Bangla Essay

Bangla Essay Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Bangla Essay, Education, Mujgunni Road no. 21 , Khalishpur Khulna GPO/, Khalishpur.

09/12/2025

কৃষিকাজে বিজ্ঞান

ভূমিকাঃ
কৃষি অর্থনীতি উন্নয়নের বিজ্ঞান অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ কৃষি উদ্বৃত্তের ক্রমাগত স্তর প্রযুক্তিগত এবং বাণিজ্যিক বৃদ্ধির অন্যতম উৎস। কৃষিকাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে টেকসই করতে প্রয়োজন কৃষি সংক্রান্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহারকে সহজলভ্য করা। কৃষি বিজ্ঞান হল কৃষিক্ষেত্রের সাথে জড়িত অনুশীলনের অধ্যয়ন। কৃষি বিজ্ঞান এবং কৃষি, একে অপরের সাথে সম্পর্কিত হলেও, মূলত একে অপরের থেকে খুব আলাদা। কৃষি হল মানুষের ব্যবহারের জন্য গাছপালা, ফল ও সবজি উৎপাদনের শিল্প। অন্যদিকে কৃষি বিজ্ঞান সেচ ব্যবস্থাপনা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদির মতো উৎপাদন কৌশলগুলিতে গবেষণা, উন্নতি এবং উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। এতে কৃষি পণ্যের গুণমান এবং পরিমাণের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কৃষি বিজ্ঞানঃ
কৃষি বিজ্ঞান কৃষি কাজের প্রাথমিক পণ্যগুলিকে সমাপ্ত, ব্যবহার-প্রস্তুত পণ্যে রূপান্তর করার সাথে সম্পর্কিত। কৃষি বিজ্ঞান ফসলের উৎপাদনশীলতাকে বাধাগ্রস্তকারী প্রতিকূল কারণগুলির প্রতিরোধ এবং সংশোধনেও জড়িত। স্থানীয় এলাকার সাথে এর দৃঢ় সম্পর্কের কারণে এটিকে স্থানীয় বিজ্ঞান হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি প্রায়শই ইকো-অঞ্চলের সাথে সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞান হিসাবে বিবেচিত হয়। কারণ এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকার জলবায়ু এবং মাটির বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে। এই কারণগুলি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। অনেক লোকের অভিমত যে কৃষি বিজ্ঞান স্থানীয় আবহাওয়া এবং স্থানীয় মাটির বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভর করে, তাই নির্দিষ্ট ফসল স্থানীয়ভাবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নঃ
বাংলাদেশ মূলত কৃষি খাতের উপর নির্ভরশীল একটি দেশ। এছাড়াও কৃষি এদেশের মানুষের শুধু জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম নয়, বরং তাদের জীবন যাপনের একটি উপায়। তাছাড়া গোটা জাতি খাদ্যের জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরকার কৃষি খাতের উন্নয়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে আমরা কৃষি চর্চা করছি কিন্তু তবুও এটি দীর্ঘকাল ধরে অনুন্নত ছিল। স্বাধীনতার পর আমরা আমাদের খাদ্য চাহিদা মেটাতে অন্যান্য দেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি শুরু করি। কিন্তু সবুজ বিপ্লবের পর আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠি এবং আমাদের উদ্বৃত্ত অন্যান্য দেশে রপ্তানি শুরু করি।আগে আমরা খাদ্যশস্য চাষের জন্য বর্ষার ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতাম কিন্তু এখন আমরা বাঁধ, খাল, নলকূপ, পাম্প সেট নির্মাণ করেছি। আমাদের কাছে এখন সার, কীটনাশক এবং বীজের আরও ভাল বৈচিত্র্য রয়েছে, যা আমাদের পুরানো সময়ে আমরা যা উৎপাদন করেছি তার তুলনায় আরও বেশি খাদ্য বাড়াতে সাহায্য করে। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে উন্নত যন্ত্রপাতি, উন্নত সেচ সুবিধা এবং কৃষির বিশেষ জ্ঞানের উন্নতি হতে থাকে। অধিকন্তু আমাদের কৃষি খাত অনেক দেশের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে এবং আমরা অনেক খাদ্যশস্যের বৃহত্তম রপ্তানিকারক।

কৃষি কাজে প্রযুক্তির ব্যবহারঃ
কৃষি বিজ্ঞান, খাদ্য এবং ফাইবার উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণের সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। এর মধ্যে রয়েছে মাটি চাষের প্রযুক্তি, শস্য চাষ ও ফসল কাটা, পশু উৎপাদন, এবং মানুষের ব্যবহার ও ব্যবহারের জন্য উদ্ভিদ ও প্রাণীজ পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ। প্রযুক্তি এবং আইওটি অনেক দিক থেকে কৃষিকে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা রাখে। যথা- আইটি কৃষিকে উন্নত করতে পারে এমন পাঁচটি উপায় রয়েছে: ডেটা, টন ডেটা, স্মার্ট এগ্রিকালচার সেন্সর দ্বারা সংগৃহীত, যেমন আবহাওয়া পরিস্থিতি, মাটির গুণমান, ফসলের বৃদ্ধির অগ্রগতি বা গবাদি পশুর স্বাস্থ্য।GMOS হল প্রযুক্তির ব্যবহার। যখন একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বা প্রাণী থাকে, ব্যবহারকারীর প্রয়োজনে জেনেটিকালি পরিবর্তিত হয়। জেনেটিকালি পরিবর্তিত খাবার সাধারণত বেশি উপাদান এবং বড় আকার দিয়ে তৈরি করা হয়। GMOS-এর উদাহরণ হল ভুট্টা, সয়া, ক্যানোলা এবং সুগার বিট।বৈজ্ঞানিক জ্ঞান জিএমওএস ব্যবহার করে কৃষিতে অনুশীলনের বিকাশকে প্রভাবিত করেছে। GMOS হল প্রযুক্তির ব্যবহার যখন একটি নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বা প্রাণী থাকে, ব্যবহারকারীর প্রয়োজনে জেনেটিকালি পরিবর্তিত হয়। ভুট্টার মতো খাবার এখন জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত হয়ে বড় হতে পারে, বেশি প্রোটিন থাকে।

