14/04/2024
আমার বাড়ি চা-বাগান থেকে খুব বেশি দূরে নয়, পায়ে হেঁটে যেতে ২০ মিনিট লাগে, বাইকে ৫-৮ মিনিট।
কিন্তু তারপরও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ চা-বাগানের প্রতি যে একটা সৌন্দর্যের টান অনুভব করে আমার মধ্যে কখনোই সেটা কাজ করে না।
প্রতিবার বাড়িতে আসার আগে একটা প্ল্যান করি এবার অবশ্যই যাব, কিন্তু বাড়ি আসার পর অজানা এক অলসতা আমাকে ঘিরে ধরে ; ফলাফল স্বরুপ বার বার চা-বাগানের বিস্তির্ণ সবুজ সমারোহ আমার কাছে অদৃশ্যই থেকে যায়।
তবে এবার অনেক কষ্ট করে, ছোট-খাট অলসতার চোখে ধূলো দিয়ে বের হলাম.....
আহা...
কী অপরুপ দৃশ্য!!
মুহূর্তে যে কারো পাষান মনকে কোমল করতে সক্ষম।
আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটলনা।
আমিও উপভোগ করলাম।
কোনরুপ কার্পন্যতা না করে যত দূর সম্ভব দুই নয়নে গাঢ় সবুজের সমারোহ হেরিলাম।
চা-বাগানের সৌন্দর্য বলতে যা উপভোগ করলাম তার কিয়দংশ নিচে বর্ননা করার প্রয়াস করলাম......
তেলিয়াপাড়া বাজার হতে আমি আর আমার বন্ধু ( ছয় মাসের বড় ভাই বিশ্বজিৎ ) একসাথে রাস্তা ধরে সুখ দুঃখের কাহিনী বলে হাঁটতে হাঁটতে ৮ নং ( স্থানীয় ভাষায় ৮ নম্বর ) পৌছালাম। এই জায়গা থেকেই মূলত চা-বাগান শুরু। তেলিয়াপাড়া চা-বাগান......
মুক্তিযুদ্ধে তেলিয়াপাড়ার একটা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে....
আপনারা সকলেই জানেন ১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল চারদিকে ছোট খাট পাহাড় বেষ্টিত হ্রদের পাড় ঘেষা এই মনোমুগ্ধকর স্থানে ♦️ জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ♦️ নেতৃত্বে পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রথম রণ কৌশল তৈরি করা হয়েছিল।
পূর্বে অনেকবার এই জায়গায় গিয়েছি তাই এবার আর ওই দিকে যাই নি.....
এবার শুধু সবুজ উপভোগ করার নিমিত্তে বাগানের নির্জন রাস্তা (আন্যান্য দর্শনার্থীদের বিচরন যেখানে নেই বললেই চলে) ধরে প্রায় ২.৫ ঘন্টা ধরে হাঁটলাম।
অনেকের কাছে শুনতে হাস্যকর মনে হবে....
"এত সময় হাঁটা যায় নাকি? "
হ্যাঁ!
অসম্ভব কিছু না...
যারা গ্রামে বাস করে তারা প্রতিদিন ১০ ঘন্টার উপরে হাঁটে...
তারা যদি সোজা রাস্তায় হাঁটত কোথায় যে চলে যেত...
সে কথা আর নাইবা বললাম।
চারদিকে শুধু বিস্তির্ন চায়ের বাগান মাঝখানে কাঁচা সবুজ ঘাসে মোড়ানো প্রশস্ত রাস্তা;
মনে হচ্ছিল যেন এক স্বর্গীয় পরিবেশ।
হাঁটতে হাঁটতে....
নানান বিষয়ের এপিঠ ওপিঠ আওড়ালাম,
নিজেদের করা কিছু ভুল ভ্রন্তি নিয়ে হাসাহাসিও করলাম অনেক....
আসলে পাহাড়ের ঢালে চলার মজাটাই আলাদা......
বিস্তারিত কমেন্টে....