Mohammad Azharul Islam

Mohammad Azharul Islam

Share

সাধারণ জীবন যাপন কারী অতি সাধারণ একজন President, “Ahle Sunnat Wal Zamaat Bangladesh” Keraniganj. Founder of “Al Islam Zahuria Hazi Ayinuddin Dakhil Madrasa”.

Founder, General Secretary of
“Al Islam Zahuria Complex”
Complete a non political self-purification spiritual practice and non-profit public service association. Completely Non-Political Ahl-e-Sunnat Wal Jamaat's Center for Self-Purification Spiritual Institute. (Religious education as well as modern education combined with the exception of religious ideal secondary education institutions.) Founde

07/07/2024

দেখতে দেখতে আরো একটি বছর বিদায় নিচ্ছে আমাদের মধ্য হতে। সকলকে আরবী নতুন বছরের শুভেচ্ছা অভিনন্দন । আগামীকাল ১ মুহাররম ১৪৪৬ হিজরী।

03/07/2024

🔘একটি দোয়ার আবেদন🔘

বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর মাননীয় আমীর ছারছীনা শরীফের আ'লা হযরত পীর ছাহেব কেবলা মুজাদ্দেদে যামান, হাদিয়ে মিল্লাত, আমীরুশ শরীয়ত ওয়াত্ তরীকত হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (মা.জি.আ.) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন আছেন।

হযরত পীর ছাহেব কেবলার আশু পরিপূর্ণ সুস্থতা, হায়াতদারাজি এবং পুনরায় দাওয়াত, তা'লীম, তালকীন ও সমাজ সংস্কার কাজে আত্ম-নিয়োগের তাওফীক কামনায় দোয়া করার জন্য সর্বোত্তরের বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ, যুব হিযবুল্লাহ, আইম্মায়ে হিযবুল্লাহ ও ছাত্র হিযবুল্লাহর নেতৃবৃন্দ, কর্মী, সমার্থক, পীর ভাই, মুহিব্বীন এবং সর্বসাধারণ মুসলিম ভাইদের প্রতি আহ্বান জানানো হলো।

এতদুপোলক্ষ্যে আগামী ৫ জুলাই শুক্রবার দোয়া দিবস ঘোষণা করা হলো। বাদ জুময়াহ্ সকল মসজিদের সর্বোস্তরের মুসল্লীদের নিয়ে খতম ও মীলাদান্তে দোয়া করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। তাছাড়া দৈনন্দিন সকল দোয়ায় হুজুর কেবলার সুস্থতার জন্য দোয়া করতে এবং আবেদনটি শেয়ার করে সকলকে জানিয়ে দিতে আপনার সহযোগিতা কামনা করছি।

-বিনীত নিবেদন-

03/07/2024

WeChat ID

03/07/2024

MashaAllah

15/08/2023

কোরআন ও হাদীসের আলোকে দোয়া কবুল হওয়ার মকবুল সময় ও স্থান সমূহ -

১) রাতের শেষ অংশ তাহাজ্জুদের সময়।
২) আজানের পর।
৩) আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়।
৪) নামাজে তাকবিরে তাহরিমা বাধার পর।
৫) সিজদার সময়।
৬) নামাজে সালাম ফেরানোর পূর্বে শেষ বৈঠকে।
৭) প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর।
৮) ইফতারের পূর্ব মুহুর্ত।
৯) বৃষ্টির সময়।
১০) জুমার দিন আছর হতে মাগরিবের মধ্যবর্তী সময়।
১১) কদরের রাত।
১২) দুই ঈদের দুই রাত লাইলাতুল জিজা অর্থাৎ পুরস্কারের রাত।
১৩) কোরআন খতম করার পর।
১৪) আরাফাতের দিন আরাফার ময়দান।
১৫) মুজদালিফার রাত।
১৬) মাতাফে কাবা শরীফ তাওয়াফের সময়।
১৭) জমজমের পানি পান করার পূর্ব মুহুর্ত।
১৮) হাজরে আসওয়াদ ও কাবা ঘরের দরজা মধ্যবর্তী জায়গা “মুলতাজামে” গোটা শরীর লাগিয়ে দোয়া করলে।
১৯) মিজাবে রহমত। কাবা শরীফের ছাদের পানি পড়ার জায়গা।
২০) কাবা শরীফের দেয়াল অথবা গিলাফ ধরে দোয়া করলে।
২১) হাতিমে কাবা। হাতিমে কাবার মধ্যে কাবা শরীফের দেয়াল হতে আনুমানিক ৪ ফুট দুরুত্বের মধ্যে।
২২) কাবা শরীফের চৌকাঠ ধরা অবস্থায়।

وَاللّٰهُ اَعْلَمُ بِالصَّواب

সংকলনে-
মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম

03/08/2023

ইসলামকে ধংস করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্রেকারী দলের নাম আহলে কোরআন

(৩ আগষ্ট, ২০২৩। সকাল ৯:০০ টা)

হাদিস অস্বিকারকারী আহলে কোরআনের দৌরাত্ব বাংলাদেশে চরমে পৌঁছেছে। যারা হাদীস অস্বিকার করে তাদের কথা শুনলে মনে হবে একেবারে সরল সোজা পরিচ্ছন্ন তাদের কথা। তাদের অনেকের বক্তব্য শুনার দুর্ভাগ্য অর্জন করেছি আমি। তারা সরাসরি হাদীসকে অস্বিকার করে। কোরআনের স্পষ্ট অপব্যক্ষা করে শুধুমাত্র কোরআনকে মানে তারা। হাদীসকে অস্বিকার করে মূলত ইসলামকে খেলতামাসার বিষয়ে পরিনত করছে তারা। প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে যারা এ পৃথিবী থেকে নিশ্চহ্ন করে দিতে চায় তাদের গভীর ষড়যন্ত্রের একটি বড় ষড়যন্ত্র হলো হাদীসকে অশ্বিকার করার পায়তারা। ঐ সমস্ত দুষ্ট দুরাচাররা জানে ইসলামকে সরাসরি আঘাত করে ধংস করা যাবেনা। তাই সুকৌশলে হাদীসকে অশ্বিকার করে ইসলামকে ধুয়ে মুছে সাফ করার একটি পায়তারা হচ্ছে আহলে কোরআন। তারা মনে করে হাদীস অশ্বিকার করাতে পারলে মুসলমানের ঈমান আমল দু’টই ধংস করার মাধ্যমে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করা তাদের জন্য সহজ হবে।

