20/02/2023
Secondary School Certificate Exam routine 2023
Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Kaidula Jaforshahi HIGH School, School, Kaidula, Jamalpur, Jamalpur Sadar Upazila.
20/02/2023
Secondary School Certificate Exam routine 2023
28/11/2022
RESULT OF SSC EXAMINATION, 2022
Kaidula Jaforshahi HIGH School
BUSINESS STUDIES: PASSED=16; NOT PASSED=1; GPA5=1;
HUMANITIES: PASSED=56; NOT PASSED=5; GPA5=2;
SCIENCE: PASSED=23; GPA5=1
{ Examinee: 101, Appeared: 100, Passed: 95, Percentage of Pass: 95}
২০২৩ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে এপ্রিলে আর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হবে জুনে। স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে সেই পরীক্ষা দুটি হবে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে। সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হবে কিনা, সে বিষয়টি জানা যাবে দেড় মাস পর।
# #শীর্ষ_দূষিত_১০০_শহরের_মধ্যে_বাংলাদেশের_৪টি # #
আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী মানিকগঞ্জ, ঢাকা, ঢাকার আজিমপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরের অবস্থান যথাক্রমে ১৬, ২৩, ৬০ ও ৬১ নম্বরে। শীর্ষ ১০০ দূষিত বায়ুর শহরের মধ্যে ৯৪টিই ভারত, চীন ও পাকিস্তানের। ৪৬টি শহর নিয়ে ভারত রয়েছে তালিকার প্রথমে। ৪২টি শহর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের ১৬ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ। এ ছাড়া দেশের আরও তিনটি শহর ও এলাকা রয়েছে ২০২০ সালের শীর্ষ ১০০ দূষিত শহরের মধ্যে। এগুলো হলো ঢাকা, ঢাকার আজিমপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুর। এগুলোর অবস্থান যথাক্রমে ২৩, ৬০ ও ৬১ নম্বরে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইকিউএয়ার বায়ুমান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেস্ক এ চিত্র তুলে ধরেছে। গত সোমবার আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায়।
আইকিউএয়ার বায়ুর মান বৃদ্ধিতে সহায়ক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাণ করে থাকে। একই সঙ্গে তারা বিশ্বব্যাপী বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। সে অনুযায়ী প্রতিবছর বায়ুমান সূচক প্রকাশ করে। আইকিউএয়ারের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী সবচেয়ে দূষিত ১০০ শহরের মধ্যে ৪৬টিই ভারতের। এরপর ৪২টি শহর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের দূষিত শহরের সংখ্যা ছয়। আর ৪টি দূষিত শহর বা অঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৪ নম্বরে।
আইকিউএয়ার বলছে, ২০২০ সালের শীর্ষ ১০ দূষিত শহরের ৯টিই ভারতের। সবচেয়ে দূষিত শহর চীনের জিনজিয়াংয়ের হোতান।
কোন অঞ্চলের বায়ু কতটা দূষিত তা নির্ধারণ করা হয় পিএম ২.৫, পিএম ১০, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই–অক্সাইড, সালফার ডাই–অক্সাইড এবং কার্বন মনো–অক্সাইডের মাত্রার ওপর। বায়ুদূষণের উপাদান অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম) মানবশরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর মাত্রা ১২–এর নিচে হলে তা ক্ষতিকর নয় বলে বিবেচনা করা হয়। ৫৫ থেকে ১৫০ মাত্রাকে অস্বাস্থ্যকর এবং ২৫০ এর বেশি মাত্রাকে বিপজ্জনক বলা হয়ে থাকে।আইকিউএয়ারের ২০২০ সালের বায়ুমান সূচক অনুযায়ী মানিকগঞ্জের গড় পিএম ছিল ৮০.২। ঢাকায় যা ছিল ৭৭.১ এবং ঢাকার আজিমপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে ছিল ৫৫.৭। অর্থাৎ বাংলাদেশের চারটি শহর বা অঞ্চলের বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে। অন্যদিকে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর চীনের হোতানে এর গড় মাত্রা ছিল ১১০.২।আইকিউএয়ার বলছে, শীর্ষ ১০টি দূষিত শহরের মধ্যে ভারতের ৯টি শহর হলো গাজিয়াবাদ, বুলন্দশহর, বিসরাখ জালালপুর, ভিবাদি, নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা, কানপুর, লক্ষ্ণৌ ও দিল্লি। এ শহরগুলোর অবস্থান যথাক্রমে ২ থেকে ১০ নম্বরে।
চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেটের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতে ১৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ ছিল বায়ুদূষণ। ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দেশটিতে প্রতিবছরই আতশবাজি পোড়ানোর ওপর ভারত সরকার অথবা দেশটির সুপ্রিম কোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে এ নিষেধাজ্ঞা তেমন একটা মানা হয় না। এ বছরের দেওয়ালি উৎসবেও নিষেধাজ্ঞা না মেনে দিল্লিতে ব্যাপক আতশবাজি ফোটানো হয়। এ অবস্থায় ৫ নভেম্বর দিল্লিতে বায়ুদূষণ ছিল চরমে। বায়ুমান সূচক অনুযায়ী চলতি বছরের সবচেয়ে খারাপ দিন পার করেছে ভারতের রাজধানী শহরটি। সেদিন সেখানে বায়ুদূষণের মাত্রার সূচক ছিল পিএম ৪৫১। আতশবাজি পোড়ানো ছাড়াও বছরের এ সময়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকেরা জমির ফসলের অবশিষ্টাংশ জমিতে পুড়িয়ে থাকেন। এ দুটি রাজ্য দিল্লির লাগোয়া। ফলে তা দিল্লির বায়ুদূষণ পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে ঠেলে দেয়। গত সপ্তাহে দুই কোটি মানুষের শহর দিল্লির সব স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
দূষণ নিয়ে ভারতের সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ারের বিশ্লেষক সুনীল দাহিয়া বলেন, আতশবাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তেমন কাজে আসেনি বলেই দেখা যাচ্ছে। বায়ুদূষণের অন্য উৎসের পাশাপাশি আতশবাজি পোড়ানো বিপজ্জনক মাত্রায় দূষণ ডেকে এনেছে।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ভারত সরকারের বিরুদ্ধে। তবে ভারত ও চীন সরকার তাদের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোতে স্মগ টাওয়ার বসিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দুটি স্মগ টাওয়ার বসানো হয়েছে দিল্লিতে। স্মগ টাওয়ার তার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যকার বায়ু থেকে পিএম ২.৫–এর মাত্রা অর্ধেক কমিয়ে দেয়। যদিও এর কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ মারা যায়। ডব্লিউএইচওর নির্ধারণ করা দূষণের মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া এলাকায় বাস করে বিশ্বের ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ। বায়ুদূষণের সঙ্গে হাঁপানি, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের সম্পর্ক রয়েছে।
ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ কেন চলে যায়?
