Online School

Online School

Share

We feel "Online School" is more useful in various field of education. We are trying of our best to d

04/11/2024

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ডেলিগেট মনোনয়ন হলো প্রাথমিক প্রক্রিয়া। এটি প্রাথমিকভাবে প্রাইমারি, ককাস, এবং দলীয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হয়। মনোনয়নের এই প্রক্রিয়াটি দল এবং রাজ্যের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে।
বেশিরভাগ ডেলিগেট মনোনীত হন রাজ্য-স্তরের প্রাইমারি এবং ককাস নির্বাচনের মাধ্যমে। এই নির্বাচনগুলোতে সাধারণ জনগণ ভোট দেন এবং প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থনে নির্দিষ্ট সংখ্যক ডেলিগেট মনোনীত হয়। ডেলিগেট সদস্য দুই রকম-
বাধ্যতামূলক ও অনাবদ্ধ ডেলিগেট। বাধ্যতামূলক ডেলিগেট প্রাইমারি ও ককাসের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নির্বাচিত হন এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন দিতে বাধ্য থাকেন। অনাবদ্ধ ডেলিগেট বা সুপারডেলিগেট সাধারণত পার্টিতে কিছু উচ্চপদস্থ সদস্য যেমন গভর্নর, সিনেটর, এবং কংগ্রেস দ্বারা নির্বাচিত হন, যারা প্রার্থীর প্রতি বাধ্য নন। তারা স্বাধীনভাবে নির্দিষ্ট দলের যে কোনও প্রার্থীকে সমর্থন করতে পারেন।

এছাড়াও প্রতিটি দল তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ডেলিগেটদের মনোনীত করে। কিছু রাজ্যে দলীয় কমিটি বা কাউন্সিলরা ডেলিগেট মনোনয়ন দেয়, যা পার্টির নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়ায়, বিভিন্ন রাজ্যে ডেলিগেটের সংখ্যা দলের নিয়ম, জনসংখ্যা, এবং দলের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের জন্য সর্বাধিক ডেলিগেট সংখ্যা প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা সাধারণত ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় রাজ্যের জন্য বরাদ্দ থাকে।
ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বাধিক ডেলিগেট থাকে। উদাহরণস্বরূপ ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য ৪৯৫ জন বাধ্যতামূলক ডেলিগেট সদস্য আছে, যা অন্যান্য ছোট রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমগ্র কনভেনশনে প্রায় ৪,৫৬৩ ডেলিগেট আছে।
রিপাবলিকান পার্টিতে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড় রাজ্যে প্রায় ১৬৯ ডেলিগেট থাকে। রিপাবলিকান পার্টির সমগ্র কনভেনশনে প্রায় ২,৪২৯ ডেলিগেট থাকে।
তবে ডেলিগেটের সংখ্যা নিয়মিতভাবে পরিবর্তিত হয়, কারণ জনসংখ্যা পরিবর্তন এবং নির্বাচনী বিধিতে কিছুটা হেরফের হতে পারে। তবে প্রতি রাজ্যে ন্যূনতম ডেলিগেট সংখ্যা ৩।
সাধারণত পার্টি কনভেনশনের ডেলিগেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাসের প্রথম মঙ্গলবার পর্যন্ত। মার্চ মাসের প্রথম মঙ্গলবারকে 'সুপার টুইসডে' বলা হয়।

জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এই ডেলিগেটরা পার্টি কনভেশনে বসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য প্রার্থী মনোনীত করেন। তারাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ইলেকটর মনোনীত করেন, যাদের সরাসরি ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। এইসব ইলেকটরের ভোটকে বলে ইলেকটোরাল ভোট। দুই দলের( ডেমোক্রট ও রিপাবলিকান) সর্বমোট ৫৩৮ টি ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে গঠিত হয় ইলেকটোরাল কলেজ। এই ইলেকটোরাল কলেজে যে প্রার্থী ২৭০ বা তার বেশি ইলেকটোরাল ভোট পাবেন তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
বলে রাখা ভালো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় নভেম্বর মাসের প্রথম সোমবারের পরের মঙ্গলবারে। যদিও ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে যায়, ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে থেকেই। ভোট গ্রহণের এই আগাম প্রক্রিয়া দুই ভাবে হয়ে থাকে। একটি হলো আর্লি ভোটিং প্রক্রিয়া, অন্যটি হলো মেইল ইন ভোটিং প্রক্রিয়া। তবে মঙ্গলবারের পরে আর কোনো ভোটারের ভোট গ্রহণ হয় না।
৫০ টি রাজ্যের প্রত্যেকটিতে ইলেকটরের সংখ্যা সমান নয়। যেমন সবচেয়ে বড় রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৫ হলেও ফ্লোরিডায় হলো ৩০ টি এবং সবচেয়ে ছোট রাজ্য ওয়াইওমিং এ আছে মাত্র ৩ টি ইলেকটোরাল ভোট। এভাবে ৫০ টি রাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৫ টি। বাকি তিনটি ইলেকটোরাল নির্ধারণ করা আছে ওয়াশিংটন ডিসির জন্য। তবে ডিসি থেকে কোনো প্রতিনিধি ( সিনেট বা হাউস ) কংগ্রেসে যায় না। তারা শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
বেশিরভাগ রাজ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে “উইনার-টেক-অল” পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতিতে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটারের ভোট যে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পায়, তিনি ঐ রাজ্যের সকল ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। যেমন- একটি রাজ্যে ইলেকটোরাল ভোট আছে ৫৫ টি এবং ভোটার আছে ২ কোটি ২০ লক্ষ, একজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী পেল ১ কোটি ১০ লক্ষ ২০০ ভোট এবং অনজন অর্ধেকের সামান্য কম ভোট পেল। মজার বিষয় হলো যে প্রার্থী মাত্র ২০০ ভোট বেশি পেলো সে ঐ রাজ্যের সমস্ত ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে যান। অর্থাৎ কোনো দলের পার্টি কনভেনশনে ডেলিগেটরা যাদেরকে ইলেক্টর হিসেবে মনোনীত করেছিলেন তারা সবাই নির্বাচিত হয়ে গেলো। অন্য দিকে যে দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মাত্র ২০০ ভোট কম পেলো তিনি একটি ইলেকটোরালও পেলেন না। অনেক ক্ষেত্রে যিনি নির্বাচিত হন তিনি পরাজিত প্রার্থীর তুলনায় লক্ষ ভোট কম পেয়েও প্রেসিডেন্ট হয়ে যান।

