WE ARE উই আর
Work will be done here to spread Islam
24/04/2026
✨ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে বিপ্লবীদের অবদান
ইংরেজদের অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে সব ধর্মের মানুষের স্বপ্রণোদিত উপস্থিতি ছিল বলেই ইংরেজরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে আমরা যারা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা নাই তারা কিন্তু ভাবতে পারেন, ভারতের ইতহাসে স্বাধীনতা সংগ্রামে মুসলিমদের কোনও অবদান নেই । তার কারণ আমাদের দেশের যে কোনও শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়ে তেমন আলোচনা নাই বললেই চলে। তাই এই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বহু লোকই প্রশ্ন তোলে মুসলমানদের এই দেশে থাকা উচিত্ নয়, কারণ তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেনি ।
সত্য ইতিহাস বলছে স্বাধীনতা যুদ্ধে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলিমদের তাজা রক্তে এই ভারত মুক্তি পেয়েছে। জেল খাটা অজস্র মুসলমানের আত্ম বলিদান ও ফাঁসি হওয়া অসংখ্য মুসলমানের প্রাণের বিনিময়ে আজ ভারত স্বাধীন।
ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য শুধু অসহযোগ আন্দোলন নয়, বরং স্বশস্ত্র সংগ্রামেরও যে প্রয়োজন ছিল তা অস্বীকার করার উপায় নেই। ভারতের ইতিহাসের পাতায় স্বশস্ত্র বিপ্লবী হিসেবে যাদের নাম সহজেই চোখে পড়ে তারা হলেন সুভাষ বোস, মাস্টার-দা সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, ভগদ সিং প্রমুখ। নিঃসন্দেহে তাদের আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনমনীয় মনোভাবের কারনে তারা সকল প্রজন্মের অনুপ্রেরণার পাত্র। কোন বিপ্লবের বটবৃক্ষ হঠাৎ করেই গজিয়ে ওঠে না। এর বীজ রোপণ করা থেকে শুরু করে অঙ্কুরোদাম হওয়া এবং পুষ্প পল্লবে সুশোভিত হওয়ার মাঝে অনেকগুলো পর্যায় পার হতে হয়। বীজ যেখানে রোপিত হয় সেখানকার মাটি ও পরিবেশ যদি অনুকূল না থাকে তাহলে সুপ্ত অঙ্কুর বীজের মাঝেই বিনাশ প্রাপ্ত হয়। যাঁরা বিপ্লবের বীজ বপনের পরিবেশ রচনা করেন তাদের অতুলীত ভুমিকা অস্বীকার করা অকৃতজ্ঞতারই নামান্তর। বর্তমানে ভারতীয়রা মুসলিম বীর সেনানীদের নাম নিতে কৃপণতা করলেও ইংরেজদের জুলুমের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র আন্দোলনের হাতেখড়ি যে মুসলিম বীরদের হাতেই হয়েছিল তা ইতিহাসই সাক্ষি দেয়। কেউ স্বীকার করুক বা না করুক, আজ সেই বীর যোদ্ধা ও শহীদদের মধ্য থেকে এমন কয়েকজনের নাম ও বীরত্বের কাহিনী সংক্ষেপে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি যাঁরা পক্ষপাতহীন ইতিহাসের পাতায় ও বিবেকবান নিরপেক্ষ মানুষের স্মৃতির খাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ও থাকবেন।
এই বিষয় কে সামনে রেখে আজকের এই স্টাটাস…সত্য ইতিহাস বলছে মুসলিমদের তাজা রক্তে এই ভারত মুক্তি পেয়েছে । জেল খাটা ১ কোটি মুসলমানের আত্ম বলি দান ও ফাঁসি হওয়া ৫ লক্ষ মুসলমানের প্রানের বিনিময়ে আজ ভারত স্বাধীন। সেই চেপে যাওয়া ইতিহাসের মুছে যাওয়া কিছু নাম আতি সংক্ষেপে আপনার সামনে তুলে ধরলাম। আমি আশা রাখব আপনি সময় নিয়ে পড়বেন ও মূল্যায়ন করবেন।
👉সৈয়দ আহমদ শহীদ বেরলভি –
১৭৮৬ খৃষ্টাব্দে রায়বেরেলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ভীষন সাহসী, সুঠাম দেহ ও প্রবল মানসিক শক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি ইংরেজদের পক্ষ থেকে আহ্বানকৃত সকল লোভ ও পদমর্যাদাকে উপেক্ষা করে আপাতত মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে বৃটিশ বিরোধী জনমত গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। একই সাথে তিনি সকল প্রকার ধর্মীয় কুসংস্কার ও বেদাত দূর করার লক্ষে স্পষ্ট বক্তব্য ও যুক্তি প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে জাগিয়ে তুলে সমাজ সংস্কারের কাজও চালিয়ে যেতে থাকেন। এভাবে তৎকালীন ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লবের ভিত নির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
👉সর্ব ভারতীয় নেতা আহমাদুল্লাহ
তৎকালীন সময়ে ৫০ হাজার রুপি যার মাথার ধার্য করেছিল ব্রিটিশরা । জমিদার জগন্নাথ বাবু প্রতারনা করে, বিষ মাখানো পান খাওয়ালেন নিজের ঘরে বসিয়ে । আর পূর্ব ঘোষিত ৫০ হাজার রুপি পুরষ্কার জিতে নেন ।
