09/04/2025
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থীবৃন্দ,
ভালো আছো নিশ্চয়ই।
কিছু বিষয় তোমাদের উদ্দেশ্যে বলা প্রয়োজন বলে মনে করছি.....
১. এখন নতুন করে কোন চ্যাপ্টার পড়বেনা। যা পড়েছ তাই রিভিশন দিবে। যা পড়ো নাই তা নিয়ে সময় নষ্ট করবেনা। মনে করবে এগুলো ছাড়াই উত্তর করতে পারবে।
২. গণিতের সূত্রগুলো ভালোভাবে দেখে যাবে। নতুন করে গণিত করতে গিয়ে মন খারাপ করবেনা। পরীক্ষার হলে ঠিকই কমন পরবে এবং করতে পারবে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতেও তাই।
৩. ইংরেজি গ্রামার অংশ শুধু বোর্ড প্রশ্ন দেখবে এখন। লিখিত অংশের জন্য শুধু লেখার স্ট্রাকচার দেখে যাবে। লেটার এপ্লিকেশন ইমেইলে বামপাশের পেজ থেকে লেখার চেষ্টা করবে অবশ্যই। মার্জিন বরাবর লিখবে সব। পেসেজ থেকে এনসার করার ক্ষেত্রে আগে ঐ পেসেজের প্রশ্নগুলো পড়ে দেন পেসেজ পড়বে।
৪. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ অন্যান্য বিষয়ে এমসিকিউ ঠান্ডা মাথায় এনসার করবে। বেশি আলোচনা করতে গেলে সময় পাবেনা। সৃজনশীল প্রশ্নের জন্য মাত্র ২১ মিনিট সময় পাবে তাই প্রথম প্রশ্নের উত্তর ২৫-৩০ মিনিট লাগলেও পরেরগুলো যেন ঐ সময়েই শেষ করতে পারো।
৫. ভালো গাঢ় পেনসিল দিয়ে মার্জিন করবে। নং প্রশ্নের উত্তর আলাদা কালি দিয়ে লেখার দরকার নেই। শুধু নিচের দাগটা দিতে পারো।
৬. পরীক্ষার আগের রাতে স্বচ্ছ একটা ফাইলে প্রয়োজনীয় সব গুছিয়ে রাখবে। দুইয়ের অধিক কলম এবং অবশ্যই তা বলপেন। জেলপেন দিয়ে লিখবেনা। ইরেজার, কাটার, দু'টো পেনসিল, স্কেল আগের রাতে উঠিয়ে রাখবে। পরীক্ষার আগের রাতে অবশ্যই রাত ১০টার মধ্যে ঘুমাতে হবে। সব পরীক্ষার আগে ভালো ঘুম হওয়া প্রয়োজন।
৮. একটি পানির বোতল সাথে রাখবে। পারলে একটু গ্লুকোজ বা ওরস্যালাইন গুলে নিতে পারো। প্রচন্ড গরমে এনার্জি দিবে। খাবারের বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালীন অবশ্যই সতর্ক থাকবে। বাইরের কোন খাবার খাবেনা যাতে পেটে সমস্যা হওয়ার আশংকা থাকে। আর বাড়ির খাবার যেন নরমাল হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার খাবে না। মনে রাখবে তোমার শরীর সামান্য দুর্বল থাকলে কিন্তু পরীক্ষায় লেখার ক্ষেত্রে প্রভাব পরবে৷
৯.. সকালে নামাজ/ প্রার্থনা করে ভালোভাবে নাস্তা করে, পরিপাটি স্কুল ড্রেস পরে বাবা মায়ের দোয়া নিয়ে পরীক্ষার হলে যাবে। মোবাইল ফোন ব্যবহার ছেড়ে দিবে একদম। ফেসবুকে আসবেনা পরীক্ষার সময়।
১০. পরীক্ষার হলে দায়িত্বরত শিক্ষকের সাথে কোন প্রকার বেয়াদবি করবেনা। কোন অসদুপায় অবলম্বন করবেনা।
অন্য স্কুলের কোন শিক্ষার্থীর সাথে কোন তর্কে জড়াবে না।
সবসময় ভদ্রতার পরিচয় দিবে যাতে তোমাদের আচরণে প্রশংসা করে সবাই।
১১. এ সময়ে তোমার মনে বেশি ভয় কাজ করবে যে আমার কিছুই মনে নাই,কিছুই লিখতে পারবোনা। কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে ঠিকই লিখতে পারবে।
তোমাদের জন্য অনেক দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। আগামী দিনে তোমরা তোমাদের বাবা-মায়ের মুখ উজ্জ্বল করবে। আমারাও যেন তোমাদের নিয়ে গর্ববোধ করতে পারি সেরকম অবস্থানে পৌছাবে ইনশাআল্লাহ।
মোঃ শফিকুল ইসলাম (শুভ)
বিএসএস( সম্মান) এমএমএস
রাষ্ট্রবিজ্ঞান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
বিএড
সহকারি শিক্ষক
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, টাংগাইল।