Rohingya Chronicle

Call Directions Contact the school

Rohingya Chronicle History • Identity • Humanity • Justice

15/08/2026

A nation that does not preserve its own history — one day, others will write that history their own way.

14/08/2026

ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো—আবেগ নয়, প্রমাণ; প্রচারণা নয়, গবেষণা; বিদ্বেষ নয়, সত্য অনুসন্ধান।


আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস ও মুসলিম উপস্থিতিআরাকান—বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট—দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে একট...
14/08/2026

আরাকানের প্রাচীন ইতিহাস ও মুসলিম উপস্থিতি

আরাকান—বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট—দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তভূমি। একদিকে বঙ্গোপসাগর, অন্যদিকে বঙ্গ অঞ্চল; এই ভৌগোলিক অবস্থান আরাকানকে বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, অভিবাসন, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

এই অঞ্চলকে বুঝতে হলে আধুনিক রাষ্ট্রসীমা দিয়ে প্রাচীন ইতিহাসকে বিচার করা যথেষ্ট নয়। আজকের বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অতীতের মানুষের চলাচল, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে সবসময় আলাদা করে রাখেনি। আরাকান ও বঙ্গের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ ছিল—এটি বিভিন্ন ঐতিহাসিক গবেষণায় উঠে এসেছে।

১. আরাকান: দুই বিশ্বের সংযোগস্থল

আরাকান ছিল ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এর উপকূলীয় অবস্থানের কারণে সমুদ্রপথে আরব, পারস্য, বঙ্গ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠে।

এই যোগাযোগ শুধু পণ্য বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যবসায়ী, নাবিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, প্রশাসক এবং অন্যান্য মানুষের চলাচলের মাধ্যমে ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় প্রভাবও বিস্তার লাভ করে।

ফলে আরাকানের ইতিহাসকে একটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ইতিহাস হিসেবে দেখা কঠিন। এটি ছিল বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় বিশ্বের একটি অংশ।

২. আরাকানে মুসলিম উপস্থিতির ইতিহাস

আরাকানে মুসলিম উপস্থিতি নিয়ে গবেষণায় বিভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। কিছু গবেষক প্রাচীন সমুদ্রবাণিজ্য ও আরব-পারস্যের যোগাযোগকে গুরুত্ব দেন; অন্যরা মধ্যযুগে বঙ্গের সঙ্গে রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত যোগাযোগ এবং পরবর্তী সময়ে আগত জনগোষ্ঠীর ভূমিকার ওপর বেশি গুরুত্ব দেন।

Cambridge University Press-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় রোহিঙ্গাদের আরাকানের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একটি সীমান্তভূমির জনগোষ্ঠী হিসেবে আলোচনা করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় বহু শতাব্দীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সংমিশ্রণের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রোহিঙ্গা পরিচয়ের উৎপত্তি ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদও রয়েছে। তাই ইতিহাসের দায়িত্বশীল উপস্থাপনায় একটি নির্দিষ্ট দাবিকে একমাত্র সত্য হিসেবে না দেখিয়ে বিভিন্ন প্রমাণ ও ব্যাখ্যা পাশাপাশি রাখা জরুরি।

৩. ম্রাউক-উ রাজ্য

আরাকানের ইতিহাসে ম্রাউক-উ (Mrauk-U) একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মধ্যযুগ ও প্রাক-আধুনিক যুগে ম্রাউক-উ ছিল আরাকানের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।

ম্রাউক-উ রাজ্যের সঙ্গে বঙ্গের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। এই সময় আরাকানের দরবারে মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাবও দেখা যায়। আরাকান নিয়ে গবেষণায় বাংলা ও পারস্যভাষী সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে এই রাজ্যের যোগাযোগ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একটি বৌদ্ধ রাজ্যে মুসলিম কর্মকর্তা, কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি মধ্যযুগীয় আরাকানের বহুমাত্রিক সমাজব্যবস্থার একটি দিককে প্রকাশ করে।

৪. বাংলা ও আরাকানের সম্পর্ক

আরাকান ও বাংলার সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশী দুই অঞ্চলের সম্পর্ক ছিল না। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষের পাশাপাশি বাণিজ্য, সাহিত্য, প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও ছিল।