যেখানে আল্লাহ্ সুবহানুতা’লা কোরআনুল কারিমের সূরা আন নিসায় ঈমান আননয়নকারীগণকে উদ্দেশ্য করে আদেশ প্রদান করেছেন,

‘ইয়া আইয়্যুহাল লাজিনা আমানু আতিউল্লাহা ওয়া আতিউর রাসূলা ওয়া উলিল আমরি মিনকুম’

অর্থঃ হে ঈমানদাররা তোমরা আল্লাহকে মানো এবং রাসূল ﷺ কে মানো এবং উলিল আমরকে মানো। ‘উলিল আমর’ অর্থ এখানে আল্লাহ এবং রাসূল ﷺ এঁর পক্ষ থেকে উম্মতকে পরিচালনা বা হুকুম প্রদানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নায়েবে নবী।

উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে পরিস্কার নির্দেশনা, আল্লাহ এবং রাসূল ﷺ এঁর নির্দেশ মানা সব মুমিন নর-নারীর জন্য ফরজ। সুতরাং হাদীস অশ্বিকার করার মাধ্যমে রাসূল ﷺ কে অমান্য করার কোন সুযোগ নেই। হাদীসকে অশ্বিকার করা রাসূল ﷺ কে অশ্বিকার করারই নামান্তর।
তারা সুকৌশলে হাদীস সংগ্রহ, হাদীস সংরক্ষণ ও সংকলনের ব্যপারে সন্দেহের ধোয়া তুলে হাদীসকে অশ্বিকার করে গোমরাহ্ হয়েছে। সাথে সাথে আমাদের সমাজের, আমাদের পরিবারের দীনি আমল বিবর্জিত শিক্ষিত কিংবা উচ্চ শিক্ষিত ইসলাম নাজানা সরলমনা যুব সমাজকে তাদের সবচাইতে বড় টার্গেট করেছে। যেহেতু আমাদের সমাজ পরিবারের আমল বিবর্জিত মানুষগুলো দ্বীনি আমলের ব্যপারে একেবারেই উদাসীন। আমলের ব্যপারে অনিহা। তাই তাদেরকে টার্গেট করে আহলে কোরআনের গোমরাহ্ দলটি ভয়ংকর জাল বিছাচ্ছে।

আমি আহলে কোরআনের নব্য অনুসারীদের সাথে কথা বলে, তাদের আলোচনা শুনে যতটুকু বুঝেছি কোরআনের প্রতি তাদের অনেক মহব্বত কিন্তু হাদীসের মধ্যে তারা সমস্যা খুঁজে পায়। যারা নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত, পর্দা, হালাল-হারাম সহ ইসলামে বিধিবিধানের ব্যপারে গাফেল। যাদের ইসলামের বিধিবিধান মানতে মনে চায়না তাদের জন্য হাদীস হচ্ছে বড় বাঁধা। কারন হাদীসের মধ্যে ইসলামের প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত বিষদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। অন্য দিকে কোরআনুল কারিমে আল্লাহ্ ﷻ ইসলামের বিধিবিধানগুলোর ব্যপারে প্রাথমিক ভাবে ছোট করে আলোচনা করেছেন। তাই কোরআনুল কারিমের অপব্যক্ষার সুযোগ আছে। কেউ চাইলে মনগড়া ব্যাখ্যা করতে পারে, মনগড়া ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে পারে। এজন্য আমাদের সমাজের পরিবারের দ্বিনী আমল বিবর্জিত মানুষ গুলো কোরআনকে খুশি মনে গ্রহণ করতে চায়। যেমন, আল্লাহ্ সুবহানুতা’লা কোরআনে নামাজের কথা বলেছেন, কিন্তু পাঁচ ওয়াক্তের কথাতো কোরআনে বলেননি। সুতরাং এটি হুজুরদের বানানো হাদীসে আছে তাই মানলামনা। এমনিভাবে হাদীসের মধ্য দ্বীনের সকল বিষয় যেহেতু বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। হাদীস মানলে অনেক কিছু মানতে হয় তাই হাদীস বাদ। মানা যাবেনা। তারা শুধু কোরআনটুকু গ্রহণ করতে চায়।

হাদীস সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সংকলণের ব্যপারে তারা ধোঁয়া তুলে। তারা জানেনা কিভাবে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে কোন মানদন্ডে কত কষ্ট স্বিকার করে পাঁয়ে হেটে বর্ণনাকারীর নিকট উপস্থিত হয়ে হাদীস বর্ণনাকারীর চরিত্র, অভ্যাস, কর্ম-জীবিকা, আচরণ আদ্যপান্ত সব জেনে শুনে বিচার বিশ্লেষন করে তার পর হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। এবং যারা হাদীস সংগ্রহ করেছেন তাঁদের যোগ্যতা সম্পর্কেও তারা কল্পনাও করতে পারবেনা। বর্তমান সময়ে গোটা পৃথিবী খুঁজলেও ইমামে আজম আবু হানিফা রহঃ, ইমাম বুখারী রহঃ, ইমাম তিরমিজী রহঃ, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহঃ, ইমাম শাফী রহঃ কিংবা ইমাম মালেক রহঃ এঁর মত একজনকেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এমনকি বর্তমান পৃথিবীর সকল আলেমগণকে একত্রিত করলেও পূর্ববর্তী একজন মুজতাহিদের সমান হবেনা। আল্লাহ্ সুবহানুতা’লা তাঁদেরকে অকল্পনীয় মেধার অধিকারী করেছিলেন।

যে সাহাবীগনের মাধ্যমে আমরা কোরআন পেয়েছি সে সাহাবীগণের মাধ্যমেইতো আমরা হাদীস শরীফ পেয়েছি। তারা বলে থাকে বুখারী শরীফ অনেক পরে লেখা হয়েছে। তাদেরকে বলব কোরআন শরীফওতো রাসূল ﷺ এঁর ইন্তিকালের বহু পরে সংকলন করা হয়েছে। ওসমান رضي الله عنه এঁর সময় কোরআনের সকল আয়াত সমূহ একত্রিত করে বর্তমান সময়ের মত সংকলন করা হয়েছে। মনে রাখতে হবে হাদীসকে অশ্বিকার করা মূলত কোরআনকে অশ্বিকার করার দিকে মানুষকে ধাবিত করে।