শুধুমাত্র মেইন এবং নেব্রাস্কাতে ভিন্ন পদ্ধতি আছে, মেইনের মোট ৪টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এখানে ২টি ইলেকটোরাল ভোট রাজ্যের সাধারণ বিজয়ী প্রার্থীকে দেওয়া হয় এবং বাকি ২টি ইলেকটোরাল ভোট ২টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করা হয়।
উদাহরণ: যদি একটি ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাট এবং অন্যটিতে রিপাবলিকান প্রার্থী জয়লাভ করে, তবে দুজনেই একটি করে ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন।
নেব্রাস্কা: নেব্রাস্কার মোট ৫টি ইলেকটোরাল ভোট রয়েছে। এর মধ্যে ২টি ভোট পুরো রাজ্যে জনপ্রিয় ভোটে বিজয়ী প্রার্থীকে দেওয়া হয় এবং বাকি ৩টি ইলেকটোরাল ভোট রাজ্যের ৩টি কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিজয়ীদের মধ্যে ভাগ করা হয়।
উদাহরণ: ৩টি ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে যদি ২টি ডিস্ট্রিক্টে একজন প্রার্থী এবং অপরটিতে অন্য প্রার্থী জয়লাভ করেন, তবে উভয় প্রার্থীই কিছু ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন।

সুইং স্টেট বা ব্যাটলগ্রাউন্ড স্টেটগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এমন কিছু রাজ্য যেখানে নির্বাচনী ফলাফল সাধারণত অনিশ্চিত থাকে এবং উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা জয়লাভের ভালো সম্ভাবনা রাখে। এই রাজ্যগুলোর জনপ্রিয় ভোটে খুব সামান্য ব্যবধানেই ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এই রাজ্যগুলোর ইলেকটোরাল ভোট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলে।
নির্বাচনের প্রতি চক্রে সুইং স্টেটের তালিকা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাধারণত নিম্নলিখিত রাজ্যগুলো সুইং স্টেট হিসেবে বিবেচিত হয়:

ফ্লোরিডা (Florida) - ২৯টি ইলেকটোরাল, পেনসিলভেনিয়া (Pennsylvania) - ২০টি, মিশিগান (Michigan) - ১৬টি, ওহাইও (Ohio) - ১৮টি, উইসকনসিন (Wisconsin) - ১০টি,
নর্থ ক্যারোলাইনা (North Carolina) - ১৫টি, আরিজোনা (Arizona) - ১১টি, জর্জিয়া (Georgia) - ১৬টি, নেভাডা (Nevada) - ৬টি ইলেকটোরাল ভোট আছে।

সুইং স্টেটগুলো প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সুইং স্টেটগুলোর ইলেকটোরাল ভোট বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এদের সম্মিলিত ইলেকটোরাল ভোট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। বলা হয়ে থাকে এই রাজ্যগুলোর ভোটাররা নাকি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলকে সবসময় সমর্থন করেন না। উদাহরণস্বরূপ, ফ্লোরিডার মতো বড় রাজ্যে জয়লাভ করা যেকোনো প্রার্থীর জন্য জয়ের পথে এক ধাপ এগিয়ে থাকা বোঝায়। নির্বাচনী প্রচারণা এবং প্রচুর অর্থও এই রাজ্যগুলোর ভোটারদের জন্য ব্যয় হয়, কারণ এদের ভোটগুলো প্রায়ই নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করে।

নির্বাচনের পর নির্দিষ্ট দল থেকে মনোনীত ইলেকটরগণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বরের দ্বিতীয় বুধবারের পরের সোমবারে ইলেকটোরাল কলেজে ভোট প্রদান করেন। এই ভোট গণনা হয় জানুয়ারি মাসের ৬ তারিখে এবং বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। জানুয়ারির ২০ তারিখে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী শপথ গ্রহণ করেন।
মার্কিনিদের জন্য শুভ কামনা।

29/06/2024

Drawing by ........

মোলারিটি | মোলালিটি | নরমালিটি । গাণিতিক সমস্যার সমাধান | molar concentration | এককের পরিবর্তন । 03/02/2024

https://youtu.be/S-ZlFKg-Qew?si=Bh1Cs_CN_bPQQ7aJ

মোলারিটি | মোলালিটি | নরমালিটি । গাণিতিক সমস্যার সমাধান | molar concentration | এককের পরিবর্তন । **** ২০০ গ্রাম Ethanol - এ ০.৫ মোল Glucose মিশ্রিত করলে যে দ্রবণ তৈরি হয় , সেই দ্বমোলারিটি, মোলালিট ও নরমালিটি নির্ণয় কর।**** ৩০০ গ্র....

