় থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। এরা হচ্ছেঃ

নারী - নারীদের দ্বারা শয়তান ফাঁদ পাতে। একজন নারী যখন ঘরের বাইরে যায়, শয়তান তার দিকে নজর দেয়। নারীর মাধ্যমেই শয়তান আদম(আ.)কে জান্নাত থেকে বের করেছিলো। [2]

কালো কুকুর হচ্ছে শয়তান। হাদিসে এটি উল্লেখ আছে। [3]

গাধার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কেউ যদি রাতে গাধার স্বর শোনে, তাকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে বলা হয়েছে কেননা এটি শয়তানকে দেখতে পায়। [4]

কাজেই নবী(ﷺ) (সলাত আদায়ের সময়ে) সুতরা ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছেন যাতে শয়তান সলাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে (কেউ সলাতের সামনে দিয়ে গেলে) সলাত বাতিল হয়ে যাবে বা নতুন করে তা আদায় করতে হবে। এবং আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন। বরং এটা সলাতে (মনোযোগ নষ্ট করে) ঘাটতির সৃষ্টি করে। যা উল্লেখ করেছেন সাহাবীরা যেমন উমার(রা.) এবং ইবন মাসউদ(রা.)। সলাত আদায়কারীর সামনে দিয়ে একজন ব্যক্তির যাবার যে ঘটনা ইতিমধ্যেই আলোচনা করা হয়েছে। নবী(ﷺ) এমন ব্যক্তিকে বাধা দিতে ও মুকাবিলা করতে আদেশ করেছেন। এবং তিনি বলেছেনঃ “কারণ সে (বাধা দেবার পরেও যে মুসল্লীর সামনে দিয়ে যেতে চায়) শয়তান”। আরেকটি রেওয়াত অনুযায়ী তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই তার সাথে ক্বারিন (জিন শয়তান) রয়েছে”। তবে শয়তানের সাথে সংশ্লিষ্ট যেসব পশুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এরা সামনে দিয়ে অতিক্রম করলে সলাতের যে ঘাটতি হয় এর পরিমাণ অনেক বেশি। সলাত বাধাগ্রস্ত করা বলতে একেই বোঝানো হয়েছে। তবে এতে সলাত বাতিল হয় না, নতুন করেও আদায় করতে হয় না। আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন।

বক্তব্য সমাপ্ত। ফাতহুল বারী – ইবন রজব ৪/১৩৫।

■ পঞ্চমতঃ

কিছু লোক অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করে যেটি হয়তো সম্পূর্ণরূপে স্পষ্ট নয় এবং যেটির হয়তো ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে। এবং তার অনুসন্ধানের বিষয়ের সাথে এর কোনো সম্পর্কই নেই। সেই বর্ণনাটিকেই হয়তো তিনি (বা তারা) একটি পরিপূর্ণ ধর্মের বিরুদ্ধে বিষোদগারের জন্য ব্যবহার করছেন, যেমন ইসলাম ধর্ম। যে ধর্মটিতে আদেশ-নিষেধ ও নীতি-নৈতিকতার জন্য পূর্ণাঙ্গ বিধি-বিধান রয়েছে। এটা সেই ধর্ম যা থেকে বহু উদ্ধৃতি ও শিক্ষা দেখানো যাবে যাতে নারীদের এমন সম্মান দেয়া হয়েছে যেমনটি অন্য কোনো ধর্ম, আইন বা ব্যাবস্থায় দেয়া হয়নি। এগুলোর ব্যাপারে চোখ বুজে থেকে (বিষোদগারের উদ্যেশ্যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে) একটি বর্ণনা নিয়ে আসা - কোনো গবেষকের জন্যই একে ন্যায় বা ইনসাফপূর্ণ আচরণ বলা যাবে না। হোক তিনি যে কোনো ধর্মের বা দলের।

আয়িশা(রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, “…নারীরা তো পুরুষের অংশ (তাদের মতোই)।”

ইমাম তিরমিযি(র.) (১১৩) বর্ণনা করেছেন। শায়খ আলবানী(র.) সহীহ আবু দাউদে (২৩৪) একে বিশুদ্ধ বলে চিহ্নিত করেছেন।

খাত্তাবী(র.) বলেছেন, “নারীরা তো পুরুষের অংশ (তাদের মতোই)” - তাঁর এই বাণীর অর্থ হলো, তারা তাদের (পুরুষদের) সমকক্ষ। সৃষ্টিগত ও প্রকৃতিগতভাবে তারা পুরুষদের সাথে এমনই সাদৃশ্যপূর্ণ ঠিক যেন তারা পুরুষদের জমজ। ... [5]

