Dept. of MATH, CCJ

Dept. of MATH, CCJ

Share

Welcome to Math Department of CCJ

12/04/2020

প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে আবেদন করে দেখতে পারেন!🤐

How Coronavirus Hijacks Your Cells 06/04/2020

📛 প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাস কী?

☯ উত্তরঃ

✅ ০১) করোনা ভাইরাস এক ধরনের ছোঁয়াচে ভাইরাস যার অনেক প্রজাতির মধ্যে মাত্র ৭টি মানবদেহে সংক্রমণের সৃষ্টি করতে পারে –

🧿 ক) আলফা করোনা ভাইরাস (NL63 এবং 229E) – হালকা থেকে মাঝারি ফ্লু

🧿 খ) বিটা করোনা ভাইরাস (HKU1 ও OC43) – হালকা থেকে মাঝারি ফ্লু

🧿 গ) সার্স ও মার্স (SARS, MERS) – প্রাণঘাতী লক্ষণ

🧿 ঘ) করোনা ভাইরাস ডিজিজ (COVID-19) – প্রাণঘাতী লক্ষণ

উল্লেখ্য, এরা একই গোত্রের আলাদা আলাদা ভাইরাস এবং এদের লক্ষণ একই ধরনের হলেও তীব্রতায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

✅ ০২) ১৯৬০ সালে করোনা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয় তবে এই ভাইরাসের উৎস বা উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়নি। Corona শব্দের অর্থ জ্যোতির্বলয়। খালি চোখে সূর্য থেকে ছিটকে পড়া আলোকরশ্মির মতো এবং ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে ক্রাউন বা মুকুটের মতো দেখতে বলে এর নামকরণ করা হয়েছে 'করোনা'।

✅ ০৩) বর্তমানে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসের নামঃ SARS coronavirus 2, or SARS-CoV-2

✅ ০৪) বর্তমানে সংক্রমিত করোনা ভাইরাস জনিত অসুখের নামঃ Corona Virus Disease 19 or COVID-19

✅ ০৫) সকল প্রজাতির করোনাভাইরাসে সাধারণত স্পাইক (এস), এনভেলপ (ই), মেমব্রেন (এম) এবং নিউক্লিওক্যাপসিড (এন) নামক চার ধরনের প্রেটিন দেখা যায়। ভাইরাসের উপরিভাগ এসব প্রোটিন দ্বারা সমৃদ্ধ থাকে যা ভাইরাল স্পাইক প্যাপিলোমার দ্বারা এর অঙ্গসংস্থান গঠন করে। এ প্রোটিনগুলোই সংক্রমিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে।

সূত্রঃ www.nytimes.com/interactive/2020/03/11/science/how-coronavirus-hijacks-your-cells.html

📛 প্রশ্নঃ SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাসের প্রধান লক্ষণসমূহ কী কী?

☯ উত্তরঃ SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাস আচমকা মানবদেহে আক্রমণ করে। প্রধান লক্ষণসমূহ হলঃ

✅ ০১) ১ম লক্ষণঃ জ্বর ও ক্লান্তি (Fever & fatigue) যথাক্রমে ৮৭.৯% ও ৩৮.১% তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে ‘জ্বর’ নাও আসতে পারে

✅ ০২) পরবর্তী লক্ষণঃ শুষ্ক কাশি (Dry cough) ৬৭.৭% ও শ্লেষ্মা (Sputum) ৩৩.৪%

✅ ০৩) ১ সপ্তাহের মধ্যে সৃষ্ট লক্ষণঃ ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট (Shortness of breath) ১৮.৬%

✅ ০৪) অতঃপর, ফুসফুসের সংক্রমণজনিত ভিন্ন ধরনের বুক ব্যথা যেখানে গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হয়

✅ ০৫) অন্যান্য উপসর্গসমূহ কম দেখা গেছে যেমনঃ

🧿 ক) মাংসপেশী কিংবা অস্থিসন্ধির ব্যথা (Muscle pain or joint pain) ১৪.৮%

🧿 খ) গলাব্যথা (Sore throat) ১৩.৯%

🧿 গ) মাথাব্যথা (Headache) ১৩.৬%

🧿 ঘ) জ্বর সংশ্লিষ্ট কাঁপুনি (Chills) ১১.৪%

🧿 ঙ) বমিভাব ও বমি (Nausea or vomiting) ৫%

🧿 চ) হাঁচি (Sneezing), সর্দি (Runny nose) ৪.৮%

🧿 ছ) ডায়রিয়া (Diarrhea) ৩.৭%

🧿 ছ) রক্তকাশি (Haemoptysis) ০.৯%

🧿 জ) নেত্রবর্ত্মকলার জমাটবদ্ধতা (Conjunctival congestion) ০.৮%

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগীরা বুঝতে পারেন না যে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রন্ত, নাকি সাধারণ সর্দি-কাশিতে।

✅ ০৬) তীব্রাবস্থার উপসর্গঃ

🧿 ক) ফুসফুসে সংক্রমণের তীব্রতা ও শ্বাসযন্ত্রের মর্মপীড়া (Respiratory distress/ARDS)

🧿 খ) নিউমোনিয়া হয়ে ফুসফুস অকেজো হয়ে যাওয়া (Pneumonia/Respiratory failure)

🧿 গ) পচন ও পচনজনিত শক (Sepsis & Septic Shock)

🧿 ঘ) কিডনী, হার্ট, লিভার বিকল হওয়া ও মৃত্যু (Kidney/heart/liver failure & death)

সূত্রঃ www.who.int/docs/default-source/coronaviruse/who-china-joint-mission-on-covid-19-final-report.pdf

📛 প্রশ্নঃ SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা কী?