মোলারিটি | মোলালিটি | নরমালিটি । গাণিতিক সমস্যার সমাধান | molar concentration | এককের পরিবর্তন । 03/02/2024

https://youtu.be/Jv3SJ4psCIc?si=uO3P4J0O91B9GTuA

মোলারিটি | মোলালিটি | নরমালিটি । গাণিতিক সমস্যার সমাধান | molar concentration | এককের পরিবর্তন । **** ৩০০ গ্রাম পানিতে ০.৩ মোল NaCl মিশ্রিত করলে যে দ্রবণ তৈরি হয় , সেই দ্রবণের মোলারিটি, মোলালিট ও নরমালিটি নির্ণয় কর।**** ২.....

পরমানু, অনু বা আয়নের মোল সংখ্যার সাথে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার সম্পর্ক কী ? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ 03/02/2024

https://youtu.be/tk3ArS-QziI?si=MZiS2JJYywPUjiVw

পরমানু, অনু বা আয়নের মোল সংখ্যার সাথে অ্যাভোগাড্রো সংখ্যার সম্পর্ক কী ? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ ১/ পরমানু, অনু বা আয়নের গ্রাম পারমানবিক, গ্রাম আনবিক বা গ্রাম আয়নিক ভরে কতটি পরমানু, অনু বা আয়ন থাকে ।২/ পরমানু, অনু ব.....

মোলার দ্রবণ | সেমি মোলার দ্রবণ | ডেসি মোলার দ্রবণ | সেন্টি মোলার দ্রবণ | মিলি মোলার দ্রবণ | solution 03/02/2024

https://youtu.be/qfq3UUO0kFs?si=krw70XHtHcaMHAPI

মোলার দ্রবণ | সেমি মোলার দ্রবণ | ডেসি মোলার দ্রবণ | সেন্টি মোলার দ্রবণ | মিলি মোলার দ্রবণ | solution ১/ মোলার দ্রবণ, সেমি মোলার দ্রবণ, ডেসি মোলার দ্রবণ, সেন্টি মোলার দ্রবণ ও মিলি মোলার দ্রবণের সংজ্ঞাসহ উদাহরণ।নির্দি...

মোলারিটি | মোলালিটি | ডেসি মোলার দ্রবণ | নরমালিটি । মোলার দ্রবণ | molar concentration | molarity | 03/02/2024

https://youtu.be/Ql-BiLD0AEk?si=p6b2llAxKNOlr116

মোলারিটি | মোলালিটি | ডেসি মোলার দ্রবণ | নরমালিটি । মোলার দ্রবণ | molar concentration | molarity | ++++ মোলারিটি, মোলালিট, নরমালিটি সংজ্ঞাসহ উদাহরণ।++++ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো পদার্থের এক লিটার দ্রবণে কি পরিমান দ.....

