16/02/2022
রীতি এবং ইতি দুজন বেশ ভালো বন্ধু। তারা দুজন-ই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থী। তারা দুজন গল্প করছে বড় একটা লেকের পাশে বসে। রীতি কথা বলছে অনেক বেশি হতাশা নিয়ে যেন তার হাত কেপে উঠছে, তার শরীর দুর্বল লাগছে, তার নিজেকে ভীষণ একাকী অনুভূত হচ্ছে, মনে হচ্ছে তার জীবনের আর কোন আশা ই রইল না৷ তার ধারণা সে হয়ত ভালো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থান করে নিতে পারবে না।
রীতির এমন আচরণে ইতি যেন একটু বেশ নড়েচড়ে বসল। ইতি আত্নবিশ্বাস এর সাথে তার সুন্দর দেহভঙ্গির মাধ্যমে বলে উঠলো "আমি করি কারণ আমি পারি, আমি পারি কারণ আমি পারতে চাই"। ইতির এমন সুন্দর কথায় রীতি কিছুটা আশ্বস্ত বোধ করল। এতক্ষণে আমরা বুঝতে পারছি আমাদের আজকের কন্টেন্ট সফলতার সাথে আত্নবিশ্বাসকে ঘিরে। দু’টি চরিত্রের মধ্যে আমরা খুব সহজেই পার্থক্য তৈরি করতে পারি তাদের দু'জনের আত্নবিশ্বাস এর মাপকাঠি দিয়ে। রীতির মধ্যে যথেষ্ট আত্নবিশ্বাস এর অভাব রয়েছে, অপরদিকে ইতি যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসী এবং ইতিবাচক।
খুব স্বাভাবিক ভাবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আত্মবিশ্বাস কী? আত্মবিশ্বাস হচ্ছে নিজের প্রতি, নিজের কাজের প্রতি, নিজের সামর্থ্য এর প্রতি বিশ্বাস। যেটা আমাদের মনে শক্তি যোগায়, যেটা আমাদের লক্ষ্য কে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে, আমাদের কে অনুপ্রেরিত করে পথ চলতে, পথ চলার বাধা অতিক্রম করতে।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে আত্নবিশ্বাসী ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি?
প্রথমত, আত্মবিশ্বাসী ব্যাক্তির থাকে নিজের কাজের প্রতি, সামর্থ্যের প্রতি, লক্ষ্য অর্জনের প্রতি, মনোবলের প্রতি বিশ্বাস।
দ্বিতীয়ত, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তির রয়েছে অন্যদের প্রভাবিত করার মত শরীরী ভাষা।
তৃতীয়ত, আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তি হাসিমাখা মুখে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব রাখেন।
চতুর্থত, তারা অন্যর মনে ব্যথা দেন না। এছাড়াও আত্নবিশ্বাসী ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগের অসাধারণ ক্ষমতা, অন্যকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা এবং হাসিমুখে প্রশংসা ও সমালোচনা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা।
আত্মবিশ্বাস এর প্রয়োজন কেন?
আত্মবিশ্বাস হলো মানসিক শক্তির উৎস। সফলদের গল্প পড়লে বোঝা যায় তারা সকলেই যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসী ছিলেন। বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, ইলন মাস্ক, স্টিভ জবস, মার্ক জাকারবার্গ এর নাম কেই বা না জানে! আমাদের ব্রেনের বিষ্ময়কর ক্ষমতা কারো ই অজানা নয়। আমাদের ব্রেনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে আমাদের অবচেতন মন। যখন আপনার অবচেতন মন বলে, তুমি পারবে তখন আমাদের ব্রেইন আমাদের দেহে এমন কিছু হরমোন নিঃসরণ ঘটায়, যেটা আমাদের আত্নশক্তি বাড়িয়ে দেয়। আমাদের মানসিক শক্তি আমাদের সফলতার দুয়ার খুলে দেয়। কিন্ত যখন-ই আমরা আমাদের আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি তখন ই আমাদের মাঝে দেখা দেয় হতাশা। হতাশা আমাদের মাঝে সৃষ্টি করে আশাহীনতা, দুর্বলতা, একাকীত্ব। অনেকটা যেন আমরা প্রতিযোগিতায় নামার পূর্বেই হেরে যায়। আত্নবিশ্বাস হলো আমাদের জীবনের সাফল্যের পূর্বশর্ত! এটি আমাদের জীবনের অনেক বড় সম্পদ। কোনো ব্যাক্তি একদিনে এটি অর্জন করতে পারেনা বরং আমাদের কে ধীরে ধীরে এই দক্ষতা অর্জন করতে হয়।
আত্নবিশ্বাস এর সাথে সফলতার কয়েকটি চমৎকার দৃষ্টান্তঃ

হাজার বছর ধরে দৌড়বিদরা ৪ মিনিটে এক মাইল দৌড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এটা অসম্ভব। আমাদের শারীরিক গঠনের জন্য ই এটা অসম্ভব। কিন্তু দুই হাজার বছর পর-ই ঘটল সে অলৌকিক ঘটনা, রজার ব্যানিস্টার প্রথম ৪ মিনিটে এক মাইল দৌড়ে রেকর্ড স্থাপন করার ৬ সপ্তাহের মধ্যেই জন ল্যান্ডি পুরো ২ সেকেন্ডের ব্যাবধানে পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে তোলেন। এমন হাজারো দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। যারা বিত্তবান হয়েছেন তাদের ক'জন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছেন? সকলেই এসেছেন সাধারণ অবস্থা থেকে এবং সকলেই সফল হয়েছেন নিজের আত্নবিশ্বাস এবং কর্মদ্বারা। সফল হতে কে না চাই???? এজন্য-ই তো বিশ্ববাজারে টিকে থাকার জন্য এত এত প্রতিযোগিতা। তাহলে চর্চা করুন সফল হওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আত্নবিশ্বাসী হওয়া!
পরিশেষে বলা যায় যে, জীবনের যে কোন প্রতিকূলতার সাথে লড়তে, হার মেনে না নিতে, নিজের আশা কে বাচিয়ে রাখতে, নিজের স্বপ্নকে বাস্তবরুপ দান করতে এবং সফল হতে আত্নবিশ্বাস এর ভূমিকা অপরিহার্য।