ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা-Islami Education System

  • Home
  • Bangladesh
  • Gazipura
  • ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা-Islami Education System

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা-Islami Education System Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা-Islami Education System, Education, Gazipura.

🎉 Just completed level 3 and I'm so excited to continue growing as a creator on Facebook!
06/10/2025

🎉 Just completed level 3 and I'm so excited to continue growing as a creator on Facebook!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ আব্দুল মালেক (রহ.)—যার নির্মম হত্যাকারী ছিল তোফায়েল আহমেদ।তোফায়েল আহমেদ নিষ্ঠুরভাবে ড্রি...
06/10/2025

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহীদ আব্দুল মালেক (রহ.)—
যার নির্মম হত্যাকারী ছিল তোফায়েল আহমেদ।

তোফায়েল আহমেদ নিষ্ঠুরভাবে ড্রিল মেশিন দিয়ে শহীদ আব্দুল মালেকের মাথায় ছিদ্র করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল! 💔

বাইতুল মুকাররমের সিঁড়িতে আওলাদে রাসূল হযরত মাওলানা মোস্তফা মাহমুদ আল মাদানী (রহ.) আব্দুল মালেকের রক্ত হাতে নিয়ে বলেছিলেন— “আমি এই রক্ত থেকে বেহেশতের ঘ্রাণ পাচ্ছি।” 🌹

হে আল্লাহ! তোফায়েল আহমেদকে তার কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান দিন।

19/09/2025

নোট বই: ইসলামের সহজ পরিচয়
➤ভুমিকাঃ
মানুষের জীবনের বহু দিক রয়েছে- ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতির ইত্যাদি। কিন্তু সাধারণভাবে এসব দিক থেকে ধর্মীয় দিককে আলাদা মনে করা হয়।
আল্লাহ তাআলার দাসত্ব, রাসূল সা. এর আনুগত্য ও আখিরাতের জবাবদিহিতা- এ তিনটি ধর্মীয় নীতি হলেও মুসলমানদের গোটা জীবনের সাথেই এগুলোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মুমিনের জীবনে দীনদারী ও দুনিয়াদারীতে কোনো তফাৎ নেই। ঐ তিনটি ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী কাজ করলে দুনিয়াদারী বলে গণ্য সকল কাজও দীনদারীতে পরিণত হয়।

➤দুনিয়ায় নবী পাঠানোর উদ্দেশ্যঃ
মানুষকে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য যা কিছু করতে হয়, সে সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করার জন্য আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে যাবতীয় আইন-কানুন পাঠিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা জানিয়ে দিয়েছেন যে, যারা তাঁর দেওয়া আইন-বিধান মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও শান্তি ভোগ করবে এবং আখিরাতেও পুরস্কার পাবে। আর যারা তা মানবে না এবং মানুষের মনগড়া নিয়ম মেনে চলবে তারা দুনিয়ায়ও অশান্তি ভোগ করবে, আখিরাতেও শাস্তি পাবে।

➤দীনদারী বনাম দুনিয়াদারীঃ
আল্লাহর দেওয়া নিয়মে ঘুমালে ঘুমও ইবাদতে পরিণত হয়। এভাবেই আল্লাহর দেওয়া নিয়মে বিয়ে-শাদি, ঘর-সংসার, রুজি-রোজগার, চাষাবাদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, খাওয়া-দাওয়া এমনকি পেশাব-পায়খানা করাও ইবাদতের মধ্যে গণ্য। তাই খাঁটি মুমিনের পার্থিব জীবনের সব কাজকর্মই দীনদারী। ইসলামের ধর্মীয় কাজগুলোর মাধ্যমে দুনিয়ায় জীবনযাপনের শিক্ষা দেওয়া হয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবন দুনিয়ার জীবন থেকে মোটেই আলাদা নয়।

➤মুসলিম পরিবারে জন্মিলেই কি মুসলিম হয়ে যায়?
মুসলিম পরিবারে জন্মিলেই মুসলিম হয়ে যায়- এ ধারণা একেবারেই ভুল। মুসলমানের সন্তানও কাফির হয়ে যেতে পারে। আবার কাফিরের সন্তানটাও খাঁটি মুসলমান হতে পারে। অতীতকালে কাফিরের সন্তানও নবী হয়েছেন। হযরত ইবরাহীম আ. এর পিতা আযর কাফির ছিল। আবার নূহ আ. এর এক ছেলেও কাফির ছিল। জন্মগতভাবে কেউ মুমিন বা কাফির হয় না। মুমিন হওয়ার জন্য প্রথম শর্তই হলো ঈমান। এইজন্য সর্বপ্রথম তাকে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাসী হতে হবে। এরপর তাকে মুসলিম হিসেবে জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে কুরআন ও হাদীসের কিছু ইলম হাসিল করতে হবে এবং ঈমান ও ইলম অনুযায়ী মুসলিম চরিত্র গঠন করার মতো আমল করতে হবে।

➤মুসলিম পরিবারে পয়দা হওয়াও আল্লাহর মেহেরবানীঃ
আল্লাহ তাআলার বিরাট মেহেরবানী যে, তিনি আমাকে মুসলমান পিতা-মাতার ঘরে পয়দা করেছেন। আমার পিতা মাতা যদি মুসলিম নামধারী হয়েও ঈমান, ইলম ও আমলের ধার না ধারতেন, তাহলে আমাকে তিনি ছোট সময় থেকে মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতেন না। আমাকে মুসলিম ঘরে পয়দা করাটাও মা’বুদের বিরাট মেহেরবানী।

➤তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের সরল অর্থঃ
ঈমানের মূল বিষয়কে ইসলামী পরিভাষায় তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত বলা হয়। যে ব্যক্তি এ কালেমা বুঝে-শুনে কবুল করে, সে আসলে তার জীবনের নীতি বা পলিসি ঘোষণা করে। প্রথম অংশ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ দ্বারা সে ঘোষণা করে- ‘‘আমি একমাত্র আল্লাহর হুকুমমতো সবকিছু করব এবং আল্লাহর হুকুমের বিরোধী আর কারো হুকুম মানব না।’’ দ্বিতীয় অংশ ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ বলে সে ঘোষণা করে- ‘‘মুহাম্মদ সা. যেভাবে যে তরীকা বা নিয়মে আল্লাহর হুকুম পালন করেছেন, আমি একমাত্র ঐ নিয়মেই আল্লাহর হুকুম পালন করব। তাঁর তরীকা ছাড়া আর কারো তরীকা আমি মানব না।’’
মুমিনকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি সকল দিকে যা কিছু করতে হয় তা সবই এ দুটো নীতি অনুযায়ীই করতে হবে। এছাড়া দুনিয়ায় যা কিছু করা হয় তার হিসাব আদালতে-আখিরাতে দিতে হবে।

