29/01/2026
ভেবেছি কখনো ⁉️
Bangladesh's first online Quran education course
29/01/2026
ভেবেছি কখনো ⁉️
05/06/2025
⬇️তাকবীরে তাশরীক:⬇️
02/06/2025
🌙 Qur'an Education Institute
📖 জ্ঞান, আমল ও ঈমানের জন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
✅ বিদেশে অবস্থানরত ভাই-বোনদের জন্য অনলাইন কুরআন ক্লাস
✅ বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা ব্যাচ
✅ ঢাকায় বাসায় গিয়ে কুরআন শেখার ব্যবস্থা
🧕 শিশু, বড়, নারি-পুরুষ—সবাইকে আমাদের আয়োজনে স্বাগতম।
📆 সময় নির্ধারণ হবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে ইনশাআল্লাহ।
📱 যোগাযোগ করুন WhatsApp-এ: 01407777895 (Only Message)
📩 [email protected]
আফসোস, আমরা এখনো বুঝতে পারি নি,
আমাদের সর্বনাশ সেই কবেই হয়ে গেছে!
এ জন্য ইমাম ইবনে জাওজী রাহি’মাহুল্লাহ বলেন,
"ইশক বা প্রেম রোগের সবচেয়ে সবচেয়ে বড় শাস্তি হচ্ছে, 'আল্লাহকে ভুলে যাওয়া ও ঈমান বিলুপ্ত হওয়া।"
[জাম্মুল হাওয়াঃ ২১৭]
যে প্রেম মানে না সত্য- অসত্যের পার্থক্য। যে প্রেম চিরস্থায়ী জাহান্নামের পথ দেখায়। সেটা কিভাবে সত্যিকার ভালোবাসা হতে পারে? এখনো কি বুঝবেন না, হারাম রিলেশনশিপের ধোঁকা?
"শীঘ্রই আমার উম্মতের কিছু লোক মুশরিকদের ধর্ম পালন করবে এবং কিছু লোক মুশরিকদের সাথে মিশে যাবে।"
[সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৩৯৫২]
15/04/2024
পয়লা বৈশাখ : ভিন্ন মত ভিন্ন চিন্তা
মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়া আব্দুল্লাহ
বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস বৈশাখ এবং ইংরেজী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস জানুয়ারি। আমাদের দেশে পয়লা বৈশাখে উদযাপিত হয় বাংলা নববর্ষ আর থার্টি ফার্স্ট নাইটে উদযাপিত হয় ইংরেজি নববর্ষ। আর সারা বছর কাটে এক মিশ্র ও শংকর অবস্থায়। আরবী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস মহররম। কিন্তু পয়লা মহররম কোথাও নববর্ষ উদযাপিত হয় না। আসলে নববর্ষ উদযাপন আমাদের সংস্কৃতি নয়। এটা বাইরে থেকে মুসলিমজাহানে প্রবেশ করেছে। একজন ঈমানদারের চিন্তা হচ্ছে-‘নওরোযোনা কুল্লা ইয়াওম’। আমাদের ‘নওরোয’ তো প্রতিদিন। প্রতিদিনের ভোর আমাদেরকে দান করে রাববুল আলামীনের শোকর গোযারির প্রেরণা। একটি নতুন দিবসের সজীব উদ্দীপনা। জীবনের প্রতিটি ভোর আমাদেরকে আরো দান করে জীবন-সন্ধ্যার প্রস্ত্ততির চেতনা। সুতরাং বর্ষপঞ্জির একটি বা দুটি দিন নয়, জীবনের প্রতিটি দিন মুমিনের উৎসবের দিন, কর্ম-উৎসব-দিবস। এই সাধারণ কথাটি যে কোনো দিবস পালনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য । তবে পয়লা বৈশাখ, এখন যেভাবে পালন করা হয়, তা শুধু দিবস-পালন বা নববর্ষ উদযাপন নয়, অনেক ভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার ‘মাজূনে মুরাক্কাব’। কিছুটা তরল ভাষায়, ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’। এ দেশের দৈনিক পত্রিকাগুলো পয়লা বৈশাখে যে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে এবং এলিট শ্রেণীর শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবীরা যে সকল বাণী ও আলোচনা পেশ করেন তাতে চোখ বুলালে যে কেউ আমার সাথে একমত হবেন।
চিন্তাগত ভ্রষ্টতাগুলোর মধ্যে দু’টো বিষয় খুব মারত্মক সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা বা জাহেলী আসবিয়াত।
পয়লা বৈশাখের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে বলা হয়, এটি বাঙালী জাতির সর্বজনীন উৎসব। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রাণের উৎসব। কোনো কোনো সময় আরো স্পষ্ট করে বলা হয়, মুসলমানের ধর্মীয় উৎসব ঈদ, হিন্দুর ধর্মীয় উৎসব পুজা, আর হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বাঙালির উৎসব পয়লা বৈশাখ।
এ জাতীয় বক্তব্যে সেক্যুলারিজম ও ধর্মনিরপেক্ষতা কিংবা বলুন জাতিসত্তার পরিচয়ে ধর্মকে বর্জন করার চিন্তাই কার্যকর। এ যে একটি কুফরী চিন্তা তা তো বলাইবাহুল্য। মুসলমানের ধর্ম ইসলাম, মুসলমানের আদর্শ ইসলাম এবং মুসলমানের প্রকৃত পরিচয় ইসলাম। বংশ, গোত্র, ভাষা ও ভূখন্ড-এগুলোও আমাদের পরিচয়, তবে আদর্শিক পরিচয় নয়, প্রাকৃতিক পরিচয়। আমাদের আদর্শিক পরিচয় ইসলাম। সুতরাং ইসলামইআমাদের চিন্তা ও কর্মের নিয়ন্ত্রক।
তো পয়লা বৈশাখের উৎসব-অনুষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষতার তত্ত্ব দাখিল করে এর একটি দর্শনগত ভিত্তি দাঁড় করানোর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? এটা কি বাঙালী মুসলিম সমাজের ইসলাম বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ-প্রচেষ্টা?
পয়লা বৈশাখের তাৎপর্য বর্ণনা করে আরো বলা হয়, এ সকল জাতি বিনাশী চিন্তাভাবনাকে কুরআনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। মুসলমানদের বলা হয়েছে-
يا ايها الذين آمنوا ادخلوا فى السلم كافة. ولا تتبعوا خطوات الشيطان، انه لكم عدوم مبين.
হে ঈমানদারগণ তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে দাখিল হও। শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।-সূরা বাকারা (২) : ২০৮
সুতরাং ধর্মপরিচয়ে মুসলিম আর পর্ব-উৎসবে অন্যকিছু এমনটির সুযোগ ইসলামে নেই।পয়লা বৈশাখের তাৎপর্য বর্ণনা করে আরো বলা হয়, ‘এ হচ্ছে শেকড় সন্ধান, শেকড়ের দিকে ফিরে যাওয়া।’ কিন্তু কী অর্থ শেকড়ের? কোন অতীতকে নির্দেশ করে এই ‘শেকড়’ শব্দটি? এই প্রশ্নের জবাব পেতে খুব বেশি দূর যেতে হবে না। পয়লা বৈশাখের শোভাযাত্রা গুলোতে যেসব মূর্তি, মুখোশ বহন করা হয় তার সূত্র সন্ধান করলে শেকড় সন্ধানের তাৎপর্যও বের হয়ে আসবে।
যাদের অন্তরে ঈমানের কণিকা আছে তারা স্মরণ করুন আল্লাহর রাসূলের বাণী-
ثلاث من كن فيه وجد بهن حلاوة الإيمان، من كان الله ورسوله أحب إليه مما سواهما، ومن أحب عبدا لا يحبه إلا لله، ومن يكره أن يعود في الكفر بعد أن أنقذه الله منه كما يكره أن يلقى في النار.