হাদিস থেকে যা বোঝা যায়…যদি সাধারণভাবে কোনো কিছুকে পুরুষবাচক শব্দ দ্বারা উল্লেখ করা হয়, সেটি নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। শুধুমাত্র কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র বাদে, যেখানে দলিল আছে যে এগুলো শুধুমাত্র তাদের (পুরুষদের) জন্য প্রযোজ্য।

বক্তব্য সমাপ্ত। মা’আলিমুস সুনান ১/৭৯।

উলামাগণ এই হাদিস থেকে দলিল পেশ করেছেন যে, সাধারণ নিয়ম হচ্ছে যেসব জিনিস পুরুষদের জন্য জরুরী, সেগুলো নারীদের জন্যও জরুরী। পুরুষদের জন্য যা জায়েয, নারীদের জন্যও তা জায়েয। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকবে না যদি না এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর কোনো উদ্ধৃতি থাকে।

এভাবে কুরআনে নারীদেরকে সম্বোধণ করেছে, ঠিক যেভাবে পুরুষদেরকেও সম্বোধণ করেছে। এ ব্যাপারে বহু উদ্ধৃতি রয়েছে। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُم بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

অর্থঃ “যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।”

[আল কুরআন, নাহল ১৬ : ৯৭]


আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا

অর্থঃ “নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, সওম পালনকারী পুরুষ সওম পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী নারী, আল্লাহ্‌কে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহ্‌কে অধিক স্মরণকারী নারী—তাদের জন্য আল্লাহ রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।”

[আল কুরআন, আহযাব ৩৩ : ৩৫]

আরো তথ্যের জন্য দেখুন ওয়েবসাইটের ৭০০৪২, ৪০৪০৫ এবং ১৩২৯৫৯ নং প্রশ্নের উত্তর।

এবং আল্লাহই সর্বোত্তম জানেন।

মূল ফতোয়ার লিঙ্কঃ
○ আরবিঃ https://islamqa.info/ar/214748/

○ ইংরেজিঃ https://islamqa.info/en/214748/





অনুবাদকের টিকা
[1] একটি উদাহরণ দিলে হয়তো বিষয়টি বোঝা আরো সহজ হবে। ধরা যাক বলা হলোঃ “মানুষ, গরু, গাধা সবাই এই পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণী” – এই বাক্য দেখে কেউ কি বুঝবে যে এখানে মানবজাতিকে গরু ও গাধার পর্যায়ে নামানো হয়েছে? উত্তর হচ্ছেঃ না। এখানে মানবজাতিকে গাধা ও গরুর পর্যায়ে নামানোর উদ্যেশ্যে তাদের নাম একসাথে উল্লেখ করা হয়নি। এখানে এই তুলনার উদ্যেশ্য হলো, এরা সবাই জীবন্ত প্রাণী এটা বোঝানো। যে কোনো যুক্তি-বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই এটি বুঝবে এবং এ নিয়ে প্রশ্ন তুলবে না। দুঃখের বিষয় হলো, হাদিসে যখন নারী, কুকুর ও গাধার নাম একসাথে উল্লেখ করা হয়, যুক্তি-বুদ্ধির ধার না ধেরে কিছু মানুষ মরিয়া হয়ে ইসলামকে আক্রমণ করতে শুরু করে। এই নামগুলো কেন একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে, এর উদ্যেশ্য মাথা খাটিয়ে বুঝতে চেষ্টা করে না।

[2] ইস্রাঈলী রেওয়ায়েতে উল্লেখ আছে আদম(আ.) এর স্ত্রী হাওয়া(আ.)কে শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয় এবং এর ফলশ্রুতিতে তিনি নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে আদম(আ.)কে প্ররোচিত করেন। প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে ইস্রাঈলিয়্যাহ বর্ণনা করা একটি বৈধ বিষয়। এর ভিত্তিতে অনেক সম্মানিত মুফাসসির এবং মুহাদ্দিসই এটি উল্লেখ করেছেন। যদিও কুরআন বা সহীহ হাদিসে এর উল্লেখ নেই। এ প্রসঙ্গে আল কুরআনে উল্লেখ আছেঃ



“অতঃপর সে (শয়তান) তাদের উভয়কে বিভ্রান্ত করল। যখন তারা সেই নিষিদ্ধ গাছের ফলের স্বাদ গ্রহণ করল তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা বাগানের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগল। তাদের রব তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমি কি এই বৃক্ষ সম্পর্কে তোমাদেরকে নিষেধ করিনি এবং বলিনি যে, শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শক্র?”

