07/08/2026
#নিষিদ্ধউপত্যকারআহ্বান
একটি অ্যাডভেঞ্চার-থ্রিলার উপন্যাস
লেখক:মোহাম্মদ তৌহিদ ইসলাম ( MD Touhid Islam )
#পর্ব-১
(নিষিদ্ধ চিঠি)
রাত ২টা ১৭ মিনিট।
ঢাকার আকাশে মেঘ জমেছে। দূরে বিদ্যুতের ঝলকানি, আর মাঝেমধ্যে বজ্রের গর্জনে কেঁপে উঠছে চারপাশ। পুরোনো একটি দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছোট্ট একটি ঘরে জ্বলছে কেবল একটি টেবিল ল্যাম্প।
ঘরের দেয়ালজুড়ে ঝুলছে বিশ্বের নানা দেশের মানচিত্র, পাহাড়ের ছবি, অজানা গুহার স্কেচ এবং পুরোনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ফ্রেম। বুকশেলফে সারি সারি বই—ইতিহাস, ভূগোল, প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া নগরী আর অমীমাংসিত রহস্য।
টেবিলের সামনে বসে আছে চব্বিশ বছরের তরুণ আরিয়ান তানভীর ।
ছয় মাস আগে একটি অভিযানে নিখোঁজ হয়েছিলেন তাঁর বাবা, বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ড. তানভীর রহমান। সরকারি অনুসন্ধান শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সবাই ধরে নিয়েছে তিনি আর বেঁচে নেই।
কিন্তু আরিয়ান কখনো তা বিশ্বাস করেনি।
তার বিশ্বাস—কোথাও না কোথাও তাঁর বাবা এখনও বেঁচে আছেন।
ঠিক তখনই...
ঠক!
মনে হলো কেউ যেন দরজার সামনে কিছু ফেলল।
আরিয়ান ধীরে ধীরে উঠে দরজা খুলল।
বাইরে কেউ নেই।
শুধু মেঝেতে পড়ে আছে একটি কালো রঙের খাম।
খামটির ওপর কোনো প্রেরকের নাম নেই। নেই ডাক বিভাগের কোনো সিলও।
শুধু সোনালি অক্ষরে লেখা—
”ড. তানভীর রহমানের উত্তরাধিকারীর জন্য।“
আরিয়ানের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
সে ধীরে ধীরে খামটি খুলল।
ভেতরে ছিল একটি হলদে কাগজ, একটি মরিচা ধরা ধাতব চাবি এবং একটি অদ্ভুত প্রতীক আঁকা ছোট্ট ধাতব মুদ্রা।
কাগজটিতে লেখা—
”যদি সত্য জানতে চাও, সাত দিনের মধ্যে কালো পাহাড়ে পৌঁছাও। সেখানে লুকিয়ে আছে এমন একটি দরজা, যা শত বছর ধরে কেউ খুলতে পারেনি। তোমার বাবাও সেই দরজার খোঁজেই গিয়েছিলেন। একা এসো। কাউকে বিশ্বাস করো না।“
চিঠির নিচে কোনো নাম নেই।
হঠাৎ পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।
বিদ্যুৎ চলে গেছে।
বাইরে প্রবল ঝড় শুরু হয়েছে।
এক ঝলক বিদ্যুতের আলো ঘরটিকে আলোকিত করতেই আরিয়ান দেখতে পেল—
তার জানালার ওপারে একটি কালো পোশাক পরা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
লোকটি ধীরে ধীরে নিজের ডান হাত তুলে একটি ইশারা করল।
তারপর...
মুহূর্তের মধ্যে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
আরিয়ান ছুটে জানালার কাছে গেল।
নিচের রাস্তা সম্পূর্ণ ফাঁকা।
কেউ নেই।
শুধু ভেজা রাস্তায় পড়ে আছে একটি কালো পালক।
সে পালকটি হাতে তুলে নিতেই বুঝতে পারল—
এটি সাধারণ কোনো পাখির পালক নয়।
এর নিচে সূক্ষ্মভাবে খোদাই করা রয়েছে ঠিক সেই প্রতীকটি, যা চিঠির সঙ্গে পাওয়া ধাতব মুদ্রায় ছিল।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল,
“বাবা... তুমি কি সত্যিই বেঁচে আছ?”
তার অজান্তেই, বাড়ির সামনের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কালো গাড়ির ভেতর থেকে কেউ দূরবীন দিয়ে তাকে দেখছিল।
লোকটি মোবাইল ফোন কানে নিয়ে ধীরে বলল—
“স্যার... সে চিঠি পেয়েছে।“
ফোনের ওপাশ থেকে মাত্র একটি উত্তর এলো—
”তাহলে খেলা শুরু হোক।“
~ অধ্যায় ১ সমাপ্ত
পরবর্তী অধ্যায়: (হারিয়ে যাওয়া মানচিত্র)
পরবর্তী পর্ব পড়তে ফলো 👇🏻দিয়ে যুক্ত থাকুন।
TAC publications
Touhid Academic Care