প্রাণের প্রিয় ইসলাম - Pran Er Priyo Islam

প্রাণের প্রিয় ইসলাম - Pran Er Priyo Islam

Share

http:// Readme2know. blogspot. com

[ Remove Space, Copy and paste into browser ] জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী নির্দেশনা মেনে চলুন, আখেরাত কে অগ্রাধিকার দিন

14/02/2024

সেন্ট ভেলেন্টাইন ডে-কে ‘ভালোবাসা দিবস’ অনুবাদ করে সেটাকে সর্বজনীনতার রূপ দেওয়া এক ধরনের প্রতারণা। কারণ, সেন্ট ভেলেন্টাইন ডে-র অনুবাদ কখনো ভালোবাসা দিবস নয়।

তাছাড়া, এটা যদি ভালোবাসা দিবসই হবে, তবে, বাবা-মা, ভাইবোন, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে কেন প্রমোট করা হয় না। কেন বিবাহবহির্ভূত অবৈধ ভালোবাসাকেই উদযাপন করা হয়!

আমাদের শালিনতাবোধ, পারিবারিক ভালোবাসার অটুট বন্ধন ধসিয়ে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র যদি অব্যাহত থাকে, তবে একদিন এর বহু মূল্য দিতে হবে। যার প্রাথমিক কুফল আমরা চারপাশে দেখতে পাচ্ছি।

31/12/2022

IslamQA No. 36619= নারীদের জন্য প্রযোজ্য হজ্জের বিধিবিধান,
প্রশ্ন
আমি এ বছর হজ্জ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি; ইনশাআল্লাহ। আমি আশা করব আপনারা আমাকে এমন কিছু উপদেশ ও পরামর্শ দিবেন যেগুলো হজ্জের ক্ষেত্রে আমার কাজে লাগবে। এর সাথে আমি একটি প্রশ্নও পেশ করছি: হজ্জের এমন কোন কাজ আছে কি যেক্ষেত্রে নারীদের পদ্ধতি পুরুষদের থেকে ভিন্ন।

উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। মুসলিম বোন,

আপনি হজ্জ আদায় করার জন্য মক্কায় সফর করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা সেটাকে স্বাগত জানাচ্ছি। এ মহান ফরজ ইবাদতের ব্যাপারে অনেক মুসলিম নারী গাফেল। অনেক নারীই জানেন না যে, তাদের উপর হজ্জ ফরজ। আবার অনেকে জানা সত্ত্বেও “অচিরেই আদায় করব” এই জপ জপতে জপতে হজ্জ না করে মারা যান। অনেকে হজ্জের কার্যাবলী সম্পর্কে কিছু না জেনে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলোতে লিপ্ত হয়। এমনও হয় যে, তাদের কারো কারো হজ্জ বাতিল হয়ে গেছে কিন্তু সে বুঝতেই পারে না। আল্লাহই সহায়।

হজ্জ আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার উপর ফরজকৃত ইবাদত। এটি ইসলামের পঞ্চম বুনিয়াদ। এ ইবাদত নারীদের জন্য জিহাদতুল্য।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: “তোমাদের জিহাদ হচ্ছে- হজ্জ।” [সহিহ বুখারী] মুসলিম বোন,

আমরা নীচে কিছু উপদেশ, পরামর্শ ও নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হজ্জের বিধিবিধানগুলো উল্লেখ করব। এগুলো অনুসরণের মাধ্যমে মাকবুল ও মাবরুর হজ্জ পালন করা সম্ভব হবে। মাবরুর হজ্জের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এর প্রতিদান হচ্ছে- জান্নাত”।[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম]