কৃষি কাজে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাঃ
একবিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে বিশ্ব ও বিশ্ববাসীর কোনাে কাজেই বিজ্ঞানের অনুপস্থিতি নেই। বিজ্ঞানের জয়যাত্রা আজ সর্বত্র অব্যাহত। বিজ্ঞানের বদৌলতে অন্ধকার ধরণী আজ আলোকিত। জগৎ ও জীবনের কর্মপ্রবাহের প্রতিটি স্তরে বিজ্ঞান তার অবদানের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে। কৃষিবিজ্ঞানীরা বর্তমান শতাব্দীতে কৃষিকাজে বিজ্ঞানের ব্যবহারকে সাফল্যজনক পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। অল্প জমিতে অধিক ফসল উৎপাদনের প্রয়াসে নিবিড় চাষের জন্যে যান্ত্রিক সরঞ্জামের আবিষ্কার কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লবের সূচনা করেছে। ট্রাক্টর ও পাওয়ার-টিলারের সঙ্গে আরও নানা ধরনের যান্ত্রিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কার মানুষ ও পশুশ্রমকে মুক্তি দিয়েছে।গােবর সার, কম্পােস্ট সার ও সবুজ সারের স্থলে রাসায়নিক সার; যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, এসএসপি ইত্যাদির আবিষ্কারের ফলে একর প্রতি উৎপাদন দ্বিগুণের ওপরে চলে গেছে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা যায়, বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত্রে উচ্চ ফলনশীল বীজ আবিষ্কারের কথা। ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা কেন্দ্রে ইরি ধান আবিস্কৃত হয়। ফলনশীল ধান আবিষ্কার করে এদেশের কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করে। কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়ােগজনিত সাফল্য শুধু ধান ও গমের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজ্ঞানের এ সাফল্য প্রায় সকল ফসলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কৃষিকাজে বিজ্ঞানের প্রয়ােগের মাধ্যমে পােকা-মাকড় দমন ও নির্মূল করার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের প্রয়ােগ ঘটেছে অন্য সকল ক্ষেত্রের মতােই। নানা ধরনের পােকার আক্রমণ থেকে শস্যকে রক্ষার জন্যে ইনসেকটিসাইড বা পােকা দমনকারী রাসায়নিক দ্রব্য আবিস্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে এড্রিন, ডায়াজিন, ক্লোর ছাড়াও রয়েছে অনেক পােকা ধ্বংসকারী ওষুধ।

উন্নত দেশসমূহের মতাে আমরাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অধিক উৎপাদন করে আমাদের খাদ্য সমস্যার সমাধান করতে পারি। বলতে গেলে মানুষের মৌলিক চাহিদার সবটাই যােগান দেয় কৃষি। তাই কৃষিকে অবহেলা করে বেঁচে থাকা যেমন সম্ভব নয়, তেমনি দেশ ও জাতির সামগ্রিক কল্যাণসাধনও অসম্ভব। আশার কথা, এদিকে লক্ষ রেখেই সরকার কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সচেতন হয়ে উঠছে। কৃষিব্যবস্থার সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থে এদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কৃষির ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবঃ
আমরা যে খাবার খাই তা কৃষিকাজ এবং বাংলাদেশের কৃষকদের উপহার। তারা তাদের ঘাম ঝরিয়ে আমাদের এই খাবার সরবরাহ করে। এছাড়া কৃষি খাত দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং জাতীয় আয়ের অন্যতম প্রধান অবদানকারী। কৃষি কাজের জন্য একটি বৃহৎ শ্রমশক্তি এবং মোট নিযুক্ত লোকের প্রায় ৮০% কর্মচারী প্রয়োজন। তাছাড়া আমাদের মোট রপ্তানির প্রায় ৭০% কৃষি পণ্য। আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল চা, তুলা, বস্ত্র, তামাক, চিনি, পাটজাত দ্রব্য, মসলা, চাল এবং অন্যান্য অনেক পণ্য।কৃষি কাজ অর্থনীতি ও জনগণের জন্য খুবই উপকারী হলেও এর কিছু নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। এই প্রভাবগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বন উজাড় হল কৃষির প্রথম নেতিবাচক প্রভাব। কারণ অনেক বন কেটে কৃষি জমিতে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়াও, সেচের জন্য নদীর পানি ব্যবহারের ফলে অনেক ছোট নদী ও পুকুর শুকিয়ে যায় যা প্রাকৃতিক আবাসস্থলকে ব্যাহত করে। অধিকন্তু কৃষি কাজে ব্যবহার করা বেশিরভাগ রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক জমির পাশাপাশি কাছাকাছি জলাশয়গুলিকে দূষিত করে। শেষ পর্যন্ত এটি মাটির উপরের ক্ষয় এবং ভূগর্ভস্থ পানির দূষণের দিকে পরিচালিত করে। কৃষি সমাজকে অনেক কিছু দিয়েছে। তবে এর নিজস্ব সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে যা আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। তদুপরি সরকার কৃষির প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নে সর্বাত্মক সহায়তা করছে। তবুও কৃষির নেতিবাচক প্রভাবগুলির জন্য কিছু করা দরকার।

আমাদের দেশে কৃষি ও কৃষকঃ
বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য যে কোনো পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল একজন ক্ষুধার্ত, অসন্তুষ্ট মানুষকে সুখী, সুস্বাস্থ্যের মানুষে পরিণত করা। খাদ্য আমদানির মাধ্যমে বা ঘরে উৎপাদনের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে।বাংলাদেশকে তার নিজের খাদ্য তৈরি করতে হবে। তাই কৃষি উন্নতির জন্য পরিশ্রম করে আমাদের আরও খাদ্য বাড়াতে হবে। বৈজ্ঞানিকভাবে অন্যান্য পদ্ধতি রয়েছে। রসায়নবিদ, জীববিজ্ঞানী, প্রকৌশলী এমনকি পদার্থবিদদেরও বিজ্ঞানকে বৃহৎ আকারের উৎপাদনে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে একটি মহান ভূমিকা পালন করতে হবে এবং তাদের অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সুযোগ দিতে হবে।
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, প্রতি একরে ফসলের উচ্চ ফলন নিশ্চিত করার জন্য প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। আগের দিনে কৃষকরা গোবরের মতো সহজলভ্য সারের উপর নির্ভর করত। তাকে অবশ্যই বুঝতে শেখানো উচিত যে রাসায়নিক সার জমির উৎপাদনশীলতাকে অনেকাংশে উন্নত করতে পারে। জৈব ও অজৈব সারের অনুপাত মাটির প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।আমাদের দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ লােকই কৃষিজীবী। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, উন্নত দেশগুলােতে কৃষিকাজের সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠলেও আমাদের দেশে এ ব্যাপারে তেমন কোনাে অগ্রগতি সাধিত হয়নি। এখনও প্রাচীন আমলের মতাে কৃষকেরা কৃষিকাজের জন্যে জীর্ণ-শীর্ণ গরু আর লাঙল ব্যবহার করছে। কৃষকদের অবস্থাও শােচনীয়। কৃষি কাজের জন্যে তারা প্রয়ােজনীয় মূলধন যােগাতে পারে না। তারা নিরক্ষর তাই উন্নত ও আধুনিক কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তনের উপযােগী জ্ঞান ও অর্থ তাদের নেই। ফলে আমাদের কৃষিব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সঙ্গে সংগতি রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিবর্তনের সিঁড়ি বেয়ে গােটা বিশ্ব আজ অপ্রতিহত গতিতে ধেয়ে চলেছে উন্নয়নের স্বর্ণ-শিখরের পানে। দিনবদলের পালায় বাংলার কৃষক আর কৃষি আজও সেই তিমিরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। যুগ-তরঙ্গ তাদের মাঝে কোনাে আলােড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি। তাই আজও বাংলার কৃষক প্রকৃতির খেয়াল-খুশির খেলনা হয়ে ধুকে ধুকে মরছে।। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হতভাগ্য কৃষকদের ইতিবৃত্তে বলেছেন, “ওই যে দাড়ায় নত শির মূক সবে, ম্লানমুখে লেখা শুধু শত শতাব্দীর বেদনার করুণ কাহিনি, স্কন্ধে যত চাপ তার বহি চলে মন্থরগতি যতক্ষণ থাকে প্রাণ তার।’