তিনটি গুণ যার আছে সে ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে : যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সবার চেয়ে প্রিয়, যে কোনো বান্দাকে ভালবাসলে আল্লাহর জন্যই ভালবাসে এবং আল্লাহর রহমতে কুফর থেকে মুক্তিলাভের পর পুনরায় সে দিকে প্রত্যাবর্তন অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো ভয়াবহ মনে করে।-সহীহ বুখারী, মুসলিম
যে মুসলিমের হৃদয় ও মস্তিস্ক এই শ্বাশত সত্যের আলোয় আলোকিত তার সামনে কোনো মিথ্যা, কোনো কপটতা মুখ লুকিয়ে থাকতে পারবে না। ‘সর্বজনীন উৎসব’ ‘বাঙালী জাতির নিজস্বতা’ ‘সংস্কৃতির শেকড় সন্ধান’ ইত্যাদি আবেগ উদ্দীপক শব্দসম্ভারের প্রকৃত পরিচয় তার কাছে গোপন থাকবে না। তিনি জানবেন, কুরআনের ভাষায় এগুলোকে বলে-‘তাযঈনুস শয়তান’ বা শয়তানের মায়াজাল বিস্তার।
এই মিথ্যার মরিচিকা থেকে রক্ষার জন্যই যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وعادا وثمود وقد تبين لكم من مسكنهم وزين لهم الشيطان اعمالهم فصدهم عن السبيل وكانوا مستبصرين.
এবং আদ ও সামুদকে (ধ্বংস করেছিলাম)। তাদের বাড়িঘরই তোমাদের জন্য এর সুস্পষ্ট প্রমাণ। শয়তান তাদেরকে সুপথ থেকে নিবৃত্ত করেছিল। অথচ তারা ছিল বিচক্ষণ।-সূরা আনকাবূত (২৯) : ৩৮
শেষ বাক্যটি-‘অথচ তারা ছিল বিচক্ষণ’ বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। বর্তমান সময়ের জ্ঞানগর্বী সম্প্রদায়ের জন্য এতে আছে সুস্পষ্ট বার্তা।
পয়লা বৈশাখের উদযাপন-পদ্ধতিতে আরো যেসব অনাচার রয়েছে তার মধ্যে মারাত্মক কয়েকটি হচ্ছে, মুসলিমসমাজে শিরক ও পৌত্তলিকতার বলদর্পী মহড়া, বেশ-ভূষা এবং আচরণেবিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ এবং গান-বাজনা; বেপর্দা-বেহায়াপনা;অপচয়-অপব্যয় ইত্যাদি হারাম ও মুনকার কাজ। এরপরও কি ঈমানদার মুসলিমের কর্তব্য হবে না, এই উৎসব থেকে নিবৃত্ত হওয়া?
https://www.alkawsar.com/bn/article/587/?fbclid=IwAR1my-fcPs2EaKaaeovjwuN0e3QRRYuKjdXyGI2pZurKS5P7PqGhTOpi_uk
পয়লা বৈশাখ : ভিন্ন মত ভিন্ন চিন্তা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস বৈশাখ এবং ইংরেজী বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস জানুয়ারি। আমাদের দেশে পয়লা বৈশাখে উদযাপিত হ.....
07/04/2024
যার একাধিক স্ত্রী.. সে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।
পোষ্টটি অনেক যুক্তিসঙ্গত এবং জরুরি। বড় হলেও পড়তে পারেন বিবাহিত সাথে সাথে অবিবাহতরাও।
♦ এক.
শ্রেষ্ঠ, উত্তম, উৎকৃষ্ট, সব'চে ভালো। এগুলো সমার্থবোধক শব্দ। একই অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শ্রেষ্ঠত্বের বিভিন্ন ক্যাটাগরি আছে। বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন লাইনে কিছু মানুষজনকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করা হয়। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামের একেকজনকে বিভিন্নসময় বিভিন্নভাবে শ্রেষ্ঠত্বের উপাধি দিয়ে ভূষিত করেছেন।
কখনো বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে-ই যে নিজে কোরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়।”
আবার কখনো বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে ঐব্যক্তি উত্তম যে নিজ পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ করে।”
এভাবে তিনি বলেছেন, "ইন্না খাইরা হাযিহিল উম্মাতি আকসারুহা নিসাআ" “এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলো সে, যার একাধিক স্ত্রী রয়েছে।”
উপরের সর্বশেষ হাদীসটি আজকের আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য। হাদীসটি ইমাম বুখারী রাহ. তার অমর গ্রন্থ সহীহুল বুখারীর ২য় খন্ডে উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি হিজরী পনেরশতকে এসে খুব মজলুম হয়ে পড়েছে। এখন তার উপর আম-খাস কেউই আমল করেন না। সবাই একাধিক বিবাহের সুন্নাতকে এমনভাবে পরিত্যাগ করেছেন যে, অবস্থাদৃষ্টে বোঝা যায় যে, এটি একটি গর্হিত কাজ (নাউজুবিল্লাহ)। অথচ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে শুরু করে সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন, সলফে সালেহীনসহ আমাদের আকাবীর ও আসলাফের যুগ পর্যন্ত এই হাদীসটির উপর যথাযথ আমল ছিলো। সমাজের সিংহভাগ মানুষ একাধিক বিয়ের আমলে ছিলেন। বিশেষ করে বুযুর্গানে দ্বীন প্রায় সবাই একাধিক বিয়েকে নিজেদের শেআর বানিয়ে ফেলেছিলেন।
অথচ এখনকার সমাজব্যবস্থা একাধিক বিয়ের বৈধতার ব্যাপারটা একদম কঠিন করে ফেলছে। ফলে পরকিয়াসহ নানা ব্যভিচারিতার পথ উন্মোচিত হয়েছে, হচ্ছে, এবং হবেও। আজ একাধিক বিয়ে কেউ করতে চাইলে বা কেউ করে ফেললে সমাজের মানুষ তার দিকে বাঁকা চোখে তাকায়। তার নিন্দা করে বেড়ায়। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। সমাজ নাজায়েযের দিকে দিনদিন এগিয়ে চলেছে। কারণ, একটা বৈধ পথ যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন একাধিক অবৈধ পথ সুগম হয়ে ওঠে।
♦দুই.
পশ্চিমা চিন্তা-ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, আমাদের সমাজ আজ বিবাহের ক্ষেত্রে একজন পুরুষের জন্য কেবলমাত্র একজন স্ত্রীকেই বাধ্যতামূলক করে ফেলেছে। ইসলাম যেখানে একজন মুসলিম পুরুষকে একাধিক বিবাহের অনুমতি দিয়েছে, শুধু অনুমতিই নয় বরং উৎসাহিত করেছে, এমনকি আজকের যুগের প্রয়োজনীয়তার সাপেক্ষে এটা অনেকাংশে ওয়াজিবের পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছে, সেখানে আজ কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে আমরা তার চরিত্র খারাপ কিংবা তাকে ভোগবাদী বলে তকমা দিতেও কুন্ঠা বোধ করি না!