১. আল্লাহর জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা যে কোন ইবাদত শুদ্ধ হওয়া ও কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত। এর মধ্যে হজ্জও রয়েছে। সুতরাং হজ্জ করার ক্ষেত্রে আপনি মুখলিস হোন। রিয়া বা লৌকিকতা থেকে দূরে থাকুন। কারণ রিয়াআমলকে বিনষ্ট করে দেয় এবং শাস্তি অবধারিত করে। ২. ইবাদত পালনে সুন্নাহর অনুসরণ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ মোতাবেক হওয়া আমল শুদ্ধ হওয়া ও কবুল হওয়ার দ্বিতীয় শর্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে এসেছে- “যে ব্যক্তি এমন আমল করে যা আমাদের শরিয়তে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত।”[সহিহ মুসলিম]এ হাদিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক হজ্জের বিধিবিধান শিক্ষা করার প্রতি আপনাকে আহ্বান জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে আপনি কুরআন-সুন্নাহর সহিহ দলিলের ভিত্তিতে রচিত গ্রন্থগুলোর সহায়তা নিতে পারেন। ৩. শির্কে আকবর, শির্কে আসগর ও সকল প্রকার গুনাহর ব্যাপারে সাবধান থাকুন। কারণ শির্কে আকবর ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করে দেয়, আমল নষ্ট করে দেয় এবং শাস্তি অবধারিত করে। শির্কে আসগর আমল নষ্ট করে দেয় ও শাস্তি অবধারিত করে। আর গুনাহ শুধু শাস্তি অবধারিত করে। ৪. নারীর জন্য মোহরেম ছাড়া হজ্জের সফর বা অন্য কোন সফরে বের হওয়া জায়েয নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোন নারী মোহরেম ছাড়া সফরে যাবে না”[সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম]মোহরেম হচ্ছে- নারীর স্বামী এবং যাদের সাথে নারীর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম এমন পুরুষগণ।বিয়ে যে কারণেই হারাম হোক না কেন – সেটা নিকটাত্মীয়তা, দুগ্ধপান বা বৈবাহিক আত্মীয়তাএর যে কোনটি। মোহরেম সঙ্গে থাকা নারীর উপর হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত। যদি নারীর সঙ্গে যাওয়ার মত কোন মোহরেম না পাওয়া যায় তাহলে তার উপর হজ্জ ফরজ হবে না। ৫. নারী যে কোন ধরনের পোশাকে ইহরাম বাঁধতে পারেন। সেটা কালো রঙের হোক অথবা অন্য যে কোন রঙের হোক। তবে অশ্লীল ও উত্তেজক পোশাক থেকে বেঁচে থাকবে। যেমন- সংকীর্ণ, স্বচ্ছ, কাটা বা ছেঁড়া, ডিজাইন করা ইত্যাদি পোশাক। অনুরূপভাবে পুরুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পোশাক বা কাফেরদের পোশাক পরিধান করবে না।এ থেকে আমরা জানতে পারি সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা নারীদের উপর বিশেষ রঙের পোশাকে ইহরাম করা অনিবার্য করে দেন যেমন- সবুজ বা সাদা রঙের পোশাকতাদের পক্ষে কোন দলিল নেই। বরং এটি নবতর বিদআত। ৬. ইহরাম বাঁধার পর নারীর জন্য সব ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করা নাজায়েয। সেটা গায়ে হোক অথবা পোশাকে হোক। ৭. ইহরামকারী নারীর জন্য মাথার চুল বা শরীরের যে কোনচুল যে কোন মাধ্যমে তুলে ফেলা নাজায়েয। তদ্রূপ নখ কাটাও হারাম। ৮. ইহরামকারী নারীর জন্য নিকাব পরা, হাত মোজা পরা হারাম। যেহেতু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নারী নিকাব পরবে না, মোজা পরবে না।”[সহিহ বুখারি] ৯. ইহরাম অবস্থায় নিকাব পরা বা মোজা পরা নিষিদ্ধ এ অজুহাতে কোন নারী তার চেহারা বা হাত বেগানা পুরুষের সামনে প্রকাশ করবে না। কারণ যে কোন কাপড় দিয়ে বা আঁচল দিয়ে নারী তার চেহারা ও হাত ঢেকে রাখতে পারেন। উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রাঃ) বলেন: “আমরা যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে ইহরামরত ছিলাম তখন আরোহীরা আমাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আমরা মাথার উপর থেকে মুখের উপর ওড়না ফেলে দিতাম।তারা পার হয়ে গেলে আমরা মুখ খোলা রাখতাম।”[সুনানে আবু দাউদ, আলবানী ‘হিযাবুল মারআ আল-মুসলিমা’ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন] ১০. কিছু কিছু নারী ইহরাম অবস্থায় তাদের মাথার উপর পাগড়ী বা এ জাতীয় কিছু দিয়ে ওড়না বা চাদর উঁচু করে রাখেন যাতে করে ওড়না মুখমণ্ডল স্পর্শ না করে। এটা অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি; এর কোন প্রয়োজন নেই। কেননা কোন আবরণ ইহরামকারী নারীর মুখমণ্ডল স্পর্শ করলে কোন অসুবিধা নেই। ১১. ইহরামকারী নারীর জন্য কামিজ, সেলোয়ার, পায়ের মোজা, স্বর্ণের চুড়ি, আংটি, ঘড়ি ইত্যাদি পরা জায়েয। তবে হজ্জ অবস্থায় অথবা হজ্জ বেগানা পুরুষ থেকে তাদের সৌন্দর্য লুকিয়ে রাখা তাদের উপর ফরজ। ১২. হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্য নিয়ে মিকাত পার হওয়ার সময় যদি নারী হায়েযগ্রস্ত হয়ে যান তখন কেউ কেউ এ ধারণা করে ইহরাম করেন না যে, পবিত্র অবস্থায় ইহরাম করা শর্ত। তাই ইহরাম ছাড়া তারা মিকাত অতিক্রম করেন। এটি স্পষ্ট ভুল। কারণ হায়েয ইহরামের প্রতিবন্ধক নয়। বরং হায়েযগ্রস্ত নারীও ইহরাম করবেন এবং অন্যেরা যা যা করে তিনিও তা তা করবেন শুধু বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবেন না; পবিত্র হওয়ার পরে তাওয়াফ করবেন। যদি তিনি ইহরাম না বেঁধে মিকাত পার হয়ে যান তাহলে তার উপর ওয়াজিব হল পুনরায় মিকাতে ফিরে আসা। যদি তিনি ফিরে না আসেন তাহলে একটি ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার কারণে তার উপর দম (পশু উৎসর্গ) দেয়া ওয়াজিব। ১৩. নারী যদি কোন কারণে নুসুক (হজ্জ বা উমরা) সম্পন্ন করতে না পারার আশংকা করেন তাহলে তিনি ইহরামকালে শর্ত করে নিবেন এবং বলবেন: “ইন হাবাসানি হাবিস ফা মাহিল্লি হাইছু হাবাসতানি” (অর্থ- যদি কোন প্রতিবন্ধকতা আমাকে আটক করে তাহলে আমি প্রতিবন্ধকতা স্থলে হালাল হয়ে যাব)। যদি তিনি এ রকম কোন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন তাহলে তিনি হালাল হয়ে যাবেন এবং তার উপর কোন কিছু আবশ্যক হবে না। ১৪. আপনি হজ্জের কাজগুলো আবার একটু স্মরণ করে নিন: এক: তারবিয়ার দিন অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখে গোসল করুন, ইহরাম বাঁধুন এবং এই বলে তালবিয়া পড়ুন: “লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক। লা শারিকা লাক।” (অর্থ: হে আল্লাহ!আমি হাজির। আমি আপনার দরবারে হাজির। আপনি নিরঙ্কুশ।আমি আপনার দরবারে হাজির।নিশ্চয় যাবতীয় প্রশংসা ও নেয়ামত আপনার-ই জন্য এবং রাজত্ব আপনার-ই জন্য।আপনি নিরঙ্কুশ।) দুই: মীনায় যাবেন। সেখানে গিয়ে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের নামায স্ব স্ব ওয়াক্তে চার রাকাত নামাযগুলো কসর (দুই রাকাত দুই রাকাত) করে আদায় করবেন। তিন: ৯ই জিলহজ্জ সূর্যোদয়ের পর আরাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। সেখানে যোহর ও আসরের নামায একত্রে যোহরের ওয়াক্তে কসর করে আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার মাঠে দোয়া, যিকির ও তওবারত অবস্থানকরবেন। চার: ৯ই জিলহজ্জ সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে মুযদালিফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। মুযদালিফাতে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামায একত্রে ও কসর করে আদায় করবেন। ফজরের নামায পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। ফজরের পর আকাশ ভালভাবে ফর্সা হওয়া পর্যন্ত যিকির, দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে কাটাবেন। পাঁচ: ঈদের দিনের সূর্যোদয়ের পূর্বে মুযদালিফা থেকে মিনার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়ে যাবেন। মিনায় পৌঁছে নিম্নোক্ত কাজগুলো করবেন: ক. জমরা আকাবাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবেন। প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় আল্লাহু আকবার বলবেন।

খ. সূর্য কিছুটা উপরে উঠার পর হাদি (হজ্জে উৎসর্গযোগ্য পশু) জবাই করবেন।

গ. মাথারসবগুলো চুলের অগ্রভাগ থেকে আঙ্গুলের এক কর পরিমাণ (প্রায় ২ সে.মি.) কর্তন করবেন।

ঘ. মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাযা (ফরজ তাওয়াফ) আদায় করবেন। তামাত্তু হজ্জকারী হলে অথবা ইফরাদ ও ক্বিরানকারী তাওয়াফে কুদুমের সাথে সাঈ করে না থাকলে সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে সাঈ করবেন।

ছয়: ১১, ১২ ও ১৩ ই জিলহজ্জ সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর জমরাগুলোতে কংকর নিক্ষেপ করবেন; যদি আপনি বিলম্বে মিনা ত্যাগকারী হন। আর যদি অবিলম্বে মিনা ত্যাগকারী হন তাহলে ১১ ও ১২ ই জিলহজ্জ কংকর নিক্ষেপ করবেন এবং এ রাতগুলো মিনাতে অবস্থান করবেন।

সাত: যখন আপনি নিজে দেশে ফিরে যেতে চাইবেন তখন বিদায়ী তাওয়াফ আদায় করবেন। এর মাধ্যমে আপনার হজ্জের কার্যাবলী সমাপ্ত হবে।

১৫. নারীগণ উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়বেন না। বরং নিম্নস্বরে তালবিয়া পড়বেন; যাতে নিজ কানে শুনেন ও আশপাশের মহিলারা শুনতে পায়। ফেতনা থেকে বাঁচতে ও কারো নজরে পড়া থেকে দূরে থাকার জন্য বেগানা পুরুষদেরকে শুনাবেন না।হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর থেকে ঈদের দিন জমরা আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পড়তে থাকবেন।

১৬. যদি কোন নারী তাওয়াফ শেষ করার পর সাঈ করার পূর্বে হায়েযগ্রস্ত হয়ে পড়েন তাহলে তিনি সে অবস্থায় হজ্জের বাকী কাজগুলো শেষ করবেন। ঐ অবস্থাতেই সাঈ সম্পন্ন করবেন। কেননা সাঈর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়।

১৭. যদি নারীর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয় তাহলে হায়েয রোধকারী ট্যাবলেট খাওয়া বৈধ।

১৮. হজ্জের সকল কার্যাবলী পালনের ক্ষেত্রে পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে চলবেন। বিশেষতঃ তাওয়াফকালে হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়েমানীর কাছে। তদ্রূপ সাঈ ও কংকর নিক্ষেপকালে। যে সময়গুলোতে ভিড় কম থাকে আপনি সে সময়গুলো নির্বাচন করবেন। উম্মুল মুমেনীন আয়েশা (রাঃ) পুরুষদের থেকে দূরে একাকী তাওয়াফ করতেন। ভিড় থাকলে তিনি হাজারে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়েমানী স্পর্শ করতেন না।

