24/02/2026
"The teacher is the one who gets burnt like a candle to provide light to others."
(শিক্ষক হলেন সেই মোমবাতি, যিনি নিজেকে পুড়িয়ে অন্যকে আলো দান করেন।)
কিন্তু গত ১১ বছর ধরে সেই মোমবাতিটি পুড়তে পুড়তে আজ নিঃশেষিত প্রায়। আমরা আলোকবর্তিকা হতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজ আমরা এক অমানবিক "অচলায়তনের" খাঁচায় বন্দি।
যে হাত দিয়ে আমরা আগামীর স্থপতি, ডাক্তার কিংবা নীতিনির্ধারক গড়ে তুলি, মাস শেষে সেই হাতটিই যখন বাজারের ব্যাগের শূন্যতা ঢাকতে পকেটে লুকিয়ে ফেলি, তখন সভ্যতার মুখ কি লজ্জায় অবনত হয় না? আমরা ক্লাসে শেখাই—"পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি", অথচ আমাদের নিজেদের ঘাম আজ ১১ বছরের বাসি পে-স্কেলের নিচে চাপা পড়ে গেছে। এটি কেবল আর্থিক সংকট নয়, এটি একটি জাতির মেধার ওপর চরম অবজ্ঞা।
২০১৫ থেকে ২০২৬—মাঝখানে দুটি পে-স্কেল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়ের স্রোত বয়ে গেলেও আমাদের জীবনের চাকাটি ২০১৫-এর সেই মরচে ধরা কাঁটায় আটকে আছে।
অঙ্কের হিসাব যখন অমিল: বাজারের দ্রব্যমূল্য বেড়েছে 'জ্যামিতিক হারে' (Geometric Progression), আর আমাদের প্রাপ্তি বাড়ছে 'গাণিতিক হারের' (Arithmetic Progression) চেয়েও ধীরলয়ে। এই অসম সমীকরণে জীবন আজ ক্লান্ত।
একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার আত্মসম্মান। আজ সেই সম্মানটুকু বাঁচাতে গিয়ে আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমরা না পারি লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নিতে, না পারি কারো কাছে হাত পাততে।
প্লেটো বলেছিলেন, "শিক্ষা হলো আত্মাকে সত্যের দিকে পরিচালিত করা।" কিন্তু যে শিক্ষকের আত্মা ক্ষুধার্ত, যার মন দুশ্চিন্তায় জর্জরিত, তিনি কীভাবে আগামীর প্রজন্মকে সত্যের পথ দেখাবেন? আমরা দয়া ভিক্ষা করছি না, আমরা আমাদের যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
কর্তা ব্যক্তিদের প্রতি বিনম্র নিবেদন:
মাননীয় নীতিনির্ধারকগণ, আপনারা আমাদেরই ছাত্র। আপনাদের সাফল্যের প্রতিটি ইটে আমাদের সামান্য হলেও শ্রম আছে। আজ যখন দেয়ালে আমাদের পিঠ ঠেকে গেছে, তখন আপনাদের একটি কলমের আঁচড় পারে হাজার হাজার শিক্ষক পরিবারের ঘরে হাসির ঝিলিক ফিরিয়ে আনতে। রাষ্ট্র কেবল দালান-কোঠায় বড় হয় না, রাষ্ট্র বড় হয় তার শিক্ষকের সম্মানে।
আমরা আর কতকাল "ধৈর্যের পরীক্ষায়" অবতীর্ণ হব? আমাদের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে দিন, যেন আমরা আপনাদের সন্তানদের মেরুদণ্ড আরও শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি। ১১ বছরের এই দীর্ঘ খরা কাটুক, বর্ষিত হোক ন্যায়ের বারিধারা।
#শিক্ষকের_মর্যাদা_জাতির_গৌরব