Dhulla B.M. High School

Dhulla B.M. High School Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dhulla B.M. High School, Middle School, Jazira.

19/08/2025

রাধাহীন খেলা

মোহাম্মদ ছালাহ্ উদ্দিন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
ফয়জুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়,বরাইদ
পূর্বতন শিক্ষকঃ ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়
রাত ২:৫০ মিনিট (তৃতীয় প্রহর)
১৯/০৮/২০২৫

তুমি নিরাঞ্জন — করেছো প্রবঞ্চন,
এ ধরায় মানবী করেছো নিবেদন।
কাছে টেনে আবার ঠেলে দিলে দূরে,
ভাবোনি কভু — এ কেমন খেলা হে ঊরে?

আজ কেন শুধাও — রাধা কোথা গেলা?
রাধা বিনে তুমি — নিঃস্ব, অচলা।
ডাকিলে মানব, সাড়া মেলে না, তাই —
নপুংসকের ঘরে ফল ধরে না ভাই।

নৌকা হাতে যমুনাতে খেলেছো রঙ্গ,
পান লাল করে দিলে অধরে চুম্বন-সংগ।
সহস্র গোপী ছিলো তোমার দ্বারে,
তবু কেন রাধারে রাখিলে অগোচরে?

গায়ে মেখে দিলে আলতার রঙ,
ভুলালে লাজ, কেবল ক্রীড়ার ঢঙ।
চোখে ছিল ছল, হাসিতে ছিল ফাঁকি,
রাধা রইলো একা, হৃদয়ে রাখলে ঢাকি।

ষোলশত গোপী, হাজার গান,
তবু রাধা পায়নি সম্মান।
ভালোবাসা যদি হয় অভিনয়,
তবে কৃষ্ণ, কিসে তুমি সত্য-পরিচয়?

রাধাহীন প্রেম — নিঃস্ব এক সুর,
যায় না বাজানো সে বাঁশি গুরুর।
যার হৃদয় দিলে, তাকে দিলে ক্ষয়,
রাধার অশ্রু — তোমার পরিচয়।

কেমন এ খেলা খেলিলে ধরণীতে?
ভালোবাসা ফাঁদ, বিদ্রুপ গীতে!
রাধার প্রেম ছিল অর্ঘ্য পবিত্র,
তবু করলে তা তোমার লীলার ভিতর।

রাধা যেখানে নেই — কৃষ্ণও যে শূন্য,
শুধু বাঁশি বাজে, প্রেম থাকে বিষণ্ণ।
রাধার নামেই হোক তোমার জয়,
ভুলে যেয়ো না — প্রেম কখনো নয় ক্ষয়।

18/08/2025

বিদায় বেলায়—আব্দুল গফুর ভাই

লেখকঃ মোহাম্মদ ছালাহ্ উদ্দিন
সহকারী প্রধান শিক্ষক, ফয়জুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, বরাইদ
(পূর্বতন শিক্ষক, ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়)

দীর্ঘ দিন চাকুরী শেষে আজ ১৮/০৮/২০২৫ খ্রিস্টাব্দে অবসরে চলে গেলেন ঐতিহ্যবাহী ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আব্দুল গফুর ভাই।

চিরচেনা পথ একসময় অচেনা হয়ে যাবে। দীর্ঘ জীবনের স্মৃতি এক সময় বিস্মৃতির আড়ালে সব মুছে যাবে। একদিকে আনন্দ, আরেকদিকে চোখের জল—দুইই যেন একাকার হয়ে সৃষ্টি হলো নতুন গদ্যের অধ্যায়। এক হাতে সকল পাওনা বাকীর খাতায়, আরেক হাতে সহকর্মী, বস আর হাজারো ছাত্র-ছাত্রীদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা।

শেষ হলো দশ সহস্র্যের বেশি বিনিদ্র, পলকহীন রজনী। প্রতিদিনের কর্মচাঞ্চল্যতা, শত সহস্র্য শিক্ষার্থীর গুঞ্জন, পাখির কলরব, ঝিঝি পোকা, ব্যাঙের ডাক, জোনাকী পোকার আলো জ্বালানো, সন্ধ্যায় রজনীগন্ধা, রাতে হাসনাহেনা ফুলের সুবাস, সকালে শিউলী ফুল, সারা দিনরাত মেহগনি ফল ঝড়ার শব্দ।
চোখের তারা জলবে, অথচ বিদ্যালয়ের সারি সারি নারকেল, সুপুরী, মেহগনি, কাঁঠালপাতা, নিম আর বাহারী ফুল আর ফল গাছের পাতা ঝড়ার আনন্দে বইতে পারবে না।

