29/04/2026
(উস্তাদদের সাথে বেয়াদবি ও সমালোচনার পরিণতি)
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
শিক্ষক হলেন আলোকিত প্রদীপ, যিনি নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিয়ে অন্যের অন্তরে আলোর সঞ্চার করেন।
যে ছাত্র তার উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা হারিয়ে ফেলে, সে মূলত নিজের ভাগ্য ও ঈমানের আলো নিভিয়ে ফেলে।
হযরত আলী (রাঃ) বলেছেন—
من علّمني حرفاً فهو مولاي، إن شاء باع وإن شاء أعتق
অর্থ: “যে আমাকে একটি অক্ষরও শিক্ষা দিয়েছে, সে আমার উপর অধিকার রাখে—
সে চাইলে আমাকে বিক্রি করবে, চাইলে মুক্ত করবে।”
(ইমাম জারীর তাবারী, বায়হাকী প্রমুখের বর্ণনায় উল্লিখিত)
এই মহান উক্তি থেকেই বোঝা যায়— শিক্ষক শুধু শ্রদ্ধার নয়, বরং এক প্রকার আধ্যাত্মিক পিতা।
শেখ সাদী (রহঃ) বলেছেন—
> “যে ছাত্র উস্তাদদের সমালোচনা করবে, তারা চারটি বিপদে পড়বে—
(১) যা শিখছে সব ভুলে যাবে,
(২) দুনিয়ার রিজিক কমে যাবে,
(৩) যৌবনে মৃত্যু আসবে,
(৪) বেইমান অবস্থায় মৃত্যু হবে।”
(গুলিস্তান / বুস্তান – শেখ সাদী)
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত—
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُوَقِّرْ كَبِيرَنَا، وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ
অর্থ: “সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে বয়োজ্যেষ্ঠকে সম্মান করে না, কনিষ্ঠকে দয়া করে না এবং আলেমের অধিকার চিনে না।”
(সুনান আবু দাউদ: ৪৯৪৩, মুসনাদে আহমদ)
ইমাম গাযযালী (রহঃ) বলেন—
যে ছাত্র তার উস্তাদের সাথে বেয়াদবি করে, সে কখনোই বিদ্যার নূর পায় না।
(ইহইয়াউ উলুমুদ্দীন)
তাই, প্রিয় ছাত্রসমূহ!
উস্তাদের প্রতি কটুক্তি, সমালোচনা বা বেয়াদবি করা কোনো সামান্য বিষয় নয়।
এতে জ্ঞানের বরকত চলে যায়, অন্তরে কালিমা পড়ে, এবং দুনিয়া-আখেরাতে ক্ষতির দরজা খুলে যায়।
উপদেশ:
তোমার উস্তাদ তোমার জন্য দোয়ার হাত তোলে,
আর যদি তুমি তার বিপরীতে জিহ্বা তোলো—তবে বুঝে নাও, তুমি নিজের কপাল পোড়াচ্ছো!
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে উস্তাদ, আলেম, মুরব্বী ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আনুগত্যের মাধ্যমে দ্বীনী বরকত অর্জনের তাওফীক দান করুন।
আমীন।