[আল কুরআন, আ’রাফ ৭ : ২২]



“অতঃপর শয়তান তাকে কুমন্ত্রণা দিল; সে বলল, হে আদম! আমি কি আপনাকে বলে দেব অনন্ত জীবনদায়িনী গাছের কথা ও অক্ষয় রাজ্যের কথা? তারপর তারা উভয়ে সে গাছ থেকে খেল; তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্ৰকাশ হয়ে পড়ল এবং তারা জান্নাতের গাছের পাতা দিয়ে নিজেদেরকে ঢাকতে লাগলেন। আর আদম তার রব-এর হুকুম অমান্য করলেন, ফলে তিনি পথভ্রান্ত হয়ে গেলেন। তারপর তার রব তাকে মনোনীত করলেন, অতঃপর তার তাওবা কবুল করলেন ও তাকে পথনির্দেশ করলেন।”

[আল কুরআন, ত্বা-হা ২০ : ১২০-১২২]



একটি সহীহ হাদিসে যদিও হাওয়া(আ.) এবং স্বামীর খিয়ানতের কথা উল্লেখ আছে।



“…আর যদি হাওয়া (আ.) না হতেন তাহলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানত করত না।”

[মুসলিম ১৭/১৯ হাঃ ১৪৭০, আহমাদ ৮০৩৮]



এই হাদিসের ব্যাখ্যাতেও অনেক সম্মানিত মুহাদ্দিস ইস্রাঈলিয়্যাহ থেকে প্রাপ্ত ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। যদিও এই হাদিসে স্পষ্টত এটি উল্লেখ নেই যে আদম(আ.)কে নিষিদ্ধ গাছের ফল খেতে হাওয়া(আ.) উদ্বুদ্ধ করেন। ইসলামী আকিদা হিসাবে কেবল সেটিই গণ্য হবে যা কুরআন বা সহীহ হাদিসে আছে।

[3] সহীহ হাদিসে উল্লেখ আছে যে জিন শয়তান কালো কুকুরের রূপ ধারণ করতে পারে।

عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجِنُّ عَلَى ثَلَاثَةِ أَصْنَافٍ صِنْفٌ كِلَابٌ وَحَيَّاتٌ وَصِنْفٌ يَطِيرُونَ فِي الْهَوَاءِ وَصِنْفٌ يَحُلُّونَ وَيَظْعَنُونَ

অর্থঃ আবু ছা’লাবাহ খুশানী(র.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ(ﷺ) বলেছেন, “জিনের তিনটি রূপ আছে, একটা রূপ হচ্ছে কালো কুকুর আর সাপের মতো, আরেকটা রূপ বাতাসে উড়ে বেড়ায়। আরেকটি রূপ আছে যারা আসে এবং যায়।”

[ইবন হিব্বান ৬১৫৬, সহীহ (আলবানী)]

[4] জাবের(রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী(ﷺ)-কে বলতে শুনেছেনঃ রাত শান্তভাব ধারণ করার পর তোমরা কমই বাইরে বের হবে। কারণ (এ সময়) আল্লাহ তাঁর কতক সৃষ্টিকে (স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে) ছড়িয়ে দেন। অতএব তোমরা কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ ও গাধার ডাক শুনতে পেলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করো।

[আল-আদাবুল মুফরাদ ১২৪৭, সহীহ (আলবানী)]

[5] যদিও নারী ও পুরুষের মাঝে অনেক বৈসাদৃশ্যও রয়েছে। তবে তাদের মাঝে প্রচুর সাদৃশ্যও রয়েছে। এখানে সে সাদৃশ্যগুলোর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(আমি জ্ঞান পিপাসু)
-------ওস্তাদ শরীফ

25/04/2023

Book: Al-Qur'an, the book of pure knowledge. "Truth-Revelation" Al-Qur'an Light RS1 Ustad Sharif.

07/01/2023

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

কুরআন কি পৃথিবীকে সমতল বলছে?
বৈজ্ঞানিক অসামাঞ্জস্য বিষয়ক অভিযোগের জবাব।

নাস্তিক প্রশ্ন:

কুরআন বলে পৃথিবীর গঠন বিছানা বা কার্পেটের মত (Quran 15:19, 20:53, 43:10, 50:7, 51:48, 71:19, 78:6, 79:30, 88:20 and 91:6)! কিন্তু কেউ কখনো স্ফেরিক্যাল কার্পেট দেখেনি! কুরআন কি তাহলে পৃথিবীকে সমতল বলছে না?

