Islamic Librarian

Islamic  Librarian

Share

This is the official fan page of " http://islamiclibrarian.webs.com/ " Download the latest publis Be a fan to subscribe with us. Thanks.

" Islamic Librarian " is the official fan page of "http://islamiclibrarian.webs.com/ "

Here, Download the latest published books and know the update of Islamic World. Click here to join Our Group Also : https://www.facebook.com/groups/islamiclibrarian/

28/04/2020
Photos 20/01/2017
27/05/2013

অসম সমীকরণ এই বাংলাদেশ কারো বা!পের না।
এই বাংলাদেশ আমাদের সবার🇧🇩

17/04/2013

হেফাজতে ইসলাম প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফি বলেছেন, ‘আমি রাজনীতি করি না। কখনও ক্ষমতায় যাব না। কাউকে ক্ষমতায়ও নেব না। আমি চাই সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিক।’

সোমবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিজ মাদরাসায় জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে আল্লামা শফি এ কথা বলেন। হাটহাজারী প্রশাসন সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

আল্লামা শফি বলেন, ‘সরকারের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। যারা আল্লাহ, তার রাসুল এবং ইসলাম ধর্মকে নিয়ে কটুক্তি করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিক। তাহলেই আমরা আমাদের অবস্থানে ফিরে যাবো।’

পুলিশ কর্মকর্তারা আল্লামা শফিকে ১৩ দফা দাবি কমিয়ে আনার অনুরোধ জানালে আল্লামা শফি বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীরা হেফাজতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। আর সরকার আপনাদের পাঠাচ্ছে আমাদের সঙ্গে আলাপ করতে। এটা কি সরকারের সদিচ্ছার পরিচয়?’

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে হেফাজতে ইসলাম প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফির সঙ্গে কথা বলে তাদের দাবি দাওয়া কমিয়ে আনার জন্য চট্টগ্রাম পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরই চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার ডিএসবি রবিউল ইসলাম ও হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ লিয়াকত আলী এ বিষয়ে কথা বলার জন্য হাটহাজারী মাদরাসায় যান।

দাবি দাওয়া কমিয়ে আনার ব্যাপারে প্রশাসনের অনুরোধের বিষয়টি মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় আলোচনা করবেন বলে হেফাজতে প্রধান পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান আল্লামা শাহ আহমদ।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী থানার ওসি লিয়াকত আলীর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলামেইলের কাছে হেফাজতে ইসলাম নেতাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি।

07/04/2013

“আপনি যদি চান যে আপনি যা ভালবাসেন তা থেকে যেন আল্লাহ আপনাকে কখনো বঞ্চিত না করেন,
তাহলে সবসময় সেগুলোর উপর কায়েম থাকুন যেগুলো আল্লাহ ভালবাসেন।”
—- ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)

07/04/2013

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের নিকট পালাক্রমে একদল ফিরিশতা আসে রাতে। অপর দল আসে দিনে। তারা একত্রিত হয় ফজর ও আসরের নামাজের সময়।
অত:পর যে দল তোমাদের মধ্যে রাতে অবস্থান করেছিলো তারা যখন আল্লাহর দরবারে হাজির হবার জন্যে উপরে চলে যায় তখন আল্লাহ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, “তোমরা আমার বান্দাদেরকে কি অবস্থায় রেখে এলে। অথচ তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত।
ফিরিশতাগণ উত্তরে বলেন, আমরা তাদেরকে নামাজ আদায়রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি এবং গিয়েও নামাজরত অবস্থায় দেখতে পেয়েছি।”

{বুখারী, মুসলিম}

ব্যাখ্যা: এ হাদীস দ্বারা ফজর আসরের নামাজের বিশেষ গুরুত্ব অত্যন্ত ফলাও করে বর্ণনা করা হয়েছে। ফজরের সময় রাতের ফিরিশতাগণ কাজ সেরে চলে যাবার সময় এবং দিনের ফিরিশতাগণ কাজে আসার সময় একত্রিত হয়ে থাকেন। এভাবে আসরের নামাজের সময়ও উভয় গ্রুপের ফিরিশতাগণ মু’মিনগণের সঙ্গে জামায়াতে শরীক হয়ে থাকে। ফিরেশতাগণের সঙ্গ লাভের চেয়ে মুমিনের জন্যে অধিকতর আনন্দদায়ক ও সৌভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারে?

21/02/2013

জমজম কূপ সম্বন্ধে কিছু জানা অজানা তথ্য:

১) আল্লাহ তা'লার অসীম কুদরতে ৪০০০ বছর পূর্বে সৃষ্টি হয়েছিল।

২) ভারী মোটরের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ৮০০০ লিটার পানি উত্তোলন করার পরও পানি ঠিক সৃষ্টির সূচনাকালের ন্যায়।

৩) পানির স্বাদ পরিবর্তন হয়নি, জন্মায়নি কোন ছত্রাক বা শৈবাল।

৪) সারাদিন পানি উত্তোলন শেষে, মাত্র ১১ মিনিটেই আবার পূর্ণ হয়ে যায় কূপটি।

৫) এই কূপের পানি কখনও শুকায়নি, সৃষ্টির পর থেকে একই রকম আছে এর পানি প্রবাহ, এমনকি হজ্ব মউসুমে ব্যবহার কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়া সত্বেও এই পানির স্তর কখনও নিচে নামে না।

৬) সৃষ্টির পর থেকে এর গুনাগুণ, স্বাদ ও এর মধ্যে বিভিন্ন উপাদান একই পরিমাণে আছে।

৮) এই কূপের পানির মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমাণ অন্যান্য পানির থেকে বেশী, এজন্য এই পানি শুধু পিপাসা মেটায় তা না, এই পানি ক্ষুধাও নিবারণ করে।

৯) এই পানিতে ফ্লুরাইডের পরিমাণ বেশী থাকার কারণে এতে কোন জীবানু জন্মায় না।

এমন সুন্দর তথ্যগুলো অবশ্যই শেয়ার করতে ভুলবেন না। শেয়ার করতে ছবির নিচে " Share অপশান এ ক্লিক করুন।
আল্লাহর মাহাত্ত্য ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।

20/02/2013

আজ আপনাদের সাথে এমন একটি সাইট শেয়ার করব যে সাইটটিতে আপনি একইসাথে পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ সহীহ হাদিস সমূহের আরবী এবং একইসাথে ইংরেজী অনুবাদ।
সাইটটিতে এখন পর্যন্ত নিম্নোক্ত হাদীসের কিতাবগুলো সন্নিবেশিত হয়েছে। আরো কিতাব প্রক্রিয়াধীন।

সাইটটি হলো: http://sunnah.com/

সাইটটিতে সংযোজিত কিতাবসমূহ:

Sahih al-Bukhari صحيح البخاري
Sahih Muslim صحيح مسلم
Sunan an-Nasa’i سنن النسائي
Sunan Abi Dawud سنن أبي داود
Jami` at-Tirmidhi * جامع الترمذي
Sunan Ibn Majah * سنن ابن ماجه
Muwatta Malik موطأ مالك
40 Hadith Nawawi الأربعون النووية
Riyad as-Salihin رياض الصالحين
Al-Adab Al-Mufrad * الأدب المفرد
40 Hadith Qudsi الحديث القدسي
Shama’il Muhammadiyah الشمائل المحمدية
Bulugh al-Maram * بلوغ المرام

সাইটটিতে প্রবেশ করে ওপরে Search এর ঘরে আরবী বা ইংরেজী লিখে Search এ ক্লিক করলে ইংরেজী অনুবাদসহ হাদীসের আরবী টেক্সট চলে আসবে।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন আপনার কাছের মানুষদের সাথে। ধন্যবাদ।

Sunnah.com - Sayings and Teachings of Prophet Muhammad (صلى الله عليه و سلم) Hadith of the Prophet Muhammad (saws) in English and Arabic

29/01/2013

Fatima Afroj [ https://www.facebook.com/afroj.fatima ] - আপু আপনার প্রশ্ন ছিল :

"As salamu alaikum..vai ami gan bajna haram ai bishoye dolilshoho kichu jante chai....janale kritoggo thakbo..."

আপনার প্রশ্নের উত্তর:

«لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْحِرَ وَالْحَرِيرَ وَالْخَمْرَ وَالْمَعَازِفَ».

