শতবর্ষের ঐতিহ্যে লালিত বৃহত্তর সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের অন্যতম
”শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয় “। এ বিদ্যালয়ের রয়েছে এক সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ১৯১৮ ইং সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে যাঁর নাম জড়িয়ে আছে, তিনি ছিলেন তৎকালীন জমিদার শ্রী নবীণ বাবু ।একজন মহান দানবীর ও সমাজসংস্কারক হিসেবে যিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব। তাঁরই দানকৃত জায়গায় গড়ে উঠেছিল এ স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ। পরবর্তিতে তাঁর সুযোগ্য
উত্তরসুরী বাবু সুরেশ চন্দ্র রায় এ স্কুলে শিক্ষকতা করে ছিলেন আমৃত্যু । তাঁদের এ অবদান স্কুলের ইতিহাসে এক অনন্য নজির হয়ে আছে ।
দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভুমিকা রেখে আসছে। শতবর্ষী এ প্রতিষ্ঠানে পাঠ নিয়ে যারা বেরিয়েছেন তারা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও সুনামের সাথে অবদান রেখে চলেছেন।এ স্কুলের প্রবীণ শিক্ষকগণ যাদের অনেকেই হয়ত আজ বেচেঁ নেই কিন্তু তাদের হাতে-কলমে দীক্ষা নেয়া শিক্ষার্থিগণ স্বমহিমায় নিয়োজিত আছেন বিশ্বর নানা প্রান্তে নানান পেশায় ।
খরস্রোতা খোয়াই নদী বিধৌত স্কুলের পশ্চিমে রয়েছে সুবিশাল খেলার মাঠ, মসজিদ, পুকুর ও প্রধান শিক্ষকের বাসস্থান।শায়েস্তাগঞ্জ প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা এবং দেশের ৪৯২ তম উপজেলায় উন্নিত হয়েছে। এ অর্জনের পেছনেও অবদান রয়েছে ঐতিহ্যবাহী স্কুলের সাবেক কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের। রেল ও সড়ক যোগাযোগ উন্নত হওয়ায় এবং হবিগঞ্জ জেলায় প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় শায়েস্তাগঞ্জের পৌরসভা ঘেষে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল।
এ বিদ্যালয়ে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের পুস্তকসমৃদ্ধ একটি কেন্দ্রীয় পাঠাগার। রয়েছে বিজ্ঞানাগার,মিলনায়তন,মেয়েদের কমন রুম। বিদ্যালয়ে বিএনসিসি, রোভার স্কাউট কার্যক্রম ও চালু রয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি খেলাধূলা, সাহিত্য-সংস্কৃতিচর্চা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রভৃতি শিক্ষা সহায়ক কর্মকান্ডের ব্যবস্থা রয়েছে। এ স্কুলের ছাত্ররা খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চায় জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ পুরুস্কৃত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে তিনযুগেরও বেশী সময় শিক্ষকতা পেশায় নিবেদিত সাবেক প্রধান শিক্ষক মরহুম মো: আবদুন নূর চৌধুরী একসময়ে বেসরকারি শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)-এর কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সারা দেশে এই স্কুলকে নেতৃত্বের আসনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে গেছেন। শুরু থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার সকল শ্রেণীর (ধনী/দরিদ্র) শিক্ষার্থীদের মাঝে অত্যন্ত সুনামের সাথে শিক্ষা বিস্তারে নিয়োজিত।
দেশের দু’জন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ স্কুলের কৃতি ছাত্র ছিলেন যা নিঃসন্দেহে গর্বের।সৈয়দ এ বি মাহমুদ হোসেন ও সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করে ছিলেন ।বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব শ্রী অশোক মাধব রায়, আমেরিকার তুলানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিওলজি বিভাগের স্বনামধন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও গবেষক, জনপ্রিয় অধ্যাপক ডঃ ডিএসএ মজিদ, জনাব এস, এম, মিজানুর রহমান, সাবেক পুলিশ কমিশনার(ডি এম পি) ও র্যাবের মহা পরিচালক (ডিজি), বৃটেনের মূল ধারার আইন পেশায় জড়িত ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।
এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক,সচিব,প্রশাসনিককর্মকর্তা,আইনজীবী,বৈজ্ঞানিক, ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার,ব্যাংকার,সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, অভিনয় শিল্পী, ব্যবসায়ী সহ নানা শ্রেণী পেশায় সুনাম কুড়িয়েছেন এ স্কুলের মেধাবী শিক্ষার্থিগন।