18/04/2026
দেশে শত শত হিফজ মাদ্রাসা আছে,
হিফজ পড়া হাজার হাজার ছাত্রও আছে,
এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৮০% ছাত্র হিফয
শেষ করে কিতাবী লাইনে সামান্য লিখাপড়া করে অথবা বন্ধ করে দেয়,
যে কারনে তারা অধিকাংশই তালিম তর্বিয়্যত
আদব আখলাক, মোআমালাত মোআশারাত
তথা নৈতিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়,
যা তার জন্য হাফেজ হওয়ার চাইতেও বেশি জরুরি ছিল,
তারা একাধিক উস্তাদের সংস্পর্শ পায় না,
বা একাদিক উস্তাদের কাছে যেতে পারে না
মূলত সেই কারনেই এই ঘাটতি টা রয়ে যায়।
সচরাচর দেখবেন না একজন আলেম
বখাটে স্টাইলে চুল রাখতে, বা রাস্তাঘাটে কানে হেডফোন লাগিয়ে হাটতে, কিন্তু হাফেজ সাহেবদের বেলায় এটা সাধারণ ব্যাপার, (ইল্লা মাশাআল্লাহ)
এমনও দেখেছি আলেম উলামা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আলোচনা চলছে কিন্তু হাফেজ সাহেব নির্দ্বিধায় কানে হেডফোন লাগিয়ে রেখেছে যা একজন আলেমের পক্ষে কখনো কল্পনাও করা যায় না।
১০ বছর খেদমত জীবনে বহু হাফেজ এর সাথে উঠাবসা পরিচিতি হয়েছে বা হচ্ছে, এদের অধিকাংশেরই চালচলন ছিল বাজে ধরনের, গায়রতহীন ভাবে চলাফেরা করা বা একটু পাতলামী পাগলামীর অভ্যেস থাকা
এই সবগুলো সংকটের একটাই কারন
তালিম তর্বিয়্যত বা নৈতিক শিক্ষার অভাব।
আজ চারও দিকে ভাল নামি-দামী হিফজ প্রতিষ্ঠান আছে, তারা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার নামে ডিব্বাডাব্বা পুরস্কারের কানামাছি খেলা আর তোতাপাখির মতো বলতে পারা কিছু অক্ষর শিক্ষা দিয়ে ছাত্রদের থেকে মাসে ৪.৫ হাজার টাকা ব্যবসা করতে পারলেই নিজেকে পৃথিবীর সেরা শিক্ষক ভেবে প্রশান্তির ডেকুর তুলেন, অথচ ঐদিকে একজন ছাত্র হাফেজ হওয়ার পরও তার জীবন যেন অন্ধকার ই রয়ে যায়, না জানে দ্বীন সম্পর্কে ভালো কিছু, না জানে কোরআন হাদিস সম্পর্কে ভালো কিছু।
এমনও দেখেছি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হাফেজ অথচ বাংলাতে ভাল করে নিজের নামটা পর্যন্ত লিখতে পারে না।তার এই ধ্বজভঙ্গ জীবন দিয়ে এই সমাজে চলার উপায় কি?
আপনি শিক্ষক হিসেবে তাকে সধু তোতা পাখির মত পড়তেই বললেন? সার্বিক দিকে খেয়াল রাখা কি প্রয়োজন ছিল না? মূলত ছাত্রদের আদব আখলাক, দায়িত্ববোধ, নৈতিক শিক্ষা খুব কমই শিক্ষা দেওয়া হয়, যেটা সহজেই হিফজ ছাত্রদের পরবর্তী সময়ে চালচলন কে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলে। (ইল্লা মাশাআল্লাহ )
সুতরাং প্রত্যেকটা হিফজ শিক্ষকদের উপর আবশ্যক তার ছাত্রদেরকে লিখাপড়ার চাইতেও আদব আখলাক, তালিম তরবিয়ত, দায়িত্ববোধ চালচলেনের দিকে কঠোর ভাবে গুরুত্ব দেওয়া।
কারন শতকরা ৮০% ছাত্র হাফেজ হয়েই ঝরে যায়, পরবর্তীতে এমন ভাবে সে বিধ্বস্ত হয় বুঝার উপয় থাকেনা সে একজন কোরআনের হাফেজ।
আপনি যদি শুধু তোতা পাখির মত পড়তেই ব্যস্ত থাকেন, তারা এগুলো কখন শিখবে একটু কি ভাবা দরকার মনে করেন না জনাব?
এই দায় কি এরাতে পারবেন?
আবার কিছু শিক্ষক আছেন প্রতিযোগিতার জন্য অনেক ছাত্রকে হিফজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরও আটকে রাখেন, এটা তার জীবনের উপর আপনি জুলুম করলেন আপনি একজন স্বার্থবাদী জালেম।
হাফেজ হোক বা না হোক,
একজন ছাত্রের ১২ থেকে ১৪ বছর হলেই তাকে কিতাবি লাইনে পড়ার জন্য transfer করে দিন,
তার জীবনটা হয়তো কাজে লাগবে।
সে ধীরে ধীরে হাফেজ হোক বা আপনার ছাত্র প্রয়োজনীয়তা সেই কারণে তার সময়টাকে নষ্ট করছেন, But why? কেনো তার জীবনকে আপনি ধ্বংস করবেন?
আমি ছোট মানুষ,
খুবই দুঃখিত কঠোর ভাবে বলার জন্য,
আসলে দেখতেছি এই বিষয়টা নিয়ে কেও মুখ খুলে না, জানি না কার কি স্বার্থ রয়েছে এতে,
কিন্তু বড় একটা জেনারেশন হিফজখানায় পড়ে অজান্তেই নিজের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুক,
এবং হাফেজ হওয়ার পাশাপাশি আলেম হওয়ারও তাফিক দন করুন। আমীন
Copy post