১৯. নারীদের উপর তাওয়াফের রমল ও সাঈর দৌড় নেই। রমল হচ্ছে- তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে ছোট ছোট কদমে দ্রুত হাঁটা। আর সাঈর দৌড় হচ্ছে- সাঈর প্রতিটি চক্করে সবুজ রঙে চিহ্নিত স্থানটি দৌড়িয়ে পার হওয়া। এদুটি পালন করা পুরুষদের জন্য সুন্নত।

২০. ছোট্ট একটি বই পাওয়া যায় যে বইটির মধ্যে কিছু বিদআতি দোয়া আছে এবং তাওয়াফ ও সাঈর প্রত্যেক চক্করের জন্য বিশেষ বিশেষ দোয়া লেখা আছে এ বইটি বর্জন করবেন। অথচ এরকম বিশেষ দোয়ার সপক্ষে কোন কুরআন হাদিসের দলিল সাব্যস্ত হয়নি। ব্যক্তি তাওয়াফ ও সাঈর মধ্যে যা খুশি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করতে পারেন। যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কোন দোয়া দিয়ে দোয়া করেন সেটা উত্তম।

২১. হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য দোয়া ও যিকিরের বই পড়া জায়েয যদি সে বইয়ের মধ্য কিছু কুরআনের আয়াত থাকে তবুও। অনুরূপভাবে স্পর্শ না করে কুরআন শরিফ পড়াও তার জন্য জায়েয।

২২. আপনার শরীরের কোন অংশ উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সাবধান থাকবেন বিশেষতঃ যে স্থানগুলোতে কোন পুরুষ আপনাকে দেখে ফেলতে পারে। যেমন- সাধারণ ওজুখানা। কারণ কিছু কিছু নারী এ স্থানগুলোতেপুরুষের অতি কাছাকাছি উপস্থিতিকে পরোয়া করে না। তিনি তার মুখ, হাতের কনুই, পায়ের গোছা পর্যন্ত উন্মুক্ত করে ফেলেন। ক্ষেত্রে বিশেষে মাথার ওড়না খুলে ফেলেন এতে তার মাথা ও গর্দান উন্মুক্ত হয়ে যায়। অথচ এগুলো উন্মুক্ত করা হারাম। এতে করে সে নারী নিজে ও তার দ্বারা অন্য পুরুষেরা ফেতনাগ্রস্ত হতে পারে।

২৩. নারীদের জন্য ফজরের আগে মুযদালিফা ত্যাগ করা জায়েয: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু কিছু নারীকে বিশেষতঃ দুর্বলদেরকে এই অবকাশ দিয়েছিলেন যে, তারা শেষ রাতে চন্দ্র অস্ত যাওয়ার পর মুযদালিফা ত্যাগ করতে পারবে যাতে করে ভিড়ের আগে তারা জমরা আকাবাতে কংকর নিক্ষেপ করতে পারেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে- “মীনার রাত্রিতে সাওদা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট লোকদের আগে মীনা ত্যাগ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি শরীর ভারী মহিলা ছিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে অনুমতি দিলেন।”

২৪. নারীর অভিভাবক যদি মনে করেন জমরা আকাবার চতুর্দিকে খুব ভিড় হচ্ছে এবং এ অবস্থায় নারীদের নিয়ে কংকর নিক্ষেপ করতে যাওয়া আশংকাজনক সেক্ষেত্রে নারীরা দেরী করে রাতের বেলায় কংকর নিক্ষেপ করা জায়েয। যাতে ভিড় কমে যায় অথবা একেবারেভিড় না থাকে। এই বিলম্বের কারণে তাদের উপর কোন কিছু আবশ্যক হবে না।

একই বিধান তাশরিকের দিনগুলোতে কংকর নিক্ষেপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নারীরা আসরের পর জমরাগুলোতে কংকর নিক্ষেপ করতে পারেন। এটা সবাই জানে যে, এ সময়ে ভিড় কিছুটা কম থাকে। যদি এ সময়ের মধ্যেও কংকর নিক্ষেপ করতে না পারেন তাহলে রাতে কংকর নিক্ষেপ করতে কোন দোষ নেই।

২৫. সাবধান সাবধান:

পরিপূর্ণ হালাল হওয়ার আগে কোন নারীর জন্য তার স্বামীকে সহবাস করার বা আলিঙ্গন করার সুযোগ দেয়া জায়েয নেই। পরিপূর্ণ হালাল তিনটি কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়:

এক: জমরা আকাবাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করা।

দুই: মাথার সমস্ত চুল এক কর পরিমাণ (প্রায় ২ সে.মি.) কর্তন করা।

তিন: হজ্জের তাওয়াফ (তাওয়াফে ইফাযা) আদায় করা।

এতিনটি কাজ সম্পন্ন করলে ইহরামের পর নারীর জন্য যা কিছু হারাম হয়েছিল সবকিছু হালাল হবে এমনকি সহবাসও। যদি এ তিনটির মধ্যে দুটি সম্পন্ন করেন তাহলে তার জন্য সহবাস ছাড়া বাকী সবকিছু হালাল হবে।

২৬. চুলের আগা কর্তনকালে বেগানা পুরুষদেরকে চুল দেখানো নাজায়েয। অনেক নারী মারওয়া পাহাড়ের উপর এ কাজটি করে থাকেন। কারণ চুল সতরের অন্তর্ভুক্ত বেগানা পুরুষকে চুল দেখানো জায়েয নেই।

২৭. পুরুষদের সামনে ঘুমানো থেকে সাবধান। যে সব পরিবার তাবু ছাড়া অথবা মানুষের চোখ থেকে আড়াল নেয়ার মত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া হজ্জ করে থাকেন আমরা সেসব পরিবারের মহিলাদের অনেককে দেখি তারা রাস্তায়, ফুটপাতে, ওভার ব্রিজের নীচে, মসজিদে খাইফে পুরুষদের সাথে একসঙ্গে অথবা পুরুষদের কাছাকাছি স্থানে ঘুমিয়ে থাকেন। এটি বড় ধরনের গুনার কাজ। এ কাজে বাধা দেওয়া ও করতে না দেওয়া কর্তব্য।

২৮. হায়েয ও নিফাসগ্রস্ত নারীর উপর বিদায়ী তাওয়াফ নেই। এটি নারীদের জন্য ইসলামী শরিয়তের বিশেষ ছাড়। হায়েযগ্রস্ত নারীর জন্য বিদায়ী তাওয়াফ না করে তার ফ্যামিলির সাথে দেশে ফিরে যাওয়া বৈধ। সুতরাং হে মুসলিম বোন, এ সহজীকরণ ও এ নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন।

27/12/2022

IslamQA No. 5538= মাহরাম পুরুষ কারা; যাদের সামনে নারীর পর্দা করতে হয় না,
প্রশ্ন
যে সব পুরুষের সামনে নারীর পর্দা না-করা জায়েয তারা কারা?

উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.

