06/07/2023
এডিস জ্বরে নাকাল মানুষ, অথচ চলছে যেন কাদা ছোড়াছুড়ি
আগের ভয়াবহতা ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা ডেঙ্গুর। হু হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও কোনো উদ্যোগেই দমানো যাচ্ছে না ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা। হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ।
একটু সচেতনতাই পারে আমাদের সুস্থ রাখতে।
এখন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। বৃষ্টির মৌসুম এটা।
ফলে ডেঙ্গু জ্বরের জীবানুবাহী এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র বাড়ছে। বিশেষ করে বৃষ্টিপাতের সময় মশার ডিম পাড়া ও প্রজননের জন্য খুবই উপযুক্ত।
বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে এ জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বছরের এ সময়ে ডেঙ্গুজ্বর দেখা দিচ্ছে।
ডেঙ্গুর মৌসুম শীতের আগ পর্যন্ত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এডিস মশা কখন কামড়ায়?
ডেঙ্গু জ্বর হয় এডিস মশার কারণে। আর এডিস মশা সকাল-সন্ধ্যায় কামড়ায়। ভোরে সূর্যোদয়ের আধঘণ্টার মধ্যে ও সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আধঘণ্টা আগে এডিস মশা কামড়াতে পছন্দ করে। তাই এই দুই সময়ে মশার কামড় থেকে সাবধান থাকতে হবে।
ডেঙ্গুর লক্ষণ
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। অন্য সব জ্বর, যেমন টাইফয়েড, সাধারণ জ্বর প্রভৃতির সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের মূল পার্থক্য হলো প্রথম দিন থেকেই প্রচন্ড জ্বর অনুভূত হবে (১০২-১০৩ ডিগ্রি); সঙ্গে তীব্র গা ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনের অংশে ব্যথা, দেহের পেছনের অংশে ব্যথা প্রভৃতি থাকবে। বমি হওয়া, খেতে না পারা এমনকি ক্লান্তি ভাবও হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শরীরেও র্যাশ উঠবে, দাঁত মাজার সময় রক্তও পড়তে পারে, কালো পায়খানা হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পেটে ব্যথা হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধঃ
ডেঙ্গু জ্বর হওয়ার কারণ এডিস মশা-এটা সবাই জানে। তাই মশাকে নিয়ন্ত্রণই হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ তথা তার প্রকোপ কমানোর প্রধান উপায়। মশার প্রজনন ক্ষেত্র বা ডিম পাড়ার স্থান যা-ই বলি না কেন, এগুলোকে ধ্বংস করতেই হবে। বড় বড় ভবনের আশপাশে, কোণায় কোণায়, ডাস্টবিন ও এর আশপাশের স্থান; এমনকি ঘরের পাতিল, বদনা এসব স্থানেও যেন চার-পাঁচ দিনের বেশি পানি জমে না থাকে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
১. এডিস মশা দিনের বেলা কামড়ায়। তাই দিনের বেলা ঘুমালে মশারি ব্যবহার করুন।
২. বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, অফিস-আদালতের আনাচ-কানাচে মশার স্প্রে বা ওষুধ ছিটাতে হবে যাতে এসব স্থানে কোনোভাবেই মশা আশ্রয় নিতে না পারে।
৩. ঘরের দরজা, জানালায় ও ভেন্টিলেটরে মশানিরোধক জাল ব্যবহার করুন।
৪. বাচ্চাদের স্কুলের ড্রেসে ফুলহাতা শার্ট, ফুলপ্যান্ট ও মোজা পরালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমানো সম্ভব।
৫. ঘর-বাড়ি ও এর চারপাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ক্যান, টিনের কৌটা, মাটির পাত্র, বোতল, নারকেলের মালা ও এ-জাতীয় পানি ধারণ করতে পারে এমন পাত্র ধ্বংস করে ফেলতে হবে, যেন পানি জমতে না পারে।
৬. গোসলখানায় বালতি, ড্রাম, প্লাস্টিক ও সিমেন্টের ট্যাংক কিংবা মাটির গর্তে পাঁচদিনের বেশি কোনো অবস্থাতেই পানি জমিয়ে রাখা যাবে না। পরিস্কার ও স্থবির পানিতে ডেঙ্গুর জীবানু বেশি জম্মায়।
৭. অব্যবহৃত গাড়ির টায়ারে যাতে পানি জমতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে।
৮. ফ্রিজের নিচে, এসির নিচে, ফুলের টবে ও মাটির পাত্রে সামান্য পানি জমে থাকলে তা-ও নিষ্কাশন করুন।
লিখেছেন - ডাঃ মহিউদ্দিন মাসুম
28/01/2023
09/07/2022
16/05/2022
02/05/2022
05/03/2022
05/03/2022