👉মীর নিসার আলী তিতুমীর
সৈয়দ আহমদ বেরলভী কাছে দিক্ষিত ও অনুপ্রাণিত আরেকজন বিল্পবী। ইংরেজ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার যুদ্ধে বাংলার প্রথম শহীদ তিতুমীর ১৮৩১ সালে চব্বিশপরগনার নারিকেলবাড়িয়ায় বাশের কেল্লা নির্মান করে সহযোদ্ধা সাধারন জনগনকে সাথে নিয়ে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং আত্মাহুতি দিয়েছিলেন তা ভারতবর্ষের তৎকালীন সকল বিল্পবীদের প্রেরণা যুগিয়েছিল।
👉হাজি শরীয়তুল্লাহও তাঁর পুত্র মহসীন উদ্দীন দুদু মিয়া
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব ছিল ইংরেজ দুঃশাসনের ভীত কাঁপিয়ে দেয়া সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ আন্দোলন। এই বিপ্লবে মুসলিমদের অংশগ্রহণছিল সবচেয়ে বেশি এবং তারই মুখ্য ভুমিকা পালন করেছিলেন।
👉মওলানা মোহাম্মদ আলী ও মওলানা শওকত আলী ইংরেজদের বিরুদ্ধে জনগনকে জাগিয়ে তোলেন এবং আপন আবাসভূমিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তুলেন।
👉আব্দুল গাফফার খান
সুদূর উত্তর-পশ্চিমের পার্বত্য অঞ্চলে পশতুন নেতা। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত দল ‘খোদায়ি খিদমাদগার’ অর্থাৎ ‘আল্লাহর দাস’ এর ছত্রছায়ায় এবং সমতল এলাকায় মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন, যা ইংরেজদের বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।
👉মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
বাংলাদেশের সিরাগঞ্জ জেলার ধানগড়া গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম নেয়া এই ক্ষণজন্মা মানুষটি বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতবর্ষকে ইংরেজদের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের বিকল্প নেই। তাই দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মতাদর্শকে তিনি সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অসহযোগ আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন।
👉আশফাকুল্লাহ
ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিপ্লব পরিচালনা এবং অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ যোগাড় করার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাই ১৯২৫ সালের ৯ মার্চ স্টেশন মাষ্টার সাহজানপুর থেকে লখনৌ গার্ড ভ্যানে টাকার বস্তা নিয়ে যাচ্ছে এই খবর পেয়ে হাই কমান্ডের নির্দেশে তিনি ও তার সঙ্গিরা তা ছিনিয়ে নেয়। কাকরি গ্রামের নিকটে এই লুটের ঘটনাটি সংঘটিত হয় বলে ইংরেজ সরকার তাদের বিরুদ্ধে ‘কাকরি ডাকাতি’ নামে মামলা করে। ১৯২৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তার ফাঁসি হয়। ছয় ফুট লম্বা এই মানব সিংহ হাসতে হাসতে শহীদ হন। ফাঁসির মঞ্চে যাবার সময় তার কন্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল মুসলিমদের একত্ববাদের মূলমন্ত্র “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
👉তত্কালিন সময়ে সারা হিন্দুস্তানের কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যার সংস্পর্শে আসলে হিন্দু মুসলিম নব প্রাণ পেতেন, সেই হাকিম আজমল খাঁ কে লেখক বোধ হয় ভুলে গিয়েছেন।
👉মহাত্মা গান্ধী, জহরলাল যার সাহায্য ছাড়া চলতেনই না। যিনি না থাকলে গান্ধী উপাধিটুকু পেতেন না। সেই মাওলানা আজাদকে ইতিহাসের পাতা থেকে বাদ দেওয়া হল।
মাওলানা মহম্মদ আলি ও শওকত আলি। ৫ বার দীর্ঘ মেয়াদী জেল খেটেছেন। ‘কম রেড’ ও ‘হামদর্দ’ নামক দুটি ইংরেজ বিরোধী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তাদের নাম ইতিহাসের ছেঁড়া পাতায় জায়গা পায় না ।
👉খাজা আব্দুল মজিদ- তিনি ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হন । জওহরলালের সমসাময়িক কংগ্রেসের কর্মী ছিলেন। প্রচন্ড সংগ্রাম করে তার এবং তার স্ত্রী উভয়ের জেল হয়। 1962 সালে তার মৃত্যু হয়। ইতিহাসের পাতায়ও তাঁদের নামের মৃত্যু ঘটেছে।
👉ডবল A.M এবং P.H.D ডিগ্রিধারী প্রভাবশালী জেল খাটা সংগ্রামী সাইফুদ্দিন কিচলু। যার নাম আমরা জানিই না।
👉বিপ্লবী মীর কাশেম, টিপু সুলতান, মজনু শা, ইউসুফ. এরা ব্রিটিশদের বুলেটের আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও ইতিহাসের পাতা থেকে নিশ্চিহ্ন হল কিভাবে..?