সুতরাং আহলে কোরআন একটি ফিতনা, একটি সুগভীর চক্রান্ত। তারা ইসলামকে মিটিয়ে দিতে চায়। কিন্তু তা কি সম্ভব ? কস্মিনকালেও তা সম্ভব না। যুগে যুগে যারাই ইসলামকে পৃথিবী থেকে মিটিয়ে দিতে চেয়েছে, মুছে ফেলতে চেয়েছে ইসলামের সব, বরংচ তাঁরাই নিশ্চহ্ন হয়ে গেছে। অপমানিত, লাঞ্চিত, অপদস্ত হয়ে এ দুনিয়া হতে বিদায় নিয়েছে। ফেরাউন, নমরুদ, সাদ্দাত, হামান, আবু যাহেল, আবু লাহাব, ওতবা কিংবা শাইবা এদের সম্পর্কে অবগত হয়েও যদি এদের পদাঙ্ক অনুসরণ করি তবে বড়ই পরিতাপ, বড়ই আফসোস।

আল্লাহ্ আমাদের নিজেকে, পরিবার পরিজন, সমাজ, দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব মুসলিমকে ইমান আমল ধংসকারী আহলে কোরআন নামক ফিতনা থেকে হেফাজত করে আল্লাহ্ ও রাসূলে করিম ﷺ এঁর মহব্বত হাসিল করার তাওফিক দান করুন। ঈমান ও আমলের সাথে মউত পর্যন্ত দায়েম ও কায়েম করুন। আমীন। আমীন।

07/07/2023

মুহাররম মাস, আরবী বছরের প্রথম মাস এটি। এখন জিলহজ্ব মাস চলছে। আজ ১৮ জিলহজ্ব। আর মাত্র ১১ অথবা ১২ দিন পরেই আরবী হিজরী সনের নতুন একটি বছর জোগ হবে আমাদের হায়াতে ইনশাআল্লাহ্। শুরু হবে হিজরী ১৪৪৫ সনের।
কোরআন ও হাদীস অনুযায়ী মুহাররমের প্রথম রজনী থেকে শুরু করে প্রতিটি দিনের মাঝে আল্লহ্ তবারুকতা’আলা রেখেছেন “অল্প আমলে আল্লাহর অধিক সন্তুষ্টি”। এ মাসে আছে বরকতে অদ্বিতীয় একটি দিন “আশুরা”। অফুরন্ত নিয়ামতের মাস এটি। দুনিয়া এবং আখিরাতের কল্যান হাছিলের অনন্য একটি সুযোগ আমাদের দারপ্রান্তে উপস্থিত।

আসুন আমরা মাসটিকে বরন করে নিতে মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করি। মহিমান্বিত এ মাসটির তাৎপর্য, গুরুত্ব, ফজিলত ও আমল সম্পর্কে নিজে জানি ও আমাদের পরিবার পরিজন, বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী সহ নিকট জনদেরকে জানাই।

সুমহান প্রতিপালক আল্লাহ্ পাক ﷻ কোরআন মজীদে ইরশাদ ফরমানঃ

‎إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَات وَالأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلاَ تَظْلِمُواْ فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ وَقَاتِلُواْ الْمُشْرِكِينَ كَآفَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَآفَّةً وَاعْلَمُواْ أَنَّ اللّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
-(সুরা তওবা-৩৬ আয়াত)

অর্থঃ আল্লাহ পাকের নিকট মাস হিসাবে বারটি, তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। মুহাররম মাস উক্ত সম্মানিত মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রীয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরাশদ করেনঃ

আল্লাহর মাস মুহাররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করো, যে ব্যক্তি মুহাররমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে, আল্লাহপাক তাকে জান্নাত দ্বারা সম্মান করবেন এবং দোযখের আগুন থেকে নাজাত দিবেন।

কোরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত আমলগুলোর ব্যপারে ব্যক্তিগত পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়নের তাগিদ রয়েছে সয়ং মহান আল্লাহ্ পাক রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকেই। আল্লাহ্ কোরআনুল কারিমে ঈমানদারদের প্রতি আদেশ করেছেন-

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ قُوٓاْ أَنفُسَكُمۡ وَأَهۡلِيكُمۡ نَارٗا

উচ্চারণঃ ইয়া আইয়ুহাললাজিনা আ’মানু, কু আনফুসাকুম ওয়া আহলিকুম নারা।
অর্থাঃ হে ঈমানদার তোমরা নিজে জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচো এবং অন্যকেও বাঁচাও।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ ‎ﷺ বলেছেন- 'বাল্লিগু আন্নি ওয়ালাও আয়াহ।' অর্থাৎ আমার পক্ষ থেকে একটি বাক্য হলেও তা পৌঁছে দাও। এখানে রাসুল ‎ﷺ তাঁরই অনুসারণকারিদের নির্দেশ দিচ্ছেন, যা কিছু মানবকল্যাণে তিনি রেখে যাচ্ছেন, তা যেন মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আসুন আল্লাহ্ ও রাসূল ‎ﷺ এঁর নির্দেশনার বাস্তব আমলকারী হিসেবে অন্তত নিজের পরিবার পরিজন ও নিকট জনদের মাঝে কোরআন সুন্নার বানী পৌছে দেই।
মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম
Mohammad Azharul Islam

01/07/2023

বোয়ালমারীর পথে ছুটে চলা।

25/06/2023

আরাফার দিনের রোজা এবং ঈদুল আজহা পালন সাউদী আরবের সাথে মিলিয়ে করা যাবে কিনা ?