মাহরাম পুরুষের সামনে নারীর পর্দা না করা জায়েয।

নারীর জন্য মাহরাম হচ্ছে ঐসব পুরুষ যাদের সাথে উক্ত নারীর বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে হারাম; সেটা ঘনিষ্ট আত্মীয়তার কারণে। যেমন পিতা, যত উপরের স্তরে হোক না কেন। সন্তান, যত নীচের স্তরের হোক না কেন। চাচাগণ। মামাগণ। ভাই। ভাই এর ছেলে। বোনের ছেলে।

কিংবা দুধ পানের কারণে। যেমন- নারীর দুধ ভাই। দুধ-মা এর স্বামী।

কিংবা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে। যেমন- মা এর স্বামী। স্বামীর পিতা, যত উপরের স্তরের হোক না কেন। স্বামীর সন্তান, যত নীচের স্তরের হোক না কেন।

নীচে বিস্তারিতভাবে মোহরেমের পরিচয় তুলে ধরা হল:

রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের মধ্যে যারা মাহরাম তাদের কথা সূরা নূর এ আল্লাহ্‌র এ বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: “তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়াস্বামী, বাপ, স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে...।[সূরা নূর, আয়াত: ৩১] তাফসিরকারকগণ বলেন: নারীর রক্ত সম্পর্কীয় মাহরাম পুরুষগণ হচ্ছেন- এ আয়াতে যাদেরকে উল্লেখ করা হয়েছে কিংবা এ আয়াতে যাদের ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে; তারা হচ্ছে-

এক: পিতাগণ। অর্থাৎ নারীর পিতাগণ, যত উপরের স্তরের হোক না কেন। সেটা বাপের দিক থেকে হোক কিংবা মায়ের দিক থেকে হোক। অর্থাৎ পিতাদের পিতারা হোক, কিংবা মাতাদের পিতারা হোক। তবে, স্বামীদের পিতাগণ বৈবাহিক সম্পর্কের দিক থেকে মাহরাম হবে, এ ব্যাপারে একটু পরে আলোচনা করা হবে।

দুই: ছেলেরা। অর্থাৎ নারীর ছেলেরা। এদের মধ্যে সন্তানের সন্তানেরা অন্তর্ভুক্ত হবে, যত নীচের স্তরের হোক না কেন, সেটা ছেলের দিক থেকে হোক, কিংবা মেয়ের দিক থেকে হোক। অর্থাৎ ছেলের ছেলেরা হোক কিংবা মেয়ের ছেলেরা হোক। পক্ষান্তরে, স্বামীর ছেলেরা: আয়াতে তাদেরকে ‘স্বামীর অন্য স্ত্রীর ছেলে’ বলা হয়েছে; তারা বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে মাহরাম হবে; রক্ত সম্পর্কের কারণে নয়। একটু পরেই আমরা সেটা বর্ণনা করব।

তিন: নারীর ভাই। সহোদর ভাই হোক; কিংবা বৈমাত্রেয় ভাই হোক; কিংবা বৈপিত্রীয় ভাই হোক।

চার: ভ্রাতৃপুত্রগণ; যত নীচের স্তরের হোক না কেন, ছেলের দিক থেকে কিংবা মেয়ের দিক থেকে। যেমন- বোনের মেয়েদের ছেলেরা।

পাঁচ: চাচা ও মামা। এ দুই শ্রেণী রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় হিসেবে মাহরাম। কিন্তু, উল্লেখিত আয়াতে তাদেরকে উল্লেখ করা হয়নি। কেননা তারা পিতামাতার মর্যাদায়। মানুষের কাছেও তারা পিতামাতার পর্যায়ভুক্ত। চাচাকে কখনও কখনও পিতাও বলা হয়। আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন: “তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার ইবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের ইবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।”[সূরা বাক্বারা, আয়াত: ১৩৩] ইসমাঈল (আঃ) ইয়াকুব (আঃ) এর সন্তানদের চাচা ছিলেন। [তাফসির আল-রাযি (২৩/২০৬), তাফসির আল-কুরতুবী (১২/২৩২, ২৩৩), তাফসির আল-আলুসি (১৮/১৪৩), ফাতহুল বায়ান ফি মাকাসিদ আল-কুরআন (৬/৩৫২)]

দুধ পানের কারণে যারা মাহরাম:

নারীর মাহরাম কখনও দুধ পানের কারণে সাব্যস্ত হতে পারে। তাফসিরে আলুসিতে এসেছে, যে মোহরেমের সামনে নারীর সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ সে মাহরাম রক্ত সম্পর্কের কারণে যেমন সাব্যস্ত হয় আবার দুধ পানের কারণেও সাব্যস্ত হয়। তাই, নারীর জন্যে তার দুধ পিতা ও দুধ সন্তান এর সামনে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ।[তাফসিরে আলুসি (১৮/১৪৩)] কেননা দুধ পান এর কারণে যারা মাহরাম হয় তারা রক্ত সম্পর্কীয় মোহরেমের ন্যায়; এদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক চিরতরে নিষিদ্ধ। পূর্বোক্ত এই আয়াতটির তাফসির করাকালে ইমাম জাস্‌সাস এ দিকে ইশারা করে বলেন: “আল্লাহ্‌ তাআলা যখন পিতৃবর্গের সাথে সেসব মাহরামদেরও উল্লেখ করলেন যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন চিরতরে হারাম এতে করে এ প্রমাণ পাওয়া গেল যে, মাহরাম হওয়ার ক্ষেত্রে যে তাদের পর্যায়ে তার হুকুম তাদের হুকুমের মতই। যেমন- শাশুড়ি ও দুধ পান সম্পর্কীয় মাহরামবর্গ প্রমুখ।[আহকামুল কুরআন (৩/৩১৭)]

রক্ত সম্পর্কীয় কারণে যারা যারা মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণে তারা তারাই মাহরাম হয়: হাদিসে এসেছে, রক্ত সম্পর্কীয় কারণে যারা যারা মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণে তারা তারাই মাহরাম হয়। এ হাদিসের অর্থ হল, বংশীয় সম্পর্কের কারণে যেমন কিছু লোক নারীর মাহরাম হয়; তেমনি দুগ্ধ সম্পর্কীয় কারণেও কিছু লোক নারীর মাহরাম হয়। সহিহ বুখারীতে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পর আবু কুয়াইস এর ভাই আফলাহ একবার আয়েশা (রাঃ) এর সাথে দেখা করার অনুমতি চাইল; তিনি হচ্ছেন- আয়েশা (রাঃ) এর দুধ চাচা। কিন্তু, আয়েশা (রাঃ) অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। যখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলেন তখন আয়েশা (রাঃ) বিষয়টি জানালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অনুমিত দেয়ার নির্দেশ দেন।[সহিহ বুখারী শরহে কুসতুল্লানিসহ ৯/১৫০; ইমাম মুসলিমও এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহিহ মুসলিমের ভাষায় “উরউয়া (রাঃ) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাকে জানিয়েছেন যে, একবার তার দুধ চাচা ‘আফলাহ’ তার সাথে দেখা করার অনুমতি চাইলেন। কিন্তু, তিনি তাকে বারণ করলেন। পরবর্তীতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন: তার থেকে পর্দা করতে হবে না। কারণ রক্ত সম্পর্কের কারণে যে সব আত্মীয় মাহরাম হয় দুগ্ধ সম্পর্কের কারণেও সেসব আত্মীয় মাহরাম হয়।[সহিহ মুসলিম বি শারহিন নাবাবি ১০/২২]

নারীর দুগ্ধ সম্পর্কীয় আত্মীয় রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়ের মত:

ফিকাহবিদগণ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে স্পষ্টাভাবে উল্লেখ করেছেন যে, দুগ্ধপানের কারণে যারা কোন নারীর মাহরাম হয় তারা রক্ত সম্পর্কীয় মাহরামদের ন্যায়। তাই দুগ্ধ সম্পর্কীয় আত্মীয়দের কাছে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ; ঠিক যেভাবে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়দের কাছে সাজ-সজ্জা প্রকাশ করা বৈধ। সে সব মোহরেমের জন্য উক্ত মহিলার ঐ সব অঙ্গ দেখা জায়েয আছে রক্ত সম্পর্কীয় মোহরেমের জন্য যা কিছু দেখা জায়েয আছে।

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যারা মাহরাম হয়:

বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে সেসব পুরুষ মাহরাম হয় যাদের সাথে বিবাহ চিরতরে নিষিদ্ধ। যেমন, বাপের স্ত্রী, ছেলের বউ, স্ত্রীর মা।[শারহুল মুন্তাহা ৩/৭]