‘আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।’ [সহীহ বুখারী : ৫৫৯০]

আনাস রা. উল্লেখ করেছেন, রাসূল সা. বলেছেন উম্মাহকে শাস্তি দেয়া হবে ভূমিকম্প, প্রস্তরবৃষ্টি এবং পশুতে রূপান্তরিত হওয়ার মতো বিকৃতির মাধ্যমে। আর এসব ঘটবে যখন লোকজন মদ পান করবে, নারী শিল্পীদের গান শুনবে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজাবে (আল সিলসিলাহ আস-সহীহাহ, ২২০৩, সূত্র ইবনে আবিদ দুন্ইয়া, দাম আল মালাহী; আততিরমিযি বর্ণিত হাদীস নং-২২১২)।

একটি সহীহ হাদীসে বলা হয়েছে রাসূলের সা. হাসি কখনো মৃদুহাস্যের বেশি হতো না (আহমদ কর্তৃক বর্ণিত)।
আরেক হাদীসে আছে, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিশ্চুপ থাকতেন এবং হাসতেন সামান্য (আহমদ কর্তৃক বর্ণিত)।
আয়েশা রা. বলেছেন, আমি কখনো আল্লাহর রাসূল সা. কে এত বেশি হাসতে দেখি নি যে, তাঁর পেছনের দাঁতগুলো দেখা যেত; তিনি শুধু মৃদু হাসতেন (আবু দাউদ বর্ণিত)।

আপনার আপত্তি মূলত সঙ্গীত এবং এর অনুমোদনকে কেন্দ্র করে। সঙ্গীতের পুরো বিষয়টি বিতর্কিত বাদ্যযন্ত্র সহকারে কিংবা তা ব্যতিরেকে, যেভাবেই পরিবেশন করা হোক না কেন। কোনো কোনো বিষয়ে মুসলিম পণ্ডিত ব্যক্তিরা একমত। আবার অন্যান্য ক্ষেত্রে তা হয় নি। তাদের সব বিজ্ঞজনই একমত যে, লাম্পট্য, অশ্লীলতা ও পাপ কাজে উস্কিয়ে দেয় এমন সব ধরনের গান বা সঙ্গীতই নিষিদ্ধ। বাদ্যযন্ত্র প্রসঙ্গে বলা যায়, এটা নিষিদ্ধ হওয়ার সপক্ষে যে প্রমাণ দেয়া হয়, তা দুর্বল। তাই এ ব্যাপারে যে নীতি প্রযোজ্য, তা হলো সব কিছুই অনুমোদিত বলে ধারণা করা হয়, যে পর্যন্ত না শরিয়াহতে নিষেধাজ্ঞামূলক কোনো কিছু পাওয়া যায়।

আলেমরা একমত, বাজনা ছাড়া গাওয়া এবং সে গানের কথা নিষিদ্ধ না হলে, তা বৈধ বা জায়িয। এ রকম গান কেবল বিশেষ উপলক্ষে গাওয়ার অনুমতি মেলে; যেমন বিয়ে, ভোজ অনুষ্ঠান, কোনো পর্যটক বা তেমন কারো সংবর্ধনা ইত্যাদি। এটা রাসূলের সা. হাদীসের ভিত্তিতে; যাতে বলা হয়েছে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি মেয়েটিকে (বিয়ের কনে) উপহার হিসেবে কোনো জিনিস দিয়েছ? উপস্থিত লোকজন বলল, হ্যাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি একজন গায়িকাকে তার সাথে পাঠিয়েছ? জবাবে আয়েশা রা. বললেন, না। তখন রাসূল সা. বললেন, আনসাররা এমন জনগোষ্ঠী যারা কবিতা ভালোবাসে। তোমার এমন কাউকে পাঠানো উচিত ছিল, যে গান গাইবে : আমরা এসেছি এখানে, তোমাদের কাছে এসেছি, আমাদের স্বাগত জানাও যেভাবে জানাই তোমাদের। এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি একজন (মহিলা) শুধু অন্য মহিলাদের এবং এমন পুরুষ আত্মীয়দের সামনে গাইতে পারে, যাদের সাথে তার বিবাহ নিষিদ্ধ।

বাদ্যযন্ত্রের প্রসঙ্গে বলতে হয়, আলেমরা এ ব্যাপারে একমত নন। কিছু আলেম সব ধরনের সঙ্গীতের অনুমোদন দিয়েছেন, এতে বাজনা থাকুক বা না থাকুক। এমনকি, তারা বাদ্যকে ইসলামে অনুমোদিত বলেও মনে করেন। আলেমদের দ্বিতীয় গ্রুপটি সঙ্গীতের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন কেবল তখনই, বাদ্যযন্ত্র যখন ব্যবহৃত হবে না। আলেমদের তৃতীয় একটি গ্রুপ ঘোষণা দিয়েছেন, বাজনা সাথে থাকুক বা না থাকুক, সব ধরনের সঙ্গীতই নিষিদ্ধ। এমনকি, তারা সঙ্গীতকে হারাম বা মারাত্মক পাপকর্ম বলেও গণ্য করে থাকেন। এ মতের সপক্ষে তারা ইমাম বুখারী বর্ণিত হাদীসের রেফারেন্স দিয়েছেন। আবু মালিক বা আবু আমীর আল আশ্আরীর (সহ-বর্ণনাকারী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন) সূত্রে উল্লি¬খিত এই হাদীসে বলা হয়েছে, আমার উম্মাহর মধ্যে এমন কিছু লোক থাকবে যারা অবৈধ যৌন সম্পর্ক, রেশমি পোশাক পরিধান, মদ্যপান এবং বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারকে মনে করবে বৈধ। যদিও হাদীসটি সহীহ আল বুখারীতে অন্তর্ভুক্ত, এর সূত্র পরম্পরাকে রাসূলুল্ল¬াহ সা.-র সাথে সংযুক্ত করা হয় নি। আর এ কারণে হাদীসটির যথার্থতা বা সত্যতা নাকচ হয়ে যায়। ঠিক এ জন্যই ইবনে হায্ম্ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তদুপরি, হাদীসশাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ এমন অনেক আলেম আলোচ্য হাদীসটির সহ-বর্ণনাকারী হিশাম ইবনে আম্মারকে দুর্বল বা যয়ীফ বলে ঘোষণা করেছেন।

তাছাড়া, এই হাদীসে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারকে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয় নি। কারণ, বৈধ বলে মনে করবে কথাটার দু’টি নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে বলে ইবনুল আরাবীর অভিমত। প্রথমত, এ ধরনের মানুষরা এ সবকিছুকেই (যেসব জিনিসের উল্লেখ রয়েছে) বৈধ মনে করবে। দ্বিতীয়ত, বাদ্যযন্ত্রগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা সীমা লঙ্ঘন করে যাবে। যদি প্রথম অর্থটি বুঝিয়ে থাকে, এমন লোকরা সে কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে অবিশ্বাসী বলে পরিগণিত হবে।

বাস্তবে, একশ্রেণীর লোক যারা বিলাসিতা, মদ্যপান ও সঙ্গীতে গা ভাসিয়ে দেয়, তাদের নিন্দা করা হয়েছে এই হাদীসে। তাই ইবনে মাজাহ এটি নিজের ভাষ্যে বর্ণনা করেছেন আবু মালিক আল আশ্আরী থেকে: আমার অনুসারীদের মধ্য থেকে এমন কিছু লোক হবে, যারা মদ পান করবে এটাকে অন্যান্য নাম দিয়ে; আর তা করবে বাজনা ও নারী শিল্পীদের গান উপভোগের সময়ে। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদেরকে ভূমির উদরস্থ করবেন এবং তাদের পরিণত করবেন বানর ও শূকরে (ইবনে হিব্বান তার ূসহীহ-তে এর উল্লেখ করেছেন)।

ওপরের আলোচনার আলোকে এটা স্পষ্ট, যাঁরা বলে থাকেন গান গাওয়া হারাম, তাঁদের এমন ধারণার ভিত্তি যেসব ধর্মীয় ভাষ্য, সেগুলো হয় দ্ব্যর্থবোধক কিংবা নির্ভরযোগ্য নয়। যেসব হাদীস হযরত মুহাম্মদ সা.-এর মুখ নিঃসৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটাই সঙ্গীত নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। অধিকন্তু এমন সব হাদীসকেই ইবন হাযম, মালিক, ইবনে হাম্বল ও আশ্শাফিয়ীর অনুসারীরা দুর্বল বলে ঘোষণা করেছেন।

কাযী আবু বাকার ইবনুল আরাবী তার কিতাব আল আহকাম-এ বলেছেন, সঙ্গীত নিষিদ্ধ বলে যেসব হাদীসে দেখা যায়, সেগুলোর একটিও নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত নয় (হাদীসশাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমদের দ্বারা)। ইমাম গাযালী রাহ. ও ইবনে আন্নাহ্ভী আল উমদাহ-তে একই অভিমত পোষণ করেছেন। ইবনে তাহিরের বক্তব্য, এসব হাদীসের কোনোটার এমনকি একটি মাত্র বর্ণও সত্য ও নির্ভরযোগ্য বলে প্রমাণিত হয় নি।
আর ইবনে হাযম তো সরাসরি একথা বলতেও দ্বিধা করেন নি যে, এ প্রসঙ্গে বর্ণিত সবক’টি হাদীসই ভুয়া ও বানোয়াট।

