10/04/2014
লনার পাইকগাছায় স্বামীর হাতে স্ত্রী -ছেলে খুন হওয়ার ঘটনায় নিহত অনিমার ভাই বাদী হয়ে পাইকগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এদিকে ঘটনার দু’দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ হত্যার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। তবে নিহতের পারিবারিক একাধিক সূত্র বলছে হত্যার পেছনে হন্তারক দিপকের ভাই গোপালের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন ছিল। যার অন্তরালে ছিল সম্পত্তি ও ব্যবসার ভাগবাটোয়ারা।
সূত্রে প্রকাশ, ঘটনার রাতে একই ছাদের নিচে পাশের ঘরে ঘুমন্ত গোপালের স্ত্রী মিতা রাণী দাশ কিছুই জানেননা বলে জানান। এমনকি ঘটনার পর নিহতের মেয়ে প্রিয়াঙ্কার ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশিরা এগিয়ে আসার অনেক পরে দরজা খুলে বাইরে আসেন মিতা। এছাড়া ঐরাতে দিপকের ভাই গোপালও বাড়িতে ছিলেন না। তিনি না কি পাশের গ্রামে ধর্মীয় যজ্ঞ শুনতে গিয়েছিলেন। হত্যাকান্ডের খবর রাত ১২টার দিকে প্রচার হলেও নিহতের ভাই মৃত্যুঞ্জয় দাশ জানান, রাত ১টা ২৪ মিনিটে মিতাই তাকে মোবাইলে জানান। তখন তার আচরণ অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। সকালে গোপালকেও পাশের দোকান থেকে ১ প্যাকেট নেভী সিগারেট কিনতে ও চা খেতে দেখাগেছে। এসময় তাকে অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। তখন উপস্থিত অন্যান্যরা বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখেনি। গোপালের মা জোৎ¯œা রাণী দাশ সহ পারিবারিক একাধিক সূত্র জানায়,দিপক দীর্ঘদিন যাবৎ কপিলমুনিতে নিজ দোকানে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছিল। তবে বছর খানেক আগে নিজ শরীরের চিকিৎসা করাতে ভারতে যাওয়ার সময় ব্যবসার দায়িত্ব দিয়ে যান গোপালের হাতে। মাস খানেক পর ফিরে আসলেও গোপাল আর দিপককে তার ব্যবসা ফিরিয়ে দেয়নি। এমনকি দোকানটি পর্যন্ত দেয়নি তাকে। এনিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের মধ্যে দ্বন্দ চলে আসছিল। একদিকে শরীরের খারাপ অবস্থা অন্যদিকে সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তায় বিভোর দিপক অনুরোধ জানায় ছোট ভাই গোপালের কাছে যে, তার অবর্তমনে সে যেন তার মেয়েকে সু-পাত্রস্থ সহ ছেলেকে দেখাশুনা করে। এভাবে কিছুদিন চলার পর গোপালের আচারণ সন্দেহজনক বুঝতে পেরে মানষিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এমন কি গোপাল ও তার স্ত্রী মিলে নিহত অনিমার চরিত্র সম্পর্কে কান ভারিকরে তোলে দিপকের। এরকম নানান ভাবনায় সর্বশেষ মানষিক বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ে দিপক। ঘটনার পূর্বে বিভিন্ন সময় বাড়িতে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রলাপ করতে থাকে সে। একসময় কিংকর্তব্যবিমূঢ় বেসামাল দিপক কয়েক দিন থেকে পরিকল্পনা আটতে থাকে নিজের সাথে স্ত্রী- সন্তানদেরকেও শেষ করে ফেলবে। আর সেকারণেই সে বাজার থেকে নতুন কাঁচি,বিষ,ঘুমের বড়ি,মিষ্টান্ন সামগ্রী কিনে নিয়ে যায় বাড়িতে। আর বিভিন্ন সূত্রের দেয়া উপরোক্ত তথ্য সত্য হলে দিপকের সম্পদ এবং সম্পত্তিই কাল হয়ে দাঁড়ায় অনিমা ও তার ছেলে সজীবের জন্য। তবে এখনো পর্যন্ত হত্যার ক্লু উদঘাটনে পুলিশ কেন গোপাল বা তার স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেনা তা নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে নিহতের ভাই মৃত্যুঞ্জয় দাশও চান তার বোন ও ভাগ্নের হত্যাকারির শাস্তি হোক। তবে কিছুদিন আগেও অত্যন্ত সুখী পরিবারের নিতান্তই ধর্ম ভীরু মানুষটিকে একজন হন্তারক হিসেবে গড়ে তুলতে যিনি বা যারাই দায়ী তাদেরও যেন শাস্তি হয়।
প্রসঙ্গত, উপজেলার দক্ষিণ সলুয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ দাশ ফটিকের পুত্র দীপক দাশ (৪২) গত সোমবার গভীর রাতে তার স্ত্রী অনিমা দাশ (৩২) ও তার পুত্র সজিব দাশ (৮) কে ঘুমন্ত অবস্থায় হাসুয়া কাঁচি দিয়ে জবাই করে হত্যার পর সে নিজেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখায়। বর্তমানে সে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডে আসল কি রহস্য তা অনেকটা অন্ধকারে থাকলেও পুলিশ, এলাকাবাসী, ঘাতকের পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। ঘাতকের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সে শারীরিকভাবে অসুস্থ, তাকে বাংলাদেশ-কলকাতার বহু ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে সুস্থ হয়নি। তবে তাদের কথা সত্য হলে ঘটনার আগে কি করে সুচিন্তিত ভাবে নিহতদেরকে খাদ্যের সাথে চেতনাশক খাইয়ে ঘুমপাড়ায়? আর হত্যার পরে নিজেই বা কীটনাশক পানে নিজেকে শেষ করতে যাবে কেন? ইত্যাদি সব প্রশ্ন ঘূরপাক খাচ্ছে সাধারণ এলাকাবাসীর মনে।
পাইকগাছা থানার ওসি (তদন্ত) কাজী কামাল হোসেন অবশ্য এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে বলছেন, চেতনানাশক খাইয়ে হয়তোবা হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। তবে পোস্টমার্টেম রিপোর্ট আসলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে। ঘটনায় ঘাতকের শ্যালক মৃত্যুঞ্জয় দাশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ে করেন, মামলা নং-২০, তাং ০৮/০৪/১