24/04/2024
রোদের প্রখরতা বাড়লে এবং তীব্র খরায় মাঠ ঘাট পুড়ে খাক হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যখন জনজীবন পর্যদুস্ত হয়, তখন মুসলমানরা জামাতবদ্ধ হয়ে সালাত পড়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে।
বৃষ্টির জন্যে সালাত আদায় করলেই অবশ্যম্ভাবী বৃষ্টি চলে আসবে—বিষয়টা তা নয়। আমরা তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে কতোকিছুর জন্যেই দোয়া করি। আমাদের সব দোয়া কি জায়নামায থেকে উঠার আগে আগেই কবুল হয়ে যায়? যায় তো না। তাই বলে কি আমরা ধরে নিতে পারি যে আমাদের দোয়া ব্যর্থ বা আল্লাহ আমাদের দোয়া শোনেননি বা শোনেন না?
না, বিষয়টা আসলে সেরকম নয়।
ইউসুফ আলাইহিস সালামকে যখন তাঁর ভাইয়েরা চক্রান্ত করে কূপে ফেলে দিয়ে আসলো, এবং ‘ইউসুফকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে’—এরকম একটা মিথ্যা সংবাদ যখন তারা তাদের পিতা ইয়াকুব আলাইহিস সালামের কাছে নিয়ে আসলো, তখন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম দোয়া করে আল্লাহর কাছে কী চেয়েছিলেন? তিনি চেয়েছিলেন সবরুন জামিল তথা সুন্দরতম ধৈর্য।
সন্তান হারানোর মতো কঠিন বিপদে নিপিতিত হয়ে তিনি আল্লাহর কাছে ধৈর্য ধারণের তাওফিক চেয়েছেন। কিন্তু, তাই বলে কি নবি ইয়াকুব আলাইহিস সালামের মনের কোথাও ইউসুফকে ফিরে পাওয়ার সুতীব্র বাসনা ছিলো না? অবশ্যই ছিলো। তিনি ইউসুফকে ফিরে পেতে চাচ্ছিলেন খুব করে, কিন্তু সেটা তাঁর নিজের পছন্দনীয় সময় আর পদ্ধতিতে নয়, বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নির্ধারিত আর পছন্দনীয় সময়ে।
আল্লাহর সিদ্ধান্তকে ভালোবাসতে গেলে তো তাড়াহুড়ো করা যায় না। ফলে আল্লাহর নবি ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ‘হে রব, আমার ইউসুফকে ফিরিয়ে দিন’ না বলে তিনি বলেছেন— ‘হে রব, আপনি আমাকে সুন্দরভাবে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন’।
মুসলমানরা যখন কোনো বিপদে নিপতিত হয়ে আল্লাহর কাছে হাত উঠায়, তখন সেই হাত উঠানোর মাঝে সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা ভাস্বর হয়ে উঠে সেটা হলো আল্লাহর ফয়সালাকে মেনে নিতে পারার স্বীকারোক্তি।
আমরা যখন বৃষ্টির জন্যে সম্মিলিত সালাত আদায় করি, আমরা তখন যতোখানি না বৃষ্টি চাই, তারচেয়ে বেশি চাই আল্লাহর অনুগ্রহ। সেই অনুগ্রহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কয়েকভাবে আমাদের ওপর নাযিল করতে পারেন।
হয়তো তিনি সরাসরি বৃষ্টি নামিয়ে আমাদের দোয়া কবুল করতে পারেন। হয়তো তিনি বৃষ্টি দিবেন না, কিন্তু এই অসহনীয় গরম সহ্য করার মতো আমাদেরকে শারীরিক আর মানসিক শক্তি দিবেন। অথবা—এই অসহনীয় গরমে যে সকল বিপদ আমাদের ওপর আপতিত হতে যাচ্ছিলো, বৃষ্টি না দিয়েও তিনি সেই বিপদগুলো থেকে আমাদের বাঁচিয়ে নিতে পারেন, যেমন—খরা, দূর্যোগ, বিভিন্ন রোগ বালাই ইত্যাদি।