সঙ্গীতের বৈধতার পক্ষে যেসব প্রমাণ

প্রথমত, লিখিত প্রমাণগুলো :

তাঁরা তাঁদের যুক্তি তুলে ধরেন মহানবী সা.-এর কয়েকটি নির্ভরযোগ্য হাদীসের ভিত্তিতে। এমন একটি হাদীস হলো, আয়েশা রা. বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) আমার ঘরে এলেন। তখন দুটি বালিকা আমার পাশে বুয়াছ-এর গান গাইছিল [বুয়াছ হলো ইসলাম-পূর্ব যুগে আনসারদের দুটি গোত্র খাযরাজ ও আউসের মধ্যকার যুদ্ধের গল্প]। রাসূল সা. বসে পড়লেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন। তখন আবু বাকার রা. এলেন এবং রাগান্বিত কণ্ঠে আমাকে বললেন, নবীজীর সা. কাছে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র?ূ এবার আল্লাহর নবী সা. তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন, তাদের গাইতে দাও। যখন আবু বাকার রা. অমনোযোগী হলেন, আমি মেয়েগুলোকে সঙ্কেত দিলাম বেরিয়ে যেতে এবং তারা চলে গেল। (আল বুখারী)।

এর থেকে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, মেয়ে দুটি অত কম বয়সী ছিল না যেমনটি দাবি করেছেন কোনো কোনো আলেম। যদি তা হতো, তাহলে আবু বাকার রা. তাদের সাথে এভাবে রাগান্বিত হতেন না। তাছাড়া, এ হাদীসে রাসূল সা. ইহুদিদের এটাই শেখাতে চেয়েছেন যে, ইসলামেও আনন্দের অবকাশ আছে এবং তিনি নিজে প্রেরিত হয়েছেন উদার ও নমনীয় বিধিবিধানসমেত। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে শেখার মতো। আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করা হচ্ছে এই বাস্তবতার প্রতি যে ইসলামকে অন্যদের কাছে তুলে ধরতে হবে এর উদারতা ও মহত্ত্ব উপস্থাপন করে।

অধিকন্তু, আমরা বিষয়টিকে আরো নিশ্চিত করতে আল্লাহর এই কথাগুলোর উদ্ধৃতি দিতে পারি, ‘কিন্তু যখন তারা কোনো ব্যবসাপণ্য কিংবা খেলাধুলা ও আমোদ প্রমোদ দেখে, তারা এগুলোতে মত্ত হয়ে যায় এবং আপনাকে রেখে যায় দাঁড়ানো অবস্থায়। বলুন : আল্লাহর কাছে যা আছে, তা আমোদ ও পণ্যের চেয়ে উত্তম। আর আল্লাহ সর্বোত্তম রিজিকদাতা’। আল-জুমুআহ : ১১)।
এ আয়াতে সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলাকে ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে এক করে দেখেছেন। তিনি এ দুটোর কোনোটার নিন্দা করেন নি। তিনি কেবল ভর্ৎসনা করলেন ওই সাহাবীদের যাঁরা রাসূল সা.কে জুমুআর নামাযের খুতবারত অবস্থায় একা ফেলে চলে গেলেন। তারা ছুটে গিয়েছিলেন ব্যবসার কাফেলার দিকে মনোযোগ দিতে এবং তাঁরা কারওয়া বা এই কাফেলাকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন ঢাকঢোল পিটিয়ে।

দ্বিতীয়ত, ইসলামের চেতনা ও মৌলবস্তুর প্রেক্ষাপটে : এটা তো সত্য যে, আল্লাহতায়ালা এই পার্থিব জীবনের কিছু ভালো জিনিস বনি ইসরাইলের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন তাদের অপকর্মের শাস্তিস্বরূপ।
তিনি বলেন, ইহুদিদের ভুলের দরুন আমরা ওসব ভালো জিনিস তাদের জন্য নিষিদ্ধ করে দিলাম, যেগুলো (এর আগে) তাদের জন্য বৈধ ছিল। আল্লাহর পথে চলতে অনেক বাধা দেয়ার দরুন, তারা তাদের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সুদ নেয়ায় এবং মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করায় এটা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যারা অবিশ্বাসী, তাদের জন্য আমরা প্রস্তুত করেছি বেদনাদায়ক ধ্বংস (আন্ নিসা : ১৬০-১৬১)।

মহানবী সা.কে পৃথিবীতে প্রেরণের আগে সর্বশক্তিমান আল্লাহ পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবগুলোয় তাঁর উল্লেখ করেছেন এভাবে, ‘যারা রাসূলকে অনুসরণ করে, যে নবী পড়তে বা লিখতে পারেন না, যাঁর কথা তৌরাত ও ইনজিলে বর্ণিত আছে বলে দেখতে পাবে, (যেসব কিতাব) তাদের কাছে আছে, তিনি তাদের সৎ কাজের আদেশ দেবেন এবং মন্দ কাজ করতে নিষেধ করবেন। সব ভালো জিনিস তিনি তাদের জন্য বৈধ করবেন এবং নিষিদ্ধ করবেন কেবল মন্দকে (আল-আরাফ : ১৫৭)।

এভাবে, ইসলাম ভালো বা যুক্তিযুক্ত কোনো কিছুকে হালাল বা বৈধ করা থেকে বাদ দেয় নি। এটা হলো, উম্মাহর সামগ্রিক ও চিরন্তন আদর্শের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করুণা প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত। মহান আল্লাহ বলছেন, তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, (ও মুহাম্মদ), ওদের জন্য কী কী বৈধ করা হয়েছে?ূ বল, (সব) ভালো জিনিসই তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে। (আল মায়িদাহ : ৪)

যদি গান গাওয়া মানুষের সহজাত প্রবণতা হয়, ইসলাম তাকে অস্বীকার করার কথা নয়। ইসলাম এসেছে মানুষের প্রবণতাকে পরিশুদ্ধ ও উন্নত করতে। ইবনে তাইমিয়াহ রাহ. বলেছেন, ‘নবী-রাসূলদের পাঠানো হয়েছে মানুষের প্রবণতাকে পরিশ্রুত ও সুশৃঙ্খল করার জন্য। এটাকে বদলে ফেলতে নয়। এটা ওই হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যাতে বলা হয়েছে, যখন আল্লাহর নবী সা. মদিনায় এলেন, তিনি তাদের (মদিনাবাসী) দুদিন ধরে আনন্দ-উৎসব করতে দেখলেন। তিনি বললেন, এসব দিন কিসের? তারা জবাব দিল, আমরা ইসলাম-পূর্ব যুগেও এই দিনগুলোতে আনন্দ করতাম। তিনি বললেন, নিশ্চয়ই, সর্বশক্তিমান আল্লাহ তোমাদের দুটি বিকল্প দিন দিয়েছেন, যেগুলো অনেক উত্তম : এগুলো হচ্ছে, আল আযহা ও আল ফিতরের দিবস (দু ঈদ); এটা আহমদ, আবু দাউদ ও আন্ নাসাই বর্ণিত।
অধিকন্তু, গানকে যদি আনন্দ-বিনোদন হিসেবে বিবেচনা করা হয়, এসব হারাম নয়। এটা ওই সুপ্রচলিত ধারণার অনুসরণে বলা হয়ে থাকে যার বক্তব্য হলো, ক্লান্তি-অবসাদ দূর করা আর আনন্দের জন্য মানুষের কিছু সময় প্রয়োজন। রাসূল সা. হানযালাহকে বলেছিলেন, ও হানযালাহ, তোমার সময়ের একাংশ নিয়োগ কর (পার্থিব বিষয়ে) এবং আরেক অংশ (ইবাদত ও ধ্যানের জন্য)। মুসলিম এ হাদীস উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য, হানযালাহ মনে করতেন, নিজ স্ত্রী-সন্তানদের দিকে মনোযোগ দিলে এবং আল্লাহর নবী সা. থেকে দূরে থাকলে তিনি যে পরিবর্তন বোধ করেন, তার কারণে তিনি মুনাফিক হয়ে গেছেন।
হযরত আলী ইবনে আবু তালিব রা. বলেছেন, কিছু সময় তোমরা নিজেরা আমোদ-প্রমোদ কর। কারণ, মন যদি খুব বেশি চাপের মাঝে থাকে, তা অন্ধ হয়ে যায়।