আসুন সঠিক তথ্য জেনে নেই।
👉আর সবার মতো একসময় আমারও ধারণা ছিলো, ঝড়ে বিদ্যুৎ এর তার ছিড়ে গেলে যদি বিদ্যুৎ বন্ধ না করা হয় তাহলে ভয়ানক দুরর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই জন্য সতর্কতা অবলম্বন করে বিদ্যুৎ এর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়?
ভুল, ভুল ধারণা 🖐️
👉আবার অনেক সময় দেখা যায়, এই বিদ্যুৎ যাচ্ছে, এই আসছে। মিনিটে কয়েকবার আসে যায়। আমরা গালি দেই, দূর!! একটা তামাশা শুরু করছ
আপনি ভাবতেছেন এটা ইচ্ছা করে কেউ করছে? শতভাগ ভুল কিছু ভাবছেন তাহলে।
তাহলে ব্যাপার টা কি?🤔
আসুন একটু মেকানিজম খুব সহজ করে বুঝে নিই।
বিদ্যুৎ যে জায়গা থেকে বিতরন করা হয়, এটাকে উপকেন্দ্র (সাব স্টেশন) বলে। এই উপকেন্দ্রের ভিতর একটা খুব বড়সড় রুমে আলমারির মতো বড়সড় মেশিন টাইপের কিছু থাকে। এগুলো কে ফিডার বলে। এক একটা ফিডার এক একটা এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের কাজ করে। এই ফিডার অফ, মানে ঐ এলাকায় বিদ্যুৎ অফ।
এখন আসুন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণ খোঁজ করি👇
🏭আপনার বাসায় বিদ্যুৎ যে কারণে চলে যায়, আমরা সে কারণগুলো কে ফল্ট বল
আমাদের এখানে বা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে কি কি ফল্ট হলে আপনার বাসায় বিদ্যুৎ চলে যায়??
অনেক কারণ হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে দেখবেন ৩ টা তার থাকে, এগুলো কে আমরা ফেইজ বলি। A, B, C ফেইজ। বাতাসের কারণে যদি এই ৩ টা ফেইজ কোন কারণে এক সাথে লেগে যায়, তাহলে আমাদের উপকেন্দ্রের ফিডার (মানে আপনার বাড়িতে বিদ্যুৎ যাওয়ার সুই) ফল্ট করে।
২) ঝড়ে বা বাতাসে গাছ ভেঙে ফেইজের উপর পড়লে বা একবার বাড়ি খেলেও আমাদের এখানে ফিডার ফল্ট করে।
৩) ট্রান্সফরমার এ সমস্যা হলেও ফল্ট করে।
৪) কোন মানুষের হাতের স্পর্শ পেলেও ফল্ট করে
এখন আসুন জেনে নিই ফল্ট করলে কি হয়। ফল্ট করার মানেই অটুম্যাটিক বিদ্যুৎ অফ হয়ে যাবে। আমাদের হাতে কোন শক্তি ই নেই অফ রোধ করার। মনে করেন ২০ কিমি দূরে গাছের ঢাল বাতাসে বাড়ি মারছে, অরীরটু বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে।
ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে তার ছিড়ে গেছে? মিলি সেকেন্ড এ বিদ্যুৎ লাইন অফ হয়ে যাবে। তার না লাগানো পর্যন্ত আমরা ইচ্ছা করলেও লাইন চালু হবে না। কোনভাবেই না।
তাহলে মিনিটে কয়েকবার বিদ্যুৎ আসে যায় কেন?