☯ উত্তরঃ

অধিকাংশ রোগীই ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন তবে যারা মারা যান তারা সাথে সাথেই মারা যান না বরং বেশ কিছুদিন ভুগে (গড়ে ১৪ দিন ও রেঞ্জ ৬ থেকে ৪১ দিন) তারপর মারা যান।

চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা থেকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

🧿 ক) উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা (Symptomatic treatment)

নতুন ভাইরাস বলে করোনা ভাইরাস নিরাময় বা নির্মূলের কোনো ফিক্সড বা সুনির্দিষ্ট ঔষধ কিংবা চিকিৎসা নেই। রোগীর মধ্যে যেই যেই উপসর্গ দেখা দেবে, সেই সেই উপসর্গ নিরাময়ের চিকিৎসা দেওয়া লাগবে। ফলে এটি অনির্দিষ্ট বা নন-স্পেসিফিক। তাই, একজন ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেকই উপসর্গভিত্তিক তথা সিম্পটোম্যাটিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে, নিজে নিজে ফেসবুক বা গুগল সার্চ করে পাওয়া চিকিৎসা করা যাবে না তথা ভুল কিংবা বিপদজনক হবে।

সূত্রঃ www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/prepare/prevention.html

✅ ০১) জ্বর হলে Napa or Napa Extra or Napa Extend or Napadol – কোনটা খাবেন জেনে নিন

🧿 ক) শুধুমাত্র জ্বর থাকলে এবং সজাগ থাকার প্রয়োজন না হলে Paracetamol 500mg (Napa) দিনে যতটুকু প্রয়োজন থেকে সর্বোচ্চ ৬ বার = ৩ গ্রাম ভরা পেটে খেতে পারবেন। এটি জ্বরের সবচেয়ে দ্রুত উপশম ঘটাবে।

🧿 খ) জ্বরের সাথে মাথাব্যথা থাকলে কিংবা সজাগ থাকার প্রয়োজন হলে/ঘুম না চাইলে Paracetamol + Caffeine 625mg (Napa Extra) সেবন করতে পারবেন। তবে যাদের উচ্চরক্তচাপ এবং হৃদযন্ত্রের উচ্চগতির সমস্যা আছে, তারা এটি পরিহার করে Paracetamol 500mg (Napa) সেবন করবেন।

🧿 গ) Fast Release 31% + Slow Release 69% Paracetamol 665mg (Napa Extend) মূলত অস্টিওআর্থরাইটিস ও ব্যাক পেইনের ঔষধ। এটি জ্বর ও মাথা ব্যথার জন্য Napa 500mg or Napa Extra 625mg থেকে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকরী। এক্সটেন্ড মানে এই বিশেষ ধরনের নাপা ধীরগতিতে দীর্ঘসময় কাজ করবে অথচ জ্বর নামাতে দ্রুতগতিতে কাজ করা আবশ্যক। ফলে জ্বর নামাতে Napa Extend 665mg ব্যবহার করার চেয়ে Napa 500mg or Napa Extra 625mg সেবন করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

🧿 ঘ) Paracetamol 37.5mg + Tramadol 375mg (Napadol) সেবন একদমই নিষিদ্ধ কেননা এর ভেতরে থাকা Tramadol উপাদানটি শ্বসনতন্ত্র নিস্তেজ (Respiratory Depression) করে দেয় আর করোনা ভাইরাস ডিজিজে শ্বসনতান্ত্রিক জটিলতাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে।

✅ ০২) শুষ্ক কাশি হলে Montelukast 5-10mg (Monas) দিনে ১ বার কিংবা Dextromethorphan HBr (Brofex) or Butamirate Citrate (Mirakof) ২ চামচ দিনে ৩-৪ বার ভরা পেটে সেবন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গরম পানিতে গোসল করা এবং Menthol, Eucalyptus মলম কিংবা লজেন্স চোষা গলায় জ্বালাপোড়া ও কাশির তীব্রতা কমাতে উপকারী।

✅ ০৩) নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির সমস্যায় Fexofenadine (Fexo) 90-180mg দিনে ১ বার খাওয়া যেতে পারে।

✅ ০৪) Xylometazoline বা Antazol Drop করোনা ভাইরাস নিরাময় কিংবা প্রতিরোধে অক্ষম। এটি সকল ক্ষেত্রে ব্যবহার্য নয় বলে এর রুটিন বা যে কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহারে নির্দেশনা অসঙ্গত।

🧿 ক) এটি নাক বন্ধের সমস্যায় ৩ থেকে বড় জোর ৭ দিন ব্যবহার করা যাবে, এর বেশি ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। এটি নাকের ভেতরের রক্তনালিকাগুলোর সংকোচন ঘটিয়ে নাকের ভেতরে ফোলা ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার নিরাময় ঘটায়।

🧿 খ) এটি হাঁচি কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যায় ব্যবহার করা যাবে না কেননা এটি নাকের ভেতরের ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে হাঁচি ও নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

সূত্রঃ www.webmd.com/drugs/2/drug-6311-9214/xylometazoline-nasal/decongestant-spray-nasal/details

✅ ০৫) বমি হলে কোন ধরনের বমিনাশক খাবেন জেনে নিন

🧿 ক) Cinnarizine 15mg (Cinaron) কিংবা Cinnarizine + Dimenhydrinate 20+40mg (Cinaron Plus) খাবেন, শিশুদের ক্ষেত্রে Phenadryl (Diphenhydramine) 2.5-5ml দিনে ৩-৪ বার খাওয়ানো যেতে পারে।

🧿 খ) Ondansetron 8mg (Emistat) or Palonosetron 0.5mg (Paloxi) সেবন করা উচিত হবে না কেননা এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিশেবে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