আবু আদ্-দারদা বলেছেন, আমি কিছু আনন্দ-বিনোদনের মাধ্যমে নিজেকে আবার সতেজ করে তুলি। এটা করি সত্যের পথে নিজেকে আরো শক্তিশালী করার জন্য।
এক ব্যক্তি ইমাম গাযালীকে প্রশ্ন করেছিলেন, গান গাওয়া কি এক ধরনের আমোদ-প্রমোদ নয়? তিনি জবাবে বললেন, হ্যাঁ, তবে বর্তমান জীবনে যা কিছু আছে, সবই নিছক খেলা ও আমোদ। স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে যা কিছু হয়, তার সবই খেলা। তবে যৌনমিলন নিছক খেলা নয়। তা সন্তান উৎপাদনের প্রত্যক্ষ কারণ। আল্লাহর রাসূল (সা.) এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরাম থেকে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সঙ্গীতের অনুমতি থাকার সপক্ষে এই যে প্রমাণগুলো তুলে ধরা হচ্ছে, এগুলো ইসলামের দলিলপত্রের ভিত্তিতেই। আর বিষয়টি এতে স্পষ্ট হয়েছে বলে আশা করা যায়।

এ ছাড়াও মদিনার অধিবাসীরা ছিলেন খুব ধার্মিক ও আল্লাহভীরু। কুরআন-হাদীসের ভাষ্যের শাব্দিক অর্থের অনুসারী যাহিরিয়্যারা এবং দীনের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর যারা, সে সুফীরাও সঙ্গীতের অনুমোদন দিয়েছেন।

ইমাম আশ্-শওকানী তাঁর কিতাব নায়ল-আল আওতার-এ বলেছেন, মদিনার বাসিন্দারা এবং যাহিরিয়্যাহ ও সুফীদের মধ্যে যারা তাদের সাথে একমত, তাদের অভিমত হলো গান গাওয়ার অনুমতি রয়েছে; এমনকি বাঁশি বা তারের কোনো বাদ্যযন্ত্রসহকারে হলেও। আবু মনসুর আল বুগদাদী আশ্-শাফিয়ী বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর গান গাওয়ার মধ্যে মন্দ কিছু দেখেন নি। তিনি নিজে তার দাসদের জন্য গান তৈরি করতেন, আর তারা তাকে সুর করে এগুলো শোনাতো। এটা করা হতো আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী রা.-এর সময়ে। কাযী শুরাইহ্, সাঈদ ইবনে আল মুসাঈব, আতা ইবনে আবু রাবাহ, আয্ যুহরী ও আশ্-শিবীর মতো আবু জাফর আল বুগদাদীও একই ঘটনার উল্লেখ করেছেন।
আর রুওয়াইয়ানি বর্ণনা করেছেন আল কাফ্ফালের সূত্রে মালিক ইবনে আনাস উল্লেখ করেছেন, বাদ্যযন্ত্রসমেত সঙ্গীত পরিবেশন জায়িয। মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে আবু মনসুর আল ফুরানী বলেছেন, বাঁশি বাজানো জায়িয।

আবুল ফযল ইবনে তাহির বর্ণনা করেছেন, তারের বাদ্যযন্ত্র বাজানো যে জায়িয, তা নিয়ে মদিনার মানুষ কখনো বিতর্কে নামেন নি। আল উমদাহ্ কিতাবে ইবনে আন নাহভী বলছেন, এ বিষয়ে মদিনার জনগণ মতৈক্য দেখিয়েছেন। তদুপরি, যাহিরিয়্যাদের সবাইও এ বিষয়ে একমত।

আল মাওয়ার্দী তারসংবলিত বাজনার বৈধতা উল্লেখ করেছেন ইমাম শাফিয়ীর রা. অনুসারী ও ছাত্রদের কয়েকজনের সূত্রে। আবু ইসহাক আশ্-শিরাযীর সূত্রে একই তথ্য দিয়েছেন আবুল ফযল ইবনে তাহির। এ ছাড়া, আর রুওয়াইয়ানী ও আল মাওয়ার্দীর সূত্রে আল ইসনাভীও তার উল্লেখ করেছেন। আবু বাকার ইবনুল আরাবীর সূত্রেও এটা বলা হয়েছে।

এই আলেমদের সবাই মনে করেন, বাদ্যযন্ত্রসহকারে পরিবেশিত সঙ্গীত জায়িয। আর বাদ্যযন্ত্রবিহীন সঙ্গীতের ব্যাপারে আল আদফুভী বলেছেন, আল গাযালী তার ফিকহ সংক্রান্ত কয়েকটি বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ওই ধরনের গানের বিষয়ে আলেমদের মতৈক্য রয়েছে। একই বিষয়ে সাহাবাদের এবং তাবেয়ীনের একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ইবনে তাহির। আল উম্দাহ কিতাবে আন্-নাহভী বলেছেন, সাহাবারা ও তাবেয়ীনের একাংশ গান গাওয়া ও শোনাকে জায়িয মনে করতেন।

শর্তাবলী: গান শোনার বেলায় মেনে চলা উচিত, এমন কয়েকটি শর্ত রয়েছে।
১) সব ধরনের গান শোনার অনুমতি ইসলামে নেই। বরং, ওই গানই জায়িয যা ইসলামের শিক্ষা ও নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিবাজ শাসকদের প্রশংসা আছে যে গানে, তা ইসলামি আদর্শের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ইসলাম সীমালঙ্ঘনকারী ও তাদের দোসর এবং যারা সীমা লঙ্ঘনের প্রতি উদাসীন এ ধরনের সবার বিরুদ্ধে।

২) সঙ্গীত পরিবেশনের ভঙ্গিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটা গানের বক্তব্য ভালো হতে পারে; কিন্তু শিল্পীর পরিবেশন গানটিকে হারাম, সন্দেহযুক্ত কিংবা ঘৃণার বিষয় করে দিতে পারে। যেমন গান গাওয়ার সময়ে অবাঞ্ছিত উত্তেজনা এবং শ্রোতার মধ্যে লালসা ও কামপ্রবৃত্তি সৃষ্টি কিংবা কুকর্মে প্ররোচনা প্রদান করা।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে নবী করীমের সা.-র স্ত্রীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, হে নবীর স্ত্রীরা! তোমরা অন্য কোনো নারীর মতো নও। যদি তোমরা দায়িত্ব পালন কর (আল্লাহর প্রতি), তাহলে কণ্ঠস্বরকে স্নিগ্ধ করো না, পাছে যাদের হৃদয়ে রোগ আছে, তাদের আকাক্সক্ষা জাগে (তোমাদের প্রতি)। তোমরা নিয়মমাফিক স্বাভাবিকভাবে কথা বলবে (আল আহযাব : ৩২)। সুতরাং, স্নিগ্ধ কণ্ঠে এবং সুর সহযোগে ও বিশেষ ভঙ্গিতে পরিবেশিত হয় বলে সঙ্গীতের ব্যাপারে সতর্কতা বাঞ্ছনীয়।

৩) হারাম কোনো কিছু যোগ করে যেন সঙ্গীত পরিবেশিত না হয়। যেমন পানশালা ও নাইট ক্লাবে প্রায়ই দেখা যায় মদ্য পান, নগ্নতা ও নারী-পুরুষে অবাধ মেলামেশা।
৪) ইসলাম ঘোষণা করেছে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সীমালঙ্ঘন নিষিদ্ধ। অবসর বিনোদনের বেলায়ও একথা প্রযোজ্য। মানুষের স্বল্পস্থায়ী জীবনে মন ও হৃদয়ের শূন্যতার দিকে নজর দিতে হয়; আর তা পূরণও করতে হয়। যে কারো জানা থাকা উচিত, সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রত্যেককে তার জীবন, বিশেষ করে যৌবন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন।

কিছু ব্যাপারে নিজেকেই নিজের বিচারক ও মুফতি হতে হয়। যদি কোনো গান কারো যৌন লালসা বা কামনার উদ্রেক করে এবং তাকে বাস্তবজীবন থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়, তার সে গান পরিহার করা উচিত। অসৎ কর্মে প্রলুব্ধ করে ধর্ম, মূল্যবোধ ও হৃদয়ের মারাত্মক ক্ষতি করার দরজা বন্ধ করে দেয়াই সমীচীন। এটা করা গেলে প্রকৃত শান্তি ও স্নিগ্ধতা অনুভব করা সম্ভব হবে।
হারাম শব্দটি নিয়ে খেলার ব্যাপারে সাবধান!