উত্তর:

প্রথমত, কুরআনের কোথাও পৃথিবীর আকারকে সমতল বলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, কেউ কি অকাট্য যুক্তি-প্রমাণের সাহায্যে কুরআনের পৃথিবীকে সমতল বানাতে পারবেন? কখনোই না। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক তাদের দেয়া কিছু কুরআনের আয়াত যেগুলো দিয়ে কুরআনের পৃথিবীকে সমতল বানানো হয়-

“আমি ভু-পৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছি এবং তার উপর পর্বতমালা স্থাপন করেছি এবং তাতে প্রত্যেক বস্তু সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করেছি।” (১৫:১৯)

“তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।” (২০:৫৩)

“যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে তোমাদের জন্যে করেছেন পথ, যাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পার।” (৪৩:১০)

“আমি ভূমিকে বিস্তৃত করেছি, তাতে পর্বতমালার ভার স্থাপন করেছি এবং তাতে সর্বপ্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উদগত করেছি।” (৫০:৭)

“আমি ভূমিকে বিছিয়েছি। আমি কত সুন্দরভাবেই না বিছাতে সক্ষম।” (৫১:৪৮)

“আর পৃথিবী -- এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন।” (৭৯:৩০)

“আর এই পৃথিবীর দিকে -- কেমন করে তাকে প্রসারিত করা হয়েছে?” (৮৮:২০)

তাদের কুযুক্তি হচ্ছে পৃথিবীকে যেহেতু কার্পেট ও বিছানার সাথে তুলনা করা হয়েছে, তাই কুরআন পৃথিবীকে সমতল বলেছে। কেন এটা অযৌক্তিক যুক্তি, তার কারণগুলো নিম্নরুপ-

১। একটা সহজ আর্গুমেন্ট দিয়েই শুরু করি। কারও চেহারার প্রশংসা করে যখন ‘চাঁদমুখ’ বলা হয়, তখন ‘চাঁদমুখ’ বলতে কিন্তু চাঁদের মত গোলাকার কোন মুখ বুঝায় না; বরং সৌন্দর্যের কথা বুঝায়। তাই কার্পেট বা বিছানা বললেই যে সেটা দিয়ে সমতল বুঝানো হচ্ছে- এরকম যুক্তি আসলে কুযুক্তি ছাড়া কিছু নয়।

২। বেড বা বিছানা বলতে সাধারণত নরম গদিকে বুঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ বেড তাকেই বলা হয় যেখানে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নেয়া যায়। তাছাড়া বেড সাধারণত প্রটেকটিভ (protective) জায়গার মধ্যে রাখা হয় যাতে করে সূর্যের তাপ ও ক্ষতিকর রশ্মি, ঝড়-বৃষ্টি, হিংস্র জীবজন্তু ও বিষাক্ত কীট-পতঙ্গের হাত থেকে জীবন বাঁচানো যায়। এবার আসা যাক কুরআনের ক্ষেত্রে। কুরআনে পৃথিবীকে বেড বা কার্পেট এর সাথে তুলনা করে পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি। বরঞ্চ এই তুলনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা সবাই জানি এ পর্যন্ত যতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ আবিষ্কার করা হয়েছে তার মধ্যে পৃথিবী একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রহ, যেখানে পানি-বাতাস ও জীবের অস্তিত্ব আছে। অর্থাৎ পৃথিবী নামক গ্রহে মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তু-উদ্ভিদ যত সহজে বসবাস করতে পারে, যত সহজে আরাম ও স্বাচ্ছন্দের সাথে বিশ্রাম নিতে পারে, সর্বোপরি যত সহজে বেঁচে থাকতে পারে, অন্য কোন গ্রহে যেয়ে তত সহজে বসবাস করা কিন্তু অসম্ভব। আর এ কারণেই কুরআনে পৃথিবীকে বেড বা বিছানার সাথে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ কুরআনে পৃথিবীকে বেডের সাথে তুলনা করে পৃথিবীকে বসবাস ও জীবন ধারণের উপযোগী বুঝানো হয়েছে, পৃথিবীর আকার-আকৃতিকে বুঝানো হয়নি। আয়াতগুলো পড়লেই বুঝা যায়। বেডকে যেমন প্রটেকটিভ জায়গার মধ্যে রাখা হয় তেমনি পৃথিবীকেও প্রটেকটিভ আবরণের মধ্যে রাখা হয়েছে (২১:৩২)।

