04/02/2026
আইসিটি জট-৪: ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে?
আমরা যখন ওয়াইফাই বা মোবাইলে ইন্টারনেট চালাই, আমাদের মনে হয় সবকিছু তো বাতাসের ওপর দিয়ে ভাসছে। কিন্তু তুমি কি জানো? ইন্টারনেটের ৯৯% ডাটা আসলে বিশাল সব সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে আসা তারের মাধ্যমে আদান-প্রদান হয়! স্যাটেলাইট বা মহাকাশ দিয়ে ইন্টারনেট চলে মাত্র ১%।
আজকের জটটি একটু বড়, কিন্তু এটি পড়লে ইন্টারনেটের পুরো "মাকড়সার জাল" তোমার চোখের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে। চলো শুরু করি!
১. বাড়ির দরজা থেকে মূল সড়ক (Local ISP)
তুমি যখন ব্রাউজারে www.google.com লিখে এন্টার চাপো, তখন তোমার ফোন বা কম্পিউটার প্রথমে তোমার রাউটারকে সিগন্যাল দেয়। তোমার রাউটার সেই সিগন্যালটি পাঠিয়ে দেয় তোমার এলাকার ISP (Internet Service Provider)-এর কাছে (যেমন: ব্রডব্যান্ড কোম্পানি বা মোবাইল অপারেটর)। এটাই ইন্টারনেটের জগতে তোমার প্রথম ধাপ।
২. নামের আড়ালে লুকানো নম্বর (The DNS)
ইন্টারনেট কিন্তু আমাদের মতো 'Google' বা 'Facebook' নাম বোঝে না। সে চেনে কেবল নম্বর, যাকে বলা হয় IP Address (যেমন: 142.250.190.46)।
তুমি নাম লেখার সাথে সাথে তোমার রিকোয়েস্টটি যায় একটি DNS (Domain Name System) সার্ভারের কাছে। এই DNS হলো ইন্টারনেটের বিশাল এক ফোনবুক। সে মুহূর্তের মধ্যে বলে দেয়, "মালিক গুগল খুঁজতেছে? গুগলের বাড়ির নম্বর (IP) হলো এইটা।"
৩. ইন্টারনেটের মহাসড়ক (Submarine Cables)
এখন আসল খেলা শুরু! ধরো, গুগলের সেই সার্ভারটি আছে আমেরিকায়। তোমার রিকোয়েস্টটি তখন বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। কীভাবে?
সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে হাজার হাজার মাইল লম্বা সাবমেরিন ক্যাবল বা অপটিক্যাল ফাইবার বিছানো আছে। এই তারগুলো মানুষের চুলের মতো পাতলা কাঁচের তন্তু দিয়ে তৈরি। তোমার রিকোয়েস্টটি তখন লেজার লাইট বা আলোর ঝলকানি হয়ে সেই কাঁচের তারের ভেতর দিয়ে সেকেন্ডে প্রায় ২ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটতে থাকে। গভীর সমুদ্রে নীল তিমির পাশ দিয়ে তোমার ডাটাগুলো আলোর গতিতে পাড়ি দিচ্ছে, ভাবতেই রোমাঞ্চ লাগে না?
৪. ডাটা প্যাকেট (Data Packets)
ইন্টারনেট কিন্তু পুরো একটা ফাইল বা ভিডিও একবারে পাঠায় না। তোমার রিকোয়েস্ট বা সার্ভার থেকে আসা উত্তরগুলোকে ছোট ছোট হাজার হাজার ভাগে ভাগ করা হয়। এদের বলা হয় প্যাকেট (Packet)।
প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে একটা ট্যাগ থাকে—সেটা কোথা থেকে আসছে আর কোথায় যাবে। মজার ব্যাপার হলো, একেকটি প্যাকেট একেক পথ দিয়ে যেতে পারে। কোনোটা হয়তো সিঙ্গাপুর হয়ে গেল, কোনোটা হয়তো ইউরোপ হয়ে আমেরিকায় পৌঁছালো। সবার শেষে গন্তব্যে গিয়ে তারা আবার সিরিয়াল অনুযায়ী জোড়া লেগে যায়।
৫. ডেটা সেন্টার বা গন্তব্য (The Server)
অবশেষে তোমার রিকোয়েস্টটি পৌঁছায় আমেরিকার সেই ডেটা সেন্টারে। ডেটা সেন্টার হলো এমন এক বিশাল কক্ষ যেখানে হাজার হাজার শক্তিশালী কম্পিউটার (Server) দিনরাত ২৪ ঘণ্টা চলছে। সেখানে রাখা গুগলের সার্ভার তোমার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে এবং তুমি যা খুঁজেছো তা আবার একই পদ্ধতিতে 'প্যাকেট' করে তোমার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়।
৬. রাউটারে ফিরে আসা
সেই প্যাকেটগুলো আবার সমুদ্রের তলদেশ পাড়ি দিয়ে তোমার এলাকার ISP হয়ে তোমার রাউটারে আসে। তোমার ব্রাউজার সেই প্যাকেটগুলোকে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে সাজিয়ে গুছিয়ে তোমার সামনে গুগল বা ইউটিউবের পেজটি ফুটিয়ে তোলে।
উপসংহার:
তুমি যখন একটা লিংকে ক্লিক করো, সেই ক্লিকটি আস্ত একটা পৃথিবী ঘুরে তোমার কাছে ফিরে আসে চোখের পলক ফেলার আগেই! ইন্টারনেট মানেই হলো পৃথিবীর প্রতিটি কোণকে আলোর গতিতে তার দিয়ে জুড়ে দেওয়া এক বিশাল সংযোগ।
কী? ইন্টারনেটের এই অবিশ্বাস্য দৌড়ঝাঁপ নিয়ে তোমার জটটা কি খুললো?
পড়া শেষে Done লিখে জানিয়ে দাও
-4