Al-Fiqh and Aqidah

  • Home
  • Al-Fiqh and Aqidah

Al-Fiqh and Aqidah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Al-Fiqh and Aqidah, Educational Research Center, .

19/04/2024

শামীম বিন আঃ জলিল এর দাবীর জবাব•

☘️ “কেউ যদি তোমাকে জিজ্ঞেস করে "আল্লাহ কোথায়?"তাকে জবাব দেও,
__"আল্লাহ আরশের উপরে"___
(সূরা আরাফ,আয়াত ৭)
(সূরা ত্বহা আয়াত: ৫)

☘️আবার যদি কেউ জিজ্ঞেস করে আরশ কোথায়?
তখন তাকে বলো,__আরশ আসমানের উপরে।আর আল্লাহও আসমানের উপরেই আছেন__
(সূরা মুলক: ৬৭, আয়াত: ১৬)

☘️তারপর যদি আবার জিজ্ঞেস করে, "আসমান সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহর আরশ কোথায় ছিল?
__" তাহলে তাকে বল, "পানির উপরে"।___
(সূরা হুদ:আয়াত ৭)

☘️তারপর যদি জিজ্ঞেস করে, "পানির পূর্বে আল্লাহর আরশ কোথায় ছিল?"তাহলে তাকে বল,
"আমি জানি না/আমার জানা নেই"___

____আর এখানেই মুমিন বান্দার জ্ঞানের পরিসমাপ্তি।কিন্তু শয়তানের জ্ঞান এখান থেকেই শুরু___

☘️কারন এরপরেও যদি সে তোমাকে আল্লাহর থাকার ব্যাপারে আরও প্রশ্ন করেন,তাহলে তুমি শয়তান হতে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও__জেনে নেও সে তোমাকে বিভ্রান্ত করতে এসেছে।

🟦আল্লাহর থাকার ব্যাপারে এর চাইতে বেশি কিছু কুরান এবং সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না।আর সে তোমাকে আল্লাহর থাকার বিষয়ে যা শুনাবে সব তার নিজস্ব চিন্তা গুলা শুনাবে।তার দাবী গুলা তোমার হইতো ভালো এবং যুক্তি সঙ্গত এবং খুব সুন্দর মনে হবে।তবে তুমি জেনে রাখো,তার এই দাবী এবং যুক্তি গুলার ব্যাপারে কুরান হাদিসে কিছুই পাওয়া যায় না।আমি বলছি তুমি মিলিয়ে দেখো।সে আরশের উপরে থাকাকেও স্বীকার করবেনা।এবং অস্বীকারও করবেনা।সে জানি কেমন তোমাকে বিভ্রান্ত্রির বেড়াজালে ফেলে কুরানের স্পষ্ট আয়াত গুলাকে অস্পষ্ট করবে।

🔹তবে যারা জ্ঞানী,যাদের আল্লাহর প্রতি তাকওয়া রয়েছে তারা এই বিষয়ে কুরান এবং হাদিসে যতটুকু এসেছে ততটুকুই বিশ্বাস করবে।

🔹আল্লাহ আসমানের উপরে আছেন এটা কুরানের কয়েকটা আয়াত এবং সহিহ মুসলিম সহ আরও কয়েকটা হাদিস থেকে সুস্পষ্ট ভাবে প্রমানীত হচ্ছে।

🔹অস্পষ্ট রয়েছে তিনি কিভাবে আছেন আসমানের উপরে বা আরশের উপরে।উত্তর একটাই এই ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের কিছু বলেনি তাই আমরা জানিও না।That's iT.....

🔹কারন মানব মস্তিষ্ক আল্লাহর ব্যাপারে সকল জ্ঞান ধারন করতে পারবেনা।আর আল্লাহ আমাদের সকল জ্ঞান জানান নি।তাই আমরা জানিনা।আল্লাহ যতটুকু জানিয়েছেন কুরান ও হাদিসে আমরা ততটুকুই জানি আর নিজস্ব ব্যাখ্যা ছাড়া ততটুকুই মানি।

🔹এই ক্ষেত্রে যদি রাসুলুল্লাহ (সা),সাহাবি আজমাইনদের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তা তালাশ করি এবং তাও মেনে চলি।

🔹কিন্তু কুরান এবং হাদিসে আল্লাহর আসমানের উপরে থাকার বিষয়টা সুস্পষ্ট তাই আমরা এটা অস্বীকার করতে পারিনা।

🔹তিনি আসমানের উপরেই আছেন, কিভাবে আছেন জানিনা।কারন আমার মস্তিষ্ক রবের ব্যাপারে সকল জ্ঞান ধারন করতে পারেনা।

☘️ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন,এরূপ বলার কারণ হচ্ছে-আল্লাহ তা'আলা বলেন,

___“তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত তার অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়ই কেউ আয়ত্ব করতে পারে না”
(সূরা বাক্বারাহ, আয়াত ২৫৫)__
অর্থাৎ যেটা বাইয়ান (স্পষ্ট) করেন নি তা ব্যতীত।”
(খলক্বু আফ'আলুল 'ইবাদ লিল বুখারী, ১/৩৭)

🟧সব শেষে যদি বুঝেন সে আপনাকে বিভ্রান্ত করছে তাহলে তাকে সহিহ মুসলিম এর হাদিসটি শুনিয়ে দিয়ে চলে জান That's enough for you___

🔸এটা তার জন্য এন্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ।

🔸আপনি বলবেন,আমি এর চাইতে বেশি কিছু জ্ঞান রাখিনা।দাসীর যেই জ্ঞানে সে মুমিনা হতে পেরেছে।আমিও সেই জ্ঞান রেখেই মুমিন হতে চাই।

🔸যদিও এই জ্ঞান আমার নাই আল্লাহ আসমানের উপরে বা আরশের উপরে কিভাবে আছেন?

🔸আর আমি জানতেও চাবো না,কারন আল্লাহ এবং তার রাসুলুল্লাহ (সা) এই ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেন নি।

🟧নিচের এই একটি হাদিসই তার জন্য যথেষ্ট যে ব্যক্তি,আল্লাহ আসমানের উপরে আছেন এটা মানতে নারাজ।

«أَيْنَ اللهُ؟» قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ
رَسُولُ اللهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ»
আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা) এক দাসীকে প্রশ্ন করলেন“আল্লাহ কোথায়? দাসী বলল: আসমানের উপরে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কে? দাসী বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: একে আজাদ (মুক্ত) করে দাও, কেননা সে একজন মুমিনা নারী।” (সহীহ মুসলিম: ১২২৭)

⬜আপনাকে আর কিভাবে বুঝাবো যে আমার আকিদা এটাই।আমার আকিদা স্পষ্ট করেছি কুরান এবং সুন্নাহ অনুযায়ী এবং সালাফদের বুঝ অনুযায়ী।এর চাইতে নতুন কি আছে আপনার কাছে যে আমার আকিদাকে বাতিল প্রমাণ করতে চান?আমাকে আপনি আর কি দিয়ে বুঝাবেন?আর কি দলিল দিয়ে আপনি আমাকে বিভ্রান্ত করবেন?