👉মাওলানা রশিদ আহমদ গান্গুহী। যাকে নির্মমভাবে ফাঁসি দিয়ে পৃথিবী থেকে মুছে দিলো ইংরেজরা। ইতিহাস লেখক কেন তার নাম মুছে দিলেন ইতিহাস থেকে।
👉জেল খাটা নেতা ইউসুফ, নাসিম খাঁন, গাজি বাবা ইয়াসিন ওমর খান তাদের নাম আজ ইতিহাসে নেই।
👉ভারত স্বাধীনতা লাভ করার পরে, কুদরাতুল্লা খানের মৃত্যু হল কারাগারে । ইতিহাসের পাতায় তার মৃত্যু ঘটল কিভাবে?
👉নেতাজী সুভাষ বসুর ডান হাত আর বাম হাত যারা ছিলেন। ইতিহাসে তাদের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। তারা হলেন আবিদ হাসান শাহনাওয়াজ খান, আজিজ আহমাদ, ডি এম খান, আব্দুল করিম গনি, লেফট্যানেন্ট কর্নেল, জেট কিলানি, কর্নেল জ্বিলানী প্রমুখ। এদের অবদান লেখক কি করে ভুলে গেলেন?
👉বিদ্রোহী গোলাম রব্বানী, সর্দ্দার ও হয়দার, মাওলানা আক্রম খাঁ , সৈয়দ গিয়াসুদ্দিন আনসার। এদের রক্ত আর নির্মম মৃত্যু কি ভারতের স্বাধীনতায় কাজে লাগেনি ?
বিখ্যাত নেতা জহুরুল হাসানকে হত্যা করলে মোটা অঙ্কের পুরষ্কার ঘোষণা করে ইংরেজ সরকার ।
👉মাওলানা হজরত মুহানী এমন এক নেতা, তিনি তোলেন সর্ব প্রথম ব্রিটিশ বিহীন চাই স্বাধীনতা ।
👉জেলে মরে পচে গেলেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধী, তার নাম কি ইতিহাসে ওঠার মতো নয়?