উন্নত বিশ্বে কৃষিঃ
উন্নত দেশগুলাের কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিজ্ঞাননির্ভর। জমিতে বীজ বপন থেকে শুরু করে ঘরে ফসল তােলা পর্যন্ত সমস্ত কাজেই রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার। বিভিন্ন ধরনের আধুনিক যন্ত্রপাতি যেমন মােয়ার (শস্য ছেদনকারী যন্ত্র), রপার (ফসল কাটার যন্ত্র), বাইন্ডার (ফসল বাঁধার যন্ত্র), থ্রেশিং মেশিন (মাড়াই যন্ত্র), ফিড গ্রাইন্ডার (পেষক যন্ত্র), ম্যানিউর স্পেডার (সার বিস্তারণ যন্ত্র), মিল্কার (বৈদ্যুতিক দহন যন্ত্র) ইত্যাদি উন্নত দেশগুলাের কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের খামারে ট্রাক্টরের মাধ্যমে একদিনে ১০০ একর পর্যন্ত জমি চাষ করা সম্ভব হয়। একই ট্রাক্টর আবার একসঙ্গে ফসল কাটার যন্ত্র হিসেবেও কাজ করে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে চীন, জাপান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশও কৃষি ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলেছে।

উপসংহারঃ
কৃষি ছাড়া মানব সভ্যতা কল্পনা করা যায় না। কৃষিকাজে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষির উন্নতির উপরেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই কৃষি-বিজ্ঞান ও কৃষি-প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণার কোনাে বিকল্প নেই। এটা অত্যন্ত আশার কথা যে, বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা ইতিমধ্যে বহু নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল ফসল উদ্ভাবন করেছে, বহু কৃষিবান্ধব প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে।

08/12/2025

সময়ানুবর্তিতা

ভূমিকা:

একটি সফল জীবনের যে চরিত্রগুণ থাকে তার মধ্যে সময়ানুবর্তিতার মতাে উত্তম গুণটিও বিদ্যমান থাকে। বিচিত্র কর্মপ্রবাহে বিকশিত জীবন অর্থবহ করে তােলার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে ময়ানুবর্তিতাকে বিবেচনা করা চলে।সময়ানুবর্তিতাকে পরিত্যাগ করে মনুষ্যজীবন কৃতকার্যময় হয়ে উঠতে পারে না নিজের সম্ভাবনা বা প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চাইলেও সময়ানুবর্তী হতে হবে, কেননা সময়ের সঠিক এবং সফল ব্যবহারই মানুষকে যথা সময়ে যথা কাজটি সম্পাদনে সহায়তা করে। তাই সময়ের অনুবর্তী হতে পারলেই জীবনকে সফল করে তােলা সম্ভব।

সময়ানুবর্তিতা কী:

মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একটা বিশেষ কর্তব্যের আহ্বান নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। প্রতিটি আহ্বানে সাড়া দিতে হলে সময়ের কাজ সময়ে সমাপ্ত করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে সম্পাদনের উদ্যোগকেই সময়ানুবর্তিতা বলে। যে সময় যে কর্তব্যের ডাক আসে ঠিক তখনই তা না করলে ঐ মুহূর্তটি নিষ্ফল হয়ে যায়। সংসারে কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ে বিশেষ কাজটি সম্পাদন করাতেই সময়ানুবর্তিতার প্রকাশ ঘটে। দ্রুত চলমান সময়ের মহাকালের মধ্যে মানবজীবনকে কল্পনা করতে গেলে মানবজীবন অতি সামান্য বলেই বিবেচিত হয়। এ সামান্য জীবনই অসামান্য গৌরবকে ধারণ করতে পারে যদি জীবনে থাকে সময়ানুবর্তিতা । বলা চলে, সময়ানুবর্তিতাই হচ্ছে জীবনে সাফল্যের একটি সিড়ি।

সময়ের সদ্ব্যবহার:

এ জগৎ-সংসারের অনেক কিছুরই আর্থিক মূল্য নিরূপণ করা যায় । কিন্তু সময়ের মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয় । জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। আশা করলেও মানুষ অন্তহীন জীবন পায় না। এখানেই জীবনের চরম ট্রাজেডি। কবি সুইনবার্গ বলেছেন—

‘ Life is a vision or a watch between a sleep and a sleep. ’

দুই প্রান্তের ঘুম, ঘুমের মতাে অন্ধকার, মাঝখানে একটু চেয়ে থাকাটা জীবন। তাই জীবন যখন এতই অল্প সেজন্যই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহারই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষকে অবিনশ্বর করে বাঁচিয়ে রাখে। বিশ্বে বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, দেশনায়ক, গবেষকসহ সকল কীর্তিমানবরাই সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন। ছাত্রজীবনেও সময়ের সদ্ব্যবহার করলে।
জীবন গঠন সহজ হয়।

সময়ের গুরুত্ব:

প্রতিটি মানুষের জীবনে সময় অতি মূল্যবান রত্ন। সময় একবার চলে গেলে জীবনের বিনিময়ে হলেও তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সময়ের সদ্ব্যবহার করলে সফলতা হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেয়। মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী, এই ক্ষণস্থায়ী জীবনকে স্মরণীয় করে রাখে কর্মের মহিমা। তাই সময়কে কাজে লাগিয়ে কর্মের মহিমা সৃষ্টি করা প্রত্যেকের কর্তব্য। সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে কবি বলেন:

"খেলায় মজিয়া শিশু কাটাইওনা বেলা সময়ের প্রতি কভু করিওনা হেলা"

মানবজীবনে সময়ের মূল্য:

যে সময়ের যে কাজ, তা সেই সময়ে সম্পাদন করা।যে তা করে না, সে সময়ের অমর্যাদা করে এবং পরাজয়ই হয় তার জীবনের চরম পরিণতি।সময়ের এই অবহেলার জন্য ভবিষ্যতে তাকে অনুশোচনা করতে হবে।যে কৃষক ফসলের ঋতুতে ফসলের বীজ বপন না করে আলস্যে সময় অতিবাহিত করে, সে কিভাবে ফসল ওঠার সময় খামার পূর্ণ ফসল আশা করতে পারে? সময় চলে গেলে তখন কান্নাকাটি করেও লাভ হয় না।প্রবাদে আছে-

সময়ে না দেয় চাষ

তার দুঃখ বার মাস।

মানবজীবনেও সেই একই কথা।জীবনে যখন শক্তি থাকে, সামর্থ্য থাকে, তখন আলস্যে অযথা কালহরন করে জীবন কাটালে শেষ বয়সে অবশ্যই দুঃখ ভোগ করতে হয়।তাই সময়ের মূল্যবোধের গুরুত্ব অনেক।

ছাত্রজীবনে সময়ের মূল্য:

ছাত্রজীবনে সময়ানুবর্তিতার মূল্য সর্বাধিক। কর্ম জীবনের সাফল্য নির্ভর করে ছাত্রজীবনের সময়ের সঠিক মূল্যায়নের ওপর। নিয়মিত পাঠ্যাভাস ও শরীরচর্চার মাধ্যমে শৃংখলা আর সংযম গড়ে ওঠে। ছাত্রজীবনের দৈনন্দিন কর্মসূচিকে যারা অবহেলা করে তারাই জীবনে সাফল্যের সোনার কাঠির পরশ থেকে বঞ্চিত হয়। এ প্রসঙ্গে উইলিয়াম শেক্সপিয়ার বলেছেন, "সময়ের প্রতি যাদের শ্রদ্ধা নেই, তারাই পৃথিবীতে নিঃস্ব, বঞ্চিত ও পরমুখাপেক্ষী।"

সময় অপচয়ের ফলশ্রুতি:

সময়ের অপচয় করলে সমস্ত জীবনই মূল্যহীন হয়ে পড়বে। যে সময় অপচয় করে তার উন্নতি কিছুতেই আশা করা যায় না। উন্নতি তো দূরের কথা মানুষ হিসেবে বাঁচাই দায় হবে।

সময়ের মূল্যবোধ:

পৃথিবীর মধ্যে যতো ধন-সম্পদ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময়। পৃথিবীর মধ্যে অনেক দুর্লভ বস্তুই টাকা দিয়ে কোন যায়, কিন্তু যে সময় একবার চলে যায় তা পৃথিবীর বিনিময়ে হলেও ফিরে পাওয়া যায় না। তাই সময় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

মনীষীদের সময়ানুবর্তিতা:

আমরা মহাজ্ঞানী, মহাজন তথা স্মরণীয় পুরুষদের জীবনে দেখতে পাই, তারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়েছেন। আবহেলায় কোনো সময় বৃথা নষ্ট করেননি। সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ফলেই তাঁরা জীবনে সফল হতে পেরেছেন। মরেও অমরতা লাভ করেছেন। নিউটন, আইনস্টাইন, এডিসন, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, সক্রেটিস, প্লেটো, শেক্সপিয়র প্রমুখ সময়ের মূল্য দিয়েছেন, তাই তাঁরা আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আদি যুগে সময়ের মূল্য:

প্রাগৌতিহাসিক যুগের অরণ্যচারী গুহাবাসী আদিম মানুষের জীবনে সময়ের কোনো মূল্যবোধ ছিল না।সমাজ ও সভ্যতার ভিত রচিত হবার পর থেকেই মানুষের জীবনে সময় মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে থাকে।এবং নশ্বর মানুষ অবিনশ্বর হতে সচেষ্ট হয়।এরপর থেকে মানুষ প্রাণান্ত প্রচেষ্টায় জীবনের প্রতিটি মুহুর্তকে কাজে লাগানোর সাধনায় উঠে- পড়ে লাগে।তারই অবশ্যম্ভাবী ফলশ্রুতি হিসেবে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতির দ্রুত উন্নতি ও বিকাশ সাধিত হতে থাকে।

আধুনিক যুগে সময়ের মূল্য:

সময়ের দাবি মিটিয়েই আধুনিক যুগ আজ সভ্যতার বেদিমূলে উপনীত হয়েছে।যারা সময়ের মূল্য প্রদান করে না, তারা গতিহীন, স্থবির ও মৃতপ্রায়।তাদের জীবনে কোনো সম্ভাবনা কখনো হাতছানি দেয় না।বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কারের ফলে সময়ের বর্তমান মূল্য আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।আবিষ্কৃত হয়েছে শব্দের গতির চেয়েও গতিসম্পন্ন কনকর্ড বিমান।মানুষ আজ কয়েক ঘন্টায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পাড়ি জমাচ্ছে।বিশ্ব আজ মানুষের হাতের মুঠোয়।জীবনের সর্বত্রই এসেছে গতি।

সময়ানুবর্তিতার প্রয়ােজনীয়তা:

যে জীবন সফলতার জন্যে উন্মুখ সে জীবনে সময়ানুবর্তিতার প্রয়ােজন সর্বাধিক। যার জীবনে। সময়ানুবর্তিতা নেই তার জীবনে সফলতার আশা করা বৃথা । অনন্ত কালপ্রবাহে মানুষ বেঁচে থাকে তার সুকীর্তির মধ্য দিয়েই। সুকীর্তি নির্মাণ তার পক্ষেই কেবল সম্ভব যার পক্ষে সময়ানুবর্তী হওয়া সম্ভব। মানুষ পৃথিবীকে সভ্যতার উচ্চশিখরে আজ আসীন করতে পেরেছে সময়ানুবর্তিতা চর্চার মাধ্যমেই। কবি বলেছেন–