Photos from Online School's post 02/12/2023

---- matholympiad ----

20/01/2023

ভ্রান্ত জগতের দৃষ্টিভ্রম মানুষ। (ক)
চলমান বিশ্বে চলমান বস্তু। জন্ম থেকে যাত্রা শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছার পর জীবনের আপেক্ষিক সমাপ্তি ঘটে। সৃষ্টি জগতের কোনো সৃষ্টি জানে না তার পরম যাত্রার শুরু কোথায় কবে হয়েছিলো কিংবা এই পরম যাত্রার শেষ কবে হবে! কোনো জীবনই বিরামহীন না চলে সকালে, বিকালে, সন্ধ্যা কিংবা রাতে নির্দিষ্ট বিরতিতে তার পথ অতিক্রম করছে পরম গন্তব্যের দিকে। কেউ আগে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে কেউবা পরে। প্রতিটি সৃষ্টি মনে করে সকালে বের হয়ে নির্দিষ্ট স্থান থেকে কাজকর্ম শেষে পুনরায় আবার পূর্বের স্থানে ফিরে আসছে। যদি এমন হয় যে, এই জগতের প্রতিটি সৃষ্টি প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন স্থান ভ্রমণ করছে এবং একবার যেই স্থানটি পরিদর্শন করেছে পুনরায় সেই স্থানটি আর কোনো দিন পরিদর্শন করেনা!
তখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, আমি সকালে পরিবার পরিজনকে বাসায় রেখে এসে কাজকর্ম করে বাসায় ফিরলে আবার সেই একই পরিবার পরিজনকে দেখতে পাই। সেই সাথে মায়া মহব্বতের কমতি থাকে না। তাহলে উপরের তথ্যানুযায়ী এমনটি হওয়ার কথা না, অর্থাৎ আমি পরিবারের লোকজনদেরকে চিনতামনা কিংবা তারা আমাকে চিনতনা।
যদি এমন হয় যে, এই জাগতিক জগতের সৃষ্টির রহস্য দুই রকম - ১/ জটিল প্রক্রিয়ার সহজ পদ্ধতি ২/ সজহ প্রক্রিয়ার সহজ পদ্ধতি।
আমি দিতীয়টা সম্পর্কে বলতে চাই। এমন যদি হয় জগতটাই কপি পেস্টের মাধ্যমে তৈরি! আমার চলার পথটাকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, আমার যাত্রাপথে যেখানেই বিরতি নিই সেখানেই আমার পরিবারের অবিকল পরিবার আমাকে অভ্যর্থনা কিংবা সেবা করার জন্য সৃষ্টির উষালগ্ন থেকে আজন্ম সেখানে নিয়োজিত থাকবে অথবা থাকছে! [উদাহরণ হিসেবে তড়িৎচৌম্বকীয় তড়ঙ্গের বা আলোর গতিপথের পরিবর্তনের ফলে যে তড়ঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিবর্তন হয়, সেই সাথে আলোর দৃশ্যমান অবস্থার পরিবর্তন হয়(পর্যায়ক্রমে বেগুনী থেকে লাল রঙ এর সৃষ্টি হয়)। অর্থাৎ আলোর দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্যমান অবস্থার পরিবর্তন হয়।]
আমার পূর্বে যারা এই পথে যাত্রা করেছে তারা সবাই এই পরিবারগুলোর সেবা পেয়েছে। অথবা ভবিষ্যতে যারাই এই পথে যাত্রা করবে তারাও তাদের সেবায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। একটা বিষয় খেয়াল করলে পরিলক্ষিত হয় যে, মানুষ কিংবা যেকোনো প্রাণির স্মৃতিভ্রম ঘটে অথবা দৃষ্টিভ্রম ঘটে। এমন অনেক স্মৃতি মস্তিষ্কে ঘোরপাক খায় যা বর্তমান জীবনে একজন কখনো করেননি কিংবা এই ঘটনার সম্মুখিন হননি।
কি অদ্ভুদ বিষয়! কথাবার্তা, আকার-আকৃতি, আচার আচরণ, আহার, বয়স ইত্যাদি সবকিছু নতুন! তবুও মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারেনা যে, তার স্মৃতিভ্রম হচ্ছে! 'আর বুঝার জন্য পরিবেষের যে পরিবর্তন প্রয়োজন ছিলো তার সামান্য পরিমান পরিবর্তন হলেতো সে বুঝবে'। এখন প্রশ্ন আসতে পারে একটি প্রাণির যাত্রা পথের দৈর্ঘ্য কত? উত্তরে বলা যেতে পারে ৬০ থেকে ১০০ বছর। আর যদি বলা হয় একটি আত্মার দৈর্ঘ্য কত? উত্তরে বলা যেতে পারে অসীম অফুরন্ত।
অসীম অফুরন্ত এই জন্য বলেছি শক্তির সৃষ্টি বা বিনাশ নেই, এক রুপ থেকে অন্যরুপ ধারণ করে মাত্র। আর আত্মা হলো এক প্রকার শক্তি। আমরা জানি শক্তি সর্বদাই কোনো না কোনো কাজে ব্যাস্ত থাকে। সে যখন চলমান থাকে তখন হয় সম্মুখ দিকে সরলরেখায় চলতে চেষ্টা করে নতুবা পশ্চাতদিকে সরলরেখায় চলতে চেষ্টা করে। তবে বাহ্যিক বলের প্রভাবে তার গতি পথের পরিবর্তন হতে পারে।

ধরুন একটি আত্মার অনেকগুলো রুপ থাকে। এই রূপগুলোর মধ্যে একটি হলো মৌলিক। অন্যগুলো তার প্যারালাল বা সিরিজ প্রক্রিয়ায় সজ্জিত। এই আত্মাগুলোর এক রূপ থেকে অন্যরূপের দূরত্ব হয়তো আলোক বর্ষ বা কয়েক আলোক বর্ষ কিংবা কোটি কোটি আলোক বর্ষ! প্রাণির যাত্রা পথের দৈর্ঘ্য হলো আপেক্ষিক আর আত্মার যাত্রা পথের যে দৈর্ঘ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো পরম।
এই লেখার মূল বিষয়বস্তু হলো, মানুষ নামক প্রাণি অথবা অন্য সকল বস্তু সম্মুখ অথবা পশ্চাতে চলমান। সেটি নির্দিষ্ট বিরতিতে চলমান। সেটি পশ্চাতে চলমান হলে পুনরায় সামনের দিকে ফিরে আসেনা আর সম্মুখে চলমান হলে সে পুনরায় পিছনে ফিরে আসেনা। অর্থাৎ, একবার যে প্রাণি বা বস্তুর সাথে যার দেখা হয় সে দ্বিতীয়বার তার সাথে দেখা করতে পারে না। আপেক্ষিকভাবে সে যে পরিবার পরিজনের সাথে দেখা সাক্ষাৎ কিংবা মায়া-মহব্বতের আদান-প্রদান করে তারা হলো পরম অস্তিত্বের সমান্তরাল অস্তিত্ব। আপনি ভেবে চিন্তে বলতে পারেন এই ধরার সবাই ভ্রান্ত? হ্যা, "আবার ভেবে দেখুন সবাই ভ্রান্ত কিনা।"
মানুষ মানুষকে ভালোবাসে। তবে প্রতিদিন অচেনা অজানা নতুন নতুন মানুষকে ভালোবাসে। এখানে আমার হয়তো সামান্য ভুল হয়েছে। ভুল হয়েছে এখানে, আমি অচেনা অজানা শব্দ ব্যবহার করেছি। যদি বিষয়টি এমন হয় যে, হাজার বছর পূর্বে কিংবা লক্ষ কোটি বছর পূর্বে তার সাথে পরিচয় ছিল! আর হয়তো আমাকে সৃষ্টিকরার পূর্বে আমার মেমোরিতে ঐ পরিচিতদেরকে এভাবেই পর্যায়ক্রমে স্থাপন করে দিয়েছেন।
এই পৃথিবীর প্রত্যেক বস্তু একটি নির্দিষ্ট চক্র অতিক্রম করার পর তার আদি অবস্তার পরিবর্তন হয়। এখানে নির্দিষ্ট চক্র বলতে একটি বৃত্তের চারদিকে ঘুরে আসাকে বলা হয়নি। চক্র বলতে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বুঝানো হয়েছে। পানি চক্র, নাইট্রোজেন চক্র ইত্যাদি। পদার্থ বিজ্ঞানের মতে- কোনো বস্তুর উপর যতই বল প্রয়োগ করোনা কেনো, যদি বস্তুটি নির্দিষ্ট দিকে সরে না যায় অর্থাৎ সরণ না ঘটে তাহলে এই বল প্রয়োগে কোনো "কাজ" হয় না। আমরা জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে চক্র সম্পন্ন করি সেটি হলো আপেক্ষিক চক্র।
যদি মানুষ নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করে নির্দিষ্ট বিরতিতে নতুন মানুষকে দেখতে পায় তবে মানুষ মরে গেলে তার আত্মীয় স্বজন কান্না করে কেন?
যে মরে গেছে সে তার আপেক্ষিক গন্তব্য অতিক্রম করেছে। আর যে বা যারা কান্না করছে তারাও তাদের ধারাবাহিক যাত্রা পথে তার আদি স্মৃতিতে থাকা পরিচিত মানুষটির জন্য কান্না করেছেন। তার প্রমাণ হিসেবে বলা যায় কয়েকদিন অতিবাহিত হলেই সেই স্মৃতির ভারি আবেগ হালকা আবেগে পরিণত হয়। অর্থাৎ কোনো বস্তু চলমান থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে তার গতিপথের পরিবর্তনের সাথে সাথে তার চিন্তা চেতনা কিংবা সার্বিক অবস্থার পরিবর্তন হয। ঠিক যেন গাড়ি থামানোর জন্য ৩০ সেকেন্ড আগে এক্সিলারেটর চাপা হলেও সেটা ৩০ সেকেন্ড পরে হালকা হয়ে স্থিরাবস্থায় ফিরে আসে। বাস্তবে যে প্রণিটি শোকাহত হলো সেও একটা সময়ে আপেক্ষিক গন্তব্যে পারি জমাতে হয়। তবে সেই গন্তব্যটা পৃথিবীর বাহিরে বা ভিতরে কিংবা শত শত আলোক বর্ষ দূরে কোথাও হতে পারে!