৩। কুরআনের এই আয়াতগুলোতে ‘Shape’ ও ‘Flat’ শব্দ দুটির কোনটিই ব্যবহার করা হয়নি। সুতরাং আয়াতগুলোতে আসলে কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটাই বিবেচ্য বিষয়। প্রথমত, কিছু অনুবাদক ‘কার্পেট’ ও ‘বেড’ শব্দ দুটি ব্যবহারই করেননি। দ্বিতীয়ত, কার্পেটিং করতে হলে রাস্তা-ঘাট সরল রেখার মতো সমতল হতেই হবে, এমন আজগুবি কথা কে বলেছে! পাহাড়ের উপর দিয়ে যে রাস্তা তৈরী করা হয় সেটি তো বক্রাকার বা অর্ধবৃত্তাকার। সেই অর্ধবৃত্তাকার রাস্তায় কি কার্পেটিং করা হয় না? ফলে গোলাকার বস্তুর উপর কার্পেট বিছানো যাবে না কেন? ফুটবলের উপরের চামড়াকেও তো এক অর্থে কার্পেট বলা যেতে পারে। ঘরের মেঝেতে মানুষ কার্পেট বিছায় মূলত কিছু কারণে- মেঝে খসখসে হলে, মেঝে ঠান্ডা হলে, মেঝের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ইত্যাদি। রাস্তায় যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য যেমন কার্পেটিং করা হয়, পৃথিবীর পৃষ্ঠভাগকেও মানুষের বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী করার জন্য কার্পেটিং করা হয়েছে। পৃথিবীর মধ্যভাগ বসবাস ও ফসল ফলানোর উপযোগী নয়। বেডের উপর মানুষ যেমন বিশ্রাম নিতে পারে তেমনি পৃথিবীর পৃষ্ঠেও বিশ্রাম নিতে পারে। আর এ কারণেই পৃথিবীকে বেডের সাথে তুলনা করা হয়েছে, পৃথিবীর মধ্যভাগ বিশ্রামযোগ্য নয়। অতএব প্রচলিত বেডের আকার সমতল না হয়ে অন্য কিছু হলেও সেই বেডের সাথেই হয়তো তুলনা করা হতো। তাছাড়া স্ফেরিক্যাল বেডও তো অসম্ভব কিছু নয়। পুরো পৃথিবীকে একটি বিশাল স্ফেরিক্যাল বেড ধরে নেয়াটা অযৌক্তিক হবে কেন? আয়াতগুলোতে কিছু শব্দ যেমন Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি দেখেই পৃথিবীর আকারকে সমতল ধরে নেয়া হয়েছে! কিন্তু Bed, Carpet, Spread out, Expanse ইত্যাদি বলতে যে সমতল হতেই হবে তার কোন যৌক্তিকতা নেই।

৪। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনুবাদক বিভিন্ন রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন- সূরা ত্বোয়া-হা ২০:৫৩ এর বিভিন্ন অনুবাদ লক্ষ্যণীয়:

[Qaribullah]: It is He who has made for you the earth as a cradle.

[Yusuf Ali]: He Who has, made for you the earth like a carpet.

[Pickthall]: Who hath appointed the earth as a bed.

[Shakir]: Who made the earth for you an expanse.

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, ৪ জন অনুবাদক ৪ রকম শব্দ ব্যবহার করেছেন এবং সবগুলোই আসলে যৌক্তিক, যার ব্যাখ্যা ইতোমধ্যে এবং সামনেও আলোচনা হবে ইনশাল্লাহ্‌। অনুবাদের ক্ষেত্রে যে অনুবাদকে সবচেয়ে বেশী যৌক্তিক মনে হবে সেটা গ্রহণ করাতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু বিভিন্ন অনুবাদ থেকে নিজের ইচ্ছেমতো কিছু শব্দ বেছে নিয়ে একটি গ্রন্থকে ভুল বা অবৈজ্ঞানিক প্রমাণ করার চেষ্টা করা অযৌক্তিক। কারণ অনুবাদের ক্ষেত্রে ‘বেনিফিট অফ ডাউট’ কুরআন বা যে কোন গ্রন্থকেই দিতে হবে। কুরআনে এমন কোন আয়াত নেই যেখানে থেকে কেউ পৃথিবীর আকারকে অকাট্য যুক্তি দিয়ে সমতল বানাতে পারে।