➤‘ইসলাম’ শব্দের অর্থঃ
ইসলাম আরবী শব্দ। এর অর্থ আত্মসমর্পণ। আত্ম মানে নিজ, সমর্পণ মানে স্বত্ব ত্যাগ করে দিয়ে দেওয়া। আত্মসমর্পণ অর্থ- নিজেকে অন্য কারো অধীন করে দেওয়া।
ইসলাম শব্দের আরেকটি অর্থ হলো শান্তি। ‘আস্‌সালামু আলাইকুম’ অর্থ আপনার উপর শান্তি নাযিল হোক। আল্লাহর হুকুমমতো চললেই শান্তি পাওয়া যায়। সকল মানুষই শান্তি চায়। শান্তি পেতে হলে ইসলামের বিধানমতো চলতে হবে। তাই আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যে জীবনবিধান পাঠিয়েছেন তার নাম রেখেছেন ইসলাম।

➤‘দীন’ শব্দের অর্থঃ
‘দীন’ শব্দের আসল অর্থ আনুগত্য করা বা মেনে চলা। আমরা বাপ-মায়ের কথা মেনে চলি। দেশের আইন মেনে চলি। আল্লাহকে মেনে চলাই হলো দীন। আর এ দীনের নাম আল্লাহ-ই রেখেছেন ‘ইসলাম’। আল্লাহকে মেনে চলার জন্য ইসলাম নামে মানুষকে যে নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান তিনি দিয়েছেন তা-ই ‘দীন ইসলাম’।

➤সব সৃষ্টির জন্যই আল্লাহ নিয়ম-কানুন দিয়েছেনঃ
আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য যেমন বিধি-বিধান দিয়েছেন, তেমনি যত কিছু পয়দা করেছেন ছোট-বড় প্রতিটি সৃষ্টির জন্যই বিধান তৈরী করেছেন। একটা ঘাসের বেঁচে থাকার জন্য কী কী দরকার তা তিনিই ফায়সালা করে দিয়েছেন। পিঁপড়া থেকে হাতি পর্যন্ত সকল জীব, এটম (পরমাণু) থেকে সূর্য পর্যন্ত সকল বস্তুই কতক নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে।
পশু-পাখি, গাছপালা, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত, ধুলা-বালি পর্যন্ত আল্লাহর বানানো নিয়ম মেনে চলছে। এদের কারো ঐ নিয়ম অমান্য করার শক্তি নেই। বস্তু হোক আর প্রাণীই হোক কেউ নিজের মর্জিমতো চলার ক্ষমতা রাখে না। স্বাধীনভাবে চলার সাধ্য থাকলে একই নিয়মে চলতে বাধ্য হতো না।

➤ইসলাম কাকে বলে?
এর সহজ উত্তর হলো, সৃষ্টির জন্য স্রষ্টা যে নিয়ম-কানুন বানিয়েছেন তারই নাম ইসলাম। যে সৃষ্টির জন্য যে নিয়ম তিনি দিয়েছেন তা-ই ঐ সৃষ্টির ইসলাম।
মানুষের জন্য যে নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান তিনি দিয়েছেন তা মানুষের ইসলাম। সূর্যের জন্য যে বিধান দেওয়া হয়েছে তা সূর্যের ইসলাম। পানির জন্য দেওয়া বিধান পানির ইসলাম। এভাবে ছোট-বড় সব জিনিস ও জীবেরই নিজস্ব ইসলাম রয়েছে।

➤ইসলাম দু’রকমঃ
১. আল্লাহ তাআলা মানুষ ছাড়া অন্যান্য সৃষ্টির ইসলাম নবীর মাধ্যমে না পাঠিয়ে প্রত্যেক সৃষ্টির উপর তার জন্য তৈরীকৃত ইসলাম তিনি নিজে সরাসরি চালু করেন।
২. নবীর মাধ্যমে মানুষের জন্য যে ইসলাম পাঠানো হয়েছে তা আল্লাহ তাআলা মানুষের মধ্যে নিজে সরাসরি চালু করেন না। বরং তিনি মানুষের ইসলাম নবীর কাছে পাঠিয়ে নবীকেই তা চালু করার দায়িত্ব দিয়েছেন। মানুষের ইসলাম আল্লাহ নিজে চালু করবেন না বলেই নবীর উপর সে দায়িত্ব দিয়েছেন।

➤এ দায়িত্বটাই খিলাফতের দায়িত্বঃ
আল্লাহ মানুষকে শুধুমাত্র খলীফা হিসেবেই পাঠিয়েছেন। তাই দুনিয়ায় মালিক বা মনিব হওয়ার কোনো ক্ষমতা মানুষের নেই। যদি কোনো মানুষ আল্লাহর খলীফার দায়িত্ব পালন করতে না চায়, তাহলে সে যা করবে তাতে সে শয়তানের খলীফা বলেই গণ্য হবে। কারণ, আল্লাহর বিধান যে পালন করে না যে অন্য যে বিধানই মেনে চলে, তা শয়তানের বিধান হিসেবেই কুরআন মাজীদের সূরা আল বাকারা ২০৮ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে।

➤মানুষের দুটো সত্তাঃ
মানুষের শরীর তার আসল সত্তা নয়। আসল মানুষ হলো রুহ। এ রূহ কোনো বস্তু নয়। এ রূহের কারণেই মানুষ কোন্‌টা ভালো এবং কোন্‌টা মন্দ তা বুঝতে পারে।
মানুষের দেহসত্তাটি নৈতিক সত্তা নয়; বস্তুসত্তা মাত্র। দেহের দাবিগুলোকে কুরআনে নাম দেওয়া হয়েছে ‘নাফ্‌স’।
মানুষের নাফ্‌সের তিন রকম অবস্থা হয় বলে কুরআনে বলা হয়েছে। যেমন-
১. নাফ্সে আম্মারাহ (১৩ পারার পয়লা আয়াত): নাফ্‌স ও রূহের লড়াইয়ে যদি নাফ্‌স সব সময় জয়ী হয় এবং সব সময়ই রূহ হেরে যায় তাহলে এ নাফ্‌সকে ‘নাফ্‌সে আম্মারাহ’ বলা হয়।
২. নাফ্সে লাওয়ামাহ (সূরা কিয়ামার ২ নং আয়াত): এ অবস্থা তখন হয়, যখন এক সময় রূহ জিতে যায় আবার এক সময় নাফ্‌স জিতে যায়।
৩. নাফ্সে মুতমাইন্নাহ (সূরা আল ফাজরের ২৭ নং আয়াত): এ অবস্থা তখন হয়, যখন রূহ সবসময় জয়ী হয় এবং নাফ্‌স সবসময় পরাজিত হয়।
ইসলাম মানুষকে এমন শিক্ষাই দেয়, যাতে তার রূহ শক্তিশালী হয় এবং নাফ্‌সের উপর জয়ী হতে পারে। নামায-রোযার উদ্দেশ্যও এটাই।