উপসংহারে আমরা বলছি ওই সব সম্মানিত আলেমের উদ্দেশে, যাঁরা হারাম কথাটাকে সহজভাবে নিয়ে তাঁদের লেখা ও ফতোয়ায় অহরহ এটি ব্যবহার করছেন। তাঁদের সজাগ থাকতে হবে যে, তাঁরা যা কিছু বলেন বা করেন, এর সবই আল্লাহতায়ালা লক্ষ করছেন। তাঁদের আরো জানা উচিত, হারাম শব্দটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর অর্থ, বিশেষ কোনো কাজ বা কথার দরুন আল্লাহর শাস্তি প্রাপ্য। তাই নিছক আন্দাজ অনুমান, খেয়ালিপনা, দুর্বল হাদীস, এমনকি পুরনো কোনো গ্রন্থের ভিত্তিতেও হারাম বলা ঠিক নয়। কোনো কিছুকে হারাম বললে এর সমর্থনে কুরআন-হাদীসের সুস্পষ্ট ও সুপ্রতিষ্ঠিত প্রমাণ কিংবা কার্যকর মতৈক্য বা ইজমা থাকতে হবে।

যদি এ দুটো পাওয়া না যায়, তাহলে ওই কথা বা কাজের ক্ষেত্রে সে মৌলিক নীতি প্রয়োগ করা হবে, অনুমতিই বিভিন্ন বিষয়ে প্রাধান্য পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে প্রাথমিক যুগের একজন প্রখ্যাত আলেম থেকে আমরা একটা ভালো দৃষ্টান্ত পাই অনুসরণের জন্য। তিনি হলেন ইমাম মালিক রা.। তিনি বলেছেন, যাঁরা আমাদের পূর্ববর্তী আগের যুগের দীনদার মুসলমান, যারা পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্য উত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তাদের এটা হালাল, আর ওটা হারাম বলার অভ্যাস ছিল না। তারা বলতেন, আমি এমন এমন কাজকে ঘৃণা করি এবং এমন এমন কাজ করে থাকি। আর হারাম-হালাল বলার অভ্যাসের অর্থ, আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলা। তোমরা কি আল্লাহর সে কথা শোন নি যাতে তিনি বলছেন, ‘বলুন, আল্লাহ তোমাদের জন্য যেসব খাদ্যবস্তু প্রেরণ করেছিলেন, তোমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কীভাবে হালাল ও হারাম বানিয়ে নিয়েছিলে? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদের এর অনুমতি দিয়েছেন, নাকি তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে মিথ্যা উদ্ভাবন করছ?’ (সূরা ইউনুস; আয়াত-৫৯)। হালাল হলো যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. বৈধ এবং হারাম হচ্ছে যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. অবৈধ করেছেন।

====================================
যে সমস্ত গান শ্রবণ করা জায়েয :

ঈদের গান শ্রবণ করা: এ হাদীসটি আয়েশা রা. হতে বর্ণিত:

دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلي الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا جَارِيَتَانِ تَضْرِبَانِ بِدَفَّيْنِ (وَفِي رِوَايَةٍ عِنْدِي جَارِيَتَانِ تُغَنِّيَانِ) فَانْتَهَرَهُمَا ابُوْبَكرٍ فَقالَ صَلي الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعْهُنَّ فَانَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيْدًا وَإنَّ عِيْدَنَا هَذا الْيَوْم (رواه البخاري)

একদা রাসূল সা. তাঁর ঘরে প্রবেশ করেন। তখন তার ঘরে দুই বালিকা দফ বাজাচ্ছিল। অন্য রেওয়ায়েতে আছে গান করছিল। আবু বকর রা. তাদের ধমক দেন। তখন রাসূল সা. বললেন: তাদের গাইতে দাও। কারণ প্রত্যেক জাতিরই ঈদের দিন আছে। আর আমাদের ঈদ হল আজকের দিন। (বুখারী)
দফ বাজিয়ে বিয়ে প্রচারের জন্য গান গাওয়া আর তাতে মানুষদের উদ্ধুদ্ধ করা। দলিল: রাসূল সা. বলেছেন:

فَصْلُ ما بَيْنَ الْحَلَالِ وَالْحَرَمِ ضَرْبُ الدَّفِ وَالصَّوْتُ فِي النِّكَاحِ (رواه أحمد)
হারাম ও হলালের মধ্যে পার্থক্য হল দফের বাজনা। এই শব্দে বুঝা যায় যে, সেখানে বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। (আহমাদ)
কাজ করার সময় ইসলামী গান শ্রবণ করা, যাতে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে ঐ গানে যদি দুয়া থাকে। এমনকি রাসূল সা. পর্যন্ত ইবনে রাওয়াহা রা. নামক সাহবীর কবিতা আবৃত্তি করতেন। আর সাথীদেরকে খন্দকের যুদ্ধের সময় পরিখা খনন করতে উদ্ধুদ্ধ করতেন এই বলে যে, হে আল্লাহ কোনই জীবন নেই আখেরাতের জীবন ব্যতীত। তাই আনছার ও মুহাজিরদের ক্ষমা করনি। তখন আনছার ও মুহাজিনগণ উত্তর দিলেন: আমরাই হচ্ছি ঐ ব্যক্তিবর্গ যারা রাসূলের নিকট বাইআত করেছি জিহাদির জন্য যতদিনই আমরা জীবিত থাকিনা কেন।
আর রাসূল সা. সাহাবীদের নিয়ে যখন খন্দক (গর্ত) খনন করছিলেন, তখন ইবনে রাওয়াহা রা. এই কবিতা আবৃত্তি করছিলেন:

আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ না থাকতেন তাহলে আমরা হেদায়েত পেতাম না। আর সিয়ামও পালন করতাম না, আর সালাতও আদায় করতাম না। তাই আমাদের উপর সাকিনা (শান্তি) নাযিল করুন। আর যখন শত্রুদের মুকাবিলা করব তখন আমাদের মজবুত রাখুন। মুশরিকরা আমাদের উপর আক্রমণ করেছে, আর যদি তারা কোন ফিৎনা সৃষ্টি করে, তবে আমরা তা ঠেকাবই। বারে বারে আবাইনা শব্দটি তারা উচ্চ স্বরে উচ্চারণ করছিলেন।

ঐ সমস্ত গান, যাতে আল্লাহর তাওহীদের কথা আছে অথবা রাসূলের সা. মহব্বত ও তার শামায়েল আছে অথবা যাতে জিহাদে উৎসাহিত করা হয় তাতে দৃঢ় থাকতে অথবা চরিত্রকে দৃঢ় করতে উদ্ধুদ্ধ করা হয়। অথবা এমন দাওয়াত দেয়া হয় যাতে মুসলিমদের একে অন্যের প্রতি মহব্বত ও সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। অথবা যাতে ইসলামের মৌলিক নীতি বা সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়। অথবা এই জাতীয় অন্যান্য কথা যা সমাজকে উপকুত করে দ্বীনি আমলের দিকে কিংবা চরিত্র গঠনের জন্য।
ঈদের সময় ও বিয়ের সময় কেবল মাত্র মহিলাদের জন্য তাদের নিজেদের মধ্যে দফ বাজানোর অনুমতি ইসলাম দিয়েছে। যিকরের সময় এটার ব্যবহার ইসলাম কখনই দেয়নি। রাসূল সা. যিকরের সময় কখনই উহা ব্যবহার করেননি। তাঁর পরে তাঁর সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমগণ কখনই তা করেন নি। বরঞ্চ, ভণ্ড সুফি পীররা তা মুবাহ করেছে নিজেদের জন্য। আর জিকরের দফ বাজানকে তারা সুন্নত বানিয়ে নিয়েছে। বরঞ্চ উহা বিদআত। রাসূল সা. বলেছেন:

ايَّاكُمْ وَمُحْدَثاتِ الْاُمُوْرِ فاِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بدْعَةٍ وكُلُّ بِدْعًةٍ ضَلالَةٍ (رواه الترمذي)

তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন সংযোজন করা হতে বিরত থেক। কারণ, প্রতিটি নতুন সংযোজনই বিদআত। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী। (তিরমিযী)

====================================

পাঠক, আপনারা আপনাদের প্রশ্ন আমাদের জানান। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। কখনওবা দলিলসহ উত্তর দিতে গিয়ে বিলম্ব হয়ে যায়। আমরা আপনাদের সাহায্য করতে চাই। আর আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের পছন্দ করেন।

=====================================

প্রশ্নের উত্তর দিলেন :
মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক, ইসলামিক লাইব্রেরিয়ান।

29/01/2013

Taruner GF [ https://www.facebook.com/shanta151189 ] -আপু আপনার প্রশ্ন ছিল :

Vai amr ans den na apnar motamota ki sijday gele meyeder niyom ki? Aktu upokar koren ami confused ooonek?

