04/06/2022
"ভাইয়া আজ সারারাত পড়তে চাই। "
এমন বেশি পড়ার আগ্রহ পড়ালেখার জন্য ক্ষতিকর। কারণ আপনি যেদিন সারারাত পড়বেন সেদিন আপনার ভালো পড়া হবে সর্বোচ্চ ৩ থেকে চার ঘন্টা। এরপর বাকী যেটুকু সময় পড়বেন সেটুকু সময় পড়ার জন্য পড়া হবে। জানা , শেখা বা মনে রাখার জন্য পড়া হবে না।
আপনার পড়ার উদ্দেশ্য যদি হয় শেখা, বোঝা, মনে রাখা এবং জীবনে অর্জিত বিদ্যা কাজে লাগানো তাহলে ঘুমান বেশি । রাত দশটায় শুয়ে পড়ে সকাল ৭ টা পর্যন্ত ৯ ঘন্টা খুবই ভালোভাবে ঘুমান। এরপর সারাদিনে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা ভালো করে পড়ুন। নিয়মিত পড়ুন। শরীর মন ভালো থাকবে প্রচুর পড়া হবে। হুটহাট একদিন সারারাত পড়ে ২/৩ দিন ঝিমানো আপনাকে ভালো কিছু উপহার দেয় না।
এই সহজ ব্যাপারগুলোই মনে করে দেই আমি।
"ভাইয়া পড়তে ভালো লাগে না।"
পড়তে ভালো না লাগলে পড়ার কি দরকার?
-না ভাইয়া, পড়তে তো হবে। আমি সরকারি চাকরি করতে চাই।
-সরকারি চাকরি করতে চাইলে পড়েন।
-কিন্ত পড়তে তো ভালো লাগে না।
তাহলে সরকারি চাকরির আশা বাদ দ্যান।
ভাই যেকোন একটা তো করতে হবে। হয় পড়তে হবে নাহলে চাকরির আশা বাদ দিতে হবে।
এমন সহজ সরল সংলাপের দ্বারা সহজ সরল ব্যাপারগুলো মনে করে দেই।
“ ভাই কোন কাজে আগ্রহ পাই না, কিছুই ভালো লাগে না। “
কে বলছে ভালো লাগে না? আপনি যে প্রতিদিন নিঃশ্বাস ন্যান অনেকবার এটা একটা ভালো লাগার কাজ। আপনি খাবার খান এটা একটা ভালো লাগার কাজ। আপনি হাটেন, হাসেন, আড্ডা দ্যান, ঘুমান, সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি করেন সবই ভালো লাগার কাজ। আপনার জীবনের বেশির ভাগ কাজ ভালো লাগার কাজ। এই যে কিচ্ছু ভালো লাগে না ভাইয়া, কোন কাজে আগ্রহ পাই না এটা বলাও একটা ভালো লাগার কাজ।
সাধারণত কিচ্ছু ভালো না লাগা মানে হচ্ছে পড়তে ভালো না লাগা, দরকারি কাজ করতে ভালো না লাগা। এমন হয়। আমারও ফার্মেসীতে ঘুরে ঘুরে ওষুধের অর্ডার কাটতে ভালো লাগে না। ডাক্তার আমার কথা শোনেই না, তবুও ডাক্তারকে গিয়ে আমার কোম্পানির ওষুধ লিখতে বলাও আমার ভালো লাগে না। এই ভালো না লাগা কাজগুলো করার পরও , কি করেন মিঞা শোভন! কাজ করেন নাকি ঘুমান! আপনার তো সেল নাই! এভাবে কাজ করলে তো হবে না সাজ্জাদ! এমন কথা শুনতে আরো বেশি ভালো লাগে না। কিন্তু এর বিকল্প আর কোন সুযোগ কি আমার আছে?
না, নাই। অতএব আমার এই কাজই করতে হবে।
না পড়ে , না কাজ করে চলার কোন বিকল্প কি আপনার আছে? যদি বিকল্প না থাকে তাহলে এই ভালো না লাগার কাজ গুলোই করতে হবে। ভালো না লাগার কাজগুলো করতে করতে একসময় এগুলো সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।
দুই মাস আগে ডাক্তারের কাছে গিয়ে ওষুধের ডিটেইলিং করা, ফার্মেসী তে গিয়ে অর্ডার চাওয়া এগুলো যে পরিমাণ খারাপ লাগতো এখন আর তত খারাপ লাগে না। কেন লাগেনা?