▫️যেখানে আপনি নিজেই উপরের দিকে তাকিয়ে আল্লাহকে স্নরন করেন,

▫️যেখানে আপনি নিজেই উপরের দিকে হাত তুলে দুয়া করেন,

▫️যেখানে আপনি নিজেই অন্যায় বা গোপন পাপ দেখলেই বলেন উপর ওয়ালা সব দেখতেছে,

▫️যেখানে আপনি নিজেই উপরের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর কাছে বলেন,হে আল্লাহ তুমি আমাদের ক্ষমা করো।

▫️যখানে আপনি নিজেই শাহাদাত আঙ্গুল উঠিতে আল্লাহর উপরের থাকার ব্যাপারে সাক্ষ্য দেন।

▫️সেখানে কিভাবে আমার আকিদাকে আপনি রদ করেন ভাই?

🔺আল্লাহ উপরে আছেন এই ব্যাপারে এত কিছু স্পষ্ট হওয়ার পড়েও আর কিভাবে আপনি আমাকে বিভ্রান্ত করবেন ভাই?

🔻আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক।আপনি যদি এই চিন্তা ধারার বাহিরে আমাকে আর নতুন কোনো চিন্তা ধারার দিকে ডাকেন তাহলে বুঝে নিবেন আপনি নিজের উপর নিজেই আল্লাহর লানত ডেকে আনছেন।

🔶আর আমি নিজেই বা কি করে এত সুন্দর আকিদা ছেড়ে যাব।যেখানে আমি কুরান এবং হাদিস হতে আল্লাহ অস্তিত্বের ব্যাপারে জ্ঞান লাভ করেছি।

🔷আল্লাহ আপনাকে সালাফদের মানহাজ বুঝার তৌফিক দান করুন সেই দুয়া করি।

আল-আফলাকী বলেন: “শামস তাবরিজীর (যিনি জালালুদ্দীন রুমীর মা’শুক ছিলেন) কিমিয়া খাতুন নামে একজন স্ত্রী ছিল। একদা শামসের উপর...
02/04/2024

আল-আফলাকী বলেন: “শামস তাবরিজীর (যিনি জালালুদ্দীন রুমীর মা’শুক ছিলেন) কিমিয়া খাতুন নামে একজন স্ত্রী ছিল। একদা শামসের উপর তার স্ত্রী রাগ করল এবং সে অবস্থায় মারাম নামক বাগানে চলে গেল।
তারপর মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী শামসুদ্দীন তাবরিজীর জন্য নিজের মাদরাসার মহিলাদের তাকে খুঁজে নিয়ে আসার আদেশ করেন।

যখন মহিলারা তাকে (কিমিয়া খাতুনকে) খোঁজার জন্য বের হয়ে গেলো তখন মাওলানা রুমী শামসুদ্দীনের বিলাসবহুল তাবুতে প্রবেশ করে দেখতে পান যে, শামসুদ্দীন তার স্ত্রী কিমিয়া খাতুনকে আদর করছে এবং কথা বলছে।

এমতাবস্থায় জালালুদ্দীন রুমী বিভ্রান্ত হলেন এবং দম্পতিকে তাদের ঐ অবস্থায় রেখে বেরিয়ে গেলেন। যতক্ষণ পর্যন্তনা শামসুদ্দীন তাকে ডাকছে, ততক্ষণ তিনি মাদরাসার আঙ্গীনায় আসা যাওয়া করতে থাকেন: অতপর শামসুদ্দীন তাকে বলল, ভেতরে আসুন। তিনি তাবুতে প্রবেশ করে ভেতরে শামসুদ্দীন তাবরিজীকে ছাড়া আর কাউকে সেখানে দেখতে পেলেন না।

এ দৃশ্য দেখে তিনি শামসুদ্দীনকে এর রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, বললেন: কিমিয়া খাতুন কোথায় গেলো? তখন শামসুদ্দীন বলল: সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাকে এত পরিমাণে ভালবাসেন যে, আমি যেই সুরতে তাঁকে চাই তিনি সেই সুরতে আমার কাছে আসেন! এই বিশেষ মুহুর্তে তিনি কিমিয়া খাতুনের চেহারায় কাছে এসেছিলেন”! আল-আফলাকী ২/২১৪

প্রিয় পাঠক, আপনারা বুঝতে পেরেছেন যে, সে কতবড় নিকৃষ্ট কথা আল্লাহ সম্পর্কে বলেছে?
জালালুদ্দীন তাবুতে প্রবেশ করে উভয়কে নাকি রোমান্টিক মুহুর্তে দেখেছে! শামস তাবরিজীর ভাষায় ২য় জন স্বয়ং আল্লাহ!!

- তারা যা আরোপ করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্ৰ, মহান— [সূরাঃ আস-সাফফাত ১৫৯]
এসব নিকৃষ্ট মানুষ আসলেই আল্লাহ তাআলাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে পারেনি, এদের সম্পর্কে তিনি বলেন:
وَ مَا قَدَرُوا اللّٰهَ حَقَّ قَدۡرِهٖ ٭ۖ وَ الۡاَرۡضُ جَمِیۡعًا قَبۡضَتُهٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَ السَّمٰوٰتُ مَطۡوِیّٰتٌۢ بِیَمِیۡنِهٖ ؕ سُبۡحٰنَهٗ وَ تَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ
আর তারা আল্লাহকে যথোচিত সম্মান করেনি অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের ঊর্ধ্বে। - [সুরা আয-যুমার ৬৭]

“অহংকার তাঁর চাঁদর এবং বড়ত্ব তাঁর লুঙ্গী’এর ব্যাখ্যাপ্রশ্ন: হাদিসের অর্থ: (অহংকার তাঁর চাঁদর এবং সম্মান তাঁর লুঙ্গী) আল্...
02/03/2024

“অহংকার তাঁর চাঁদর এবং বড়ত্ব তাঁর লুঙ্গী’
এর ব্যাখ্যা
প্রশ্ন:
হাদিসের অর্থ: (অহংকার তাঁর চাঁদর এবং সম্মান তাঁর লুঙ্গী) আল্লাহ তা‘আলার কি চাদর এবং লুঙ্গী রয়েছে?
উত্তর:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য;
আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর (আল্লাহর) লুঙ্গী এবং অহংকার তাঁর চাঁদর। যে ব্যক্তি এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে ঝগড়ায় অবতীর্ণ হবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দিব। [মুসলিম: ২৬২০]
আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘‌আলা বলেছেন: “অহংকার আমার চাদর এবং বড়ত্ব আমার লুঙ্গী” সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। [আবু দাউদ: ৪০৯০]
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার সিফাত তথা গুণ হল: অহংকার ও বড়ত্ব।
আর, চাদর এবং লুঙ্গী তাঁর সিফাত নয় বরং এটা দ্বারা উদ্দেশ্য যে তিনি উক্ত বড়ত্ব ও অহংকারের গুণে গুণান্বিত। কোনো ব্যক্তি যেন এর একটি নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঝগড়ায় অবতীর্ণ না হয়। যেমনিভাবে লুঙ্গি এবং জামা উভয়টি পোষাকের জন্য নির্দিষ্ট, যার ব্যাপারে কেউ বিতর্ক করে না।
এছাড়াও, কিবরিয়া তথা অহংকার একটি পর্দা যা আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলাকে দেখতে বাধা দেয়, ঠিক যেমনিভাবে পোশাক বাধা দেয় তা দেখা থেকে যা চাদরে দিয়ে আবৃত রাখা হয়।