👉কিংসফোর্ড কে হত্যা করতে ব্যর্থ ক্ষুদিরামের নাম আমরা সবাই জানি, কিংসফোর্ড হত্যাকারী সফল শের আলী বিপ্লবীকে আমরা কেউ জানিনা ।
👉কলকাতার হিংস্র বিচারপতি জর্জ নরম্যান হত্যাকরী আব্দুল্লার নামও শের আলীর মতো বিলীন হয়ে আছে।
👉ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বীর আব্দুস সুকুর ও আব্দুল্লা মীর এদের অবদান কি ঐতিহাসিক ভুলে গেছেন।
👉মাওলানা কাসেম সাহেব, উত্তর প্রদেশর দেওবন্দ মাদ্রাসাকে ব্রিটিশ বিরোধী এক শক্তিশালী কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলেন ।
👉ভারতের বর্তমান ইতিহাসের পাতা ওল্টালে যাদের নাম অবশ্যই পাওয়া যায় তারাহল – গান্ধীজি, নেতাজী সুভায, অরবিন্দ, জোহরলাল, মোতিলাল..।
👉এদের সমতুল্য নেতা আতাউল্লা বুখারী, মাওলানা হুসেন আহমাদ, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা গোলাম হোসেন প্রমুখ..( এনারা বহু বার দীর্ঘ মেয়াদী জেল খেটেছেন)
👉ইংরেজ বিরোধী কর্যকলাপের জন্য যার নামে সর্বদা ওয়ারেন্ট থাকতো । সেই তাবারক হোসেনের নামও ইতিহাসে খুঁজে পাওয়া যায় না ।
১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল মুসলমানদের পক্ষ থেকে ভারতবর্ষকে ফিরিঙ্গী আগ্রাসন মুক্ত করার সর্বশেষ সশস্ত্র পদক্ষেপ। এ সময় তিন থেকে চার বছরের ব্যবধানে ব্রিটিশ বেনিয়ারা ভারতবর্ষের চৌদ্দ হাজার উলামায়ে কিরামকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সাথে সাথে কোরআন শরিফের লক্ষ লক্ষ কপি জ্বালিয়ে দেয়।
আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গুটিকতক পুরুষদের নাম পাওয়া গেলেও মুসলিম নারীদের নাম হারিয়ে গেছে ইতিহাসের পাতা থেকে। স্বাধীনতা সংগ্রামে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অবদানও অনস্বীকার্য। বহু মুসলিম নারী সংসার সামলানোর পাশাপাশি ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
👉বেগম হযরত মহল : নবাব ওয়াজিদ আলি শাহের পত্নি। স্বামী কলকাতায় নির্বাচিত হওয়ার পর রাজ্যের দায়িত্বভার নিজের হাতে তুলে নেন। স্বাধীনতার প্রথম যুদ্ধে ভারতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি প্রথম সারিতে থেকেছেন। হেনরি লরেন্স সহ অন্যান্য রাজকর্মচারীদেরকে তিনি পরাস্ত করেন। স্যর হেনরি লরেন্সকে তিনি গুলি করে হত্যা করেন। এছাড়াও জেনারেল হ্যভলক ইংরেজ সৈন্য নিয়েও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে স্যর ক্যম্পবেল লক্ষ্মৌ পদানত করতে সক্ষম হন। তাকে সন্ধি করতে বাধ্য করা হয়। তিনি ব্রিটিশদের সমস্ত শর্ত নাকচ করে ব্রিটিশ সৈন্যদের হাত থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হন। বাকি জীবন তিনি নেপালের কাঠমান্ডুতে কাটিয়ে দেন।
👉বাই আম্মা (আবেদি বেগম) : প্রখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী ভ্রাতৃদ্বয় সওকাত আলি ও মহাম্মদ আলির জননী ছিলেন। ১৯২১-এর ডিসেম্বরে তার সন্তানদের বন্দিত্বের সংবাদ তিনি খুশি মনে গ্রহণ করেন। গুজব ছড়িয়েছিল যে তার পুত্র মহাম্মদ আলি রাজভিক্ষায় জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন, তখন তিনি বলেছিলেন- “মহাম্মদ আলি ইসলামের পুত্র, সে কখনোই ক্ষমা ভিক্ষা চাইতে পারে না। যদি সে এটা করে থাকে, তাহলে আমার বুড়ো হাত তাকে দমণ করার জন্য যথেষ্ট।” তিনি নিজে চরকায় কাটা সুতার পোষাক পরতেন এবং অন্যদেরকেও খাদি পরতে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির জন্যকঠোর পরিশ্রম করেন এবং এটাকে তিনি ঈমাণের অঙ্গ বলে মনে করতেন।