বাতাসে বাড়ি মারে, অফ হয়ে যায়, আমরা চালু করি, আবার বাড়ি মারে, অফ হয়। এই জন্য ই তারের আশেপাশে থাকা গাছের ঢাল নির্দয় ভাবে কেটে ফেলা হয়
কারণ ঢালের সংস্পর্শে আসলে কোনভাবেই বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখা যাবে না......।
আর একটা কথা, এটা আমাদের বাসার সুইচ না যে আমাদের ইচ্ছায় বন্ধ করবো বা চালু করবো
উপকেন্দ্রে যিনি থাকেন, তিনি কখনোই নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করতে পারেন না, চালু করতেও পারেন না। যে সকল ফল্ট বললাম, এইগুলো হলে অটু বন্ধ হয়ে যায়, আর যদি ফল্ট না হয়, তাহলে মেরামতের কাজ বা নতুন লাইনের সংযোগ এর জন্য কমপক্ষে ২য় শ্রেণীর অফিসার এর নির্দেশে বন্ধ হয়। কোথাও আগুন লাগলে বন্ধ হয়।
গ্রামে অনেক সময় ২/৩ দিন বিদ্যুৎ থাকে না কেন?
গ্রামের লাইন এতো চিপা চাপা দিয়ে যায় যে, অনেক সময় খুঁজেই পাওয়া যায় না ফল্ট কোথায়
অফিসার তার টিম নিয়ে সারা এলাকা তন্নতন্ন করে খুজে বেড়ায়। তবুও খুজে পায় ন
তখন এমন হয়। মোটকথা ইচ্ছা করে বন্ধ হয় না।
লোড শেডিং কেন হয়?
হে, একমাত্র লোড শেডিং এর জন্য ইচ্ছা করে লাইন বন্ধ করা হয়। এটাও হয় একমাত্র প্রথম শ্রেণীর বা তার উপরের অফিসার এর নির্দেশে। এটাও ইচ্ছা করে করা হয় না। যখন লোড অনেক বেশী হয়ে যায়, Power Transformer লোড নিতে পারে না, তখনই কেবল কোন একটা ফিডার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
[তথ্যসূত্র]:-
(সাঈদ বিন মুহাম্মদ ভাই, নেসকো,গাইবান্ধা।)
আপনার কাছে ২ মিনিট সময় হবে কি?
মৃত্যু নিকটবর্তী হওয়ার ৬ টি লক্ষন।
মৃতের ৬ টি ধাপ রয়েছে :
প্রথম ধাপের নাম ইয়াউমুল মাউত!
এই দিনেই মানুষের জীবনের সমাপ্তি ঘটবে,হায়াত ফুরিয়ে যাবে। আল্লাহ ফেরেশতাদের নির্দেশ দিবেন জমিনে গিয়ে রুহু কবজ করে নিয়ে আসতে। দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ এই দিন সম্পর্কে জানেনা। এমনকি যখন এইদিন চলে আসবে সেইদিন ও সে জানবে না আজ তার মৃত্যুর দিন। মৃত্যুর বিষয়টি উপলব্ধি না করা সত্বেও দেহে কিছু পরিবতর্ন অনুভব করবে। মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি অনুভব হবে আর পাপিষ্ঠ বুকে খুব চাপ অনুভব করবে। এই স্তরে শয়তান এবং দুষ্ট জীন ফেরেশতাদের নামতে দেখবে। কিন্তু মানুষ তাদের দেখবেনা। এই পদক্ষেপটি কোরআনে বর্ণিত হয়েছে
﴿وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ۖ ثُمَّ تُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ..﴾۱).
তোমরা সেই দিনকে ভয় কর যেদিন তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে আল্লাহর কাছে। অতঃপর প্রতিটি নফসকে পরিপূর্ণভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে তার কর্মফল। (সূরা বাক্বারা)
এরপর আসবে দ্বিতীয় ধাপ!
এটা হচ্ছে ধীরেধীরে রুহু কবজ করার পালা। এই ধাপে রুহ পায়ের পাতা থেকে আরোহণ শুরু করে গোছা, হাটু,পেট,নাভি ও বুকের উপর হয়ে মানব দেহের "তারাক্বী" নামক স্থানে পৌছে যায়। এই সময় মানুষ ক্লান্তি ও অস্থিরতা অনুভব করেন। এবং একধরণের অসহনীয় চাপ অনুভব করেন। তখনও তিনি জানতে পারেন না যে তার রুহু বের হয়ে যাচ্ছে।
তারপর শুরু হয় তৃতীয় ধাপ!
এই ধাপের নাম " তারাক্বী " কোরআনে এই স্তরের কথা বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে ;
﴿كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ (26) وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ (27) وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ (28) وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ (
﴾ (سورة القیامة)
‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে। এবং বলা হবে, কে ঝাড়বে। এবং সে মনে করবে যে, বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে’।পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে।(সূরা কিয়ামাহ)
তারাক্বী বলা হয় কণ্ঠনালিরর নিচে ২ কাধ পর্যন্ত বিস্তৃত হাড়কে। "কে ঝাড়বে" অর্থাৎ আত্মিয়-স্বজনদের কেউ কেউ বলবে : ডাক্তার ডাকি, অন্যজন বলবে ইমারজেন্সিতে কল করি, আবার কেউ বলবে কোরআন পড়ে ফু দেই। এই পরিস্থিতির মধ্যে মানুষ জীবনে ফিরে আসার আশা করতে থাকবে । সে বিশ্বাসই করতে চাবেনা যে রুহু তার দেহ ত্যাগ করছে!! (وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ সে মনে করবে,বিদায়ের ক্ষন এসে গেছে) অর্থাৎ সে এখনো মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত নয়।সে বাচার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু আল্লাহ তা'লা বলেন :(وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ) পায়ের গোছা অন্য গোছার সাথে জড়িয়ে যাবে)
অর্থাৎ মৃত্যুর বিষয় এখন চূড়ান্ত। রুহু গোছাদ্বয় থেকে বেরিয়ে গেছে।সে আর পা নাড়াতে পারবেনা।এবং রুহু দেহ থেকে বের হয়ে তারাক্বীতে পৌছে গেছে।
("كَلَّا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ")
‘কখনও না, যখন প্রান কণ্ঠাগত হবে!
