১০ মিনিট কুরআন ও হাদিস 10 minutes Quran and hadith
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ১০ মিনিট কুরআন ও হাদিস 10 minutes Quran and hadith, Education, Jessore.
28/09/2024
পৃথিবীর প্রথম মানব আদম এবং হাওয়ার জীবনকাল
ইসলামী শিক্ষায় পৃথিবীর প্রথম মানব আদম (আঃ) এবং তাঁর স্ত্রী হাওয়ার জীবনের ব্যাপারে কিছু তথ্য উল্লেখ আছে, তবে তাদের সঠিক জীবনকাল নিয়ে কুরআন বা হাদিসে নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইসলামী ঐতিহ্য এবং কিছু বর্ণনা থেকে ধারণা করা হয় যে, আদম (আঃ) প্রায় ৯৩০ বছর বেঁচে ছিলেন।
আদম (আঃ)-এর জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো:
সৃষ্টি: আল্লাহ নিজ হাতে মাটি থেকে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন এবং তাকে বিশেষ সম্মান দেন। আদম (আঃ) ছিলেন প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী।
জ্ঞান: আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সমস্ত জিনিসের নাম ও জ্ঞান শিক্ষা দেন, যা ফেরেশতাদেরও শেখানো হয়নি। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাকে মানবজাতির শ্রেষ্ঠত্ব দেখান।
বেহেশতে বসবাস: আল্লাহ আদম এবং হাওয়াকে জান্নাতে স্থান দিয়েছিলেন, তবে তারা শয়তানের প্ররোচনায় নিষিদ্ধ গাছের ফল খাওয়ার কারণে পৃথিবীতে প্রেরিত হন।
পৃথিবীতে আগমন: পৃথিবীতে আসার পর আদম (আঃ) ও হাওয়া মানবজাতির প্রথম বাবা-মা হয়ে উঠলেন এবং তাদের সন্তানদের মাধ্যমে মানবজাতির বিস্তার শুরু হয়।
জীবনকাল: আদম (আঃ)-এর জীবনকাল নিয়ে ইসলামী ঐতিহ্যে কিছু বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি প্রায় ৯৩০ বছর বেঁচে ছিলেন।
আদম (আঃ) ও হাওয়ার জীবনের বর্ণনা কুরআন এবং হাদিসে আল্লাহর সৃষ্টি, মানুষের দায়িত্ব এবং পৃথিবীতে মানবজাতির শুরু সম্পর্কে বিভিন্ন শিক্ষা দেয়।
28/09/2024
কেন আদম এবং হাওয়াকে বেহেশত থেকে দুনিয়াতে পাঠানো হলো
আদম এবং হাওয়াকে বেহেশত থেকে পৃথিবীতে প্রেরণ করার ঘটনা ইসলামিক শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ববহ। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ আদমকে (আঃ) এবং হাওয়াকে বেহেশতে স্থান দিয়েছিলেন এবং সেখানে তাদের সবকিছুই ছিল পরিতৃপ্তির জন্য। তবে আল্লাহ তাদের একটি বিশেষ নিষেধাজ্ঞা দেন, যাতে তারা একটি নির্দিষ্ট গাছের ফল না খায়। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেন এবং সেই গাছের ফল খান।
এ ঘটনার পর আল্লাহ আদম (আঃ) এবং হাওয়াকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। কুরআনে বলা হয়েছে, এটি মূলত তাদের জন্য একটি পরীক্ষার অংশ ছিল, যার মাধ্যমে মানবজাতির পৃথিবীতে বসবাস শুরু হয়। আদম এবং হাওয়া দুনিয়াতে পাঠানো হলেও, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করেন, এবং দুনিয়া তাদের জন্য একটি পরীক্ষার স্থান হয়ে ওঠে, যেখানে তারা এবং তাদের বংশধররা ভালো-মন্দ কাজের ভিত্তিতে পরকালে পুরস্কৃত বা শাস্তি পাবে।
এভাবে, আদম (আঃ) এবং হাওয়াকে পৃথিবীতে পাঠানোর মূল কারণ হলো মানুষের পরীক্ষার জীবন শুরু করা এবং তাদেরকে নিজেদের কর্মের মাধ্যমে তাদের পরিণতি অর্জনের সুযোগ দেওয়া।
27/09/2024
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি হলো মানবজাতির সূচনা। পবিত্র কুরআন এবং হাদিসে আল্লাহতালা কিভাবে তাদের সৃষ্টি করেছেন তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে। এই সৃষ্টির প্রক্রিয়া নিম্নরূপ:
১. আদম (আ.)-এর সৃষ্টি:
আল্লাহতালা প্রথম মানব, আদম (আ.)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। সুরা আল-বাকারা, সুরা সা'দ, এবং অন্যান্য সুরায় আদমের সৃষ্টির বিষয়ে বলা হয়েছে।
কুরআনে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির উল্লেখ:
আল্লাহ বলেন:
"যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে এক প্রতিনিধি (মানবজাতি) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি..."