অনুরূপ ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যা আবু বকর ইবন আব্দুল্লাহ ইবন কায়স হতে বর্ণিত, তিনি বলেন; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (জান্নাতে) দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু রূপার তৈরি হবে। (জান্নাতে) আরও দুটি উদ্যান থাকবে। এই দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু সোনার তৈরি হবে। জান্নাতে-আদনের মধ্যে জান্নাতবাসীরা তাদের রবকে দেখবে। জান্নাতবাসী এবং তাদের রবের এই দর্শনের মাঝে আল্লাহ তা‘আলার চেহারার উপর অহংকার তথা বড়ত্বের চাদর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। [মুসলিম: ১৮০]

এ বিষয়ে বিভিন্ন আহলে ইলম তথা জ্ঞানীদের কিছু বাণী;
১। ইমাম খাত্তাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন; উক্ত কথা দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, “অহংকার ও বড়ত্ব” আল্লাহ তা‘আলার সিফাত। যা একমাত্র তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট। সুতরাং উক্ত গুণ-দুটিকে গ্রহণ করা কোনো মাখলুকের জন্য কখনোই উচিত না। কারণ মাখলুকের গুণ হল বিনয়, নম্রতা অবলম্বন করা এবং আল্লাহর কাছে অবনত হওয়া।
(হাদিসে কুদসিতে) আল্লাহ তা‘আলা উদাহরণ পেশ করতে গিয়ে পোষাকের কথা উল্লেখ করেছেন এ জন্য যে, মানুষ যেমন তার লুঙ্গি, জামার সাথে কাউকে শরীক করে না। তেমনি তাঁর গুণাবলীর সাথে কোন মাখলুকের শরীক নেই। আল্লাহু আ‘লাম

২। শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন; ফখরুদ্দীন আর-রাযী (আল্লাহর গুণ সাব্যস্ত করার ওপর আপত্তি করে) বলেছেন: নবম কারণ হচ্ছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অহংকার আমার চাদর এবং ইয্যত সম্মান আমার লুঙ্গী”। আর জ্ঞানী ব্যক্তি কখনো আল্লাহর জন্য চাদর এবং লুঙ্গী সাব্যস্ত করতে পারে না।
ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ উত্তরে বলেন, তাকে বলা হবে যে, উক্ত হাদিসটি বিশুদ্ধ যা ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: “অহংকার আমার চাদর এবং বড়ত্ব আমার লুঙ্গী। সুতরাং যে এর কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি শাস্তি দিব।”

বস্তুত উক্ত হাদিস দ্বারা এটা বুঝায় না যে, আল্লাহ তা‘আলার জন্য লুঙ্গী এবং চাদর রয়েছে যেমনটা মানুষ পরিধান করে থাকে, যা কিনা চামড়া, তুলা বা সুতা নির্মিত। বরং উক্ত হাদিসই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে যে, মানুষের পরিধেয় বস্ত্রের মত তাঁর চাদর বা লুঙ্গী নয়।
কেননা, যদি কোনো মানুষ বলে, ‘অহংকার আমার চাদর, ইয্যত আমার লুঙ্গী’; তাহলে তার কথা দ্বারা অন্য মানুষ এটাই বুঝবে যে, লোকটি তার গৌরব এবং ইজ্জতের জানান দিচ্ছে। তার ঐ চাদর এবং লুঙ্গী চামড়া, তুলা বা সুতা নির্মিত নয়। বরং গৌরব এবং ইয্যতই হলো তার চাদর এবং লুঙ্গী। এটাই এ লোকের বক্তব্যের সঠিক ও প্রকাশ্য অর্থ।
তাই যখন উক্ত বাতিল অর্থটি মানুষের গুণ হিসেবেও সে ব্যক্তির দিকে সম্পৃক্ত করা যায় না (এ কারণে যে শব্দের বিন্যাস তা করতে বাধা দেয়, বরং শব্দের বিন্যাস, পূর্বাপর বর্ণনা সেটির সঠিক অর্থ প্রকাশ করে) তখন কীভাবে এটা দাবী করা যাবে যে, উক্ত বাতিল অর্থটি শব্দের প্রকাশ্য অর্থ হিসেবে আল্লাহ তা‘আলার শানে প্রয়োগ হবে?? অথচ প্রতিটি মানুষ তথা যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে তারা জানে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় পরিহিত আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানান দেননি। যা কিনা গরম, শীত বা লজ্জাস্থান ঢাকার জন্য প্রয়োজন হয়ে থাকে।
এ ধরনের দাবী ঐ কথা থেকেও নিকৃষ্ট, যারা দাবি করে যে “খালিদ ইবন ওয়ালীদ রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু আল্লাহ তা‘আলার তরবারীর মধ্য থেকে একটা তরবারী, যা আল্লাহ তা‘আলা কোষমুক্ত করেছেন মুশরিকদের ওপর” এর যাহের বা প্রকাশ্য অর্থ হচ্ছে, খালিদ ইবন ওলীদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোহার তৈরী!
অনুরূপ; তাদের এ দাবী এ কথা থেকেও মন্দ, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আবু ত্বালহার ) ঘোড়ার ব্যাপারে বলেছেন, “ঘোড়াটি তো দেখছি সমুদ্রবৎ” এখানে শব্দের যাহের বা প্রকাশ্য অর্থ, ঘোড়ার মধ্যে অনেক পানি রয়েছে। এমন বহু উদাহরণ রয়েছে!!
সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে, বাতিল অর্থ কখনো হাদীসের প্রকাশ্য অর্থ হতে পারে না। বরং হাদীসের ভাষ্য স্বয়ং বাতিল অর্থ গ্রহণকে নিষেধ করে।.. অবশেষে ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘অহংকার ও বড়ত্ব’ এ দু’টি কেবল রাব্বুল আলামীন এর জন্যই উপযোগী, যিনি পালনকারী, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, অভাবমুক্ত, অমুখাপেক্ষী, সর্বসত্তার রক্ষক। এ গুণ দু’টি বান্দা, সৃষ্ট, অভাবী, মুখাপেক্ষী কারও জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না।
আর তাঁর অহংকার গুণটা তাঁর মহত্ব গুণের চেয়ে বড়, যেমনিভাবে তিনি অহঙ্কারকে চাদর আর মহত্বকে লুঙ্গী বলে ব্যক্ত করেছেন।
এ দু’টি [অহংকার ও বড়ত্ব] গুণ আল্লাহ তা‘‌আলা ব্যতিত অন্য কারো জন্য উপযোগী নয়। সুতরাং উক্ত গুণ দু’টি ছাড়া তাঁর সত্তার অস্তিত্ব অসম্ভব, এমনভাবে যে, যদি তাঁর সত্তাকে ঐ দু’টি গুণ শুন্য স্থির করা হয় তবে আল্লাহ তা‘আলার সত্তায় ভয়াবহ নিষিদ্ধ দোষ-ত্রুটি, কমতি আপতিত হওয়া আবশ্যক হয়ে যাবে। সুতরাং এ দু’টি গুণ তাঁর সত্তার জন্য এমনিভাবে আবশ্যক এবং তাঁর সত্তার পূর্ণতার জন্য এতই বাঞ্ছনীয় যে, কোনোভাবেই সত্তাকে তা থেকে মুক্ত কিংবা শূণ্য করা যাবে না। যেমনিভাবে কোনো ব্যক্তি যদি কাপড় থেকে মুক্ত হয়ে যায় তবে অবস্থা অনুযায়ী তার ওপর দোষ-ত্রুটি ও অপূর্ণতা অর্জিত হবে; যা বাধ্য করে যে, তার একটি পোষাক থাকবে।
তাছাড়া, কাপড় সাধারণত পরিধানকারীর ভিতর দেখা এবং স্পর্শ করা হতে অপরকে বাধা দেয়। আল্লাহ তা‘আলার অহংকার ও বড়ত্ব বান্দা কর্তৃক তাকে চাক্ষুষভাবে আয়ত্ব করা ও অনুরূপ কিছু থেকে বাধা প্রদান করে। এমনটিই বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে, যা ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ আবু মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; জান্নাতুল ফিরদাউস হলো চারটি: “দু’টি হবে স্বর্ণের: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু স্বর্ণের (তৈরী হবে)। এবং আরো দু’টি থাকবে রূপার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু (রৌপ্য নির্মিত হবে)। জান্নাতু আদনে এর অধিবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শনের মাঝে আল্লাহর তা‘আলার চেহারার ওপর তাঁর (কিবরিয়া) অহংকারের চাদর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।
আর এটাই সে আড়ালকারী চাদর, যা তিনি তাদের (জান্নাতীদের) জন্য উন্মোচন করে দিবেন অতঃপর তারা তাঁর দিকে তাকাবে। এজন্য তিনি অহংকারের চাদর নামে নামকরণ করেছেন। তাহলে সেটার ব্যাপারে কী ধারণা, যা তাঁকে আয়ত্ব ও পূর্ণরূপে ধারণ করতে বাধা প্রদান করে??! এটাই কি অহংকার গুণে হওয়ার বেশি যোগ্য নয়?

ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি (ফাতাওয়া আল-লাজনাহ্ আদ-দা’ইমাহ)’র ফতোয়ায় এসেছে:

প্রশ্ন; আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, যা ইমাম মুসলিম রহিমাহুল্লাহ’র নিকট মারফু‘ সূত্রে এসেছে, “অহংকার আমার চাদর, বড়ত্ব আমার লুঙ্গী, সুতরাং যে ব্যক্তি এর কোন একটি নিয়ে আমার সাথে কাড়াকাড়ি করবে তাকে আমি জাহান্নামে নিক্ষেপ করব”।
তাহলে কীভাবে আমাদের জন্য এই হাদিসটি বুঝা উচিত হবে? স্বাভাবিকভাবে আল্লাহ তা‘আলার দিকে “লুঙ্গী এবং চাদর” সম্বন্ধ করা বৈধ হবে, নাকি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন?

উত্তর: ইমাম খাত্তাবী রহিমাহুল্লাহ তাঁর ব্যাখ্যা গ্রন্থ সুনানে আবী দাউদে বলেছেন; হাদিসের অর্থ; অবশ্যই “অহংকার ও বড়ত্ব” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার দু’টি গুণ যা একান্তই তাঁর নিজস্ব, কারো সাথে গুণ দু’টির অংশিদারিত্ব নেই। উক্ত গুণ-দুটিকে গ্রহণ করা কোনো মাখলুকের জন্য কখনোই উচিত না। কারণ মাখলুকের গুণ হল বিনয়, নম্রতা অবলম্বন ও অবনত হওয়া। এটা বুঝানোর জন্যই “লুঙ্গী এবং চাদরের” উদাহরণ দিয়েছেন এ জন্য যে, মানুষ যেমন তার লুঙ্গি, জামার সাথে কাউকে শরীক করে না। অনুরূপ অহংকার ও বড়ত্বে আমার সাথে কোনো মাখুলুকের শরীক নেই। আল্লাহু আ‘লাম।

আল্লাহ তা‘আলার নিকটই একমাত্র তাওফিক, সলাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের উপর।
ইলমী গবেষণা ও ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটি;
বকর আবু যায়েদ... সালিহ‘ আল-ফাওযান... ‘আব্দুল্লাহ ইবন গুদাইয়্যান... ‘আব্দুল আযীয আ’ল আশ-শাইখ...‘ আব্দুল আযীয ইবন ‘আব্দুল্লাহ ইবন বায।

অনুরূপভাবে, আশ-শাইখ ‘আব্দুল মুহসিন আল-‘আব্বাদ’ হাফিযাহুল্লাহ’র নিকট প্রশ্ন করা হলো;
“হাদিসে কুদসী’তে এসেছে”; “বড়ত্ব আমার লুঙ্গী এবং অহংকার আমার চাদর”, লুঙ্গী এবং চাদর আল্লাহ তা‘আলার গুণ সাব্যস্তের জন্য এই হাদিস দলিল হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে?
অত:পর তিনি উত্তরে বলেন;
না,,.. এটা প্রমাণ করে না যে, লুঙ্গী এবং চাদর আল্লাহ তা‘আলার গুণ। বরং এ দুটি দ্বারা অহংকার এবং বড়ত্ব গুণ আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট হওয়াকে শক্তিশালী করে। অর্থাৎ; উদাহরণস্বরূপ মানুষ লুঙ্গী এবং চাদর ব্যবহার করে, আর আল্লাহ ত‘আলা “অহংকার ও বড়ত্ব” গুণে গুণান্বিত এবং এই দু’টি গুণই তাঁর চাদর এবং লুঙ্গী। কিন্তু এটা বলা যাবে না যে, চাদর এবং লুঙ্গী আল্লাহ তা‘আলার সিফাত তথা গুণের মধ্য থেকে দু’টি গুণ। বরং বলা হবে, “বড়ত্ব ও অহংকার” তাঁর ‘লুঙ্গী’ ও ‘চাদর’।
আর এটি আনসারদের সম্পর্কে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তারই অনুরূপ; তিনি বলেছিলেন, “আনসারগণ হচ্ছে (নবীর) ভিতরের পোশাক (যে পোষাক শরীরের সাথে লেগে থাকে) আর অন্যান্য লোক হচ্ছে উপরের পোশাক” , যার অর্থ; তাঁরা ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’এর অধিক নিকটতম। তাঁরা তাঁর আনুগত্যে এমন ভাবে লেগে থাকত যেমনটা ভিতরের পোষাক শরীরের সাথে লেগে থাকে। আর সাধারণ মানুষ যারা তার পিছে থাকত তাদের উপমা হলো কাপড়ের মত।
সুতরাং এখানে শুধুমাত্র সাদৃশ্যই উদ্দেশ্য, এটা উদ্দেশ্য নয় যে, আল্লাহ তা‘আলার লুঙ্গী ও চাদর রয়েছে যা তাঁর সিফাত বা গুণ। “অহংকার ও বড়ত্ব” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলার দু’টি গুণ যা একান্তই তাঁর নিজস্ব, কারো সাথে গুণ দু’টির অংশিদারিত্ব নেই। তাই একথা বলা কখনোই জায়েয হবে না যে, লুঙ্গী ও চাদর তাঁর সিফাত।

