খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলাধীন ১নং আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের অন্তর্গত আটরা গিলাতলা শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় উপজেলার একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি MPO ভুক্ত বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়।এর MPO ইনডেক্স নং-৬০০৮০৩১৩০২, EIIN-১১৭৩৩৫, যশোর শিক্ষাবোর্ডে স্কুলকোড-৩৮৭৯।
অত্যন্ত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ বিদ্যালয়টির উত্তর-পূর্ব পাশে প্রবাহিত হচ্ছে ভৈরব নদী, পশ্চিমে খ
ুলনা-যশোর মহাসড়ক, উত্তরে আফিল জুট মিলস্ লিঃএবং দক্ষিণে জাহানাবাদ ক্যাণ্টনমেন্ট অবস্থিত। বিদ্যালয়্টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত ৫ টি শ্রেণীতে অতিরিক্ত খ শাখা বিদ্যমান যা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত। মাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগ চালু আছে। তা ছাড়া কৃষি শিক্ষা ও কম্পিউটার শিক্ষা বিষয়ের অনুমোদন ও চালু রয়েছে।
বিদ্যালয়টির পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক এবং শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীতে এর সুনাম রয়েছে।
ইতিহাসঃ খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলাধীন আটরা একটি ছোট্ট গ্রাম। গ্রামের উত্তর পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ভৈরব নদী। একসময়ে এ গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। অধিকাংশ লোকই ছিল শিক্ষিত এবং ধনী। এখানকার নামকরা একজন আইনজীবী বিশ্বনাথ নন্দী বাবু চাইলেন এলাকায় শিক্ষা বিস্তার করতে। তাই প্রথমে নিজের জমির উপর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। আর তার নামকরন করেন তার স্বর্গীয় পিতা শ্রীনাথ বাবুর নামানুসারে আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়টিতে গত ০১/০১/১৯৪২ তারিখ হতে এম, ই স্কুল হিসাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হত। তখন থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকেন বাবু প্রফুল্ল কুমার চক্রবর্তী। বিদ্যালয়ের সকল ব্যয় ভার বহন করতেন এডভোকেট বাবু বিশ্বনাথ নন্দী। তিনি ছিলেন খুলনা উকিল বারের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন নামকরা উকিল। দেশ বিভাগের পর অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ভারতে গমন করেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের গতি বেশ মন্থর হয়ে পড়ে।এর মাঝে বিশ্বনাথ নন্দী বাবু পরলোক গমন করেন এবং তার বংশের লোকজন ভারতে চলে যান। যার ফলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও কমে যায়। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার ঐ আটরা গ্রামের হিন্দু প্রধান এলাকা হুকুম দখল করে আফিল জুট মিলস্ লিঃ স্থাপন করেন। নামমাত্র মূল্য দিয়ে এ সকল জমি অধিগ্রহন করেন। ঠিক সেই সময় পার্শ্ববর্তী আটরা, গিলাতলা এবং মাত্তমডাঙা গ্রামের বেশ কিছু শিক্ষানুরাগী লোক এলাকায় একটি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। এর মধ্যে সর্বাগ্রে যাদের নাম উল্লেখ করতে হয় তারা হলেন বেগ আঃ হাকিম, সৈয়দ শমশের আলী, ডাঃ এবাদুল্লাহ, সরদার সফিউদ্দীন,মিনা সামছুর রহমান, শেখ হাবিবুর রহমান, সরদার আঃ মজিদ, সৈয়দ বজলুর রহমান, সৈয়দ আঃ মতলেব, বেগ আতিয়ার রহমান প্রমূখ। তখন বিদ্যালয়ের সরকারী স্বীকৃতি পাওয়া বেশ কঠিন ছিল। সেই সময় ডি, ডি, পি আই অফিস ছিল বরিশালে। উক্ত শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গ আটরা শ্রীনাথ এম, ই স্কুলের সকল কাগজপত্র নিয়ে আটরা, গিলাতলা, মাত্তমডাঙা এই তিন গ্রামের মিলনস্থলে যেখানে আটরা গিলাতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত তার পূর্ব পাশেই স্থাপনের ব্যবস্থা করেন। আর এই বিদ্যালয় এবং খেলার মাঠের জন্য জমি দান করেন মরহুম বেগ আঃ হাকিম এবং মরহুম সৈয়দ শমশের আলী। মাত্র ৩০-৩৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পুরাতন স্কুলটি আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করে। তখন ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত খোলা হয়।প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বে থাকেন সৈয়দ আঃ কাবেজ। তখন কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া ছেলে খান সফি আহমেদ, শেখ গোলাম সরওয়ার, মজিবর রহমান, প্রহলাদ চন্দ্র মজুমদার শিক্ষকতা করতে থাকেন। এরপর একে একে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকেন প্রফেসর শেখ সাখাওয়াত হোসেন, বাবু অচিন্ত কুমার ভৌমিক, পীরজাদা মোঃ গোলাম কিবরিয়া এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তান আমলে শেষ প্রধান শিক্ষক গোলাম রহমান সাহেব। এ সময় ৯ম ও ১০ম শ্রেণী খোলা হয় এবং ছাত্রছাত্রীরা অন্য স্কুলের মাধ্যমে এস, এস, সি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়। পাশের হার ছিল ১০০%।
এলো স্বাধীনতা সংগ্রাম। দেশ স্বাধীন হলো। পরবর্তীতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং প্রফেসর মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, বাবু শৈলেন্দ্র নাথ ঘোষ এবং সরদার মুনজীর আহমেদ পর্যায়ক্রমে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়টি যশোর শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ০১/০১/১৯৫৯ খ্রিঃ তারিখ হইতে নিম্ন মাধ্যমিক এবং ০১-০১-১৯৮৪ খ্রিঃ হইতে আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে একটি সুদক্ষ পরিচালনা কমটি কর্তৃক বিদ্যালয়টি পরিচালিত যার সভাপতি হলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী জনাব আলহাজ্ব বেগ আব্দুর রাজ্জাক এবং প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব জনাব মোঃ মহসিন বিশ্বাস। বিদ্যালয়টি ক্রমাগত উন্নতি লাভ করছে এবং এটি একটি বিরাট সম্ভাবনাময় আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে অদূর ভবিষ্যতে সর্বজন মহলে সমাদৃত হবে।