আর এজন্য আমাদের বোনেরাও অনেকাংশে দায়ী। অনেক সিনিয়র ভাইকে দ্বিতীয় বিয়ের কথা বললেই বলেন, সেরকম করলে আগের স্ত্রী আর থাকবে না! ছাউ-বাচ্ছা নিয়ে বাপেরবাড়ী চলে যাবে। অনেকে বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে সম্ভব না।
অন্যদিকে আমাদের সমাজে অসংখ্য বোন আজ ডিভোর্সি কিংবা বিধবা। অসংখ্য বোনের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে কিংবা দেখতে অতোটা সুন্দর না হওয়ার দরুণ বিয়ে হচ্ছে না। আর আমরা কখনো বয়সের কারণে, কখনো বা নিজেদের উপার্জন ততো ভালো না হওয়াতে, কখনো বা নিজে চাইলেও ছোটো হওয়াতে পরিবারে তেমন আধিপত্য নেই বলে এমন কাউকে বিয়ে করতে পারছি না। অথচ এটা আমাদের সবার সামাজিক দায়িত্ব ছিল। আমরা যদি দায়িত্ব না নেই, তাহলে ঐ বোনদের দায়িত্ব কে নেবে? উনারা কি আজীবন এভাবে কাটিয়ে দেবেন? তারা কিই বা দোষ করেছেন? তারা কি কখনো স্ত্রী হতে পারবেন না? মা হতে পারবেন না? পরিবার-সংসারের আশা কি তাদের নেই? আর আপনি যে আজ আপনার স্বামীকে উৎসাহিত করছেন না অন্য কোনো অসহায় বোনের দায়িত্ব নিতে, কাল যে আপনি বিধবা-অসহায় হবেন না তার নিশ্চয়তা কে দিলো আপনাকে?
♦তিন.
বর্তমান সমাজে প্রচলিত "একটার বেশি বিয়ে করা যাবে না" এই রিচ্যুয়ালটার জন্য হাজারটা সুদূরপ্রসারী সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অথচ আমরা তা অনুধাবন করতে পারছি না। শুধু সমস্যা নয় বরং সেগুলো সমাজের এক একটা ব্যাধি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। যদ্বারা সমাজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে। ছেলেদের গলায় আজ "জীবনে তো একবারই বিয়ে"-র তালা ঝুলানোর জন্য, ছেলেরা পাত্রী নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক খুঁতখুঁতে হয়ে গেছে। তাদের রিকোয়ারমেন্ট অনেক বেড়ে যাচ্ছে। আর বেশীরভাগ ক্ষেত্রে এর ভুক্তভোগী হচ্ছেন আমাদের বোনেরাই। ঘরে ঘরে বাড়ছে বয়স্ক কুমারী মেয়েদের সংখ্যা। মেয়ে জন্মানোর সাথে সাথেই পিতার মাথায় বিশাল দায়িত্বের বোঝা এসে চাপছে যে, মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে। পণের ভারে নুইয়ে পড়ছে কতো পরিবার। চলছে বধূ-নিগ্রহ। সংসারে আশান্তি বাড়ছে। বাড়ছে তালাকের সংখ্যা। বাড়ছে কণ্যাভ্রুন হত্যা। আরো কতো কিছু...
এই "এক বিয়ে নীতি"-র জন্য ছেলেদের মনে এই মানসিকতা তৈরি হচ্ছেঃ যেহেতু জীবনে একবারই বিয়ে করতে পারবো, সেহেতু বউকে হতে হবে একেবারে পারফেক্ট, আইডিয়াল। তার মধ্যে কোনো রকমের খুঁত থাকলে হবে না। আমার বউকে তো সুন্দরী হতেই হবে, নো চয়েস। সেইসাথে বউকে হতে হবে উচ্চশিক্ষিতা। বুদ্ধিমতি। চাকুরীজীবি। স্লিম ফিগার। এতএত রূপগুন তার থাকতে হবে। সাথে সাথে সমাজ-পরিবারের চাওয়া হিসেবে, তাকে কম বয়সী হতে হবে। বউ তো বিধবা-ডিভর্সী হবার প্রশ্নই উঠে না। সেইসাথে টাকা-পয়সা, সামাজিক স্ট্যাটাসেরও একটা বিষয় আছে। বিয়ে তো জীবনে একটাই করবো। এতো বছর ওয়েট করেছিতো এই জন্যেই যে, একটা পারফেক্ট মেয়েকে বিয়ে করবো! আর পাত্রপক্ষের ক্রমবর্ধমান এই আকাশছোঁয়া চাহিদা পূরণে অপারগ অসংখ্য বোনের কপালে জুটছে শুধু আহাজারি। আর তালাকপ্রাপ্তা কিংবা বিধবা বোনেদের কথা তো ছেড়েই দিলাম, তাদের দ্বিতীয়বার বিয়ে হওয়া তো এখন কল্পনাতীত!
শুধু এটুকুই নয়, এই "এক বিয়ে নীতি"-র সঙ্গে কোথাও না কোথাও জড়িয়ে রয়েছে পরকীয়া ও পতিতালয়ের মতো ভয়ংকর সব ব্যাধি। এরকম আরো অনেক কিছু। আমরা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা করি তাহলে বুঝতে পারবো। আল্লাহর তৈরি একটি হালাল পথকে বন্ধ করে আমরা একাধিক হারাম পথ খুলে দিয়েছি।
♦চার.
আমরা যদি ইসলামের সোনালী যুগে একবার ফিরে তাকাই তাহলে দেখবো, সাহাবা (রাঃ)-দের সময় এই বিয়ে জিনিসটা অনেক সহজ ছিলো। সেইসময় কখোনো এরকম হতো না যে, বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাচ্ছে অথচ কোনো ভালো পাত্রের প্রস্তাব আসছে না। বরং তখন পাত্রীপক্ষের কাছে একাধিক বিয়ের প্রস্তাব আসতো, আর সে একাধিক প্রস্তাবকে রিজেক্ট করে নিজের পছন্দ মতো একজনকে চয়েস করতো। কেউ তালাকপ্রাপ্ত হলেই কিংবা কারো স্বামী শহীদ হলেই সঙ্গে সঙ্গে অন্যজন বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতো। ধনী হোক বা দরিদ্র, তালাকপ্রাপ্তা কিংবা বিধবা, সুন্দর কিংবা অসুন্দর - কোনো মেয়ের পিতার জন্যই এটা চিন্তার বিষয় ছিলো না যে, মেয়ের বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্র পাবো কি না। আর এটা এজন্যই সম্ভব হয়েছিলো যে, তখন সমাজে পুরুষদের জন্য একাধিক বিয়ে করাটাই সাধারণ ছিলো। এটা ছিলো সকলের কাছে নবীজীর সুন্নত! আর সাহাবা-রা (রাঃ) প্রত্যেকটা সুন্নতকে মজবুত ভাবে আঁকরে ধরে ছিলেন। তাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত ছিলো সাম্য, শান্তি।ইসলাম তো বিয়েকে অনেক সহজ করেছে। অথচ আমরা দ্বীনে এসেও তা কঠিন করে রেখেছি।
যদি একাধিক বিয়েকে আমরা আবার সহজ করতে পারি, তাহলে ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেটা বা সদ্য চাকরীতে জয়েন করা স্বল্প বেতনের ছেলেটা অপেক্ষাকৃত কম সুন্দর বা অসহায় কোনো এতিম/ডিভোর্সড/বিধবা কাউকে বিয়ে করে নিতো।
(ফেমিনিষ্টরা না আবার বলা শুরু করে আমরা বিধবা ও ডিভোর্সিদের অসহায় মনে করি। না, আমরা অসহায় মনে করি না। সমাজ তাদেরকে অসহায় বানিয়ে রেখেছে। তার জন্যে সমাজের "এক বিয়ে নীতি"-ই দায়ী।)
ছেলেটার সাইকোলজি হয়তো কাজ করতো যে, ক্যারিয়ারটা আরেকটু গুছিয়ে তখন হয়তো কোনো আয়িশা বা যায়নাব (রূপকার্থে) কে বিয়ে করে নিবো। এরকম হলে সমাজ অনেক ব্যালেন্সড হতো। সমাজে এতো এতো অসহায় অসুন্দর বোনও অবিবাহিত থাকতো না। যতদিন না আমরা সমাজের এই ট্যাবু "এক বিয়ে নীতি" ভেঙ্গে ফেলতে পারছি ততদিন এই সমস্যার সমাধান খুব কঠিন।
♦পাঁচ.