✅ ০৬) ডায়রিয়া হলে Loperamide 2mg (Imotil) সেবন করা উচিত হবে না কেননা এটি শ্বসনতন্ত্র নিস্তেজ (Respiratory Depression) করে দেয় আর করোনা ভাইরাস ডিজিজে শ্বসনতান্ত্রিক জটিলতাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। Bismuth Subsalicylate (Peptocid or Pink-Bismol) খাওয়া যাবে না কেননা এটি বমিভাব ও শ্বাসপ্রশ্বাসের উচ্চগতির সমস্যা সৃষ্টি করে। ডায়রিয়ার সমস্যায় শুধুমাত্র ওরস্যালাইন ও মল কঠিনকারক খাদ্যসমূহ যেমন কলা, ভাত, আপেলের সস, টোস্ট বিস্কুট কিংবা আলু খাবেন।

✅ ০৭) অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকরী হলেও ভাইরাসের বিরুদ্ধে একদমই কার্যকরী নয় বলে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন অর্থহীন। তবে করোনা ভাইরাসের জটিলতা থেকে যদি কারো ব্যাকটেরিয়াল সহ-সংক্রমণ ঘটে তবে সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা লাগবে।

✅ ০৮) নিম্নোক্ত অ্যান্টিভাইরাল ঔষধগুলো ব্যবহার করে মধ্যম থেকে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে তবে এখনো তা পরীক্ষাধীন পর্যায়েই আছে (Investigational Drugs) তথা আন্তর্জাতিক মহলে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়নি বা এই ব্যাপারে অফিশিয়াল কোনো ঘোষণা আসেনিঃ

🧿 ক) Antivirals: Remdesivir, Favipiravir, Lopinavir/Ritonavir, Interferon, Ribavirin, Umifenovir, Rintatolimod, Azvudine, Danoprevir, Plitidepsin, Ifenprodil, Remestemcel-L, Brilacidin,

🧿 খ) TMPRSS2 Inhibitor: Camostat

🧿 গ) Anti-cytokine Storm: Hydroxy-Chloroquine, Toclizumab, Gimsilumab

🧿 ঘ) Others: Teicoplanin, Nitazoxanide, Anti-SARS-CoV-2 Polyclonal Hyperimmune Globulin, Vascular Leakage Therapy, Immunotherapy, Antibody-directed Therapy

✅ ০৯) রোগীকে অবশ্যই অন্যান্যদের থেকে আলাদা করে (Isolation) রাখতে হবে বা রোগী না হলে স্বেচ্ছা অন্তরণ হয়ে (Self Quarantine) থাকতে হবে।
✅ ১০) সাপ্লিমেন্টের ওপর ভরসা না করে তরল ও পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে হবে। অপুষ্টি ও ডায়াবেটিসে ভোগী অল্প থেকে বেশি বয়সী রোগী এবং ক্রনিক অসুখগুলোতে তীব্রভাবে আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের পুষ্টি বজায় রাখতে Ensure Normal/Plus or Ensure Diabetes, Pentasure Normal or DM, Revit-R or RN Diabetes ইত্যাদি পাউডার ড্রিংক পান করা যেতে পারে।

🧰 ডাক্তারদের জন্য চিকিৎসা প্রণালীর বিস্তারিত নির্দেশনাঃ এটি বাংলায় লেখা সম্ভব নয়, এটি ডাক্তারগণ পড়ে বুঝে নেবেন।

সূত্রঃ

ক) apps.who.int/iris/rest/bitstreams/1272156/retrieve

খ) www.mohfw.gov.in/pdf/GuidelinesonClinicalManagementofCOVID1912020.pdf

গ) www.iedcr.gov.bd/images/files/nCoV/clinical-management-of-novel-cov.pdf

🧿 খ) প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা (Preventive measures)

✅ ০১) এই রোগ থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় হলো অন্যদের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ হতে না দেয়া।

✅ ০২) অসুস্থ অবস্থায় বা ভাইরাসের নিরাময় আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত চীনে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

✅ ০৩) সংশ্লিষ্ট অসুস্থ রোগীর সংস্পর্শে থাকা যাবে না এবং তাকে অবশ্যই আলাদা করে রাখতে হবে।

✅ ০৪) হাঁচি ও কাশি দিলে মুখমণ্ডল ও নাক টিস্যু দিয়ে ঢেকে অতঃপর হাঁচি ও কাশি দিতে হবে এবং টিস্যুটি তৎক্ষণাৎ ময়লার ঢাকনাযুক্ত বাক্সে ফেলে দিতে হবে। জনসমক্ষে যেখানে সেখানে থুথু ফেলা যাবে না।

✅ ০৫) অধোয়া হাত থেকে যেন জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ ঘষা যাবে না।

✅ ০৬) বাইরে গেলে, অসুস্থ হয়ে থাকলে কিংবা অসুস্থ না হলেও অন্যের সংস্পর্শ এড়োতে মুখোশ পড়া বাঞ্ছনীয় এবং মুখোশে যেন হাতের স্পর্শ বেশি না পড়ে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বাইরে পরা ময়লা কাপড় দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে।

✅ ০৭) আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে তো বটেই, হাঁচি-কাশি থেকে বাতাসের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। শ্বাসকষ্টের ভাইলযুক্ত ফেসমাস্কগুলো (N95 Respirator) উপকারী, কাগজের সার্জিক্যাল মাস্কগুলোর (Surgical Mask) উপকারী নয়। একটি দেশে যদি করোনা ভাইরাস মহামারী বা বড় আকার ধারণ না করে তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নয় এমন ব্যক্তির জন্য মাস্ক পরা অপ্রয়োজনীয়। মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তা মূলত ৩ গ্রুপের ব্যক্তিদের -