আপনার প্রশ্নের উত্তর :

পুরুষ ও মহিলাদের নামাজের বিধি-বিধান প্রায় একই রকম যা কিছু প্রার্থক্য সে বিষয়ে বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হল :

১। পুরুষঃ উভয় পায়ের মধ্যখানে ৪ আঙ্গুল (প্রয়োজনে আধা হাতের কম) ফাঁক রাখিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াবেন।
মহিলাঃ পা মিলাইয়া মধ্যখানে ফাঁক না রাখিয়া সোজা হইয়া দাড়াবেন।
২। পুরুষঃ তাকবীরে তাহরিমার* সময় উভয় হাতের তালু ক্বিবলাহর দিকে করিয়া হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক অবস্থায় ক্বিবলাহর দিকে ঝুকাইয়া কান বা চেহারা বরাবর উঠাইবেন, কনুই শরীর হইতে পৃথক রাখিবেন।
মহিলাঃ তাকবীরে তাহরীমার সময় সময় উভয় হাত শাড়ী বা চাদরের ভিতরে রাখিয়া হাতের আঙ্গুল মিলাইয়া হাতের তালু এবং আঙ্গুল ক্বিবলাহ মুখী করিয়া কাঁধ পর্যন্ত উঠাইবেন। কনুইসহ হাত শরীরের সঙ্গে পরিপুর্ণ মিশাইয়া রাখিবেন।
৩। পুরুষঃ তাকবীরে তাহরীমা বলিয়া ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ও কনিষ্ঠাঙ্গুলী দ্বারা বাম হাতের কব্জিকে শক্ত করে ধরিয়া বাকি তিনটি আঙ্গুল বাম হাতের বাহুর উপর সোজা রাখিয়া বাম হাতের আঙ্গুলগুলি একত্র করিয়া নাভীর নীচে হাত বাঁধিবেন।
মহিলাঃ তাকবীরে তাহরীমাহ বলিয়া বাম হাতের আঙ্গুল মিলিতবস্থায় বুকের উপর রাখিয়া ডান হাতেরু তালু মিলিতবস্থায় বাম হাতের উপর রাখিবেন।
৪। পুরুষঃ রুকু করিবার সময় এমনভাবে ঝুঁকিবেন, যেন মাথা, পিঠ এবং কোমর বরাবর হইয়া যায়।
মহিলাঃ এই পরিমাণ ঝুঁকিবেন যাহাতে হাত হাঁটু পর্যন্ত পৌঁছে, কোমর, পিঠ, মাথা বরাবর হওয়ার প্রয়োজন নেই।
৫। পুরুষঃ রুকুর সময় দুই হাতের আঙ্গুল হাঁটু শক্ত করিয়া ধরিবেন।
মহিলাঃ হাতের মিলাইয়া হাটু পর্যন্ত পৌঁছাইবেন।
৬। পুরুষঃ বাজু, কনুই, বাহু রুকু অবস্থায় পাজর, পেট, উরু হইতে পৃথক রাখিবেন।
মহিলাঃ বাজু বগলের সঙ্গে কনুই এবং হাত পেট ওবং উরুর সঙ্গে ভালভাবে চাপাইয়া রাখিবেন।
৭। পুরুষঃ সেজদাবস্থায় পেট উরু হতে, বাজু বগল হতে বাহু মাটি হতে পৃথক রাখিবেন।
মহিলাঃ পেট রানের সঙ্গে বাহু মাটি এবং হাটুর সঙ্গে মিশাইয়া রাখিবেন।
৮। পুরুষঃ সেজদার মধ্যে পায়ের আঙ্গুল ক্বিবলার দিকে মুড়াইয়া রাখিয়া তাহার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতা দুইটি খাড়া রাখিবেন।
মহিলাঃ উভয় পায়ের পাতা ডান দিকে বাহির করিয়া বাম পায়ের পাতার উপর দিয়া ডান পায়ের পাতা মাটিতে বিছাইয়া রাখিবেন।
৯। পুরুষঃ হাটু হতে ১ হাত পরিমাণ দূরত্বে উভয় হাতের তালু আঙ্গুল মিলিতবস্থায় মধ্যখানে সামান্য ফাঁক রাখিয়া মধ্যখানে নাক ও কপাল দ্বারা সেজদা করিবেন এবং কনুই মাটি ও পেট হতে দুরে রাখিবেন।
মহিলাঃ উভয় হাতের আঙ্গুল মিলিতবস্থায় হাতের কব্জি হাটুর সঙ্গে মিশাইয়া ও পেট উরুর সঙ্গে মিলাইয়া রাখিয়া এবং হাতের তালু ও বাহু মাটিতে শরীরের সঙ্গে মিশাইয়া খুব সংকুচিত হইয়া নাক ও কপাল দ্বারা দুই হাতের মাঝখানে ফাঁকা জায়গায় সেজদা করিবেন।
১০। পুরুষঃ বসার সময় ডান পায়ের আঙ্গুলগুলি মুড়াইয়া রাখিয়া তার উপর ভর দিয়া পায়ের পাতা খাড়া রাখিবেন এবং বাম পায়ের পাতা বিছাইয়া তার তালুর উপর বসিবেন।
মহিলাঃ উভয় পায়ের পাতা ডানদিকে বাহির করিয়া দিয়া নিতম্ব মাটিতে লাগাইয়া বসিবেন।
১১। পুরুষঃ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক অবস্থায় রাখিয়া তালু রানের উপর আঙ্গুলের মাথা হাটু পর্যন্ত রাখিবেন। বাহু রান হতে, কনুই পেট হতে পৃথক রাখিবেন।
মহিলাঃ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল মিলাইয়া তালু হাটুর সঙ্গে, বাহু রানের সঙ্গে, কনুই পেটের সঙ্গে, বাজু বগলের সঙ্গে মিলাইয়া রাখিবেন।
১২। পুরুষঃ মাগরিব, ইশা, ফজর, জুমআ, ঈদ, ফরজের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ক্বিরাত এবং উঠা বসার তাকবির শব্দ করিয়া পড়িবেন।
মহিলাঃ সর্বাবস্থায় তাকবীর দুআ, ক্বিরাত সব কিছুই চুপে চুপে পড়িবেন।
১৩। পুরুষঃ শুধু নাভী হতেহাটু পর্যন্ত ঢাকিয়া নামাজ পড়িলেই চলিবে।
মহিলাঃ চেহারা এবং হাতের কব্জি ব্যতিত সমস্ত শরীর ঢাকিয়া নামাজ পড়িতে হইবে।
টীকাঃ নিয়ত করার পরে আল্লাহু আকবার বলে আমরা যখন নামাজ শুরু করি তাকেই তাকবীরে তাহরীমা বলা হয়।
সালাত পদ্ধতিতে মহিলাদের ক্ষেত্রে মৌলিক ভাবে দুটি পার্থক্য রয়েছে:

১। সতর কেন্দ্রিক, অর্থাৎ যতটুকু সম্ভব গোপনীয়তার মাধ্যমে মহিলারা সালাত আদায় করবে। আল্লাহ তা’লা বলেন:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا "

তোমরা গৃহাভন্তরে অবস্থান করবে-মুর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না।" (সুরা আল আহযাব- আঃ নং ৩৩)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন "মহিলাদের নিজকক্ষে নামায পড়া বাড়িতে নামায পড়ার তুলনায় উত্তম, আর নির্জন ও অভ্যান্তরিন স্থানে নামায পড়া ঘরে নামায পড়া থেকে উত্তম। ‘‘ [হাদীসটি সহীহ, আবু দাউদ ১/৩৮৩- , মুসতাদরাকে হাকেম ১/৩২৮]হযরত আয়েশা (রাঃ) রাসুল (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ- "ওরনা বা চাদর ব্যতিত মহিলাদের নামায কবুল হবেনা।" [আবু দাউদ ১/৪২১ তিরমিজী ২/২১৫-মুসতাদরাকে হাকিম ১/২৫১]

হাকেম আবু আব্দিল্লাহ নিসাপুরী (রঃ) স্বীয় কিতাব মুসতাদরাক লিল হাকেমে (৯/২৫১) বলেন মুসলিম (রঃ) এর হাদীস গ্রহন করার শর্ত অনুযায়ী হাদীসটি সহীহ । হাকেম (রঃ) এর উক্ত মতকে ইমাম যাহাবী (রঃ) সমর্থন করেছেন।উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস এ কথার উপর সুস্পষ্ট প্রমান বহন করে মহিলাদের সব সময় পর্দার আড়ালেই থাকা প্রয়োজন । আর নামায ইসলামের অন্যতম একটি বিধান সুতরাং তাহা অধিক পর্দায় হবে ইহাই বিবেকের দাবী।উপরে আমরা দেখলাম পর্দার ক্ষেত্রে নামাজ পড়ার সময় পুরুষ ও মহিলাদের কি পার্থক্য আছে ,