অতএব, বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যারা মাহরাম হবে: পিতার স্ত্রীর ক্ষেত্রে সে হবে এ নারীর অন্য ঘরের সন্তান। সন্তানের স্ত্রী যেহেতু তিনি পিতা। স্ত্রীর মা, যেহেতু তিনি স্বামী। আল্লাহ্‌ তাআলা সূরা আল-নূর এ বলেন: “আর তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র... ছাড়া কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে”[সূরা নূর, আয়াত: ৩১] শ্বশুর, স্বামীর পুত্র বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে মাহরাম। আল্লাহ্‌ তাআলা এ শ্রেণীকে নারীর নিজের পিতা ও পুত্রের সাথে উল্লেখ করেছে এবং সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সমান বিধান দিয়েছেন।[আল-মুগনী (৬/৫৫৫)]

24/12/2022

IslamQA No. 6991= শরিয়তসম্মত হিজাবের বৈশিষ্ট্যাবলি,

প্রশ্ন


ইসলামী হিজাবের যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা অপরিহার্য সেগুলো কি কি? কারণ হিজাবের হরেক রকম মডেল রয়েছে। ডেনমার্কের নাগরিক আমার এক বান্ধবী আছে। যিনি কিছুদিন পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। (আলহামদু লিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করে তিনি খুশি। তিনি হিজাব পরতে চান।
আশা করছি, আপনি আমাদেরকে জানাবেন যে, ‘ হিজাব সর্বাঙ্গ-আচ্ছাদনকারী লম্বা পোশাক (জিলবাব) হওয়া আবশ্যক’ এ বিষয়টি কোথায় উদ্ধৃত আছে? তিনি আপনার জবাবের খুবই মুখাপেক্ষী।
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.

শাইখ আলবানী (রহঃ) বলেন:

হিজাবের শর্তাবলি হচ্ছে:

এক: সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা; শুধু যে অংশটুকুর ব্যাপারে ব্যতিক্রম বিধান এসেছে সেইটুকু ছাড়া:

এই শর্তটি আল্লাহ্‌ তাআলার এ বাণীতে রয়েছে: “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাব (সর্বাঙ্গ আচ্ছাদনকারী পোশাক) এর একটা অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয় (যাতে করে গোটা দেহ ঢেকে যায় একটি চোখ বা দুইটি চোখ ছাড়া)। এতে করে তাদেরকে (স্বাধীন নারী হিসেবে) চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৯]

প্রথম আয়াতে স্পষ্টভাবে সকল সাজ-সজ্জা (তথা সাজগোজের অঙ্গসমূহ) ঢেকে রাখা ও পর-পুরুষের সামনে সে সবের কোন কিছু প্রকাশ না-করা আবশ্যকীয় হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। তবে, অনিচ্ছাকৃতভাবে যা প্রকাশ হয়ে পড়ে সেটার কারণে তারা গুনাহগার হবে না; যদি তারা অনতিবিলম্বে সেটা ঢেকে নেয়।

ইবনে কাছির (রহঃ) তাঁর তাফসিরে বলেন:

অর্থাৎ পর-পুরুষকে সাজ-সজ্জার কোন কিছু দেখাবে না। তবে, যা লুকিয়ে রাখা সম্ভবপর নয় সেটা ছাড়া। ইবনে মাসউদ বলেন: যেমন চাদর ও কাপড়-চোপড়। অর্থাৎ আরব নারীরা যে পদ্ধতিতে মাথা-বন্ধনী ব্যবহার করত; যা দিয়ে নারী তার পোশাককে ঢেকে রাখত। পোশাকের নীচ দিয়ে যে অংশটুকু প্রকাশ হয়ে পড়ে তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা সেটা ঢেকে রাখা সম্ভবপর নয়।

দুই: পোশাকটি নিজে কারুকাজ খচিত না হওয়া:

যেহেতু আল্লাহ্‌ বলেছেন: “তারা যেন তাদের সজ্জা প্রকাশ না করে”। এ বাণীটি এর ব্যাপকতা দিয়ে বাহ্যিক পোশাককেও অন্তর্ভুক্ত করে; যদি সে পোশাক নারীর দিকে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষক নকশাবিশিষ্ট হয়। এর সপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর। প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৩] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না (অর্থাৎ তাদের পরিণতি জিজ্ঞাসার যোগ্য নয়): যে ব্যক্তি (মুসলমানদের) দল ত্যাগ করে ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের অবাধ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। যে দাসী বা দাস পালিয়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যে নারীর স্বামী তার পার্থিব জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়ে সফরে বেরিয়েছে, সে চলে যাওয়ার পর স্ত্রী নিজের রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িয়েছে; এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না।”[মুসতাদরাকে হাকেম (১/১১৯), মুসনাদে আহমাদ (৬/১৯) গ্রন্থে ফুযালা বিনতে উবাইদ এর হাদিস হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, সনদ সহিহ এবং হাদিসটি ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থেও রয়েছে]

তিন: পোশাকের বুনন ঘন হওয়া; পোশাক স্বচ্ছ না হওয়া:

কারণ কাপড়ের বুনন ঘন না হলে এর দ্বারা আচ্ছাদন সাধিত হয় না। বরং স্বচ্ছ পোষাক নারীকে আরও আকর্ষণীয় ও সুন্দর করে তোলে। এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমার উম্মতের শেষ যামানায় এমন কিছু নারী আসবে যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ। তাদের মাথার উপরে থাকবে খোরাসানি (লম্বা-গলা বিশিষ্ট) উটের কুঁজের মত (অর্থাৎ তারা নিজেদের চুলের সাথে অন্য কাপড় বা পাগড়ী বেঁধে মাথাকে বড় করে ফুটাবে)। তোমরা তাদেরকে লানত কর। কেননা তারা লানতের উপযুক্ত।” অন্য এক রেওয়ায়েতে বর্ধিত অংশ হচ্ছে: “তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। জান্নাতের সুবাসও পাবে না; যদিও জান্নাতের সুবাস এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে।”[সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস]

ইবনে আব্দুল বার্‌র বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝাতে চাচ্ছেন, যে সকল নারী এমন হালকা কিছু পরিধান করে যা শরীরকে আচ্ছাদিত না করে ফুটিয়ে তোলে; এমন নারীরা নামেমাত্র পোশাক পরিহিতা, প্রকৃতপক্ষে এরা উলঙ্গ।[সুয়ুতি ‘তানওয়িরুল হাওয়ালিক’ গ্রন্থে (৩/১০৩) ইবনে আব্দুল বার্‌র থেকে উদ্ধৃত করেছেন]

চার: পোশাকটি ঢিলেঢালা হওয়া, শরীরের কোন কিছু ফুটিয়ে তোলে এমন আঁটসাঁট না হওয়া:

কারণ পোশাক পরার উদ্দেশ্য হচ্ছে- ফিতনা (আকর্ষণ) রোধ করা। ঢিলেঢালা পোশাক ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। আঁটসাঁট পোশাক যদিও চামড়ার রঙ ঢেকে রাখে, কিন্তু এটি নারী দেহের কিংবা দেহের অংশ বিশেষের গঠন-প্রকৃতি ফুটিয়ে তোলে এবং পুরুষের চোখে চিত্রিত করে। এতেই রয়েছে অনৈতিকতা ও অনৈতিকতার দিকে আহ্বান; যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। তাই পোশাক প্রশস্ত হওয়া আবশ্যকীয়। উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে একটি মোটা মিশরীয় পোশাক উপহার দিলেন; যে পোশাকটি দিহয়া-কালবী তাঁকে উপহার দিয়েছিল। সে পোশাকটি আমি আমার স্ত্রীকে পরতে দিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: তুমি সেই মিশরী পোশাকটি পরছ না কেন? আমি বললাম: আমি আমার স্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি বললেন: তাকে আদেশ দিবে যাতে করে এই পোশাকের নীচে একটি শেমিজ পরে। কেননা আমার আশংকা হচ্ছে­– এই পোশাকটি তার হাড্ডির আকৃতি ফুটিয়ে তুলবে।”[হাদিসটি আল-যিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-আহাদিস আল-মুখতারা’ (১/৪৪১) গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ ও বাইহাকী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন]।