পরিশেষে, উপরোক্ত আলোচনার ফলে এটাই বুঝতে পারি যে, অহংকার ও বড়ত্ব একমাত্র তাঁরই মহান দু’টি গুণ, সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা। কোনো মানুষের জন্য কখনোই বৈধ হবে না একথা বলা যে, তিনি উক্ত গুণ দু’টিতে পরবর্তীতে সম্পৃক্ত হয়েছেন, যা কিনা আগে ছিল না।
বস্তুত উক্ত হাদিসে আলোচিত শব্দ “লুঙ্গী এবং চাদর” দুটিকে তাঁর জন্য “অহঙ্কার” ও “বড়ত্ব” গুণাবলী দু’টি বিশেষভাবে নির্দিষ্টকরণের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। আরো নিয়ে আসা হয়েছে এটা বুঝানোর জন্য যে, অহংকারের চাদর তাঁকে দেখা হতে বাধা হয়ে আছে।
আল্লাহ তা‘আলা ভাল জানেন।
-------------------------------
1. মা‘আলিমুস সুনান: ৪/১৯৬
2. বরং এটি বাতিল অর্থ বলে পরিগণিত হবে। কারণ প্রকাশ্য অর্থ নির্ধারিত হয় শব্দের ব্যবহার বিধি, অগ্র-পশ্চাত বিবেচনায়।
3. আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, একদা মদীনায় (বিকট শব্দ হলে) ভীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুর মানদূৰ নামের ঘোড়াটি ধার নিয়ে তাতে চড়ে সেদিকে গেলেন। অতঃপর ফিরে এসে বলেন, তেমন কিছু তো দেখলাম না। আর ঘোড়াটি তো দেখছি সমুদ্রবৎ (দ্রুতগামী)। [বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ]
4.অর্থাৎ এটি তখন বাতিল অর্থ হবে, যাহির বা প্রকাশ্য অর্থ নয়।
5.বায়ানু তালবীছিল জাহমীয়্যাহ্ [৬/২৭০-২৭৭]
6. ফাতাওয়া আল-লাজনাহ [২/৩৯৯]
7. আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু আসিম রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুনাইনের দিবসে আল্লাহ যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গনীমতের সম্পদ দান করলেন তখন তিনি ঐগুলো সেসব মানুষের মধ্যে বন্টন করে দিলেন যাদের হৃদয়কে ঈমানের উপর সুদৃঢ় করার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেছিলেন। আর আনসারগণকে কিছুই দিলেন না। ফলে তারা যেন নাখোশ হয়ে গেলেন। কেননা অন্যেরা যা পেয়েছে তারা তা পাননি। অথবা তিনি বলেছেন, তাঁরা যেন দুঃখিত হয়ে গেলেন। কেননা অন্যেরা যা পেয়েছে তারা তা পাননি। কাজেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে আনসারগণ! আমি কি আমাদেরকে পথভ্রষ্ট পাইনি, অতঃপর আল্লাহ আমার দ্বারা আমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন? তোমরা ছিলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে আমাদের পরস্পরকে জুড়ে দিয়েছেন। তোমরা ছিলে দরিদ্র, অতঃপর আল্লাহ আমার মাধ্যমে আমাদেরকে অভাবমুক্ত করেছেন। এভাবে যখনই তিনি কোন কথা বলেছেন তখন আনসারগণ জবাবে বলেছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহসানকারী।
তিনি বললেন, আল্লাহর রসূলের জবাব দিতে আমাদেরকে বাধা দিচ্ছে কিসে? তারা তখনও তিনি যা কিছু বলছেন তার উত্তরে বলে যাচ্ছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই আমাদের উপর অধিক ইহসানকারী। তিনি বললেন, তোমরা ইচ্ছে করলে বলতে পার যে, আপনি আমাদের কাছে এমন এমন (সংকটময়) সময়ে এসেছিলেন কিন্তু তোমরা কি এ কথায় সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোক বকরী ও উট নিয়ে ফিরে যাবে আর তোমরা তোমাদের বাড়ি ফিরে যাবে আল্লাহর নবীকে সাথে নিয়ে। যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে হিজরত করানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত না থাকত তা হলে আমি আনসারদের মধ্যকারই একজন থাকতাম। যদি লোকজন কোনো উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়ে চলে তা হলে আমি আনসারদের উপত্যকা ও গিরিপথ দিয়েই চলব। আনসারগণ হচ্ছে (আমার) ভিতরের পোশাক আর অন্যান্য লোক হচ্ছে উপরের পোশাক। আমার বিদায়ের পর অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে অন্যদের অগ্রাধিকার। তখন ধৈর্য ধারণ করবে (দীনের উপর টিকে থাকবে) যে পর্যন্ত না তোমরা হাউজে কাউসারে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করছ। [৭২৪৫; মুসলিম ১২/৪৬, হাঃ ১০৬১, আহমাদ ১৬৪৭০]

তথ্য অনুবাদ: শাইখ খালিদ আব্দুল্লাহ আল-মাদানী
সম্পাদনা: প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

03/02/2024

হাদীসের মর্যাদা ও হাদীস অমান্য করার পরিণতি-২
➖️➖️➖️🔹️🔰🔹️➖️➖️➖️
মজলুম ইমাম বুখারী এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে হাদীস লেখার প্রচলন:

হাদীছের অস্বীকারকারীরা ইমাম বুখারী (রহঃ)এর উপর সবচেয়ে বেশী আক্রমণ করে। বলে যে, তিনিই নাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর মৃত্যুর ২০০/৩০০ বছর পর সবার আগে হাদীছ লিখেছেন এবং মিথ্যা ছড়িয়েছেন! কি দুঃখজনক আশ্চর্য ধরণের মূর্খতা! সত্যিই আপনি মাজলুম হে ইমাম বুখারী! তাতে কি? ওরা তো আপনার পূর্বে নবী-রাসূলদেরকেও মিথ্যাবাদী বলতে ছাড়ে নি, আপনাকে তো বলবেই।

فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ جَاءُوا بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتَابِ الْمُنِيرِ

“তাছাড়া এরা যদি তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তোমার পূর্বেও এরা এমন বহু নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যারা নিদর্শন সমূহ নিয়ে এসেছিলেন এবং এনেছিলেন সহীফা ও প্রদীপ্ত গ্রন্থ। (সূরা আলে ইমরান: ১৮৪)
যে ইমাম বুখারী হাদীছ সংকলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন, বিশুদ্ধ হাদীছ সংগ্রহ করতে সবচেয়ে বেশী পরিশ্রম করেছেন। সেই ইমাম বুখারী (রহঃ) আজ মিথ্যা অপবাদে আক্রান্ত। ইসলামের শত্রুরা এরূপই বলে থাকে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে হাদীস লেখার প্রচলন:
আমি এখানে উল্লেখ করব যে ইমাম বুখারীই সর্বপ্রথম হাদীছ সংকলন করেননি বা লিপিবদ্ধ করেন নি; বরং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর যুগেই কিছু কিছু হাদীছ লিপিবদ্ধ শুরু হয়েছিল। যেমনটি তিনি নিজেই হাদীছ সংরক্ষণ করার তাগিদও দিয়েছিলেন।
তিনি বিদায় হজ্জে ভাষণ দেয়ার পর বলেছিলেন, আমার এই কথাগুলো যারা উপস্থিত তারা অনুপস্থিত লোকদের নিকট যেন পৌঁছে দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)

