31/07/2014
আমি বার্সেলোনা থাকি, ঈদের ২/৩ দিন আগে গেলাম শপিং করতে, Primark এ। সেখানে প্রবেশ করার সময় একজনের সাথে একটু ধাক্কা লাগে, তো দোষটা আমার হওয়া সত্বেও উনি আমাকে সরি বলেছেন। উনার বয়স প্রায় ৪০ এর কাছাকাছি হবে, স্প্যানিশ নাগরিক।
তো দোষ টা আমার হওয়া সত্বেও উনি সরি বলছেন, এখন কথা না বললে কেমন হয়।
কিছুক্ষণ কথা বলার পর জিজ্ঞেস করলাম আপনি যে এলাকায় থাকেন সেখানে অনেক শপিং সেন্টার আছে, এত দূর শপিং করতে আসেন কেন?
-- আমি সবসময় Primark থেকে শপিং করি, প্রায় ৬ বছর হবে।
-- আমি একটু উঠসাহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেন? কেন?
-- এখানে Made in Bangladesh এর পোশাক পাওয়া যায়। আমি বাংলাদেশকে অনেক ভালোবাসি। ওদের পোশাক অনেক সুন্দর ডিজাইন এবং ওদের শ্রমিকরা অনেক ধন্য দেশ বিদেশে অনেক সম্মান এনে দিচ্ছে দেশের।
--- ভেরি গুড, তা আপনি কখনও গেছেন বাংলাদেশ, বা যাওয়ার ইচ্ছা আছে, দেখার ইচ্ছা আছে নিজ চোখে কিভাবে শ্রমিকরা এসব পোশাক তৈরি করে?
--- না না, কখনও যাই নাই, তবে যদি যাওয়াত সোযোগ হয় তবে সেটা হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
-- আমার চোখ দিয়ে জল এসে গেলো, বিদেশিরা আমাদের দেশের পোশাক শিল্পের প্রতি এত ভালোবাসা, আর আমরা ঈদের সময় বেতন-ভাতা দেই না, কিছু বললে কাজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেই।
-- আরে আপনি কাঁদছেন কেন,?
-- খুশিতে? কারন আমি একজন বাংলাদেশি।
এই কথা বলতে দেরি হয় নাই, আমাকে বুকে জরিয়ে ধরেন। আর আমি চোখের পানি মুছতে থাকলাম।
-- আপনি অনেক ভাগ্যবান এমন একটা দেশে জন্ম নিছেন, যেখানে Garments এর মাধ্যমে সাড়া দুনিয়া রাজত্ব করছে।
আরও অনেক কথা হইছে, সেটা না হয় অন্যদিন বলব।
বিদেশিরা যদি আমাদের Garments কে এত সম্মান দিতে, Garments শ্রমিককে এত মর্যাদা দিতে পারে, পারে আমরা কেন পারব না, আমরা কেনও আমাদের এই শিল্প নিয়ে অহংকার করতে পারব না, কেনও বিপদে আপদে ওদের পাশে থাকতে পারব না।
আসুন না আমরা ওদের সাথে অবিচার না করে ওদের পাশে দারাই, ওরা আমাদের দেশকে বাহিরের কাছে তুলে ধরছে, বাড়িয়ে দিচ্ছে দেশের সম্মান আর দেশকে এনে দিচ্ছে রেমিটেন্স।
M.A