(সুরা আল-বাকারা, ২:৩০)
আল্লাহ মাটি থেকে আদমকে সৃষ্টি করেছেন:
"আমি তাকে সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে..."
(সুরা সা'দ, ৩৮:৭۱)
সৃষ্টির প্রক্রিয়া:
আল্লাহতালা আদম (আ.)-কে মাটি (পৃথিবীর বিভিন্ন উপাদান থেকে) সৃষ্টি করেন এবং পরে তাতে জীবনপ্রদায়ক রুহ (আত্মা) ফুঁকে দেন। এই আত্মা ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে আদম (আ.) জীবিত হন এবং প্রথম মানব হিসেবে পৃথিবীতে তার উপস্থিতি ঘটে। ফেরেশতারা আদম (আ.)-এর প্রতি আল্লাহর আদেশ অনুসারে সেজদা (সম্মান প্রদর্শন) করেন, কিন্তু ইবলিস (শয়তান) অহংকারবশত: তা করতে অস্বীকার করে, যা তার পতনের কারণ হয়।
২. হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টি:
আল্লাহতালা আদম (আ.)-এর একাকীত্ব দূর করার জন্য হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করেন। কুরআনে সরাসরি হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টির বিশদ বিবরণ দেওয়া না হলেও, হাদিসে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ আদম (আ.)-এর পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আদম (আ.)-এর সঙ্গী হিসেবে তাকে সৃষ্টি করেন, যাতে তারা একসঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।
কুরআনে হাওয়া (আ.)-এর সৃষ্টির উল্লেখ:
আল্লাহ বলেন:
"তিনি তোমাদেরকে এক প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন, এবং তা থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে সে তার কাছে শান্তি পায়..."
(সুরা আল-আ'রাফ, ৭:১৮৯)
এই আয়াতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, হাওয়া (আ.) আদম (আ.) থেকে সৃষ্টি হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে।
৩. জান্নাতে অবস্থান ও নিষিদ্ধ ফলের ঘটনা:
আল্লাহতালা আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.)-কে প্রথমে জান্নাতে রাখেন। সেখানে তাদেরকে সবকিছু ভোগ করার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে একটি বিশেষ গাছের ফল খেতে নিষেধ করা হয়। শয়তানের প্ররোচনায় তারা সেই নিষিদ্ধ গাছের ফল খেয়ে ফেলেন, যা আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন ছিল। এরপর আল্লাহ তাদের পৃথিবীতে পাঠান, যেখানে মানবজাতির জীবনযাত্রা শুরু হয়।
৪. আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর পৃথিবীতে আগমন:
আল্লাহতালা আদম (আ.) এবং হাওয়া (আ.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন, এবং পৃথিবীই তাদের স্থায়ী আবাসস্থল হয়। আল্লাহ বলেন:
"পরে আদম তার প্রভুর কাছ থেকে কিছু বাক্য শিখে নেন এবং আল্লাহ তার প্রতি ক্ষমাশীল হন..."