জুবাইর বিন মুততেম (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে, মিনার মসজিদে খায়ফে আমাদের সম্মুখে বক্তব্য রাখলেন। তিনি বললেন:

مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لا فِقْهَ لَهُ ، وَرُبُّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ

“আল্লাহ সেই বান্দাকে উজ্জ্বলতা দান করুন, ‍যে আমার কথা শুনেছে, মুখস্থ করেছে ও ধারণ করে রেখেছে। অতঃপর যারা তা শুনে নি তাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। কেননা কতক জ্ঞান বহনকারী, নিজে জ্ঞানী নয়। আর কতক জ্ঞান বহনকারী ব্যক্তি তার চেয়ে বেশী জ্ঞানীর নিকট তা পৌঁছিয়ে থাকে।” (ত্বাবরানী)

১) আবু হুরাইরা (রা:) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাহাবীদের মধ্যে আমার চেয়ে বেশী কেউ হাদীছ বর্ণনা করেন নি। তবে আবদুল্লাহ বিন আমরের কথা ভিন্ন। কারণ তিনি হাদীছ লিখে রাখতেন, আর আমি লিখতাম না। (সহীহ্ বুখারী, ১/১৯৩)
২) রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা বিজয়ের পর একটি ভাষণ দিলেন এবং মুসলিম জাতির জন্যে কিছু বিধি-বিধান আলোচনা করলেন। তাঁর ভাষণ শেষ হলে আবু শাহ্ নামে জনৈক ব্যক্তি যে ইয়েমেনে থেকে এসেছিল বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এগুলো লিখে দিন। তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, اكْتُبُوا لِأَبِي شَاهٍ তোমরা আবু শাহকে হাদীছ লিখে দাও।(বুখারী ৮/২৯৩, হা/২২৫৪)
৩) আবু জুহাইফা বলেন, আমি আলী (রা:)কে প্রশ্ন করলাম, আল্লাহর কিতাব ব্যতীত কোন কিতাব কি আপনাদের নিকট আছে? তিনি বললেন, আল্লাহর কিতাব ব্যতীত কোন কিতাব আমার নিকট নেই। তবে আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান যা কোন মুসলমানকে আল্লাহ দিয়েছে এবং এই সহীফা (দফতর)এর ভিতর যা লিখা আছে। আমি বললাম, সহীফাতে কি লিখা আছে? তিনি বললেন, রক্তপণ, বন্দী মুক্তির নিয়ম, আরও লিখা আছে, কাফেরকে হত্যা করার কারণে মুসলিমকে হত্যা করা যাবে না।
৪) বুখারীর অন্য বর্ণনায় আলী (রা:) থেকে আরও উল্লেখ আছে, সহীফাতে আরও লিখা আছে কেউ কাউকে জখম করলে তার বিচার কি পন্থায় করতে হবে, উটের বয়স কত হলে যাকাত দিতে হবে, মদীনা শরীফের হারাম এলাকার সীমানা কতদূর? কোন মুসলমান যদি কাউকে নিরাপত্তা দেয় তার বিধান কি? আর ঐ নিরাপত্তা লঙ্ঘন করলে তার করণীয় কি? ইত্যাদি। (দীর্ঘতার ভয়ে পূরা হাদীছটি উল্লেখ করলাম না) (দ্রঃ বুখারী ১/১৯১,হা/১০৮ ও ১০/৪৩৪ হা/২৯৩৬ হাদীছটি আরও বর্ণনা করেছেন ইমাম মুসলিম, হা/১৩৭০। ইমাম আহম)
৫) ইমাম আহমাদ এবং হাকেম আরও বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রা:)এর নিকট একটি কিতাব ছিল, যা তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট থেকে লিখে রেখেছিলেন। ঐ কিতাবটির নাম ছিল ‘সাহীফা সাদেকা। (ঐ)
এই সকল বর্ণনা থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, সাহাবীয়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ লিপিবদ্ধ করতেন। তাঁদের মধ্যে আলী (রা:) আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আস, জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা:) অন্যতম। এছাড়া আরও অনেক সাহাবী হাদীছ লিখে রেখেছিলেন। তাদের প্রত্যেকের নিকট সহীফা ছিল।
বিশিষ্ট গবেষক ও মুহাদ্দিস মুহাম্মদ মোস্তফা আযামী ‘দেরাসাহ্ ফীল হাদীছ আন্‌ নববী ওয়া তারিখে তাদভীনেহী’ (পৃঃ ৯২-১৪২) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, প্রায় ৫২জন সাহাবী হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের পর তাবেঈদের মধ্যেও অনেকে হাদীছ লিপিবদ্ধ করেছেন এবং তাদের নিকট সহীফা ছিল। আর তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১৫২ ছিল।
হাদীছ না লিখার দলীল:
বিরুদ্ধবাদীরা হাদীছ লিপিবদ্ধ না করা সংক্রান্ত একটি হাদীছ পেয়ে খুবই লাফালাফি করে বলে যে হাদীছ লিখতে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীছটি নিম্নরূপ:
আবু সাঈদ খুদরী (রা:)বলেন,রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেছেন, “তোমরা আমার নিকট থেকে কোন কিছু লিখিও না। যে ব্যক্তি আমার নিকট থেকে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখবে সে যেন তা মিটিয়ে দেয়। আর তোমরা আমার নিকট থেকে হাদীছ বর্ণনা কর অসুবিধা নেই। যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যা রোপ করবে সে তার ঠিকানা জাহান্নামের নির্ধারণ করে নিবে।” (মুসনাদে আহমাদ, ১৭/৪৪৩ হা/১১৩৪৪, মুসলিম ১৪/২৯১)
তাদের দাবী যেহেতু এই হাদীছে কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু লিখা নিষেধ করা হয়েছে, সুতরাং পরবর্তী যুগেও হাদীছ লিখা নিষেধ। তারা যে হাদীছটিকে তাদের মতের পক্ষের পায়, সেটি উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়। তাদের নিকট এই হাদীছটি যদি সত্য বলে গণ্য হয়, তবে উপরে উল্লেখিত হাদীছগুলোও সত্য। মতের পক্ষে কিছু পাওয়া গেলে গ্রহণ করতে হবে, আর বিপক্ষের সঠিক কথা গেলেও তা গ্রহণ করা যাবে না, এটা তো সুবিধাবাদীদের নীতি।
কিন্তু সঠিক নীতি হল, সবগুলো হাদীছের প্রতি আমল করতে চাইলে উভয় ধরণের হাদীছের মাঝে সামঞ্জস্য বিধান করতে হবে। কোন্ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হাদীছগুলো বলা হয়েছে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।
এখানে তিন ধরণের সমাধান উল্লেখ করা যেতে পারে:
প্রথমত: প্রাধান্য দেয়া। অনুমতি সংক্রান্ত হাদীছগুলোকে নিষেধের হাদীছের উপর প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা হাফেয ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারী ও আবু দাউদ এই হাদীছের একজন রাবী ‘হাম্মাম’ হাদীছটিকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করে ভুল করেছেন। হাদীছটি মাওকূফ হিসেবেই সঠিক। অর্থাৎ ইহা আবু সাঈদ খুদরী (রা:)এর কথা। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কথা নয়। তখন আর কোন সমস্যা থাকে না। হাদীছ লিখার অনুমতির ক্ষেত্রে যে মারফূ’ হাদীছ সমূহ আছে তাই প্রাধান্য পাবে।
দ্বিতীয়ত: রহিত। অর্থাৎ হাদীছ লিখার অনুমতি সংক্রান্ত হাদীছ দ্বারা নিষিদ্ধতার হাদীছ রহিত হয়ে গেছে। কেননা অনুমতি সংক্রান্ত হাদীছগুলো পরের। অর্থাৎ বিদায় হজ্জের সময়ের, যা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর তিরোধানের অল্পকিছু দিন পূর্বে ছিল।
তৃতীয়ত: সামঞ্জস্য বিধান। ইমাম বাইহাকী বলেন, সম্ভবত: ভুলে যাওয়া যে সকল সাহাবীর ব্যাপারে আশংকা করা হয়েছিল তাদেরকে লিখতে অনুমতি দিয়ো হয়েছে। আর যার স্মরণ শক্তি দৃঢ় তাকে লিখতে নিষেধ করা হয়েছে। অথবা যারা কুরআন থেকে হাদীছকে পার্থক্য করতে পারবে না বা যাদের কাছে কুরআন ও হাদীছ সংমিশ্রণ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাদেরকে লিখতে নিষেধ করা হয়েছে। আর যাদের ক্ষেত্রে ঐ সম্ভাবনা নেই তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ইমাম যারকাশী সামঞ্জস্য বিধানের আরও কয়েকটি মত উল্লেখ করেছেন:
(১) নিষেধের হাদীছ শুধুমাত্র রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর জীবদ্দশার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা রহিত করণ তখনও হতেই ছিল। তখন হাদীছ লিখলে রহিত কারী হাদীছ ও রহিত কৃত হাদীছ সংমিশ্রিত হয়ে যাবে, তাই নিষেধ করা হয়েছিল। দেখুন না, বিদায় হজ্জের খুতবায় ‘আবু শাহ’ নামক লোকটিকে হাদীছ লিখে দিতে অনুমতি দেয়া হয়েছে।
(২)নিষেধের কারণ ছিল, যাতে করে লিখক শুধু হাদীছের লিখিত বস্তুর উপর ভরসা করবে, ফলে মুখস্থ করার প্রবণতা হ্রাস পাবে।
(৩) যাতে করে কুরআনের সমতুল্য আরেকটি কিতাব না রাখা হয়। তাই নিষেধ করা হয়েছিল।
এই মতবিরোধ শুধু প্রথম যুগের জন্যে প্রযোজ্য ছিল। পরবর্তীতে উম্মতে মুসলিমার সকলেই হাদীছ লিপিবদ্ধ করার বিষয়ে ঐকমত পোষণ করেন।