৫। বিছানা/কার্পেটের সংজ্ঞা কি? এমন কোন কিছু যার উপর আমরা আরাম অনুভব করি। এখন আমরা পৃথিবীর উপর সার্চলাইট ফেলি। আপনি জানেন কি পৃথিবীর অনেকগুলো লেয়ার আছে? [1]
এটি সবচেয়ে পাতলা আস্তরণ। আমরা যেখানে দাড়িয়ে আছি, সেই Crust-এর আয়তন মাত্র ৩০ কিমি। এই লেয়ারটাই আমাদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। Crust এর নিচেই আছে ম্যান্টল। এটি প্রায় ২৯০০ কিমি পুরু। এটি বসবাসের জন্য ভয়াবহভাবে অনুপযোগী। উইকিপিডিয়াতে সার্চ করে দেখতে পারেন এই mantle সম্পর্কে কি লেখা আছে- In the mantle, temperature ranges between 500 to 900°C. [3] আর পৃথিবীতে এই Crust-এর মাত্রা মোট আয়তনের মাত্র ১%। এবার বলুন, আপনি যদি সৃষ্টিকর্তা হতেন, তাহলে এই ক্রাস্টের কথা বুঝাতে কোন শব্দটি ব্যবহার করতেন? এখানে বিছানা/কার্পেটই সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ। কারণ ভূপৃষ্ঠ বা ক্রাস্টের লেয়ার খুবই পাতলা। বিছানা, কার্পেটও পাতলা আস্তরণ। ক্রাস্ট যেমন আমাদের বসবাসের জন্য আরামদায়ক, তেমনি বিছানা, কার্পেটও আরামদায়ক করার জন্যই বিছানো হয়। সূরা নূহের ১৯-২০ আয়াতটাতে ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট- “আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্যে ভূমিকে করেছেন বিছানা। যাতে তোমরা চলাফেরা করো প্রশস্ত পথে।” (৭১:১৯-২০) ভূপৃষ্ঠের গুরুত্ব এটাই যাতে আমরা স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারি। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশিবার দেখা Windows XP-এর default wallpaper “Bliss” [4] ছবিটা দেখুন। এটাকে কি আপনার ঘাসের কার্পেট বা গালিচা মনে হচ্ছে না?আপনি যদি কুরআনের বিছানা বা কার্পেট সংক্রান্ত আয়াতগুলো দেখেন- তাহলে দেখবেন- ভূমিকে বিছানো হয়েছে- এই কথা বলার সাথে সাথেই তোমরা চলাফেরা করতে পারো, ফসল উৎপন্ন করতে পারো- এই কথাগুলো বলা হয়েছে। কথাগুলো দিয়ে ক্রাস্টের ব্যাপারটা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু ব্রেইন ওয়াশ্ড নাস্তিকদের এগুলো চোখে পড়ে না।

এবার আমরা কুরআনে পৃথিবীর আকারকে যে সমতল বলা হয় নি, বরং গোলাকারের (স্ফেরিক্যাল) দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে সে ব্যাপারে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট আলোচনা করার চেষ্টা করবো। তবে তার আগে আপনাদের কাছে আমার একটা জিজ্ঞাসা, পৃথিবীর আকার গোলাকার- এটা কি কুরআনে বলা খুব জরুরি? মানবজাতিকে দিক নির্দেশনার জন্য কুরআন নাযিল হয়েছে, আমাদেরকে Geography, Astronomy শেখাতে নয়। যাই হোক, আমরা আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে যাই।

১ম প্রমাণ: সূরা ইন্‌শিক্বাক্বের ৩ নম্বর আয়াত দেখুন- “আর যখন পৃথিবীকে সমতল করা হবে।” (৮৪:৩)

‘যখন সমতল করা হবে...’ অর্থাৎ এখনই সমতল না। যদি আল্লাহ্‌ পৃথিবীকে সমতলই বলতেন, তাহলে আবার সমতল করার কথা বলবেন কেন? এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায়, কুরআনে পৃথিবীকে সমতল বলা হয় নি। যদি এখানে মসৃণ সমতলের কথা বলা হত তা হলে আল্লাহ্‌ পরের আয়াতে এটি উল্লেখ করতেন না- “আর তার ভেতরে যা-কিছু রয়েছে তা নিক্ষেপ করবে এবং শূন্যগর্ভ হবে।” (৮৪:৪) এখানে মসৃণ সমতল নয়- একেবারে অরিজিন সমতল। যদি মসৃণ সমতলের কথা বলতেন, তাহলে পৃথিবীর উপরিভাগের কথা বলতেন। কিন্তু পুরো সূরাতে আল্লাহ্‌ কোথাও উপরি-অংশ বা উপরিভাগের কথা উল্লেখ করেন নি।

