22/05/2024
ইহকালের দুঃখ-কষ্ট আর যন্ত্রণাগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলোকে বাদ দিয়ে জীবনের কথা ভাবা যায় না। ধৈর্য, তাওয়াক্কুল আর ঈমানের শক্তি দিয়ে এগুলোর মুখোমুখি হতে হয়। এখানে একেকজনের জীবনের দুঃখ কষ্ট একেক রকম। দুঃখ আর যন্ত্রণার ধরনগুলো যেমনই হোক না কেন, আমাদের বিশ্বাস করতে হবে কেবল আল্লাহ পারেন আমাদেরকে এই সমস্ত যাতনার হাত থেকে মুক্তি দিতে। দুঃখ কমানোর ক্ষমতা কেবল তার হাতেই। মানুষ বিপদে পড়লে চিৎকার চেচামেচি করে আস্ফালন করে। মনে হয়, এমন ঘটনা শুধু তার সাথেই ঘটেছে, এমন ভাষা ব্যবহার করে তাতে তার যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল নেই এটা স্পষ্ট দৃশ্যত হয়। সাদ্দামূল হাসান ড্যানি, ঢাকার মিরপুরে বসবাস করে। চেহারা সুন্দর, মহান আল্লাহ খুব নিপুণ করে তাকে তৈরি করেছেন। চেহারায় মায়া মিশ্রিত। খুব মিষ্টি করে কথা বলে, কিন্তু তার বিপদ যেনো পিছু ছাড়ে না। পদে পদে বিপদ তাকে জ্বালা-যন্ত্রণায় নিষ্পেষিত করে ফেলে। তারপরও তার চেহেরা দেখে বোঝার উপায় নেয় যে, সে এরকম চরম বিপদে আছে। তার বিপদের মাত্রা দেখে আমি নিজেই বিস্মিত আর চিন্তিত হয়ে পড়ি অথচ তার বদনে কোনো ধরনের কালিমা রেখা দেখা যায় না। মাঝে মাঝে তাকে আমি বেশ কিছু সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখতাম। মনে মনে যেনো কি বলে আকাশের দিকে তাকিয়ে। একদিন আমি সাদ্দামূল হাসান ড্যানিকে জিজ্ঞেস করলাম তুমি মাঝে মাঝে আকাশের দিকে বেশ কিছু সময় তাকিয়ে থাকো কেনো? সে বললো- আমি যখন বিপদে পড়ি তখন আল্লাহর সাথে কষ্ট গুলো শেয়ার করি। বিশ্বনবী (সা:)
# বিপদের সময় মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টগুলো আল্লাহকে বলতেন।
মহান আল্লাহ বলেন," মানুষ কি মনে করেছে যে,' আমরা ঈমান এনেছি '- এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেওয়া হবে?" (সূরা আনকাবূত-২)।
তিনি আরও বলেন," নিশ্চয় আমি তোমাদের পরীক্ষা করব ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে। আর, (হে রাসূল,) ধৈর্যশীলদের আপনি সুসংবাদ প্রদান করুন।" ( সূরা বাকারা-১৫৫)
সাদ্দামূল হাসান ড্যানি বললো- এগুলো জানার পরে আমার জীবন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। যদিও আমাদের উপর আরোপিত সকল দুঃখ আর দুর্দশাই কিন্তু পরীক্ষা নয়, অনেক সময় তা হয় আমাদের নিজের হাতের কামায় করা আযাব। নিজের গুণাহ, অবাধ্যতা ও উচ্ছৃঙ্খলতার ফল। কিন্তু, সেটাও কোনোভাবে আল্লাহর অযত্ন আর উদাসীনতা প্রমাণ করে না। অনেক সময় আমাদেরকে দুঃখ আর কষ্টের মধ্যে নিপতিত করে তিনি আখিরাতের বড় আর কঠিন আযাব থেকে আমাদেরকে হেফাজত করে ফেলেন। এটাও আল্লাহর বড়ত্ব, বান্দার প্রতি ভালোবাসা, দয়া আর রহমতের পরিচায়ক। ড্যানির মুখে এসব শুনে আমি আল্লাহর মহত্ব আর পরিকল্পনায় মুগ্ধ হলাম। হে আল্লাহ! আমরা না জেনে, না বুঝে কত অভিযোগের আঙুল তোমার দিকে তুলেছি। আল্লাহ তুমি মাফ করো, ক্ষমা করো। ড্যানি, আমার চোখ খুলে সচেতন করার জন্য শুকরিয়া। আজ থেকে নই কোনো অভিযোগ, নই কোনো হতাশা, আল্লাহ তুমি আমার রব, তুমি আমার ভরসা।
মো. আফজাল হোসেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।