তাই গ্রন্থাকারে ইমাম মালিক (রহঃ) সর্বপ্রথম হাদীছের গ্রন্থ লিখেছেন, যা ‘মুআত্বা’ নামে মুসলমান সমাজে পরিচিত। আজ পর্যন্ত সেই কিতাব মুসলমানদের নিকট নির্ভরযোগ্য সমাদৃত হাদীছ গ্রন্থ। তিনি ৯৩হিঃ সনে জন্ম গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ ইমাম বুখারীর জন্মের প্রায় একশত বছর পূর্বে। আর ইমাম মালিক ‘রাবীয়া’র নিকট থেকে হাদীছ নিয়েছেন। যিনি মৃত্যু বরণ করে ১৩৬ হি: সনে। রাবীয়া অসংখ্য সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের থেকে হাদীছ নিয়েছিলেন।
ইমাম মালিক ইবনে শিহাব যুহরী থেকেও হাদীছ সংগ্রহ করেছেন। যিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর দশের অধিক সাহাবীর সাক্ষাত লাভ করেছেন এবং তাদের নিকট থেকে হাদীছ সংগ্রহ করেছেন।
ইমাম মালিক ‘নাফে’ থেকে ৮০টি হাদীছ সংগ্রহ করেছেন। তিনি বড় তাবেঈদের অন্যতম ছিলেন। তিনি সাহাবী ইবনে ওমার (রা:)এর তিরিশ বছর খেদমত করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে হাদীছ নিয়েছেন। নাফে আরও হাদীছ নিয়েছেন আবু সাঈদ খুদরী, আয়েশা, উম্মে সালামা, আবু হুরাইরা (রা:) প্রমুখ থেকে। নাফে’ মদীনায় মৃত্যু বরণ করেন ১৫৯হিজরিতে। অর্থাৎ ইমাম বুখারীর জন্মের ২৫বছর পূর্বে।
পঞ্চম খলীফা নামে পরিচিত ওমার বিন আবদুল আযীয যখন খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১০১ হিজরিতে অর্থাৎ ইমাম বুখারীর জন্মের ৯৩ বছর পূর্বে, তখন তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর হাদীছ সংগ্রহের জন্যে অধ্যাদেশ জারি করেন।
এই আলোচনার পর সত্য উদ্ঘাটন হয়েছে অতএব فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ “সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর গুমরাহী ব্যতীত কিছু বাকী থাকে না।” (সূরা ইউনুস: ৩২) يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ “হে নবী আল্লাহই আপনার জন্যে যথেষ্ট এবং আপনার অনুসরণকারী মু’মিনগণ।” (সূরা আনফালঃ ৬৪)

আফসোস হাদীছ অস্বীকারকারীদের জন্যে তারা বলল না:سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ “শুনলাম ও মানলাম, তোমার ক্ষমা চাই হে আমাদের পালনকর্তা, তোমার কাছেই ফিরে যেতে হবে।” (২:২৮৫) বরং তারা বলল سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَاسْمَعْ غَيْرَ مُسْمَعٍ وَرَاعِنَا لَيًّا بِأَلْسِنَتِهِمْ وَطَعْنًا فِي الدِّينِ “শুনলাম ও অমান্য করলাম, আরও বলে শোন, না শোনার মত। আর তারা স্বীয় জিহ্বা কুঞ্চিত করে ও ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে বলে ‘রয়েনা’। (৪:৪৬)

লেখক: শাইখ আব্দুল্লাহ আল কাফী

সম্পাদক: শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী

আশা করি উপকৃত হবেন ইন শা আল্লাহ।
11/11/2023

আশা করি উপকৃত হবেন ইন শা আল্লাহ।

ফাতেমা বিনতে হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের প্রিয় কন্য হযরত ফাত.....