বিয়ে যে শুধুমাত্র জৈবিক চাহিদা পূরণের বস্তু ব্যাপারটা এমন নয়। বিয়ে/সংসার একটা প্রতিষ্ঠান। যার মাধ্যমে সমাজ গড়ে উঠে এবং এতে ভারসাম্য থাকে।
তাই... হে আমার দ্বীনদার বোনেরা!
আপনার স্বামী যদি সচ্চরিত্রের এবং দ্বীনদার হয়ে থাকে। অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল হয়ে থাকে। সে যদি মেডিক্যালি আনফিট না হয়ে থাকে। তাহলে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে না দিয়ে আপনি আপনার উম্মাহর-ই অন্য আরেক অসহায় বোনের উপর জুলুম করছেন! নাকি, আপনার স্বামী ইনসাফ করতে পারবে না এই অজুহাত দেখিয়ে আপনি তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে দিচ্ছেন না। ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বরং এটাই কি বেইনসাফি নয়?
তাই আসুন আমরা সকলে একটা সুন্নতকে জিন্দা করি! এর মধ্য দিয়ে আমরা সমাজের বর্তমান অসংখ্য সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। আসুন আমরা সাহাবাদের লাইফস্টাইলকে মডেল হিসেবে অনুকরণ করি। সমাজের প্রয়োজনীয়তার তাগিদে আমাদের স্বামীদের, সন্তানদের, ভাইদের একাদিক বিবাহে উদ্বুদ্ধ করি। আসুন আমরা সমাজের এই ট্যাবুকে, এই কুসংস্কারকে ভেঙে ফেলি। আল্লাহর তৈরি একটি ব্যবস্থাকে অন্তর থেকে মেনে নিই। আর এতে প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবো আমরাই।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দিন। আমীন।
বিঃ দ্রঃ অবশ্যই সব স্ত্রীর মাঝে সমতার ব্যপারে খুব সতর্কতার সাথে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এটি হলো ফরজ বিধান।
(সংগ্রহীত ও পরিমার্জিত)
ছবিসহ কপি অনুমোদিত।
অবৈধ রিলেশন
আবেগের টেলায় উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণীরা হারাম রিলেশনে জরিয়ে পরে ।তার শেষ পরিণতির কথা একটি বার চিন্তা করে না।এভাবে দুনিয়া ও আখেরাত বরবাদ করে ফেলে।
এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় মেয়েরা।আমাদের কাছে এমন অনেক বোন মেসেজ করে থাকেন,যিনি হারাম রিলেশন করে জীবন যৌবন দিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে আল্লাহ'র কাছে আৎসমর্পণ করতে চান। হারাম ভালোবাসার পরিবর্তে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভালোবাসার হৃদয়ের স্থান দিতে চান। কিন্তু অতীত পাপের কিছু নিদর্শন ছেলের হাতে থেকে যায়।যার মাধ্যমে তিনি ব্লাকমেইলের শিকার হোন। এ পর্যায়ে এসে অনেকে শয়তানি কারসাজি কাছে হার মেনে বসেন। আবার শুনাহে জরিয়ে পরেন।
অনেকে আল্লাহর ভালোবাসা প্রাধান্য দেন,এতে অনেকের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়।তবে এদের জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ।
' তবে কেউ তাওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আর যে ব্যক্তি তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে মূলত আল্লাহর দিকে যথাযথভাবে ফিরে আসে।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭০-৭১)
যেহেতু মেয়েদের ক্ষতি বেশি,তাই তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে বেশি ।এজন্য ইসলাম মেয়েদের পর্দার গুরুত্ব দিয়েছে বেশি।
17/03/2024
হারাম রিলেশনশিপ নিয়ে একটা বই পড়ছিলাম এবং তার সুন্দর সুন্দর চিন্তাভাবনা আমাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল।
আমরা এমন অনেক মানুষকেই দেখেছি যাদেরকে তাদের যৌন তাড়না কাবু করে ফেলেছে, তাদের জীবনকে নষ্ট করে দিয়েছে। কেউ কেউ অবিবাহিত অবস্থায় হারাম রিলেশনশিপে জড়িয়ে যায় আবার কেউ কেউ জীবনসঙ্গিনী থাকার পরেও হারাম রিলেশনশিপে জড়ায়। আত্মমর্যাদান ব্যক্তি ময়লার দিকে তাকায় না পর্যন্ত। খারাপ আচরণের চিন্তাকে লালন করতেও সে পছন্দ করে না। তাই তাকে ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলার মধ্যেই সচেষ্ট ও সন্তুষ্ট থাকতে হবে। তাকে পরিতৃপ্ত হতে হবে বাইরে থেকে। এভাবে সে অন্তরের প্রশান্তির সাথে জীবনযাপন করতে পারবে। তার হৃদয় হবে পবিত্র হৃদয় বা তাইবুল কাল্ব। কিন্তু এর চেয়ে বেশী আকাঙ্ক্ষা করলে তার হৃদয় চাহিদায় আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যাবে এবং তার দীনদারিতা হ্রাস পাবে।
ইবনুল জাওজি রহিমুল্লাহ বলেছেন যে, হারাম প্রেম শয়তানের সাজানো একটি ফাঁদ যার ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া উচিত। আমি তার বই থেকে কিছু হারাম সম্পর্কের কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরেছি যেগুলো নিয়ে খুব গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত। আল্লাহ আমাদেরকে তাওফিক দান করুন এবং হেদায়েত দান করুন।
প্রথম উক্তি
হারাম রিলেশনশিপ হলো নিষিদ্ধ স্বাদ আস্বাদন করা।
নিষিদ্ধ বা হারাম প্রেমে জড়িয়ে যে আনন্দ পাওয়া যায় তা ইসলামে হারাম তো বটেই, এই আনন্দ অতি ক্ষণস্থায়ী হয়। ইসলামি শিক্ষায় নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও সীমানা রয়েছে। এই সীমানাগুলো নারী-পুরুষকে এবং সমাজকে নেতিবাচক পরিণতি থেকে রক্ষা করতে এবং নৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখার জন্য সাহায্য করে। যেসব সম্পর্ক অনুমোদনযোগ্য সীমার বাইরে পড়ে অর্থাৎ স্ত্রী ব্যতীত গায়রে মাহরাম কারো সাথে প্রণয়ের সম্পর্ক ইসলামে নিষিদ্ধ।
ইবনুল জাওজির উদ্ধৃতিতে এসেছে যে, যদিও এই ধরনের সম্পর্কে জড়িত হলে সাময়িক আনন্দ বা পরিতৃপ্তি পাওয়া যায় কিন্তু যেহেতু এটি চূড়ান্তভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ তাই এটি মানুষের জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে নিয়ে আসে। হারাম প্রেমের পেছনে ছুটতে অনেকে প্রলুব্ধ হতে পারে। তবে এটা নৈতিকভাবে ভুল এবং ইসলামের শিক্ষার বিপরীত।
হারাম সম্পর্কের মাধ্যমে সাময়িক আনন্দ কামনা করা ইহকাল ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। এটি মুমিনদের ইসলামী শিক্ষা দ্বারা নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করতে এবং ইসলামী নীতি অনুসারে বৈধ ও পবিত্র সম্পর্ক খোঁজার জন্য অর্থাৎ বিয়ে করতে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয় উক্তি
প্রবৃত্তির অনুসরণের চিন্তা আপনাকে প্রবৃত্তির অনুসরণের পরিণতি ভুলিয়ে রাখে।
যখন কেউ তাদের সাময়িক প্রবৃত্তির সুখ দ্বারা গ্রাস হয়, তখন তারা নিষিদ্ধ বা হারাম কর্মে লিপ্ত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি বিবেচনা করতে সক্ষম থাকে না।
ইসলামী শিক্ষা অনুসারে, প্রবৃত্তি বা হাওয়া মানব প্রকৃতির অংশ। যাইহোক, আত্মনিয়ন্ত্রণ এর চর্চা করা এবং আমাদের ক্রিয়াকলাপের পরিণতি মূল্যায়ন করতে হবে অর্থাৎ পরিণতি নিয়ে ভাবনা ও ফিকির করতে হবে। এমন সব বিষয় নিয়ে ফিকির করা বেশী জরুরী যেগুলো আমাদের হারামের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
যখন মানুষ পুরোপুরিভাবে ডুবে যায় তার কামনাবাসনা পূরণ করতে, তখন সে ভুলে যায় এসব হারাম কাজ করার নেতিবাচক পরিণতি কি ঘটতে পারে। তারা হারাম কার্যকলাপে জড়িত থাকার সাথে জড়িত আধ্যাত্মিক, নৈতিক এবং সামাজিক পরিণাম বা ফলাফল উপেক্ষা করে।
তৃতীয় উক্তি
বুদ্ধিমান হল সেই ব্যক্তি যে তার দীন ও মর্যাদা রক্ষার জন্য হারাম ত্যাগ করে হালাল (হালাল) এর জন্য তার শক্তি (ক্বওয়াত) সংরক্ষণ করে যাতে সেই শক্তি পুণ্যের পিছনে ব্যয় করা যায়।
চতুর্থ উক্তি
অন্তরের অনুভূতির (সারাঈর) ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কেননা নিজের বাহ্যিক অবস্থা ভালো থাকা সত্ত্বেও ভেতর (জাহির) কলুষিত হলে তা উপকারে আসে না।
পঞ্চম উক্তি
যে নারীদের প্রতি খুব বেশি ঝুঁকে থাকে সে কখনো জীবনকে উপভোগ করবে না। আর যে মদ সেবন করে সে কখনই সুস্থ মন উপভোগ করতে পারবে না এবং যে ধন-সম্পদ ভালবাসে সে যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন এর দাস হয়ে থাকবে।
উপসংহার
আপনার হারাম রিলেশনশিপকে একসময় হালাল করে নিবেন এই নিয়তে কখনো হারাম রিলেশনশিপে ডুবে থাকবেন না। আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন যারা তাওয়া করে এবং নিজেদের পবিত্র করে নেয়। আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন। তিনি আপনার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিতে সক্ষম। প্রকৃত ভালোবাসা অনুভব করা যায় বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ের মাধ্যমেই আল্লাহর চূড়ান্ত ভালোবাসা লাভ করা যায়। হারাম ভালোবাসাকে আসলে রূপক অর্থে ভালোবাসা বলা গেলেও প্রকৃত অর্থে কখনোই একে ভালোবাসা বলা যায় না। এই ভালোবাসা আপনাকে অন্ধ করে দেয়, বোবা ও বধির করে দেয়, আপনাকে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা থেকে বহু দূরে সরিয়ে দেয়।
By মেহেজাবীন শারমিন প্রিয়া
ফরজে আইন মুআল্লিম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু, আলহামদুলিল্লাহ। কোর্স করাতে আগ্রহী কেউ বাদ পড়লে যোগাযোগ করুন দ্রুত।
18/02/2024
ফরজে আইন কোর্সের ওপর মুআল্লিম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
রমজানে, অনলাইনে বা অফলাইনে যারা কোর্সটি করাতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পর্কিত কিছু তথ্য :
🟢 ১০ দিনব্যাপী এই কর্মসূচিটি হবে অনলাইনে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই এতে অংশগ্রহণ করা যাবে।
🟢 অংশগ্রহণ করতে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে হবে। সেটার লিংক মন্তব্যের ঘরে।
🟢 এতে অংশ নিতে মাদরাসায় নূন্যতম মিশকাত অথবা ফাজিল পড়ুয়া হতে হবে।
🟢 কর্মসূচি আরম্ভ হবে আগামী ২৫ শে ফেব্রুয়ারি থেকে, ইনশাআল্লাহ। এর পরিচালনার জন্য থাকবে ফেসবুক/হোয়াটসএপ গ্রুপ। জুমে বা গুগল মিটে মূল ক্লাস হবে।
🟢 ক্লাসের রেকর্ড গ্রুপেই পেয়ে যাবেন। এর ফলে ক্লাস মিস হলে সমস্যায় পড়তে হবে না আশা করি।
🟢 কর্মসূচি শেষে থাকবে বিশেষ সার্টিফিকেট।
🟢 গুরুত্বের জন্য এতে মাত্র দুইশো টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি রাখা হয়েছে। পরিশোধ করবেন রেজিস্ট্রেশন ফরমে থাকা নাম্বারে।
কোনো প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকলে জানান।
মাত্র ১০% বা তারচেয়েও কম সংখ্যক মানুষ মাদরাসায় পড়ে। আবার দ্বীনি ইলমও মাদরাসার চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ।
এই যে ৯০ ভাগ মুসলিম ফরজ পরিমাণ ইলমও অর্জন করছে না; বরং নামাজ রোজার মতো এই পরিমাণ ইলম অর্জন করাও যে ফরজ, সেটাও জানে না, এর জন্য কি আমাদের জবাবদিহি করতে হবে না?
