১৯৬৩ সালে সৈয়দপুরের ছাত্ররা যারা অন্যান্য স্কুলে পড়াশুনা করত তারা উপলব্ধি করে, সৈয়দপুরে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এই উদ্দেশ্যে তারা সৈয়দ আব্দুল মালিক সাহেবসহ চিন্তাভাবনা করতে থাকে। পরে সৈয়দ আব্দুল মালিক, সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফখরুল, মোঃ আব্দুল খালিক ও সৈয়দ তৈমুস আলী সাহেবের সহযোগীতায় স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চলতে থাকে এবং ফলশ্রুতিতে ১৯৬৩ সালের ১৩ই এপ্রিল স্কুল সৈয়দ আজমল আলী সাহেবের বাংলায় স্কুলটি জুনিয়র হাইস্কুল হিসাবে আরম্ভ করা হয়। স্কুলটি চালু করার সময় কোন আর্থিক সাহায্য নেওয়াহয় নাই। উক্ত চার ব্যক্তি বিনা বেতনে স্কুলে শিক্ষকতা আরম্ভ করেন। প্রথম দিকে শুধু ছাত্রদের বেতন এবং কিছুদিন পরে একটাকা করে মাসিক চাঁদা দিয়ে স্কুলটির যাবতীয় খরচ বহন করা হয়। স্কুল চালু হওয়ার কয়েকমাস পর মৌলভী সৈয়দ শফিকুল হক, পাইলগাও হাইস্কুলে চাকরী ছেড়ে দিয়ে সৈয়দপুর জুনিয়র হাইস্কুলে (বর্তমান সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে) যোগদান করেন। এবং স্কুল গঠনে এক বিশেষ অবদান রাখেন। স্কুলটির প্রতিষ্টা লগ্ন থেকে সৈয়দ আব্দুল মান্নান মাস্টার সাহেব সকল প্রকার সহযোগিতা করতে থাকেন। স্কুলটির প্রথম প্রতিষ্টাতা হেডমাস্টার সৈয়দ আব্দুল মালিক। সৈয়দ আব্দুল মান্নান মাস্টার সাহেব ছিলেন স্কুল কমিটির প্রথম সেক্রেটারি।
স্কুলটি পরে চৌধুরী বাড়ি থেকে বর্তমান স্থানে স্থাপিত হয়। হাইস্কুলের যায়গা ঠিক করেন ডঃ মোঃ আখলাকুর রহমান ও সৈয়দ আরজুমন্দ আলী সাহেব। জন্মলগ্ন থেকে হাইস্কুলটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করতে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম সৈয়দ আরজুমন্দ আলী যিনি সর্বদা সর্বান্তকরণে চেয়েছেন স্কুলটির উন্নতি করতে। স্কুলটির উন্নতির পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সৈয়দ মুজিবুর রহমানের প্রচেষ্টায় স্কুলটি সরকারী অনুদান ও সকল প্রকার সাহায্য পেতে থাকে। ডঃ সৈয়দ মহিউদ্দিন সাহেব একমাত্র ব্যক্তি যিনি হাইস্কুলে জমিদান করেছিলেন।
হাইস্কুলটির বর্তমান বিল্ডিং তৈরি করা হয় প্রবাসী গ্রামবাসীদের টাকায়। পরিশেষে এটাই বলতে হয় যে হাইস্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা সত্যিকার অর্থে তখন ঐ স্কুলে পড়াশুনা করত তারাই। মূলতঃ তাঁদের উদ্যোগকে সম্বল করে সৈয়দ আব্দুল মালিক, সৈয়দ আমিরুল ইসলাম ফখরুল, মোঃ আব্দুল খালিক ও সৈয়দ তৈমুস আলী স্কুল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। বর্তমানে পাইলট স্কীমের অধীনে নেয়া সিলেট বিভাগের অন্যতম স্কুল এটি।