কি আশ্চর্য! আমি আগে কখনো এমন চিন্তা করিনি যে, মানুষ একবার যেখানে পদার্পণ করে দ্বিতীবার সেখানে পদার্পণ করেনা। তবে এই বিষয়টি নিয়ে বহুদিন যাবৎ ভাবছি যে, মানুষ একটি নির্দিষ্ট দিকে চলমান। সেই দিকটি হয় পশ্চাতমুখী নতুবা সম্মুখমুখী। এভাবে চলতে চলতে সে তার আপেক্ষিক ঠিকানায় পৌঁছাতে পারলেও পরম ঠিকানায় কখনো পৌঁছাতে পরেনা। অর্থাৎ মানুষ জীবনের আপেক্ষিক চক্র সম্পন্ন করতে পারলেও পরম চক্র সম্পন্ন করতে পারে না।

20/01/2023

ভ্রান্ত জগতের দৃষ্টিভ্রম মানুষ(খ)

এই ধরাতে কেউ বেশি বুদ্ধিমান আবার কেউ কম। একই বয়সের দুইজনের একজন পরীক্ষায় বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে আরেকজন স্কুলের সকল ছাত্রের মধ্যে প্রথম কিংবা অকৃতকার্য হয়। যদি এমন হয় যে, সকল আত্মার বয়স যদিও অভিন্ন, তারা কর্মে নিযুক্ত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে। এখানে ভিন্ন সময় বলতে শুধুমাত্র এই পৃথিবীতে বসবাসের সময়কে বোঝানো হয়নি। একজন তার পরম যাত্রা শুরু করার পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়েছে। পরম যাত্রার সময় সম্পর্কে আগেই বলেছি। সুতরাং যার বুদ্ধি কম, সে পরে কর্মে যোগদান করেছে। অর্থাৎ দুইজন ব্যাক্তির মধ্যে যার কর্মে পূর্ব অভিজ্ঞতা কম, এই পৃথিবীতে তার বুদ্ধি কম। কথাটি এভাবেও বলা যায়, যাকে তার সৃষ্টকর্তা আগে কর্মে নিযুক্ত করেছেন তার বুদ্ধি বেশি। আর যাকে পরে কর্মে নিযুক্ত করেছেন তার বুদ্ধি কম। কোনো আত্মার কর্মের বয়স হাজার বছর আবার কোনো আত্নার কর্মের বয়স লক্ষ বছর।

আপনি হয়তো বহুদিন ভেবেছেন। সে পেরেছে আমি পারিনি। তার ভাগ্য ভালো আমার ভাগ্য খারাপ। অপেক্ষা করুন আপনিও পারবেন বা পেরেছেন। আপনার কর্মের বয়স যখন যে পেরছে তার মতো হবে, অথাৎ আপনি যখন তার মতো দূরত্ব অতিক্রম করবেন তখন আপনি তার মতো কাজে দক্ষ হবেন। আর আপনার ভাগ্যও তার মতো হবে। তবে দুখেঃর বিষয় হলো তখন আপনি আপনার বর্তমান সময়ের কথা ভুলে যাবেন! এখন ভাবুন আপনি,আমি ও আমরা কতটুকু ভ্রন্তিতে আছি!