🧿 ক) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি

🧿 খ) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবা শুশ্রূষাকারী আত্মীয়স্বজন কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী

🧿 গ) করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণাকারী

✅ ০৮) চীন কিংবা দেশের বাইরে থেকে কেউ এলে ১৪ দিন দুই সপ্তাহ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া উচিত নয় এবং জ্বর, শুষ্ক কাশি ও ক্ষীণশ্বাস তথা রোগের উপসর্গগুলো অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

✅ ০৯) যেহেতু হাঁচি-কাশির ফোঁটাগুলো বাতাসে ভেসে অন্য মানুষকে স্পর্শ করে, তাই ঘনঘন হাত ধোয়াও কার্যকর হতে পারে।

উল্লেখ্য, Antiseptic Handwash আর Alcohol based Hand Rub or Hand Sanitizer এক কথা নয় বরং এদের কাজ আলাদা আলাদা।

🧿 ক) করোনা ভাইরাস ডিজিজ হচ্ছে ভাইরাসজনিত অসুখ আর অ্যান্টিসেপটিক হ্যান্ডওয়াশ হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী। ফলে ভাইরাস নির্মূলে Chlorhexidine +/- Cetrmide or Chlorxylenol সমৃদ্ধ স্যাভলন, ডেটল, সেপনিল ইত্যাদি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হ্যান্ডওয়াশের কোনো ভূমিকাই নেই।

🧿 খ) সাধারণ সাবান চমৎকারভাবে করোনা ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম। এর হাইড্রোফোবিক অংশ ভাইরাসের লিপিড মেমব্রেনের সাথে যুক্ত হয়ে এই বলয় ভেঙ্গে ফেলে তথা ভাইরাস মারা যায়। হাতে 'দৃশ্যমান ময়লা' থাকলে সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়া আবশ্যক। সাবান পানি সকলের ঘরেই লভ্য বলে এটি ১ম চয়েস।

সূত্রঃ www.nytimes.com/2020/03/13/health/soap-coronavirus-handwashing-germs.html

🧿 গ) এদিকে সাবান পানি না থাকলে কিংবা হাতে ‘দৃশ্যমান ময়লা’ না থাকলে ৬০-৯৫% অ্যালকোহল বিশিষ্ট (Isopropyl alcohol) অ্যান্টিভাইরাল হ্যান্ড রাব বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার কার্যকরী যেমন - Hexisol, Germisol, Handirub, Handiwash। এটি ২য় চয়েস। এসবের যে কোনোটি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোঁয়া উচিত এবং বাইরে থেকে আসার পর বা ঘরের কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্য ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসার পর হাত ধোয়া বাঞ্ছনীয়।

✅ ১০) নিম্নোক্ত অবস্থায় হাত ধোয়া বাঞ্ছনীয়ঃ

🧿 ক) হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে

🧿 খ) হাঁচি ও কাশি দেওয়ার পরে

🧿 গ) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সেবা শুশ্রূষা করার পরে

🧿 ঘ) রান্না করার আগে, মধ্যে ও পরে

🧿 ঙ) খাওয়ার আগে

🧿 চ) মলমূত্র ত্যাগ করার পরে

🧿 ছ) পশুপাখিকে স্পর্শ করার পরে

🧿 জ) পশুপাখির বর্জ্য পরিষ্কার করার পরে

✅ ১১) অসুস্থ জীবজন্তু থেকে দূরে থাকা ভাল। খামার, গোয়ালঘর কিংবা বাজারের মতো জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে। পোষ্য প্রাণীদের সঙ্গে থাকার ক্ষেত্রে সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পশু স্পর্শ করার পর ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। অসুস্থ ও দীর্ঘ সময় ধরে মৃত জীবজন্তুর মাংস খাওয়া যাবে না।

✅ ১২) উচ্চ তাপমাত্রায় ও রোদে ভালোভাবে কাপড়, তোয়ালে, চাদর ইত্যাদি শুকিয়ে নিতে হবে।

✅ ১৩) কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে হাত ভালো করে ধুতে হবে। মাংস ও ডিম খেতে বাধা নেই তবে উচ্চ তাপমাত্রায় ভালো করে সেদ্ধ ও রান্না করে খাওয়া বাঞ্ছনীয়।

✅ ১৪) মানুষজনের বাইরে চলাচল সীমিত করে দেওয়া তথা ভিড় থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। ধোঁয়াটে এলাকা বা ধূমপান করা এড়িয়ে চলা উচিত। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে। সর্দি-কাশি, জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি যাওয়া যাবে না।

✅ ১৫) অপুষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ নেন এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ফলমূল, শাকসবজী এবং তরল খাবার যেমন ফলের রস, স্যুপ এবং পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করতে হবে তবে থানকুনি পাতাসহ দেশীয় ভেষজ ঔষধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এসব কখনই করোনা ভাইরাস মারতে পারে না।

✅ ১৬) ফ্রিজের ঠাণ্ডা খাবার পরিহার করা ও ঘুমোনোর সময়ে এয়ার কন্ডিশনে না ঘুমিয়ে ফ্যানের বাতাসে ঘুমোনো বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা, অধিকাংশ ভাইরাস ঠাণ্ডায় অধিকতর শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ঠাণ্ডায় করোনা ভাইরাসের সাথে ব্যাকটেরিয়াল ঊর্ধ্ব ও নিম্ন শ্বসনতন্ত্রের সহ-সংক্রমণ (Co-Infection) ঘটতে পারে। করোনা ভাইরাসকে সিজনাল ভাইরাস না বলা হলেও ভাইরাসের কমন বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যত উষ্ণতা ও আর্দ্রতা বাড়বে (Hot Humid Weather or Summer/Rainy Season), তত করোনা ভাইরাসের শক্তি কমবে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

সূত্রঃ www.ssrn.com/abstract=3551767

তাই জ্বর দেখা দেয়া মাত্রই জ্বরের ওষুধ খান, যথাযথ বিশ্রাম নিন এবং WHO, CDC, NHS, IEDCR ও সুপরিচিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ব্যতীত অপরিচিত বা সাধারণ ডাক্তার ও অ-ডাক্তার উভয়ের দেওয়া সকল প্রকার মতামত ও গুজব পরিহার করে চলুন।

📛 প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা কী কী?

