04/04/2020
SARS-CoV-2 বা COVID-19 বা করোনা ভাইরাস নামের মহামারী থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্য ও হাইজিন সচেতন হতে হবে। এই ব্যাপারে IEDCR এবং WHO এর মত প্রতিষ্ঠান গুলি সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার জন্য নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে আসছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোনভাবেই ঘর থেকে না বের হবার জন্য সবাইকে বার বার বলা হচ্ছে। আর আমি এখানে লিখবো কিভাবে নিজেকে সংক্রমণমুক্ত রাখতে হবে;আমার গত তিন দশকের একাডেমিক আর প্রফেশনাল অভিজ্ঞতা ও কিছু সাধারণ চিন্তা একিভুত করে আমি এখানে লিখার চেষ্টা করছি যা আশাকরি সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাজে আসবে। আমি কোন ফ্রিক নই,কবার জানার প্রয়োজন আছে বলেই লিখছি।
এক সপ্তাহ নিজেকে বাসায় বন্দি করে রেখেছেন, কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি করোনা ইনফ্যাক্টেড কিছু একটা হয়তো আপনার বাসায় এরিমধ্যেই চলে এসেছে?! অনেকেই আপনারা সিভিট,লেবু,বাংলাদেশের উষ্ণ তাপমাত্রা ইত্যাদির কারণে বেচে যাওয়ার আশা করছে, কিন্তু মনে রাখবেন নিচেই ছোট ছোট কাজ গুলিতে যেকোন একটিতে ভুলের কারণেই আপনি আপনার নিজের ও পরিবারের উপর অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন।
১. বাইরে আমরা মাস্ক ব্যবহার করছি। মনে রাখতে হবে যেই এন ৯৫ মাস্ক ভাইরাস আটকাতে পারে তাদেরও একটি নির্দিস্ট মেয়াদ থাকে। আর আমরা যেসব সাধারন মাস্ক বারবার ব্যবহার করছি সেগুলি ব্যবহারে ক্ষেত্রেও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
কেনা কাটা করার সময় দোকান বা বাজারে নিরাপদ দূরত্ব রেখে দাড়াতে হবে।
কোন ধরনের মাস্কেরই বাইরের অংশ খালি হাতে স্পর্শ করা যাবে না।
বাহির থেকে এসেই সাধারন পুনঃ ব্যবহারযোগ্য মাস্ক সাবান পানিতে ১০-১৫ মিনিট ডুবিয়ে রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বাহির থেকে এসেই হাত ও পায়ে ডিসইনফ্যাক্ট্যান্ট স্প্রে করতে হবে।এই কাজে ৭০+% এলকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার এই কাজের জন্য ভাল। বাহিরে যেই জুতা পড়েছিলাম তার নিচে ৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের ১% সলিউশন বা অন্য কোন প্রমাণিত ডিসইনফ্যাক্ট্যান্ট স্প্রে করতে হবে। এর পর জুতা জোড়া অন্য জুতার সাথে না রেখে ব্যালকনির মত আলো ও খোলা বাতাসে রেখে দিতে হবে।
মোবাইল, গাড়ীর চাবি যথাক্রমে মোবাইল স্ক্রীন ক্লিনিং কিট ও স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করে টিশ্যু পেপার দিয়ে মুছে ব্যবহৃত টিশ্যু ঢাকনা ও পলিথিন যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
বাসাতে যেই টাকা বাহির থেকে মাত্র আনলেন সেগুলিতে স্যানিটাইজার স্প্রে করে একটি জিপ লক প্যাকেটে রেখে দিন। আবার যেদিন বাহির করবেন,সেদিনই প্যাকেট থেকে বের করবেন। যদি সম্ভব হয় মানিব্যাগের স্থলে প্রতিবার পৃথক পৃথক জিপ লক প্যাকেটে ব্যবহার করতে পারেন। প্লাস্টিক মানি, এটিএম কার্ডও একইভাবে স্যানিটাইজ করে মুছে ফেলতে হবে।
এর পর বাড়ির দরজার হাতল ডিসইনফ্যাক্ট্যান্ট বা সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের ১% সলিউশন দিয়ে মুছে দিতে হবে। এসব শেষ করে সাবান দিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে হাত কুনুই পর্যন্ত ধুয়ে ফেলে বাহির থেকে এসে যেই কাপড় পড়ে ছিলাম সেগুলি ডিটারজেন্ট + ডিসইনফ্যাক্ট্যান্টে ৩০ মিনিট ডুবিয়ে রাখতে হবে, এর পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এর পর পরই লাইফ বয় জাতীয় মেডিকেটেড সাবান দিয়ে সময় নিয়ে গোসল করতে হবে এবং মাথায় শ্যাম্পু করতে হবে।