মিসেস জুবাইদা দাউদি : মাওলানা সাফি দাউদির স্ত্রী ছিলেন।তিনি প্রাণপণে ব্রিটিশদের বিরোধীতা করেছিলেন এবং অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেছিলেন। তিনি তার স্বামী, আত্মীয়-স্বজন এবং অন্যান্যদের কাছ থেকে সমস্ত বিদেশি জামাকাপড় সংগ্রহ করে কংগ্রেস অফিসে নিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন জনসমাবেশে অংশগ্রহণ করতেন এবং মহিলাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করতেন। যখন স্কুল-কলেজের ছাত্ররা সরকারী স্কুল ছেড়ে দিচ্ছিল, তখন মাওলানা সাফি দাউদি একটি স্কুল চালু করেন। জুবাইদা দাউদি সেখানে ছাত্রদের দেখাশোনা করতেন এবং তাদের উৎসাহ দিতেন স্বাধীনতা সংগ্রামে।
👉এছাড়াও আসগারি বেগম, মাজিরা খাতুন, রাজিয়া খাতুন, জামিরা, লেডি মহাম্মদ সফি, খাদিমা বেগম, বেগম হাবিবুল্লা প্রমূখ মুসলিম নারী স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। পুরুষতান্ত্রীক নীতিহীণ সমাজ এইসব মহিয়সী নারীদের তাদের প্রাপ্য মর্যাদা না দিলেও, এদের কাহিনী চেপে রাখতে পারেনি আর সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছলে বলে কৌশলে ভারতের শাসনক্ষমতা দখল করেছিল মুসলিমদের থেকে। তাই মুসলিমরাই প্রথম ইংরেজ বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে হিন্দুরা এই আন্দোলনে যোগদান করেন। উভয় সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বাধীনতা সংগ্রামের গতি বৃদ্ধি পায়। শেষ পর্যন্ত বেনিয়া ইংরেজরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। স্বাধীন হয় ভারত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীন ভারতের সরকারি পাঠ্যবইগুলোতে স্বাধীনতা সংগ্রামী মুসলিম নেতৃত্বের নাম দূরবীক্ষণ দিয়ে খুঁজতে হয় ! ফলে, নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স বইপুস্তক না ঘাঁটলে তাঁদের নাম জানা যায় না। তাই এখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন – নেতৃত্ব দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, নির্বাসিত হয়েছেন – এমন অর্ধশত মুসলিম নেতার নাম তুলে ধরা হলো :
নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা
শের-ই-মহিশুর টিপু সুলতান
3. শাহ্ ওয়ালিউল্লাহ্ মুহাদ্দিস দেহলবী
4. মুহাদ্দিস শাহ্ আবদুল আযীয দেহলভী
5. শহীদ সৈয়দ আহমদ
6. মাওলানা বেলায়েত আলী সাদিকপুরী
7. বাহাদুর শাহ্ জাফর
8. আল্লামা ফজলে হক খয়রাবাদী
9. শাহজাদা ফিরোজ শাহ্
10. শহীদ মাওলাবী মুহাম্মদ বাকির
11. বেগম হযরত মহল
12. মাওলানা আহমাদুল্লাহ্ শাহ্
13. নবাব খান বাহাদুর খান
14. আযীযান বাঈ
15. মাওলাবী লিয়াকত আলী ইলাহাবাদী
16. হাজী ইমদাদুল্লাহ্ মুহাজির মক্কী
17. মাওলানা মুহাম্মদ ক্বাসিম নানুতবী
18. মাওলানা রহমাতুল্লাহ্ কিরানভী
19. শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমূদুল হাসান
20. মাওলানা উবাইদুল্লাহ্ সিন্ধী
21. মাওলানা রশীদ আহমদ গাঙ্গোহী
22. মাওলানা আনওয়ার শাহ্ কাশ্মিরী
23. মাওলানা বরকাতুল্লাহ্ ভোপালী
24. মাওলানা কিফায়েতুল্লাহ্
25. মাওলানা আহমদ সাঈদ দেহলভী
26. মাওলানা হুসাঈন আহমদ মাদানী
27. মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর
28. মাওলানা হাসরত মোহানী
29. মাওলানা আরিফ হিসবী
30. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
31. মাওলানা হাবিবুর রহমান লুধিয়ানভী
32. ডক্টর সাইফুদ্দীন কিচলু
33. মাসীহুল মুলক হাকীম আজমল খান
34. মাওলানা মাজহারুল হক
35. মাওলানা জাফর আলী খান
36. আল্লামা ইনায়েতুল্লাহ্ খান মাশরিকী
37. ডক্টর মুখতার আহমদ আনসারী
38. জেনারেল শাহনাওয়াজ খান
39. মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মিয়াঁ
40. মাওলানা হিফজুর রহমান স্যোহারভী
41. মাওলানা আবদুল বারী ফিরিঙ্গিমহল্লী
42. খান আবদুল গফফার খান
43. মুফতী আতীকুর রহমান উসমানী
44. ডক্টর সৈয়দ মাহমূদ
45. খান আবদুস সামাদ খান আচাকজাঈ
46. রফী আহমদ কিদ্ওয়াঈ
47. ইউসুফ মেহর আলী
48. শহীদ আসফাকুল্লাহ্ খান
49. ব্যারিস্টার আসিফ আলী
50. মাওলানা আতাউল্লাহ্ শাহ্ বোখারী
….........(copy)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
B. K Main Road, Purbo Bania
Khulna
9100