28/05/2017
অনুগ্রহ করে পড়ুন...
গ্রীক দেবীর আড়ালে.... 💀
আমরা যখন ভাস্কর্য নিয়ে চীৎকার চেচামেচি করছি ঠিক তখন প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর কর্যের বোঝা আরেকদফা ১৪৬০ টাকা বেড়ে ১৩,১৬০ টাকা হয়েছে - সে খবর কেউ রাখছেনা। শত কোটি টাকার বাজেট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে-তা কেউ আমলে নিচ্ছে না। ফলে বাড়ছে লোনের পরিমান। যা বর্তমানে ২.৭২ ট্রিলিয়ন টাকা। সেই লোন পরিশোধের সরকারের প্লান কি-তা কেউ জানতেও চাইছেনা। ৭০০ নদীর প্রায় ৭০ টি মারা গিয়ে বিশাল জনপদ মরু হওয়ার পথে -সেই ভাবনা কারো মাথায় আসছে না। ঢাকার বুড়ি গঙ্গা সত্যিকারের বুড়িমা হয়ে বর্তমানে আইসিওতে আছে- তাকে বাঁচানোর কথা কেউ বলছেনা। গ্রীক দেবীর ভাস্কর্য নিয়ে আইন প্রতিষ্ঠায় উচ্চকিত হচ্ছি। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের ভিতর বন্দি ২৭ লক্ষ মামলা কারো চিন্তায় আসছেনা। ১৯২ টি দেশের প্রায় ৫০ হাজার শহরের মধ্যে এই মুহুর্তে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে দূর্যোগপূর্ণ হলো আমার প্রিয় ঢাকা শহর- যুদ্ধবিধ্বস্ত দামাস্কাসের পরেই যার অবস্থান। সেই খবরটা দেশের কোনো পত্রিকায় আসছেনা। যেখানে মানুষ বাঁচতে পারছেনা-সেখানে কোটি কোটি টাকার বামুন বৃক্ষ বাঁচার মহরত হচ্ছে-কেন-সেই প্রতিবাদটুকু কেউ করছেনা। বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার নিয়ে কেউ তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ছেনা। ভাস্কর্য একবার বসাতে আরেকবার সরাতে কত অর্থ অপচয়ের হচ্ছে- তা নিয়ে কেউ ভাবছেনা। পদ্মা ব্রীজ নিজস্ব অর্থায়নে হলে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প কেন নিজস্ব অর্থায়নে হতে পারেনা- তা কেউ বলছেনা। নাই কোনো শ্লোগান, নাই কোনো মানব বন্ধন। নাই কোনো শাহবাগ, নাই কোনো হেফাজত।
১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বুয়েট থেকে শতবছরের পরেও কেন একজন প্রকৌশলী তৈরি হয়না-যারা নিজের ব্রীজ নিজেরাই তৈরি করতে পারেন। নিজেদের প্রকল্পগুলো নিজেরাই বাস্তবায়ন করতে পারেন। মেডিকেল থেকে কেন একজন ডাক্তার তৈরি হয়না যারা এদেশের ভিআইপিদের চিকিৎসা দিতে পারেন। অথচ, এই বুয়েট,মেডিকেলের ছেলেরা বাইরের দুনিয়ায় আলোর জ্যোতি ছড়াচ্ছেন। প্রতিটি বড় প্রকল্পে কেন নিজের সম্পদের ৮৫ ভাগ চায়না, ভারতের হাতে তোলে দিতে হবে? কেন, কেন, কেন? আর কতদিন এই পরনির্ভরতা? কত দিন দাতার কাছে খয়রাতি করে বাঁচতে হবে। মধুর ক্যান্টিনে শুধু নেতা আর শ্লোগান তৈরি হয়- বলেই আজ এই বেহাল অবস্থা। "ডু নেশন" জাতির জন্য কোনো ডোনেশানের দরকার পড়েনা।
ওয়েলনেস প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার অথচ এই দেশের ৭ মিলিয়ন শিশু পুষ্টিহীনতায় ভূগছে। ৫২ হাজার শিশু বছরে পাচার হচ্ছে। দুলক্ষ শিশু না খেয়ে মারা যাচ্ছে। এই জীবিত মানব শিশুদের নিয়ে কেউ কোনো চিন্তা করছেনা। যত চিন্তা করছে পাথরের ভাস্কর্য নিয়ে। কে গরু খেলো, কে শুকর খেলো তা নিয়ে মাঠ গরম করছি- কিন্তু কত শিশু যে রোজ রাতে কিছুই খেলোনা -সেটা একবার চিন্তাও করছিনা। না সরকার, না শাহবাগ, না হেফাজত।
আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ধর্ম ,অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা ,দারিদ্র প্রতিটি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সহ সব সমস্যার সমাধান এই মুহুর্তে থেমিসের পাছায় আটকে আছে.. গ্রীক দেবীর পাছার হেফাজত নিয়ে আমরা আছি, কিন্তু দেশ আর মানুষের বাঁচা নিয়ে আমরা নাই.....
কার্টেসি:
আরিফ মাহমুদ।