অতঃপর আসবে চতুর্থ ধাপ।
এই ধাপের নাম হুলক্বুউম :
মৃত্যুর এটাই শেষ স্তর এবং মানুষের জন্য চূড়ান্ত পর্যায়ের কঠিন স্তর। এই সময় তার চোখেরপর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে।এবং সে চারপাশে উপস্থিত ফেরেশতাদের দেখতে পাবে। এখান থেকেই আখেরাত দর্শনের স্তর শুরু হবে।
فَكَشَفْنَا عَنكَ غِطَاءَكَ فَبَصَرُكَ الْيَوْمَ حَدِيدٌ ﴾ ( سورة - ق)
আমি তোমার সামনে থেকে পরদা সরিয়ে দিয়েছি, এখন তোমার দৃষ্টি প্রখর। (সূরা ক্বফ)
এই স্তরকে হুলক্বুউম নামকরণ করা হয়েছে আল্লাহর কালামের কারনে :
{ فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُوم (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ }
প্রান যখন কণ্ঠাগত হয় তখন তোমরা তাকিয়ে থাক। আর আমি তোমাদের চেয়ে তার নিকটতর। কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাওনা।(সূরা ওয়াকিয়াহ)
ُ আল্লাহ তার চতুর্পাশে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্বোধন করে বলছেন ; তোমরা যেখানে আছো সেও সেখানেই আছে ।সে যা দেখতে পাচ্ছে তোমরা তা দেখতে পাচ্ছ না। হয়তো সে আল্লাহ তাআলার রহমত দেখছে অথবা মাআ'যাল্লাহু আল্লাহর আজাব এবং গজব দেখছে যদি সে পাপী হয়। এজন্যই আপনারা তাকে দেখবেন নির্দিষ্ট একটি জায়গা এবং এক বিন্দুতে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে।
وَنَحْن أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ
অর্থাৎ আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটতর কিন্তু তোমরা তা দেখতে পাও না । মানুষের রুহ কবজ এর সময়টা জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। কেননা তখন সে আল্লাহর সকল প্রতিশ্রুতি ও ভীতি দেখতে পায়। ফেরেশতাদের দেখতে পায়। জীবনে যত আমল করেছে তা চোখের সামনে ভাসতে থাকে। আর এই অবস্থায় মৃত্যুর ফেতনা ঘটে যায়। শয়তান এই ফেতনায় প্রবেশ করে এবং আকিদায় সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। আল্লাহর ব্যাপারে ,নবীর ব্যাপারে ,দ্বীনের ব্যাপারে ও কোরআনের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে তার অন্তরে। এবং সে তার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে থাকে যেন সে কাফের হয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। এইসময় শয়তান নিশ্চিত যে এটা এই মানুষটির শেষ মুহূর্ত এবং মালাকুল মাউত তার নিকটবর্তী ।এইজন্য সে তার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী চূড়ান্ত আঘাত হানতে থাকে। এজন্যই কোরআন আমাদের মৃত্যুর ফেতনা থেকে আল্লাহর আশ্রয় নিতে বলছে :
﴿وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ(۹۷) وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ﴾ (سورة المؤمنون).
আপনি বলুন ;হে আমার রব! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি শয়তানের প্ররোচনা থেকে। এবং আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি তাদের উপস্থিতি থেকে। (সূরা মুমিনুন)
তুমি যদি ইসলাম অনুযায়ী তোমার জীবন পরিচালিত করো এবং তোমার অন্তরে আল্লাহ তার রাসুল এর ভালোবাসা থাকে তাহলে তুমি এই অবস্থায় দুনিয়া থেকে বের হবে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত যখন চলে আসবে তখন শয়তান তার কোন একজন নিকটাত্মীয়ের আকৃতিতে উপস্থিত হবে যিনি আগেই মারা গেছেন। সে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বলবে ; আমি তোমার পূর্বে মারা গিয়েছি । ইসলাম সত্য ধর্ম নয় এবং নবী সত্য দ্বীন নিয়ে আসেননি। এবং অবশ্যই তোমাকে বলবে; তুমি সবকিছু অস্বীকার করো।
এই পরিস্থিতির চিত্র আল্লাহ কোরআনে বর্ণনা করেন;
﴿كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ﴾ ١٦).
তাদের তুলনা হচ্ছে শয়তান যখন সে মানুষকে বলবে তুমি কুফরি করো ।যখন মানুষ কুফরি করবে তখন শয়তান বলবে ; তোমার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই ।আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করি।(সূরা হাশর)
এরপর পঞ্চম ধাপ শুরু হবে !