আরাফার ছিয়াম সৌদির সাথে মিলিয়ে করতে হবে এমন কোন হাদিস পাওয়া যায়না।

বাংলাদেশের জামালপুর, কুমিল্লা চাদপুর ,দিনাজপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকা সহ বিচ্ছন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় সাউদী আরবের সাথে মিলিয়ে রমজান মাস শুরু এবং ঈদ পালন করে থাকে।এমনকি জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের আমল, আরাফার দিনের রোজা এবং ঈদুল আজহাপালন সাউদী আরবের সাথে মিলিয়ে করেন। এতে কিছুটা ভুল-বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

আসুন দেখি কুরআন ও হাদীসে এ সম্পর্কে কি ব্যাখ্যা আছে।

আরাফা ছিয়াম সৌদির সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশের বা দুরবর্তী অঞ্চলের মুসলমান রাখলে তাআদায় হবে না। কারন, কুরবানির আগের দিন আরাফার ছিয়াম, এটা রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এঁর যুগ হতেপরবর্তী সকল যুগের ইজমা।এ ইজমা ফরজ দলিল।
এখন সৌদির সাথে মিলিয়ে আরাফা ছিয়াম রাখার অর্থ পরেরদিন তথা ২০ জুলাই কুরবানী করা।দেখুন রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এঁর হাদীস কুরবানী কখন করতে হবে তার বিধান দিচ্ছেন।

১) আয়েশা রা.-এর এ বলেন,
إِنّمَا النّحْرُ إِذَا نَحَرَ الْإِمَامُ، وَعُظْمُ النّاسِ، وَالْفِطْرُ إِذَا أَفْطَرَ الْإِمَامُ، وَعُظْمُ النّاسِ.
অর্থাৎ, কুরবানী(র দিন) তো সেদিন, যেদিন ইমাম (মুসলমানদের রাষ্ট্রপ্রধান) ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকুরবানী করে এবং ফিতর (ঈদুল ফিতর) তো সেদিন, যেদিন ইমাম ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ রোযা ছাড়ে।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/১৫৭,

২) অন্য বর্ননায় আছে
إنما يوم الأضحى يوم ضحى الإمام وجماعة الناس.
অর্থাৎ কোরবানীর দিন তো সেটি যেদিন ইমাম ও জনগণ কোরবানী করে।
এ রেওয়ায়েতটি ইমাম ইবনে রজব রাহ. আহকামুল ইখতিলাফ ফি রুইয়াতি হিলালি যিলহিজ্জায়(পৃষ্ঠা : ৩৪-৩৫) মাসায়েলে আব্দুল্লাহ আন আবিহীর সূত্রে সনদসহ নকল করেন, যা সহীহ। ইমামআহমাদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনাটি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর মাধ্যমে নকল করেন-
(ابن مهدي: عن سفيان، عن أبي إسحاق، عن أبي عطية ومسروق قالا: دخلنا على عائشة..)

৩) ইবনুল মুনকাদির-এর বর্ণনায় আছে,
আয়েশা রা. নিজেই আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ নকল করেছেন-
عرفة يوم يعرف الإمام، والأضحى يوم يضحي الإمام، والفطر يوم يفطر الإمام
আরাফা সেদিন যেদিন ইমাম আরাফায় উকুফ করে, কোরবানী সেদিন যেদিন ইমাম কোরবানী করে, আর ফিতর সেদিন যেদিন ইমাম রোযা ছাড়ে। (আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/১৭৫, باب خطأالناس يوم عرفة)

৪) রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন, “তোমরা যখন নতুন চাঁদ দেখ তখন রোযা রাখ এবং নতুন চাঁদ দেখলেরোযা ভেঙ্গে ফেল"। -বুখারী শরীফ।

৫) হযরত মুহাম্মাদ ﷺ শাবানের মাসের দিন গণনার ক্ষেত্রে অতিশয় সাবধানতা অবলম্বন করতেনএবং তিনি যখনই নতুন চাঁদ দেখতে পেতেন তখন রোজা শুরু করতেন। আর যদি নতুন চাঁদ নাদেখতে পেতেন তাহলে শাবান মাসের ত্রিশ দিন পূর্ণ করে রোজা রাখতেন" -আবু দাউদ শরীফ।

এভাবে অসংখ্য প্রমান বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ এঁর উপরোক্ত হাদীস সুস্পষ্ট।মুসলিম হিসেবে আমাকে এটি মেনে নিতে হবে। আমি নিজ থেকে বলছিনা, অনেক গুলো হাদিসেরআলোকে তুলে ধরেছি মাত্র।
যেহেতু সারা বিশ্বের সব জায়গা থেকে একই দিনে রমজানের চাঁদ দেখা অসম্ভব। সুতুরাং সৌউদিআরবের সময়টি অনুসরণ করে সারা বিশ্বে একযোগে রোজা রাখা এবং নতুন চাঁদ দেখলে রোজাভেঁঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তেমনি ভাবে জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশদিনের আমল, আরাফার দিনের রোজা এবং ঈদুল আজহা পালন ও কুরবানী সৌউদি আরবের সাথেমিলিয়ে করা যুক্তি হীন। কোনো ব্যক্তি যখন চাঁদ দেখে রোজা রাখে এবং ঈদ পালন করে, তখন চোখবন্ধ করে সে হুবুহু সুন্নাহ অনুসরণ করল। আর যদি কোনো ব্যক্তি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখেরোজা ও ঈদ পালন করে, তাহলে সে চাঁদ না দেখে তা পালন করছে। এটি সম্পূর্ণ ভুল।

এবছর আমাদের রাষ্ট্র ও জনগন, আলেম সমাজ, পীর মাশায়েখ সহ অধিকাংশ লোক ২৯ জুনবৃহস্পতিবার কুরবানী করবেন। সুতরাং তার পূর্বদিন আরাফার রোজা। অর্থাৎ ২৮ জুন রোজ বুধবারআরাফার রোজা। এটিই ইজমা। যা পালন করা ফরজ।
উপরোল্লিখিত হাদীস ও ইজমা সামনে থাকার পর সৌদির সাথে মিলিয়ে কোনোভাবেই রমজানেররোজা শুরু, ঈদ পালন, আরাফার রোজা, কুরবনী করার কোন সুযোগ নেই। আল্লাহ্ আমাদেরসকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