➤মানুষের জন্য জ্ঞান জরুরি:
জ্ঞান মানে জানার বিষয়। মানুষ ও জিন ছাড়া অন্য যত জীব আছে, তাদের যা কিছু জানা দরকার সেজন্য নিজেদের চেষ্টা করা লাগে না। আল্লাহ তাদের জন্য যে নিয়ম-কানুন বানিয়েছেন তা তিনি নিজেই তাদেরকে শিখিয়ে দেন।
মানুষকে নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু করতে হয়। তাকে জানতে হয় যে, কোন্‌টা কীভাবে কখন করা দরকার। তাকে নিজের ইচ্ছার ফায়সালা করতে হয় যে, সে আল্লাহর খলীফা হতে চায়, নাকি শয়তানের খলীফা। খিলাফতের এ ইখতিয়ার থাকার কারণেই তাকে নিজের ইচ্ছায় সবকিছু জানার চেষ্টা করতে হয়।

➤জ্ঞানের মূল উৎস কী কী?
জ্ঞান তো তালাশ করতেই হবে। কোথা থেকে তা পাওয়া যায় তাও তো জানা জরুরি। যেখান থেকে জ্ঞান হাসিল করা যায় তাকেই জ্ঞানের উৎস বলে। কোন্‌ কোন্‌ উৎস থেকে জ্ঞান যোগাড় করতে হবে সর্বাগ্রে তা জানা দরকার। জ্ঞানের উৎস চারটি। যথা- ইন্দ্রিয়, বুদ্ধি, ইলহাম ও ওহী।

➤ইসলাম কবুল করার নিয়ম:
কোনো লোক যদি ইসলাম কবুল করতে চায় তাহলে তাকে কয়েকটি নিয়ম পালন করতে হয়। সে মুসলিম পরিবারে পয়দা হলেও তাকে এসব নিয়ম মানতে হবে; তা না হলে আল্লাহর দরবারে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে না।
‘ইসলাম’ শব্দ থেকেই ‘মুসলিম’ শব্দ তৈরী হয়েছে। যে ইসলাম কবুল করল সে-ই মুসলিম হলো। ইসলাম মানে আত্মসমর্পণ। মুসলিম মানে আত্মসমর্পণকারী। ‘মুসলিম’ আরবী শব্দ। ফারসি ভাষায় মুসলমান বলা হয়।
➤সঠিকভাবে ইসলাম কবুল করতে হলে-
১. প্রথমেই মনে মনে ফায়সালা করতে হবে যে, আমি আমার মর্জিমতো চলব না; যা করলে আল্লাহ খুশি হন তা-ই করব।
২. এরপর বুঝে-শুনে কালেমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করতে হবে- ‘‘আশহাদু আল্‌ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহূ ওয়া রাসূলুহূ।’’ এর তরজমা হলো- ‘‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মা’বুদ নেই এবং আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সা. আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ ইলাহ ও মা’বুদ মানে হুকুমকর্তা, প্রভু বা মনিব।
‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’’ কথাটি কালেমায়ে তাইয়েবা নামে পরিচিত। কালেমা মানে কথা। তাইয়েবা মানে পবিত্র। কালেমা তাইয়েবা মানে পবিত্র কথা।
৩. এ কালেমার অর্থ ভালোভাবে বুঝতে হবে। না বুঝে শুধু কালেমা উচ্চারণ করলেই চলবে না। কারণ, কোনো শব্দের অর্থটাই আসল; শব্দটা আসল নয়। কালেমা তাইয়েবার মধ্যে যে ক’টি শব্দ আছে, এগুলোর অর্থই আসল। তাই ঐ শব্দগুলো উচ্চারণ করার সময় যে অর্থ বুঝতে হবে তা-ই হলো আসল কালেমা।

➤মুসলিমের করণীয় কী?
মানুষ হিসেবে দুনিয়ায় বেঁচে থাকতে হলে যা কিছু করতে হয় সেসবই মুসলিম হওয়ার পর আল্লাহ তাআলার হুকুম ও রাসূল সা. এর শেখানো নিয়মে করতে হবে। কারণ, কালেমা তাইয়েবার মাধ্যমে জীবনে চলার যে ২ দফা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, এর দাবি এটাই। এ নিয়মে চলার জন্যই আল্লাহ তাআলার সাথে ওয়াদা করা হয়েছে।

➤মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব কী?
যেহেতু কালেমা তাইয়েবায় জীবনে চলার ২ দফা নীতি ঘোষণা করা হয়েছে, সেহেতু মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো আল্লাহ তাআলার হুকুম ও রাসূল সা. এর তরীকা জানার চেষ্টা করা। মুসলিম হিসেবে যা-ই করা হবে, সবই ২ দফা নীতি মেনেই করতে হবে। তাই যে কাজই করা হোক, তা আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের শেখানো তরীকা বা নিয়মে করতে হলে তা জানতেই হবে। প্রতিটি কাজের বেলায় আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের তরীকা না জানলে কাফিরের মতোই চলতে হবে। এ কারণেই মুসলিমের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জানা বা ইলম তালাশ করা। ইলম মানেই জ্ঞান। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা ওহীর মারফতে রাসূল সা. এর কাছে যে জ্ঞান পাঠিয়েছেন, সে জ্ঞান হাসিল করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয বলে রাসূল সা. ঘোষণা করেছেন।

➤বিশেষ জরুরি কথা:
মুসলিম পরিবারে পয়দা হলে বাপ-মা যদি নামাযী হয় তাহলে ছোট বয়স থেকেই ছেলে-মেয়ে কুরআন পড়া শেখে, নামাযে অভ্যস্ত হয় এবং নিজেকে মুসলমান বলে বুঝতে শুরু করে; কিন্তু বয়স যখন ১৪/১৫ বছর হয় তখন তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা-ভাবনা করার যোগ্যতা হয়। তখন দেখা যায় যে, ছোট সময়ে পাক্কা নামাযী হওয়া সত্ত্বেও তারা নামাযে অবহেলা শুরু করে এবং একসময় নামায ছেড়েই দেয়।
কিন্ত ‍যে পরিবারে বাবা-মা-ই নামাযী নয় সে পরিবারে যাদের জন্ম, তারা তো ছোট সময়ে কুরআন পড়া ও নামায আদায় করা শেখেই না; বড় হলে তো তাদের মধ্যে মুসলিম চেতনাই দেখা যায় না।
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দিন, আমিন।

16/09/2025

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কেন?