☯ উত্তরঃ

বাংলাদেশ ও ভারতে ডায়াবেটিসের রোগীর সংখ্যা প্রচুর। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের অনেকেরই ডায়াবেটিস আছে। এই ডায়াবেটিসের রোগীদের বড় অংশের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ডায়াবেটিসের কারণে রোগীদের যে কোনো জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা তথা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। আবার ডায়াবেটিসের জটিলতা হিশেবে রোগীদের অনেকেরই একই সঙ্গে ক্রনিক কিডনি রোগ ও হৃদ্‌রোগ ইত্যাদি থাকে। ফলে করোনা ভাইরাস ডিজিজে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকি ডায়াবেটিসের রোগীদের।

✅ ০১) ডায়াবেটিস রোগীদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

✅ ০২) বর্তমান পরিস্থিতিতে বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ না করে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ইনসুলিন শুরু করতে হবে। ইনসুলিন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম বলে ঔষধের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পাবে। খালি পেটে শর্করা ৬ মিলিমোলের কম আর খাওয়ার দুই ঘণ্টা পরে ৮ মিলিমোলের কম মাত্রায় নিয়ে আসতে হবে।

✅ ০৩) করোনা উপসর্গ দেখা দিলে নিজেকে আলাদা রাখতে হবে। শরীর বেশি খারাপ না হলে হাসপাতালে না যাওয়াই ভালো। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

✅ ০৪) যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং যাঁদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের কোয়ার‍্যান্টাইনে থাকা বাঞ্ছনীয়। বাজার, শপিং মল, জনবহুল জায়গা, সামাজিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলতে হবে। বাড়িতে থেকে করোনা প্রতিরোধের নির্দেশগুলো মেনে চলতে হবে। বাইরের কারও সঙ্গে হাত মেলানো যাবে না, কোলাকুলি করা যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে যে কারও থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্বে থাকতে হবে।

✅ ০৫) পার্কে বা বাইরে হাঁটতে যাওয়া যাবে না। শর্করা নিয়ন্ত্রণে বাড়িতে, বারান্দায় বা করিডরে হাঁটতে হবে ও ব্যায়াম করতে হবে।

✅ ০৬) ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোয়াসহ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। টাকাপয়সা, খবরের কাগজ, পার্সেল ইত্যাদি জিনিস স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

✅ ০৭) ঘরে কেউ অসুস্থ হলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা করে ফেলতে হবে। বাইরে থেকে আনা কোনো খাবার খাওয়া যাবে না।

সূত্রঃ www.diabetes.org.uk/about_us/news/coronavirus

📛 প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাস নিয়ে অন্তর্জালে যেসকল প্রেসক্রিপশন ভাইরাল করা হয়েছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত?

☯ উত্তরঃ

✅ ০১) Hydroxychloroquine +/- Azithromycin সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হল -

🧿 ক) হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইনের ভাইরাস প্রতিরোধী কিছু ভূমিকা রয়েছে বলে এটি পুরোপুরি না হলেও কিছুটা কিংবা অনেকটা কার্যকরী বলে অনুমান করা হয়। এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো হচ্ছে হৃদযন্ত্রের নিলয়ের ছান্দনিক গতির অস্বাভাবিকতা (Ventricular Arrhythmia) । এছাড়া দৃষ্টিশক্তি হ্রাস (Retinal Damage)ও যকৃতের অকার্যকারিতা (Hepatic Impairment) দেখা দিতে পারে।

Both drugs have in-vitro activity against SARS-CoV, SARS-CoV-2, and other coronaviruses, with hydroxychloroquine having relatively higher potency against SARS-CoV-2 (অ্যাজিথ্রোমাইসিনের ব্যাপারে ঘটনা অন্য)

সূত্রঃ www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/hcp/therapeutic-options.html

🧿 খ) অ্যাজিথ্রোমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা ব্যাকটেরিয়া মারে কিন্তু ভাইরাস মারতে পারে না। এদিকে করোনা জীবাণুটি একটি ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া নয়। ফলে অ্যাজিথ্রোমাইসিন করোনা ভাইরাস মারতে অক্ষম। তবে ভাইরাসের তীব্র বা জটিল সংক্রমণে এর পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াল সহ-সংক্রমণ (Co-infection) কিংবা আনুষঙ্গিক সংক্রমণ (Secondary Infection) ঘটতে পারে। সেজন্য এই বিশেষ ক্ষেত্রে ক্লোরোকুইনের সাথে অ্যাজিথ্রোমাইসিন দেওয়া যেতে পারে।

In complicated or prolonged viral infections, bacteria may invade as well, and cause what is known as a “secondary bacterial infection”. In these cases, your doctor may prescribe an antibiotic, if one is needed, to kill the specific invading bacteria.

সূত্রঃ www.drugs.com/article/antibiotics-and-viruses.html

🧿 গ) অ্যাজিথোমাইসিন সেবনে ECG রিপোর্টে QT Wave Prolongation নামক অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে এবং এটি Ventricular Contraction বা হৃদপিণ্ডের নিলয়ের সংকোচনকেও কমিয়ে দিতে পারে।

🧿 ঘ) Azithromycin + Hydroxychloroquine উভয়ে একসাথে সেবনে হার্টের অসুখে ভোগা ব্যক্তিদের হৃদযন্ত্রের ছান্দনিক গতিতে ব্যাপক বাধা বা জটিলতার (Severe Cardiac Arrhythmia) সৃষ্টি হতে পারে।

✅ ০২) ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট করোনা প্রতিরোধ কিংবা নিরাময় উভয় ক্ষেত্রেই অকার্যকর। WHO, CDC, NHS, BDA or IEDCR - কোথাও করোনা ভাইরাস নিরাময়ে ভিটামিন সি, ডি, জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট সেবনের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এগুলো অহেতুক তথা অর্থের অপচয়। এসব সাপ্লিমেন্টের গল্পে বিভ্রান্ত না হয়ে উল্লেখিত পুষ্টিকর উপাদানসমৃদ্ধ (Copper, Folate, Iron, Selenium, Zinc & Vitamins A, B6, B12, C and D) সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন আর করোনা ভাইরাস নিয়ে উপরিউক্ত সংস্থাগুলোর প্রতিরক্ষামূলক নির্দেশনা মেনে চলুন।

সূত্রঃ www.bda.uk.com/resource/covid-19-corona-virus-advice-for-the-general-public.html

🧿 ক) ভিটামিন সি বা Ceevit/Vasco ২৫০-৫০০ মিগ্রা' কে তাত্ত্বিকভাবে উপকারী ধরা হলেও বাস্তবে এর উপকার পরিলক্ষিত হয়নি। এটি সাধারণ সর্দি জ্বর ও করোনা ভাইরাস উভয় ক্ষেত্রেই অকার্যকর বলে এটি কেনা অহেতুক অর্থের অপচয়। এটি না কিনে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক ফলগুলো খাওয়া যেতে পারে।

সূত্রঃ www.livescience.com/coronavirus-vitamin-c-myth.html

🧿 খ) সেলফ কোয়ার‍্যান্টাইনে থাকার কারণে এখন অনেকেই বাইরে তথা সূর্যালোকে যেতে ভয় পাবেন। সেজন্য ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট সেবন করা যেতে পারে যার মাত্রা প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০ মাইক্রোগ্রাম এবং ১ বছরের নীচের শিশুদের ক্ষেত্রে ৮.৫ থেকে ১০ মাইক্রোগ্রাম যদি তার পর্যাপ্ত পরিমাণে বুকের দুধ কিংবা ৫০০ মিলি এর ওপরে ফর্মুলা দুধ পান না করে। মার্জারিন, সিরিয়াল ও দইয়ে ভিটামিন ডি সংযোজিত করা থাকে আর ডিমের কুসুম, মাংস ও দুধে খুব সামান্য পরিমাণ ভিটামিন ডি থাকে। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছে প্রচুর ভিটামিন ডি থাকলেও বাংলাদেশে তা একদমই সহজলভ্য নয়।

সূত্রঃ www.bda.uk.com/resource/covid-19-corona-virus-advice-for-the-general-public.html

✅ ০৩) শ্বসনতন্ত্র ও মূত্রতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকারক তথা SARS-CoV-2 ভাইরাস সংক্রমণজনিত মৃত্যু এই ২ তন্ত্র থেকেই মূলত ঘটে বলে জ্বরের জন্য অ্যাসপিরিন কিংবা নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (NSAIDS) ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে ইবুপ্রুফেন উচ্চ নয় বরং মৃদু প্রকৃতির NSAIDS বলে কেউ কেউ প্যারাসিটামলের পাশাপাশি এটিকেও জ্বর ও প্রদাহনাশক হিশেবে ব্যবহার করলেও করতে পারেন - এটি বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত নিরাপদ।

✅ ০৪) Acute Respiratory Distress Syndrome, Septic Shock & Exacerbation of Chronic Obstructive Pulmonary Disease ছাড়া Steroid/Methylprednisolone Injection দেওয়া উচিত হবে না কেননা ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্যের করোনা ভাইরাস সংক্রমণে দেখা যায় - স্টেরয়েড ভাইরাস প্রতিলিপিকরণ তথা বংশবৃদ্ধি বাড়িয়ে দিয়েছিল।

📛 প্রশ্নঃ SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোন ধরনের রোগীদের বেশি সতর্ক থাকা উচিত?

☯ উত্তরঃ

🧿 ক) নিম্নোক্ত অসুখসমূহে রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পরে বা দুর্বল থাকে এবং/অথবা শ্বাসকষ্ট থাকে বলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকি কিংবা মৃত্যুহার বেশিঃ

✅ ০১) বহুমূত্র (Diabetes)

✅ ০২) উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)

✅ ০৩) হৃদরোগ (Cardiovascular disease): Acute coronary syndrome, congestive heart failure, cardiac ischemia, cardiac tamponade, pulmonary hypertension

✅ ০৪) শ্বসনতন্ত্রের রোগ (Respiratory disease): asthma, pneumonia, interstitial lung disease, chronic obstructive pulmonary disease, interstitial lung disease, cystic fibrosis

✅ ০৫) অন্যান্যঃ Anemia, Organ Transplant, Pregnancy with heart disease, Blood or bone marrow cancer

ডাক্তার নয় এমন ব্যক্তিদের সহজে বোঝার নিমিত্তে এখানে সেই অসুখগুলোর তালিকা দেওয়া হল যাতে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় বা দিতে পারে

সূত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_causes_of_shortness_of_breath

