25/03/2026
হিন্দু মহাসভার সসস্ত্র উইং ছিল অনুশীলন৷ সেই অনুশীলনের সদস্য ছিল সূর্য সেন৷
হিন্দু মহাসভার উদ্দেশ্য ছিল - ভারত থেকে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের বের করে দেওয়া যা মোদি এখন করার চেষ্টা করছে৷ এই কারণে সূর্য সেন শুধু যে ব্রিটিশদের উপর হামলা চালিয়েছে তা নয়৷ সে ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহকে চিটাগং স্টেডিয়ামে এক ফুটবল ম্যাচের সময় গুলি করে হত্যা করে৷
সূর্য সেনের দলের সকলেই ছিল হিন্দু৷ গীতা ছুয়ে শপথ করে অনুশীলনের সদস্য হতে হত৷ কুন্দ প্রভা সেনগুপ্তা তাঁর বইতে লিখেছেন-দেশ সেবার দীক্ষা নেবার উদ্দেশ্যে সূর্য সেনের সাথে দেখা করলে, তিনি বললেন ‘পূজো করতে হবে বুকের রক্ত দিয়ে’।
এই পূজোর বিবরণ দিতে গিয়ে কুন্দ প্রভা সেনগুপ্তা লিখেছেন- আমি পিছু পিছু চললাম, কিছু দূর এগিয়ে একটা মন্দিরের কাছে দুজনই পৌঁছালাম। দরজা খোলাই ছিল। মাস্টারদা আর আমি ভিতরে ঢুকলাম। তারপর তিনি টর্চ জ্বালালেন। দেখলাম ভীষণ এক কালী মূর্তি। মাস্টারদা এক হাতে একটা ডেগার বের করে আমার হাতে দিলেন, বললেন ‘মায়ের সামনে বুকের রক্ত দিয়ে পূজো করো, ওখানে বেল পাতা আছে। বুকের মাঝখানে চামড়া টেনে একটুখানি কাটার সাথে সাথে কয়েক ফোটা রক্ত বের হলো। তা বেল পাতায় করে মাস্টার দা’র কাছে গেলাম। আমি মায়ের চরণে রক্ত আর মাথা রেখে প্রতিজ্ঞা করলাম (পৃ-১৪৩, কারা স্মৃতি)।
সূর্য সেন ছিল একজন উগ্র স*ন্ত্রাস ১৯২৩-এর ১৩ ডিসেম্বর টাইগার পাস সড়ক এর মোড়ে সূর্য সেনের স*ন্ত্রাস বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য দিবালোকে রেল শ্রমিকদের বেতন ১৭ হাজার টাকার বস্তা ছিনতাই করে। যার কারনে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করার পর রাগে খোবে সূর্য সেনের স*ন্ত্রাস বাহিনী কলকাতা পুলিশ কমিশনার টেগার্টকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম শহরে একপ্রান্তে বাটালি পাহাড় এলাকায় সরকারি রেলের টাকা লুণ্ঠন করে সূর্য সেন এর স*ন্ত্রাস বাহিনী।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে নিয়ে কি আমাদের গৌরব !
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছিলেন সূর্য সেনের ‘ যুগান্তর’ দলের সদস্যা। যে যুগান্তর দলটি সম্বন্ধে সৌরেন্দ্র মোহন গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘বাঙালীর রাষ্ট্রচিন্তা’ বইতে লিখেছেন, ‘ অনুশীলন ও ‘যুগান্তর’ এই দল দুটি তখন ছিল প্রধান সন্ত্রাসবাদী গুপ্ত দল ।’(পৃ : ২৬৩ )
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যখন দেখা গেল, যেখানে সেখানে ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ চলছে তখন অনেকেই বিবেকের তাড়নায় দল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। চিত্তরঞ্জন দাশ , প্রমথনাথ মিত্র , সরলা দেবী প্রভৃতি নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসেন।’ ( পৃ: ২৬২ )
বর্ণ হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ রোধ আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্মন্ধে ডঃ শ্রী আম্বেদকর তাঁর , ’Pakistan or partition of India’(p-110) লিখেছেন ‘বাঙালী হিন্দুদের বাংলা বিভাগের প্রধান কারন ছিল, পূর্ববঙ্গের বাঙালী মুসলমানরা যাতে যোগ্য স্থান না পেতে পারে সেই আকাঙ্খার দরুণ‘।
ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাব ইংরেজ সাহেবদের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র ছিল। ২৪শে সেপ্টেম্বর ১৯৩২ রাত ১০টার দিকে ২২বয়স বয়স্ক প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ৭জন সহযোগী নিয়ে পাহাড়তলী ইউরোপীয়ান ক্লাব রেড করেন। প্রীতিলতা শিখ যুবকের ছদ্মবেশ ধারণকরে ক্লাবঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে।তাদের চেষ্টায় বোমা ফাঁটে। চারদিক ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। অপ্রস্তুত ইংরেজ সাহেবরা ছোটাছুটি করতে থাকে। যার কাছে পিস্তল ছিল গুলি ছুঁড়তে থাকে। সেই গুলিতে আহত হয়ে প্রীতিলতা দরজার কোনায় লুকিয়ে পড়েন! এবং পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে সায়নায়েড পিল খেয়ে আত্মহত্যা করেন। সংক্ষেপে এটা হল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বীরত্বের কাহিনী। এর মধ্যে আমাদের ছেলে মেয়ে দের অনুপ্রেরনা খুঁজে নেবার কথা বলা হয়।
সূর্য সেন প্রীতিলতাদের রাজনীতির মূল কথাই তো ছিল, বঙ্গভঙ্গ রোধ। কারন বঙ্গভঙ্গ কার্য্যকর হলে, মুসলমান চাষাভুষারা লেখাপড়া শেখার সুযোগ পাবে। তারা হালচাষ ছেড়ে চেয়ারে বসে শাসনকার্য পরিচালনা করবে, তাদের আর শোষন করা যাবেনা। সুতরাং যেভাবেই হোক, বাংলা মায়ের অঙ্গব্যবচ্ছেদ রোধ করতেই হবে। এই ছিল সূর্য সেন প্রীতিলতা রাজনীতির মূল দর্শন। যারা বাংলার মুসলমানদের সবকিছু কেড়েনিয়ে নাঙ্গা ভূখা উলঙ্গ রাখতে চেয়েছিল, যারা মুসলমানদের স্বাধীন থাকাও কোনদিন পছ্ন্দ করে নাই, তারাই নাকি ‘আমাদের গৌরবের ইতিহাস।
আমাদের স্বাধীনতার জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের একটা স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন।আমাদের ইতিহাসে তেমন বীরের কি অভাব আছে?
আজ কোথায় ফকির বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ, মুসা শাহ, চেরাগ আলি , ফেরাগুল শাহ? কোথায় ফারায়েজী আন্দোলনের নায়ক, হাজী শরীয়তুল্লাহ , দুদু মিয়া , বাঁশের কেল্লা খ্যাত নিসার আলি তিতুমীর, সিপাহী বিল্পবের মহানায়ক বাহাদুর শাহ, মুন্সী মেহেরুল্লাহ, কাজী মিয়াজান, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের বীর হাবিলদার রজব আলি, একমাত্র বড়লাট লর্ড মেয়ো কে আন্দামান জেলের ভিতর ধরাশায়ী করার জানবাজ বীর শের আলি প্রমূখের নাম , কোথায় তাঁদের অসামান্য বীরত্ব গাথা ! সব চাপা দেয়া হয়েছে ! ইতিহাস থেকে মুছে দেয়া হচ্ছে তাদের নাম।
স্বাধীনতা লাভের ১৫ দিনের মধ্যে ভারতের বর্ণহিন্দু বুদ্ধিজীবীরা, এদেশের কিছু তাঁবেদার বশংবদ জুটিয়ে ‘ভারতীয় সংস্কৃতি ভবন’ এর সহায়তায় এদেশে গড়েতোলে ‘ ভারত বাংলাদেশ শিক্ষা সংস্কৃতি সংসদ’।দেশের বেশ কিছু তথাকথিত বুদ্ধিজীবী এই সংগঠনে চাকরী পেয়ে ধন্য হন। এই সংগঠনটিই ‘মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ’ নাম ধারণ করে, ভারতীয় অর্থে , প্রচার প্রপাগাণ্ডার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা এদেশের মুসলমানদের শিক্ষা সংস্কৃতির সাতন্ত্রের সব চিহ্ন মুছে দিয়ে, তাদের পরিচয়হীনতার বিভ্রান্তিতে ফেলে, বাংলাদেশের মানুষকে আজ্ঞাবহ দাসে পরিনত করেছে।
বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীন হয়েও পরাধীন।
জাতীয় কীব কাজী নজরুল ইসলামের হায়দরী হাঁকে ডাক দিয়ে কে বলবে, ‘ পশুর মত সংখ্যাগরিষ্ঠ হইয়া বাঁচিয়াই বা লাভ কি ‘? কে বলবে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়ুন ।- সংগৃহীত।