18/09/2026
একদিন খলিফা হারুন-অর-রশীদ তাঁর রাজদরবারে বসে ছিলেন। তখন সেখানে উপস্থিত হলেন খলিফার অত্যন্ত প্রিয় এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব হযরত বহলুল (রহ.)। খলিফা তখন ভীষণ তৃষ্ণার্ত ছিলেন। তিনি দাসদেরকে এক গ্লাস পানি আনার নির্দেশ দিলেন।
একটু পরেই রাজকীয় পাত্রে খলিফার জন্য ঠান্ডা পানি আনা হলো। খলিফা যখন পানি পান করার জন্য গ্লাসটি হাতে নিলেন, তখন বহলুল (রহ.) তাঁকে থামিয়ে দিলেন।
বহলুল বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন! পানি পান করার আগে আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিন।
খলিফা একটু অবাক হয়ে বললেন, বলো বহলুল, কী জানতে চাও?
বহলুল প্রশ্ন করলেন, মনে করুন, আপনি কোনো এক তীব্র গরমে বিশাল এক মরুভূমির মাঝে আটকা পড়েছেন। আপনার সাথে কোনো পানি নেই এবং পিপাসায় আপনার প্রাণ ওষ্ঠাগত। এমন সময় যদি কেউ এক গ্লাস পানি নিয়ে আপনার সামনে আসে, তবে সেই এক গ্লাস পানির বিনিময়ে আপনি তাকে কী দেবেন? আপনি আপনার সাম্রাজ্যের কতটা অংশ দিতে রাজি হবেন?
খলিফা একটুও চিন্তা না করে বললেন, যেহেতু পানি না পেলে আমি মারা যাব, তাই নিজের জীবন বাঁচাতে আমি আমার অর্ধেক রাজত্ব ওই এক গ্লাস পানির বিনিময়ে দিয়ে দেব।
বহলুল মুচকি হেসে বললেন, ঠিক আছে জাঁহাপনা, এবার আপনি বিসমিল্লাহ বলে পানিটুকু পান করুন।
খলিফা তৃপ্তি সহকারে পানিটুকু পান করলেন। পানি পান শেষ হতেই বহলুল (রহ.) আবার খলিফাকে প্রশ্ন করলেন, হে খলিফা! এবার আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনি যে পানিটুকু পান করলেন, তা যদি কোনো কারণে আপনার শরীর থেকে প্রস্রাব বা ঘাম হয়ে বের হতে না পারে এবং তা আপনার শরীরের ভেতরেই আটকে যায়, তবে সেই পানি বের করার চিকিৎসার জন্য আপনি কতটা মূল্য দিতে রাজি হবেন?
খলিফা উত্তর দিলেন, শরীরে পানি আটকে গেলে তো আমি যন্ত্রণায় ছটফট করে মারা যাব। তাই এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমি আমার বাকি অর্ধেক রাজত্বও দিয়ে দেব।
তখন হযরত বহলুল (রহ.) এক গভীর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন
হে খলিফা! তাহলে ভেবে দেখুন, আপনার যে বিশাল সাম্রাজ্য নিয়ে আপনার এত অহংকার, তার মোট মূল্য হলো মাত্র এক গ্লাস পানি পান করা এবং তা শরীর থেকে বের করার সমান! যে নিয়ামত মহান আল্লাহ আপনাকে প্রতিদিন হাজারো বার বিনামূল্যে দিচ্ছেন, তার মূল্য আপনার পুরো রাজত্বের চেয়েও বেশি।
বহলুলের এই গভীর ও শিক্ষণীয় কথা শুনে খলিফা হারুন-অর-রশীদ স্তব্ধ হয়ে গেলেন এবং তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি আল্লাহর দরবারে সেদিনের পর থেকে বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা শুরু করলেন।
আমরা প্রতিনিয়ত আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মাঝে ডুবে থাকি। যেমন শ্বাস প্রশ্বাসের বাতাস, তৃষ্ণার পানি, চোখের আলো বা সুস্থতা। কিন্তু এগুলো সহজে পাই বলে আমরা কখনো এর মূল্য বুঝতে পারি না এবং শুকরিয়া আদায় করি না।
অথচ এই ছোট ছোট একেকটি নিয়ামত না থাকলে পৃথিবীর সমস্ত ধন-সম্পদ দিয়েও আমরা বেঁচে থাকতে পারতাম না। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহর দেওয়া সব নিয়ামতের জন্য মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলা।