20/10/2024
অনার্স পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা:
প্রথমে বলব, "বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম" বলে লেখা শুরু করবেন। প্রশ্ন টা খুব সুন্দর করে একবার পড়ে নিবেন। যে গুলো পারবেন সিরিয়াল অনুয়ায়ী লিখে রাখুন। আগে ক বিভাগ তারপর গ বিভাগ তারপর খ বিভাগ।
#দ্রুত লেখা:
তুমি তোমার জীবনের সর্বোচ্চ গতিতে লিখবে। অনেকেই প্রথম ১-২টি প্রশ্ন খুব ধীরে ধীরে লেখে, যা একটি বড় ভুল। যারা এমন করবে, তারা কখনোই সময়মতো পরীক্ষা শেষ করতে পারবে না। লেখার গতি বজায় রাখো। লেখা যেদিকে যায় যাক, শুধু বোঝা গেলেই চলবে আর হাতের লেখা ভালো হলেয় হলো। দ্রুত লিখলে লেখা কিছুটা খারাপ হতে পারে, তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। সুন্দর লেখা ভালো, কিন্তু না পারলে ভয় পাওয়ারও দরকার নেই।
#নীল কালি ব্যবহার:
পয়েন্ট, কোটেশন এবং রেফারেন্স নীল কালি দিয়ে লিখো এবং আন্ডারলাইন করো। এতে পরীক্ষকের চোখে তা সহজেই পড়বে, আর পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা তোমার কাজ।
#সব প্রশ্নের উত্তর :
সব প্রশ্নের উত্তর করতে চেষ্টা করবে। অনেকেই ভাবেন, ১০ বা ২০ মার্কের প্রশ্ন না লিখলে ক্ষতি হবে না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। যদি সময় কম থাকে, তবে কম লিখবে। যদি কোনো উত্তর না আসে, তবে পেইজ খালি রেখে অন্য উত্তর লিখবে।
#প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখো:
প্রশ্নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে উত্তর দিলে খাতা দেখা সহজ হয়। এতে পরীক্ষক সন্তুষ্ট হন, আর তিনি খুশি হলে নম্বরও ভালো আসবে। যে বিভাগ লিখবে তার প্রশ্ন নং সিরিয়াল রাখবে।
# #আর হা তুমি বিভাগীয় প্রশ্ন অবশ্যই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। # #
#খাতায় কাটাকাটি করবে না:
কাটাকাটি খাতার সৌন্দর্য নষ্ট করে। সুন্দর জিনিস সবসময়ই মূল্যবান। তাই চেষ্টা করবে যেন খাতায় কাটাকাটি কম হয়। যদি কাটতে হয়, তাহলে শুধু একটি সরল দাগ দিয়ে কেটে ফেলো, মুছা বা ঘষাঘষি করবে না।
#সময় ভাগ করে রাখো:
প্রতিটি প্রশ্নের জন্য কত সময় বরাদ্দ করবে, তা আগে থেকেই হিসাব করে নিবে। বরাদ্দকৃত সময়ের মধ্যে উত্তর লিখতে চেষ্টা করো। যদি সময় কিছু বেঁচে যায়, সেটি পরবর্তী প্রশ্নের জন্য ব্যবহার করতে পারো।
#পয়েন্ট ছোট রাখো:
বড় প্রশ্নের পয়েন্টগুলো সাধারণত অনেক বড় করে লেখা থাকে, কিন্তু সবকিছু মনে রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি পয়েন্ট ২-৩ লাইনের বেশি না লিখে, মূল কথা লিখতে চেষ্টা করো।
---
পরীক্ষার সময়কাল: ৪ ঘন্টা = ২৪০ মিনিট
ক-বিভাগ:
১০ মার্কের জন্য ৩০ মিনিট
প্রতি ১ মার্কের জন্য ৩ মিনিট
গ-বিভাগ:
৫০ মার্কের জন্য ১৫০ মিনিট
১০ মার্কের একটি প্রশ্নের জন্য ৩০ মিনিট বরাদ্দ। ৩০ মিনিটের বেশি সময় না দিয়ে চেষ্টা করবে ২-৩ মিনিট বাঁচিয়ে রাখতে, যাতে যেটি ভালো পারো, সেটিতে বেশি সময় দিতে পারো। ১০ মার্কের জন্য অন্তত ৭-৮ পৃষ্ঠা লেখার চেষ্টা করবে। এক পৃষ্ঠা লিখতে ৬-৭ মিনিটের মধ্যে লিখতে হবে, তাই লেখার গতি ভালো করতে হবে।
খ-বিভাগ:
২০ মার্কের জন্য ৬০ মিনিট
প্রতি ৪ মার্কের একটি প্রশ্নের জন্য ১২ মিনিট বরাদ্দ রাখবে। এখানে ২-৩ পৃষ্ঠা লিখবে।
---
অতিরিক্ত প্রস্তুতি:
১. অবশ্যই একটি পানির বোতল, টিস্যু, ঘড়ি, পেনসিল, কালার কলম, এবং এক্সট্রা কলম সঙ্গে রাখবে।
২. রাতে এডমিট কার্ড ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড সাদা ফাইলে গুছিয়ে রাখবে।
সময় সংবেদনশীলতা:
বাংলা লেখা শেষ করা বেশ কঠিন, তাই সময় খুব সেনসেটিভ। ১ মিনিট এদিক-ওদিক হলেই বিপদে পড়তে পারো। কোনো প্রশ্নই বাকি রাখবে না,প্রতিটি উত্তরে টাচ করবে যাই হোক প্রশ্নের উত্তর লিখলে কিছু না কিছু মার্ক পাবে।
প্রথমে প্রশ্ন পাওয়ার পর, পেনসিল দিয়ে সিরিয়াল মার্ক করে ঠিক করে নাও কোনটার পরে কোনটা লিখবে। একদম ছোট্ট করে দাগিয়ে নিবে, বেশি দাগালে স্যার-ম্যাডাম ঝামেলা করতে পারে।
ক বিভাগের সময় যতটা সম্ভব সময় সেভ করতে পারবে ততটাই খ এবং গ বিভাগে বেশি সময় ব্যয় করতে পারবে। প্রশ্ন না পারলে,সেইটা বাদ রেখে অন্যটায় সময় দিবেন।একটা নিয়ে গবেষণা করতে যাবেন না।
---
পরীক্ষার সময় ভাগ করে নেওয়ার উদাহরণ:
তোমার পরীক্ষার জন্য মোট ২৪০ মিনিট (৪ ঘণ্টা) আছে এবং পূর্ণমান ৮০। তুমি এই সময়কে ৩টি ভাগে ভাগ করতে পারো:
১. ক-বিভাগ: ১০ মার্ক, ৩০ মিনিট (১:০০ PM - ১:৩০ PM)
২. গ-বিভাগ: ৫০ মার্ক, ১৫০ মিনিট (১:৩০ PM - ৪:০০ PM)
৩. খ-বিভাগ: ২০ মার্ক, ৬০ মিনিট (৪:০০ PM - ৫:০০ PM)
সময়ভাগের সূচি:
ক-বিভাগ: ১:০০ PM - ১:৩০ PM
গ-বিভাগ:
প্রশ্ন ১: ১:৩০ PM - ২:০০ PM
প্রশ্ন ২: ২:০০ PM - ২:৩০ PM
প্রশ্ন ৩: ২:৩০ PM - ৩:০০ PM
প্রশ্ন ৪: ৩:০০ PM - ৩:৩০ PM
প্রশ্ন ৫: ৩:৩০ PM - ৪:০০ PM
খ-বিভাগ: ৪:০০ PM - ৫:০০ PM (১২/১৫ মিনিট করে সময় দিবে।)
এই সময় ভাগের মাধ্যমে প্রতিটি অংশের জন্য যথেষ্ট সময় পাবে।
---
অতিরিক্ত গাইডলাইন:
পরীক্ষার আগে সব বিষয় ভালভাবে রিভিউ করো। প্রয়োজন হলে প্র্যাকটিস টেস্ট নাও।
পরীক্ষার দিন সকালে সঠিক খাবার গ্রহণ করো, যাতে শরীর এবং মন উভয়ই সজাগ থাকে।
পরীক্ষা চলাকালীন অযথা চাপ নেবে না; শান্ত থাকো এবং নিজেকে বোঝাও যে তুমি প্রস্তুত। ভাগ্য যা আছে তাই হবে,নিজের সবর্চ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে।
পরিক্ষা হলে সব সময় মনে মনে দোয়া ইউনূস পড়বে। পড়া মনে না আসলে দূরুদ শরীফ বা দোয়া ইউনূস পড়বে।
সবশেষে, আত্মবিশ্বাসী হও এবং মনে রেখো, পরীক্ষার ফলাফলই সবকিছু নয়; তোমার প্রচেষ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরীক্ষা তুমি আগেও দিয়েছ, এখনও দিচ্ছ, সামনেও দেবে।
যদি কখনও মনে হয়, আর পারছি না, এবার পালিয়ে যাই, তবে মাথায় এনো, আগেও এমনটা হয়েছে, যখন তোমার মনে হয়েছে, থাক, এখন হার মেনে নিই, তবুও তুমি হার মেনে নাওনি বলেই আজকের এই জায়গায় আসতে পেরেছ।
মানুষ কীভাবে তৈরি, জানো তো? মানুষ ভাবে আর প্রায়ই ভাবে, আর পারছি না, এত কষ্ট নেওয়া যায় না, তবু সে ঠিকই সব পেরে যায়।পেরে যাবার জন্যই মানুষের জন্ম হয়েছে।
তুমিও মানুষ, তাই তুমিও পারবে।শুধু হাল ছেড়ে দিয়ো না, তাহলেই হবে।
সাফল্যের জন্য শুভকামনা!
-মুন্না (অনার্স ৩য় বর্ষ)
ইংরেজি বিভাগ।