এর পরই কেবল আপনি বাসার অন্যদের, বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে যেতে পারবেন।
২. আমরা এখন নিয়মিত নানারকমের প্যাকেটজাত দ্রব্য যেবন বিস্কিট, চানাচুর, আটা, চিনি, পাউডার ও তরল দুধ, বিভিন্ন টয়লেট্রিজ সামগ্রী যেমন সাবান, শেম্পু, বিভিন্ন ঔষধ ইত্যাদি ব্যবহার করি। সেগুলি নিঃসন্দেহে অনেক স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্যাকেটজাত করা হয়।কিন্তু গ্রোসারী, ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোর, ডিস্পেন্সারীতে যারা এগুলি ধরেন বা তাকে রাখেন বা আপনাকে প্যাকেট করে দিচ্ছেন তাঁরা গ্লাভস ব্যবহার করলেও তাদের নিঃশ্বাস, বা হাচির সাথে বেরিয়ে আসা রোগ জীবানু এসন প্যাকেটের গায়ে লেগে যেতেই পারে, যেগুলে অনেক সময় পর্যন্ত সেখানে বেচে থাকতে পারে। তাই এসব প্যাকেট বাসায় আনার পর নিজের হাত ধুতে হবে এবং যিনি এগুলি রাখবেন তিনি কিচেন গ্লাভস পরা হাতে এগুলিকে ধরে সাবান পানি দিয়ে ভালভাবে ধুবেন এবং শুকিয়ে যেখানে রাখার সেখানে রাখবেন।
সবজি পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর ফ্রীজ বা অন্যখানে রাখতে হবে। মাছ মাংসও গ্লাভস পড়ে ভালভাবে ধুয়ে তারপর ফ্রীজে রাখা যাবে। এর পরই গ্লাভসা সাবান পানি দিয়ে আগের নিয়মে ধুয়ে ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে এই গ্লাভস ধোয়ার আগে কোন ভাবেই তা মুখের সংস্পর্শে আনা যাবে না।
৩. দয়া করে কেও ব্লিচ বলতে বাজারের ব্লিচ বা ব্লিচিং পাউডার মনে করবেন না! বাজারে যে ব্লিচিং পাউডার বা ব্লিচ পাওয়া যায় সেগুলি ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজ করে সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট যা লিকুইড ব্লিচে থাকে। ইউনাইটেড স্টেটস এনভারনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি SARS-CoV-2 বা COVID-19 ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কিছু ডিসিনফ্যাক্ট্যান্ট এর তালিকা তাদের ওয়েব পেইজে দিয়েছে। সেখানে কোন ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট এর কথা আজ পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তারা অনেকবারই শুধু সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের কথাই খালি বলেছে। আমেরিকানরা যেই ব্লিচ ইউজ করে সেগুলি ক্যালসিয়াম ব্লিচ নয়, সেগুলির সবই সোডিয়াম ব্লিচ। ইউনিসেফ বলেছে ৬৫-৭০% ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট দিয়ে করা যাবে, মার্কিনিরা কোথাও তা বলল না কেন পরিস্কার নই আমি। আর বাজারের ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট এ আদতেই ৭০% আছে কিনা কোন গ্যারান্টিই নাই!
সুতরাং যাই করি জেনে বুঝে করি! দেশি বিচিং পাউডার মিশিয়ে ডিসিনফ্যাক্ট্যান্ট তৈরী করে নিরাপদ আছি মনে করলে, মনে হয় ভুল করা হবে। তারচেয়ে ডিটারজেন্ট গুলানো পানি আই সি ডি ডি আর বি দ্বারা স্বীকৃত ডিসিনফ্যাক্ট্যান্ট ও পরিস্কারক।
ইউনাইটেড স্টেটস এনভারনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি SARS-CoV-2 বা COVID-19 ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এমন কিছু ডিসিনফ্যাক্ট্যান্ট এর তালিকার লিঙ্ক (২রা এপ্রিলের আপডেট);
https://www.epa.gov/pesticide-registration/list-n-disinfectants-use-against-sars-cov-2?fbclid=IwAR0pyylGVIXjtdZm9YwOdHb-YcQxqiPrNvWbm0z9FVpSTG2TFK202zgnldY
সস্তায় icddr,b এর বানানো ডিসিনফ্যাক্ট্যান্ট ও পরিস্কারকের লিঙ্ক;
https://www.youtube.com/watch?v=DI33DEgoyro
ইউনিসেফের ইমারজেন্সি সাপ্লাই নোটের (ফেব্রুয়ারী ২০২০) লিঙ্ক;
https://www.unicef.org/…/…/Novel_CoV_HEPI_Supply_Note_v2.pdf
ডিসইনফ্যাক্ট্যান্ট ব্যবহারের গাইডলাইন পাবেন এখানে;