২য় প্রমাণ: “তিনি রাত্রি দ্বারা দিনকে আচ্ছাদিত করেন এবং রাত্রিকে আচ্ছাদিত করেন দিন দ্বারা।” (সূরা আয-যুমার ৩৯:৫)

উপরের আয়াতটিতে যে আরবি শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি হলো “يُكَوِّرُ”। যার অর্থ কোন জিনিসকে প্যাঁচানো বা জড়ানো, যেমনটা মাথার পাগড়ির ক্ষেত্রে বুঝানো হয়। অবিরত প্যাঁচানোর পদ্ধতি- যাতে এক অংশ আরেক অংশের ভেতর ঢুকে যাচ্ছে। আমরা ভালোভাবেই জানি, পাগড়ি কিভাবে গোলাকারভাবে প্যাঁচানো হয়। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, রাত ধীরে ধীরে ক্রমশ দিনে রূপান্তরিত হয়, অনুরূপভাবে দিনও ধীরে ধীরে রাতে রূপান্তরিত হয়। এ ঘটনা কেবল পৃথিবী গোলাকার হলেই ঘটতে পারে। পৃথিবী যদি চ্যাপ্টা বা সমতলভূমি হত, তাহলে রাত্রি থেকে দিনে এবং দিন থেকে রাত্রিতে একটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যেত।

এছাড়া দেখুন আরও দুইটা আয়াত-

“আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে ‘অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্নগণের’ জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।” (সূরা নূর ২৪:৪৪)

“নিশ্চয়ই মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং ‘রাত ও দিনের আবর্তনে বিশেষ নিদর্শন রয়েছে’ জ্ঞানবান লোকদের জন্য।” (সূরা আলি ইমরান ৩:১৯০)

আল্লাহ্‌ কেন বললেন অন্তর্দৃষ্টির কথা? কেন বললেন না বাহ্যিক দৃষ্টির কথা? আমরা বাহ্যিকভাবে দেখি, সূর্য উদিত হয় বা অস্ত যায়। আসলেই কি তাই? ‘রাত ও দিনের আবর্তনে বিশেষ নিদর্শন রয়েছে’- কি এমন ‘বিশেষ’ জিনিস রয়েছে যাতে আমাদের অন্তর্দৃষ্টি দিতে হবে? অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার আর পাগড়ির মত প্যাঁচানোর কথা বলে এখানে ইঙ্গিতে পৃথিবীর স্ফেরিক্যাল শেপ এবং ঘূর্ণায়মানতার কথা বলা হয়েছে।

৩য় প্রমাণ: “তিনি দুই পূর্বের প্রভু, আর দুই পশ্চিমেরও প্রভু।” (সূরা রাহমান ৫৫:১৭)

কুরআনে যদি পৃথিবীকে সমতলই বলা হত- তাহলে দুইবার পূর্ব আর দুইবার পশ্চিমের কথা বলা হল কেন? পৃথিবী যদি সমতল হত তাহলে সমগ্র পৃথিবীতে সূর্যের উদয় ও অস্ত একবার করে হত। কিন্তু পৃথিবী গোলাকার হওয়ায় এমনটা হয় না। কারণ আপনি যখন দেখছেন সূর্য উঠছে, তখন আসলে অন্য জায়গায় সূর্য ডুবছে। আর যখন দেখছেন সূর্য ডুবছে, তখন আসলে অন্য অবস্থানে সূর্য উঠছে (প্রকৃতপক্ষে সূর্য অস্ত বা উদয় কোনোটাই হয় না। বুঝানোর সুবিধার্থে এভাবে বললাম)। মোট দুইটা পূর্ব, দুইটা পশ্চিম। বিষয়টা আসলে আরও অনেক গভীর এবং আলোচনার বিষয়। জায়গার অভাবে এই মুহূর্তে সেদিকে আর যাচ্ছি না।

৪র্থ প্রমাণ: আমরা যদি চারপাশে তাকাই, তাহলে কিন্তু পৃথিবীকে আমাদের কাছে সমতলই মনে হয়। কারণ পৃথিবী এত বড় গোলক যা নির্দিষ্ট কোন স্থান থেকে সমতলই মনে হবে। বিজ্ঞানের যে পরীক্ষাগুলোতে পৃথিবীর ছোট কোনো অংশ বিবেচনা করা হয় সেখানে কিন্তু সমতলই ধরা হয়। তবে বৃহৎ দুরত্বে অবশ্যই গোলাকার। আপনি যদি পৃথিবীর surface area, circumference-এর কথা চিন্তা করেন, সেটা অবশ্যই বিশাল। [5]