#

19/06/2023

জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের গুরুত্ব ফজিলত ও আমল

সুমহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তা'য়ালা সীমাহীন দয়ালু। বান্দার প্রতি ক্ষমার সুযোগ করে দিতে তিনি মহীমাময়। বিশেষ করে উম্মাতি মোহাম্মদির জন্য তিনি বড়ই দয়া পরবশ। তিনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে তিনি পছন্দকরেন। তিনি চান বান্দা অল্প ইবাদত-বন্দেগি করে ক্ষমা লাভ করে তাঁর নৈকট্য হাছিল করুক। তাইতো তিনিএমন কিছু বরকত পূর্ন দিন ও মহিমান্বিত রাত্রী দান করেছেন যাতে বান্দা অল্প ইবাদত করে অধিক ছাওয়াব লাভ করতে পারে।
বছরের অন্যান্য দিন গুলোর চাইতে এ বিশেষ দিন গুলোর মর্যাদা বহুগূন বেশী। বান্দার অধিক ছাওয়াব ওকল্যাণ লাভের সুবর্ণ সুযোগ।
এমন মর্যাদা পূর্ণ দিন-রজনী গুলোর মধ্যে জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন দশ রাত অন্যতম। কোরআন ওহাদিসের আলোকে তাই সুস্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত।

জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন শ্রেষ্ঠত্বের কারণঃ

⚜️ আল্লাহ তা'য়ালা এ দশ দিনের কসম করেছেন।

মহান আল্লাহ পাক ঐ বিষয়ের কসম করেন যে বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনুল কারিমে জিলহাজ্বমাসের প্রথম দশ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব মর্যাদা বুঝাতে গিয়ে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেনঃ
‘'কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের।’' (সূরা আল-ফাজর, আয়াত : ১-২)
অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এ আয়াতে ‘কসম দশ রাতের’ বলতে যিলহজের প্রথম দশকের প্রতিই ইঙ্গিত করাহয়েছে।

আল্লাহ তা‌‘আ বলেন, ‘'যেন তারা নিজদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকেচতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দিয়েছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’' (সূরাআল-হজ্ব, আয়াত : ২৮)

হযরত ইবন উমর ও ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমার মতে এ আয়াতে নির্দিষ্ট দিনসমূহ বলতে যিলহজ্বমাসের প্রথম দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে।

⚜️ জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ যাতে তাঁর জিকিরের প্রবর্তন করেছেন।

আল্লাহ তা‌‘আ বলেন, ‘যেন তারা নিজদের কল্যাণের স্থানসমূহে হাযির হতে পারে এবং তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু থেকে যে রিজিক দিয়েছেন তার ওপর নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।’ -সূরাআল-হজ, আয়াত : ২৮।

বিজ্ঞ উলামার মতে, আয়াতে নির্দিষ্ট দিনসমূহ বলে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে বুঝানো হয়েছে। এটিইবন উমর ও ইবন আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমার মত।

⚜️ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দিনগুলোকে শ্রেষ্ঠ দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।
হযরত জাবির (رضي الله عنها) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ

‘পৃথিবীর দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিনগুলো হলো দশকের দিনসমূহ। অর্থাৎ যিলহজ্বের (প্রথম) দশদিন।জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদেও কি এর চেয়ে উত্তম দিন নেই? তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদেও এর চেয়ে উত্তম দিন নেই। হ্যা, কেবল সে-ই যে (জিহাদে) তার চেহারাকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।’ -মুসনাদ বাযযারঃ ১১২৮; মুসনাদ আবী ই‘আলাঃ ২০৯০।

⚜️ জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যে রয়েছে আরাফার দিন।

আরাফার দিন হলো বড় হজের দিন। এটি ক্ষমা ও মাগফিরাতের দিন। জাহান্নাম থেকে মুক্তিও নাজাতের দিন। যিলহজের এই দশকে যদি ফযীলতের আর কিছু না থাকত তবে এ দিবসটিই তার মর্যাদার জন্য যথেষ্টহত। এ দিনের ফযীলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘আরাফা দিবসই হজ্ব’। -তিরমিযী : ৮৯৩; নাসায়ী : ৩০১৬।

⚜️ জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের মধ্যেরয়েছে কোরবানীর দিন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোরবানীর দিন সম্পর্কে ইরশাদ করেন,

‘আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ দিন হলো কুরবানীর দিন অতপর স্থিরতার দিন’। (অর্থাৎ কোরবানীর পরের দিন। কারণ, যেদিন মানুষ কুরবানী ইত্যাদির দায়িত্ব পালন শেষ করে সুস্থির হয়।-নাসায়ী : ১০৫১২; ইবন খুযাইমা।
কোনো কোনো আলিমের মতে কুরবানীর দিনটি বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন।

⚜️ জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশ দিনের দিনগুলোতে মৌলিক ইবাদত গুলোর সমাবেশ ঘটে।

হাফেয ইবন হাজর রহিমাহুল্লাহ তদীয় ফাতহুল বারী গ্রন্থে বলেন, ‘যিলহজের দশকের বৈশিষ্ট্যের কারণ যাপ্রতীয়মান হয় তা হলো, এতে সকল মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যথা : সালাত, সিয়াম, সাদাকা, হজ্বইত্যাদি। অন্যকোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটেনা।’ -ফাতহুল বারী : ২/৪৬০।

জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশকের আমল ও দিনের ফজিলতঃ

১) নফল রোজা বেশী বেশী ইবাদত করাঃ

জিলহজ্ব মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর হতে নয় তারিখ পর্যন্ত যত দিন সম্ভব নফল রোযা রাখা আর রাতেরবেলা বেশী বেশী ইবাদত করা যথা নফল নামায, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা-ইস্তিগফারও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি, দান-ছদকা ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে দিন রাত অতিবাহিত করা উত্তম।

ফযীলতঃ

এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنها) থেকে হাদীস শরীফ বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদতমহান আল্লাহ পাক-উনার কাছে এত বেশি পছন্দনীয় যে, অন্য কোন সময়ের ইবাদত এত বেশি পছন্দনীয় নয়।আর প্রতিদিন এর রোজার ফযীলত হচ্ছে অন্য সময়ের এক বছরের রোযার ফযীলতের সমান। আর প্রতিরাত্রির ফযীলত হচ্ছে শবে কদরের ফযীলতের সমান।’’(সুবহানআল্লাহ)
-তিরমিজী শরীফ,হাদীস নং-৭৫৮,সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৩৭৫৭,কানযুল উম্মাল ফি সুনানিলআকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১২০৮৮।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- এ দশ দিনের আমল অপেক্ষা অন্য দিনের আমল প্রিয় নয়। -বুখারী শরীফঃ ৯২৬।