কেন এতদিনেও ফরজ ইলম অর্জনের প্রপার কোনো সিলেবাস বা মাধ্যম তৈরি হলো না? আর কেউ এই কাজে এগিয়ে এলে তাতে সহযোগিতা করা দূরে থাক, উল্টো তার কার্যক্রমকে কেনই বা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে? আমাদের তো উচিত ছিল, এমন উদ্যোগে বেশি বেশি যুক্ত হওয়া। এই কার্যক্রমকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া।
আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহি করতে হবে আমাদের।
দাম্পত্যজীবন, অজ্ঞতা ও পরিণাম
কিছু দিন আগে আমার এক প্রিয় তালিবে ইলম দেখা করতে এসে বললো, হুযূর, আগামী পরশু আমার বিবাহ। চমকে উঠে তাকালাম। বড় ‘বে- চারা’ মনে হলো। কারণ আমিও একদিন বড় অপ্রস্ত্তত অবস্থায় জেনেছিলাম, আগামীকাল আমার বিবাহ! ভিতর থেকে হামদরদি উথলে উঠলো। ইচ্ছে হলো তাকে কিছু বলি, যিন্দেগির এই নতুন রাস্তায় চলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পাথেয়, আল্লাহর তাওফীকে তাকে দান করি। আল্লাহর তাওফীক ছাড়া আমরা কেই বা কী করতে পারি! তো তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, বিবাহের জন্য কী প্রস্ত্ততি নিয়েছো? বড় ভোলাভালা নও জোয়ান! সরলভাবে বললো, আমার কিছু করতে হয়নি, সব প্রস্ত্ততি আববা -আম্মাই নিয়েছেন। কেনা-কাটা প্রায় হয়ে গেছে, শুধু বিয়ের শাড়ীটা বাকি। অবাক হলাম না, তবে দুঃখিত হলাম, আমার এই প্রিয় তালিবে ইলম এখন একজন যিম্মাদার আলিমে দ্বীন। দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের ছোহবতে ছিলো, তার কাছে বিবাহের প্রস্ত্ততি মানে হলো জিনিসপত্র এবং বিয়ের শাড়ী! তাহলে অন্যদের অবস্থা কী?! বড় মায়া লাগলো; বললাম, দেখো, মানুষ যে কোন কাজ করতে চায়, প্রথমে সে ঐ বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ করে। কাজটির হাকীকত ও উদ্দেশ্য কী? কাজটি আঞ্জাম দেয়ার সঠিক পন্থা কী? শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কী কী সমস্যা হতে পারে, সেগুলোর সমাধান কী? এগুলো জেনে নেয়। এজন্য দস্ত্তর মত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার আয়োজন আছে, এমনকি বাস্তব প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা আছে। অথচ জীবনের সবচে’ কাঠিন ও জটিল অধ্যায়ে মানুষ প্রবেশ করে, বরং বলতে পারো ঝাঁপ দেয়, কিছু না শিখে, না জেনে এবং না বুঝে একেবারে অপ্রস্ত্তত অবস্থায়। ফল কী হতে পারে?! কী হয়?! অন্যদের কথা থাক, চোখের সামনে আমার ক’জন ছাত্রের ঘর ভেঙ্গে গেলো!
একজনের তো এমনকি দু’জন সন্তানসহ। কিংবা ঘর হয়ত টিকে আছে, কিন্তু শান্তি নেই। স্বাভাবিক শান্তি হয়ত বজায় আছে, কিন্তু বিবাহ যে দুনিয়ার বুকে মানবের জন্য আল্লাহর দেয়া এক জান্নাতি নেয়ামত, সুকূন ও সাকীনাহ, সে খবর তারা পায়নি, শুধু অজ্ঞতার কারণে, শুধু শিক্ষার অভাবে। আশ্চর্য, মা-বাবা সন্তানকে কত বিষয়ে কত উপদেশ দান করেন; উস্তাদ কত কিছু শিক্ষা দেন, নছীহত করেন, কিন্তু জীবনের সবচে’ কঠিন ও জটিল বিষয়টি কেন যেন তারা সযত্নে এড়িয়ে যান! তাকে বললাম, যদিও তুমি এ উদ্দেশ্যে আসোনি তবু তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই, যা ইনশাআল্লাহ আগামী জীবনে তোমার কাজে আসবে। খুব জযবা ছিলো, অবেগের তোড় ছিলো, ‘দিল কো নিচোড় ক্যর’, বাংলায় যদি বলি তাহলে বলবো , হৃদয় নিংড়ে, কিন্তু দিল কো নিচোড়না-এর ভাব হৃদয় নিংড়ানোতে আসবে কোত্থেকে! যাক, বলছিলাম, হৃদয়টাকে নিংড়ে কিছু কথা তাকে বলেছিলাম। পরে আফসোস হলো যে, কথাগুলো তো সব হাওয়ায় উড়ে গেলো, যদি বাণীবদ্ধ করে রাখা যেতো কত ভালো হতো! হয়ত আল্লাহর
বহু বান্দার উপকারে আসতো। শেষে বললাম, এককাজ করো, এ কথাগগুলোর খোলাছা কাগজে লিখে আমাকে দেখিও। আগামী পরশুর বিয়ের খবর দিয়ে ছেলেটা সেই
যে গেলো, তিন বছরে আর দেখা নেই! দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিভিন্ন সময় দরসেও আমি অনেক কথা বলেছি। ‘সবচে’ বেশী বলেছি আমার নূরিয়ার জীবনের প্রিয় ছাত্র (বর্তমানের হাতিয়ার হুযূর) মাওলানা আশরাফ হালীমীকে, আশা করি তিনি সাক্ষ্য দেবেন, অনেকবার বলেছেন, আমার কথাগুলো তার জীবনে বে-হদ উপকারে এসেছে। আরো অনেকে বলেছে, কিন্তু কথাগুলো কেউ ‘কলমবন্দ’ করেনি। তো এখন এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে তোমাদের মজলিসে ঐ কথাগুলো আবার বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু আফসোস, সেই আবেগ ও জযবা তো এখন নেই যা ঐ প্রিয় তালিবে ইলমকে বলার সময় ছিলো। আবেগভরা দিলের কথা তো রসভরা ইক্ষু, আর শুধু চিন্তা থেকে বলা কথা হলো রস নিংড়ে নেয়া ইক্ষুর ছোবা! তবু কিছু না কিছু ফায়দা তো ইনশাআল্লাহ হবে। আমি আমার প্রিয় ছাত্রটিকে বলেছিলাম, এখন