আপনি নিশ্চয় ব্ল্যাক হোলের কথা জেনেছেন। প্রতি মুহূর্তে ব্ল্যাক হোল তার আশপাশের সবকিছু গিলে খাচ্ছে। গিলে খাচ্ছে ছোট বড় নক্ষত্র এবং গ্রহগুলোকে! এই গিলে খাওয়ার ফলে অনেক বড় কিছু ভেঙ্গে যেমন টুকরো টুকরো হয় তেমনি ছোট বস্তুগুলো একত্রিত হয়ে নতুন কিছুর সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ বস্তুর বাহ্যিক কিংবা আভ্যন্তরিন অবস্থার পরিবর্তন হয়। কৃষ্ণগহ্বরের আশেপাশের বস্তুগুলো প্রতিনিয়ত এত দ্রুত গতিতে তার ভিতর প্রবেশ করে যে, ফলে বস্তুটি আর পূর্বের আকৃতিতে থাকতে পারে না।

আপনি নিশ্চয় নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণ সম্পর্কে ধারণা রাখেন। ভূপৃষ্টের কোনো স্থানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে, সেখানকার বায়ুশূন্য স্হানটির বায়ুঘাটতি পূরণ করতে অন্য অঞ্চল থেকে বায়ু অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সেখানে যায়। ফলে ঝড় বৃষ্টির তৈরি হয়। গাছপালা ভেঙ্গে কিংবা প্রাণিকুলের ক্ষতি সাধিত হয়ে ভূপৃষ্টের অবস্থার পরিবর্তন হয়।
তেমনিভাবে কৃষ্ণ গহ্বরের আশেপাশের বস্তু কৃষ্ণগহ্বরে প্রবেশ করলে সেখানকার খালি স্থান মহাবিশ্বের অন্যস্থান থেকে পূরন হয়।
ধরুন এই মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি বস্তু কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কৃষ্ণ গহ্বর হতে দূরের বস্তু কম গতিতে আর কাছের বস্তু বেশি গতিতে তার দিকে ধাবমান।
এখন আপনি ভাবতে পারেন মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণী এই কৃষ্ণ গহ্বরে প্রবেশ করলে তার মৃত্যু হয়। যেহেতু আত্মা নামক শক্তির কোনো মৃত্যু নেই। তাই তার অবস্তার পরিবর্তন হয়। এই কৃষ্ণ গহ্বরে প্রবেশের ফলে কোনো বস্তু কত আলোকবর্ষ অতিক্রমের ফলে স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসে তা আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারেননি।

উপরের আলোচনা হতে আপেক্ষিক মৃত্যুকে নিম্নরূপে সঙ্গায়িত করা যেতে পারে।
এই আপেক্ষিক মৃত্যু হলো অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ফলে বস্তুর স্থান পরিবর্তনের সাথে সাথে অবস্থার পরিবর্তন হওয়া। পরিবর্তিত স্থানটি হতে পারে হাজার কিংবা লক্ষকোটি আলোকবর্ষ দূরে। বাহ্যিক রূপটি কি হবে কে জানে।
তবে একটা বিষয় নিশ্চিত বলা যায় যার আপেক্ষিক মৃত্যু হয়, সে বোঝে না যে তার মৃত্যু হয়েছে!

এভাবে পরমাত্মা চলমান এবং চলমান। স্মৃতিভ্রম কিংবা দৃষ্টিভ্রমের কারণে সে তার আশেপাশের সব কিছুকে সবসময় একই রকম দেখতে পায়। যদিও এইসব কিছুই সময়ের ব্যাবধানে তার কাছে নতুন।

যার আপেক্ষিক মৃত্যু হয় সে হয়তো কোনো কৃষ্ণ গহ্বরে পতিত হয়।
অভিকর্ষ বল সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই জানা আছে। পৃথিবী কোনো বস্তুকে নিজের দিকে যে বলে আকর্ষণ করে তাকে অভিকর্ষ বল বলে। আরো একটি বিষয় জেনে নিতে পারি। বায়ু মন্ডলে অবস্থিত বস্তু বায়ুর চেয়ে হালকা হলে সেটি বায়ুতে ভাসে কিংবা উপরের দিকে উঠে যায়। দেহে অবস্থিত আত্মার ওজন দেহের চেয়ে হালকা হলে তা আর দেহে থাকতে পারেনা।
আমরা জনি ইলেক্ট্রন শক্তি গ্রহণ করে উচ্চ শক্তি স্তরে গমন করে। তেমনি আত্মাও শক্তি গ্রহণ করলে দেহ ত্যাগ করে।
আত্মা দেহ ত্যাগ করার মতো শক্তি তখনই গ্রহণ করে যখন দেহের চাহিদা বেড়ে যায় এবং তার স্থায়িত্ব কমে শূন্যে নেমে যায়।

একটু ভাবলে দেখা যায় মা-বাবার চেয়ে সন্তানেরা অনেক সময় বুদ্ধিমান হয়। তাদের কাজের দক্ষতা মা-বাবার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি থাকে। এই ক্ষেত্রে আপনি যদি আপেক্ষিক বয়স(জন্মের পর মৃত্যু পর্যন্ত যে বয়স)হিসাব করেন, তাহলে ঐ সন্তানের বয়স মা-বাবার চেয়ে কম। তবে প্রকৃত হিসাবে ঐ সন্তানের বয়স তার মা-বাবার চেয়ে বেশি! যদিও সে তার মায়ের গর্ভ থেকে জন্মগ্রণ করেছে। তবুও তার আত্মার যাত্রার আদি সময় ছিল মা-বাবার আগে। অর্থাৎ, তার সৃষ্টিকর্তা তাকে মা-বাবার আগে কাজে নিযুক্ত করেছেন। ফলে তার অভিজ্ঞতা বেশি।