২) হাত পায়ের নখ, মাথার চুল ও অবাঞ্ছিত পশম ইত্যাদি না কাটাঃ

যারা কুরবানী করার ইচ্ছে পোষণ করছেন, তারা জিলহজ্ব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার পর হতে হাত পায়ের নখ, মাথার চুল ও অবাঞ্ছিত পশম ইত্যাদি কাটবে না, যদি ৪০ দিন না হয়ে থাকে এগুলো না কাটার মেয়াদ। যদি ৪০দিনের বেশি হয়ে থাকে, তবে এসব কেটে ফেলা আবশ্যক। নতুবা ১০দিন পর কুরবানীর পর পরিস্কার করবে। একাজটি সুন্নাত।
হযরত উম্মে সালমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন (জিলহজ্বের প্রথম) ১০ দিনের সূচনা হয়, আর তোমাদের কেউ কোরবানী করার ইচ্ছে করে, সে যেন চুল-নখ ইত্যাদি না কাটে।
-সুনানে নাসায়ীকুবরা, হাদীস নং-৪৪৫৪, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীসনং-৩১৪৯, সুনানে বায়হাকী, হাদীসনং-১৮৮০৬, মুসনাদুলহুমায়দী, হাদীস নং-২৯৩, মুসনাদে আবী আওয়ানা, হাদীসনং-৭৭৮৭, মুসনাদুশশাফেয়ী, হাদীস নং-৮৪৬, মাশকিলুল আসার,হাদীস নং-৪৮১১।

৩) তাকবীরে তাশরীক পড়াঃ

যিলহজ্ব মাসের ৯তারিখের ফজর থেকে তের তারিখের আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর একবারতাকবীর বলা ওয়াজিব। পুরুষের জন্য আওয়াজ করে, আর মহিলাদের জন্য নীরবে।

তাকবীরে তাশরীকঃ
الله اكبر الله اكبر لا اله الا الله والله اكبرو الله اكبر ولله الحمد
উচ্চারণঃ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ।"

নামায জামাতের সাথে হোক বা একাকি, পুরুষ মহিলা সবার জন্য প্রতি ফরয নামাযের পর এ তাকবীরটিএকবার বলা ওয়াজিব। তিন বার বলা মুস্তাহাব। পুরুষরা উচ্চস্বরে বলবে আর মহিলারা অনুচ্চস্বরে। নামাযকাযা হয়ে গেলে তা আদায়ের পরও তাকবীর বলবে। কাযা নামাযের পর তাকবীর বলতে ভুলে গেলে পরে তাকাযা করার কোন বিধান নাই।
তথ্যঃ ফাতওয়া শামী-তৃতীয়খন্ড,৬১ পৃষ্ঠা, সালাত অধ্যায়, ঈদ পরিচ্ছেদ,
ইলাউস সুনান, সালাত অধ্যায়, তাকবীরাতুত তাশরীক পরিচ্ছেদ, ৮ম , ১৪৮ পৃষ্ঠা।
হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আরাফার দিন তথা ৯ ই জিলহজ্বের ফজর থেকে আইয়ামে তাশরীকের শেষদিন পর্যন্ত পর্যন্ত তথা ১৩ ই জিলহজ্ব (আসর নামায) পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক পড়তেন।
(সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৬০৭১,মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদীস নং-৫৬৮১)

জিলহজ্ব মাসের নয় তারিখ রোযা রাখা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর খাছ সুন্নাত। (যারাহজ্বে যায়নি)

ফযীলতঃ

হযরত আবু কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন
-আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এ রোযা তার পূর্বের ও পরের বৎসরের গোনাহ মুছে ফেলবে। -মুসলিম শরীফ হাদীস নং-৭৪০।

তবে যারা হজ্বে গিয়েছেন, তাদের জন্য এদিন রোযা রাখা উচিত নয়।

হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنها) হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার দিনে আরাফার ময়দানে রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৪৪২,সুনানে বায়হাকীকুবরা, হাদীস নং-৮১৭২,কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়াল আফআল,হাদীস নং-২৩৯২৩, আল মুজামুল আওসাত, হাদীসনং-২৫৫৬)

হযরত উম্মুল ফযল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-লোকেরা আরাফার দিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযা রেখেছেন কি না? তা নিয়ে সন্দেহে পতিত হলে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্য পানীয় প্রেরণ করলাম, আর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা পান করলেন। ফলে সবাই নিশ্চিত হলেন যে, রাসূল (ﷺ) রোযা রাখেন নি। -মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫১।

আলেম উলামাদের মত হল এ রোজার দিন হল যার যার দেশের ৯ই জিলহজ যখন আসে তখন অর্থাৎ সৌদি আরবের ৯ই জিলহজের সাথে মিলিয়ে নয়।

আরাফার দিনের দোয়াঃ

ইখলাছ ও বিশ্বাসের সাথে এ দিনে নিম্নোক্ত দোয়া বেশী বেশী পড়া উচিত। নবীজী আরাফার দিন এ দোয়া খুববেশী পড়তেন। (মুসনাদে আহমাদঃ ৬৯২২ )
لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلٰى كُلَّ شَيْئٍ قَدِيْرٍ

উচ্চারণঃ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহুওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু লাহুল মূলকু ওয়া লাহুলহামদু বিয়াদিহিল খাইরুওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্কদির।

কোরবানী করাঃ

ঈদের দিনের সবচেয়ে বড় আমল হল ঈদের নামায শেষে কোরবানী করা।

১০, ১১ম ১২ যিলহজ্বের যে কোন একদিন,কোন ব্যক্তির মালিকানায় যদি নিত্য প্রয়োজন অতিরিক্ত সাড়ে সাতভরি স্বর্ণ, অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রোপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ থাকে, {বর্তমান বাজার মূল্যে যা৮৪,০০০/= প্রায়} তাহলে তার উপর কোরবানী করা ওয়াজিব।

পুরুষ-মহিলা সকলের উপরই এ বিধান প্রযোজ্য।
তথ্যঃ ফাতওয়াশামী-৯/৪৫৩, ৪৫৭
ফাতওয়া আলমগীরী-৫/২৯২