তোমার জীবনের এই যে নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে উর্দূতে এটাকে বলে ইযদিওয়াজী যিন্দেগী, বাংলায় বলে দাম্পত্য জীবন, অর্থাৎ এটা জীবন ও যিন্দেগির খুবই এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এটা তোমাকে ঘাবড়ে দেয়ার জন্য বলছি না; প্রয়োজনীয় প্রস্ত্ততি গ্রহণ ও পাথেয় সংগ্রহ করার জন্য বলছি, যাতে পূর্ণ আস্থা ও সাহসের সঙ্গে তুমি তোমার এই নতুন জীবন শুরু করতে পারো। আল্লাহ যদি সাহায্য করেন তাহলে সবই সহজ। এটা যে শুধু তোমার ক্ষেত্রে হচ্ছে তা নয়! আমার জীবনেও হয়েছে, আমার মা-বাবার জীবনেও হয়েছে! তোমার মা-বাবাও একদিন এ জীবন শুরু করেছিলেন। যদি সহজ ও অন্তরঙ্গ সম্পর্ক থাকে তাহলে তোমার মাকে, বাবাকে জিজ্ঞাসা করতে পারো, কীভাবে তারা এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন? জীবনের শুরুতে তারা কী ভেবেছিলেন, কী চেয়েছিলেন, কী পেয়েছেন? কখন কী সমস্যা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে সমাধান করেছেন। এই জীবনের শুরুতে তোমার প্রতি তাদের কী উপদেশ? এধরনের সহজ আন্তরিক আলোচনায় সংসার জীবনের পথচলা অনেক সহজ হয়ে যায়। অবশ্য সব মা-বাবার সঙ্গে সব সন্তানের এমন সহজ সম্পর্ক থাকে না, তবে থাকা উচিত। জীবনের যে কোন সমস্যার সমাধানের জন্য সন্তান মা-বাবার কাছেই আসবে, মা-বাবাকেই নিরাপদ আশ্রয় মনে করবে, বন্ধুবান্ধবকে নয়। কঠিন সমস্যার মুখে একজন অপরিপক্ব বন্ধু কীভাবে সঠিক পথ দেখাতে পারে! কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটাই ঘটে। সন্তান মা-বাবাকে ভয় করে, হয়ত
কোন জটিলতায় পড়েছে; তখন তাদের প্রথম চেষ্টা হয় যে, মা-বাবা যেন জানতে না পারে, কারণ তাদের কানে গেলে সর্বনাশ! ছেলে তার বন্ধুর শরণাপন্ন হয়, মেয়ে তার বান্ধবীর কাছে বলে, তারা তাদের মত করে পরামর্শ দেয়। ফলে অবস্থা আরো গুরুতর হয়। অতীতে যাই ছিলো, এখন তো অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, মা-বাবার জন্য সন্তানের বন্ধু হওয়া। বিপদে সমস্যায় সন্তানকে তিরস্কার পরে করা, আগে তার পাশে দাঁড়ানো। তাহলে সন্তান আরো বড় অন্যায় করা থেকে এবং আরো গুরুতর অবস্থায় পড়া থেকে বেঁচে যায়। কিন্তু এখন অবস্থা হলো, সন্তান মা-বাবাকে ভয় করে, বন্ধুকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মনে করে। আমার ছেলেকে আমি এটা বোঝাতে চেয়েছি এবং আশা করি, কিছুটা বোঝাতে পেরেছি। অনেক সমস্যা থেকে সে রক্ষা পেয়েছে, কারণ সবার আগে সে আমার কাছে এসেছে, আর আমি বলেছি, ভয় নেই, আমি তোমার পাশে আছি। আগে তাকে সাহায্য করেছি, তারপর প্রয়োজনে
দরদের সঙ্গে তিরস্কার করেছি, বা শিক্ষা দিয়েছি। বন্ধুর কাছে আগে পাওয়া যায় সাহায্য, মা-বাবার কাছ থেকে আগে আসে তিরস্কার। তাই সন্তান সমস্যায় পড়ে মা- বাবার কাছে আসে না, বন্ধুর কাছে আসে। এভাবে নিজের কারণেই সবচে’ কাছের হয়েও মা-বাবা হয়ে যায় দূরের, আর দূরের হয়েও বন্ধু হয়ে যায় কাছের। সন্তানের সমস্যা বন্ধু জানে সবার আগে। মা-বাবা জানে সবার পরে,
পানি যখন মাথার উপর দিয়ে চলে যায় তখন। তো আমি আশা করছি, জীবনের অন্যসকল ক্ষেত্রে যেমন তেমনি, আল্লাহ না করুন দাম্পত্যজীবনে যদি কোন রকম সমস্যার সম্মুখীন হয় তাহলে সন্তান সবার আগে আমার কাছে আসবে, তার মায়ের কাছে আসবে, আমাদের উপদেশ, পরামর্শ নেবে। আলহামদু লিল্লাহ, সেই রকমের সহজ অন্তরঙ্গ সম্পর্কই সন্তানের সঙ্গে আমার, আমাদের। আমার প্রিয় ছাত্রটিকে বললাম, কথা অন্য দিকে চলে গেছে, তো এই প্রসঙ্গে তোমাকে একটি আগাম নছীহত করি; আজ তোমরা স্বামী- স্ত্রী, দু’দিন পরেই হয়ে যাবে, মা এবং বাবা। সেটা তো জীবনের আরো কঠিন, আরো জটিল অধ্যায়। আমি প্রায় বলে থাকি, প্রাকৃতিক নিয়মে মা-বাবা হয়ে যাওয়া খুব সহজ। কিন্তু আদর্শ মা-বাবা হওয়ার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ শিক্ষা ও দীক্ষা। তো তোমরা দু’জন জীবনের শুরু থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে শুরু করো যে, একটি মেয়ে কীভাবে একজন আদর্শ মা হতে পারে এবং একটি ছেলে কীভাবে একজন আদর্শ বাবা হতে পারে! আগে বলেছিলাম একটি নছীহত, এখন বলছি দু’টি নছীহত। সন্তানের সামনে কখনো তার মাকে অসম্মান করো না। তোমাকে মনে রাখতে হবে, সে তোমার স্ত্রী, কিন্তু তোমার সন্তানের মা, তোমার চেয়েও অধিক শ্রদ্ধার পাত্রী। সন্তান যেন কখনো, কখনোই মা-বাবাকে ঝগড়া -বিবাদ করতে না দেখে। এ নছীহত আমি তোমাকে করছি, আল্লাহর শোকর নিজে আমল করে। আমার বড় সন্তানের বয়স ত্রিশ বছর, এর মধ্যে কখনো সে আমাদের বিবাদ করতে এমনকি
তর্ক করতেও দেখেনি। দ্বিতীয়ত তোমরা উভয়ে সন্তানের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করো, এমন বন্ধু যাকে নিজের মনের কথা, সব কথা নিঃসঙ্কোচে জানাতে পারে। আগের কথায় ফিরে আসি; আগামীপরশু তোমার বিবাহ। তার মানে, আজ তুমি নিছক একটি যুবক ছেলে, অথচ আগামী পরশু হয়ে যাচ্ছো, একজন দায়িত্ববান স্বামী। কত বিরাট পার্থক্য তোমার আজকের এবং আগামী পরশুর জীবনের মধ্যে। বিষয়টি তোমাকে বুঝতে হবে। কেন তুমি বিবাহ করছো? বিবাহের উদ্দেশ্য কী? দেখো, আমাদের দেশে পারিবারিক পর্যায়ে একটা নিন্দনীয় মানসিকতা হলো, সংসারের প্রয়োজনে, আরো খোলামেলা যদি বলি, কাজের মানুষের প্রয়োজনে ছেলেকে বিয়ে করানো। সবাই যে এমন করে তা নয়, তবে এটা প্রবলভাবে ছিলো, এখনো কিছু আছে। আমি নিজে সাক্ষী, আমার একজন মুহতারাম তাঁর মেয়েকে বিয়ে দিলেন, বিয়ে হওয়ামাত্র ছেলের বাবা স্বমূর্তি ধারণ করে বলতে লাগলেন, আর দেরী করা যাবে না, তাড়াতাড়ি মেয়ে বিদায় করেন। মেয়ের মা ও বাবা তো হতবাক! মেয়ে বিদায় হলো। শশুরবাড়ীতে রাত পোহালো, আর পুত্রবধুর সামনে কাপড়ের স্ত্তপ নিক্ষেপ করে শাশুড়ী আদেশ করলেন, কাপড়ে সাবান লাগাও, দেখি, মায়ের বাড়ী থেকে কেমন কাজ শিখে এসেছো! আমার এক ছাত্রের কথা, বিয়ের প্রয়োজন। কেন? কারণ মা-বাবার খেদমত করার কেউ নেই। এটা কিন্তু বিবাহের উদ্দেশ্য বা মাকছাদ হতে পারে না। মা-বাবার খেদমত মূলত তোমার দায়িত্ব। এখন সে যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তোমার সাথে এতে শরীক হয়,
