23/04/2025
মুক্ত হলো কুয়েট, সফল হলো তাদের ছাত্ররা।
কুয়েটিয়ান, যশোর জিলা স্কুলের SSC'21 ব্যাচের ছাত্র ওয়াসিক। জুলাইতে ছিল সরব,কিছুদিন আগে গুরুতর একটা অপারেশন থেকে ফিরেছে। আবারো আন্দোলনে অংশ নিলো, শরীর আর কত নিবে!
কুয়েট'২৩ ব্যাচের ছাত্রদের পেইজ হতে লেখা সংগৃহীত-
''আমাদের ২৩ ব্যাচের ওয়াসিক। ছেলেটার প্রেশার বেড়ে গেছে। জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে।
লাস্ট মোমেন্ট পর্যন্ত ও শুধু একটা কথাই জিজ্ঞেস করতেছিল, ভাই, ভিসি গেছে?!''
27/03/2025
যশোর জিলা স্কুলিয়ান 🖤
রাধাগোবিন্দ চন্দ্র ১৮৭৮ সালের ১৬ই জুলাই যশোর জেলার বকচর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি যশোর জিলা স্কুলে ভর্তি হন। কিন্তু তিন বারের প্রচেষ্টার পরেও প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পেরে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাট চুকিয়ে দেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি তেমন আগ্রহ না থাকলেও তিনি শৈশব থেকেই প্রচুর পড়াশোনা করতেন। তাঁর মামার পারিবারিক গ্রন্থাগার থেকে বিভিন্ন বই পড়ে তিনি গণিত, ইংরেজি এবং ফারসি বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন।
ছোটবেলা থেকেই রাধাগোবিন্দ আকাশের তারার প্রতি বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তিনি যখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র, তখন তাদের পাঠ্যবই ছিল চারুপাঠ তৃতীয় ভাগ। এই বইয়ে অক্ষয়কুমার দত্ত রচিত ‘ব্রহ্মাণ্ড কি প্রকাণ্ড’ নামের একটি প্রবন্ধ ছিল। এই প্রবন্ধ পড়েই রাধাগোবিন্দ জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। ১৯০০ সালে যশোরের কালেক্টরেট অফিসে মাসিক ১৫ টাকা বেতনে মুদ্রা-পরীক্ষক হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। তখন থেকেই তিনি দিনে চাকরি করতেন এবং রাতে নিয়মিত আকাশ দেখতেন। তাঁর মনে ঘুরপাক খাওয়া মহাবিশ্ব সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। এ সময় তিনি যশোরের আইনজীবী কালীনাথ মুখার্জির সান্নিধ্যে আসেন। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক বইয়ের লেখক কালীনাথ মুখার্জিই রাধাগোবিন্দকে জ্যোতির্বিদ্যার মৌলিক বিষয়গুলো শিখিয়েছিলেন।
১৯১০ সালে বাংলার আকাশে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল। সেসময় রাধাগোবিন্দ একটি সাধারণ দুরবিন ব্যবহার করে প্রায় দুই মাস ধরে হ্যালির ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ করেন। হ্যালির ধূমকেতু সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণের ফলাফল নিয়ে একটি বাংলা সাময়িকীতে তিনি একটি সিরিজ লিখেছিলেন। হ্যালির ধূমকেতু পর্যবেক্ষণের পরে জ্যোতির্বিদ্যার প্রতি আগ্রহ থেকে রাধাগোবিন্দ ১৯১২ সালে ১৬০ রুপি দিয়ে লন্ডন থেকে একটি ৩-ইঞ্চির প্রতিসারক টেলিস্কোপ ক্রয় করেছিলেন। তিনি সেই টেলিস্কোপ দিয়ে সর্বদা রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ করতেন। ১৯১৮ সালের ৭ই জুন মাসে তিনি তাঁর টেলিস্কোপ দিয়ে ‘নোভা অ্যাকুইলা-৩’ নামের একটি তারা পর্যবেক্ষণ করেন। পরবর্তীতে রাধাগোবিন্দ তাঁর অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি মূল্যায়নের জন্য হার্ভার্ড কলেজ অবজারভেটরির পরিচালক ডক্টর এডওয়ার্ড পিকারিং-এর কাছে পাঠান। ডক্টর পিকারিং এই প্রতিবেদনে মুগ্ধ হয়ে রাধাগোবিন্দকে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ভ্যারিয়েবল স্টার অবজারভার্স (AAVSO)-এর সম্মানসূচক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৯২৬ সালে, স্যার পিকরিং রাধাগোবিন্দের জ্যোতির্বিদ্যা চর্চার সুবিধার্থে হার্ভার্ড কলেজ থেকে যশোরে একটি ৬-ইঞ্চির প্রতিসারক টেলিস্কোপ পাঠান। বর্তমানে, টেলিস্কোপটি দক্ষিণ ভারতের কাভালুর মহাকাশ পর্যবেক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।
১৯৪৬ সালের জুন মাসে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ভ্যারিয়েবল স্টার অবজারভার্স (AAVSO) একটি সম্মাননাপত্র প্রকাশ করে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি পরিবর্তনশীল নক্ষত্র, ধূমকেতু ইত্যাদি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২৫ জন জ্যোতির্বিদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই তালিকায় রাধাগোবিন্দ চন্দ্রও ছিলেন। রাধাগোবিন্দ ১৯১৯ থেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত ৩৭২১৫টি পরিবর্তনশীল নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করেছিলেন এবং সেগুলোর তথ্য AAVSO-তে প্রেরণ করেছিলেন। রাধাগোবিন্দের বেশিরভাগ গবেষণাই পরিবর্তনশীল নক্ষত্র সম্পর্কিত ছিল। তিনি তাঁর সমস্ত পর্যবেক্ষণকৃত প্রতিবেদনগুলো নিয়মিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মানমন্দির, ব্রিটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি এবং ফ্রান্সের লিয়ন মানমন্দিরে পাঠাতেন। ফরাসি সরকার ১৯২৮ সালে তাঁকে সম্মানসূচক 'অফিসার ডি একাডেমিক' উপাধি এবং একটি পদক প্রদান করে।
দেশভাগের পর, রাধাগোবিন্দ তাঁর পরিবার নিয়ে ভারতের কোলকাতায় চলে যান। তিনি সেখানে একটি জ্যোতির্বিদ্যা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলায় জ্যোতির্বিদ্যার সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি বই রচনা করেন। তাঁর জীবদ্দশায় কেবল একটি বই 'ধূমকেতু' প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলাদেশের নিজ বাসস্থান থেকে চলে যাওয়ার কারণে তাঁর বহু নথিপত্র হারিয়ে গিয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বরেণ্য জ্যোতির্বিদ রাধাগোবিন্দ চন্দ্র ১৯৭৫ সালের ৩রা এপ্রিল ৯৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। রাধাগোবিন্দ চন্দ্র আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হলেও দুঃখজনকভাবে নিজ জন্মস্থান বাংলাদেশ থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁকে তেমন কোনো সম্মাননা দেওয়া হয়নি।
Jobaida Rahman Mysha
Team Science Bee