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মূলত “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” নামক এক রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এই দর্শনের কেন্দ্রে আছে— জাতীয়তাবাদ (Nationalism), যা মানুষের ধর্ম, জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতাকে উপেক্ষা করে কেবলমাত্র ভূখণ্ডকে রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের মূল সূত্র হিসেবে দাঁড় করায়। ইসলামী রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো— তাওহীদ, ঐক্যবদ্ধ উম্মাহ, আদল ও ইনসাফ, এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্ব। ফলে জাতীয়তাবাদভিত্তিক বিএনপির দর্শন ইসলামের মৌলিক নীতির সাথে বিভিন্ন স্তরে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। নিচে বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো—

১. পারিবারিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে পরিবার হলো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ক্ষুদ্র একক, যেখানে আধুনিক রাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন পরিবার-সংক্রান্ত অধিকারের নিয়ন্ত্রক। পরিবারিক নৈতিকতার উৎস এখানে ইসলাম নয় বরং পাশ্চাত্য প্রভাবিত আইন।

ইসলাম: পরিবার হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, যেখানে বিবাহ, উত্তরাধিকার, সন্তান প্রতিপালন, নারী-পুরুষের ভূমিকা সবই আল্লাহর নির্ধারিত শরীয়ত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি তাদের রাষ্ট্রীয় দর্শনে ইসলামী শরীয়তকে পরিবার আইনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেনি, বরং সেক্যুলার ও ঔপনিবেশিক ধারার আইনকেই রক্ষা করেছে।

২. সামাজিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের নামে এক ভৌগোলিক জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা। এখানে সমাজ গঠনের ভিত্তি হলো জাতীয়তা ও ভূখণ্ড।

ইসলাম: ইসলামী সমাজ গঠনের মূলনীতি হলো আকীদার ঐক্য। আল্লাহ বলেন—"إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ"
নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পরের ভাই। (সুরা হুজুরাত: ১০)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপির দর্শনে মুসলিম উম্মাহর ধারণা নেই; বরং মুসলিম-বৌদ্ধ-হিন্দু সবাইকে কেবল ‘বাংলাদেশী’ পরিচয়ে আবদ্ধ করা হয়, যা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ধারণার বিরোধী।

৩. অর্থনৈতিক দর্শন

বিএনপি দর্শন: মুক্তবাজার অর্থনীতি, পুঁজিবাদ ও বৈদেশিক ঋণনির্ভর অর্থনৈতিক নীতি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ প্রভৃতির শর্তাধীন অর্থনীতি পরিচালনা।

ইসলাম: অর্থনৈতিক দর্শনের মূল হলো সুদমুক্ত লেনদেন, যাকাত ব্যবস্থা, বৈষম্যহীন সম্পদ বণ্টন ও কল্যাণভিত্তিক নীতি। কুরআনে আল্লাহ বলেন— "وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا"
আল্লাহ ব্যবসা বৈধ করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা: ২৭৫)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি সুদভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, বৈদেশিক ঋণ ও পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে উৎসাহ দিয়েছে, যা সরাসরি শরীয়তের পরিপন্থী।

৪. রাজনৈতিক দর্শন: বিএনপি দর্শন: সার্বভৌমত্ব মানুষের হাতে, রাষ্ট্র পরিচালনা গণতান্ত্রিক ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্ধারিত।

ইসলাম: ইসলামে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর—"إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ"
ফয়সালার অধিকার তো আল্লাহরই। (সুরা ইউসুফ: ৪০)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি গণতন্ত্রকে একমাত্র শাসনপদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করে, যেখানে আইন প্রণয়ন সংসদ করে। ইসলামে আইন কেবল কুরআন-সুন্নাহ থেকে নির্ধারিত হয়।

৫. শিক্ষা দর্শন: বিএনপি দর্শন: ধর্মনিরপেক্ষ জাতীয় শিক্ষা নীতি, পাশ্চাত্য ধাঁচের কারিকুলাম। মাদ্রাসা ও ইসলামী শিক্ষাকে দ্বিতীয় সারিতে রাখা।

ইসলাম: শিক্ষার ভিত্তি হলো ঈমান, আকীদা, কুরআন-সুন্নাহ জ্ঞান এবং দুনিয়াবি বিজ্ঞানকে শরীয়ত-সম্মতভাবে কাজে লাগানো।

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি পশ্চিমা ধাঁচের শিক্ষা ব্যবস্থাকে চালু রেখেছে, যা তরুণ প্রজন্মকে ইসলামী সভ্যতা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

৬. সংস্কৃতি দর্শন: বিএনপি দর্শন ‘বাংলাদেশী সংস্কৃতি’ নামে লোকায়ত, হিন্দু-মুসলিম মিলিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া।

ইসলাম: ইসলামী সংস্কৃতি আল্লাহর ইবাদত, নৈতিকতা, পর্দা, গান-বাজনা ও অনৈতিকতা বর্জন করে। রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।" (আবু দাউদ)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপির সংস্কৃতি চর্চায় সংগীত, নৃত্য, মেলা, হিন্দু লোকাচার ইত্যাদি রয়েছে, যা ইসলামী সংস্কৃতির বিপরীত।

৭. ধর্মীয় দর্শন: বিএনপি দর্শন: ইসলামকে রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা হিসেবে নয় বরং ব্যক্তিগত ধর্ম হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা।

ইসলাম: ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সবই অন্তর্ভুক্ত।
"الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ"
আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। (সুরা মায়েদা: ৩)

সাংঘর্ষিক দিক: বিএনপি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি কখনোই করে না; বরং সেক্যুলার কাঠামো বজায় রেখে ইসলামকে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে।

উপসংহার: বিএনপি রাজনৈতিকভাবে নিজেদের ইসলামপন্থী প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও তাদের মূল দর্শন— বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ— ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাংঘর্ষিক। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম— প্রতিটি ক্ষেত্রে বিএনপি ইসলামী আদর্শকে পাশ কাটিয়ে পাশ্চাত্যধর্মী ও জাতীয়তাবাদী কাঠামো রক্ষা করেছে। ফলে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনদর্শনের সাথে বিএনপির দর্শনের মৌলিক বিরোধ রয়েছে।

16/08/2025

ইসলামী শিক্ষা দিবস এবং শহীদ আব্দুল মালেকের ত্যাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষার ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ছাত্র সমাজে নানা সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির একটি নেতৃস্থানীয় সংগঠন, যা ইসলামী শিক্ষা ও মূল্যবোধকে ছড়িয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতি বছর ১৫ আগস্ট ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে “ইসলামী শিক্ষা দিবস” পালিত হয়। এই দিবসের সাথে জড়িত আছে এক ইতিহাস, যা আমাদের স্মরণ করায় যে শিক্ষা শুধু জ্ঞান লাভের মাধ্যম নয়, বরং মানবজাতিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে গঠনের শক্তিশালী হাতিয়ার।

শহীদ আব্দুল মালেকের শাহাদাৎ

১২ আগস্ট, যখন টিএসসিতে ইসলামী শিক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা চলছিল, বামপন্থী, রাম ও নাস্তিক কিছু গোষ্ঠীর আক্রমণে শহীদ হন আব্দুল মালেক। তার আত্মত্যাগ আমাদের শেখায় যে, ইসলামের শিক্ষা ও নৈতিকতা রক্ষা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য আত্মত্যাগও প্রয়োজন হতে পারে।
শহীদ আব্দুল মালেকের জীবন এবং ত্যাগ আমাদের দেখায় যে, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বইয়ের জ্ঞান অর্জন নয়, বরং সমাজকে ন্যায়, সত্য ও নৈতিকতার পথে পরিচালিত করা।

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব

ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল ধর্মীয় শিক্ষা সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জীবন পরিচালনার সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মূল উপাদানগুলো হলো:

1. আখলাকি শিক্ষা – চরিত্র ও নৈতিকতা গঠন, যেমন সততা, ধৈর্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ।