গ্রীষ্ম আসবে, চলে যাবে অপেক্ষায়। বর্ষা,শরৎ আসবে, সেও চলে যাবে। হেমন্তও থাকবে না। শীত আসবে, সেও আগমনী গান গাবে বসন্তের।
এমনি ধারায় ফুল, ফল, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত আর বসন্ত—প্রতিটি ঋতু যেন তার আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের পাখা মেলবে। অথচ বিদ্যালয়ের ঘনঘটা আয়োজন ব্যক্তি পর্যায়ে উপভোগ করা যাবে না। আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে জায়গা করে নেবে কোন এক কোনায়।

জীবনের প্রতিটি ঘটে যাওয়া সময়ের কথা মনে পড়বে। ঘুম আসবে না—দীর্ঘ দিনের রাত জাগা অভ্যেস হয়ে যাওয়া এক রীতিকে।
নিজের কাছে ভাবতে অবাক লাগবে—চায়ের আড্ডায় হয়তো গল্পের ছলে বলা, ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠে চাকরি করার অহংকার আর গর্বে ভরে ওঠা আনন্দ ভাগাভাগি,
তাও আবার খুব বেশিদিন বললে সামনে থাকা শ্রোতারাও বিরক্তি বোধ করবেন। এরকম করতে করতে এক সময় তাও বন্ধ হবে। বন্ধ হবে বন্ধু-বান্ধবীদের আনাগোনা।
থাকবে না প্রাত্যহিক রুটিন।

আজ হঠাৎ আমার আগের কর্মস্থলের একজন স্নেহভাজন সহকর্মী রফিক সাহেবের কাছ থেকে শুনে আপনাদের কিছুটা সময় হয়তো নষ্ট করলাম।
এভাবেই শেষ হয় চাকুরী জীবন—ঘটে যায় কখনও জীবনের পরিসমাপ্তি।

14/08/2025

ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় — আমার প্রথম প্রেম

এটি আমার প্রথম কর্মস্থল—তাই হৃদয়ের গভীর থেকে ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়কে ভালোবাসি। একুশ বছরের বেশি সময় ধরে আমি এখানে কর্মরত ছিলাম। আজ আমি অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হলেও, আমার প্রথম কর্মস্থলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, এলাকার মানুষ—সকলকেই সমানভাবে স্মরণ করি। তাঁরাও আমাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর সহমর্মিতায় ভরিয়ে দিয়েছেন; কারো মধ্যে কখনো কার্পণ্য দেখিনি।

জীবনের প্রথম প্রেম যেমন ভোলার নয়, তেমনি প্রথম কর্মস্থলও। কেউ ডাকুক আর না ডাকুক—এটি আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার পরিবারের মতোই ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ও আমার সুখ-দুঃখের সাথী।

স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে কত কত ছবি—ক্লাসরুমের ব্যস্ততা, অফিসরুমের কর্মচাঞ্চল্য, লাইব্রেরির নিঃশব্দ জগৎ, কম্পিউটার ল্যাবের প্রযুক্তি-গন্ধ, খেলার মাঠের উল্লাস, কাঁঠালতলার আড্ডা, সারি সারি নারিকেল গাছ, মেহগনি বাগান, বেলগাছের ছায়া, সামনে সবজি বাগান, দুই পাশে মাছের পুকুর, আর পাশে মসজিদ ও শিবমন্দির।

শিবমেলার সেই রঙিন দিনগুলো—ঝালমুড়ি, চটপটি, জিলাপি, নানান রকম মিষ্টি, পেঁয়াজু; খেলনার দোকান, নাগরদোলা, পুতুলনাচ, সার্কাস—সবই যেন আজও চোখে ভাসে। পাকড় গাছের নিচে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আড্ডা জমে উঠত প্রাণের টানে।

আমার মনে আছে এ্যাথলেটিক্স, ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট, সাঁতার—নানা আয়োজনের কথা। ছাত্রজীবন থেকেই স্কাউটিং করায় স্কাউট শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, আর ক্রীড়া শিক্ষক হিসেবে উপভোগ করেছি অসংখ্য সাফল্য—উপজেলা, জেলা, উপঅঞ্চল, অঞ্চল, এমনকি জাতীয় পর্যায় থেকে রানারআপ ও চ্যাম্পিয়ন ট্রফি অর্জন।

যেমন আনন্দ পেয়েছি, তেমনি কষ্টের মুখোমুখিও হয়েছি। জীবনে বিরল যে অভিজ্ঞতা—ছাত্র পেটানোর অভিযোগে মামলা, হাইকোর্টের রুল—আমার কপালেও জুটেছিল। একজন ক্রীড়া শিক্ষকের পক্ষে তার জবাব দেওয়া সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু সকলের ভালোবাসা, সহকর্মীদের সহযোগিতা সেই কষ্ট মুছে দিয়েছে, আমাকে ঋণী করেছে।