ফযীলতঃ

হযরত আয়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোরবানীর দিনে বনী আদম এমন কোন কাজ করতে পারে না, যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করা তথাকোরবানী করার চেয়ে বেশি প্রিয়। কোরবানীর পশু সকল শিং, তাদের পশম ও তাদের খুরসহ কেয়ামতের দিন (কোরবানীদাতার পাল্লায়) এসে হাজির হবে। আর কোরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই আল্লাহরনিকট সম্মানের স্থানে পৌছে যায়। সুতরাং তোমরা প্রফুল্লচিত্তে কোরবানী করবে। (সুনানে তিরমিজী, হাদীসনং-১৪৯৩,মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীসনং-৭৫২৩, কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আক্বওয়াল ওয়ালআফআল, হাদীস নং-১২১৫৩)

যায়েদ বিন আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাগণবললেন-হে আল্লাহর রাসূল! এ সকল কুরবানীর ফযীলত কি? উত্তরে তিনি বললেন- তোমাদের জাতির পিতাইবরাহীম আলাইহিস সালাম এঁর সুন্নাত। তারা পুনরায় আবার বললেন-হে আল্লাহর রাসূল! তাতে আমাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন-কুরবানীর পশুর প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে।তারা আবারো প্রশ্ন করলেন-হে আল্লাহর রাসূল! ভেড়ার লোমের কি হুকুম ? (এটাতো গণনা করা সম্ভব নয়) তিনি বললেন-ভেড়ার লোমের প্রতিটি চুলের বিনিময়ে একটি সওয়াব রয়েছে। (সুনানে ইবনে মাজাহ-হাদীসঃ৩১২৭)

ঈদুল আযহার দিনের সুন্নত ও মুস্তাহাব আমল ও ঈদের নামাজ

ঈদুল আজহা ত্যাগ ও আনন্দের দিন। ইসলাম আনন্দ-উৎসবের এ দিনকে ইবাদত-বন্দেগি দ্বারা সুসজ্জিত করেছে।

⚜️ সম্ভব হলে শেষ রাতে ওঠে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা। কারণ এ রাতের মর্যাদা অত্যাধিক। হাদিসশরীফে এ রাতকে লাইলাতুল জিজা বা পুরস্কারের রজনী বলা হয়েছে।
⚜️ ঈদের দিন অতি প্রত্যুশে ঘুম থেকে উঠা।
⚜️ মেসওয়াক করা।
⚜️ গোসল করাঃ ঈদের সালাতের আগে গোসল করা সুন্নাত। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (ﷺ) ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
⚜️ নিজের সামর্থ্যানুযায়ী শরিয়াত সম্মত ভাল পোশাক পরিধান করাঃ ঈদের দিন রাসুল (ﷺ) ভালো পোশাকপরিধান করতেন। হাদিসে আছে, রাসুল (ﷺ)-এর লাল ও সবুজ ডোরার একটি চাদর ছিল, তিনি তা দুই ঈদ ও জুমার দিন পরিধান করতেন।
⚜️ সুগন্ধি ব্যবহার করাঃ সুগন্ধি ব্যবহার সুন্নাত। আর ঈদের দিনে রাসুল (ﷺ) বিশেষভাবে সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। রাসুল (ﷺ)-এর তিনটি পছন্দনীয় জিনিসের মধ্যে একটি হলো সুগন্ধি। তাই ঈদের দিনের পোশাকপরিধানের পর সুগন্ধি ব্যবহার করা চাই।
⚜️ ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়াঃ ঈদের নামাজ যথাসাধ্য চেষ্টা করে ঈদগাহে গিয়ে আদায় খাছ সুন্নাত।মসজিদে নববিতে এক রাকাত নামাজ আদায় করলে পঞ্চাশ হাজার রাকাত নামাজ আদায়ের সমান ছাওয়াব।তথাপি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। সুতরাং ওজর ছাড়া মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা উচিত নয়।
⚜️ আগে আগে ঈদগাহে যাওয়া।
⚜️ ওজর না থাকলে, পায়ে হেটে ঈদগাহে যাওয়া।
⚜️ ঈদগাহে যাওয়ার সময় এক পথ ব্যবহার করা আর ফেরার সময় অন্য পথঃ ঈদগাহে একপথ দিয়ে যাওয়া ওঅন্যপথ দিয়ে ফেরা সুন্নাত। (বুখারি, হাদিস : ৯৮৬) সম্ভব হলে ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যাওয়াও সুন্নাত। (ইবনেমাজাহ, হাদিস : ১০৭১)
⚜️ ঈদগাহে যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর বলা।
⚜️ শুভেচ্ছা বিনিময়ঃ ঈদের দিনে ছোট-বড় সবার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা সুন্নাত। ঈদের দিনে সাহাবায়ে কিরামদের সম্ভাষণ ছিল "তাক্বাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা"।
⚜️ কোরবানি করাঃ ঈদের নামাজ আদায়ের পর নিসাব পরিমাণ মালের মালিকের ওপর কোরবানি করাওয়াজিব। কোরবানির গোশত নিজে খাবে, নিজের পরিবারবর্গকে খাওয়াবে, আত্মীয়-স্বজনকে হাদিয়া-তোহফাদেবে ও গরিব-মিসকিনকে দান করবে। মুস্তাহাব হলো, কোরবানির গোশত তিন ভাগে ভাগ করা। ১. নিজপরিবার-পরিজনের জন্য এক ভাগ। ২. আত্মীয়-স্বজনের জন্য এক ভাগ। ৩. দরিদ্রদের জন্য এক ভাগ। আর যদি পরিবারের লোকসংখ্যা বেশি হয়, তাহলে কোরবানির সব গোশত খেলেও অসুবিধা নেই। (ফাতোয়ায়েশামী৫/২০৮)
⚜️ সকাল থেকে কোন কিছু না খেয়ে কুরবানীর গোশত দিয়ে খানা শুরু করাঃ কোরবানির দিনে ঈদের নামাজের আগে কিছু না খাওয়া মুস্তাহাব। নবী করিম (ﷺ) ঈদুল আজহার দিন কিছুই খেতেন না, যে পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করতেন। (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)
⚜️ ঈদের নামাজের আগে ঘরে বা ঈদগাহে নফল নামাজ না পড়াঃ ঈদের দিন ঈদের নামাজের আগে ওফজরের নামাজের পরে কোনো নামাজ নেই। ঈদের নামাজের কোনো আজান ও ইকামত নেই।
⚜️ আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর নেয়া ও তাদের বাড়ীতে বেড়াতে যাওয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দেয়া।
⚜️ সর্বক্ষেত্রে ত্যাগ ও উৎসর্গের মানসিকতা প্রকাশ করাঃ শুধু কুরবানির ত্যাগই নয়; প্রতিটি ব্যক্তির চলা-ফেরায়, ওঠা-বসায়, নামাজ-রোজায়, ইবাদত-বন্দেগিতে, সবক্ষেত্রে ত্যাগের জলন্ত দৃষ্টান্ত স্থাপনই ঈদুলআজহার শিক্ষা।