যেখানে আজরাইল আলাইহিস সালাম প্রবেশ করবে। এই স্তরে মানুষ পরিপূর্ণভাবে বুঝতে পারবে সেকি জান্নাতি না জাহান্নামী। সে তার আমলের ফলাফল দেখবে এবং তার পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই স্তর নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন। বিশেষভাবে যারা বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত ছিল এবং তাওবা না করেই পাহাড় সমূহ পাপ নিয়ে আল্লাহর সাথে মিলিত হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন;:﴿وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا﴾ (
শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা নির্মমভাবে(রুহ) টেনে বের করে।(সূরা নাযিয়াত)
জাহান্নামে একদল ফেরেশতা থাকবে যারা আগুনের কাফন প্রস্তুত করে এবং খুব নির্দয়ভাবে পাপী ব্যক্তির রুহ কবজ করে। আরেকটি আয়াতে এই কঠিন পরিস্থিতির চিত্র বর্ণিত হয়েছে ;
﴿فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ﴾
ফেরেশতারা যখন তাদের মুখমন্ডল এবং পৃষ্ঠদেশে আঘাত করতে করতে তাদের প্রাণ হরণ করবে তখন তাদের কী দশা হবে???(সূরা মোহাম্মদ)
এই ধাপের পর শুরু হবে ষষ্ঠ ধাপ!
এই ধাপে মানুষের রুহ প্রস্তুত হয়ে তারাক্বীর উপর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যাবে। এবং রুহ বের হওয়ার জন্য এবং আজরাইল আলাইহিস সালাম এর নিকট আত্মসমর্পণের জন্য নাকে মুখে অবস্থান করবে। বান্দা যদি পাপীষ্ঠ হয় তখন আজরাইল তাকে বলবে;হে নিকৃষ্ট আত্মা! তুই আগুন ও জাহান্নামের এবং ক্রোধান্বিত ও পপ্রতিশোধপরায়ন রবের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আস। তখন তার আভ্যন্তরীণ চেহারা কালো হয়ে যাবে। এবং চিৎকার করে বলবে ;
﴿رَبِّ ارْجِعُونِ. لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ ۚ﴾
হে আমার রব! আমাকে পুনরায় পাঠান যাতে আমি সৎকাজ করি যা আমি পূর্বে করিনি। (সূরা মুমিনুন)
কারন আমি নেককাজ করতে পারিনি।তখন সে শুনতে পাবে;
﴿كَلَّا ۚ إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا ۖ وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ﴾
না এটা হতে পারেনা। এটা তো তার একটি উক্তিমাত্র। তাদের সামনে বারযাখ থাকবে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত। (সূরা মুমিনুন)
আল্লাহ তা'লা আরও বলেন;
وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ
মৃত্যুযন্ত্রণা অবশ্যই আসবে, যা থেকে তুমি পালাচ্ছিলে।(সুরা ক্বফ)
﴿قُلْ إِنَّ الْمَوْتَ الَّذِي تَفِرُّونَ مِنْهُ فَإِنَّهُ مُلَاقِيكُمْ﴾
আপনি বলুন; যেই মৃত্যু থেকে তোমরা পালায়ন কর সেই মৃত্যুর সাথে তোমাদের সাক্ষাত হবেই। (সূরা জুমআ'হ)
শেষ কথা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হল ;আমরা কেন মৃত্যুকে ভয় পাই?
তিনি উত্তর দিলেন: কারণ তোমরা দুনিয়াকে আবাদ করেছ আর আখেরাতকে বরবাদ করেছ।
যে মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করবে সে আখেরাতের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবে।
فاكثروا من ذكر هادم اللذات
তোমরা সকল স্বাদ কর্তনকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।
যিনি লেখাগুলো লিখেছেন আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন..
24/05/2020
সময়ের সাথে হয়তো এসেছে পরিবর্তন, কিন্তু উদযাপনের ভিন্নতায়ও ভালবাসা থাকবে চির অমলিন। তাই ভালো কাটুক সবার ঈদ। "তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম"
'ঈদ মোবারাক' 🌙
Eid Mubarak.
29/04/2020
যারা ২০১৯ সালে নতুন ভোটার হয়েছেন কিংবা এর আগে ভোটার হয়েছেন কিন্তু এখনও আইডিকার্ড পাননি তাদের জন্য আইডি কার্ড বের করার পদ্ধতি।
১ম ধাপ
এই লিংকে যাবেন। ( https://services.nidw.gov.bd/voter_center) এরপর উপরে ফর্ম নাম্বার সিলেক্ট করবেন। এরপর ভোটার নিবন্ধন ফর্মের স্লিপ নাম্বার লিখা ঘরে স্লিপ নাম্বার দিবেন, জন্মতারিখের ঘরে জন্মতারিখ দিবেন এরপর নিচের ঘরে ক্যাপচা দিবেন (পাশে যেই অক্ষর গুলো আছে সেগুলো পাশের ঘরে লিখে দিবেন হুবহু। বড় হাতের হলে বড়, ছোট হলে ছোট)
এরপর নিবন্ধন তথ্য দেখুন লিখা বাটনে ক্লিক করবেন। সব ঠিক থাকলে নিচে ভোটার তথ্য দেখাবে৷
২য় ধাপ
নিচে তথ্য আসলে সেখান থেকে ভোটার এলাকা নাম্বার লিখা লাল নাম্বারটি কপি করে নিবেন। এরপর রেজিস্টার এ ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে চাই ক্লিক করে এন আইডি নাম্বার লিখা ঘরে লাল নাম্বারটি পেস্ট করে দিবেন, আবার জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা দিয়ে সাবমিট করবেন। এরপর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা দিয়ে পরবর্তী পেইজে যাবেন। এরপর মোবাইল নাম্বার চাইবে ভেরিফিকেশনের জন্য। যেই নাম্বারটি আপনার হাতে রয়েছে সেটা দিবেন এবং তারা সেখানে একটি কোর্ড পাঠাবে সেটি সাবমিট করবেন।
৩য় ধাপ