(সুরা আল-বাকারা, ২:৩৭)
এভাবে আদম (আ.)-এর মাধ্যমে মানবজাতির শুরু হয় এবং পৃথিবীতে বসবাস শুরু করে।
সারমর্ম:
আল্লাহতালা প্রথম মানব আদম (আ.)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন এবং তার থেকে হাওয়া (আ.)-কে সৃষ্টি করেন। তাদেরকে প্রথমে জান্নাতে রাখা হয়েছিল, পরে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের কারণে পৃথিবীতে প্রেরিত হন। এখান থেকেই মানবজাতির পৃথিবীতে জীবনযাত্রার শুরু হয়, এবং তারা আল্লাহর নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
27/09/2024
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, আল্লাহতালার মানুষ সৃষ্টির পেছনে একটি গভীর এবং মহান উদ্দেশ্য রয়েছে। পবিত্র কুরআনে মানুষ সৃষ্টির রহস্যের বিষয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু প্রধান দিক হলো:
১. ইবাদত (উপাসনা) করা:
আল্লাহ মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। কুরআনের সুরা আয-যারিয়াতে আল্লাহ বলেন:
"আমি জিন এবং মানুষকে শুধু আমার ইবাদত করার জন্য সৃষ্টি করেছি।"
(সুরা আয-যারিয়াত, ৫১:৫৬)
মানুষের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে তাঁর নির্দেশিত পথে জীবনযাপন করা এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা।
২. খিলাফত বা প্রতিনিধি হওয়া:
মানুষকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
"আমি পৃথিবীতে এক প্রতিনিধি (খলিফা) স্থাপন করতে যাচ্ছি।"
(সুরা আল-বাকারা, ২:৩০)
মানুষের দায়িত্ব হলো আল্লাহর আদেশ মেনে পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং আল্লাহর সৃষ্টিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা।
৩. পরীক্ষা নেওয়া:
মানুষের জীবনকে আল্লাহ একটি পরীক্ষা হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি পরীক্ষা করতে পারেন কে ভালো কাজ করে এবং কে খারাপ কাজ করে। আল্লাহ বলেন:
"যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু এবং জীবন, তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য যে তোমাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম।"
(সুরা আল-মুলক, ৬৭:২)
৪. দুনিয়ার জীবন এবং আখিরাতের প্রস্তুতি:
মানুষকে আল্লাহ এই পৃথিবীতে অস্থায়ীভাবে পাঠিয়েছেন, যাতে তারা পরকালের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। দুনিয়ার জীবন হলো আখিরাতের প্রস্তুতির একটি সুযোগ, যেখানে মানুষ আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবনযাপন করে আখিরাতের পুরস্কার লাভ করবে।
৫. জ্ঞান অর্জন:
আল্লাহ মানুষকে জ্ঞান দিয়েছেন এবং এই জ্ঞান ব্যবহার করে মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। মানুষকে সৃষ্টির শুরুতেই আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছিলেন যা ফেরেশতাদেরও জানা ছিল না। সুরা আল-বাকারা'তে উল্লেখ আছে:
"আর আল্লাহ আদমকে সমস্ত বস্তুর নাম শিখিয়ে দিলেন..."
