আমাদের শিক্ষাসেবার ধারায়
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
প্রতিষ্ঠান কোড- ৫০৯৭৫
EIIN- 139396
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে সমাজকে বদলে দেবার দায়বোধ থেকে। এই চিন্তা থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পরবর্তীতে ২০১০ সালে এই অঞ্চলের কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মানসম্মত কলেজ উপহার দিতে গড়ে ওঠে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ। কলেজটি এলাকার শিক্ষার্থীদের দাবি অনেকটাই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেটি এখন স্বতন্ত্র মর্যাদার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ ঢাকার সীমানা ছাড়িয়ে দেশময় সুপরিচিত। একই চিন্তার তৃতীয় পদক্ষেপ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। প্রত্যাশা করি পূর্ববর্তী দুটির ন্যায় এই প্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থী মহল ও জনসমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন কোর্সে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বেকারত্ব দূরীকরণ ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এইসব দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন বর্তমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কারিগরি ইনস্টিটিউট। অন্যদিকে বর্তমান সরকারও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকাশের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠছে। সরকারের এমন চিন্তা ভাবনার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে। প্রথমত, যুবকশ্রেণিকে আত্মকর্মসংস্থানে প্রবৃত্ত করে বেকারত্ব দূর করে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করা। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় সরকারের এমন দৃষ্টিভঙ্গি নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজিও বর্তমান সরকারের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করে ও ভালোবেসে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী।
মাধ্যমিক উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকেই সাধারণ ধারায় উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটতে হবে, এমনটি নয়। দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল কিন্তু কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা থাকায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে বিশেষজ্ঞ হওয়া গড়পরতা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। যাদের পাঠে লম্বা সময় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং যারা তত্ত্বচর্চার উপযুক্ত মেধাবী নয়, তাদের জীবনে সুফল এনে দিতে পারে প্রযুক্তিভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা। কারিগরি শিক্ষা উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ফলে অল্পকালের মধ্যে সুন্দর কর্ম জীবনে প্রবেশ করা সম্ভব হয়। জীবনে বেকারত্বের অভিশাপ থাকে না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই পরিকল্পনা নিয়ে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি কর্মপ্রত্যাশী তরুণ শ্রেণির কাছে আশীর্বাদ হয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। উপকৃত হবে দেশ ও সমাজ।
সদ্য প্রতিষ্ঠিত ড. মাহবুবর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের মত সাড়া জাগাবে। এলাকার কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করবে। কেবল কারিগরি ডিপ্লোমার মধ্যেই তাদের সীমাবদ্ধ রাখবে না, তাদের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেও সহায়তা দিবে। পাশাপাশি উন্নত রাষ্ট্র যেমন: সিংগাপুর, চীন, জাপান, কোরিয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে স্কলারশীপ সহ অধ্যয়ন ও চাকুরির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে। আমরা চাই, তরুণরা এগিয়ে আসুক।
যাত্রাবাড়ীর নিকটে ডেমরা রোডে, মাতুয়াইলে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের পাশেই এই সায়েন্স ও টেকনোলজিভিত্তিক কারিগরি ইনস্টিটিউটের অবস্থান। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সুপ্রশস্ত ভবন রয়েছ। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষকসহ নিয়মিত অনুশীলনের জন্য মান সম্মত ল্যাব এবং ওয়ার্কশপ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি ও বিকাশ বিস্তৃতির জন্য সকলের সহযোগিতা কাম্য।
এসএসসি ও সমমানের বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ থেকে উত্তীর্ণরা এই ইনস্টিটিউটে ভর্তি হতে পারবে।
কারিগরি ডিপ্লোমার কোর্স হবে চার বছর মেয়াদের। এখানে নিবন্ধিত ইঞ্জিনিয়ারিং শাখাগুলো হচ্ছে -
* ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি
* সিভিল টেকনোলজি
* কম্পিউটার টেকনোলজি
* মেকানিকাল টেকনোলজি
* অটোমোবাইল টেকনোলজি
২০২২ সালের সূচনা থেকেই উপরের বিষয়/ শাখাগুলোর ডিপ্লোমা কোর্স আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। এসএসসি উত্তীর্ণ বিজ্ঞান বিভাগের আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসুক। আমাদের ইনস্টিটিউট সবরকম সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রেখেছে। অতএব, আর কালক্ষেপণ নয়।
ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রধান উদ্দেশ্য তরুণদের যুগোপযোগী শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা। এই উদ্যোগ সফল করতে সমাজের সকল শ্রেণির সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ বিশেষভাবে কাম্য। আমাদের প্রত্যয়, দক্ষতায় হবে জয়!