এই বিশাল জায়গাকে দেখলে বিস্তৃতই মনে হয়; এটা পৃথিবীর সমতল হওয়া প্রমাণ করে না।

আর আমরা জানি, আমাদের এই পৃথিবী হঠাৎ করেই এই আকৃতিতে চলে আসে নি। এই আকৃতিতে আসতে প্রসারিত হতে হয়েছে। উপরের আয়াতের পরের আয়াতটা যদি আমরা পাশাপাশি দেখি-

“আর পৃথিবী -- এর পরে তাকে প্রসারিত করেছেন। এর থেকে তিনি বের করেছেন তার জল, আর তার চারণভূমি।” (৭৯:৩০-৩১)

প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে জল, চারণভূমি- তারমানে প্রসারণের আগে এগুলো ছিল না। এ থেকে বুঝা যায়, আয়াতটি পৃথিবী সৃষ্টির সময়কালের কথা বুঝাচ্ছে; পৃথিবীর সমতল আকার নয়।

আপনি হয়তো জানেন না, পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রতি বছর .০০৪ ইঞ্চি (০.১ মি.মি) করে বাড়ছে। এই তথ্য কোথা থেকে পেলাম? তথ্যসূত্র- নাসার ওয়েবসাইট।[6] সংখ্যাটা অতি ক্ষুদ্র হলেও, পৃথিবীর মিলিয়ন-বিলিয়ন বছরের হিসেবে সেটা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।৫ম প্রমাণ: পৃথিবীর আকার যে গোলাকার- এ ব্যাপারে ইসলামিক স্কলারদের অসংখ্য ফতওয়া রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইয়িম্যার ফতওয়া রয়েছে।[7]

গত শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামিক স্কলার শাইখ আব্দুল আজিজ ইবন বাযেরও এই ব্যাপারে ফতওয়া রয়েছে [8]

Translation:

"According to the people knowledge (scholars of Islaam) the earth is round, for indeed Ibn Hazim and a group of other scholars mentioned that there is a consensus (unanimous agreement, Ijmaa') among the people of knowledge that it is round. This means that all of it is connected together thus making the form of the entire planet like a ball. However, Allaah has spread out surface for us and He has placed firm mountains upon it and placed the animals and the seas upon it as a mercy for us. For this reason, Allaah said:

"And (do they not look) at the Earth, how it was made FLAT (Sutihat)." [Al-Ghaashiyyah (88):20]

Therefore, it (the Earth) has been made flat for us in regards to its surface, so that people can live on it and so that people can be comfortable upon it. The fact that it is round does not prevent that its surface has been made flat. This is because something that is round and very large, if it is made flat (its surface), then its surface will become very vast or broad (i.e. having a flat appearance). "

এছাড়াও আপনি দেখতে পারেন IslamQA-র ফতওয়া।[9] আরও দেখতে পারেন IslamWeb-এর ফতওয়া।[10]



কুরআনে পৃথিবীকে সরাসরি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেওয়ার পেছনে যৌক্তিক একটি কারণ হতে পারে এই যে, বিষয় দুটি সেই সময়ের মানুষের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হতো এবং যার ফলে তারা হয়তো কুরআনকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতো। এমনকি নিকট অতীতেই গ্যালিলিও ও ব্রুনোর কাহিনী কে না জানে! কারণ, একদিকে যেমন সেই সময়ের মানুষের কাছে ‘প্রতিষ্ঠিত সত্য’ বলতে পৃথিবীটা 'সমতল' ও 'অনড়' ছিল, অন্যদিকে আবার পৃথিবীটা যে সত্যি সত্যি স্ফেরিক্যাল ও ঘূর্ণায়মান- সেটা তাদেরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখানোও সম্ভব হতো না। ফলে বিষয় দুটি সত্য হলেও তাদের কাছে কোনো তাৎপর্য বহন করতো না। যার ফলে কুরআনের মূখ্য উদ্দেশ্য “পার্থিব ও অপার্থিব গাইডেন্স” ব্যর্থ হতে পারতো। কুরআনে তেমন কোনো উক্তি নেই যেটি সেই সময়ের মানুষের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে… আল্লাহ্‌ ভাল জানেন।

তথ্যসূত্রঃ

[1]http://www.colorado.edu/physics/phys2900/homepages/Marianne.Hogan/inside.html

[2] https://en.wikipedia.org/wiki/Crust_%28geology%29

আমার একলম চলছে চলবে ইনশাআল্লাহ-----
ওস্তাদ শরিফ

Want your school to be the top-listed School/college in Khulna?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Website

Address


Khulna
9290

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00