2. ইলমে দুনিয়া ও আখেরাত – জ্ঞান অর্জন কেবল ধর্মীয় নয়, বাস্তব জীবনের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

3. সমাজসেবা ও নেতৃত্ব – শিক্ষার মাধ্যমে একজন মানুষ সমাজে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়, যেটি ইসলামী মূল্যবোধের সাথে মিলিত।

উদাহরণ ও বিশ্লেষণ

শহীদ আব্দুল মালেকের জীবন আমাদের শেখায়, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া।

ইসলামী শিক্ষা শুধু কোরআন-হাদিস জ্ঞান নয়, বাস্তব জীবনের নৈতিক ও সামাজিক প্রয়োগকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

ইতিহাসে দেখা যায়, যারা ইসলামী শিক্ষা মেনে জীবনযাপন করেছে, তারা ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে। উদাহরণ হিসেবে হযরত উসমান রাঃ, হযরত আলী রাঃ-এর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের কথাই উল্লেখযোগ্য।

উপসংহার

১৫ আগস্ট ইসলামী শিক্ষা দিবস উদযাপন কেবল স্মরণ অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য ও ইসলামী মূল্যবোধকে পুনর্ব্যক্ত করার একটি সুযোগ। শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগ আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, সত্যের পথে দাঁড়ানো ও নৈতিক শিক্ষার প্রচারই সমাজের স্থায়ী উন্নয়নের চাবিকাঠি। অতএব, ইসলামী শিক্ষা শুধু ধর্মীয় কাগজপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের জীবন, সমাজ ও জাতির নৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার অপরিহার্য হাতিয়ার।

🧑‍💼 মোহাম্মদ আবদুল বাকীহিসাববিদ | শিক্ষক | সমাজকর্মী | সংস্কৃতিচর্চাকারী | সাংবাদিক“সততা, শিক্ষা ও মানবিকতা—এই তিন মূলমন...
06/07/2025

🧑‍💼 মোহাম্মদ আবদুল বাকী

হিসাববিদ | শিক্ষক | সমাজকর্মী | সংস্কৃতিচর্চাকারী | সাংবাদিক
“সততা, শিক্ষা ও মানবিকতা—এই তিন মূলমন্ত্রেই জীবন পরিচালনা করি।”
📝 পরিচিতি

আমি মোহাম্মদ আবদুল বাকী, একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ, শিক্ষক, সমাজসেবক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। আমার জন্ম নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চরকাকড়া গ্রামে। শিক্ষাজীবনে হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করি এবং পরবর্তীতে আইসিএমএ (ICMAB) থেকে ফাউন্ডেশন কোর্স শেষ করি। কর্মজীবনে দেশ ও বিদেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ একাউন্টিং দায়িত্ব পালন করেছি।

পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে সোনারগাঁও আইডিয়াল কলেজে প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছি। আমি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছি। ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী একজন মুসলমান হিসেবে উমরাহ পালন করেছি এবং সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাক ভ্রমণ করেছি।

🧭 জীবনপথের টাইমলাইন

সাল ঘটনাবলি

🎉 জন্ম চরকাকড়া, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী
🎓 শিক্ষা হিসাব বিজ্ঞানে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন
📘 পেশাগত কোর্স আইসিএমএ (ICMAB) ফাউন্ডেশন কোর্স
💼 চাকরি দেশে ও বিদেশে ন্যাশনাল ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে একাউন্টেন্ট
🏫 শিক্ষা সোনারগাঁও আইডিয়াল কলেজে প্রভাষক
🫱 সমাজ ও সংস্কৃতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাংবাদিকতায় সক্রিয় অংশগ্রহণ
🕋 ধর্মীয় কার্যক্রম পবিত্র উমরাহ পালন
✈️ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক

📷 ছবি গ্যালারি (আপনার ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে পারবেন)

📸 উমরাহ পালনের ছবি

📸 অফিসিয়াল ও কর্পোরেট কর্মস্থলের ছবি

📸 সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোর ছবি

📸 কলেজে শিক্ষকতার সময়ের ছবি
📞 যোগাযোগ

মোবাইল: +8801#########
ইমেইল: [email protected]
ঠিকানা: চরকাকড়া, কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালী, বাংলাদেশ
Facebook: Abdulbaki Aydın
LinkedIn: linkedin.com/in/abdulbaki
WhatsApp: +8801#########

✅ সারাংশ

মোহাম্মদ আবদুল বাকী শুধুমাত্র একজন হিসাববিদ নন, বরং একজন আদর্শ মানুষ, যিনি জ্ঞান, মূল্যবোধ, সমাজসেবা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে জীবন পরিচালনা করেন। তরুণ সমাজের জন্য তাঁর জীবন এক আলোকবর্তিকা।

কখনো কি ভেবেছেন পাস নাম্বার ৩৩ কেন? কীভাবে কবে থেকে চালু হলো এই নিয়ম? এ প্রসঙ্গে বহুল প্রচলিত মতবাদ এই যে, ১৭৫৭ সালে বাং...
02/04/2025

কখনো কি ভেবেছেন পাস নাম্বার ৩৩ কেন? কীভাবে কবে থেকে চালু হলো এই নিয়ম?

এ প্রসঙ্গে বহুল প্রচলিত মতবাদ এই যে, ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ক্ষমতা নেয় ইংরেজ। সেই থেকেই নানা নিয়ম চালু করতে থাকে তারা। ১৮৫৮ সালে উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ম্যাট্রিকুলেশন চালু হয়। তবে এর মানদণ্ড বা পাস নাম্বার কি হবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায় কর্তারা। পাস নাম্বার নির্ণয় করতে ব্রিটেনে চিঠি পাঠায় বাংলায় নিযুক্ত ইংরেজ কর্তারা।

সে সময় ব্রিটেনে পাস নাম্বার ছিল ৬৫। ইংরেজরা সারা দুনিয়া সেসময় শাসন করতো। তখন ইংরেজ সমাজে একটা প্রচলিত ধারণা ছিল যে ‘The people of subcontinent are half as intellectual and efficient as compared to the British’ অর্থাৎ বুদ্ধি ও দক্ষতায় ইংরেজদের তুলনায় উপমহাদেশের মানুষকে অর্ধেক মনে করা হতো। এরই ধারাবাহিকতায় পাস নাম্বার ৩২.৫ করা হয়। কিন্তু ৩২.৫ হিসাব করে খাতা দেখতে অসুবিধে হওয়ায় ১৮৬১ সালে পাস নাম্বার করা হয় ৩৩। সেই থেকেই এই নিয়ম চলে এসেছে।

এই মত সমর্থন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, পাস নাম্বার ৩৩ দুইশ বছর আগে থেকেই। আমাদের দেশে যখন রানী ভিক্টোরিয়া দায়িত্ব নিলেন তখন সিপাহী বিল্পব ঘটে গেলো এবং বলা হলো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কাজ করতে পারছে না। তখন রানী দায়িত্ব নিলেন। ভারতীয় উপমহাদেশে মেট্রিকুলেশন চালু হলো ১৮৫৮ সালে। কিন্তু পাস নাম্বার কি হবে এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল সবাই। তখন এ দেশীয় ইংরেজরা ব্রিটেনে চিঠি লিখে মতামত জানতে চাইলো। তখন ব্রিটেনে পাস নাম্বার ছিল ৬৫। তাদের ৬৫ থেকে আমাদের অর্ধেক মানে ৩২.৫ করে দেয়া হলো। ৩২.৫ নিয়ে নানা ঝামেলা হওয়ায় ১৮৬১ সালে পাস নাম্বার ৩৩ করা হয়।

