24/10/2022
কম্পিউটার পেরিফেরালস ডিভাইস-১
সাধারণত কম্পিউটারের সঙ্গে সংযুক্ত ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসগুলোকে বলা হয় কম্পিউটার পেরিফেরালস।
কম্পিউটার পেরিফেরালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়-
Input Peripheral: কীবোর্ড, মাউস, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন ইত্যাদি।
Output Peripheral: মনিটর, প্রিন্টার।
Storage Peripheral: CD ROM, DVD drives.
এ পর্বে আমরা কম্পিউটার পেরিফেরাল এর input device সম্পর্কে জানবো।
ইনপুট ডিভাইস( Input Device):
কম্পিউটারে ইনপুট প্রদানের জন্য বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এসকল যন্ত্রকে বলা হয় ইনপুট ডিভাইস (Input Device)।
যেমন: কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার , ট্রাকবল, লাইটপেন, জয়স্টিক, ডিজিটাইজার বা গ্রাফিক্স ট্যাবলেট , MICR, OMR, OCR, বারকোড রিডার, সেন্সর, মাইক্রোফোন , ওয়েবক্যাম, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি।
নিম্নে কিছু Input Device এর ব্যাখ্যাসহ উদাহরণ দেয়া হলো।
কীবোর্ড(Keyboard):
কীবোর্ড এর অন্যনাম হলো কন্ট্রোল বোর্ড যার মধ্যে বর্ণ, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের বিভিন্ন কী-গুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে।
বর্তমানে প্রচলিত কীবোর্ডগুলোতে ১০১-১১০টি কী থাকে।
কীবোর্ডে বিভিন্ন রকমের ধরনের কী থাকে।
ফাংশন কী: F1-F12 পর্যন্ত মোট ১২টি ফাংশন কী রয়েছে।
টাইপিং কী: কীবোর্ডে আলফাবেট(a-z), নম্বর(0-9), বিরাম চিহ্ন এবং বিভিন্ন রকম symbol দিয়ে সাজানো কী।
নিউমেরিক কী প্যাড: 0-9 এবং যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ ইত্যাদি চিহ্নিত ১৭টি নিউমেরিক কী রয়েছে।
কন্ট্রোল কী: এই কী-গুলো একা বা অন্য কোনো কী-এর সাথে মিলে কাজ সম্পাদন করতে পারে যেমন- Shift, Ctrl, Alt, Esc.
নেভিগেশন কী: এগুলোর সাহায্যে যেকোনো ডকুমেন্টে ঘুরে বেড়ানো যায়, কার্সরকে পরিচালনা করা যায়। নেভিগেশন কী এর মধ্যে রয়েছে: Arrow keys, Home key, Delete, insert etc.
মডিফাইয়ার কী (Modifier Keys) : কী-বোর্ডের যে সকল বোতাম চেপে কোনো অক্ষর বা বর্ণ টাইপ করা হয় না, কিন্তু অক্ষর বা বর্ণ বিন্যাসের কাজ এবং অন্যান্য ধরনের কাজ করা হয়, সে সব বোতামকে বলা হয় মডিফাইয়ার কী। যেমন; শিফট (Shift), অপশন (Option), কমান্ড (Command), কন্ট্রোল (Ctrl), অল্টার (Alt)।
কীবোর্ড বিন্যাস: কীবোর্ডের বাম প্রান্তের উপরের ৬টি বর্ণের ক্রম দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কীবোর্ডের লে আউট-এর নামকরণ করা হয়। যেমন: QWERTY layout, QWERTZ layout, AZERTY layout.
অভ্র কীবোর্ড: অভ্র কীবোর্ড হলো বাংলা লেখার একটি মুক্ত সফটওয়্যার। এর উদ্ভাবন করেন মেহেদী হাসান।
মাউস:
মাউস একটি ইনপুট ডিভাইস, এর মাধ্যমে মনিটরের বা প্রোগ্রামের যেকোনো স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ১৯৬৩ সালে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডগলাস এঙ্গেলবার্ট সর্বপ্রথম মাউস আবিষ্কার করেন।
মাউস এর পার্টস: left and right buttons, circuit board, mouse wheel, wire cable.
মাউসের কাজ: পয়েন্টিং, ক্লিক, ডাবল ক্লিক, ড্রাগ এন্ড ড্রপ, hovering, সিলেক্ট।
OCR:
শুধু দাগই বোঝে না, বিভিন্ন বর্ণের পার্থক্যও বুঝতে পারে।
চিঠির পিনকোড, ইলেকট্রিক বিল, ইনস্যুরেন্স প্রিমিয়াম, নোটিশ ইত্যাদি পড়ার জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
মাইক্রোফোন:
মাইক্রোফোন একটি ইনপুট ডিভাইস যা শব্দ রেকর্ডিং এবং voice recognition এর জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রথম আবিষ্কার করেন Emile Berliner, ১৮৭৭ সালে।
জয়স্টিক:
একটি ইনপুট ডিভাইস যাতে আয়তাকার বেসের উপর একটি দন্ড বসানো থাকে। বেসের সাথে কম্পিউটারের সংযোগ থাকে। সাধারণত কম্পিউটারে গেম খেলতে জয়স্টিক ব্যবহৃত হয়। আবিষ্কারক C.B Mirick, ১৯২৬ সালে।
স্ক্যানার:
স্ক্যানারের সাহায্যে যেকোনো ডকুমেন্টকে ইমেজ আকারে কম্পিউটারে সেভ করা যায়।
গ্রাফিক্স ট্যাবলেট:
বিশেষ কলম দিয়ে স্লেট বা প্যাডের উপর ছবি বা কোনো অলংকরণ-এর কাজ করা যায়। এটি কার্যত মাউসের বিকল্প যন্ত্র।
ওয়েবক্যাম:
ওয়েবক্যাম হলো একটি ভিডিও ক্যামেরা যা কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে রিয়েল টাইম ইমেজ বা ভিডিও আদান-প্রদান করে।
ডিজিটাল ক্যামেরা:
চলন্ত এবং স্থির ছবি তুলে তা কম্পিউটারে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়।
ওএমআর:
OMR বা optical mark reader এমন এক যন্ত্র যা পেন্সিল বা কালির দাগ বুঝতে পারে। অবজেক্টিভ প্রশ্নের উত্তর পত্র, পরীক্ষা, বাজার সমীক্ষা, জনগণনা ইত্যাদি কাজে OMR ব্যবহৃত হয়।
MICR-রিডার:
MICR-এর পূর্ণরূপ হল Magnetic Ink Character Recognition.
যে মেশিন MICR লেখা পড়তে পারে তাকে MICR রিডার বলে।
এ পদ্ধতিতে ব্যাংকের চেক নাম্বার লেখা ও পড়া হয়।
বারকোড রিডার:
বারকোড বলতে কম-বেশি চওড়াবিশিষ্ট পর্যায়ক্রমে কতগুলো বার বা রেখার সমাহারকে বুঝায়।
আজ এই পর্যন্ত। ভালো লাগলে নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে রেখে দিন। আগামী পর্বে কম্পিউটার পেরিফেরালস ডিভাইস এর আউটপুট ডিভাইস গুলো নিয়ে আলোচনা করবো।
আজাদ উদ্দিন
মেম্বার, P2A.