তবে সেটা তোমাদের উভয়ের জন্য সৌভাগ্যের কারণ হতে পারে। দেখো, আল্লাহ চাহে তো অচিরেই আমাদেরও ঘরে পুত্রবধু আসবে। আমরা আমাদের না দেখা সেই ছোট্ট মেয়েটির প্রতীক্ষায় আছি। কিন্তু আমি আমার পুত্রকে অবশ্যই বলবো, বিবাহের উদ্দেশ্য মা-বাবার খেদমত করা হতে পারে না। আমি দু’আ করি, তোমার মা-বাবা তোমার যেমন,
তেমনি তোমার স্ত্রীরও যেন মেহেরবান মা- বাবা হতে পারেন। আমার দুই মেয়ের শশুর, দু’জনই এখন জান্নাতবাসী (ইনশাআল্লাহ)। আল্লাহর কাছে আমার সাক্ষ্য এই যে, সত্যি সত্যি তারা আমার মেয়েদু’টির ‘বাবা’ ছিলেন। আমার ছোট মেয়ের শশুর বড় আলিম ছিলেন, তাঁকে আমার একটি বই হাদিয়া দিয়েছিলাম এভাবে, ‘সাফফানার আববুর পক্ষ হতে সাফফানার আববাকে’। তিনি খুশী হয়ে অনেক দু’আ করেছিলেন, আর বলেছিলেন, ‘আপনি তো এই ছোট্ট একটি বাক্যে সম্পর্কের মহামূল্যবান এক দর্শন তুলে ধরেছেন! আমার বড় মেয়ের অবস্থা হলো, মায়ের বাড়ী থেকে যাওয়ার সময় সে কাঁদে না, কাঁদে ‘আম্মার’ বাড়ী থেকে আসার সময়। দুআ’ করি, আমার দেশের প্রতিটি মেয়ে যেন মা-বাবার ঘর থেকে এমন মা-বাবার ঘরে প্রবেশ করতে পারে। আর তুমি দু’আ করো, আমরা দু’জন যেন আমাদের অনাগত মেয়েটির জন্য তেমন মা-বাবাই হতে পারি। তো বলছিলাম বিবাহের উদ্দেশ্যের কথা। বৈধ উপায়ে স্ত্রীপরিচয়ে কাউকে ভোগ করা, এটাও বিবাহের উদ্দেশ্য বা মাকছাদ হতে পারে না। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে বলা হয় শরীকে হায়াত, জীবনসঙ্গী এবং জীবনসঙ্গিনী। বস্ত্তত এই শব্দটির মধ্যেই দাম্পত্য জীবনের সুমহান উদ্দেশ্যটি নিহিত রয়েছে। আর যদি কোরআনের ভাষায় বলি তাহলে বিবাহের উদ্দেশ্য হল, ﻦﻬﻟ ﺱﺎﺒﻟ ﻢﺘﻧﺍﻭ ﻢﻜﻟ ﺱﺎﺒﻟ ﻦﻫ তুমি তো কোরআন বোঝো। ভেবে দেখো, দাম্পত্য-
সম্পর্কের কী গভীর তাৎপর্য এখানে নিহিত! পেয়ারা হাবীব ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিবাহ হচ্ছে আমার সুন্নত। আর বলেছেন, যে আমার সুন্নতের প্রতি বিমুখ হবে সে আমার উম্মতভুক্ত নয়। বিবাহ নবীর সুন্নত! সুতরাং সহজেই বোঝা যায়, বিরাট ও মহান কোন মাকছাদ রয়েছে এর পিছনে। বিবাহের আসল মাকছাদ বা উদ্দেশ্য হলো স্বামী ও স্ত্রী- এই পরিচয়ে একটি নতুন পরিবার গঠন করা এবং মা ও বাবা- এই পরিচয়ে সন্তান লাভ করা। তারপর উত্তম লালন-পালন এবং আদর্শ শিক্ষা-দীক্ষা ও তারবিয়াতের মাধ্যমে নেক সন্তানরূপে গড়ে তুলে দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করা, যাতে নস্লে ইনসানি বা মানববংশ কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর পছন্দমত আগে বাড়তে থাকে। এটাই হলো বিবাহের আসল উদ্দেশ্য; অন্য যা কিছু আছে তা সব পার্শ্ব-উদ্দেশ্য। তো এখনই তুমি নিয়ত ঠিক করে নাও যে, কেন কী উদ্দেশ্যে বিবাহ করবে। উদ্দেশ্য যদি ঠিক হয়ে যায় তাহলে দেখতে পাবে, আল্লাহ চাহে তো এখনই তোমার ভিতরে কত সুন্দর পরিবর্তন আসছে! কী আশ্চর্য এক পরিপূর্ণতা নিজের মধ্যে অনুভূত হচ্ছে! আগামী জীবনের সকল দায়দায়িত্ব পালন করার জন্য গায়ব থেকে তুমি আত্মিক শক্তি লাভ করছো। আল্লাহ তাওফীক দান করেন। এবার আসো জীবনের বাস্তবতার কথা বলি, এতদিন তোমার জীবনে ছিলেন শুধু তোমার মা, যিনি তোমাকে গর্ভে ধারণ করেছেন, প্রসববেদনা ভোগ করেছেন। নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করে তোমাকে প্রতিপালন করেছেন। এতদিন তোমার উপর ছিলো তাঁর অখন্ড অধিকার। হঠাৎ তিনি দেখছেন, তাঁর আদরের ধন, তাঁর অাঁচলের রত্ন পুত্রের জীবনে স্ত্রীপরিচয়ে অন্য এক নারীর প্রবেশ (অনুপ্রবেশ?) ঘটেছে! এভাবে পুত্রের উপর তার অখন্ড অধিকার খন্ডিত হতে চলেছে। যে পুত্র ছিলো এতদিন তাঁর একক অবলম্বন, এখন সে হতে চলেছে অন্য এক নারীর অবলম্বন। এ বাস্তবতা না তিনি অস্বীকার করতে পারছেন,
না মেনে নিতে পারছেন। সংসারে প্রত্যেক মায়ের জীবনে এ কঠিন সময়টি আসে। এমন এক অর্ন্তজ্বালা শুরু হয় যা শুধু তিনি নিজেই ভোগ করেন, কাউকে বোঝাতে পারেন না, এমনকি এতদিনের আদরের ধন পুত্রকেও না। ফলে সামান্য সামান্য কারণে, এমনকি অকারণেও তিনি খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়েন; তাঁর অনুভূতি আহত হয়। এমন সময় ছেলে (এবং তার স্ত্রী অজ্ঞতা, অনভিজ্ঞতা ও অপিরপক্বতার কারণে) যদি অসঙ্গত কিছু বলে বা করে বসে তাহলে তো মায়ের মনে কষ্টের শেষ থাকে না। প্রসববেদনা থেকে শুরু করে প্রতিপালনের সব কষ্ট একসঙ্গে মনে পড়ে যায়। আম্মার কাছে শুনেছি, গ্রামের এক মা তার পুত্রবধুকে বলেছিলেন, ‘ততা ফানি আমি খাইছিলাম, না তুই খাইছিলি?’ তখনকার যুগে প্রসবপরবর্তী বেশ কিছু দিন মা
ও শিশুর স্বাস্থ্যগত কল্যাণ চিন্তা করে মাকে
গরম পানি খেতে দেয়া হতো, ঠান্ডা পানি দেয়া হতো না। তো কথাটা কিন্তু নির্মম। আমার জন্য ‘তাতানো পানি’ আমার মা খেয়েছেন, আমার সব আবর্জনা আমার মা পরিস্কার করেছেন। নিজের জীবন তিলে তিলে ক্ষয় করে তিনি আমাকে বড় করেছেন, উপযুক্ত করেছেন। সেই সব কষ্টের সুফল হঠাৎ করে অন্য একটি মেয়ে এসে অধিকার করে বসেছে। তখন সব হারানোর একটা বেদনা তাকে কুরে কুরে খায়। তো তোমার মায়ের অন্তরেও এরকম অনুভূতি হওয়া স্বাভাবিক। মায়ের মনের এই কষ্টের উপশম, এই বেদনার সান্ত্বনা তোমাকেই চিন্তা করতে হবে।