পাঁচ: পোশাকটি সুগন্ধি মাখানো কিংবা ধূপায়িত না হওয়া:

কারণ অনেক হাদিসে, নারীরা যখন ঘর থেকে বের হয় তখন সুগন্ধি লাগানো থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এখানে আমরা সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করব:

১. আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে নারী সুগন্ধি মেখে (পুরুষ) জনসমষ্টির পাশ দিয়ে গমন করে যাতে করে তার সুগন্ধি তাদের নাকে লাগে সে নারী ব্যভিচারী।”

২. যয়নব আল-সাকাফিয়্যা থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যদি তোমাদের কেউ (সম্বোধন নারীকে) মসজিদে আসতে চায় সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে”।

৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে নারী ধূপ দ্বারা সুবাসিত হয়েছে সে যেন আমাদের সাথে শেষ-এশার নামাযে হাযির না হয় (উদ্দেশ্য হচ্ছে- এশার নামায; যেহেতু মাগরিবের নামাযকেও ‘এশা’ বলা হয়, সেজন্য শেষ-এশা বলেছেন)”।

৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) সম্পর্কে মূসা বিন ইয়াসার বর্ণনা করেন যে: এক নারী তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যার গায়ে থেকে তীব্র সুঘ্রাণ আসছিল। তখন তিনি বললেন: ওহে পরাক্রমশালীর বান্দী, তুমি মসজিদে যেতে চাও? মহিলাটি বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: মসজিদে যাওয়ার জন্যই সুগন্ধি মেখেছ? মহিলাটি বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি ফিরে যাও এবং গোসল কর। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে নারী তীব্র সুঘ্রাণ নিয়ে মসজিদে আসবে আল্লাহ্‌ তার নামায কবুল করবেন না; যতক্ষণ না সে নারী বাড়ীতে ফিরে গিয়ে গোসল করে আসে।”

এ হাদিসগুলো থেকে আমাদের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ পেশ করার প্রক্রিয়া হচ্ছে– এ উক্তিগুলোর ব্যাপকতা। যেহেতু ‘সুগন্ধি মাখানো’ বা ‘সুগন্ধি লাগানো’ কথাটি শরীরে সুগন্ধি লাগানো এবং জামা-কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষতঃ তৃতীয় হাদিসে ধূপধুনার কথা বলা হয়েছে। ধূপধুনা দেহের চেয়ে পোশাকে বেশি দেয়া হয় এবং এটি পোশাকের জন্য খাস।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সুস্পষ্ট। যেহেতু সুগন্ধি যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে তোলে। আলেমগণ সুন্দর পোশাক, চোখে পড়ে এমন অলংকার, উৎকট সাজগোজ এবং পুরুষদের সাথে অবাধ-মেলামেশাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।[দেখুন: ফাতহুল বারী (২/২৭৯)]

ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: “এ হাদিস থেকে মসজিদে গমনেচ্ছু নারীর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম জানা যায়। যেহেতু সুগন্ধি পুরুষের যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে।[আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত প্রথম হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘আল-মুনাওয়ি’ তাঁর ‘ফায়যুল কাদির’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন]

ছয়: পুরুষের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া:

যেহেতু বেশ কিছু সহিহ হাদিসে পোশাক-আশাকে কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীকে লানত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যে হাদিসগুলো জানি সেগুলো থেকে কিছু আপনার কাছে তুলে ধরছি:

১। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলার পোশাক পরিধানকারী পুরুষকে এবং পুরুষের পোশাক পরিধানকারী নারীকে লানত করেছেন।”।

২। আব্দুল্লাহ্‌ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: “যে নারী পুরুষের সাথে সাদৃশ্য ধারণ করে কিংবা যে পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য ধারণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”

৩. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর রূপ ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের রূপ ধারণকারী নারীদেরকে লানত করেছেন”। তিনি আরও বলেছেন: “তাদেরকে তোমাদের গৃহ থেকে বের করে দাও”। ইবনে আব্বাস আরও বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন এবং উমর (রাঃ) অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে– “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের সাথে সাদৃশ্যগ্রহণকারী পুরুষ ও পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারীদেরকে লানত করেছেন।”

৪. আব্দুল্লাহ্‌ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাদের দিকে তাকাবেন না: পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারী এবং দাইয়্যুস (ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয় যে পুরুষ)।”

৫. ইবনে আবু মুলাইকা (তাঁর নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ্‌ বিন উবাইদুল্লাহ্‌) বলেন: আয়েশা (রাঃ) কে বলা হল: কোন নারী কি (পুরুষের) স্যান্ডেল পরতে পারে? তিনি বললেন: “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারীদের উপর লানত করেছেন।”

এই হাদিসগুলোতে নারীদের জন্য পুরুষের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা এবং পুরুষদের জন্য নারীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই সাদৃশ্য গ্রহণ পোশাক-পরিচ্ছদকে এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে; শুধু প্রথম হাদিসটি ছাড়া। সে হাদিসটি এককভাবে পোশাকের ব্যাপারে।

সাত: কাফের নারীদের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া:

শরিয়তের প্রতিষ্ঠিত বিধান হচ্ছে– মুসলিম নর-নারীর জন্য কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা নাজায়েয; সেটা তাদের উপাসনার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা তাদের উৎসবের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা তাদের নিজস্ব পোশাকাদির ক্ষেত্রে হোক। এটি ইসলামী শরিয়তের মহান একটি নীতি। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হচ্ছে– অনেক মুসলমান এই নীতিকে লঙ্ঘন করছেন; এমনকি যারা দ্বীন পালনে সচেতন, দাওয়াতী কাজে তৎপর তারাও নিজেদের অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, কিংবা সময়ের স্বভাবে গা ভাসিয়ে, কাফের ইউরোপের অনুকরণে এ নীতি লঙ্ঘন করছেন। যার ফলে, এটি মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া, দুর্বল হয়ে পড়া, তাদের উপর বিধর্মীদের আধিপত্য অর্জন করা ও উপনিবেশবাদের শিকার হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। “নিশ্চয় আল্লাহ্‌ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে”[সূরা রাদ, আয়াত: ১১] হায়, তারা যদি বুঝত।

সকলের জানা উচিত, এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিটির শুদ্ধতার পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর অসংখ্য দলিল রয়েছে। যদিও কুরআনের দলিলগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ; কিন্তু সুন্নাহ্‌তে সেগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে, যেভাবে ব্যাখ্যা সর্বদা সুন্নাহ্‌তে এসে থাকে।

আট: পোশাকটি খ্যাতি অর্জনের জন্য না হওয়া:

দলিল হচ্ছে ইবনে উমর (রাঃ) এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার জন্য পোশাক পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাকে আগুনে জ্বালাবেন”।[‘হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা’ (পৃষ্ঠা ৫৪-৬৭) সংকলিত]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।IslamQA No. 6991= শরিয়তসম্মত হিজাবের বৈশিষ্ট্যাবলি,

প্রশ্ন


ইসলামী হিজাবের যে বৈশিষ্ট্যগুলো থাকা অপরিহার্য সেগুলো কি কি? কারণ হিজাবের হরেক রকম মডেল রয়েছে। ডেনমার্কের নাগরিক আমার এক বান্ধবী আছে। যিনি কিছুদিন পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। (আলহামদু লিল্লাহ) ইসলাম গ্রহণ করে তিনি খুশি। তিনি হিজাব পরতে চান।
আশা করছি, আপনি আমাদেরকে জানাবেন যে, ‘ হিজাব সর্বাঙ্গ-আচ্ছাদনকারী লম্বা পোশাক (জিলবাব) হওয়া আবশ্যক’ এ বিষয়টি কোথায় উদ্ধৃত আছে? তিনি আপনার জবাবের খুবই মুখাপেক্ষী।
উত্তর
আলহামদু লিল্লাহ।.

