পাকিস্তান ইন্ডাট্রিয়াল ডেভেলাপমেন্ট কর্পোরেশন (পি.আই.ডি.সি)গাজীপুর জেলাধীন কালীগঞ্জ থানায় কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদার্ত্তী গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর কূল ঘেসে ১৯৫২ সালে এশিয়ার বৃহত্তর সুতার মিল(মসলিন কটন মিলস্)নামক শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। পরবর্তীতে মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাগণের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার কথা বিবেচনা করে ১৯৬১ সালে অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মসলিন কটন মিলস্ উচ্চ বিদ্যালয়)স
্থাপন করেন। তখন বিদ্যালয়ের কোন নিজস্ব ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে ওয়ার্কার্স ক্লাবে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। মিলের কর্মকর্তারা শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি মিল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়। মসলিন কটন মিলস্ নামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর, বিদ্যালয়টি সত্তরের দশকে জুনিয়র হাই স্কুলে উন্নীত হয় এবং ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যালয়টি নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমতি লাভ করে। ১৯৭২-৭৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথমবার ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে অনুষ্ঠিত এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে সন্তোষ জনক ফলাফল অর্জন করে।
১৯৭৪-১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত কৃতিত্বের সাথে বিদ্যালয়টি পরিচালিত হওয়ায় এর সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ ডিসেম্বরে মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মিল কর্তৃপক্ষ ও তৎকালীন সরকার বিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ না করায় ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ডিসেম্বর পর্যন্ত হৃদয়বান শিক্ষকমন্ডলী বিনা বেতনে ৪২ মাস বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং অব্যাহত ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন এবং নব্বই দশকে বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে। এর ধারাবাহিকতায় বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এমপিওভুক্তিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় তৎকালীন মসলিন কটন মিলস্ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব সুলতান উদ্দিন ভূঁইয়া বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ও শিক্ষক-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে এমপিওভুক্তিকরণ শর্তে বিদ্যালয়ের নামে নিঃশর্তভাবে ১ (এক) একর জমি সাব-কবলা রেজিষ্ট্রি করে দেন। ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়।