⚜️ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাঃ ঈদুল আজহায় পশুর রক্ত, আবর্জনা ও হাড় থেকে যেন পরিবেশ দূষিত না হয়, সেদিকে প্রত্যেক মুসলমানের খেয়াল রাখা উচিত। কোরবানি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রক্ত, আবর্জনা ও হাড় নিরাপদ দূরত্বে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলে দেয়া কর্তব্য। মনে রাখতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।

⚜️ ঈদের নামাজের নিয়মঃ

ঈদের নামায দুই রাকাত অন্যান্য নামাযের মতই। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, প্রতি রাকাআতে ইমাম-মুক্তাদি সকলকে অতিরিক্ত তিনটি তাকবীর বলতে হয়। প্রথম রাকাআতে ছানা পড়ার পর কেরাআতের আগে আর দ্বিতীয় রাকাআতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত এ তাকবীর গুলোতে কান পর্যন্ত হাত ওঠাতে হবে। প্রথম রাকাআতে দুই তাকবীরের পর হাত ছেড়ে দিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত বাঁধবে। দ্বিতীয় রাকাতে তিনো তাকীবেরর পর হাত ছেড়ে দিবে। চতুর্থ তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবে। ঈদের নামাযের পর খুতবা শোনা ওয়াজিব।

ঈদুল আজহায় বর্জনীয় কাজঃ

⚜️ এলাকায় ঈদগাহ থাকাসত্যেও কোন ওজর ব্যতিরেকে ঈদগাহে নামাজ আদায় না করে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা কোন ভাবেই উচিত নয়। কারন এটি সুস্পষ্ট ভাবে সুন্নাতের খেলাফ একটি কাজ।
⚜️ ঈদের দিনে রোজাঃ ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনেরোজা রাখতে নিষেধ করেছেন। -বুখারি ও মুসলিম শরীফ)

⚜️ ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট করাঃ ঈদের দিনকে কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে করে জিয়ারত করা বিদআত, তবে পূর্বনির্ধারিত রুটিন ছাড়া হঠাৎ সুযোগ হয়ে গেলে কেউ জিয়ারত করলে দোষণীয় নয়।

⚜️ ঈদের সালাত আদায় না করে শুধু আনন্দ-ফুর্তি করাঃ অনেকে ঈদের আনন্দে মশগুল হয়ে নতুন জামা-কাপড় পরিধান, সেমাই, ফিরনি গান বাদ্য ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, ঈদের সালাত আদায় করার কথা ভুলেযায়। অথচ এই দিনে ঈদের সালাত ও কোরবানি করাই হচ্ছে মুসলমানদের মূল কাজ।

⚜️ মুসাফাহা-মুআনাকা এ দিনে জরুরি (ফরজ) মনে করাঃ ঈদগাহে বা ঈদের দিন সাক্ষাৎ হলে মুসাফাহা ওমুআনাকা করতেই হবে এমন বিশ্বাস ও আমল করা বিদআত। তবে এমন বিশ্বাস না করে সালাম ও মুসাফাহার পর মুআনাকা (গলায় গলা মিলানো) করায় কোনো অসুবিধা নেই। কারণ মুসাফাহা ও মুআনাকা করার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়। আবু হুরায়রা (رضي الله عنها) থেকে বর্ণিত, একদা হাসান ইবনে আলী(رضي الله عنها) নবী করিম (ﷺ)-এর কাছে এলেন, তিনি তখন তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ও মুআনাকা(কোলাকুলি) করেন।

⚜️ কোরবানির কোনো কিছু বিক্রি করাঃ কোরবানির গোশত, চামড়া ও এর কোনো অংশ বিক্রি করা যাবে না।অর্থাৎ বিক্রি করে নিজে উপকৃত হওয়া যাবে না। এমনকি কসাইকে ও জবাই কারিকে পারিশ্রমিক স্বরূপ গোশতদেওয়া নিষিদ্ধ। (বুখারি, হাদিস : ১৭১৭, মুসলিম, হাদিস : ১৩১৭) তবে সাধারণ ভাবে তাকে খেতে দেওয়ায় অসুবিধা নেই।

⚜️ গান-বাজনা করা, অশ্লীল সিনেমা ও নাটক দেখাঃ ঈদের দিন উপলক্ষে যেখানে গান-বাজনা, অবাধেনারী-পুরুষ বিচরণ ইত্যাদির আয়োজন থাকে, এমন মেলা আয়োজন করা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা দেয়া সম্পূর্ণ হারাম। অনুরূপ ঈদ উপলক্ষে বাড়িঘরে গান-বাজনার বিশেষ আয়োজন, নারী-পুরুষের বিশেষ সাক্ষাৎও অবাধে যেখানে-সেখানে ঘোরাফেরা অমুসলিমদের কালচার। মুসলিমদের জন্য এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। -সুরাআলে ইমরান, আয়াত : ১৪৯, সুরা লুকমান, আয়াত : ৬, ৭।

উপসংহারঃ
আল্লাহ আমাদের প্রত্যেককে কোরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক আমলি জিন্দেগি যাপন করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।

সম্পাদনায়ঃ মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম

(উপরোক্ত আলোচনায় কোন ত্রুটি বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে জানানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে ইনশাআল্লাহ্।

Want your school to be the top-listed School/college in Hazaribag?

Click here to claim your Sponsored Listing.

Location

Telephone

Address


Hazaribag

Opening Hours

Monday 09:01 - 17:00
Tuesday 09:01 - 17:00
Wednesday 09:01 - 17:00
Thursday 21:01 - 17:00
Saturday 09:01 - 17:00
Sunday 09:01 - 17:00