কারণ অনেকবার এই কাজগুলো করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। দক্ষ হচ্ছি এই কাজে আস্তে আস্তে।
এই সহজ সহজ ব্যাপারগুলোই বোঝাই আমি।
"ভাই আমার যেই মেয়েকে ভালো লাগে, আমি যেই মেয়েকে অনেক চাই, যাকে আমি অনেক ভালোবাসি সে আমাকে ভালোবাসে না।"
আপনি যে মেয়েকে ভালোবাসেন সে অনেক ভালোবাসার মত একটা মেয়ে হয়ত, কিন্তু আপনি তেমনভাবে ভালোবাসার মত ছেলে না। আপনি আকর্ষনীয় হলে তো আপনাকে ভালোবাসতো অনেকে। আপনি না চাইলেও বাসতো। যেমন মেয়েকে আপনি ভালোবাসেন সে আপনার ব্যাপারে আগ্রহী না জেনেও ভালোবাসেন। তাই নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলুন। শারিরীক, মানসিক , অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভাবে নিজেকে আরো যোগ্য করে গড়ে তুলুন। আলো আসবেই।
এই সহজ কথা গুলোই আমি মনে করে দেই বার বার।
" ভাই , আমি ঐ ছেলেকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসতাম। এত ভালোবাসার পরও সে আরেক মেয়ের সাথে যোগাযোগ রাখতো। আমি জানার পর আর সম্পর্ক চালাই নি। কিন্তু সবসময় কষ্ট পাই। কেন ওকে ভালোবাসলাম। "
কষ্ট পাওয়ার কিছু নাই। আপনার ভালোবাসতে ভালো লাগছে তাকে ভালোবেসেছেন। এরপর আপনাকেও আপনি যেভাবে তাকে ভালোবাসেন সেভাবে ভালোবাসতে হবে এটা তার উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। সমস্যা তো আপনার। আপনার চাহিদা মত ভালোবাসার যোগান তো অন্য কেউ দিতে পারবে না। সে কেন ভালোবাসলো না এই সমস্যার সমাধান তো আপনি করতে পারবেন না। এটা তার ব্যাপার। তার ভালো লাগেনি তাই ভালোবাসেনি।
' আমি কেন ভুল মানুষকে ভালোবাসলাম ' এটাও কষ্ট পাবার মত ব্যাপার না আসলে। আপনার ভালো বাসতে ইচ্ছা হয়েছিল ভালোবেসেছেন। এখন মনে হয়েছে তাকে ভালোবাসা উচিৎ না। তাই তাকে ভালো বাসেন না। মানুষ মাত্রই আমৃত্যু ভুল করে। আপনার জীবনের হাজারো ভুলের মাঝে এটাও একটা ভুল। এমন তো না যে এটা ছাড়া আর কোন ভুপ নাই আপনার জীবনে। তাই মেনে ন্যান। ভালো থাকুন।
যে সহজ সরল নির্জলা সত্য গুলো ইতোমধ্যেই আমরা জানি সেই সত্যগুলোই আমি মনে করে দেই। জীবনে ১০-১২ টা কমন সমস্যা প্রায় সবাই ফেস করে। আর ভাবে তার সমস্যাটা একেবারে ইউনিক । তার মত সমস্যা আর কেউ ফেস করে না।
এই যে ফোন, ইন্টারনেট এবং ফেসবুকে সময় অপচয় এই সমস্যা প্রায় সবাই ফেস করছে। সবাই ফিল করতেছে যে তার সময় চুরি হয়ে যাচ্ছে , জীবন চুরি হয়ে যাচ্ছে, সম্ভাবনাগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তবুও বের হয়ে আসতে পারছে না। আমি নিজেও পারছি না।
এই কথাটা আমি নিজেকে বার বার মনে করে দেই যে বের হয়ে আসতে হবে। একই সাথে মনে করে দেই আমাদের লিডারদের। আপনি বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না আমাদের বেশ কিছু লিডার এখন রাত ৯ টার মাঝে ফোন , ফেসবুক, আর ইন্টারনেট থেকে দূরে চলে যায় এবং সকাল ১০ টা পর্যন্ত দূরে থাকার চেষ্টা করে। প্রতিদিন পারে না । তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমিও তাদের প্রতিদিন মনে করে দিচ্ছি।
আমরা এটমিক হ্যাবিট কোর্সে মূলত মনে করে দেই। প্রতিদিন চারবার করে ৩০ দিনে ১২০ বার মনে করে দেই। প্রতিদিন ৪ বার করে মনে করে দেই।
আর কী কী মনে করে দেই?
মনে করে দেই একটি সুন্দর , সুখী, সমৃদ্ধ , জীবন আপনার অধিকার । এই সুখী , সুন্দর ও সমৃদ্ধ জীবনের পথে হাটা শুরু করার কথা মনে করে দেই।
সারামাসে ১২০ বার মনে করে দেয়ার ফি এখন ৫০০ টাকা। ১ জুলাই থেকে হবে ৬০০ টাকা।
১০০ টাকা দাম বাড়ানো হবে টাকাটা আবার আপনাকে ফেরত দেয়ার জন্যই। যদি আপনি পুরো মাস ১২০ টা রিমাইন্ডার ম্যাসেজের মাঝে অন্তত ১০০ টা ম্যাসেজের ঠিকমতো রিপ্লাই দ্যান তাহলে এই ১০০ টাকা বা ১০০ টাকা দামের একটা বই উপহার পাবেন। আর যদি রিপ্লাই না দ্যান নিয়মিত তাহলে আপনি এই ১০০ টাকা আর ফেরত পাবেন না।
আপনি আমাদের এটমিক হ্যাবিট কোর্সের মূল ব্যপারটা পড়লেন এতক্ষন।
জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তোলার এই চমৎকার কোর্সে স্বাগত।
[যাদের টাকা দিয়ে ইনবক্সে রিমাইন্ডার ম্যাসেজ নেয়ার সামর্থ্য নাই তাদের জন্য গ্রন্থ বিশ্ববিদ্যালয় (গ্রবি) গ্রুপে বিনামূল্যে ম্যসেজগুলো দেয়া হয় প্রতিদিন।]