01/04/2025
13/01/2025

পরীক্ষায় পাশ করলে পরের ক্লাসে উঠতে আর ভর্তি হতে হবে কেন.?
সেশন ফি উন্নয়ন ফির নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে সবাই সহযোগিতা চাই।

যারা বলে কুরআনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নেই তাদের জন্য এই লেখাটি.....শরীয়াকে অস্বীকার করা বা তার বিপরীতে অন্য কিছু উত্তম ...
11/01/2025

যারা বলে কুরআনের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক নেই তাদের জন্য এই লেখাটি.....
শরীয়াকে অস্বীকার করা বা তার বিপরীতে অন্য কিছু উত্তম মনে করা সরাসরি কুফরী। এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা। হয়তো মুহাক্কিক আলিমরা আরও ভালো বলতে পারবেন। তবে আমার বোঝাপড়া থেকে যা বুঝেছি:
শেয়ার দিয়ে ছড়িয়ে দিন সবাই জানুক।

আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া কল্যাণময় বিধানকে লঙ্ঘন করে মানব রচিত যে কোন বিধানের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা বা গ্রহণ করাও আরেকটি কবীরা গুনাহ্। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الْكَافِرُوْنَ»
‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো কাফির’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা আরো বলেন:
«وَمَنْ لَّمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الظَّالِـمُوْنَ»
‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো জালিম’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৫)
তিনি আরো বলেন:
«وَمَنْ لَّـمْ يَحْكُمْ بِمَآ أَنْزَلَ اللهُ فَأُوْلَآئِكَ هُمُ الْفَاسِقُوْنَ»
’’যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা‘আলার দেয়া বিধানানুযায়ী বিচার করে না সে তো ফাসিক্ব তথা ধর্মচ্যুত নাফরমান’’। (মা’য়িদাহ্ : ৪৪)
আল্লাহ্ তা‘আলা কুর‘আন মাজীদের মধ্যে মানব রচিত আইন গ্রহণকারীদেরকেও ঈমানশূন্য তথা কাফির বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِيْنَ يَزْعُمُوْنَ أَنَّهُمْ آمَنُوْا بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ يُرِيْدُوْنَ أَنْ يَّتَحَاكَمُوْا إِلَى الطَّاغُوْتِ وَقَدْ أُمِرُوْا أَنْ يَّكْفُرُوْا بِهِ، وَيُرِيْدُ الشَّيْطَانُ أَنْ يُّضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيْدًا،.. فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ حَتَّى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوْا فِيْ أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا»
‘‘আপনি কি ওদের ব্যাপারে অবগত নন? যারা আপনার প্রতি অবতীর্ণ কিতাব ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের উপর ঈমান এনেছে বলে ধারণা পোষণ করছে, অথচ তারা তাগূতের (আল্লাহ্ বিরোধী যে কোন শক্তি) ফায়সালা কামনা করে। বস্ত্তত: তাদেরকে ওদের বিরুদ্ধাচরণের আদেশ দেয়া হয়েছে। শয়তান চায় ওদেরকে চরমভাবে বিভ্রান্ত করতে। ... অতএব আপনার প্রতিপালকের কসম! তারা কখনো ঈমানদার হতে পারে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক বানিয়ে নেয় এবং আপনার সকল ফায়সালা নি:সঙ্কোচে তথা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়’’। (নিসা’ : ৬০-৬৫)

তবে মানব রচিত বিধান কর্তৃক বিচার কার্য পরিচালনা করার কয়েকটি পর্যায় রয়েছে। যা নিম্নরূপ:

ক. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য কোনভাবেই উপযোগী নয় তা হলে সে কাফির। এ ব্যাপারে সকল মুসলিমের ঐকমত্য রয়েছে। কারণ, সে আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানকে অস্বীকার করেছে যা নিশ্চিত কুফরি।

খ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, মানব রচিত বিধানই বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী; আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান নয়, চাই তা সর্ব বিষয়েই হোক অথবা শুধুমাত্র নব উদ্ভাবিত বিষয়াবলীতে, তা হলে সেও কাফির। এ ব্যাপারেও সকল মুসলিমের ঐকমত্য রয়েছে। কারণ, সে মানব রচিত বিধানকে আল্লাহ্ তা’লার বিধানের উপর প্রাধান্য দিয়েছে, যা কুফরি।

গ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান যেমন বর্তমান যুগে বিচার কার্য পরিচালনার জন্য উপযোগী তেমনিভাবে মানব রচিত বিধানও, তা হলে সেও কাফির। কারণ, সে সৃষ্টিকে স্রষ্টার সমপর্যায়ে দাঁড় করিয়েছে যা শির্ক তথা কুফরিও বটে।

ঘ. যে বিচারক বিশ্বাস করে যে, বর্তমান যুগে আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানের আলোকে যেভাবে বিচার কার্য পরিচালনা করা সম্ভব তেমনিভাবে মানব রচিত যে কোন বিধানের আলোকেও বিচার কার্য পরিচালনা করা সম্ভব তা হলে সেও কাফির। যদিও সে এ কথা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানই সর্বোত্তম। কারণ, সে নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

ঙ. যে বিচারক মনে করে যে, বর্তমান যুগের শরীয়ত বিরোধী আদালতসমূহই মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল; ইসলামী শরীয়ত নয় তা হলে সেও কাফির। কারণ, সেও নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

চ. যে গ্রাম্য মোড়ল মনে করে যে, তার এ অভিজ্ঞতালব্ধ বিচারই মানুষের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় তা হলে সেও কাফির। কারণ, সেও নিশ্চিত হারাম বস্ত্তকে হালাল মনে করছে। যা কুফরিরই অন্তর্গত।

ছ. যে বিচারক মনে করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিধানই বিচারের ক্ষেত্রে একমাত্র গ্রহণযোগ্য বিধান; অন্য কোন মানব রচিত বিধান নয়। এর পরও সে মানব রচিত কোন বিধানের আলোকে বিচার কার্য পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং সে এও মনে করছে যে, আমার এ কর্ম নীতি কখনোই ঠিক হতে পারে না তা হলে সে সত্যিই বড় পাপী। তবে যদি বড় কোনো পতিকল্পনার আওতায় এবং শরীয়াকে পূনর্স্থাপন করার নিমিত্তে হয়, তবে সে কাফির নয়। বরং মুসলিম থাকবে। কিন্তু যদি সতর্কতা অবলম্বন না করে তবে ফাসিকের কাতারে চলে যাওয়ার অবকাশ থাকবে।