যাঁর হাত ধরে আমি চাকরি পেয়েছিলাম—তৎকালীন প্রধান শিক্ষক, চিরকুমার মরহুম আবুল ফজল তাজ উদ্দিন স্যার—তাঁর প্রতি রয়েছে অশেষ কৃতজ্ঞতা। ঘন্টার পর ঘন্টা তাঁর সাথে গল্প করা, সন্ধ্যায় সাইদুর ভাইয়ের হ্যারিকেন জ্বালানো—এসবই হৃদয়ে অমলিন।

আমার দেখা সবচেয়ে স্মার্ট শিক্ষক—জনাব কার্তিক চন্দ্র সাহা (সহকারী প্রধান শিক্ষক)। তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় আমি সবসময় প্রশ্নবানে ব্যস্ত রেখেছি।

এখন এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের বয়স ১০৫ বছর—উপজেলার শতবর্ষ বিদ্যালয়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। মনে পড়ে মরহুম মজিবর রহমান, বারীন্দ্র কিশোর চক্রবর্তী, আবুল কাশেম স্যার, মতিয়ার রহমান স্যার, মরহুম নুরুল ইসলাম স্যার—যাঁরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও মানবিকতায় আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছেন।

বর্তমানে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন প্রধান শিক্ষক জনাব মোহাম্মদ শাহজাহান স্যার—আমার জীবনের উন্নতিতে তিনি একজন অভিভাবকতুল্য। লোকমান হেকিম স্যার, মাওলানা জহিরুল ইসলাম স্যার, বড় বোনের মতো মাকসুদা আক্তার ম্যাডাম, শাহনাজ আক্তার—সবাই দিয়েছেন ভালোবাসা ও সম্মান।

আমার স্নেহধন্য ছোটভাইয়ের মতো সহকর্মীরা—আব্দুল আহাদ, রফিকুল ইসলাম, শারমিন আক্তার পলি, মিজানুর রহমান, মনিরুজ্জামান, আব্দুল হক, সেলিম হোসেন, মোতালেব হোসেন, মোকবুল—সবাই আমাকে মর্যাদা দিয়েছেন। অফিস সহকারী নুর মোহাম্মদ ভাই, গফুর ভাই—এঁদের আন্তরিকতা ভোলার নয়। আমার প্রিয় ছাত্র আজহারউদ্দীন, ফিরোজ, রফিক, আব্দুল আলিম—তাঁদের অবদানও গভীরভাবে মনে আছে।

কিন্তু হৃদয়ে সবচেয়ে দাগ কেটেছে আমার বিদায়ের দিন—যেদিন ফরিদা পারভীন অঝোরে কেঁদেছিল।

আমি জানি, আমার কর্মস্থল ভালো থাকলেই আমি ভালো থাকি। তাই ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়, তুমি ভালো থেকো—তুমি আর তোমরা সবাই ভালো থেকো।
লেখক- মোহাম্মদ ছালাহ্ উদ্দিন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
ফয়জুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়,বরাইদ।
তারিখঃ ১৪-০৮-২০২৫ খ্রি.

ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব কার্তিক চন্দ্র স্যার স্ট্রোক করে বেশ কিছু দিন যাবৎ ...
19/06/2025

ধূল্যা ভূবন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব কার্তিক চন্দ্র স্যার স্ট্রোক করে বেশ কিছু দিন যাবৎ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।বর্তমানে তাঁর নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।আমরা তার জন্য সবাই দোয়া করি।আল্লাহ যেন তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।

14/09/2022

এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০২২ এর জন্য সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।

ফুটবল টিম ২০২২খ্রি. কোয়াটার ফাইনালে বিদায়।
07/09/2022

ফুটবল টিম ২০২২খ্রি. কোয়াটার ফাইনালে বিদায়।

৭শ্রেণি ক শাখা গত তিন মাসে তাদের উপস্থিতি ১০০ ভাগ।সামান্য পুরস্কার।
01/09/2022

৭শ্রেণি ক শাখা গত তিন মাসে তাদের উপস্থিতি ১০০ ভাগ।সামান্য পুরস্কার।

02/05/2022
01/04/2022
শিক্ষা সফর ২০২০ খ্রি. স্থানঃ মহেরা জমিদার বাড়ি এবং যমুনা সেতু।তারিখঃ ২৮.০১.২০২০ খ্রি.।
30/01/2020

শিক্ষা সফর ২০২০ খ্রি. স্থানঃ মহেরা জমিদার বাড়ি এবং যমুনা সেতু।তারিখঃ ২৮.০১.২০২০ খ্রি.।

বিদায় অনুষ্ঠান
26/01/2020

বিদায় অনুষ্ঠান

Address

Jazira

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dhulla B.M. High School posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category