15/10/2023

আমাদের সাথে থাকুন…

07/05/2023

মাসজিদে নববীতে এক ভদ্রলোকের সাথে দেখা হলো। কেতাদুরস্ত মাশাআল্লাহ। পরিচয় হলো, সাথে ছিল মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসর ও একাধিক মেধাবী ছাত্র। তো ভদ্রলোক বললেন, তিনি আমেরিকায় সেটেল্ড। উমরা করেন, হজ করেন, নিজের পরিবারের সকলেই আমেরিকান।
আমি বললাম, আপনি কি বর্তমান অবস্থায় আমেরিকার জীবনযাত্রাকে সঠিক মনে করছেন?
তিনি বললেন, জী। এ ব্যাপারে আমার মাঝে কোনো দ্বিধা নেই।
আমি বললাম, যেসব কারণে কাফেরের দেশে থাকা কিংবা নাগরিকত্ব নেয়া নিষেধ তা জানেন কী না?? আলেমগণ সর্বসম্মত কিছু শর্ত দিয়েছেন সেগুলো জানেন কি?
তিনি খুব ক্ষেপে গেলেন, আপনারা অকারণে কথা বাড়ান। আমরা না গেলে দাওয়াত দিবে কে?
আমি বললাম, আপনি কি দাওয়াতের জন্য গিয়েছেন? নাকি আপনার ছেলেরা দাওয়াতের জন্য গিয়েছেন??
তিনি বললেন, আমার ছেলেরা তো জ্ঞান অর্জন করতে এসেছে??
আমি বললাম, এমন কোন জ্ঞানের জন্য তারা কাফেরের দেশে হিজরত করলেন?
তিনি বললেন, ফার্মাসিষ্ট হওয়ার জন্য।
আমি বললাম, প্রথমত এ জ্ঞান আমাদের দেশে এভেইলেবল, দ্বিতীয়ত এটার জন্য নাগরিকত্ব না নিলেও পারতেন।
তিনি বললেন, আমাদের তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না, আপনার সমস্যা কোথায়??
আমি বললাম, আপনি মনে হয় সমস্যা আঁচ করতে পারছেন না। দেখুন,
় হিজরত কাফেরদের দেশে হওয়া বুখারী শরীফের প্রথম হাদীস বিরোধী।
় কাফিরদের মাঝে অবস্থানকারী মুমিন থেকে রাসূল দায়মুক্ত ঘোষণা করেছেন।
় কাফিরদের আর ঈমানদারদের রান্না ও বসবাসের আগুন একসাথে উপরে উঠবে না বলে রাসূল ঘোষণা করেছেন।
় কাফিরের দেশের নাগরিকত্ব থাকলে আপনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ হয়ে যুদ্ধ করতে বাধ্য
় কাফিরদের দেশে আপনার সন্তান গাইরাতে ঈমানিয়্যাহ হারাবে। তার কাছে দেশের মায়া ঈমানের উপর স্থান পাবে।
় কাফিরদের দেশে অবস্থান করার পর এ প্রজন্ম যদি বাদও যায় পরবর্তী প্রজন্ম নিঃসন্দেহে দীন ও ঈমানের অনেক শাখা কাটতে আরম্ভ করবে। এমনকি নাস্তিকও হয়ে যেতে পারে।
় কাফিরদের রীতি অনুযায়ী তারা চলবে।
় সমকামী হয়ে যাবে
় লিভ টুগেদার নামে ব্যভিচার করবে।
় আপনার মেয়ে কাউকে জড়িয়ে ধরে ঘরে চলে আসবে, আপনি কিছু বলতে পারবেন না। বললে আপনাকেই হাজতবাস করতে হবে।
় আপনার ছেলে কোনো মেয়ে বা ছেলেকে নিয়ে ঘরে চলে আসবে, আপনি চেয়ে চেয়ে দেখবেন কিন্তু করার কিছুই থাকবে না।
় আপনার মেয়ে রাতে বাইরে থাকবে আপনি কিছু বলা তো দূরের কথা উপদেশ দেয়ার ক্ষমতাও হারাবেন।
় আপনার স্ত্রী আপনার সাথে রাগ হলেই ভিন্ন চিন্তা করতে পারবে, আপনার সম্পত্তির অর্ধেক নিয়ে চলে যাবে।
় আপনি মারা যাওয়ার পরে আপনার সম্পত্তি ইসলামী শরীআতের নিয়মে বণ্টিত হওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি এতক্ষণে উত্তর দিলেন, কেন? আমরা তো উইল করে যেতে পারি।
আমি বললাম, আমার নবী বলেছেন, “ওয়ারিসের জন্য কোনো উইল হবে না” আর আপনি ওয়ারিসের জন্য উইল করতে চাচ্ছেন, আপনি কি চিন্তা করে দেখেছেন, সেসব দেশে থাকার জন্য আপনি রাসূলের আদেশের বিপক্ষে যেতেও কুণ্ঠিত হচ্ছেন না।!
আমি তাকে বললাম, কাফিরের দেশে আছেন, টাকা রোজগার করছেন করেন, কিন্তু আপনার ও আপনার পরিবারের শেষ সেটেল্ড কোনো মুসলিম দেশে হওয়ার চেষ্টা করবেন। যেখানে মারা গেলে আপনাকে ক্রেন দিয়ে কবরে নামানো হবে না, যেখানে আপনি ঈমানদারদের কাঁধ পাবেন সে চেষ্টা অন্তত করবেন, এ আশাবাদ আপনার কাছে থাকলো।
ভদ্রলোক খুব ক্ষেপে গেলেন, বললেন, আপনার থেকে এসব আমি শুনবো না। এসব ফতোয়া নিতে আমি বাধ্য নই। আমরা ভালো আছি, আপনার বক্তব্য আমার দরকার নেই।
আমি বললাম, আমি তো পৌঁছানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত মাত্র। নেয়া বা না নেয়ার আপনার ঈমানের দাবী অনুযায়ী হবে।

আমি বলি, এভাবেই আমরা ধোঁকাগ্রস্ত হই। শয়তান ধোকা দেয়, দুনিয়া ধোঁকা দেয়, সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তা ধোঁকা দেয়। নাফসে আম্মারা ধোঁকা দেয়।

তাই আমি আমার দীনদার ভাইদের বলি,
পাশ্চাত্যে পা গাড়লেন যারা, ঈমানের বিপরীতে চললেন তারা। প্রাচ্য আর পাশ্চাত্যবিদদের শিষ্য হয়ে নতুন এক ইসলাম প্রবর্তন করলেন তারা। ঈমানী গাইরত তাদের কাছে চাওয়া বৃথা। কিছু বললেই “মাআযীর” খোঁজে তারা। আল্লাহ বলেন,
بل الإنسان على نفسه بصيرة
ولو ألقى معاذيره
“মানুষ নিজের ব্যাপারে খুব ভালো জানে, যদিও সে সেসব অপরাধের পক্ষে ওযর পেশ করতে কখনো পিছপা হয় না।”
সূরা আল-কিয়ামাহঃ ১৫।

প্রফেসর ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া।

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Al-Fiqh and Aqidah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your school to be the top-listed School/college?

Share