চট্টগ্রাম ও আরাকানের ভৌগোলিক নৈকট্য এই সম্পর্ককে আরও গভীর করেছিল। Naf নদী এবং বঙ্গোপসাগর এই দুই অঞ্চলের মানুষের চলাচলকে প্রভাবিত করলেও তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখেনি।

এই কারণেই আরাকানের ইতিহাসে বাংলা ভাষা ও বাংলা সংস্কৃতির প্রভাব নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ।

৫. আরাকানি দরবারে বাংলা সাহিত্য

আরাকানের ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে রাজদরবারের সম্পর্ক।

ম্রাউক-উ রাজদরবারে বাংলা ভাষায় সাহিত্যচর্চা হয়েছিল এবং মুসলিম কবিরা রাজদরবারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন। এই বিষয়টি দেখায় যে তৎকালীন আরাকান কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সমাজ ছিল না; বরং সেখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ধারার পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল।

এই সাংস্কৃতিক ইতিহাস রোহিঙ্গা ও আরাকানের অতীত বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

৬. “রোহিঙ্গা” নাম নিয়ে বিতর্ক

রোহিঙ্গা ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর একটি হলো—“Rohingya” নামটির ঐতিহাসিক ব্যবহার কতটা প্রাচীন এবং এর আধুনিক রাজনৈতিক পরিচয় কীভাবে গড়ে উঠেছে।

কিছু গবেষণা রোহিঙ্গা পরিচয়কে আরাকানের দীর্ঘস্থায়ী মুসলিম জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে। আবার অন্য গবেষণায় বলা হয়েছে যে আধুনিক “Rohingya” পরিচয় বিশেষ করে ঔপনিবেশিক যুগের শেষভাগ ও স্বাধীনতার পরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সুতরাং ইতিহাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান হলো—পরিচয়ের দাবিকে অস্বীকার না করে, আবার প্রমাণের সীমারেখাকেও অতিক্রম না করা।

৭. ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা

আরাকানের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়:

সীমান্ত পরিবর্তিত হতে পারে, রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তিত হতে পারে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তিত হতে পারে—কিন্তু একটি অঞ্চলের মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক যোগাযোগ এক দিনে মুছে যায় না।

রোহিঙ্গা ইতিহাস বোঝার জন্য তাই শুধু ২০১৭ সালের ঘটনা জানা যথেষ্ট নয়। জানতে হবে আরাকানের ভৌগোলিক অবস্থান, বঙ্গের সঙ্গে সম্পর্ক, ম্রাউক-উ রাজ্য, মুসলিম সমাজের বিকাশ, ঔপনিবেশিক শাসন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা।

ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হলো—আবেগ নয়, প্রমাণ; প্রচারণা নয়, গবেষণা; বিদ্বেষ নয়, সত্য অনুসন্ধান।

14/08/2026

A legend on the field, a hero off it. 🌍⚽
Mesut Özil ’s visit to the Rohingya refugee camp reminds us that true greatness goes beyond football—it’s about standing with humanity, showing compassion, and giving hope to those who need it most. ❤️
Respect for using his platform to make a difference.

ইতিহাস কেন সংরক্ষণ করা জরুরি?একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস হারিয়ে গেলে তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও হারিয়ে যায়। তাই রোহিঙ্...
14/08/2026

ইতিহাস কেন সংরক্ষণ করা জরুরি?
একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস হারিয়ে গেলে তার পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশও হারিয়ে যায়। তাই রোহিঙ্গাদের ইতিহাস সংরক্ষণ মানে শুধু অতীতের ঘটনা লেখা নয়; বরং পুরোনো দলিল, মানচিত্র, মৌখিক ইতিহাস, সাহিত্য, ভাষা, সংস্কৃতি, পারিবারিক স্মৃতি এবং নির্ভরযোগ্য গবেষণাকে সংরক্ষণ করা।

Rohingya Chronicle-এর উদ্দেশ্য হবে—ইতিহাসকে আবেগ দিয়ে নয়, তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরা; বিতর্কিত বিষয়কে বিতর্কিত হিসেবেই উপস্থাপন করা; এবং রোহিঙ্গাদের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য জ্ঞানভাণ্ডার তৈরি করা।
কারণ—
যে জাতি নিজের ইতিহাস সংরক্ষণ করে না, অন্যরা একদিন তার ইতিহাস নিজের মতো করে লিখে দেয়।



ইতিহাস, পরিচয় ও সংগ্রামের দলিলরোহিঙ্গা কারা?ইতিহাস শুধু অতীতের কিছু তারিখ ও ঘটনার সমষ্টি নয়। ইতিহাস একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয়...
14/08/2026

ইতিহাস, পরিচয় ও সংগ্রামের দলিল

রোহিঙ্গা কারা?

