25/12/2025
ধূমকেতু চিত্রকল্প ১
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ: মানবজাতির চোখ খুলে দেওয়া এক বৈপ্লবিক মহাকাশ যন্ত্র
হাবল স্পেস টেলিস্কোপ মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক যন্ত্রগুলোর একটি। হাবল কেবল একটি টেলিস্কোপ নয়, এটি মহাকাশে স্থাপিত প্রথম বড় অপটিক্যাল পর্যবেক্ষণ যন্ত্র যা মহাবিশ্বকে নতুনভাবে অনুধাবন করার সুযোগ দিয়েছে।
এর পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭০-এর দশকে এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৯০ সালের ২৪ এপ্রিল STS-31 মিশনে NASA ও ESA-এর যৌথ উদ্যোগে হাবল উৎক্ষেপণ করা হয়। এই টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে আমেরিকান জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন পাওয়েল হাবলের নামে, যিনি মিল্কিওয়ের বাইরেও অসংখ্য গ্যালাক্সির অস্তিত্ব প্রমাণ করেন, দেখান যে মহাবিশ্ব প্রসারিত হচ্ছে এবং গ্যালাক্সির দূরত্ব ও বেগের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে কক্ষপথে অবস্থানের কারণে হাবল বায়ুমণ্ডলীয় বিকৃতি থেকে মুক্ত থেকে অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে পারে। ২.৪ মিটার ব্যাসের প্রধান লেন্স দিয়ে এটি দূরবর্তী গ্যালাক্সি, নেবুলা ও নক্ষত্রের জন্মস্থান, গ্রহ ও তাদের বায়ুমণ্ডল এবং মহাবিশ্বের অতীত ইতিহাস পর্যবেক্ষণ করেছে।
হাবলের তোলা পিলার্স অফ ক্রিয়েশন, বাবল নেবুলা, সোমব্রেরো গ্যালাক্সি, হাবল ডিপ ফিল্ড, হেলিক্স নেবুলা, ক্যাটস আই নেবুলা, এছাড়াও গ্যালাক্সি সংঘর্ষ (যেমন Antennae Galaxies) ও দূরবর্তী সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ এবং সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের প্রমাণ (যেমন M87 গ্যালাক্সি) জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
উৎক্ষেপণের পর প্রধান লেন্সে ত্রুটি ধরা পড়লেও ১৯৯৩ সালে মহাকাশে COSTAR সংশোধনী যন্ত্র স্থাপনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয় এবং এরপর হাবল পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ শুরু করে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজ চালিয়ে যেতে পাঁচটি স্পেস শাটল মিশনে এর যন্ত্রাংশ মেরামত ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ২০২০ সালে হাবল ৩০ বছর পূর্ণ করে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে কার্যক্ষম থাকতে পারে, যা তার জাইরোস্কোপ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও কক্ষপথের অবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
২০২৪ সালে জাইরোস্কোপের সীমাবদ্ধতার কারণে হাবলকে One Gyro অপারেশনাল মোডে পরিচালনা শুরু করা হয়, যেখানে স্টার ট্র্যাকার, সান সেন্সর ও ম্যাগনেটোমিটারের সহায়তায় এটি এখনও কার্যকরভাবে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। হাবল স্পেস টেলিস্কোপ মানব কৌতূহল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক জীবন্ত প্রতীক।
Source: Wikipedia, NASA, ESA