এরপর আপনাকে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিতে বলবে। এই দুইটি খুবই জরুরি। তাই এগুলো সংরক্ষন করবেন৷ ইউজারের ক্ষেত্রে আপনার নিকন্যামের পাশে কোনো একটি সংখ্যা দিতে পারেন যেটা মনে থাকবে (example: odommo 20) এরপর পাসওয়ার্ড বড় হাতের, ছোট হাতের এবং সংখ্যা মিলিয়ে দিবেন। এরপর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট এ আপনার একাউন্ট প্রস্তুত৷
৪র্থ ধাপ
এবার ইউজার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে নিবেন৷ এরপর আপনার প্রোফাইলটি সো করবে। তার ডানপাশে ডাউনলোড নামে একটি অপশন দেখতে পাবেন৷ সেখানে ক্লিক করে আপনার আইডি কার্ডের পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে নিবেন। পরবর্তীতে সেটি কোনো কম্পিউটার দোকান থেকে বের করে লেমেনোটিং করে নিবেন। এই কার্ডটি দ্বারা আপনি সমস্ত সরকারি কাজ সহ সর্বক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে
ত্রাণ চোরদের সামাজিকভাবে লজ্জা দিতে হবে। 🤬🤬🤬
হুমায়ূন আহমেদ খাঁচার পাখিকে বলতে শিখিয়েছিলেন ‘তুই রাজাকার’। সেটা ছিল এমন এক সময়, যখন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধূসর হয়ে আসতে শুরু করেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, তাদের হাতেই ক্ষমতার দণ্ড। পাখির গলায় ‘তুই রাজাকার’ মন্ত্র শুনে আমরা রাজাকারকে রাজাকার বলার সাহস পেয়েছিলাম।
এখন হুমায়ূন আহমেদ হয়তো আবার কোনো পাখিকে বলতে শেখাতেন ‘তুই চোর’। সে কথা শুনে হয়তো আমরাও চোরকে চোর বলা শিখতাম। বলা বাহুল্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্ত নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণসামগ্রী যেভাবে তছরুপ হচ্ছে, তা দেখেশুনে এমনই মনে হচ্ছে।
ক্ষমতাবান লোকেরা সুযোগ পেলে সরকারি ধন লুটেপুটে খায়। যে কম ক্ষমতাবান, সে পুকুরের মাছ চুরি করে। যে বেশি ক্ষমতাধর, সে পুরো পুকুরটাই গাপ করে দেয়। প্রথমজন ট্রাক থেকে দশ ব্যাগ ত্রাণের চাল সরিয়ে নিজের গুদামে লুকিয়ে রাখে। অন্যজন পুরো ট্রাকটাই ঘুরিয়ে নিজের গ্যারেজে নিয়ে যায়।
এসব জানা থাকা সত্ত্বেও সেই ক্ষমতাবান লোকদের হাতে ত্রাণের সাহায্য তুলে দেওয়া কেন? যুক্তি উঠবে, তঁারা জনপ্রতিনিধি, জনতাই তঁাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু আমরা তো জানি, তাঁদের অধিকাংশের লক্ষ্য জনতার সেবা নয়, নিজের গোলায় ধান তোলা।
জনপ্রতিনিধিদের বাদ দিয়ে যদি সরকারি কর্তাব্যক্তিদের ত্রাণ বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাতেও বিপদ কিছু কম নয়। সরকারি কর্তাব্যক্তি মানে রাজকর্মচারী। রাজার কর্মচারীরা কীভাবে সুযোগ পেলেই রাজার ধন লোপাট করে, তা তো প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে কৌটিল্য বলে গেছেন। ঠোঁটের আগায় যদি মধু তুলে দেওয়া হয়, সে মধু চেটে দেখবে না, এমন সাধু ব্যক্তি ভূ–ভারতে মিলবে না, তিনি সাবধান করেছিলেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুসারে, এই রাজকর্মচারীরা অনেকটা জলে ক্রীড়ারত মৎসে্যর ন্যায়। মৎস্য কখন কতবার ডুবে ডুবে জল খাচ্ছে, সে কথা বোঝা অসম্ভব।
যত দূর জানা যায়, কৌটিল্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ সালে চন্দ্রগুপ্তের রাজসভার মাঝারি গোছের একজন উপদেষ্টা ছিলেন। রাজার উপকার হবে ভেবে তিনি অর্থশাস্ত্র নামে একখানা বই লিখেছিলেন। অত আগের বই, অথচ তার প্রতিটি কথা আজকের দিনে আমাদের দেশে টায় টায় মিলে যায়। কৌটিল্য লিখেছিলেন, এই রাজকর্মচারীদের তূণে কম করে হলেও চল্লিশ রকমের বাণ (অর্থাৎ কুবুদ্ধি) রয়েছে। যেমন ধরুন, তারা মুখে বলবে এক, আর খাতাপত্রে লিখে রাখবে আরেক হিসাব। বাজেট করার সময় আগাম নয়ছয়ের ব্যবস্থা করে রাখবে, বিলিবণ্টনের সময় ওজনে কম দেবে, প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে দাম বাড়িয়ে দেখাবে, ইত্যাদি।
দুর্নীতিবাজদের কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায়, তারও কিছু সবক দিয়ে গিয়েছিলেন কৌটিল্য। তিনি রাজা চন্দ্রগুপ্তকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, প্রতিটি দুর্নীতিবাজকে প্রকাশ্যে দণ্ডদান করতে হবে। লঘু অপরাধের জন্য অর্থদণ্ড, গুরু অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড। দুর্নীতি ঠেকাতে তিনি কঠোর আইন প্রণয়নের পক্ষে কথা বলেছিলেন, সেই আইন যাতে মেনে চলা হয়, তার নিশ্চয়তার জন্য রাজাকে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দিয়েছিলেন।
কৌটিল্যের অধিকাংশ পরামর্শ খুব চমৎকার, কিন্তু সব আজকের দিনে তেমন বাস্তবসম্মত নয়। আইনের কথা ধরুন। আমাদের দেশে আইনের অভাব নেই, সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পক্ষে প্রতিশ্রুতিরও কমতি নেই। কিন্তু শুধু প্রতিশ্রুতিতে যদি চিড়ে ভিজত, তাহলে বাংলাদেশে প্রতিটি নির্বাচন মুক্ত ও স্বচ্ছ হতো, প্রতিটি নাগরিক কথা বলত নির্ভয়ে, প্রশাসন হতো দুর্নীতিমুক্ত।
অন্য কথায়, কৌটিল্য বাবুকে দিয়ে হবে না। এইখানে দরকার একজন হুমায়ূন আহমেদের। ঠাট্টা করছি না, সত্যি বলছি। আমরা যদি পত্রিকায় বা টিভির সন্ধ্যার খবরে ত্রাণ চুরির খবর জানতে পেরে যার যার বৈঠকখানায় নিজেদের মধ্যে গজর গজর না করে রাস্তায় নেমে চোরকে তার প্রকৃত নাম ধরে ডেকে ‘তুই চোর’ বলে পাড়া মাত করতে পারতাম, তাহলে অবস্থা বদলাত।