‘নদী আর কালগতি উভয়ে সমান
অস্থির প্রবাহে করে উভয়ে প্রয়াণ।

তাই সময়ের এ প্রবহমান ধারা থেকে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানাের মধ্যে জীবনের সাফল্য নির্ভর করে। সময়ানুবর্তিতার মধ্যে মানবজীবনের কৃতিত্ব নিহিত। ঘাসের ডগায় চিকচিক করা শিশিরের মতাে মানবজীবন- যে জীবন প্রভাতেই মিলিয়ে যায় সূর্যের প্রথম সাক্ষাতে। তাই ক্ষণস্থায়ী এ জীবনকে একটি চিরস্থায়ী সম্মানিত আসনে রেখে যেতে হলে প্রয়ােজন সময়ের অনুবর্তী হওয়া।

উপসংহার:

মানুষের জীবন দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবে না।তাই মানুষের উচিত এ জীবনকে পরিপূর্ণ করে গড়ে তােলা।এজন্য সময়ানুবর্তিতা একান্ত প্রয়ােজন।সময়ানুবর্তী জীবন উজ্জ্বল জীবনের উপমা।মানুষের সবথেকে বড় অপরাধ হচ্ছে সময়ের অপচয় করা।যারা সময়কে অবহেলা করে তারা জীবনে উন্নতি করতে পারে না। সময় যেহেতু জীবনের সব সাফল্য এবং সুখের মূল তাই আমাদের উচিত সময়ের সদ্ব্যবহারের ক্ষেত্রে সজাগ দৃষ্টি স্থাপন করা। আমাদের সকলকে একটি কথা মনে রাখা উচিত।

07/12/2025

মাদকাসক্তি ও এর প্রতিকার

ভূমিকা:
মাদকাসক্তি এক মরণ নেশা।বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এ নেশার নীল ছোবল।বর্তমান সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষবাষ্পেরমতো ছড়িয়ে পড়েছে নেশার উপকরণ।নেশা সর্বনাশা জেনেও মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়।এর নীল দংশনে দংশিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ।ড্রাগ বা মাদকাসক্তি আধুনিক সভ্যতার ক্ষেত্রে এক নতুন অভিশাপ।অপার সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজের জন্য মাদকাসক্তি এখন এক মরণফাদ।এই ঘাতক ব্যাধিতে আসক্ত হবার ফলে সমাজ হচ্ছে কলুষিত এবং দেশ,জাতি ও পৃথিবীর জন্য অপেক্ষা করছে মর্মান্তিক পরিণতি।তাই একটিসুন্দর পৃথিবীর জন্য,আলোকিত আগামীর জন্য মাদকাসক্তির মতো মরণথাবা থেকে তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করা একটি অবশ্যকর্তব্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।

মাদকাসক্তি কিঃ
সাধারণত যে সব দ্রব্যসামগ্রী পান বা ব্যবহার করলে নেশা সৃষ্টি হয় তা গ্রহণ করাকে মাদকাসক্তি বলে।এসব দ্রব্য যারা সেবন করেতাদেরকে বলা হয় মাদকাসক্ত।মাদকাসক্তি এমন এক নেশা যাতে একবার জড়িয়ে পড়লে,তা থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া যায় না।এর পরিণতি অকালমৃত্যু।মাদকের নেশা খুব দ্রুত মানুষকে আসক্ত করে,আর এই আসক্তির আকর্ষণশক্তি এত তীব্র যে,একবার যাকে স্পর্শ করে তার পক্ষেআবার পূর্বের সহজ জীবনে ফিরে আসা দুষ্কর।

মাদকদ্রব্যসমূহঃ
নেশা সৃষ্টিকারী বা চিন্তাবিভ্রমকারী দ্রব্যসমূহ মাদকদ্রব্য হিসেবে পরিচিত।পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য রয়েছে।এগুলোকেপ্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়।যথাঃ
১।প্রাকৃতিক ও
২।রাসায়নিক।

প্রাকৃতিকঃ
প্রাকৃতিক উপায়ে যে সকল মাদকদ্রব্য উৎপন্ন হয় তাই প্রাকৃতিক মাদকদ্রব্য।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মাদকদ্রব্যসমূহ প্রধানত গাছ থেকে আসে।যেমন-তাড়ি,আফিম,গাজা,ভাঙ,চরশ ইত্যাদি।

রাসায়নিকঃ
পরীক্ষাগারে রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার মাধ্যমে যে মাদকদ্রব্য উৎপন্ন হয় তাই রাসায়নিক মাদকদ্রব্য।রাসায়নিক মাদকদ্রব্য প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপন্ন মাদকদ্রব্য থেকে বেশি নেশা সৃষ্টিকারী ও ক্ষতিকারক।যেমন-হেরোইন,মরফিন,কোকেন,ইয়াবা,প্যাথেড্রিন, সঞ্জীবনী সুরা,বিভিন্ন প্রকার এলকোহল ইত্যাদি। এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞানুযায়ী তামাকজাত নিকোটিন,যেমন-নস্যি,জর্দা,সিগারেট,চুরুট ইত্যাদিও মাদকের পর্যায়ভুক্ত।

মাদকের উৎসঃ
মাদকের উৎস বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মাদক উৎপাদিত হয়।তার মধ্যে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল,গোল্ডেন ক্রিসেন্ট,গোল্ডেন ওয়েজ প্রধান।গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের পরিধি মায়ানমার,লাওস ও বার্মা।গোল্ডেন ক্রিসেন্ট বিস্তৃত পাকিস্তান,আফগানিস্তান,ইরান ও তুরস্ক জুড়ে।এর মধ্যে পাকিস্তানে উৎপন্ন হয় সিংহভাগ।গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল ও গোল্ডেন ক্রিসেন্টের মধ্যবর্তী অপর একটি নতুন অঞ্চল গোল্ডেন ওয়েজ।এ অঞ্চলটি ভারত ও নেপাল সীমান্তে।এসব এলাকায় প্রচুর পরিমাণে গাজা,আফিম,কোকেন,হেরোইন ইত্যাদি উৎপন্ন হয়।ব্রাজিল,বলিভিয়া,কলম্বিয়া,ইকুয়েডর প্রভৃতি দেশে মাদক উৎপাদন ও চোরাচালানের বড়ো একটি নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠেছে।বর্তমানে এই নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

মাদকাসক্তের সংখ্যাঃ
পৃথিবীর শতাধিক দেশের ৫০ থেকে ৬০ কোটি মানুষ মাদকে আসক্ত বলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্টে প্রকাশ করা হয়েছে।৩৬ টি দেশে অত্যধিক ক্ষতিকর মাদকদ্রব্য উৎপাদন করা হলেও এর স্থানান্তর প্রক্রিয়া শতাধিক দেশকে মাদকের লীলাক্ষেত্রে পরিণত করেছে। চিকিৎসকদের মতে,সমগ্র বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও অধিক।প্যাথেড্রিন আসক্তদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা বেশি।

