30/06/2026
📢 জরুরি আপডেট: আয়কর রিটার্ন ২০২৬-২০২৭ করবর্ষ 📢
২০২৬-২০২৭ করবর্ষে (Assessment Year 2026-27) যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন, তাদের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নতুন নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো। এবার করের ধাপে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তাই রিটার্ন দেওয়ার আগে অবশ্যই এগুলো জেনে নিন:
💰 ১. নতুন করমুক্ত আয়ের সীমা ও ট্যাক্স স্ল্যাব:
এবার সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৩,৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—আগের ৫% করের স্ল্যাবটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ করমুক্ত সীমার পরের আয়ের ওপর সরাসরি ১০% কর দিতে হবে।
সাধারণ পুরুষ করদাতা: ৩,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত (ট্যাক্স ফ্রি)
নারী এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের নাগরিক: ৪,২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত (ট্যাক্স ফ্রি)
প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা: ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত (ট্যাক্স ফ্রি)
📊 নতুন করের হার:
🔹 পরবর্তী ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ➡️ ১০%
🔹 পরবর্তী ৪,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ➡️ ১৫%
🔹 পরবর্তী ৫,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ➡️ ২০%
🔹 পরবর্তী ২০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ➡️ ২৫%
🔹 অবশিষ্ট আয়ের ওপর ➡️ ৩০%
💵 ২. ন্যূনতম কর (Minimum Tax):
আপনার আয় করমুক্ত সীমা পার হলেই দেশের যেকোনো অঞ্চলের (সিটি কর্পোরেশন কিংবা গ্রাম) বাসিন্দা হোন না কেন, ন্যূনতম কর দিতে হবে ৫,০০০ টাকা। তবে নতুন করদাতাদের প্রথমবার রিটার্ন দাখিলে কিছুটা ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
💻 ৩. অনলাইন বা ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক:
ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য এখন অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
দেরি না করে এখনই etaxnbr.gov.bd পোর্টালে আপনার e-TIN এবং নিজের বায়োমেট্রিক সিম দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিন।
কোনো কারণে সময়মতো জমা দিতে না পারলে পোর্টালের "Time Extension" অপশন থেকে অনলাইনে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।
📉 ৪. বিনিয়োগ রেয়াত (Tax Rebate) ও সঞ্চয়পত্র:
কর রেয়াতের হার ১৫% থেকে কমিয়ে ১০% করা হয়েছে এবং রেয়াত পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের সুদকে এখন মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উৎস কর (TDS) আর চূড়ান্ত কর নয়, এটি অগ্রিম কর হিসেবে সমন্বয় করা যাবে।
💼 ৫. ফ্রিল্যান্সার ও রিমোট ওয়ার্কারদের জন্য:
বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ওপর কর ছাড়ের সুবিধা পেতে হলে আপনার e-TIN থাকতে হবে এবং বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। রিটার্ন ফর্মে সমস্ত বিদেশি আয় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের তথ্য স্পষ্ট দেখাতে হবে।
💡 বিশেষ পরামর্শ:
শেষ মুহূর্তের ওয়েবসাইটের জ্যাম ও আইনি জটিলতা এড়াতে আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সেলারি সার্টিফিকেট, ডিপিএস/বীমার রসিদ এবং সম্পদ বিবরণী আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। সময় থাকতে দ্রুত রিটার্ন সাবমিট করুন, ঝামেলাহীন থাকুন!