ইতিহাস শুধু অতীতের কিছু তারিখ ও ঘটনার সমষ্টি নয়। ইতিহাস একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয়, স্মৃতি, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। রোহিঙ্গাদের ইতিহাসও তেমনই—দীর্ঘ সময় ধরে আরাকান নামে পরিচিত অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, যার মধ্যে রয়েছে মুসলিম সংস্কৃতির বিকাশ, আঞ্চলিক যোগাযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি এবং নিজেদের পরিচয় রক্ষার দীর্ঘ সংগ্রাম।

বর্তমান মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট ঐতিহাসিকভাবে আরাকান নামে পরিচিত ছিল। এই অঞ্চল বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় বহু শতাব্দী ধরে বঙ্গ, আরাকান ও ভারত মহাসাগরীয় বিশ্বের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। UNHCR-এর ঐতিহাসিক পর্যালোচনায়ও আরাকান ও বঙ্গের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যোগাযোগ এবং ইসলামের সঙ্গে অঞ্চলের প্রাথমিক সংযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের ইতিহাসের প্রাচীন উৎস নিয়ে গবেষকদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এই জনগোষ্ঠীর শিকড়কে বহু শতাব্দী আগের স্থানীয় ও আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করেন; আবার কেউ আরাকানের মধ্যযুগীয় মুসলিম বসতি ও পরবর্তী সময়ের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন। UNHCR-এর একটি ঐতিহাসিক মূল্যায়নও উল্লেখ করে যে রোহিঙ্গা পরিচয় ও উত্তর রাখাইনে তাদের ইতিহাসের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আরাকান ছিল বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, ভাষা ও ধর্মের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের একটি অঞ্চল। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এখানে বাণিজ্য, অভিবাসন, বিবাহ, রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় ঘটেছে। তাই এই অঞ্চলের ইতিহাসকে একটি মাত্র জাতি বা একটি মাত্র সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা ইতিহাসের জটিলতাকে ছোট করে ফেলে।

আরাকানে মুসলিম উপস্থিতি

আরাকানের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের যোগাযোগের ইতিহাস বহু পুরোনো। সমুদ্রপথে আরব ব্যবসায়ীদের আগমন এবং বঙ্গ অঞ্চলের সঙ্গে আরাকানের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতির প্রভাব এই অঞ্চলে বিস্তার লাভ করে। পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে আরাকানের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়।

আরাকানের ইতিহাসে ম্রাউক-উ (Mrauk-U) রাজ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্চদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে ম্রাউক-উ ছিল একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজ্য, যার সঙ্গে বঙ্গের রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। এই সময়ের ইতিহাসে মুসলিম কর্মকর্তা, কবি, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য মানুষের উপস্থিতির উল্লেখ পাওয়া যায়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—ইতিহাসকে শুধু বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের আলোকে বিচার করলে অতীতের বহুস্তরীয় বাস্তবতা হারিয়ে যায়।

ঔপনিবেশিক যুগ ও জনসংখ্যার পরিবর্তন

১৮২৪ সালে প্রথম অ্যাংলো-বর্মিজ যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা আরাকানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরবর্তী সময়ে বার্মা ব্রিটিশ ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ হয়ে যায়। ঔপনিবেশিক যুগে ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক ও অন্যান্য মানুষ বার্মায় যাতায়াত ও বসতি স্থাপন করেন। এর ফলে আরাকানসহ বিভিন্ন অঞ্চলের জনসংখ্যাগত কাঠামোতে পরিবর্তন আসে।

এই সময়ের অভিবাসন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পর্ক পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই রোহিঙ্গা ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক প্রশাসন, সীমান্তের পরিবর্তন এবং তৎকালীন অভিবাসন—সবকিছুকে একই সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