মাদকাসক্তির কারণঃ
বিশ্বের এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মাদক ব্যবহারের প্রবণতা সম্পর্কে সমাজবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের ধারণা হলো-
১।বেকারত্ব,হতাশা,বন্ধু-বান্ধবদের প্ররোচনা।
২।সৌখিনতা ও কৌতুহলবশত।
৩।পারিবারিক অশান্তি।
৪।প্রেমে ব্যর্থতা।
৫।মাদক ব্যবসায়ীদের প্ররোচনা।
৬।পাশ্চাত্য জীবনের অন্ধ অনুকরণ।
৭।দেশের বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা।
৮।নৈতিক শিক্ষার অভাব।

মাদকাসক্ত হবার প্রাথমিক লক্ষণ ও পরিণতিঃ
মাদকাসক্ত হবার পরিণতি খুবই ভয়াবহ।ড্রাগে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্যে একটা খাপছাড়া ভাব পরিলক্ষিত হয়।চেহারাও হয়ে যায় রুক্ষ।বইপত্র,খাতা-কলম ও অন্যান্য দ্রব্য হারিয়ে ফেলা,বাথরুমে অনেক সময় কাটানো,চোখের তারা ছোট হয়ে যাওয়া,এমনকি চুরির অভ্যাসও দেখা যায়।মাদকাসক্ত ব্যক্তি নেশার উপকরণের অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে ছিনতাই,চুরি,রাহাজানি,ডাকাতিসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচারে লিপ্ত হয়।এভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।এ সময় থেকে অভিভাবকদের সাবধান হওয়া উচিত।চিকিৎসকদের মতে,এ ভালোলাগা থেকেই ধীরে ধীরে স্নায়ু অসাড় হয়ে যায়,কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং ক্রমে ক্রমে মৃত্যুর ঘন্টাধ্বনি বেজে উঠে জীবনে।

মাদকাসক্তির কুফলঃ
মাদকে আসক্ত ব্যক্তির বিবেক-বুদ্ধি লোপ পায়,ক্ষুধা তৃষ্ণার অনুভুতি কমে যায়,নিদ্রাহীনতা দেখা দেয়,দেহের ওজন কমতে থাকে,হাসি-কান্নার বোধ ও বিচারবুদ্ধি থাকে না।এক পর্যায়ে সে বেচে থেকেও মৃতের মতো হয়ে যায়।মাদকের মূল্য বেশি হওয়ায় খুব অল্প দিনেই মাদকাসক্তের সঞ্চিত অর্থ ফুরিয়ে যায়।তখন তারা অবৈধ উপায়ে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করে।মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা এভাবে নিজেদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সুস্থতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।এসের নৈতিক অধঃপতন সমাজের অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়।মাদকাসক্ত ব্যক্তি পারিবারিক ও দাম্পত্য কলহের কারণ হয়।অশান্তির জের ধরেই বহু মাদকাসক্ত আত্মহননের পথ বেচে নেয়। এছাড়া সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো,মাদকাসক্ত নারী-পুরুষের মধ্যে ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী লোক বেশি।তাই এই বয়সের নারী-পুরুষ মাদকাসক্ত হওয়ার অর্থ হলো-একদিকে দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করা,অন্যদিকে সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করা।

মাদকাসক্তির প্রতিকারঃ
মাদকাসক্তির সর্বনাশা প্রভাব থেকে মানুষকে বাচানোর জন্য বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধ গড়ে ওঠেছে।মাদকদ্রব্যের উৎপাদন,আমদানি,বিক্রয় ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে বিশ্বের সকল দেশে আইন তৈরি করা হয়েছে।শুধু মাদকাসক্তির কুফলের প্রচার করে বা উপদেশ দিয়ে এ ভয়ঙ্কর ব্যাধির প্রতিকার করা যাবে না।এর হাত থেকে রক্ষার জন্য কঠোর আইন যেমন প্রয়োজন,তেমনি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রতিকার করতে হবে।বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি প্রচার মাধ্যমগুলোতে মাদক গ্রহণ ও বিস্তার প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ করা যায়। তখন সরকারের সমাজসেবা কর্মসূচিতে মাদক প্রতিরোধ ও মাদকাসক্তের পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু আছে এবং এদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকের হাত থেকে দেশের যুবসমাজকে বাচাতে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হলো প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং সেখানে বেকারদের কাজের ব্যবস্থা করা।সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো মাদক ব্যবসা ও চোরাচালানকে নির্মূল করা।এজন্য দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রেখে কঠোর আইন প্রণয়ন করা এবং তা প্রয়োগ করে দেখানো।

উপসংহারঃ
মাদকে ভীরু খোজে সাহস,দুর্বল খোজে শক্তি,দুঃখ খোজে সুখ,কিন্তু অধঃপতন ছাড়া কিছুই পায় না।তারপরও এরই আকর্ষণে অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ আজ অকাল মৃত্যুর দিকে ছুটে চলেছে।এ অবস্থা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে,সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেয়,তবে এই কদর্য ব্যাধির অপসারণ সম্ভব নয়।তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষকে মাদকাসক্তির সর্বনাশা অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্র ব্যবহারিক পরীক্ষণের নাম : স্পঞ্জ ও জেলিফিশ
27/11/2025

এইচএসসি জীববিজ্ঞান ২য় পত্র ব্যবহারিক
পরীক্ষণের নাম : স্পঞ্জ ও জেলিফিশ

23/09/2022

কী ধরনের বই আমার পড়তে ভালো লাগে

ভূমিকা : গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মাক্সিম গোর্কি বলেছেন, 'আমার মধ্যে উত্তম বলে যদি কিছু থাকে তার জন্য আমি বইয়ের কাছে ঋণী।' সত্যিকার অর্থেই বই মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ভাবনার জন্ম দেয়। মানুষের চেতনাকে জাগ্রত করে। তাই তো বই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।

আমার বই পড়ার শুরুর কথা: মায়ের কাছ থেকে বর্ণমালা শেখার পর পাঁচ বছর বয়সে আমাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়। স্কুলের পাঠ্যবই তখন আমার সঙ্গী হয়। কিন্তু তার অনেক আগে থেকেই আমি বই পড়তাম। ছোটবেলায় 'ঠাকুরমার ঝুলি' আমাকে খুব আনন্দ দিত। এ গল্পগুলো আমি নিজে পড়ে যতটা আনন্দ পেতাম, তার চেয়ে অনেক বেশি আনন্দ পেতাম শুনে। এ ছাড়া ঈশপের গল্প, মোল্লা নাসিরউদ্দীনের গল্প, বীরবলের গল্প ও গোপাল ভাঁড়ের গল্প আমার পড়তে ভালো লাগত। কিন্তু এখন আমি এ রকম বই পড়ি না। গোয়েন্দা গল্প, মুক্তিযুদ্ধের গল্প ছাড়াও আরও নানা রকমের গল্পের বই এখন আমার নিত্যসঙ্গী।