ধরুন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সাংসদ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার বদলে নিজের গুদামে তুলেছেন। তাঁদের নামধাম গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। তখন আমাদের উচিত হবে চুপচাপ বসে না থেকে তঁাদের মুখোমুখি হওয়া, তঁাদের কাছে ত্রাণসামগ্রীর হিসাব চাওয়া। তিনি আপনাকে গুন্ডা দিয়ে ঠ্যাঙানোর ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ভয় পাবেন না। একা নয়, কয়েকজন একত্রে এগিয়ে আসুন, কাউকে মুখেও কিছু বলতে হবে না। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসুন, তাতে লেখা থাকবে, ‘তুই চোর’। এক দিন নয়, প্রতিদিন সে বাড়ি ঘেরাও করুন। সেই চোর এবং তঁার বাড়ির সবাই যাতে সেই প্ল্যাকার্ড দেখে, স্লোগান শোনে, তা নিশ্চিত করুন। টিভি ক্যামেরার দরকার নেই, সাংবাদিকেরও প্রয়োজন নেই, নিজেরাই ছবি তুলুন, ভিডিও করুন। তারপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করুন।
রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে এর নাম ‘নেমিং অ্যান্ড শেমিং’। অর্থাৎ অপরাধীর নাম ধরে তাঁকে লজ্জা দেওয়া। এই কৌশল বিশেষভাবে কার্যকর যখন ক্ষমতাধরেরা অপরাধীকে শনাক্ত করা ও শাস্তি দেওয়ার বদলে তঁার মাথায় ছাতা ধরে রাখে। মানবাধিকার আন্দোলনের কৌশল হিসেবে নেমিং অ্যান্ড শেমিং পুরোনো বুদ্ধি। মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করার জন্য জাতিসংঘ পর্যন্ত এ কৌশল অবলম্বন করছে। প্যারিসে স্বাক্ষরিত জলবায়ু চুক্তিতে নেমিং অ্যান্ড শেমিং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিকৌশল। একুশ শতকের গোড়ার দিকে বলকান অঞ্চলে নাগরিক অধিকারকর্মীরা আরেক বুদ্ধি বের করেছিলেন। সার্বিয়ার কসাই স্লোবোদান মিলোসেভিচের ছবি এক মস্ত প্লাস্টিকের ফুটবলের ওপর এঁকে সবাইকে আহ্বান করেছিলেন, আসুন, প্রত্যেকে এই ফুটবলে একবার লাথি দিয়ে যান। ওই লাথি খেয়ে আর কিছু না হোক লজ্জায় মুখ কালো হয়েছিল মিলোসেভিচের। এটাও একধরনের নেমিং অ্যান্ড শেমিং। এই বুদ্ধিটাও আমাদের ত্রাণচোরদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
অতএব আসুন, চোরের দিকে আঙুল তুলে বলি, ‘তুই চোর’।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক
#রোজা, ফারসি শব্দ
রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সওম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিকের শুরু থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সহবাস থেকে বিরত থাকা।
২য় হিজরীর শাবান মাসে মদীনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয় “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা সংযমী হও। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)।
সূরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে”।
পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের কিতাবগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। এর ভেতর থেকে কিছু হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো-
প্রিয় নবীজি (সা.) এর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
অপর হাদিসে এসেছে, হযরত শাহ্ ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (সা.) এরশাদ করেছেন, বেহেশতের ৮টি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে ১টি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী, মুসলিম)
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমযান মাসের রাতে এবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারী, মুসলিম)
হাদিসে আরো এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রত্যেকটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢাল স্বরুপ।
তোমাদের কেউ রোজা রেখে অশ্লীল কথাবার্তায় ও ঝগড়া বিবাদে যেন লিপ্ত না হয়।
কেউ তার সঙ্গে গালমন্দ বা ঝগড়া বিবাদ করলে শুধু বলবে, আমি রোজাদার।
সেই মহান সত্তার কসম যার করতলগত মুহাম্মদের জীবন, আল্লাহর কাছে রোজাদারের মুখের গন্ধ কস্তুরীর সুঘ্রানের চেয়েও উওম।
রোজাদারের খুশির বিষয় ২টি- যখন সে ইফতার করে তখন একবার খুশির কারণ হয়। আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে তখন খুশির কারণ হবে। (বুখারী)।
অপর একটি হাদিস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন, রাসুলে পাক (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর কাছে বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, হে পরওয়ারদিগার! আমি তাকে (রমজানের) দিনে পানাহার ও প্রবৃত্তি থেকে বাধা দিয়েছি। সুতরাং তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কোরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা হতে বাধা দিয়েছি।