মানব রচিত আইন গ্রহণকারীদেরও কয়েকটি পর্যায় রয়েছে যা নিম্নরূপ:

ক. যে বিচারপ্রার্থী এ কথা জানে যে, তার প্রশাসক বা বিচারক আল্লাহ্ তা‘আলার বিধান অনুযায়ী বিচার করছে না। তবুও সে তার প্রশাসক বা বিচারকেরই অনুসরণ করছে এবং এও মনে করছে যে, তার প্রশাসক বা বিচারকের বিচার কার্যই সঠিক। তারা যা হালাল বলে তাই হালাল এবং তারা যা হারাম বলে তাই হারাম তা হলে সে কাফির। আর যদি বিচার কার্য মানে কিন্তু মনে আছে যে এটা ইসলাম বিরুদ্ধ কাজ। যেহেতু শরীয়া নেই তাই সে বাধ্য তবে সে কাফির নয়।

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন:
«اِتَّخَذُوْا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ وَالْـمَسِيْحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوْا إِلاَّ لِيَعْبُدُوْا إِلَهًا وَّاحِدًا، لَا إِلَهَ إِلاَّ هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ»
‘‘তারা আল্লাহ্ তা‘আলাকে ছেড়ে নিজেদের আলিম, ধর্ম যাজক ও মার্ইয়ামের পুত্র মাসীহ্ (ঈসা) (আঃ) কে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তাদেরকে শুধু এতটুকুই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলারই ইবাদাত করবে। তিনি ব্যতীত সত্যিকার কোন মা’বূদ নেই। তিনি তাদের শির্ক হতে একেবারেই পূতপবিত্র’’। (তাওবাহ্: ৩১)

‘আদি’ বিন্ হাতিম (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:
أَتَيْتُ النَّبِيَّ وَفِيْ عُنُقِيْ صَلِيْبٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ : يَا عَدِيُّ! اِطْرَحْ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ، وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِيْ سُوْرَةِ بَرَاءَةٍ:
«اِتَّخَذُوْا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّنْ دُوْنِ اللهِ»
قَالَ: أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُوْنُوْا يَعْبُدُوْنَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوْا إِذَا أَحَلُّوْا لَـهُمْ شَيْئًا اِسْتَحَلُّوْهُ وَإِذَا حَرَّمُوْا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوْهُ.

‘‘আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে গলায় স্বর্ণের ক্রুশ ঝুলিয়ে উপস্থিত হলে তিনি আমাকে ডেকে বলেন: হে ‘আদি’! এ মূর্তিটি (ক্রুশ) গলা থেকে ফেলে দাও। তখন আমি তাঁকে উক্ত আয়াতটি পড়তে শুনেছি। ‘আদি’ বলেন: মূলতঃ খ্রিষ্টানরা কখনো তাদের আলিমদের উপাসনা করতো না। তবে তারা হালাল ও হারামের ব্যাপারে বিনা প্রমাণে আলিমদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতো। আর এটিই হচ্ছে আলিমদেরকে প্রভু মানার অর্থ তথা আনুগত্যের শির্ক’’। (তিরমিযী ৩০৯৫)

উক্ত বিধান আলিম ও ধর্ম যাজকদের ব্যাপারে যেমন প্রযোজ্য তেমনিভাবে বিচারক ও প্রশাসকদের ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য।

খ. যে বিচারপ্রার্থী মনে করে যে, আল্লাহ্ তা‘আলার বিচারই সঠিক। তার বিচারকের বিচার সঠিক নয়। আল্লাহ্ তা‘আলা যাই হালাল বলেন তাই হালাল আর তিনি যাই হারাম বলেন তাই হারাম। তবুও সে তার বিচারকের বিচারই গ্রহণ করছে কারন এ ছাড়া তার আর কোনো কিছুর অবকাশ তবে সে কাফির নয়। তবে শরীয়া না থাকার জন্য তার অনুসূচনা থাকতে হবে।

আব্দুল্লাহ্ বিন্ ’উমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
عَلَى الْـمَرءِ الْـمُسْلِمِ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ فِيْمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ إِلاَّ أَنْ يُّؤْمَرَ بِمَعْصِيَةٍ، فَإِنْ أَمَرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ.
‘‘প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তি তার উপরস্থের যে কোন কথা শুনতে ও তাঁর আনুগত্য করতে বাধ্য তা তার পছন্দসই হোক বা নাই হোক যতক্ষণ না তিনি তাকে কোন গুনাহ্’র আদেশ করেন। তবে যদি তিনি তাকে কোন গুনাহ্’র আদেশ করেন তখন তার জন্য উক্ত কথাটি শুনা ও মানা বৈধ নয়’’। (বুখারী ৭১৪৪; মুসলিম ১৮৩৯)

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসারী সাহাবীকে আমীর বানিয়ে একটি সেনাদল পাঠান এবং তাদেরকে তাদের আমীরের যাবতীয় কথা শুনতে ও তাঁর আনুগত্য করতে আদেশ করেন। পথিমধ্যে তারা উক্ত আমীরকে কোন এক ব্যাপারে রাগিয়ে তুললে তিনি তাদেরকে আদেশ করলেন যে, তোমরা আমার জন্য কিছু জ্বালানি কাঠ একত্রিত করো। তখন তারা তাই করলো। আমীর সাহেব তাদেরকে সেগুলোতে আগুন ধরাতে বললেও তারা তাই করলো। অতঃপর তিনি তাদেরকে বললেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তোমাদেরকে আমার যাবতীয় কথা শুনতে ও আমার আনুগত্য করতে আদেশ করেননি? তারা সকলেই বললো: অবশ্যই। আমীর বললেন: তা হলে তোমরা আগুনে প্রবেশ করো। তখন তারা একে অপরের চেহারা চাওয়া-চাওয়ি শুরু করলো। তারা বললো: আমরা তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ছুটেই আসলাম আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে। এভাবেই কিছু সময় কেটে গেলো। ইতোমধ্যে তাঁর রাগ নেমে গেলো এবং আগুন নিভিয়ে দেয়া হলো। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ফিরে এসে তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন:
لَوْ دَخَلُوْهَا مَا خَرَجُوْا مِنْهَا، إِنَّمَا الطَّاعَةُ فِيْ الْـمَعْرُوْفِ.
‘‘যদি তারা তাতে (আগুনে) প্রবেশ করতো তা হলে তারা আর সেখান থেকে বের হতে পারতো না। নিশ্চয়ই আনুগত্য হচ্ছে (কুর‘আন ও হাদীস সম্মত) সৎ কাজেই’’। (বুখারী ৭১৪৫; মুসলিম ১৮৪০)