(সুরা আল-বাকারা, ২:৩১)
৬. মহান দয়া ও প্রেমের প্রতীক:
মানুষ সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর মহান দয়া এবং প্রেম প্রকাশ পেয়েছে। তিনি মানুষকে সম্মানিত করেছেন, বিভিন্ন নেয়ামত দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বলেছেন।
৭. সমাজ গঠন:
মানুষকে সামাজিক জীব হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, সহযোগিতা করতে পারে এবং একটি সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করতে পারে। আল্লাহ মানুষকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল করে সৃষ্টি করেছেন, যাতে সমাজবদ্ধ জীবন গড়ে ওঠে।
সংক্ষেপে, আল্লাহতালা মানুষকে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সেই উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে প্রধান হলো আল্লাহর ইবাদত করা, পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আখিরাতের শান্তি লাভ করা এবং একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতামূলক সমাজ গঠন করা।
25/09/2024
ইসলামের শিক্ষামতে, জিন জাতি মানুষের আগে সৃষ্টি হয়েছিল এবং তাদের একটি বিশেষ ইতিহাস রয়েছে। জিনদের সৃষ্টি, ধ্বংস এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন আয়াত এবং হাদিসে আলোচনা রয়েছে। এখানে জিন জাতির সৃষ্টি এবং ধ্বংসের ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. জিনদের সৃষ্টি:
কুরআনে আল্লাহ জিনদের সৃষ্টির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, "আর আমি মানুষকে পিণ্ডযুক্ত মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। আর জিনদের সৃষ্টি করেছি অগ্নিশিখা থেকে" (সুরা আর-রহমান, 55:14-15)।
এটি থেকে বোঝা যায়, জিনদের সৃষ্টি করা হয়েছে আগুনের নিঃশ্বাস বা ধোঁয়াবিহীন আগুন থেকে। তাদের সৃষ্টি মানুষের আগে করা হয়েছে। অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, "আমি মানুষকে সৃষ্টি করার আগে জিনদের সৃষ্টি করেছি প্রচণ্ড উত্তপ্ত অগ্নি থেকে" (সুরা হিজর, 15:27)।
২. জিনদের ধরণ:
জিনরা অদৃশ্য শক্তি হিসেবে পরিচিত, যাদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা মানুষকে দেখতে পায়, কিন্তু মানুষ তাদের দেখতে পায় না।
জিনদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শক্তি ও ক্ষমতা রয়েছে। কিছু জিন উড়তে পারে, কিছু জিন মানুষের মতো কাজ করতে পারে, এবং কিছু জিনের জ্ঞান ও ক্ষমতা আলাদা আলাদা হয়।
ইসলামের শিক্ষায় বলা হয়েছে যে, জিনদেরও স্বাধীন ইচ্ছা রয়েছে, তাই তারা ভালো বা খারাপ কাজ করতে পারে। তাদের মধ্যেও মুসলিম এবং অমুসলিম জিন রয়েছে। যারা আল্লাহর পথে চলে, তাদেরকে মুসলিম জিন বলা হয় এবং যারা শয়তানের পথ অনুসরণ করে, তারা হয় কুফরী জিন বা শয়তান।
৩. ইবলিসের বিদ্রোহ:
ইবলিস (শয়তান) জিন জাতির একজন প্রধান এবং সে আল্লাহর আদেশ অমান্য করে। আল্লাহ যখন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেন, তখন ইবলিসকে আদমের সামনে সিজদা করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ইবলিস অহংকারবশত আদমকে সিজদা করতে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর নিকট থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, "তুমি কি তাকে সিজদা করবে না, যাকে আমি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি?" (সুরা হিজর, 15:33)।
ইবলিসের এই বিদ্রোহের ফলে তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয় এবং আল্লাহ তাকে ধ্বংসের দিন পর্যন্ত পৃথিবীতে অবাধে বিচরণ করার ক্ষমতা দেন।
৪. জিনদের সমাজ এবং জীবনধারা:
জিনদেরও মানুষের মতো জীবনযাপন আছে। তাদের মধ্যে খাওয়া-দাওয়া, বিয়ে-শাদি, সন্তান জন্মদান ইত্যাদি সাধারণ জীবন প্রক্রিয়া রয়েছে।
তারা মানুষের মতোই স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী, তাই তারা আল্লাহর আদেশ পালন করতে পারে বা তাকে অবাধ্য হতে পারে।
জিনদের জীবনকাল মানুষের চেয়ে দীর্ঘ হয়, তবে তারাও মৃত্যুবরণ করে। তাদের মধ্যে ভালো এবং খারাপ, ইমানদার এবং কাফের সব ধরনের জিন রয়েছে।
৫. জিনদের ধ্বংস:
জিনদেরও বিচার দিবস বা কিয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে। যারা আল্লাহর আনুগত্য করবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে, এবং যারা অবাধ্য হবে, তাদের শাস্তি হবে।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টি, অর্থাৎ মানুষ ও জিন উভয়কে আল্লাহর সামনে উপস্থিত করা হবে এবং তাদের সঠিক ও ভুল কাজের বিচার হবে।
৬. জিনদের মানুষের ওপর প্রভাব:
ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে কিছু জিন মানুষকে কষ্ট দিতে বা ধোঁকা দিতে পারে। তবে এর থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন, নামাজ ও কুরআন পাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী, কিছু জিন মানুষকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে এবং তাদের বিপথে পরিচালিত করে। ইবলিস এবং তার অনুসারী শয়তানি জিনরা এর উদাহরণ।
তবে সুরা আন-নাস এবং সুরা আল-ফালাকের মতো কুরআনের আয়াতগুলো পাঠ করে এই ধরণের ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
উপসংহার:
জিন জাতি মানুষের মতোই আল্লাহর সৃষ্টি। তাদের রয়েছে স্বাধীন ইচ্ছা, জীবনের ধরন এবং আল্লাহর প্রতি দায়িত্ব। তারা মানুষের থেকে আলাদা ধরণের সত্তা, তবে তাদের জীবনেরও রয়েছে শুরু এবং শেষ। তাদের কিয়ামতের দিন বিচার করা হবে এবং তাদের কর্ম অনুযায়ী তাদের জন্য শাস্তি বা পুরস্কার নির্ধারণ করা হবে।
25/09/2024
ইসলামের মতে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং তিনি সর্বপ্রথম সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এবং হাদিসে উল্লেখ আছে যে আল্লাহ প্রথমে আসমান (আকাশ) ও জমিন (পৃথিবী) সৃষ্টি করেন এবং তার পরে তিনি অন্যান্য সৃষ্টিগুলো তৈরি করেন। তবে আল্লাহর সৃষ্টির ক্রম নিয়ে বিস্তারিতভাবে কুরআনে যা বলা হয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
আসমান ও জমিন: কুরআনের অনেক আয়াতে উল্লেখ আছে যে আল্লাহ প্রথমে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ বলেন, "তিনি আসমানসমূহ ও জমিনকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন" (সুরা হাদিদ, 57:4)।
আরশ: কুরআনের কিছু আয়াতে আল্লাহর আরশের (সিংহাসন) কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা হুদে বলা হয়েছে, "আর তাঁর আরশ ছিল পানি ওপর" (সুরা হুদ, 11:7)। এটি ইঙ্গিত করে যে পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার আগে পানি এবং আরশ ছিল।
ফেরেশতারা: ফেরেশতারা আসমানের অধিবাসী এবং তারা আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য তৈরি হয়েছেন। তাদের সৃষ্টির সময়কাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো উল্লেখ নেই, তবে তারা পৃথিবীর আগে সৃষ্ট বলে ধরা হয়।
জিন জাতি: ইসলামে বলা হয়েছে, জিন জাতি মানুষ থেকে আগে সৃষ্টি হয়েছিল। আল্লাহ বলেন, "আমি মানুষকে সৃষ্টি করার আগে জিনদের সৃষ্টি করেছি" (সুরা হিজর, 15:27)।
এ থেকে বোঝা যায় যে, পৃথিবী ও মানুষের সৃষ্টির আগে আল্লাহ ফেরেশতাদের, আরশ এবং জিন জাতির মতো বিভিন্ন সৃষ্টির মাধ্যমে তার মহাবিশ্ব সাজিয়েছিলেন।
24/09/2024
Rabi ul Awal 1446
Click here to claim your Sponsored Listing.
Location
Category
Website
Address
Jessore