02/10/2025
বাংলাদেশের সমাজের অন্যতম একটা ডার্ক-সাইড কী জানেন?
এদেশের ছেলে-মেয়েরা সচরাচর নিজেদের বাবা-মাকে অন্য কারো বাবা-মার সাথে তুলনা করে না; চিন্তাও করে না। নিজের অভিভাবকের উপার্জন যেমনই হোক না কেন, সেটা অন্যের অভিভাবকের উপার্জন স্কেলের সাথে তুলনা করে না; ওনাদের সামর্থ্যের বাইরে এমন কিছু স্বপ্ন দেখে হয়তো, কিন্তু সাধারণত আবদার করে না কখনো।
কিন্তু এদেশের বাবা-মারা সবসময় দেখা যায় তাদের সন্তানদের সাথে অন্যের তুলনা করে; ৪-৫ বছরের সন্তান হোক বা ৩৫-৪০ বছরের। অন্যের ছেলে পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে, গোল্ডেন এ+ পেয়েছে, মেডিক্যালে-বুয়েটে-পাবলিকে চান্স পেয়েছে, ৯৫%-৯৮% মার্ক পেয়েছে; অমুকের ছেলে মাসে এতো টাকা ইনকাম করে ঘরের হাল ধরেছে, অমুকের ছেলে বিসিএস ক্যাডার, ব্লা ব্লা ব্লা। বিশ্বাস করেন, সামান্য সামান্য ভুলের কারণে অথবা মর্জি মতো না চলার কারণে সন্তানের মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করে এমন অভিভাবকও আছেন।
মানুষ যদি নিজের সন্তানদের প্রতিই এই বিশ্বাস না রাখে যে সে কিছু না কিছু পারবে, আপনিই যদি বিশ্বাস না করেন যে তার দ্বারা সম্ভব, তাহলে তো দুনিয়ার কেউই বিশ্বাস করবে না। ইমাজিন করতে পারেন, ৫-১০ বছরের একটা ছেলেকে যখন বলা হয় যে "তোর দ্বারা কিছুই সম্ভব না," তার উপর কেমন প্রভাব পড়ে?
শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি এতো লোক-দেখনো যত্ন, মানসিক স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে দেখেছেন? নিচে কিছু ঘটনার উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে আমাদের সমাজের এই “ডার্ক-সাইড” তুলে ধরা হয়েছে:
২০২৪ এ, Aachol Foundation এর একটি রিপোর্ট বলেছে যে ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করার শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪৯.৪% স্কুল-ছাত্রী/ছাত্রী ছিল, এবং পরিবারের উচ্চ শিক্ষা ও সাফল্য প্রত্যাশার চাপ একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও একটি রিসার্চ "Understanding complex causes of suicidal behaviour among graduates in Bangladesh" (২০২৪) বলেছে, বাংলাদেশে পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক প্রত্যাশা (যেমন “ভালো চাকরি করো, পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করো”) তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
copied