আমার ভালো লাগার বই: গোয়েন্দা গল্প পড়তে আমার সবচেয়ে ভালো লাগে। গোয়েন্দা চরিত্রগুলোর মধ্যে 'ফেলুদা' আমার সবচেয়ে প্রিয়। অমর এ চরিত্রের স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়। ফেলুদাকে নিয়ে সত্যজিৎ রায় অনেকগুলো গল্প লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জয় বাবা ফেলুনাথ, কলকাতায় ফেলুদা, বাক্স রহস্য, সোনার কেল্লা, রয়েল বেঙ্গল রহস্য, শেয়াল রহস্য ইত্যাদি। গল্পগুলো যখন আমি পড়ি, তখন আমার মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি হয়। মাঝে মাঝে আমি নিজেকে গল্পের চরিত্র হিসেবেও ভাবতে শুরু করি। ফেলুদার সঙ্গে থাকা তপেসের চরিত্র এ ক্ষেত্রে আমাকে খুবই আকর্ষণ করে। আর জটায়ুর চরিত্র আমাকে আনন্দ দেয়। তবে ফেলুদার চরিত্র এককথায় অসাধারণ। গল্পগুলো যখন আমি পড়ি, তখন সময় কোন দিক দিয়ে কেটে যায় আমার মনেই থাকে না। সব কাজ ভুলে গল্পগুলোর মধ্যে আমি নিজেকে ডুবিয়ে রাখি। যতক্ষণ একটি গল্প পড়া শেষ না হয়, ততক্ষণ আমি বই ছেড়ে উঠতে পারি না। এক কল্পনার জগতের মধ্যে গল্পগুলো আমাকে টেনে নিয়ে যায়।

আমার অন্যান্য বইয়ের সংগ্রহ: গোয়েন্দা গল্প ছাড়াও আমার সংগ্রহে মুক্তিযুদ্ধের বই, ইতিহাসের বই, সায়েন্স ফিকশন, গণিতের বই ও ম্যাজিক শেখার বই রয়েছে। গোয়েন্দা গল্প পড়ার পাশাপাশি এ বইগুলো পড়তেও আমার ভালো লাগে।

বই পড়ে আমার প্রাপ্তি: আনন্দ পাওয়ার জন্যই আমি মূলত বই পড়ি। তবে গোয়েন্দা গল্পগুলো আমাকে যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক হতে সাহায্য করেছে। আমার চারপাশের অজানা জগৎ সম্পর্কে আমাকে ধারণা দিয়েছে বই। বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বই। বই পড়ে আমি মানুষের মন ও তার চিন্তা সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পেয়েছি। ভবিষ্যতে এ জ্ঞান আমাকে পথ চলতে সাহায্য করবে। আমার পরিবার, বিদ্যালয় ও শিক্ষকদের কাছে আমাকে আদরণীয় করেছে বই।

উপসংহার: বই আমাকে সব সময় সৎ পথে চলতে সাহায্য করে। আমার মন খারাপ হলে বন্ধুর মতো আমার পাশে থেকে বই আমাকে সাহায্য করে। বই পড়ে আমি মানুষের জন্য ভালো কিছু করার প্রেরণা পাই। জ্ঞান ও বুদ্ধিতে মানুষকে শাণিত হতে হলে বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেকেরই বই পড়া উচিত।

23/09/2022

আমাদের গ্রাম

ভূমিকা: সবুজে শ্যামলে ভরা আমাদের এদেশের বেশির ভাগ স্থানজুড়ে রয়েছে গ্রাম। আমাদের এ গ্রামগুলো যেন সবুজের লীলাভূমি। গ্রামের সবুজ প্রকৃতি যেকোনো মানুষের হৃদয়কে প্রশান্তিতে ভরে দেয়। গ্রামের শাস্ত পরিবেশ মানুষের সকল ক্লান্তি দূর করে। গ্রামই এদেশের প্রাণ।

গ্রামের অবস্থান : আমাদের গ্রামের নাম রতনপুর। এটি ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার অন্তর্গত। এর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতী নদী। নদীর দুপাশের প্রাকৃতিক শোভা এ গ্রামকে অপূর্ব সৌন্দর্য দান করেছে। ঢাকা থেকে সড়ক পথে খুব সহজেই আমাদের গ্রামে আসা যায়।

গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য: আমাদের গ্রামখানি ছবির মতো। আম-জাম, কাঁঠাল-লিচু, নারিকেল-সুপারি, শিমুল-পলাশ, ভাল-তমাল আর নানাজাতের গাছপালায় সুসজ্জিত আমাদের এই গ্রাম। ঝোপঝাড় লতাপাতার নিবিড় ঘনিষ্ঠতা সবার মন কেড়ে নেয়। পাখপাখালির কলকূজনে সব সময়ই মুখর থাকে গ্রামখানি। দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ, ধান-কাউনের হাতছানি, নিঝুম দুপুরে বটের ছায়ায় রাখালের বাঁশি উদাস করে মনপ্রাণ। দিঘী-ডোবা, বিল-ঝিল- কী এক অপূর্ব সৌন্দর্যের সঞ্চয়!

গ্রামের মানুষ: আমাদের গ্রামে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্মের মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই সব মানুষ এখানে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে।

গ্রামের মানুষের জীবিকা : আমাদের গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া কিছু জেলে এবং তাঁতিও এখানে রয়েছে। কিছু মানুষ লেখাপড়া শিখে শহরে চাকরি করে। তবে সে সংখ্যা নিতান্তই কম। এছাড়া কিছু মানুষ দিনমুজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে।

গ্রামের অর্থনৈতিক উৎস: বাংলাদেশের বেশিরভাগ গ্রামের মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। তবে আমাদের গ্রামের চিত্র একটু ভিন্ন। গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারেরই একজন করে দেশের বাইরে থাকে। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা এ গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থাকে মজবুত করেছে। গ্রামের আয়ের আরেকটি বড় উৎস কুটির শিল্প। প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নকশীকাঁথা, উলের তৈরি গালিচা, পাটের তৈরি নানা গৃহসজ্জার পণ্য তৈরি হয়। এগুলো শহরে বিক্রি করে গ্রামের মানুষ প্রচুর অর্থ আয় করে। এছাড়া কৃষিজাত পণ্য যেমন: ধান, পাট, গম ও নানা ধরনের সবজি তরকারি বিক্রি করেও গ্রামের মানুষ অর্থ রোজগার করে। প্রতি বুধবার গ্রামে হাট বসে। হাটে শহরের লোকজন এসে সরাসরি গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিজাত পণ্য সংগ্রহ করে।

