10/04/2025
BIDA নিয়ে আপনি এই ইন্টারিম গভর্নমেন্ট আসার আগে এত হইচই দেখেছেন? সম্ভবত BIDA নামটাই অনেকে জানত না। BIDA-এর বর্তমান চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর আগে এই পদে ছিলেন লোকমান হোসেন মিয়া।
ওনার ব্যাপারে একটু খুঁজলাম। ২০২২ সালের জুন মাসে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অবসর থেকে তুলে এনে ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে তিন বছরের চুক্তিতে BIDA-এর চেয়ারম্যান বানানো হয়।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেন?
উত্তরটা খুবই সহজ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল আমলাদের লয়ালটির ওপর ভিত্তি করে একপ্রকার “গিফট” বা পুরস্কারের মতো। লোকমান হোসেন মিয়া তাঁর সার্ভিসকালে আওয়ামী লীগকে ভালোভাবে সেবা দিয়েছিলেন। তাই অবসরের পর তাঁকে এই পদটি উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন সরকারি প্রশাসনে। তাহলে তিনি কীভাবে BIDA-এর মতো একটি জায়গার জন্য উপযুক্ত হন? আসলে এই প্রশ্ন করার মতো লোক তখন ছিল না, করতও না। কারণ, সে সময় এটাই ছিল প্রথা—প্রশ্নহীন আনুগত্য আর পুরস্কারের বিনিময়।
ব্যাপারটা হলো, BIDA-এর কাজ বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উন্নয়নের জন্য তৈরি একটি সংস্থা। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে এটি ছিল অনেকটা অবসরপ্রাপ্ত আমলাদের জন্য “পোস্ট-রিটায়ারমেন্ট ভ্যাকেশন” এর আড্ডা।
আর কেনই বা তা হবে না?
শেখ হাসিনার আমলে সবাই তো দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে ব্যস্ত ছিল। কেউ কি দেশে টাকা আনার কথা ভেবেছে? আর ভাববে কেন? যাদের দায়িত্ব ছিল, তাদের সেই সক্ষমতা বা ইচ্ছা কোনোটাই ছিল না!
ভাই, টাকা মারা বা পাচার করা অনেক সহজ, কিন্তু টাকা আনা খুবই কঠিন। যারা সারাজীবন টাকা লুটপাট আর পাচারের ধান্দায় ছিল, তাদের দিয়ে কীভাবে একটা কার্যকর বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড চালাবেন?
যাই হোক, প্রথম প্রশ্নে ফিরে যাই। হইচই না দেখার উত্তর হচ্ছে—আগে হইচই হয়নি কারণ BIDA তখন তার কাজ ঠিকমতো করছিল না। কিন্তু এখন হইচই দেখছেন কারণ BIDA বর্তমানে সঠিকভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের ফান্ডিং দৃশ্যপটে সঠিকভাবে মার্কেটিং করছে।
দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি—দুই দিক দিয়েই বাংলাদেশকে তুলে ধরছে। অনেকদিন পর, বাংলাদেশকে সামনে রেখে নীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, BIDA-এর “ওয়ান স্টপ সার্ভিস” পোর্টাল এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য সেবা সহজ করছে, যা আগে কাগজপত্রের জঞ্জালে আটকে থাকত।
ধন্যবাদ BIDA-কে! এবং ধন্যবাদ বর্তমান প্রশাসনকে, যারা এই প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে চালাচ্ছে।
- মাইনুল হক মাহি