আসলে বৃদ্ধ আত্মা নতুন আবরনে মাযের গর্ভে আসে। ধরুন আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে কিংবা আরো পূর্বে ভূ-পৃষ্ট থেকে বহু দূরের কোনো এক স্থানে যেসব এলিয়েন বসবাস করতো তারা আমাদের চেয়েও উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার করতো। জগৎটাকে রাঙ্গিয়ে ছিলো নিজেদের মতো করে। তবে সেইসব প্রযুক্তি হয়তো আমাদের বর্তমান প্রযুক্তি অপেক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্নরকম ছিলো। কোনো এক মহা বিপর্যয় তাদেরকে এমনভাবে নিঃশেষ করেছে যে, তাদের ইতিহাস লিখার আর কেউ অবশিষ্ট ছিলো না। সেই সব আত্মাই পর্যাক্রমে বর্তমানে জন্মগ্রহন করছে। স্টিফেন হকিং এর মতানুযায়ী বলতে পারি, এলিয়েনরা আমাদের চেয়ে বহুগুণ প্রযুক্তি বিশারদ!

এখানে যা লিখেছি এর সবই আমার নিজস্ব এবং কল্পনিক কিছু প্রশ্নের উত্তর।

20/01/2023

ভ্রান্ত জগতের দৃষ্টিভ্রম মানুষ(গ)

এর আগে বলেছি, এই মহাবিশ্বের কোনো বস্তু একবার যেখানে পদার্পন করে দ্বিতীয়বার সেখানে কখনো ফিরে আসে না।
আপেক্ষিকভাবে কোনো মানুষ বেঁচে থাকে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। অর্থাৎ জন্মের পর থেকে ১০, ২০, ৪০, ৬০, ১০০ কিংবা ১৫০ বছর বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকার এই দৃশ্যমান সময় পরম সময়ের তুলনায় খুবই নগণ্য। যেহেতু মানুষের(প্রাণী নামক বস্তু) স্থায়িত্ব ১০, ২০, ৬০ বা সর্বোচ্চ ১৫০ বছর হতে পারে পক্ষান্তরে আত্মার(শক্তি) স্থায়িত্ব অসীম অফুরন্ত; তাই পরমাত্মার গতিকে শক্তি তথা আলোর গতির সাথে তুলনা করা যায়। আপেক্ষিক দৃষ্টিতে আমরা যে সময়টাকে ৬০ বছর কিংবা ১০০ বছর হিসেবে গণনা করি পরম দৃষ্টিতে ওই একই সময় সেকেন্ডের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ভাগের এক ভাগ বা আরো কম হতে পারে।
অর্থাৎ ফোটন যতটুকু সময় একক স্থানে অবস্থান করে আত্মাও ততটুকু সময় একক স্থানে অবস্থান করে। এখন আমরা জানি ফোটনের ব্যাস প্রায় ৭০ পিকোমিটার বা ৭ × ১০^-১৪ কিলোমিটার । এই ব্যাস অতিক্রম করতে ফোটনের সময় লাগে প্রায় ২.৩৩৩৩ × ১০^-১৯ সেকেন্ড।

আমি বলতে চাইছি আপনার আমার অবস্থান শুধু পৃথিবী নামক গ্রহেই সীমাবদ্ধ না। বরং পর্যায়ক্রমে সে মহাবিশ্বের প্রতিটি স্থান ভ্রমণ করছে। এবং এই ভ্রমণের একটি নির্দষ্ট সীমা অতিক্রমনের পর সে তার পূর্বের স্মৃতি হারিয়ে ফেলে। সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে তার গতি পথের পরিবর্তন হয়।

সুতরাং আপেক্ষিক দৃষ্টির যে অবস্থান তা শুধুই মরিচিকা। স্মৃতিভ্রমের ফলে আমরা মানুষ জাতি অতিত কিংবা ভবিষ্যৎ স্মরণ করতে পারি না! যে স্মৃতিটুকু আমাদের মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকে তা আপনার আমার সৃষ্টিকর্তা তার মতো করে আমাদেরকে ভাবতে দেন। আপনি আমি কিংবা আমরা সামাজিকভাবে যে স্থানটিতে বসবাস করছি সেটি মহাবিশ্বের তুলনায় অতি নগণ্য। তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গের একক ফোটন যেমন সামান্য তরঙ্গায়িত হয়ে চলমান, তেমনি আমরাও সামান্য স্থানে সামান্য পরিমান নড়াচড়া করি(ভাবি অনেক দূর- দূরান্ত ভ্রমণ করি) এবং পরম গন্তব্যের দিকে ছুটে চলছি। আপনি যদি আপনার চেয়ে অনেক ক্ষুদ্র প্রাণি বা বস্তুর কথা চিন্তা করেন তাহলে মনে হবে তারা সামান্য প্রাণি সামান্য স্থানে চলাফেরা করে। তেমনি আপনার চেয়ে বড় কোনো প্রণি কিংবা বস্তু চিন্তা করে আপনি সামান্য বস্তু সামান্য স্থানে চলাফেরা করেন। আর আপনার সৃষ্টিকর্তা মনে করেন এই মহাবিশ্বটাই সামান্য স্থান এবং অতি সামান্য স্থান। যেখানে অতি ক্ষুদ্র সামান্য বস্তু স্থির কিংবা চলমান! যেমন একটি সচ্ছ মারবেলের অভ্যন্তরে কিংবা বাহিরে যা আছে তার সবই দেখা যায় তেমনি আপনার সৃষ্টিকর্তাও মহাবিশ্বটাকে নির্দিধায় নির্বিগ্নে দেখতে পান।