গ্রামের প্রতিষ্ঠান: আমাদের গ্রামে একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া একটি কামিল মাদ্রাসা রয়েছে। আরো রয়েছে একটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও দুটি বেসরকারি অফিস। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি মসজিদ, একটি মন্দির ও একটি গির্জা রয়েছে। গ্রামের শেষ প্রান্তে রয়েছে একটি পোস্ট অফিস।

গ্রামের সংস্কৃতি : সাংস্কৃতিকভাবে আমাদের গ্রাম খুবই উন্নত। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এখানে নানা ধরনের মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। যেমন: চৈত্র মাসের শেষে চৈত্রসংক্রান্তির মেলা, বৈশাখ মাসে বৈশাখি মেলা, অঘ্রাণ মাসে নবান্ন অনুষ্ঠান, পৌষ মাসে পিঠার অনুষ্ঠান ইত্যাদি। গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু বিয়েতে লোকজ গান, নাচ ও খাবারের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসে স্কুলে অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবেও লোকজন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

স্বাধীনতা সংগ্রামে গ্রামের অবদান: মহান মুক্তিযুদ্ধে এ গ্রামের মানুষের অবদান অনেক। এ গ্রামের মানুষের সাহসিকতা ও বীরত্বে পাকিস্তানি বাহিনী এ গ্রামে প্রবেশের খুব একটা সুযোগ পায়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলের দুজন আঞ্চলিক কমান্ডার এ গ্রামে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। পাকিস্তানি বাহিনীর গতি রোধ করার লক্ষ্যে এ গ্রামের এক ছেলে ব্রিজ ধ্বংস করে গিয়ে শহিদ হয়েছেন। তাঁর এবং মুক্তিযুদ্ধে আরো যারা শহিদ হয়েছেন তাঁদের স্মরণে গ্রামে একটি শহিদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে।

উপসংহার: আমাদের রতনপুর গ্রাম আমাদের কাছে খুব প্রিয়। এ গ্রামের প্রকৃতি মায়ায় জড়ানো। রতনপুরের মানুষ সহজ-সরল ও অতিথিপরায়ণ। ইছামতী নদীর সৌন্দর্য এ গ্রামকে করেছে অন্য সব গ্রাম থেকে আলাদা। রতনপুর গ্রামের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে।

16/09/2022

আমাদের জাতীয় পতাকা

ভূমিকা: জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন জাতির সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তাই প্রতিটি স্বাধীন দেশ ও জাতিরই একটি জাতীয় পতাকা আছে। জাতীয় পতাকা দেশের সব মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। যেকোনো স্বাধীন দেশ বা জাতি তার জাতীয় পতাকাকে সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে।

জাতীয় পতাকার আকার ও আকৃতি: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় ঘন সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত থাকবে। জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬। পতাকার দৈর্ঘ্য যদি ৩০৫ সেন্টিমিটার (১০ ফুট) হয়, প্রস্থ ১৮৩ সেন্টিমিটার (৬ ফুট) হবে। লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। আমাদের জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেছেন শিল্পী কামরুল হাসান।

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতীক: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এদেশে সকল ধর্মের মানুষের বসবাস রয়েছে। কিন্তু ধর্ম আলাদা হলেও সবার ভেতরে রয়েছে একই জাতিসত্তা। আর তা হলো বাঙালি জাতিসত্তা। বহু ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা লাভ করেছি। লাল-সবুজের পতাকা আমাদের সে স্মৃতিকেই বহন করছে। এ পতাকা আমাদের সংগ্রামের ইতিহাসকে তুলে ধরে সব প্রজন্মের সামনে।

জাতীয় পতাকার বিশেষত্ব: আমাদের জাতীয় পতাকার সবুজ রং বাংলাদেশের শ্যামল প্রকৃতির দিকটিকে তুলে ধরেছে । লাল রং তুলে ধরেছে নবজাগরণের কথা। এছাড়া স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এ দেশের মানুষ যে রক্ত দিয়েছে তার ইঙ্গিতও বহন করে লাল রং। মোটকথা, আমাদের দেশের স্বাধীনতা ও প্রকৃতিকে ধারণ করে আছে জাতীয় পতাকা।

জাতীয় পতাকার গুরুত্ব: জাতীয় পতাকা আমাদের সকল বৈষম্য দূর করে দেয়। আমরা এ পতাকার ছায়াতলে একত্রে মিলিত হই। আমরা পরস্পরের মধ্যে সকল ভেদাভেদ ভুলে যাই। এছাড়া আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করার প্রেরণাও আমরা জাতীয় পতাকা থেকে পাই। আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অগ্রগতির সঙ্গে জাতীয় পতাকা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। হিমালয়ের চূড়া থেকে শুরু করে আমাদের যে কোনো অর্জনেই জাতীয় পতাকা সবার আগে আমাদের হাতে উঠে আসে। আমাদের গৌরবময় ইতিহাসের স্মারক জাতীয় পতাকা। শুধু বর্তমানের নয়, ভবিষ্যতের সকল কর্মপ্রেরণার উৎসও আমাদের জাতীয় পতাকা।

জাতীয় পতাকার সম্মান: জাতীয় পতাকার জন্য আমরা গর্ববোধ করি। তাই একে সম্মান করা আমাদের একান্ত দায়িত্ব। বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনকালে তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। এছাড়া অন্যান্য স্থানে বা অনুষ্ঠানে যখনই জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হোক না কেন, তখনই দাঁড়িয়ে তার প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। যে জাতীয় পতাকাকে সম্মান করে না, সে সকলের ঘৃণার পাত্র। তাকে সকলে দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত করে।

উপসংহার: জাতীয় পতাকা আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত মর্যাদার ও সম্মানের। বুকের রক্ত দিয়ে হলেও এর সম্মান রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। আমাদের লক্ষ লক্ষ বীর শহিদ এ পতাকার জন্যই তাঁদের জীবনদান করেছেন। যখন নীল আকাশের মাঝে আমাদের এ পতাকা উড়তে থাকে, তখন তা দেখে গর্বে আমাদের বুক ভরে যায়।

Address

Mujgunni Road No. 21 , Khalishpur Khulna GPO/
Khalishpur
9000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bangla Essay posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Bangla Essay:

Shortcuts

Share

Category