তারচেয়েও বড় কথা, এই অবস্থাটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত আমরা কতো অসহায় আর দূর্বল৷ আল্লাহর দয়া, রহমত আর অনুগ্রহ না পেলে আমরা যে কোনোভাবেই টিকতে পারবো না দুনিয়ায়, এরকম অবস্থাগুলো আমাদের মনে বিশ্বাসটাকে পোক্ত করে৷ তাই আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে নত হওয়ার মাধ্যমে আমাদের ঈমানকে চাঙা করতে পারি৷
মুমিন জীবন হলো লাভের জীবন। আল্লাহর অনুগ্রহ যেমন তাকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করায়, আল্লাহর অনুগ্রহের অনুপস্থিতিও তাকে আল্লাহর দিকে টেনে নিয়ে যেতে সহায়ক হয়।
আরিফ আজাদ
26/02/2024
শিক্ষার্থীদের আনন্দ মানে একজন শিক্ষকের আনন্দ:
•শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহৎ দায়িত্ব। একজন শিক্ষক শুধু জ্ঞান দান করেন না, বরং তিনি ছাত্রছাত্রীদের জীবনকে আলোকিত করেন। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফুটলে একজন শিক্ষকের অন্তরে যে অপার আনন্দ জাগ্রত হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।
শিক্ষার্থীদের আনন্দের উৎস
• যখন শিক্ষার্থীরা জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী হয় তখন শিক্ষকদের মনে প্রবল তৃপ্তিবোধ জাগ্রত হয়।
সৃজনশীলতা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে যখন সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে তখন শিক্ষকরা অনুপ্রাণিত হন।
• শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল, জীবনে সফলতা অর্জন একজন শিক্ষকের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস।
শিক্ষকদের ভূমিকা:
•শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করা এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করা।
24/02/2024
আজকাল নিয়ম করে মাইল চার হাঁটি।
শরীর চর্চা নয়—
ওরকম বিলাসিতা করার সুযোগ
আমাদের জীবনে তেমন আসে না৷
হাঁটি, কারণ আমার কিছু টাকা জমানো দরকার।
অফিসের উল্টোপাশে—
বাবু ভাইয়ের ক্যাফেটেরিয়ায়
খুব চমৎকার একটা বিরিয়ানি হয়।
লাঞ্চ আওয়ারে কলিগেরা সব
আয়েশ করে খেতে যায়।
আমাকেও ডাকে
আমি নানান ছুঁতো দেখাই;
খুব খেতে ইচ্ছে করে, কিন্ত—
আমার যে কিছু টাকা জমানো দরকার।
ডিসেম্বর মাস আসলেই বেড়ে যায়
বুকের ধড়ফড়ানি;
ছেলের স্কুলের বন্ধুরা বেড়াতে যাবে
কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন অথবা সাজেক।
ছেলেটা আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকায়।
খুব খারাপ লাগে,
তবু দু’হাজার টাকা বের করে দিতে পারি না।
আমাকে কিছু টাকা জমাতে হয়।
বাবা তো মারা গেছেন
মাস শেষে তার পেনশানের টাকাটা
বেশ কাজে দেয়।
মাসে অন্তত দু’বার গোশতো খাওয়া হয়।
আজকাল—
সেই টাকাতেও আর হাত দিই না৷
মুখ বুজে ফেলে রাখি বিছানার নিচে।
আমি জানি— আমাকে কিছু টাকা জমাতে হবে।
মদিনা যাওয়ার আমার বড় শখ!
তাই অল্প অল্প জমাতে থাকি টাকা
আস্তে আস্তে বাড়ে আমার সঞ্চয়—
অনেক চাপা কষ্ট, দুঃখ আর সংগ্রামের পরে।
স্বপ্ন তো আকাশছোঁয়ার—
কিন্তু সঞ্চয় যে ভারি স্বল্প!
কেউ কি জানো—
ঠিক কতো টাকা হলে মদিনা যাওয়া যায়?
আরিফ আজাদ
15/02/2024
শিক্ষক ও ছাত্রের সম্পর্ক কেবল জ্ঞান বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি গভীর আত্মিক বন্ধন, যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ে প্রতিটি মনের আকাশে। শিক্ষক ছাত্রের জ্ঞানের পথপ্রদর্শক, বন্ধু, এবং অভিভাবক।
11/02/2024
রমাদানের আগমনী বার্তাবাহক মাস শা'বানের চাঁদ দেখা গেছে।
“ শা'বান মাসে প্রিয় নবী ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) অধিক পরিমাণে নফল সিয়াম রাখতেন। ”
[ আবু দাঊদঃ ২৩৩৬ ]
01/02/2024
“ যদি তুমি রাতে কিয়ামুল লাইল আর দিনে সিয়াম রাখতে সক্ষম না হও, তবে জেনে রাখো - নিঃসন্দেহে তোমার গুনাহ তোমায় শিকল বেঁধে রেখেছে বলেই তুমি বঞ্চিত! ”
01/02/2024
উমার ইবন কায়েস রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
“ সুসংবাদ তার জন্যে,যে রমাদানের পূর্বেই নিজেকে সংশোধন করেছে । ”
[ লাতায়িফুল মা'আরিফ, ১৩৮ ]
31/01/2024
সহিহ সনদে বর্ণিত আছে,
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
❝ শীতকালের সিয়াম হলো গনিমত। ❞
[ তিরমিযীঃ ৭৯৭ ]
31/01/2024
এক আমলে একাধিক নিয়তঃ
( সিয়াম )
সিয়াম পালনকালে আমি নিয়ত করবঃ-
১) সিয়ামের মতো আর কোনও ইবাদত নেই।
২) সাওম শুধুই আল্লাহর জন্য। স্বয়ং আল্লাহ তাআলাই সওমের প্রতিদান দেবেন।
৩) রোজা আমার জন্য ঢালস্বরূপ হবে। চরিত্র রক্ষার কারণ হবে। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার এক সুরক্ষিত দুর্গ হবে।
৪) আল্লাহর কাছে আমার সপক্ষে সুপারিশ করবে।
৫) আমার খালিপেট থেকে নির্গত ‘গন্ধ’, আল্লাহর কাছে মিশকে আম্বরের চেয়েও বেশি সুরভিত মনে হবে।
৬) ইফাতিরর সময় আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।
৭) আল্লাহ আমার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে ১০০ হাত দূরে সরিয়ে রাখবেন।
৮) রোজামুখে খাতিমাহ বিল-খাইর হলে মানে ইন্তেকাল করলে, জান্নাতের সুবিখ্যাত দরজা, বাবুর রাইয়ান দিয়ে আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে।
- শাইখ আতিক উল্লাহ হাফিজাহুল্লাহ
28/01/2024
সালাফগণ রমাদানের পূর্বেই রমাদানের জন্য প্রস্তুতি নিতেন।
তাঁরা বলতেন,
“ রজব মাস হলো মুমিনের ইবাদাতের বীজ বপনের মাস।
শাবান মাস হলো বান্দার চোখের পানি দিয়ে ইবাদাতের বীজে সেচ দেওয়ার মাস।
আর রমাদান হলো ইবাদাতের ফসল ঘরে তোলার মাস। ”
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَان
28/01/2024
❝ বর্ণিত আছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমাদান এগিয়ে এলে আনন্দিত হতেন।
রজব মাস শুরু হলে তিনি দুআ করতেন,
اللهم بارك لنا في رجب وشعبان، وبلَّغنا رمضان
“ হে আল্লাহ,
আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন, আর আমাদেরকে রমাদানে পৌঁছে দিন। ”
একইভাবে সালাফরাও ( রাহিমাহুমুল্লাহ ) রমাদানের আবির্ভাবে আনন্দিত হতেন, এর জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতেন।
তাঁরা ৬ মাস যাবৎ দুআ করতেন যেন আল্লাহ তাঁদেরকে রমাদান পাইয়ে দেন,
এরপর বাকি ৬ মাস দুআ করতেন যেন রমাদানের আমলগুলো কবুল হয়ে যায়।
এভাবে গোটা বছরই তাঁরা রমাদানের ইহতিমাম করতেন। ❞
28/01/2024
রামাদান ২০২৪, আর মাত্র ৪৩ দিন। মানে দেড় মাস। অনেকেই হয়তো জেনে অবাক হয়ে গেছেন, রামাদান মাস এত কাছাকাছি চলে এসেছে। এই অবাক হওয়া আফসোসে রূপ নেবে, যখন দেখবেন চোখের পলকে রামাদান মাসও চলে যাবে।
স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ব্যক্তির জন্য বদদুয়া করেছেন, যে রামাদান মাস পেল কিন্তু নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। অবহেলায়, আলসেমিতে রামাদান কাটিয়ে দিল।
সাহাবিরা ৪ মাস আগে থেকে রামাদানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। অধীর আগ্রহে রামাদানের জন্য অপেক্ষা করতেন। আমরা তো অন্তত মাস খানেক আগে থেকে হলেও প্রস্তুতি নিতে পারি!