23/05/2021
োস্টটি_তাদের_জন্য_যাদের_আত্নবিশ্বাস_তলানিতে
সোহাগ তালুকদার
যদি আপনার সামনে ফনা তুলা একটি বিষধর সাপ দাড়িয়ে থাকে, তখন আপনি কী করবেন? নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে থাকবেন না, যদিও আপনি খুব ভাল করেই জানেন, ওই সময়টাতে দৌড় দিলেও সাপের ছোবল থেকে বাঁচার সম্ভাবনা নিতান্তই কম বা নেই বললেই চলে।তখন কি আপনি বাঁচার চেষ্টাটা করবেন না?অবশ্যই আপনি আপনার সবটুকু দিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টাটা করে দেখবেন এই আশায়, যদি সৃষ্টিকর্তার দয়ায় বা কোনো এক মিরাকলে বেঁচে যান! মানুষ এভাবেই বাঁচে---বেঁচে থাকার সুযোগ সামান্য তারপর ও ১০০% over চেষ্টা করে বেঁচে যায়! একেবারে ছেড়ে দেয়ার চাইতে মিরাকলে বিশ্বাস করে লেগে থাকা ভাল।
ধরেই নিলাম, আপনি চাকরি পাবেন, এর সম্ভাবনা মাত্র ১%। চাকরির পরীক্ষা তো দেবেনই, নাকি? পরীক্ষা যদি দিতেই হয়, তবে পড়াশোনা না করে দিয়ে কী লাভ? দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অভিজ্ঞতা থেকে বলছি,মাত্র ১% সম্ভাবনায় ৫০% লোক চাকরি পায়। ওরা যদি পায়, তবে আপনি কেন পাবেন না? ১০০% over চেষ্টা দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে দিন---এই মুহূর্ত থেকেই!শুরু করব, শুরু করব বলে কালক্ষেপণ করবেন না।
আমার নিজের মতো করে কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। এগুলিকে আপনার মতো করে কাজে লাগাবেন।আশা করি উপকার পাবেন।আত্নবিশ্বাস চাঙ্গা হবে দিন দিন।
১. নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাসা থেকে বের হওয়া একেবারেই বন্ধ করে দিন।
২. প্রতিদিন পড়াশোনা করুন অন্তত ১৬ ঘণ্টা; ১৬ ঘন্টা সম্ভব না হলে অন্তত ৭/৮ ঘণ্টা। এ সময়টাতে ৬ ঘণ্টার চাইতে বেশি ঘুম একধরণের বিলাসিতা। বিশ্বাস করে নিন, আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীর চাইতে যত মিনিট কম ঘুমাবেন, উনার তুলনায় আপনার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তত % বেশি।
৩. একটা বিষয় পড়তে পড়তে ক্লান্ত হয়ে পড়লে আপনার পছন্দের সহজ বিষয়টি পড়া শুরু করুন।
৪. ফোন রিসিভ করা, ফেসবুকিং, সামাজিকতা কমিয়ে দিন। পড়ার টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটি দূরে রাখুন।
৫.অংক, ব্যাকরণ, সহজে বশে আসে না এমন টপিকগুলো প্রতিদিনই চর্চা করুন।
৬. অমুক তারিখের মধ্যে অমুক সাবজেক্ট/ টপিক, যত কষ্টই হোক, শেষ করে ফেলবো, এই টার্গেট নিয়ে পড়ুন।
৭. পড়ার সময় লিখে পড়ার তেমন প্রয়োজন নেই, বরং বারবার পড়ুন।
৮. মার্কস এবং প্রশ্নের গুরুত্ব অনুসারে কোন টপিকে কত সময় দেবেন, এটা অবশ্যই ঠিক করে নেবেন।
৯. সব সাজেশন্সই দেখবেন, কিন্তু কোনটাই ফলো করবেন না। সবচেয়ে সেরা সাজেশন্স বিগত সালে যে কোনো চাকরির পরীক্ষায় আসা সকল প্রশ্নের উত্তর নখদর্পণে রাখুন।
১০. রেফারেন্স বই কম পড়ে গাইডবই বেশি পড়ুন। যেমন mp3, professor job solution.৫টি রেফারেন্স বই পড়ার চেয়ে ১টি লেটেস্ট গাইডবই উল্টেপাল্টে দেখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।কারন এতে আপনার সময় বাঁচবে এবং কমন পাবেন বেশি।
১১. প্রতিদিনই প্রার্থনা করুন, সবার সাথে বিনীত আচরণ করুন। এটা আপনাকে ভাল প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করবে।
১২. যে জিনিসগুলি কিছুতেই মনে থাকে না, আপনার কাছে খুবই কঠিন।সে জিনিসগুলি মনে রাখার অতিচেষ্টা বাদ দিন। অন্যকেউ ওটা পারে মানেই আপনাকেও ওটা পারতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আপনি যা পারেন, তা যেন ভালোভাবে পারেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
১৩. সবকিছু পড়ার সহজাত লোভ সামলান। বেশি পড়া নয়, প্রয়োজনীয় টপিক বেশি পড়াই বড় কথা।কারণ জ্ঞানী হওয়ার জন্য পড়ছেন না।পড়ছেন একটা চাকরি পাবার জন্য।তাই সাধু সাবধান।
১৪. কারোর পড়ার স্টাইলকেই অন্ধভাবে ফলো করবেন না। রেজাল্টই বলে দেবে, কে ঠিক ছিল, কে ভুল ছিল। রেজাল্ট বের হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনি কারোর চাইতেই কোনো অংশে কম নন। ‘বেস্ট অ্যাচিভার’ হয়, কিন্তু ‘বেস্ট ক্যান্ডিডেট’ বলে কিছু হয় না।
১৫. পড়ার সময় গোলমেলে আর দরকারি অংশগুলি দাগিয়ে রাখুন যাতে রিভিশন দেয়ার সময় শুধু দাগানো অংশগুলি পড়লেই চলে।
১৬. দিনের বিভিন্ন সময়ে ব্রেক নিয়ে ১০-১৫ মিনিট করে অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নিলে দুটো লাভ হয়। এক। রাতে কম ঘুমালে চলে। দুই। যতক্ষণ জেগে আছেন, সে সময়টার সর্বোত্তম ব্যবহারটুকু করতে পারবেন। ওরকম অল্প সময়ের কার্যকরী ঘুমকে ‘পাওয়ার ন্যাপ’ বলে।
১৭. জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতে পরীক্ষায় দুর্নীতি, ভাইভাতে স্বজনপ্রিয়তা,,কর্তৃপক্ষের নানান নেতিবাচক দিকসহ দুনিয়ার যাবতীয় ফালতু বিষয় নিয়ে শোনা, ভাবা, গবেষণা করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।কারণ সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিলে কেউ আপনাকে ঠেকাতে পারবে না। চাকরি আপনার কপালে জুটবেই।
এই সময়টাতে আপনার প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা। ওরকমই হলে, আমি বলবো, আপনি ঠিক পথে আছেন।বেশি পরিশ্রমে কেউ মরে না। যদি তা-ই হতো, তবে আমরা দেখতে পেতাম, পৃথিবীর সকল সফল মানুষই মৃত।
আবার ও শুভকামনা।ধন্যবাদ সবাইকে।
Suhag Talukdar