🧿 খ) যেসব ঔষধ গ্রহণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়, সেসব ঔষধ গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা প্রয়োজন

✅ ০১) হৃদরোগে ব্যবহৃত ঔষধঃ Adenosine, amiodarone, beta blockers

✅ ০২) ব্যথানাশক ঔষধঃ NSAIDs or Aspirin

✅ ০৩) ক্যান্সারে ব্যবহৃত ঔষধঃ Bleomycin, chlorambucil, cyclophosphamide, melphalan, methotrexate

✅ ০৪) মূত্রতন্ত্র সংক্রমণে ব্যবহৃত ঔষধঃ Nitrofurantoin

✅ ০৫) শ্বসনতন্ত্র অবসাদকারক ঔষধঃ Benzodiazepine (Diazepam, Clonazepam, Lorazepam, Flurazepam, Clobazam, Alprazolam) & Opioid (Oxycodone, Hydromorphone, Fentanyl, Pethidine, Morphine)

🧿 গ) যে সব ঔষধ কিডনীর জন্য ক্ষতিকর, সেসব ঔষধ গ্রহণের ব্যাপারে সতর্কতা প্রয়োজন

✅ ০১) অ্যান্টিবায়োটিকঃ Aminoglycosides, cephalosporins, amphotericin B, bacitracin and vancomycin.

✅ ০২) উচ্চরক্তচাপ বিরোধী ঔষধঃ Ace inhibitors (Ramipril, captopril, enalapril, lisinopril, perindopril etc) & Angiotensin receptor blocker (Losartan, valsartan, candesartan, irbesartan, Olmesartan, telmisartan, azilsartan)

✅ ০৩) ক্যান্সারে ব্যবহৃত ঔষধঃ Cisplatin, carboplatin & methotrexate.

✅ ০৪) মেডিকেল ইমেজিংয়ে ব্যবহৃত রঞ্জক পদার্থঃ Dyes (contrast media)

✅ ০৫) মাদকঃ He**in & methamphetamine.

✅ ০৬) এইডসে ব্যবহৃত ঔষধঃ Indinavir, ritonavir, saquinavir.

✅ ০৭) ব্যথানাশক ঔষধঃ Ibuprofen, ketoprofen, naproxen or aspirin.

✅ ০৮) অ্যাসিডিটি প্রশমক ঔষধঃ Cimetidine.

✅ ০৯) অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থঃ Insecticides, herbicides & ethylene glycol

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের ২৫% এর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে যেতে হয়েছে।

📛 প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাসের উপসর্গ টের পেলে করণীয় কী?

☯ উত্তরঃ

✅ ০১) করোনা ভাইরাসের উপসর্গ টের পেলে একদমই দেরি না করে নিকটস্থ সরকারী হাসপাতালে যাবেন এবং ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IEDCR) এর ১০টি হটলাইনের যে কোনোটিতে যোগাযোগ করবেন। হটলাইনগুলো হচ্ছে: +8801944333222, +8801937000011, +8801937110011, +8801927711784, +8801927711785, +8801550064901-05

✅ ০২) আপনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখার স্বার্থে একা একটি আলাদা কক্ষে থাকুন ও সর্বাবস্থায় মাস্ক ব্যবহার করুন।

✅ ০৩) একান্ত প্রয়োজন না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকুন ও সুস্থ ব্যক্তিদের থেকে কমপক্ষে ১ মিটার বা ৩ ফিট দূরত্ব বজায় রাখুন।
📛 প্রশ্নঃ SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নির্ণয় করার পদ্ধতি কী?

☯ উত্তরঃ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা একমাত্র ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (IEDCR) এই হয়, অন্যত্র হয় না।

SARS-CoV-2 করোনা ভাইরাস নির্দিষ্ট কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়, যথা –

✅ ০১) মলিকিউলার টেস্টঃ সক্রিয় সংক্রমণের লক্ষণগুলি খুঁজে বের করতে। ৩ ধরনের পদ্ধতি রয়েছে -

🧿 ক) রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (RT-PCR assays) – সবচেয়ে কার্যকরী

🧿 খ) নিউক্লিক অ্যাসিড অ্যামপ্লিফিকেশন টেস্ট (NAAT)

🧿 গ) হোল জিনোম সিকুয়েন্সিং (Whole Genome Sequencing)

এক্ষেত্রে শ্বসনতন্ত্রের নিম্নোক্ত এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় –

✅ ০১) Nasopharyngeal & Oropharyngeal Swab

✅ ০২) Bronchoalveolar Lavage

✅ ০৩) Endotracheal Aspirate

✅ ০৪) Nasopharyngeal Aspirate/Nasal Wash

✅ ০৫) Tissue from biopsy/autopsy including lung

✅ ০২) সেরোলজি (Antibody-assay/Immunoassay) টেস্টঃ এই পরীক্ষাটি নজরদারি করার উদ্দেশ্যে। এটি পূর্ববর্তী সংক্রমণ থেকে অ্যান্টিবডিগুলি সনাক্ত করার জন্য করা হয়, যা একজন ব্যক্তির ভাইরাসের ধরন প্রকাশিত করে।

এক্ষেত্রে একাধিক নমুনা (Paired Sample) সংগ্রহ করা উত্তম –

🧿 ক) রোগ হওয়ার ১ সপ্তাহ পর (week 1 of illness)

🧿 খ) রোগের ১ম সপ্তাহের পর পুনরায় ৩-৪ সপ্তাহ পর (3-4 weeks later)

যদি একাধিক নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভবপর না হয় তবে

🧿 ক) উপসর্গ দেখা দেওয়ার ৩-৪ সপ্তাহ পর (at least 3-4 weeks after onset of symptoms)