স্বাধীনতার পর নতুন বাস্তবতা

১৯৪৮ সালে বার্মা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর দেশটির বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক অবস্থান ও নাগরিকত্বের প্রশ্ন ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পরবর্তী দশকগুলোতে রোহিঙ্গারা ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ও অধিকার সংকটের মুখোমুখি হয়। ১৯৭০-এর দশকের শেষভাগে বড় আকারের বাস্তুচ্যুতি ঘটে; ১৯৭৮ সালে প্রায় দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে বলে বিভিন্ন UNHCR নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়।

১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয় এবং পরবর্তীকালে তারা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়।

১৯৯১–৯২: আরেকটি বড় ঢেউ

১৯৯১ ও ১৯৯২ সালে আবারও বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। UNHCR-এর ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ২,৫০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হলেও রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও অধিকার প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

২০১৭: ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতিগুলোর একটি

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন স্টেটে ব্যাপক সহিংসতার পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। UNHCR-এর হিসাবে, ২০১৭ সালের সেই সংকটে ৭,৫০,০০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

এর ফলে কক্সবাজারে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি গড়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত UNHCR-এর হিসাবে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখেরও বেশি; ২০২৬ সালের জুনে UNHCR বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর কথা জানিয়েছে।



Muhammad Noor will be joining SEAN Seminar 6.0 in Dhaka.Mohammad Nur is a human rights activist, technologist, and entre...
14/08/2026

Muhammad Noor will be joining SEAN Seminar 6.0 in Dhaka.

Mohammad Nur is a human rights activist, technologist, and entrepreneur, and the founder of The Rohingya Project, Rohingya Vision and Rohingya Football Club. He works to advance Rohingya inclusion, language preservation, and technology-driven humanitarian initiatives.

Register today to be part of this event.

🔗 Registration link is in the comments.

ঢাকা সিয়ান সেমিনার ৬.০-এ থাকছেন মোহাম্মদ নূর।

মোহাম্মদ নুর একজন মানবাধিকারকর্মী, প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা। তিনি রোহিঙ্গা প্রজেক্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং রোহিঙ্গা ভিশন ও রোহিঙ্গা ফুটবল ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। রোহিঙ্গাদের সামাজিক ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ভাষা সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক উদ্যোগে তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

আপনিও এই আয়োজনে অংশ নিতে এখনই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।

🔗 রেজিস্ট্রেশন লিংক কমেন্টে।

২৫ আগস্ট। একটি তারিখ, যা রোহিঙ্গাদের কাছে ঘর হারানোর দিন, স্বজন হারানোর দিন, আর একটি জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত পরিকল্পিত ন...
14/08/2026

২৫ আগস্ট। একটি তারিখ, যা রোহিঙ্গাদের কাছে ঘর হারানোর দিন, স্বজন হারানোর দিন, আর একটি জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত পরিকল্পিত নিপীড়নের ভয়াবহ স্মৃতি।

২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হয়। হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং নির্বিচার সহিংসতার মুখে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এর আগে কয়েক দশক ধরে চলা বৈষম্য, নাগরিকত্বহীনতা ও সামরিক নিপীড়নের ধারাবাহিকতাই ২০১৭ সালে এসে ভয়াবহ গণহত্যার রূপ নেয়।

আজও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো সেই অপরাধের জীবন্ত সাক্ষ্য।

রোহিঙ্গা সংকটকে বহু দশক ধরে পরিচালিত রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও বঞ্চনার ফল।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ক্রমাগত সংকুচিত করেছে। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন তাদের বিশাল অংশকে কার্যত রাষ্ট্রহীন করে ফেলে। চলাফেরার স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ—প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাদের ওপর আরোপ করা হয় নানা বিধিনিষেধ।

অর্থাৎ ২০১৭ সালের গণহত্যা হঠাৎ করে শুরু হয়নি। তার বহু আগে থেকেই একটি জনগোষ্ঠীকে আইন, প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সমাজের প্রান্তে ঠেলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল।

গণহত্যা কেবল মানুষ হত্যার নাম নয়; একটি জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে তাদের জীবন, পরিচয়, অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করার প্রক্রিয়াও এর অংশ। রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়ার বহু উপাদানই দৃশ্যমান।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের পর রাখাইনের পর রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের তথ্য নথিবদ্ধ করে।

হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়। অসংখ্য নারী ও শিশু ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়। শত শত গ্রাম ধ্বংস হয়ে যায়।

আর যারা বেঁচে যায়, তাদের সামনে ছিল একটাই পথ—পালানো।

নাফ নদী পেরিয়ে, পাহাড়-জঙ্গল অতিক্রম করে, কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো নৌকায় করে লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পৌঁছায়। তাদের অনেকের কাছে তখন আর কোনো ঘর ছিল না, কোনো সম্পদ ছিল না, এমনকি পরিবারের সব সদস্যও ছিল না।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গা গণহত্যার জন্য দায়ী নয়। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগীদের একটি বাংলাদেশ। বিশেষ করে কক্সবাজারের ওপর এই সংকটের অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাগত চাপ বিপুল।

একটি সীমিত সম্পদের দেশে কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় নিশ্চিত করা কোনো ছোট কাজ নয়। খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর ওপর তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী চাপ। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অভিঘাত বহন করতে হচ্ছে।

কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা শুধু অর্থনৈতিক নয়।

একটি রাষ্ট্র যখন নিজের ভূখণ্ডে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয় দেয়, তখন সেটি একটি সাময়িক মানবিক সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী ভূরাজনৈতিক সংকটে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বহন করে।

১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে বার্মা কার্যত তার সীমান্তকে বাড়িয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তার সীমানা আজ আর নাফ নদীতে নেই, তা ২০ কিলোমিটার ভেতরে সরে এসে ঢুকে গেছে টেকনাফ-উখিয়ায়। আমাদের ভূখণ্ডের ভেতরে কার্যত বার্মার সুরক্ষার জন্য তৈরি হয়ে গেছে একটা ‘বাফার যোন’।

বাংলাদেশ তাই একই সঙ্গে মানবিক দায়িত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ—দুই দিক থেকেই একটি কঠিন অবস্থানে রয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকগুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা।

গণহত্যার পর আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা হয়েছে। তদন্ত হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।

এই সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, অ্যামেরিকা, চীন কিংবা ভারতের কাছে সাহায্য আশা করাটা বোকামি। চীন এবং অ্যামেরিকা, দুজনেরই ভারত মহাসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ দরকার। ভারতের দরকার সেভেন সিস্টার্স-এর সাথে যোগাযোগের বিকল্প পথ।

পরাশক্তিগুলোর স্বার্থের এই সমীকরণে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কান্না কিংবা আমাদের নিরাপত্তার কানাকড়ি মূল্য নেই। যতক্ষণ তাদের স্বার্থে আঘাত না লাগছে, ততক্ষণ তারা কোনো সমাধান হতে দেবে না। আর তথাকথিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা জাতিসংঘের কাছে এটা একটি এনজিও প্রজেক্ট, যা জিইয়ে রেখে তারা এ অঞ্চলে প্রভাব বজায় রাখতে চায়।

গণহত্যার সবচেয়ে বড় সাফল্য কখনো কখনো শুধু মানুষ হত্যা করা নয়।

মানুষকে ভুলে যাওয়া।

২০১৭ সালের ভয়াবহতা আজ ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম থেকে সরে গেছে। বিশ্বে নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। নতুন নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির অগ্রাধিকার বদলেছে।

কিন্তু কক্সবাজারের ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া একটি শিশু জানে না তার নিজের দেশ কোথায়। একজন মা জানেন না, তার সন্তান কখনো নিজের পূর্বপুরুষের বাড়ি দেখতে পারবে কি না। এই অনিশ্চয়তাই রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ বাস্তবতা।

একটি প্রজন্ম শরণার্থী শিবিরে বেড়ে উঠছে। আর পৃথিবী যেন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে।

গণহত্যা কখনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়ে থাকতে পারে না। রোহিঙ্গাদের ওপর যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিচার প্রয়োজন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের জবাবদিহি প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োজন। এবং বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন একটি দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তববাদী ও দৃঢ় কূটনৈতিক কৌশল—যাতে একদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার রক্ষা হয়, অন্যদিকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাও সুরক্ষিত থাকে।

Address

Hathazari

Telephone

+8801608932404

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rohingya Chronicle posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The School

Send a message to Rohingya Chronicle:

Shortcuts

Share

Category