গ. যে বিচারপ্রার্থী বাধ্য হয়েই শরীয়ত বিরোধী বিচার গ্রহণ করেছে; সন্তুষ্ট চিত্তে নয় তা হলে সে কাফিরও নয়। গুনাহ্গারও নয়।
উম্মে সালামাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আন্হা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
يُسْتَعْمَلُ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ، فَتَعْرِفُوْنَ وَتُنْكِرُوْنَ، فَمَنْ كَرِهَ فَقَدْ بَرِئَ، وَمَنْ أَنْكَرَ فَقَدْ سَلِمَ، وَلَكِنْ مَنْ رَضِيَ وَتَابَعَ.
‘‘তোমাদের উপর এমন আমীর নিয়োগ করা হবে যাদের কিছু কর্মকান্ড হবে মেনে নেয়ার মতো আর কিছু মেনে নেয়ার মতো নয়। সুতরাং যা মেনে নেয়ার মতো নয় তা কেউ অপছন্দ করলে সে দায়মুক্ত হলো। আর যে তা মেনে নিলো না সে নির্ভেজাল থাকলো। আর যে তাতে তার সন্তুষ্টি প্রকাশ করলো এবং তার অনুসরণ করলো সেই হবে নিশ্চিত দোষী’’। (মুসলিম ১৮৫৪)©️

18/11/2024

পর্ব- ১: ব্যবস্থা নোট
টপিক-১ | সমাজ ব্যবস্থা :
_____________________
• সমাজ : সমাজ হলো মানুষের একত্রিত বাসস্থানের একটি সংগঠিত রূপ, যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও আচরণের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সমাজের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পারস্পরিক সহাবস্থান এবং আন্তঃসম্পর্ক, যা মানুষকে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং একত্রে জীবনযাপনের মাধ্যমে একটি অভিন্ন পরিচয়ে আবদ্ধ করে।

• ব্যবস্থা: ব্যবস্থা হলো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গড়ে ওঠা নিয়ম, নীতি এবং কাঠামোগত প্রক্রিয়ার একটি সংহত গঠন। এটি সামাজিক জীবন, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, ও প্রশাসনিক দিকগুলোকে একত্রিত করে একটি সুসংগঠিত কাঠামোয় পরিচালিত করে। এক কথায়, ব্যবস্থা হলো সমাজের সুষ্ঠু ও সুসংবদ্ধ পরিচালনার জন্য নির্ধারিত নিয়ম ও কাঠামোর সমষ্টি, যা সমাজের বিভিন্ন কার্যক্রমকে নির্দিষ্ট নীতির অধীনে সংহত রাখে।

• সমাজব্যবস্থা : সমাজব্যবস্থা একটি সামাজিক কাঠামো, যা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে নির্ধারণ করে। সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা হয় এবং এটি সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত।

• সমাজব্যবস্থার উপাদানসমূহ :
সমাজব্যবস্থার গঠন এবং কার্যক্রমকে বুঝতে এর বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করে দেখা যায়। সাধারণত সমাজের প্রধান উপাদানগুলো হলো:

1. পরিবার: পরিবার সমাজের মূল ভিত্তি এবং মানুষের সামাজিক জীবন শুরু হয় এখান থেকেই। এখানে প্রাথমিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা এবং সামাজিক আচরণ শেখা হয়। পরিবারের বিভিন্ন ধরণ, যেমন যৌথ পরিবার ও একক পরিবার সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য গড়ে তোলে।

2. শিক্ষাব্যবস্থা: শিক্ষা মানুষের জ্ঞান ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সামাজিক শৃঙ্খলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার একটি প্রধান মাধ্যম।

3. ধর্ম: সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের নির্দেশনা প্রদান করে এবং মানুষের জীবনের অর্থ, উদ্দেশ্য এবং শৃঙ্খলা নির্ধারণ করে।

4. অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: অর্থনীতি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য কাজ করে। এটি সম্পদের বণ্টন, উৎপাদন এবং ভোগের ওপর নির্ভর করে এবং সমাজের সদস্যদের জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলে।

5. রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক কাঠামো একটি সমাজের আইন-কানুন, শৃঙ্খলা এবং শাসন ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে, যেমন গণতন্ত্র, রাজতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র ইত্যাদি।

• সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন ধরণ :

সমাজব্যবস্থার বিভিন্ন ধরণ রয়েছে যা সমাজের সাংস্কৃতিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক, এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর উপর নির্ভর করে:

১. গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা
গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় জনগণের ভোটাধিকার থাকে এবং তারা সরকার নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারে। এখানে আইনের শাসন, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এটি সাধারণত বিশ্বের বেশিরভাগ আধুনিক সমাজের ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠেছে।

২. সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা
সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সাম্যবাদী নীতির উপর ভিত্তি করে সম্পদের সমবণ্টন করা হয়। এই ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির চেয়ে সমষ্টিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। রাষ্ট্র সম্পদের পরিচালনা করে এবং সমাজের সকল সদস্যের জন্য ন্যায্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।

৩. ইসলামী সমাজব্যবস্থা
ইসলামী সমাজব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ইসলামী নীতি ও বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই ব্যবস্থায় সমাজের প্রতিটি দিক কুরআন ও সুন্নাহ আলোকে গঠিত হয়। ইসলামী সমাজব্যবস্থায় শাসনকর্তা আল্লাহর আইন অনুসরণ করে এবং সমাজের সকল সদস্যের প্রতি ন্যায় বিচার, সমতা, এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ বজায় রাখে।

৪. পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা
পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার এবং মুক্ত বাজার নীতির উপর জোর দেওয়া হয়। এখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের সুযোগ থাকে। এই সমাজব্যবস্থা মুনাফার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তি তাদের আর্থিক ক্ষমতা অনুযায়ী উন্নতি লাভ করতে পারে। তবে এই ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক বৈষম্যের আশঙ্কা থাকে।

৫. একনায়কতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা
এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত থাকে এবং সাধারণত একজন নেতা বা একটি ক্ষুদ্র দল সমাজের সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এখানে জনগণের মতামতকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং তারা সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে না।

☞ আদর্শ সমাজব্যবস্থা গঠনের উপাদানসমূহ:

একটি আদর্শ সমাজব্যবস্থা গঠনের জন্য কয়েকটি মূল উপাদান প্রয়োজন, যেমন:
১. ন্যায়বিচার: প্রতিটি সমাজের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ন্যায়বিচার। সবার প্রতি সমান আচরণ ও অধিকার প্রদান করাই একটি ন্যায়বিচারিক সমাজের লক্ষণ।
২. নৈতিকতা ও মূল্যবোধ: সঠিক নৈতিক মূল্যবোধ এবং আচরণে উৎসাহ প্রদান সমাজকে সুস্থ ও সুন্দর করে তোলে।
৩. পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি: সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

৪.শিক্ষা ও সচেতনতা: শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ নিজেদের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং সমাজের উন্নয়নের জন্য কাজ করে।

সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন এবং চ্যালেঞ্জসমূহ
আধুনিক সমাজের পরিবর্তন এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি সমাজব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, এবং বিশ্বায়ন সমাজের উপাদানগুলোকে পরিবর্তিত করছে। তাই সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশে টিকে থাকা প্রতিটি সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
____________________ ইনশা আল্লাহ চলবে.

Tajul Islam Taimi
সাংগঠনিক বই নোট

Address

Gazipura
1720

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা-Islami Education System posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category