সুতরাং আমার সুপারিশ তার ব্যাপারে কবুল করুন। অতএব, উভয়ের সুপারিশই কবুল করা হবে (এবং তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে)। (বায়হাকী)
হাদিস শরীফে আরো এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন রমজানের প্রথম রাত আসে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়। দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই খোলা হয় না। বেহেশতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতপর এর কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না।
#এ মাসে এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, হে ভালোর অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে মন্দের অন্বেষণকারী! থামো।
আল্লাহ তায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোযখ থেকে মুক্তি দেন। আর এটা এ মাসের প্রতি রাতেই হয়ে থাকে। (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, যখন রমজান মাস উপস্থিত হতো রাসুল (সা.) সমস্ত কয়েদিকে মুক্তি দিতেন এবং প্রত্যেক প্রার্থনাকারীকে দান করতেন। (বায়হাকী)
হাদিসের বইয়ে আরো পাওয়া যায়, নবী করীম (সা.) বলেছেন, কেউ যদি (রোজা রেখেও) মিথ্যা কথা বলা ও খারাপ কাজ পরিত্যাগ না করে তবে তার শুধু পানাহার ত্যাগ করা (অর্থাৎ উপবাস ও তৃষ্ণার্ত থাকা) আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী)
পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা বেড়ে গেছে আরো বহুগুণ।
রমজানের ফজিলত নিয়ে আরো অনেক হাদিস বিভিন্ন সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে।
হযরত সালমান ফারসী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, একবার রাসুল (সা.) আমাদের শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়া বিস্তার করেছে এক মহান মাস, মোবারক মাস। এটি এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আল্লাহ তায়ালা এই মাসের রোজাগুলোকে করেছেন (তোমাদের ওপর) ফরজ আর রাতে নামাজ পড়াকে তোমাদের জন্য করেছেন নফল।
#এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে ১টি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে ১টি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।
#এটা ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। এটা সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস। এটা সেই মাস যে মাসে মুমিন বান্দার রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
#এ মাসে যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে তা তার জন্য গুনাহ মাফের এবং দোযখের আগুন থেকে মুক্তির কারণ হবে। এছাড়া তার ছওয়াব হবে রোজাদার ব্যক্তির সমান। অথচ রোজাদার ব্যক্তির সওয়াব কমবে না।
এসব শুনে সাহাবীরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তো এমন সামর্থ রাখেনা যে রোজাদারকে (তৃপ্তি সহকারে) ইফতার করাবে? রাসুল (সা.) বললেন, আল্লাহ পাক এই ছওয়াব দান করবেন যে রোজাদারকে ইফতার করায় এক চুমুক দুধ দিয়ে, অথবা একটি খেজুর দিয়ে, অথবা এক চুমুক পানি দিয়ে। আর যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে হাউজে কাউছার থেকে পানি পান করাবেন যার পর সে পুনরায় তৃষ্ণার্ত হবে না জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত।
এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)
প্রিয় নবীর প্রিয় সাহাবী হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরুপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)
সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন, অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতিত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। (নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)
#হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আরো বলেছেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
রমজানের ফজিলত সম্পর্কে বিখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, রমজানের জন্য বেহেশত সাজানো হয় বছরের প্রথম থেকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত। তিনি বলেন, যখন রমজান মাসের প্রথম দিন উপস্থিত হয় বেহেশতের গাছের পাতা হতে আরশের নিচে বড় বড় চোখ বিশিষ্ট হুরদের প্রতি বিশেষ হাওয়া প্রবাহিত হয়। তখন তারা বলে, হে পালনকর্তা! আপনার বান্দাদের মধ্য হতে আমাদের জন্য এমন স্বামী নির্দিষ্ট করুন যাদের দেখে আমাদের চোখ জুড়াবে এবং আমাদের দেখে তাদের চোখ জুড়াবে।
#মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন,।
24/04/2020
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি।
আসসালামুআলাইকুম ,
আশাকরি সকলে ভালো আছেন । সকলকে পবিত্র মাহে রমজানের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
সাহরীর ও ইফতারের সময়সূচী নিচের ছবিতে দেয়া আছে।।।
সকলকে জানানোর জন্য নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করতে পারেন।