এখন আমরা দেখব নামাজ-এর রুকন বা পড়ার পদ্ধতির ক্ষেত্রে পুরুষ মহিলাদের কি পার্থক্য আছে : ২। নামাজ-এর রুকন বা পড়ার পদ্ধতিতে মহিলার পুরুষদের পার্থক্যচার ধরনের দলীলের আলোকে সংক্ষিপ্ত ভাবে পদ্ধতিগত এই পার্থক্য তুলে ধরা হলো১। হাদীস শরীফের আলোকে।২। সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্য ও কর্মের আলোকে।৩। তাবেয়ী ইমাম গনের ঐক্যমত্যের আলোকে।৪। চার ইমামের ঐক্যমত্যের আলোকে।১। হাদীস শরীফের আলোকেঃনামাজী মহিলার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী ব্যক্তিকে বাধা দিবার লক্ষে করণীয় কি ? রসুল (সা:)এ প্রসংগে বলেন: পুরুষদের জন্য হলো তাসবীহ বলা আর মহিলাদের জন্য হাতে আওয়াজ করা। (সহীহ বুখারী ১/৪০৩)ইয়াযীদ ইবনে আবী হাবীব (রঃ) বলেন, একবার রাসুল (সঃ) নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে ( সংশোধনের উদ্দেশ্য) বললেন যখন সিজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে, কেননা মহিলারা এ ক্ষেত্রে পুরুষদের মত নয়।(কিতাবুল মারাসিল-ইমাম আবু দাউদ - পৃঃ১১৭)প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস শায়েখ শুয়াইব আরনাউত (রঃ) হাদীসটির সুত্র সম্পর্কে বলেন, বণর্না কারী প্রত্যেক রাবী সর্ব্বোচ্চ গ্রহনযোগ্য রাবীদের অন্তর্ভুক্ত সুতরাং হাদীসটি "সহীহ"।( তালীক আলা মারাসিলে আবী দাউদ পৃঃ ১১৭ )আহলে হাদীসে স্বীকৃত শীর্ষস্থানীয় আলেম নবাব সিদ্দীক হাসান খান বুখারী শরীফের ব্যাখ্যগ্রন্থ ‘‘আওনুল বারী" (১/৫২০) তে লিখেছেন উল্লেখিত হাদীস সকল ইমামের উসুল অনুযায়ী দলীল হিসাবে পেশ করার যোগ্য।আর এ হাদীসটির উপরই আহলে সুন্নত ও চার মাযহাবসহ অন্যন্যদের আমল চলে আসছে।উল্লেখ্যঃ- এই সব হাদীসর সমর্থনে মহিলা ও পুরুষদের নামায আদায়ের পদ্ধতিগত পার্থক্য ও ভিন্নতাকে নির্দেশ করে । এমন আরো অনেক হাদীস রয়েছে ।

পক্ষান্তরে এগুলোর সাথে বিরোধ পুর্ন একটি হাদীস ও কোথাও পাওয়া যাবে না, যাতে বলা রয়েছে যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতিতে কোন পার্থক্য নেই।সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকেঃ-হযরত নাফেয় (রহঃ) ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন ওনাকে রাসুল (সঃ) এর যামানায় মহিলদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : "প্রথমত তারা চার পা হয়ে বসত অত পর এক পক্ষ হয়ে বসার জন্য বলা হল।" আসারাট সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহীহ।(জামেউল মাসানীদ-ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) খঃ ১/৪০০) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। ওনাকে মহিলাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন "মহিলারা বৈঠকে আংগুল সমুহ মিলিয়ে ও সমবেত ভাবে বসবে। (এই হাদীসের সমস্ত রাবী সিকাহ- সুতারাং হাদীস সহীহ)(মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-খঃ১/২৪২)

তাবেয়ী ইমাম গনের ঐক্যমতের আলোকেঃ-হযরত হাসান বসরী ও হযরত কাতাদা (রহঃ) বলেন, মহিলারা যখন সিজদা করবে তখন তারা যথাস্ভব জরসড় হয়ে থাকবে। অঙ্গঁ প্রত্যঙ্গঁ ফাঁকা রেখে সিজদা দিবে না, যাতে কোমর উচু হয়ে না থাকে। (সহীহ) (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক খঃ৩/১৩৭-ইবনে আবী শাইবা ১/২৪২)* কুফাবসীদের ইমামঃ- ইবরাহীম নাখয়ী (রহঃ) বলেন মহিলারা বসা অবস্থায় এক পক্ষ হয়ে বসবে । (সহীহ) (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা খঃ১/২৪৩)* মক্কা বাসীদের ইমাম আতা ইবনে আবী রাবাহ (রহঃ) বর্ণনা করেন মহিলা যখন রুকুতে যাবে অত্যান্ত সংকোচিত ভাবে যাবে এবং হাতদ্বয় পেটের সাথে মিলিয়ে রাখবে। (সহীহ)(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৩/১৩৭)খালেদ ইবনে লাজলাজ সিরিয়া বাসীদের ইমাম , তিনি বলেন মহিলাদের আদেশ করা হত, তারা যেন নামাযে দুই পা ডান দিক দিয়ে বের করে নিতম্বের উপর বসে। পুরুষদের মত না বসে । আবরনযোগ্য কোন কিছু প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার আশংকায় মহিলাদেরকে এমনটি করতে হয়। (হাসান) (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৫০৫)মোট কথা তাবেয়ী-যুগে যারা ইমাম এবং ইসলামি বিধি বিধানের ক্ষেত্রে অনুসরনীয় তাদের মতামত থেকে প্রমানিত হল যে, মহিলা ও পুরুষদের নামাযের পদ্ধতি অভিন্ন মনে করা সম্পুর্ন ভুল ।

সাহাবী ও তাবেয়ীদের মতামতের সাথে এই ধারনার কোনই মিল নেই।চার ইমামের ফিক্বহের আলোকেঃ

-ফিক্বহে হানাফীঃ- ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর অন্যতম শাগরেদ ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন আমাদের নিকট মহিলাদের নামাযে বসার পছন্দনীয় পদ্ধতি হল উভয় পা এক পাশে মিলিয়ে রাখবে, পুরুষের মত এক পা দাঁড় করিয়ে রখবে না। (কিতাবুরল আসার ১/৬০৯)(আরো দ্রষ্টব্যঃ- হিদায়াঃ ১/১০০-১১০-১১১- ফাতওয়ায়ে শামী ১/৫০৪- ফাতওয়ায়ে আলমগীরি-১/৭৩-)।

ফিক্বহে শাফেয়ীঃ ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন ’’ আল্লাহ পাক মহিলাদের কে পুরো পুরি পর্দায় থাকার শিক্ষা দিয়েছেন । এবং রাসুল (সঃ) ও অনুরুপ শিক্ষা দিয়েছেন। তাই আমার নিকট পছন্দনীয় হল, সিজদা অবস্থায় মহিলারা এক অঙ্গেঁর সাথে অপর অঙ্গঁকে মিলিয়ে রাখবে, পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখবে এবং সিজদা এমন ভাবে করবে যাতে সতরের অধিক হেফাযত হয়।(যাখীরা, ইমাম কারাফী ২/১৯৩)

ফিক্বহে হাম্বলীঃ- তাকবীরে মহিলাদের হাত উঠানোর সম্পর্কে ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেন হাত তুলনামুলক কম উঠাবে। ( আল মুগনী -২/১৩৯)এ পর্যন্ত হাদীস আসারে সাহাবা, আসারে তাবেয়ীন ও চার ইমামের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট হল যে, পুরুষ ও মহিলার নামাযের অভিন্ন পদ্ধতির পক্ষে কথা বলা আল্লাহ তা’লার মনোনীত ধর্ম ইসলামের মাঝে নিজেকে সংস্কার পন্থী রুপে আবিস্কার করার অপচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

প্রশ্ন পত্রে উল্লেখিত দলীল সমুহের উত্তর:

১। আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুল (সঃ) বলেছেন যখন তোমাদের কেউ সিজদা করবে তখন এমন ভাবে বসবে না যেভাবে উট বসে, বরং দু’হাতকে হাঁটুর পুর্বে রাখবে। (আবু দাউদ-১/৮৪০)উত্তরঃ- বোন, মা, ফুপি- মাহরাম মহিলাদের ক্ষেত্রে শরীয়তের নিষেধাজ্ঞা থাকায় যেমনি ভাবে সুন্দরী হলেই বিবাহ করা যায় না, ঠিক তেমনি - কোরআন ও হাদীসের ব্যাপারে নাসেখ- মানসুখের চিরন্তন বিধান থাকায় হাদীস সহীহ হলেই আমল যোগ্য হয় না। উপরের ভুমিকার দ্বারা আমার বলার উদ্দেশ্য , আপনার প্রথম হাদীস জমহুর উলামাদের দৃস্টিতে মানসুখ (রহিত) এর তালিকায় ।(বজলুল মাজহুদ -৫/৮৯)যেই হাদিস দ্বারা উপরের হাদিস মনসুখ হয়েছে, সেটা হলো: সাদ ইবনে আবী ওককাস (রাওনার পিতা হতে বর্ননা করেন , তিনি বলেন: "আমরা সিজদার সময় হাটুর পূর্বে হাত রাখতাম, পরবর্তিতে আমাদেরকে হাত রাখার পূর্বে হাটু রাখার নির্দেশ দেয়া হয় (সহীহ ইবনে খুজাইমা - ১/৩১৮)

২। একদা এক বেদুঈন মহিলা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা(রা এর সাথে সাক্ষাত করতে এসে তাকে না পেয়ে ফেরার পথে উম্মুল মু'মিনীন হাফসা(রা এর কাছে গিয়ে মহিলাদের নামায সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন "নামায আদায়ের নিয়ম পদ্ধতির ব্যাপারে মহিলাদের পৃথক কোনো নিয়মের কথা আমাদেরকে বলা হতো না, তবে রুকুতে , রুকু বাদ দাড়িয়ে, দু সিজদার মাঝে একটু সময় অবস্হান করতে বলা হতো ।

উত্তর: উল্লেখিত কথাগুলোকে যেহেতু আপনি হাদিস নামে উল্লেখ করেছেন, সুতরাং অস্বীকারের দু:সাহস না করে অনুসন্ধানের ত্রুটির উপর দোষ চাপিয়ে অনুরোধের সুরে বলছি , অনুগ্রহ করে কিতাবের নাম, পৃষ্ঠা ও হাদিস নাম্বার উল্লেখ করে দিলে ইনশাল্লাহ প্রমান ভিত্তিক সমুচিৎ জবাব দেয়া হবে ।

আপনার ৩য় প্রশ্ন: ৩। উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা, হাফসা বিনতে উমার (রা, মায়মুনা (রাদ্বীন সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ উম্মু দারদা (রাবুখারী ভাষ্যনুযায়ী এরা পুরুষদের মতো নামায আদায় করতেন ।

উত্তরঃ- উল্লেখিত আপনাদের এই দাবী সম্পূর্ন মিথ্যা,এমন কথা ইমাম বুখারী (রহঃ) স্বীয় কিতাব বুখারী শরীফে বা অন্য কোন কিতাবে কখনই বলেননি বা উল্লেখ করেন নাই। ইহা ইতিহাস সীকৃত শ্রেষ্ট মুহাদ্দীস-ইমাম বুখারীকে মিথ্যার কলংকে কলংকিত করে ওনার লেখনিকে প্রশ্ন বিদ্ধ করার অপপ্রয়াশ মাত্র।উম্মু দারদা (রাঃ) একজন তাবেয়ী, তিনি নামাযে পুরুষদের ন্যায় বসতেন ।
নামাযের পদ্ধতিতে একজন তাবেয়ীর আমল যদি দলীল হয়ে থাকে তাহলে ইতিপূর্বে আমরা চার শ্রেনীর দলীলের ভিত্তিতে মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি , যার মাধ্যমে একথা প্রমান হয়েছে যে আয়িম্মায়ে তাবেয়ীন যথাঃ- হাসান বসরি , হযরত কাতাদাহ, ইব্রাহীম নাখয়ী, খালেদ ইবনে লাজলাজ ওনাদের তালীল ও শিক্ষা অনুযায়ী রুকু সিজদা সহ একাধিক আমলের মধ্যে মহিলাদের নামাযের পদ্ধতি পুরুষ থেকে ভিন্ন ছিল। এছাড়া হতে পারে উম্মু দারদা (রাঃ) এবিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি মহিলাদের মত ভিন্ন ভাবেই আমল করতেন । সুতরাং শুধু একজন তাবেয়ী মহিলার ব্যক্তিগত আমলকে অগ্রাধিকার দেয়ার ব্যাপারটি যুক্তি যুক্ত ও গ্রহনযোগ্য হতে পারে না।৩। আপনাদের বক্তব্যের দারাই নামাযে পুরুষ ও মহিলার পদ্ধতি ভিন্ন হওয়া প্রমানিত হয়। কেননা উভয়ের নামাযের পদ্ধতি এক হলে ‘‘পুরুষদের মত নামায, কথাটির কোন অর্থ থাকেনা। সুতরাং একথা স্পষ্ট হয়ে গেল সেই যামানায় পুরুষ ও মহিলার নামাযের পদ্ধতি এক ছিল না।৪। হযরত আবু হুমাইদ সায়েদী (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর একদল সাহাবীর মধ্যে বলিলেন আমি আপনাদের অপেক্ষা রাসুল (সাঃ) এর নামায অধিক স্বরন রাখিয়াছি। আমি তাহাকে দিখিয়াছি-তিনি যখন•••••••আর বসতেন নিতম্বের উপরে।আপনাদের দাবীঃ এই হাদীস বলছে শেষ বৈঠকে নিতম্বের উপর বসার কথা। এখানে পুরুষ মহিলা উল্লেখ করা নাই সুতরাং ইহা সকলেরই আমল যোগ্য।উত্তরঃ- উল্লেখিত হাদীসের মাঝে সাহাবী আবু হুমাইদ সায়েদী (রাঃ) রাসুল (সাঃ) এর নামাযের পদ্ধতি আলোচনা করেছেন। আর রাসুল (সাঃ) পুরুষ ছিলেন । অতপর এখানে পুরুষ মহিলা উল্লেখ করা নাই সুতরাং ইহা সকলেরই আমল যোগ্য এমন হাস্যকর দাবী করা অযোক্তিক নয় কি?২য় ও ৩য় প্রশ্নের উত্তরঃউপরের উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা একথা সূর্যের আলোর মত সুস্পষ্ট, হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) এর বেহেশতী জেওর এবং যুগের শ্রেষ্ঠ ফক্বীহ হাসান বিন আম্মার হানাফী (রহঃ) কতৃক লিখিত মারাকীর মত ফেক্বহ শাস্ত্রের অন্যতম গ্রহনযোগ্য কিতাবের ব্যপারে এমন অভিযোগ বা মন্তব্য, পরক্ষভাবে স্বয়ং আল্লাহ তাআলার প্রজ্বলিত দ্বীনের প্রদীপকে মুখের ফুৎকারে নিভিয়ে দেয়ার জন্য ব্যার্থ চেষ্টা মাত্র ।তথ্যসূত্র: ১। আবু দাউদ ১/৩৮৩- , ২। মুসতাদরাকে হাকেম ১/৩২৮৩। তিরমিজী ২/২১৫৪। বুখারী শরীফ । ৫। তালীক আলা মারাসিলে আবী দাউদ পৃঃ ১১৭ ৬। আওনুল বারী (১/৫২০) ৭। জামেউল মাসানীদ-ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) খঃ ১/৪০০৮। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-খঃ১/২৪২৯। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ১০। হিদায়াঃ ১/১০০-১১০-১১১- ১১। ফাতওয়ায়ে শামী ১/৫০৪- ১২। ফাতওয়ায়ে আলমগীরি-১/৭৩১৩। যাখীরা ১৪। ইমাম কারাফী ২/১৯৩১৫। আল মুগনী -২/১৩৯১৬। বজলুল মাজহুদ -৫/৮৯১৭। সহীহ ইবনে খুজাইমা - ১/৩১৮উত্তর দাতামোঃ ফরিদুল ইসলামউচ্চতর হাদীস গবেষনা বিবাগবসুন্ধরা ঢাকা-পরীক্ষিত এবং অনুমোদিতমুফতী রফিকুল ইসলামহাদিস এবং তফসীর বিভাগের প্রধানইসলামিক রিসার্চ সেন্টারবসুন্ধরা , ঢাকা - ১২১২বাংলাদেশ ।

পাঠক, আপনারা আপনাদের প্রশ্ন আমাদের জানান। আমরা যত দ্রুত সম্ভব তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। কখনওবা দলিলসহ উত্তর দিতে গিয়ে বিলম্ব হয়ে যায়। আমরা আপনাদের সাহায্য করতে চাই। আর আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের পছন্দ করেন।

প্রশ্নের উত্তর দিলেন :
মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক, ইসলামিক লাইব্রেরিয়ান।

Want your school to be the top-listed School/college in Jessore?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Telephone

Address


Jessore
7400