উপরে যে ফোটনের বিষয়ে বলেছি তার পরিচয়টা উল্লেখ করা প্রয়োজন। আলোর একক হলো ফোটন আর সেই ফোটন প্রতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ(৩,০০,০০০) কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। আমরা যেখানে অবস্থান করছি সেই স্থানটি মহাবিশ্বের তুলনায় ফোটনের চেয়েও ক্ষুদ্র হতে পারে! আপনার বিশ্বাস হয়না? মহাশূন্য নিয়ে সামান্য সময় ভাবুন, তারপর আবার ভাবুন- ভেবে শেষ হবে না!

উদাহরণ হিসেবে মানুষের পরিবর্তে মহাবিশ্বের কোনো ছায়াপথকেও কল্পনা করা যায়।
পৃথিবী কিংবা পৃথিবী যাকে প্রদক্ষিণ করছে, সে(সূর্য নামক নক্ষত্র) যে ছায়াপথের অন্তর্ভূক্ত তার আয়তন যদি মহাবিশ্বের তুলনায় ফোটনের সমান হয়- তবে ছায়াপথটি একটি নির্দিষ্ট গতিতে চলমান হওয়ার কথা।
অর্থাৎ এই পৃথিবী নামক গ্রহে আমাদের প্রকৃত স্থায়িত্ব ২.৩৩৩৩ × ১০^-১৯ সেকন্ড অথবা তার চেয়ে সামান্য কম-বেশি হওয়ার কথা! আপেক্ষিক স্থায়িত্ব গড়ে ৬০-৭০ বছর হলেও প্রকৃত হিসাবে এই সময় ২.৩৩৩৩ × ১০^-১৯ সেকেন্ড বা তার কাছাকাছি! ২.৩৩৩৩ কে ১ এর পরে ১৯ টি শূন্য বসিয়ে ভাগ করলে যা হয় তত সেকেন্ড সময় মানুষ এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে। তার পর সে তার পূর্বের স্মৃতি হারিয়ে ফেলে।
যেহেতু মহাবিশ্বটাই চলমান সুতরাং এর মহাশূণ্যে যা আছে সবই নির্দিষ্ট দিকে চলমান। শুধুমাত্র বিভিন্ন স্থানে সামান্য বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই বাধাই হলো একটি বস্তুর জীবনকাল। এটি খুবই নগন্য সময় প্রায় ২.৩৩৩৩ × ১০^-১৯ সেকেন্ডের সমান।

সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে একই দেহে বিভিন্ন আত্নার আবির্ভাব ঘটে। যেমন ধরুন একজন আপনাকে কথা দিয়েছেন কোনো কাজ করে দিবেন একটি নির্দষ্ট সময়ে। কিন্তু ঐ সময়ে সে আপনার কাজটা করে দেননি কিংবা যেইভাবে কাজটা করার কথা ছিলো তার চেয়েও ভালোভাবে করে দিয়েছেন। এই যে আচরনের পরিবর্তন হয় সেটা আত্মা পরিবর্তনের জন্যই হয়। এক আত্মা চলে যাওয়ার পর নতুন আত্মা পূর্বের আত্মা কর্তৃক রেখে যাওয়া কাজ সঠিক বা অবিকল ভাবে করতে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। যেহেতু আত্মা হলো এক প্রকার শক্তি এবং চলমান সুতরাং সে বস্তু দ্বারা সামান্য বাধাপ্রাপ্ত হয়। অথাৎ কোনো একটা দেহে সামান্য অবস্থান করে আবার পুনরায় চলমান হয়। এভাবে একেক আত্মা একেক সময় একটি নির্দিষ্ট দেহ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এই বাধার ফলে সে কোনো দেহে প্রায় ২.৩৩৩৩ × ১০^-১৯ সেকেন্ড অবস্থান করে। এই প্রক্রিয়াটি সৃষ্টির ঊষালগ্ন থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলমান আছে এবং অসীম কাল পর্যন্ত চলতে থাকবে। এই চক্র কোনোদিন শেষ হবে বলে মনে হয় না। সুতরাং আপেক্ষিকভাবে আমরা যে মৃত্যু দেখি তা শুধুই মরিচিকা।

একটি লঞ্চে ভ্রমণের সময় আমরা লঞ্চের ডেকের উপর চলাফেরা করি। এই চলাফেরা একটি সীমাবদ্ধ স্থানে হলেও লঞ্চ কিন্তু চলমান থাকে। আমরা দৃশ্যত লঞ্চের একই স্থানে বারবার পদার্পন করলেও লঞ্চ কিন্তু চলমান অবস্থায় পূর্বের অবস্থানে পুনরায় পদার্পন করে না।
তেমনিভাবে এই জগতের প্রত্যেকটি বস্তুকে একটি চলমান যান কিংবা প্রাণী ওই লঞ্চের মতো বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
সুতরাং বলতে পারি আমরা একই স্থানে দ্বিতীয়বার পদার্পন করি না।

Want your school to be the top-listed School/college in Hazaribag?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Hazaribag