✅ ০৩) ল্যাবরেটরি টেস্ট রিপোর্ট থেকে প্রাপ্ত সহায়ক তথ্যঃ

🧿 ক) লসিকাকোষের স্বল্পতা (Lymphocytopenia) ৮৩%

🧿 খ) অনুচক্রিকা স্বল্পতা (Thrombocytopenia) ৩৬%

🧿 গ) শ্বেত রক্তকণিকা স্বল্পতা (Leukocytopenia) ৩৪%

এদিকে এই রোগে নিউমোনিয়া হলে দেখা গেছে -

🧿 ক) শ্বেত রক্তকণিকার স্বল্পতা (Leukocytopenia) ৯-২৫%

🧿 খ) শ্বেত রক্তকণিকার আধিক্য (Leukocytosis) ২৪-৩০%

🧿 গ) লিভার এনজাইমগুলোর বৃদ্ধি (Elevation of AST/ALT) ৩৭%

🧿 ঘ) লসিকাকোষের স্বল্পতা (Lymphocytopenia) ৬৩%

✅ ০৪) চেস্ট সিটি স্ক্যান থেকে প্রাপ্ত সহায়ক তথ্যঃ

🧿 ক) যে কোনো সময়ঃ Bilateral ground-glass attenuation (patchy or diffuse)

🧿 খ) শেষের স্টেজেঃ Subpleural dominance, crazy paving and consolidations

সূত্রঃ

ক) www.cdc.gov/coronavirus/2019-ncov/hcp/clinical-guidance-management-patients.html
খ) www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC7003341

📛 প্রশ্নঃ বাংলাদেশ তথা ৩য় বিশ্বের মানুষের জন্য করোনা ভাইরাস ডিজিজ কতটা ভয়ংকর হতে পারে?

☯ উত্তরঃ সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে করোনা ভাইরাস নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ ও ৩য় বিশ্বের মানুষের জন্য ভয়ংকর ঝুঁকির কারণ। তবে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই মারা তো যাবেনই না বরং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন। কারণ,

🧿 ক) অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটিতে সাধারণ ফ্লু-জ্বরের মতো মৃদু উপসর্গ দেখা দেয়, তীব্র উপসর্গ দেখা দেয় না।

🧿 খ) বয়স্ক ও ক্রনিক ডিজিজে আক্রান্ত রোগী কিংবা যাঁদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কম, তারা শতাংশ হিশেবে মোট রোগীর খুবই সামান্য অংশ।

তবে তাই বলে কি উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ নেই? – উত্তর হচ্ছে, উদ্বিগ্ন হওয়ার ব্যাপক কারণ রয়েছে। কারণ -

🧿 ক) ৩য় বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের দারিদ্র্যপীড়িত বলে তাদের মধ্যে পুষ্টিহীনতার সমস্যাটি চরম।

🧿 খ) শিক্ষার অভাবে অধিকাংশ জনগণ বিজ্ঞানসম্মত ডায়েট সম্পর্কে অজ্ঞ কিংবা খাদ্যগ্রহণের নিয়মানুবর্তিতা সম্পর্কে অসচেতন। ফলে এসব দেশের জনগণের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য দেশের জনগণের তুলনায় অনেক কম।

🧿 গ) ৩য় বিশ্বের ডাক্তার ও স্বাস্থ্য সেবার মান চরম অনুন্নত।

ফলে সতর্কতামূলক পূর্ব প্রস্তুতি না থাকলে এসব জনগণের ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে,

✅ ০১) দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাবে (মূলত ফুসফুস ও কিডনী) ।

✅ ০২) নিউমোনিয়ার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

✅ ০৩) খুব সম্ভবত মানুষের দেহকোষের ভেতরে ‘Mutation’ ঘটাতে সক্ষম অর্থাৎ নিজের গঠন পরিবর্তন করে দ্রুত নতুন রূপ নিতে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে যা আরো বেশি বিপদজনক।

✅ ০৪) এক একজন সংক্রমিত ব্যক্তি রোগটি কিছু ব্যক্তির মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন - এই সংখ্যাকে বলা হয় 'বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার অথবা মৌলিক প্রজনন সংখ্যা'- যা বর্তমানে ১.৪ থেকে ৩.৭ এর মধ্যে উঠানামা করছে এবং এটি ১ এর বেশি হওয়া মানে হল রোগটি স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ www.nejm.org/doi/full/10.1056/NEJMe2002387

📛 প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাস ডিজিজ নিয়ে কী উদ্বিগ্ন হওয়া তথা আগে থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা কী অমূলক?

☯ উত্তরঃ করোনা ভাইরাস ডিজিজ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যার কারণে আগে থেকেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী।

সূত্রঃ www.worldometers.info/coronavirus

_Quarantine

How Coronavirus Hijacks Your Cells The intricate journey of the virus that causes Covid-19.

06/04/2020

কোভিড-১৯ থেকে বাচার জন্য সকলে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন।

18/03/2020

সকল কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ থাকলেও ১ম এপ্রিল থেকে পুনোরায় চালু করা হবে ইনশাআল্লাহ।

13/02/2020

আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারী সকাল ১১ টায় গণিত বিভাগের সম্মান শ্রেণিতে অধ্যায়নরত সকল ছাত্র ছাত্রীদের গণিত বিভাগে উপস্থিত থাকার জন্য জানানো যাচ্ছে।বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

-ইকরামুল কবীর
বিভাগীয় প্রধান (গণিত)
ক্যান্টনমেন্ট কলেজে, যশোর

Want your school to be the top-listed School/college in Jessore?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Category

Website

Address


Airport Road, Jessore
Jessore