শাইখ আলবানী (রহঃ) বলেন:

হিজাবের শর্তাবলি হচ্ছে:

এক: সমস্ত শরীর ঢেকে রাখা; শুধু যে অংশটুকুর ব্যাপারে ব্যতিক্রম বিধান এসেছে সেইটুকু ছাড়া:

এই শর্তটি আল্লাহ্‌ তাআলার এ বাণীতে রয়েছে: “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনদের নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাব (সর্বাঙ্গ আচ্ছাদনকারী পোশাক) এর একটা অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয় (যাতে করে গোটা দেহ ঢেকে যায় একটি চোখ বা দুইটি চোখ ছাড়া)। এতে করে তাদেরকে (স্বাধীন নারী হিসেবে) চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৫৯]

প্রথম আয়াতে স্পষ্টভাবে সকল সাজ-সজ্জা (তথা সাজগোজের অঙ্গসমূহ) ঢেকে রাখা ও পর-পুরুষের সামনে সে সবের কোন কিছু প্রকাশ না-করা আবশ্যকীয় হওয়ার কথা উল্লেখ আছে। তবে, অনিচ্ছাকৃতভাবে যা প্রকাশ হয়ে পড়ে সেটার কারণে তারা গুনাহগার হবে না; যদি তারা অনতিবিলম্বে সেটা ঢেকে নেয়।

ইবনে কাছির (রহঃ) তাঁর তাফসিরে বলেন:

অর্থাৎ পর-পুরুষকে সাজ-সজ্জার কোন কিছু দেখাবে না। তবে, যা লুকিয়ে রাখা সম্ভবপর নয় সেটা ছাড়া। ইবনে মাসউদ বলেন: যেমন চাদর ও কাপড়-চোপড়। অর্থাৎ আরব নারীরা যে পদ্ধতিতে মাথা-বন্ধনী ব্যবহার করত; যা দিয়ে নারী তার পোশাককে ঢেকে রাখত। পোশাকের নীচ দিয়ে যে অংশটুকু প্রকাশ হয়ে পড়ে তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা সেটা ঢেকে রাখা সম্ভবপর নয়।

দুই: পোশাকটি নিজে কারুকাজ খচিত না হওয়া:

যেহেতু আল্লাহ্‌ বলেছেন: “তারা যেন তাদের সজ্জা প্রকাশ না করে”। এ বাণীটি এর ব্যাপকতা দিয়ে বাহ্যিক পোশাককেও অন্তর্ভুক্ত করে; যদি সে পোশাক নারীর দিকে পুরুষের দৃষ্টি আকর্ষক নকশাবিশিষ্ট হয়। এর সপক্ষে প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর। প্রাচীন জাহেলী যুগের মত নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িও না।”[সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৩] এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না (অর্থাৎ তাদের পরিণতি জিজ্ঞাসার যোগ্য নয়): যে ব্যক্তি (মুসলমানদের) দল ত্যাগ করে ইমাম বা রাষ্ট্রপ্রধানের অবাধ্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। যে দাসী বা দাস পালিয়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। যে নারীর স্বামী তার পার্থিব জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করে দিয়ে সফরে বেরিয়েছে, সে চলে যাওয়ার পর স্ত্রী নিজের রূপ-সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়িয়েছে; এদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না।”[মুসতাদরাকে হাকেম (১/১১৯), মুসনাদে আহমাদ (৬/১৯) গ্রন্থে ফুযালা বিনতে উবাইদ এর হাদিস হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, সনদ সহিহ এবং হাদিসটি ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থেও রয়েছে]

তিন: পোশাকের বুনন ঘন হওয়া; পোশাক স্বচ্ছ না হওয়া:

কারণ কাপড়ের বুনন ঘন না হলে এর দ্বারা আচ্ছাদন সাধিত হয় না। বরং স্বচ্ছ পোষাক নারীকে আরও আকর্ষণীয় ও সুন্দর করে তোলে। এ প্রসঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আমার উম্মতের শেষ যামানায় এমন কিছু নারী আসবে যারা পোশাক পরা সত্ত্বেও উলঙ্গ। তাদের মাথার উপরে থাকবে খোরাসানি (লম্বা-গলা বিশিষ্ট) উটের কুঁজের মত (অর্থাৎ তারা নিজেদের চুলের সাথে অন্য কাপড় বা পাগড়ী বেঁধে মাথাকে বড় করে ফুটাবে)। তোমরা তাদেরকে লানত কর। কেননা তারা লানতের উপযুক্ত।” অন্য এক রেওয়ায়েতে বর্ধিত অংশ হচ্ছে: “তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। জান্নাতের সুবাসও পাবে না; যদিও জান্নাতের সুবাস এত এত দূর থেকে পাওয়া যাবে।”[সহিহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিস]

ইবনে আব্দুল বার্‌র বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুঝাতে চাচ্ছেন, যে সকল নারী এমন হালকা কিছু পরিধান করে যা শরীরকে আচ্ছাদিত না করে ফুটিয়ে তোলে; এমন নারীরা নামেমাত্র পোশাক পরিহিতা, প্রকৃতপক্ষে এরা উলঙ্গ।[সুয়ুতি ‘তানওয়িরুল হাওয়ালিক’ গ্রন্থে (৩/১০৩) ইবনে আব্দুল বার্‌র থেকে উদ্ধৃত করেছেন]

চার: পোশাকটি ঢিলেঢালা হওয়া, শরীরের কোন কিছু ফুটিয়ে তোলে এমন আঁটসাঁট না হওয়া:

কারণ পোশাক পরার উদ্দেশ্য হচ্ছে- ফিতনা (আকর্ষণ) রোধ করা। ঢিলেঢালা পোশাক ছাড়া এটি রোধ করা সম্ভব নয়। আঁটসাঁট পোশাক যদিও চামড়ার রঙ ঢেকে রাখে, কিন্তু এটি নারী দেহের কিংবা দেহের অংশ বিশেষের গঠন-প্রকৃতি ফুটিয়ে তোলে এবং পুরুষের চোখে চিত্রিত করে। এতেই রয়েছে অনৈতিকতা ও অনৈতিকতার দিকে আহ্বান; যা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। তাই পোশাক প্রশস্ত হওয়া আবশ্যকীয়। উসামা বিন যায়েদ (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে একটি মোটা মিশরীয় পোশাক উপহার দিলেন; যে পোশাকটি দিহয়া-কালবী তাঁকে উপহার দিয়েছিল। সে পোশাকটি আমি আমার স্ত্রীকে পরতে দিলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: তুমি সেই মিশরী পোশাকটি পরছ না কেন? আমি বললাম: আমি আমার স্ত্রীকে দিয়েছি। তিনি বললেন: তাকে আদেশ দিবে যাতে করে এই পোশাকের নীচে একটি শেমিজ পরে। কেননা আমার আশংকা হচ্ছে­– এই পোশাকটি তার হাড্ডির আকৃতি ফুটিয়ে তুলবে।”[হাদিসটি আল-যিয়া আল-মাকদিসি ‘আল-আহাদিস আল-মুখতারা’ (১/৪৪১) গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ ও বাইহাকী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন]।

পাঁচ: পোশাকটি সুগন্ধি মাখানো কিংবা ধূপায়িত না হওয়া:

কারণ অনেক হাদিসে, নারীরা যখন ঘর থেকে বের হয় তখন সুগন্ধি লাগানো থেকে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এখানে আমরা সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করব:

১. আবু মুসা আল-আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে নারী সুগন্ধি মেখে (পুরুষ) জনসমষ্টির পাশ দিয়ে গমন করে যাতে করে তার সুগন্ধি তাদের নাকে লাগে সে নারী ব্যভিচারী।”

২. যয়নব আল-সাকাফিয়্যা থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যদি তোমাদের কেউ (সম্বোধন নারীকে) মসজিদে আসতে চায় সে যেন সুগন্ধি স্পর্শ না করে”।

৩. আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে নারী ধূপ দ্বারা সুবাসিত হয়েছে সে যেন আমাদের সাথে শেষ-এশার নামাযে হাযির না হয় (উদ্দেশ্য হচ্ছে- এশার নামায; যেহেতু মাগরিবের নামাযকেও ‘এশা’ বলা হয়, সেজন্য শেষ-এশা বলেছেন)”।

৪. আবু হুরায়রা (রাঃ) সম্পর্কে মূসা বিন ইয়াসার বর্ণনা করেন যে: এক নারী তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল যার গায়ে থেকে তীব্র সুঘ্রাণ আসছিল। তখন তিনি বললেন: ওহে পরাক্রমশালীর বান্দী, তুমি মসজিদে যেতে চাও? মহিলাটি বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: মসজিদে যাওয়ার জন্যই সুগন্ধি মেখেছ? মহিলাটি বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি ফিরে যাও এবং গোসল কর। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে নারী তীব্র সুঘ্রাণ নিয়ে মসজিদে আসবে আল্লাহ্‌ তার নামায কবুল করবেন না; যতক্ষণ না সে নারী বাড়ীতে ফিরে গিয়ে গোসল করে আসে।”

এ হাদিসগুলো থেকে আমাদের বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণ পেশ করার প্রক্রিয়া হচ্ছে– এ উক্তিগুলোর ব্যাপকতা। যেহেতু ‘সুগন্ধি মাখানো’ বা ‘সুগন্ধি লাগানো’ কথাটি শরীরে সুগন্ধি লাগানো এবং জামা-কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। বিশেষতঃ তৃতীয় হাদিসে ধূপধুনার কথা বলা হয়েছে। ধূপধুনা দেহের চেয়ে পোশাকে বেশি দেয়া হয় এবং এটি পোশাকের জন্য খাস।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণ সুস্পষ্ট। যেহেতু সুগন্ধি যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে তোলে। আলেমগণ সুন্দর পোশাক, চোখে পড়ে এমন অলংকার, উৎকট সাজগোজ এবং পুরুষদের সাথে অবাধ-মেলামেশাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।[দেখুন: ফাতহুল বারী (২/২৭৯)]

ইবনে দাকীকুল ঈদ বলেন: “এ হাদিস থেকে মসজিদে গমনেচ্ছু নারীর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা হারাম জানা যায়। যেহেতু সুগন্ধি পুরুষের যৌন কামনাকে চাঙ্গা করে।[আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত প্রথম হাদিসের ব্যাখ্যায় ‘আল-মুনাওয়ি’ তাঁর ‘ফায়যুল কাদির’ গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন]

ছয়: পুরুষের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া:

যেহেতু বেশ কিছু সহিহ হাদিসে পোশাক-আশাকে কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারীকে লানত করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা যে হাদিসগুলো জানি সেগুলো থেকে কিছু আপনার কাছে তুলে ধরছি:

১। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলার পোশাক পরিধানকারী পুরুষকে এবং পুরুষের পোশাক পরিধানকারী নারীকে লানত করেছেন।”।

২। আব্দুল্লাহ্‌ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি তিনি বলেন: “যে নারী পুরুষের সাথে সাদৃশ্য ধারণ করে কিংবা যে পুরুষ নারীদের সাথে সাদৃশ্য ধারণ করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”

৩. ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর রূপ ধারণকারী পুরুষ ও পুরুষের রূপ ধারণকারী নারীদেরকে লানত করেছেন”। তিনি আরও বলেছেন: “তাদেরকে তোমাদের গৃহ থেকে বের করে দাও”। ইবনে আব্বাস আরও বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন এবং উমর (রাঃ) অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে– “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের সাথে সাদৃশ্যগ্রহণকারী পুরুষ ও পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারীদেরকে লানত করেছেন।”

৪. আব্দুল্লাহ্‌ বিন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন শ্রেণীর লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাদের দিকে তাকাবেন না: পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারী এবং দাইয়্যুস (ব্যভিচারকে প্রশ্রয় দেয় যে পুরুষ)।”

৫. ইবনে আবু মুলাইকা (তাঁর নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ্‌ বিন উবাইদুল্লাহ্‌) বলেন: আয়েশা (রাঃ) কে বলা হল: কোন নারী কি (পুরুষের) স্যান্ডেল পরতে পারে? তিনি বললেন: “রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষের সাথে সাদৃশ্য-গ্রহণকারী নারীদের উপর লানত করেছেন।”

এই হাদিসগুলোতে নারীদের জন্য পুরুষের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা এবং পুরুষদের জন্য নারীদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এই সাদৃশ্য গ্রহণ পোশাক-পরিচ্ছদকে এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে; শুধু প্রথম হাদিসটি ছাড়া। সে হাদিসটি এককভাবে পোশাকের ব্যাপারে।

সাত: কাফের নারীদের পোশাকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ না হওয়া:

শরিয়তের প্রতিষ্ঠিত বিধান হচ্ছে– মুসলিম নর-নারীর জন্য কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করা নাজায়েয; সেটা তাদের উপাসনার ক্ষেত্রে হোক, কিংবা তাদের উৎসবের ক্ষেত্রে হোক, কিংবা তাদের নিজস্ব পোশাকাদির ক্ষেত্রে হোক। এটি ইসলামী শরিয়তের মহান একটি নীতি। কিন্তু, দুঃখের বিষয় হচ্ছে– অনেক মুসলমান এই নীতিকে লঙ্ঘন করছেন; এমনকি যারা দ্বীন পালনে সচেতন, দাওয়াতী কাজে তৎপর তারাও নিজেদের অজ্ঞতাবশতঃ কিংবা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, কিংবা সময়ের স্বভাবে গা ভাসিয়ে, কাফের ইউরোপের অনুকরণে এ নীতি লঙ্ঘন করছেন। যার ফলে, এটি মুসলমানদের পিছিয়ে পড়া, দুর্বল হয়ে পড়া, তাদের উপর বিধর্মীদের আধিপত্য অর্জন করা ও উপনিবেশবাদের শিকার হওয়ার অন্যতম একটি কারণ। “নিশ্চয় আল্লাহ্‌ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে”[সূরা রাদ, আয়াত: ১১] হায়, তারা যদি বুঝত।

সকলের জানা উচিত, এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিটির শুদ্ধতার পক্ষে কুরআন-সুন্নাহর অসংখ্য দলিল রয়েছে। যদিও কুরআনের দলিলগুলো ব্যাখ্যাসাপেক্ষ; কিন্তু সুন্নাহ্‌তে সেগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে, যেভাবে ব্যাখ্যা সর্বদা সুন্নাহ্‌তে এসে থাকে।

আট: পোশাকটি খ্যাতি অর্জনের জন্য না হওয়া:

দলিল হচ্ছে ইবনে উমর (রাঃ) এর হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার জন্য পোশাক পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাকে লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন, অতঃপর তাকে আগুনে জ্বালাবেন”।[‘হিজাবুল মারআতিল মুসলিমা’ (পৃষ্ঠা ৫৪-৬৭) সংকলিত]

আল্লাহ্‌ই সর্বজ্ঞ।

Want your school to be the top-listed School/college in Jessore?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Address


Jessore, Khulna Division
Jessore
7444