https://www.ipswichma.gov/DocumentCenter/View/10072/50ppm-Guidelines-on-the-Use-of-Disinfectants?bidId=
৪. বিভিন্ন আর্টিক্যাল পড়ে জানা গেছে করোনা উচ্চ তাপে ধ্বংস হতে পারে। তাই কোন কিছুই কাঁচা খাওয়া যাবে না। আমরা অনেকেই বয়েল্ড বা পোচড এগ (আমারও পছন্দের), কাঁচা দুধ ইত্যাদি খেয়ে থাকি। পৃথিবী থেকে COVID-19 ভাইরাস বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব একদম নিষেধ।
৫. বাসায় আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। এসির ব্যবহার সর্বনিম্ন রাখতে হবে। ঠান্ডা পানিও কম খেতে হবে। এগুলি শরীরে COVID-19 ভাইরাসের আক্রমনের জন্য অনুকুল পরিবেশ তৈরি করে।
৬. যারা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে ব্যাক্তিগত বা অফিশিয়াল গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাঁরা বিশেষকরে গাড়ির ভিতরে দিনে কমপক্ষে একবার ৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের ১% সলিউশন দিয়ে ভালভাবে মুছবেন এবং প্রতিবার নামার পরই বাহির ও ভিতরের হাতল সহ বসার ও হাত দেয়ার স্থানে স্প্রে করবেন।এই মুহুর্তে গাড়ির সীটে স্প্রের দাগ নিয়ে না চিন্তা করাই শ্রেয়। আগে তো বাঁচতে হবে।
যারা রিক্সা ব্যবহার করছেন তাঁরা রিক্সায় বসার আগে যেখানে বসবেন ও যেখানে ধরবেন এমন জায়গা গুলিতে আগেই সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের সলিউশন বা স্যানিটাইজার স্প্রে করে তার পরই কেবল উঠবেন।
৬. লিফট আমাদের জীবনে একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। লিফটে উঠার সময় অন্যদের থেকে দূরত্ব রেখে দাড়াবেন এবং অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করবেন। লিফট কল বাটনে কোন ভাবেই খালি হাত বা নখ দিয়ে চাপবেন না বরং টিশ্যু পেপার বা বাসার খবরের কাগজ ছিড়ে বুড়ো আঙ্গুলে পেঁচিয়ে তা দিয়ে বাটন চাপবেন, এবং প্রতিবারই তা পকেটে বা ব্যাগে না রেখে সাথে সাথে ফেলে দিতে হবে।
৭. এটিএম বুথে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, প্রয়জন্য দজা খোলা অবস্থায় ভিরতের ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আপনার চেহারা রেকর্ড করার সুযোগ দিন ও দরজা বন্ধ করার আগেই মাস্ক পড়ে ফেলুন। এই ব্যাপারে ব্যাঙ্কগুলি একটি আপতকালিন নির্দেশনা দিতে পারে, কারণ বদ্ধ স্থাকের বাতাসে অনেকক্ষন পর্যন্ত জীবানু থাকতে পারে।এখানেও দ্রজার হাতল দরতে টিশ্যুপেপার ব্যাভারের উপদেশ রইলো।
৮. ফয়ার এবং জুতা কোলার জায়গা ও দরজার বাইরে ৫% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইটের ১% সলিউশন দিয়ে ভালভাবে মুছবেন, বা স্প্রে করবেন।
৯. যারা নিতান্তই বাইরে কাজ করছেন, তাঁরা অফিসে (যেমন ব্যাঙ্ক) কাজ করছেন তাঁরা অবশ্যই হাত ধুয়ে তারপর নাস্তা করবেন, চায়ের কাপ গ্লাভস বা টিশ্যু দিয়ে ধরবেন।
১০. পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বারবার শপ বা পার্লার একেবারেই নিষেধ। লন্ড্রিও!
১১. কোন কাপড় সেলাই করলে না ধুয়ে পড়াই যাবেনা!
১২. আমি ব্যাক্তিগতভাবে গত তিন সপ্তাহ জামাতে নামাজ পড়ছি না! এই বিষয়ে আমাদের স্বপ্নবাজ হুজুররা কিছু একটা বললে ভাল হতো!
আমার এই রাইট আপে আমি নিয়মিত বিভিন্ন তথ্য ও আইডিয়া যুক্ত করার চেষ্টা করবো, আপনাদের এতে কোন কিছু ভুল মনে হলে বা সংজোযন করা লাগবে মনে হলে জানাবেন। এই রাইট আপ বাইরে গেলেই যে আপনাকে নিরাপদ রাখবে তা নয়, বরং কোন কারণে যেতে হলে কিছটা হলেও রক্ষা করবে।
প্রথম আপডেট; ১৭২২ ঘটিকা, ৪ঠা এপ্রিল ২০২০ ইং
Written by Respected Elder Brother M. Dawood Karim David
List N includes products with an emerging viral pathogen claim and products with claims for human coronaviruses.